শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উৎপাদন বাড়লেও প্রবৃদ্ধি কমছে মৎস্য খাতে, বিপন্ন নদী-হাওরের মাছ

ছবি: সংগৃহীত
প্রকাশিত
প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৬

দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মৎস্য খাতে উৎপাদনের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির গতি ক্রমান্বয়ে শ্লথ হয়ে আসছে। সরকারি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলেও প্রবৃদ্ধির সূচক নেমে এসেছে গত পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে। বাণিজ্যিক চাষভিত্তিক মৎস্য উৎপাদনের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলাশয় ও নদী-হাওরের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে পড়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এক গভীর কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছিল ৪৬ লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৬২ শতাংশ। পরবর্তীতে উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার টন ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৯ লাখ ১৫ হাজার টনে উন্নীত হয় এবং প্রবৃদ্ধির হার পৌঁছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ ও ৩ দশমিক ২৮ শতাংশে। এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট উৎপাদন ৫০ লাখ ১৮ হাজার টন এবং সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫১ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টনে পৌঁছালেও উৎপাদন বৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমে যথাক্রমে ২ দশমিক ১১ শতাংশ এবং পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে আসে। পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, অভ্যন্তরীণ বদ্ধ জলাশয়ের বাণিজ্যিক চাষের মাধ্যমে মোট উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলেও সামুদ্রিক উৎস থেকে আহরণ হ্রাস পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের অবক্ষয় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও মৎস্য খাতে এক ঐতিহাসিক রূপান্তর ঘটেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে মাছ ও জলজ খাবারের মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৮ কোটি ৮২ লাখ টনে। এর মধ্যে প্রাকৃতিক উৎসের চেয়ে কৃত্রিম মৎস্যচাষ বা অ্যাকুয়াকালচারের অংশ ছিল ১০ কোটি ৩৩ লাখ টন। সংস্থার ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের খাদ্য হিসেবে মাছ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন ঘটেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মৎস্যচাষ বা কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদিত মাছই এখন মানুষের খাবারের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। এটিকে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রূপান্তর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা মাছের সিংহভাগই এখন সরাসরি খামারের চাষ থেকে আসছে। বর্তমানে বিশ্বে মাথাপিছু বার্ষিক মাছ খাওয়ার পরিমাণ ২০ দশমিক ৭ কেজিতে উন্নীত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা এই খাতের সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিশ্বজুড়েই অপরিকল্পিত চাষের কারণে পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামুদ্রিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রাকৃতিক মাছের চারণভূমি দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে আধুনিক বাণিজ্যিক খামারব্যবস্থা। বিশেষ করে ময়মনসিংহ জেলা এককভাবে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ মাছ সরবরাহ করে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই জেলায় চার লাখ ১৮ হাজার ৬৪৫ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মাছের খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভর কাঁচামালের আকাশচুম্বী দাম, পোনা, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও শ্রমের বাড়তি খরচের কারণে প্রান্তিক চাষিদের মুনাফা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্বয়ংক্রিয় এয়ারেটরের মাধ্যমে পানিতে সার্বক্ষণিক অক্সিজেন নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত বর্ধনশীল জি-থ্রি রুইয়ের মতো আধুনিক জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে অনেক অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাণিজ্যিক চাষের সম্প্রসারণ ঘটলেও দেশের প্রাকৃতিক উন্মুক্ত জলাশয় ও হাওরাঞ্চলের দেশীয় মাছের প্রজাতি এখন মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে নিমজ্জিত। দেশের দ্বিতীয় রামসার আন্তর্জাতিক বিশ্ব ঐতিহ্য সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে বিগত দুই দশকে প্রায় অর্ধেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন ও মৎস্য বিজ্ঞানীদের ধারাবাহিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৭ সালে হাওরটিতে যেখানে ১৪১ প্রজাতির মাছের উপস্থিতি ছিল, তা ২০১৫ সালে কমে ১৩৪টিতে, ২০২২ সালে ৯৩টিতে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে মাত্র ৭৬টি প্রজাতিতে নেমে এসেছে। চিতল, নানীদ, মহাশোল ও বাঘআইড়ের মতো ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ এখন হাওরে বিলুপ্তপ্রায়।

প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমগুলোতে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ সর্বনাশা চায়না দুয়ারি ও কিরণমালা ফাঁদের অবাধ ব্যবহার, বিষ প্রয়োগ, জেনারেটরের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে পোনা নিধন, অপরিকল্পিত বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ, ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও কয়লা পরিবহনের মাধ্যমে পানি দূষণ এবং অতিরিক্ত পলি জমার কারণে নদী ও বিলের গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় জলজ প্রতিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে পড়ছে। বাস্তুসংস্থানের এই বিপর্যয়ের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরে বিগত এক দশকে পরিযায়ী ও দেশি পাখির বিচরণ প্রায় ৭৭ শতাংশ কমে গেছে; যেখানে শীত মৌসুমে লাখ লাখ পাখি আসত, সেখানে ২০২৫ সালের জরিপে পাখির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র সাড়ে ২২ হাজারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি আয় টেকসই করতে হলে কেবল উৎপাদন বাড়ানোর গতানুগতিক কৌশলে সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে প্রজনন নিশ্চিত করতে মূল বিলগুলোকে স্থায়ী মৎস্য অভয়ারণ্য ঘোষণা, প্রাকৃতিক নদী ও খালের নিয়মিত ড্রেজিং, হাওরের জলজ বন পুনরুদ্ধার, দেশীয় মাছের পোনা ছাড়ার জন্য বিল নার্সারি স্থাপন এবং গভীর সমুদ্রে আধুনিক অনুসন্ধান জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে মাছের খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি চাষি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি টেকসই বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মৎস্য খাত চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।


