বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
২৫ চৈত্র ১৪৩২

দেশের ৩০ শতাংশ বাজার দখলের পরিকল্পনায় ইউনাইটেড এয়ার

ইউনাইটেড এয়ার। ফাইল ছবি
আপডেটেড
৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ২৩:২৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৩ জানুয়ারি, ২০২৩ ২২:৩১

বন্ধ হয়ে যাওয়া বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউনাইটেড এয়ার আবার চালু করে দেশের বাজারের ৩০ শতাংশ আর আন্তর্জাতিক বাজারের ৪ শতাংশ ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এমনটিই জানিয়েছেন এয়ারলাইনসটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম নজরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার ইউনাইটেড এয়ারের সাধারণ সভা হয়। সেখানে এসব কথা বলেন এ টি এম নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই খাত নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখেছি। সারা বিশ্বে এভিয়েশন খাত খুব ভালো করছে। আমরা বাংলাদেশের বাজারও বিশ্লেষণ করে দেখেছি। আপনারা জানেন যে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর আধুনিক হচ্ছে। এটা আধুনিক হলে এর সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। অনেক দেশের বিমান তখন এই বিমানবন্দরে আসবে। যদি আশা শুরু হয় তখন দেখবেন সব পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের আন্তর্জাতিক বাজার এখন আছে ২২ শতাংশ। আমরা যদি আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে না পারি তখন আমাদের বাজার আরও কমে যাবে।’

‘দেশি এয়ারলাইনস যদি না আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজার আমরা হারিয়ে ফেলব। অনেক কমে যাবে। আমাদের এখন ডলারের সংকট আছে, এখন যদি আমরা নতুন এয়ারলাইনসের মাধ্যমে কিছু ডলার বাঁচাতে পারি, তাহলে দেশের জন্য ভালো হবে। আমাদের দেশি এয়ারলাইনস বাড়াতে হবে। আমি মনে করি আমাদের দেশে আরেকটি এয়ারলাইনস বাড়ানো উচিত। এ ধরনের চিন্তা করেই আমরা একটি ব্যবসা পরিকল্পনা সাজিয়েছি। আমরা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসকে আবার রিভাইভ করতে চাই। আমরা যদি এখন একটি ফান্ড ক্রিয়েট করতে পারি, তাহলে আমরা ছোট করে শুরু করতে পারি। আমরা কার্গো দিয়ে শুরু করতে চাই দেশে আর বিদেশে। দ্বিতীয় ধাপে আমরা চেষ্টা করব আরও টাকা জোগাড় করতে। যদি পারি আমরা, তা হলে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে যাত্রী পরিবহন শুরু করব। আর কার্গো আরও বড় করে শুরু করব’- বলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাদের কমপ্লায়েন্সে কিছু সমস্যা ছিল, এর জন্য বিদেশিরা আসতে চাচ্ছিল না। আমাদের প্রথম সমস্যা ছিল, বিমানগুলো সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। সেটা আমরা করিয়েছি। ইউনাইটেডের সব বিমান সম্বন্ধে আমরা এখন জানি। অনেক ঝামেলা ছিল কিন্তু আমরা করতে পেরেছি। এই সমস্যা আমরা সমাধান করেছি। আরেকটি সমস্যা ছিল বার্ষিক সভা, সেটা আমরা আজকে করেছি। কমপ্লায়েন্সের বড় সমস্যা ছিল, সেটা আমরা শেষ করেছি।’

‘সরকারি সিদ্ধান্ত পেলে আমরা এখন এগোতে পারব। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি আমরা এগোতে পারি, ৫ বছরের মধ্যে আমরা এই দেশে একটি বিরাট পরিবর্তন আনব। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস একসময় দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনস ছিল, বাংলাদেশ বিমানের চেয়েও বেশি বিমান ছিল। সেই অবস্থান থেকে আজকে এয়ারলাইনসটি হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এটাকে রিভাইভ করা যায়। আমরা যদি আন্তর্জাতিক বাজারের ৪ শতাংশ নিতে পারি আর দেশীয় বাজারের ৩০ শতাংশ নিতে পারি, তাহলে এই এয়ারলাইনস দাঁড়িয়ে যাবে।’