নির্বাচিত

পার্বত্য খাগড়াছড়ির বুকে এক টুকরো ‘নিউজিল্যান্ড’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
    নীরব কৃষিগ্রাম থেকে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট

দুই পাশে দিগন্তজোড়া সবুজ ধানক্ষেত, আর মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে সরু পিচঢালা পথ। মেঠো পথের ধারে বসে থাকা তরুণ-তরুণী, বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ানো পর্যটক কিংবা দূরে নীল আকাশের নিচে আবছা পাহাড়ের সারি। প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে এটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের কোনো দ্বীপরাষ্ট্রের নির্জন উপত্যকা। তবে ছবিজুড়ে থাকা এই অনবদ্য নান্দনিক ক্যানভাস দেখতে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরোতে হয় না; দেশের ভেতরেই খাগড়াছড়ি সদরের কাছে রূপ নিয়েছে এক টুকরো ‘নিউজিল্যান্ড’।

খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে মাত্র এক কিলোমিটারেরও কম দূরে পানখাইয়া পাড়া ও আপার পেরাছড়া গ্রামকে ছুঁয়ে আছে এই জনপদ। পাহাড়ের পাদদেশে এমন উন্মুক্ত ও বিস্তৃত সমতল শস্যক্ষেত্র পুরো খাগড়াছড়িতে বিরল। যার পাশেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচু আলুটিলা পাহাড়। উঁচু পাহাড় আর সমতলের বিস্তৃত সবুজ শস্যক্ষেতের এই চমৎকার ভারসাম্যটিই নিউজিল্যান্ড পাড়া বা মাঠকে দিয়েছে অনন্য এক সৌন্দর্য। প্রকৃতির এই অনন্য রূপ দেখেই স্থানীয়রা ভালোবেসে এলাকাটির নাম দিয়েছেন ‘নিউজিল্যান্ড’ এবং দুই পাড়াকে সংযোগকারী সড়কটির নাম দিয়েছেন ‘নিউজিল্যান্ড সড়ক’।

জেলা শহর বা শাপলা চত্বর থেকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটেই ইজিবাইক (টমটম) কিংবা সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়ে পৌঁছে যাওয়া যায় এই সুমেধ্য উপত্যকায়। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বিকেল গড়ালেই বদলে যায় এখানকার দৃশ্যপট। সূর্যাস্তের নরম আলোয় পাহাড়ের ছায়া নেমে আসে ধানি জমিতে। মেঠো পথের সীমানাপ্রাচীরে কিংবা ঘাসের ওপর বসে দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন শান্ত প্রকৃতির রূপ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় নিয়মিত জমে ওঠে বিকেলের প্রাণবন্ত আড্ডা। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক তানভীর আহমেদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় আর সমতল শস্যক্ষেতের এমন নিখুঁত ও নান্দনিক মেলবন্ধন খুব বিরল। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই ভূখণ্ডটি শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং পাহাড় ও সমতলের সহাবস্থানের এক অনন্য রূপক।’

চট্টগ্রাম থেকে আসা জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক ফারুক ইকবাল যোগ করেন, ‘নামের কৌতূহল থেকেই মূলত আসা, তবে এখানকার শান্ত পরিবেশ ও সৌন্দর্য সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। নগর জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পথের ধারে বসে উন্মুক্ত হাওয়ায় সময় কাটানোর অনুভূতি অসাধারণ।’

প্রকৃতির শান্ত রূপ উপভোগের পাশাপাশি পর্যটকদের বিকেলের আড্ডায় নতুন মাত্রা যোগ করছে স্থানীয় খাবারের পশরা। রাস্তার পাশে এবং আশেপাশে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান। এর মধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে এক দম্পতি পরিচালিত ‘নিউজিল্যান্ড ক্যাফে’, যেখানে মিলছে সাশ্রয়ী দামের দেশি-বিদেশি খাবার। অন্যান্য রেস্তোরাঁগুলোতে ১১০ টাকায় চিকেন মোমো, ৮০ টাকায় চিকেন মুংডি, ৭০ টাকায় গরম চটপটি আর ৬০ থেকে ১২০ টাকায় সাধারণ ও দই ফুচকার স্বাদ নেওয়া যায়। সাথে কফি, লেমন জুস কিংবা ফ্রেশ ফ্রুটস মাখাতো রয়েছেই। পর্যটকদের এই নিয়মিত আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. সুমন জানান, আগে এই পথে মানুষের যাতায়াত ছিল সীমিত, কিন্তু ‘নিউজিল্যান্ড পাড়া’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় অনেকের জীবিকার নতুন পথ তৈরি হয়েছে। কৃষিভিত্তিক নীরব জনপদ থেকে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের এই দৃশ্যপট যেমন খাগড়াছড়ির স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করছে, তেমনি প্রকৃতির এক টুকরো সতেজতা ও শান্ত প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকদের মনে।