এ টি এম নজরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা দেশের বাইরে যায় এবং বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশে আসে এ রকম যাত্রীর সংখ্যা বর্তমানে বছরে ৮০ থেকে ৯০ লাখ। এর ২২ থেকে ২৫ শতাংশ বর্তমানে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলোর হাতে। যখন আমাদের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল হবে, তখন এই সংখ্যা হবে বছরে ২ কোটি। তখন যদি আমাদের এয়ারলাইনসগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে না পারি, তাহলে আমরা সেই বাজার হারিয়ে ফেলব।’

ইউনাইটেড এয়ারের বার্ষিক সাধারণ সভা অনলাইনে হয়। সেখানে ২৬০ জনের মতো শেয়ার হোল্ডার যোগ দেন। আর ভোট দেন ৮ কোটি ১৬ লাখ ২৬ হাজার ৮১৬টি। মোট শেয়ারের ১০ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে।

সাধারণ সভায় ২০১৫-২০১৬ থেকে ২০২১-২০২২ মোট সাত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন দেয়া হয়। আর ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিং এবং অ্যাসেট রিস্ট্রাকচারিংয়ের অনুমোদন নেয়া হয়েছে।

দেশের একমাত্র উড়োজাহাজ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ইউনাইটেড এয়ার। কোম্পানিটি ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে তাদের শেয়ারদর নামতে নামতে ২ টাকার নিচে নেমে আসে।

বিএসইসি মূল মার্কেট থেকে কোম্পানিটিকে স্থানান্তর করে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে। সেখানে শেয়ার লেনদেন জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে লেনদেনও হচ্ছে না। এতে ৭২ কোটি শেয়ারের মালিকদের টাকা কার্যত শূন্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ২০১০ সালে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের প্রধান তাসবিরুল আলম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় কাজী ওয়াহিদুল আলমকে। ২০১৬ সালের পর কোম্পানিটির কোনো এজিএমই আর হয়নি।

সাধারণ সভায় ইউনাইটেড এয়ারের নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় যেটা চ্যালেঞ্জ, একটি এয়ারলাইনসের কাজ নির্ভর করে তার লাইসেন্সের ওপর। এখন ইউনাইটেড এয়ারের কোনো এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেট (এওসি) নেই। আমরা এই সার্টিফিকেটের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলছি। আরেকটি সমস্যা আমরা দেখছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা আইনি বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের দুটো এয়ারক্রাফট দেশের বাইরে রয়েছে। একটি ভারতে, একটি পাকিস্তানে। সেগুলো সেখানে থাকার কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে যে দেনা রয়েছে সেগুলো না দেয়ার কারণে আমরা আইনি ঝুঁকিতে পড়ছি। আশার কথা হচ্ছে, আমাদের ঢাকায় যে এয়ারক্রাফট আছে সেখানে আমাদের বড় ধরনের সফলতা আছে। আমরা টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা যদি সরকারের সহযোগিতা পাই তাহলে আমরা শুরু করতে পারব বলে মনে করি।’


নতুন জাহাজে আয় বাড়ছে, বিএসসি’র বহর সম্প্রসারণে যুক্ত হবে আরও ৪টি জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) নতুন সংযোজিত দুটি জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে অল্প সময়েই প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। একই সঙ্গে বহর বাড়াতে আরও চারটি জাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামে সংস্থার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসসি’র সাতটি জাহাজ আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে এসব জাহাজ চলাচল করেছে।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, "জাহাজসমূহ লোকাল এরিয়ার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিচালিত হয়ে সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দরসমূহে যাত্রা সম্পন্ন করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "এ জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানদণ্ডে উত্তীর্ণ, যা তাদের নিরাপদ ও দক্ষ অপারেশন নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার কারণে বিশ্ববিখ্যাত জাহাজ পরিচালনা প্রতিষ্ঠানসমূহ বিএসসি’র জাহাজ পরিচালনা ও ভাড়া নিতে আগ্রহী।"