নির্বাচিত

বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আমন ধান রোপনে ব্যস্ত ঝিনাইগাতীর কৃষকরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলাজুড়ে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন কৃষকরা। বন্যায় জেলার কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি হলেও, আমনই এখন তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র অবলম্বন। তাই কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। স্বপ্ন দেখছেন আমনের ভালো ফলনের মাধ্যমে অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার।

জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, কৃষকরা চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে কেউ ট্রাক্টর আবার কেউ পাওয়ার টিলার দিয়ে হাল চাষ করছেন। কেউবা বীজতলা থেকে আমনের চারা তুলে তা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার অনেকেই পরিজন নিয়ে একযোগে চারা রোপণ করছেন। তাদের পরিশ্রমে চোখে মুখে নতুন দিনের স্বপ্ন স্পষ্ট।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩ হাজার ৬৯৩ হেক্টর। ইতোমধ্যেই কেউ কেউ আমন ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। আগামী সপ্তাহ নাগাদ সারা জেলার কৃষকগণ রোপা আমনের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করবেন।

অপরদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফরহাদ হোসেন জানান, উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৬২ হেক্টর। সম্প্রতি কৃষকরা আমনের চারা রোপণ শুরু করেছেন।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চারা রোপণ বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় রোপা আমন ধানের চারা রোপণ শুরু হয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পুরোদমে চারা রোপণ শুরু হয়ে যাবে। যদিও চলতি মাসের শেষের দিক পর্যন্ত কৃষকরা জমি প্রস্তুত করছেন।

সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের কৃষক রহমত মিয়া জানান, বন্যায় তার প্রায় দুই বিঘা জমির আউশ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমনই তার শেষ ভরসা। তিনি বলেন, "বন্যায় অনেক ক্ষতি হইছে বাজান। পোলাপান নিয়া না খাইয়া মরা লাগবো। অহন আল্লাহ ভরসা কইরা আমন লাগাইতাছি। যদি আমনডার ফলন ভালো হয় তয় হয়তো বাইচা যামু। একই কথা জানান নকলা উপজেলার কৃষক আব্দুল জব্বার। তিনি বলেন, "সরকারি সহায়তা পাইলে এবং ধানের ভালো দাম পাইলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারমু।

জেলার অন্যান্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বন্যার কারণে কিছুটা দেরি হলেও আমন আবাদের এখনও সময় আছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আশা করি, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কৃষকরা আমনের ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবেন।


নির্বাচিত

পাটের বাম্পার ফলনে তেতুলিয়া ও তাড়াশের কৃষকের মুখে হাসি

সিরাজগঞ্জের তারাশের চলনবিলে সোনালী আঁশ পাট ছড়ানোর কাজ করছেন কৃষকরা। ছবি দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদী-নালা, খাল-বিল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। আর এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন পাট চাষিরা। পানি আসায় বিলের যত্রতত্র এখন দেখা যাচ্ছে পাট জাগ দেওয়া এবং পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা। পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া ও সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো;

তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি জানান : পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় সোনালী আঁশের বাম্পার ফলন হয়েছে। অতীতের সকল লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রেকর্ড মাত্রা আবাদ। বাজারে ন্যায্য মূল্য পেয়ে হাসি ফুটেছে। প্রান্তিক কৃষকের মুখে পাট ফলন চাষ বেশি হয়েছে।

জলের অভাবে পাট জাগ দিতে প্রথমে সমস্যায় পড়েন পাট চাষিরা। পাট জাগ আঁশ ছড়ানোর কাজে ব্যস্ত পাট চাষি কৃষক এখন শেষ পয্যায়ে। বাজার দর বেশি উৎপাদন ভালো হওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে পাট চাষ আরো অনেক বাড়বে বলে কৃষি অফিসার শাবরিনা আফরিন এ প্রতিবেদকে জানান। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ৮শত ৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্জন হয়েছে ৯শত হেক্টর। এছাড়াও চলতি মৌসুমে চাষিকে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। জমিতে হাল চাষ বীজ নিরানি সার বিষ কিটনাশক প্রয়োগ পাট কাটা ও ধোয়া শুকানোসহ অর্থ ব্যয় হয়েছে ২১/২২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘাতে পাট আবাদ ১৬ থেকে ১৮ মন। প্রতি মন ভালো পাটের বাজার মূলো প্রকার বেদে ৪ হাজার ৫ শত টাকা থেক টাকা ধরে পর্যন্ত বাজারে কেনা বেচা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিরনই হাট ইউপির খয়খাট পাড়া গ্রামের কৃষক সামসুদ্দন ( ৫০) দেড় বিঘা ইউপি সদস্য জব্বার (৪০) ৫০ শতক আমিরুল একর জমিতে পাট আবাদ করেছে। এখন পাটের দাম শুনে খুশি এবং তেতুলিয়া সদর ইউনিয়নের রনচন্ডি গ্রামের কৃষক আব্দুল (৪০) জানান, কৃষি অফিস থেকে প্রান্তিক তৃণমুল চাষিদের সুযোগ সুবিধা কখনও পায়নি। তিরনই হাট ডেমগছ গ্রামে বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেন, একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, ৩০ শতক পাট চাষ করেন। তিনি আশা করেন ন্যায্যমূল্যে পাবেন।

এদিকে, তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি জানান : ​নতুন পানির আগমনের সাথেই চলনবিল অঞ্চলের নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের কৃষকদের মাঝে শুরু হয়েছে পাট জাগ দেওয়া এবং সোনালী আঁশ ছড়ানোর উৎসবমুখর ব্যস্ততা।

​গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চলনবিলের নদী-নালা, খাল-বিল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। এই সময়টার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় পাট চাষিরা। পানি আসায় বিলের যত্রতত্র এখন দেখা যাচ্ছে পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য।

​ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও পাট ধোয়ার কাজে হাত বাড়িয়েছেন। কেউ খেত থেকে পাট কেটে আঁটি বাঁধছেন, কেউ সেই আঁটি পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ পানির মধ্যে বসেই পরম যত্নে পাট থেকে সোনালী আঁশ ছাড়াচ্ছেন। এরপর সেই আঁশ ধুয়ে বাঁশের আড়া বা রাস্তার পাশে রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

​স্থানীয় এক পাট চাষি জানান, এ বছর পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে কিছুদিন আগে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলাম। আল্লাহর রহমতে সময়মতো বিলের নতুন পানি চলে আসায় এখন আর সমস্যা নেই। দিনরাত এক করে আমরা পাট ধোয়ার কাজ করছি।

​কৃষকরা জানান, বিলের নতুন ও পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে এবার আঁশের রঙ খুব সুন্দর ও উজ্জ্বল হচ্ছে। বাজারে এই উজ্জ্বল ও মানসম্মত পাটের (সোনালী আঁশ) চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। ফলে এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, ​চলতি মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা যদি পাটের সঠিক মূল্য পান, তবে গত কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি সার্থক হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আবার চাঙ্গা ভাব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন।


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

* উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ হচ্ছে ৩শ ১৫ একর জমিতে * ৩৩ শতক জমিতে তরমুজ চাষে লাভ দেড় লাখ টাকা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনা জেলার কৃষিতে ডুমুরিয়ায় গ্রীষ্মকালীন ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন কোম্পানির তরমুজ চাষ যুক্ত হয়েছে। যা একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল। অল্প সময়ে ফসল তোলা যায়, উৎপাদন খরচ কম এবং উচ্চ ফলনশীল সংকর জাতের কারণে জেলার কৃষকদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় ৩শ ১৫ একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, করলা, লতিকচু, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হলেও, এই জেলায় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করা হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে দেখা গেছে, ডুমুরিয়া সদর উপজেলার শোভনা, খর্নিয়া, সাহস, শরাফপুর ইউনিয়নের চাদগড় সুন্দর মহল, কালিকাপুর গ্রামের রেজাউন তার ৩৩ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে 'স্মার্ট বয়' নামক হাইব্রিড তরমুজ চাষ করেছেন। চারা রোপণের ৬০-৬৫ দিনের মধ্যেই তার জমিতে ফসল চলে আসে। এ অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণের জন্য নগদ অর্থ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, "আমি ৩ বছর আগে সৌদি আরব থেকে এসে গ্রামে বাণিজ্যিক কৃষি কাজ শুরু করি। আমি টমেটো, মরিচ, বেগুন ও এগপ্ল্যান্ট-এর মতো উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপাদন করে আসছি। কিন্তু এই প্রথম আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করেছি।"

আমি এগুলো বাজারে পাইকারিভাবে প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করেছি। আমি ৩৩শতাংশ জমি থেকে ২লক্ষ, টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। কৃষক রেজাউল বলেছেন যে, আমার সমস্ত খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রায় ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আয় হয়েছে,” তিনি বলেন‌ “পরের বার আমি এই গ্রীষ্মকালীন তরমুজ বড় আকারে চাষ করার ইচ্ছা রাখি”, তিনি আরও যোগ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, "জলবায়ু-সহনশীল ও গ্রীষ্মকালীন উচ্চ ফলনশীল ফসলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ধরনের প্রদর্শনী কার্যক্রম কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করে তুলবে। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে এই ফসলের চাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"

ইউনাইটেড‌ সীড কোম্পানি লিমিটেডের মার্কেটিং সেলস অফিসার পলাশ মল্লিক বলেন, "কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে খুলনা জেলায় ডুমুরিয়া উপজেলার একটি তরমুজ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে উন্নত জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।"


নির্বাচিত

শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন শিক্ষকের সাফল্যের নতুন গল্প

আপডেটেড ৯ জুন, ২০২৬ ১৩:১২
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

সাধারণত আঙুর চাষের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিদেশের বিস্তীর্ণ বাগান কিংবা দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল। তবে সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন নাটোরের এক কৃষিপ্রেমী শিক্ষক। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন তাঁর সাফল্যের নতুন গল্প। ইউটিউব দেখে শেখা সেই উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক বাগানে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষিপ্রেমী শিক্ষক আব্দুল আজিজ ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহী। এর আগে তিনি পটল, ড্রাগন ফল, আপেল কুল ও ভারতীয় কুল চাষে সাফল্য পেয়েছেন। এবার নতুন স্বপ্ন দেখছেন আঙুর চাষ নিয়ে।

মাত্র নয় মাস আগে বাড়ির পাশের প্রায় এক বিঘা পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। ইউটিউব থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখে ধীরে ধীরে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন।

বর্তমানে তাঁর বাগানে পাঁচ জাতের আঙুরের চাষ হচ্ছে। বাইকোনুর, সামার রয়্যাল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল।

আব্দুল আজিজ জানান, প্রথমদিকে শখের বসে বাড়ির আঙিনায় মাত্র চারটি বাইকোনুর জাতের চারা রোপণ করেছিলেন। সঠিক পরিচর্যার ফলে একটি গাছ থেকেই ৭ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত আঙুর উৎপাদন হয়। সেই সাফল্যই তাঁকে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে উৎসাহিত করে।

তিনি বলেন, “শুরুতে এটি ছিল শুধুই একটি শখ। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও সফলভাবে আঙুর চাষ সম্ভব। বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে এবার প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি।”

শিক্ষক আজিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই তাঁর বাগানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষজন। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।

স্থানীয়দের মতে, এভাবে আঙুর চাষের বিস্তার ঘটলে একসময় নাটোরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বাগান পরিদর্শনে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, “ভিডিওতে আঙুর চাষ দেখেছি, কিন্তু এখানে এসে এত আঙুর ফলতে দেখে ভালো লাগছে। আমরাও বাড়িতে আঙুর চাষের কথা ভাবছি।”

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করা সম্ভব। বিশেষ করে বাইকোনুর ও ডিক্সন জাতের আঙুরের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, “গত বছরও সিংড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাইকোনুর, সামার রয়্যাল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের ফলন ছিল আশাব্যঞ্জক। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের মাটিতেও যে সফলভাবে আঙুর উৎপাদন সম্ভব, তার একটি উদাহরণ বাহাদুরপুর গ্রামের শিক্ষক আব্দুল আজিজ। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।”

শুধু শখ নয়, ইচ্ছাশক্তি, পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। শিক্ষক আব্দুল আজিজের আঙুর বাগান সেই বাস্তবতারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর হাত ধরে সিংড়ায় তৈরি হচ্ছে আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা, যা ভবিষ্যতে দেশের ফল উৎপাদন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।


নির্বাচিত

বীজ কোম্পানির চটকদার বিজ্ঞাপন: ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগে পঞ্চগড়ের কৃষি উদ্যোগতার মাথায় হাত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

১৮০ বিঘা জমিতে ফল নেই একটিও হাইব্রিড ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে কোটি টাকার ক্ষতির মূখে পড়েছেন পঞ্চগড়ের কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ।

ব্যাংকের ঋণ, দোকানে সার-কীটনাশক বাকিতে নিয়ে মানুষের ৬০ একর জমি চুক্তি নিয়ে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছিলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন। সঠিক পরিচর্যায় কুমড়ো গাছে ঢেকে যায় পুরো ক্ষেত। আসতে শুরু করে ফুল, কিন্তু ফল আসে না। মৌসূমে শেষের দিকে হলেও দেখা নেই কোন ফলের। ইতোমধ্যে সব মিলিয়ে তিনি খরচ করেছেন ৩৮-৪০ লাখ টাকা। বীজ কোম্পানীর কথামত ফলন হলে এসব জমি থেকে তিনি বর্তমান বাজারে প্রায় দেড় কোটি টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রয় করতে পারতেন।

জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগে কৃষক সাজ্জাদ হোসেন জানান, পঞ্চগড় জেলার বোদার উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের নলেহা গ্রামে বিভিন্ন লোকের কাছে ৬০ বিঘা জমি একর প্রতি ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়ে আলু চাষ করেন। কিন্তু আলুতে লোকসান হওয়ার পর সেই জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

বোদা বাজারের সার-বীজ কীটনাশক ব্যবসায়ী আরিফুল রমহান রাসেলের পরামর্শে আলমগীর সীড কোম্পানীর ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ সংগ্রহ করে জমিতে লাগান। কোম্পানী থেকে নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে বলা হয়েছিল এই বীজের মান খুবই ভাল এবং প্রতি একরে ১৯-২০ মেট্রিক টন ফলন আসবে। তাদের কথামত নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে গাছের চেহারা অনেক ভাল হলেও তিন মাসেও কোন ফল আসেনি। ইতোমধ্যে এই জমিতে তিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে ফল আসারও কোন সম্ভাবনা দেখছেননা।

জমির মালিক সর্দারপাড়া গ্রামের কাব্য ভূষন বর্মন জানান, আমরা ছয় ভাই মিলে সাজ্জাদ ভাইকে ৬০ বিঘা জমি দিয়েছি। আলু করে তিনি অনেক টাকা লোকসান করেছেন। সেই জমিতে তিনি মিষ্টি কুমড়া করেছিলেন। জমিতে গাছ ভর্তি হলেও কোন ফল আসেনি। এটা বীজের সমস্যা । আমাদের জমির পাশে অন্য লোক মিষ্টি কুমড়া করেছে। তাদের জমি মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ভর্তি। সাজ্জাদ ভাই আলু করে কিছু টাকা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন মিষ্টি কুমড়া বিক্রয় করে বাকি টাকা দিবেন। কিন্তু মিষ্টি কুমড়ার ফল না আসায় আমরাও আমাদের টাকা নিয়ে চিন্তিত আছি।

সার-বীজ কীটনাশক ব্যবসায়ী আরিফুল রহমান রাসেল জানান, আলমগীর সীডস কোম্পানি আমাকে জানিয়েছে তাদের বীজ ভালো হবে। একরে ১৯-২০ টন ফলন হবে। গত ২৬ জানুয়ারি কোম্পানিকে নগদ টাকা দিয়ে ১০ কেজি ৬শ গ্রাম বীজ নিয়ে আমি সাজ্জাদ ভাইকে দেই। কোম্পানির নির্দেশনা মেনে সব করি। কিন্তু জমিতে প্রচুর গাছ থাকলেও মিষ্টি কুমড়া একটিও হয়নি। আমি কোম্পানীকে বলেছিলাম আপনাদের বীজ নিয়ে সাজ্জাদ ভাইর প্রচুর টাকা ক্ষতি হয়েছে। তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু এখন তারা নানাভাবে টালবাহানা করছে।

কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভাই আমি পথে বসেছি। আমি এখন কি করব। আলমগীর সীড কোম্পানী আমাকে রাস্তায় নামিয়েছে। ঋণ আর ধারদেনা করে, জমির মালিকের টাকা আর হাল আল মজুরীর টাকা বাকি রেখে প্রায় ৪০ টাকা খরচ করেছি। এত টাকা আমি কিভাবে পরিশোধ করব। আমি আলমগীর সীড কোম্পানীর কাছে ক্ষতিপুরণ চাই। তারা আমাকে ক্ষতিপুরণ না দিলে আমি আদালতে যাব।

জেলা বীজ ও প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামীম বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ার একটি অভিযোগ দিয়েছেন। যার অনুলিপি আমরা পেয়েছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ আমরা সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাই। তিনি আসলেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

নবীনগরে জনপ্রিয় হচ্ছে জাপানি ‘ওকিনাওয়া’ মিষ্টি আলু, সুপারফুড হিসেবে উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের বাড়ছে আগ্রহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরাঞ্চল ও অনাবাদি জমিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জাপানের বিখ্যাত ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু। তিন বছর ধরে পরীক্ষামূলক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাষ শুরু হলেও চলতি মৌসুমে এ আলুর আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে। কৃষক, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ায় এটি এখন সম্ভাবনাময় একটি ‘সুপারফুড’ ফসল হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার নাটঘর, নবীনগর পশ্চিম, সাতমোড়া, বড়িকান্দি ও বীরগাঁও ইউনিয়নের ২০ জন কৃষক ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু উৎপাদন করছেন। চলতি মৌসুমে এ জাতের আবাদ আরও তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতি শতকে তিন মণেরও বেশি উৎপাদন মিলছে, যা স্থানীয় জাতের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি। আলুর আকারও বেশ বড় ও আকর্ষণীয়।

সিদ্ধ কিংবা পুড়িয়ে খাওয়ার পর এ আলুর ভেতরে দৃষ্টিনন্দন হলুদাভ রং দেখা যায়, যা ভোক্তাদের আকৃষ্ট করছে। স্বাদেও রয়েছে আলাদা মিষ্টতা ও নরম ভাব। কম পানিতে ধীরে ধীরে সিদ্ধ করলে এর স্বাদ আরও ভালো হয়। আবার সিদ্ধ বা পোড়ানো আলু কিছু সময় ফ্রিজে রেখে খেলে মিষ্টতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।

পুষ্টিবিদদের মতে, মিষ্টি আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ওকিনাওয়া মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি উচ্চমাত্রার খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্যও উপকারী। স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট থাকায় এটি ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগতে দেয় না।

বড়িকান্দি ইউনিয়নের বড়িকান্দি গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘গত বছর কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জাতের মিষ্টি আলু সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইনের মাধ্যমে কৃষি অফিস থেকে ভাইন সংগ্রহ করি। পরে প্রথমবারের মতো ২০ শতক জমিতে আবাদ করে প্রায় ৬৫ মণ আলু পেয়েছি।’

নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের দড়িলাপাং গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, ‘এই আলুর স্বাদ ও চাহিদা দুইটাই ভালো। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে তিন বিঘা জমিতে ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু আবাদ করছি। প্রতি বিঘায় প্রায় ১২০ মণের মতো ফলন আসে। স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন হওয়ায় এটি আমাদের জন্য লাভজনক। তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলুর প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলন ও বাজারচাহিদা ভালো থাকায় আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়বে। উদ্যোক্তা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর জন্য ভাইন উৎপাদনে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে ১০০ বিঘা জমিতে ওকিনাওয়া সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, ‘দেশে এখনো মিষ্টি আলু সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সুবিধা গড়ে ওঠেনি। গোল আলুর মতো সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও মিষ্টি আলুভিত্তিক এগ্রো-প্রসেসিং শিল্প গড়ে উঠলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও দীর্ঘ সময় বাজারে এ পুষ্টিকর খাদ্য সহজলভ্যভাবে কিনতে পারবেন।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় আলুর ‘সাথী ফসল’ মিষ্টি কুমড়া, বিষমুক্ত সবজিতে লাভবান কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুণ, কুমিল্লা (দক্ষিণ)

কুমিল্লার মাঠে মাঠে এখন আলুর পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। জেলার বুড়িচং, চান্দিনা, দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি উপজেলায় আলুর ‘সাথী ফসল’ হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। বাড়তি সার ও কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদিত এই বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এবার সাফল্যের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্বল্প খরচে অধিক লাভ: কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে আলুর জমিতেই কোনো বাড়তি চাষাবাদ ছাড়াই কুমড়ার বীজ বপন করা হয়। খুব কম পরিচর্যায় মাত্র ৬০-৬৫ দিনের মধ্যেই এই ফসল বাজারজাত করা সম্ভব। এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে কুমড়া আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে, উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে কৃষকরা আয় করছেন ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র দুই মাসেই বিঘা প্রতি কয়েকগুণ মুনাফা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি ও চাহিদা: দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির বাজার নিমসারসহ কংসনগর, চান্দিনা ও দাউদকান্দির হাটগুলোতে এখন মিষ্টি কুমড়ার ধুম। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই কুমড়া ট্রাকযোগে চলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে কাঁচা কুমড়া প্রতি কেজি ১০-১৫ টাকা এবং পাকা কুমড়া ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আকারভেদে প্রতি ‘লট’ বা ‘চুকতা’ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।

চাষিদের অভিজ্ঞতা: বুড়িচংয়ের নিমসার বাজারের চাষি শাহিন ও সেলিম বলেন, ‘১ একর জমিতে কুমড়া চাষ করেছি। আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে এবার কিছু গাছ মারা গেছে, তাই ফলন গতবারের চেয়ে কিছুটা কম। তবে বর্তমানে প্রতি পিস কুমড়া ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি।’

ব্যবসায়ী জয়নাল বলেন, ‘কুমিল্লার মিষ্টি কুমড়ার মান ভালো হওয়ায় বাইরের জেলাগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা এখান থেকে প্রতিদিন শত শত কুমড়া বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছি।’

কৃষি বিভাগের বক্তব্য: বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হলেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কয়েক হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

স্কুলশিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, জীবননগরে এক জমিতে ড্রাগন-আঙুর চাষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক সুরুজ মণ্ডল একই জমিতে ড্রাগন ফল ও আঙুর চাষ করে সৃষ্টি করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। সীমিত আবাদি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি নিচে ড্রাগন এবং উপরে ‘মাচা সিস্টেমে’ আঙুর চাষ করছেন, যা ইতোমধ্যে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

সুরুজ মণ্ডল জানান, বর্তমানে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় তিনি বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে এই যুগপৎ চাষ শুরু করেন। এতে একই জমি থেকে দ্বিগুণ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তার বাগানে এখন আঙুর সংগ্রহ শুরু হয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি আঙুর পাওয়ার আশা করছেন তিনি। বর্তমানে ড্রাগন ফলের মৌসুম না থাকায় জমিটি ফাঁকা না রেখে সাথী ফসল হিসেবে আঙুর চাষ করছেন।

দুই বিঘা জমিতে এই ব্যতিক্রমী চাষাবাদ করছেন সুরুজ মণ্ডল। শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়েই তিনি বাগানের দেখভাল করেন। বর্তমানে তার মোট প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সুরুজ মণ্ডলের এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিকল্পিত চাষাবাদ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।


নির্বাচিত

নবীনগরে বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চলতি বোরো মৌসুমে মাঠজুড়ে সোনালি ধানের বাম্পার ফলন দেখা গেলেও উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং টানা ভারী বৃষ্টিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরির কারণে লাভের হিসাব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের ধান নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর ও বিলাঞ্চলে আবাদ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এ অঞ্চলে আগাম জাতের ধানের মধ্যে জিরাশাইল, ব্রি-২৮, ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯৬ বেশি চাষ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, বিগত কয়েক বছরে রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেশি হওয়ায় কৃষকদের ব্রি-২৮ আবাদে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছিল। তুলনামূলকভাবে ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯৬ রোগবালাই সহনশীল হওয়ায় এসব জাতের আবাদ বেড়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর হাওর ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর বিলে পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। তবে অনেক কৃষকই আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিচু এলাকার ধান ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, সরকারি ভাবে এবার নবীনগরে মোট ১ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ২ শতাংশ। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৭৫ মণ ধান সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। ইতোমধ্যে কৃষকের তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বছর সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ধানের দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি এড়াতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ওয়ারুক গ্রামের কৃষক আব্দুল বাতেন বলেন,উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, বাজারে সেই তুলনায় ধানের দাম না পেলে কৃষকের টিকে থাকা দায় হবে। ধান কাটতে এখন একজন শ্রমিককে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। কনিকাড়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের বাজারদর অনেক কম। সরকার ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ নির্ধারণ করলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ খুবই কম হবে।

নবীপুর গ্রামের কৃষক জালাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কৃষক গায়ের ঘাম মাটিতে ফেলে ফসল উৎপাদন করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ করতে পারি না।

বাম্পার ফলনের আনন্দের মাঝেও তাই উৎপাদন খরচ, কম বাজারদর এবং প্রাকৃতিক ঝুঁকি নিয়ে নবীনগরের কৃষকদের মুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।


নির্বাচিত

জীবননগরে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কৌশিকের সফলতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 

এক সময় শুধু পারিবারিক চাহিদা পূরণে বসতবাড়ির আঙিনায় লাউয়ের চারা লাগানো হতো। লাউ গাছের লতাপাতা ছোট মাচায়, গাছের ডালে অথবা ঘরের চালে উঠিয়ে দেওয়া হতো। এখন লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা, উৎপাদন খরচ কম ও সময় কম লাগার কারণে বাণিজ্যিকভাবে লাউয়ের চাষ শুরু হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কৃষি জমিতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা। লাউ চাষে রাসায়নিক সার ও শ্রমিক খরচ অনেক কম। বাজারে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। মাটি থেকে ৫ ফুট উঁচু করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে তৈরি করা হয় মাচা। এটি তার ও সুতালি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়। একবার মাচা তৈরি করলে সেখানে ৩-৪ বছর লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষ করা সম্ভব। বিশেষ করে এই উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে ঝুঁকছেন বেশি।

জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কৌশিক রহমান দেড় বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করেছেন। লাউ চাষে গত বছর অতি বৃষ্টির কারণে লোকসান হলেও এবার সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। সরেজমিনে তার লাউয়ের ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে মাচায় থোকায় থোকায় ঝুলছে লাউ। লাউ কার্টুনে ভর্তি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। প্রতি কার্টুনে ৩০টি লাউ ভর্তি করা হচ্ছে। এখন প্রতিদিন ৩ কার্টুন করে লাউ বাজারজাত করছেন। তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কৌশিক রহমান জানিয়েছেন, দেড় বিঘা জমিতে মাচা তৈরি করতে মোট ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। লাউ গাছের গোড়ায় মাত্র ৫ হাজার টাকার সার দেওয়া হয়েছে। ময়না জাতের এই লাউ গাছে মাত্র ৫২ দিন পর থেকে ফলন ধরা শুরু হয়। এখন প্রতিদিন ৩ কার্টুন লাউ ঢাকাতে পাঠানো হয়। কয়েকদিন পর থেকে লাউয়ের ফলন আরও বাড়বে। সব খরচ-খরচা বাদ দিয়ে কার্টুন প্রতি এখন ১ হাজার টাকা থাকে। ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে টাকা পাঠিয়ে দেয়।

তিনিও আরও জানিয়েছেন, এভাবে ১ মাস ধরে লাউ বাজারজাত করতে পারব। তারপর আবার লাউয়ের নতুন চারা লাগানো হবে। এমন বাজার থাকলে মাসে ১ লাখ টাকা আয় হবে। বাজার ভালো হলে এর চেয়েও বেশি আয় করা যাবে। অনেক ফসল চাষ করেছি তার মধ্যে এটি একটি লাভজনক চাষ। কৌশিক রহমানের মতো এখানকার অনেক চাষি লাউ চাষ করে সফল হয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।

জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, জীবননগরে অনেক জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা এই চাষে ঝুঁকছেন বেশি। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লাউয়ের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। লাউয়ের নতুন জাত, লাউ গাছের পরিচর্যা ও মাচা তৈরির পদ্ধতির বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

খুলনায় টানা বর্ষণে বোরো ধানসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বোরো ধানসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বোরো ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সুযোগে কৃষি শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি বাড়িয়েছে। মজুরি হিসেবে শ্রমের দাম হাকাচ্ছেন ১,৩০০ টাকা। যা দেড় মণ নতুন বোরো ধানের মূল্যের সমান।

এপ্রিলে খুলনার আকাশে হঠাৎ বৃষ্টি। মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনেও তা থেমে থাকেনি। অতিবৃষ্টির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলার রূপসা, দাকোপ, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার প্রায় তিন হাজার কৃষক। ধান গোলায় ওঠানোর আগেই অতিবৃষ্টি লোকসানের মুখে দাঁড় করিয়েছে খুলনার প্রান্তিক কৃষকদের।

রোবো ধান কৃষকের গোলায় ওঠার মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে। এপ্রিল এবং মে মাসের প্রথমার্ধের বৃষ্টিতে খুলনার চাষির বোরো ধান ও শীতকালীন শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে খুলনা জেলার ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান ও সবজি ক্ষেত ডুবেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে- রূপসা, দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ। মৌসুমের শুরুতে বীজতলা, রোপণ ও এপ্রিল-মে’তে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বাড়ে। ধান কাটা মৌসুমে দৈনিক একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি ছিল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা। জেলার রূপসা, ডুমুরিয়া ও তেরখাদায় ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা দিয়ে দৈনিক সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রমঘণ্টা কিনতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। নয় বছরের মধ্যে এপ্রিলে এবারে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। গেল মাসে জেলায় গড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ মিলিমিটার, ১ মে ১৯ মিলিমিটার, ৩ মে ১০ মিলিমিটার, ৪ মে ৪ মিলিমিটার ও ৫ মে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

জেলায় এবারের বোরো মৌসুমে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। সবচেয়ে বেশি আবাদি এলাকা ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলা।

এ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ গতবারের চেয়ে দু’টাকা করে বেড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের মহূর্তে সারের সংকট দেখা দেয়। তারপরও জেলায় হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের কথা তুলে ধরেন কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুবীর কুমার বিশ্বাস।

এ কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকরা হীরা-১, হীরা-২, হীরা-১৯, সুবর্ণ-৩, ছক্কা ও সিনজেনটা-১২০৩ জাতের হাইব্রিড বোরো বীজ রোপণ করে।’

এ দপ্তরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ ও মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বোরো ছাড়াও গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মে মাসের প্রথম দু’দিনে অতিবৃষ্টিতে ধান ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

ডুমুরিয়ার শিংয়ের বিল, সাহাপুর ও মধুগ্রাম, রূপসা উপজেলার বিল জাবুসায়, দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ৭৭০ হেক্টর জমির বোরো ক্ষেত বৃষ্টিতে ভিজেছে।

রূপসা উপজেলার বাগামারা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম, মো. ওমর আলী শেখ ও আলেমান শেখর অতিবৃষ্টিতে বিল জাবুসায় বোরো ক্ষেত তলিয়ে যায়।

ইলাইপুর গ্রামের কৃষক মো. ইব্রহিম হোসেন বলেন, ‘এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’


নির্বাচিত

banner close