বিএসসি সম্প্রতি ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ ও ‘এমটি বাংলার নবযাত্রা’ নামে দুটি জাহাজ সংগ্রহ করেছে, যেগুলো চীনের একটি শিপইয়ার্ড থেকে গত বছরের অক্টোবর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি জাহাজের মূল্য ৩৮ দশমিক ৩৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রাক্কলিত দামের তুলনায় কম।

জাহাজ দুটি আধুনিক ‘গ্রিন শিপ’ প্রযুক্তিতে নির্মিত, যেখানে জ্বালানি সাশ্রয়, নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত নকশার ব্যবহার রয়েছে। এসব প্রযুক্তির ফলে অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানানো হয়।

বর্তমানে ‘বাংলার প্রগতি’ পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দরে এবং ‘বাংলার নবযাত্রা’ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছে। প্রতিটি জাহাজ দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে।

সংস্থাটি জানায়, বহর সম্প্রসারণে জি-টু-জি ভিত্তিতে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এছাড়া আরও দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার সংগ্রহের প্রকল্প মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।

কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, "ধীরে ধীরে পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছে বিএসসি। পর্যায়ক্রমে জাহাজের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে লাভজনক এ প্রতিষ্ঠান সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করে দেশে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভুমিকা রাখছে।"

সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিএসসি, যা সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।


কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সম্ভাব্য সহযোগিতা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)-এর প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিসিসিসিআই প্রতিনিধিরা কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের। এছাড়া চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বেইজিং আরক গ্যালাক্সি টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সহায়তায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এতে নতুন বিভাগ ও বিষয় চালু, বিদ্যমান কোর্স আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পাশাপাশি শিক্ষাসামগ্রী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, দেশীয় ও চীনা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার বিষয়ও প্রস্তাবে গুরুত্ব পায়।

চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্য অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে সচিব আব্দুল খালেক কারিগরি শিক্ষার অগ্রগতিতে বিসিসিসিআই’র উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে চীনা বিনিয়োগকারীদের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান।


জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উদ্ভূত বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি মজুদ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তেল আমদানির তিনটি আলাদা প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের ‘ইয়ার এনার্জি এজি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম মানের ডিজেল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ‘কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ‘সিকদার ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়। তিনটি প্রস্তাবই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন করে।

বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সরকার সম্প্রতি বেশ কয়েক দফায় জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে। এর আগে গত শনিবার ছুটির দিনেও বিশেষ ব্যবস্থায় ১ লাখ টন ডিজেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে যেন দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্যই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।


বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ক্যাবের মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার থেকে তেল উধাও হয়ে যাচ্ছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ক্যাব জানায়, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের দাম ১৭০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেল ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিকে তদারকির ঘাটতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির মতে, এটি কেবল বাজার অস্থিরতার বিষয় নয়; বরং ভোক্তার ন্যায্য মূল্যে পণ্য পাওয়ার অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরবরাহ কমানো এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করাকে তারা সংগঠিত প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, "প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাজারে কঠোর নজরদারির অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।"

মানববন্ধনে সংগঠনটি সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা, কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানায়।


হেলিকপ্টার আমদানিতে আরোপিত কর কমানোর দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হেলিকপ্টার আমদানিতে আরোপিত উচ্চ কর কমিয়ে আগের মতো ১০ শতাংশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটির মতে, বর্তমান কর কাঠামো এই খাতের সম্প্রসারণে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সভায় এওএবি’র মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, "আগে হেলিকপ্টার আমদানিতে সর্বসাকুল্যে মাত্র ১০ শতাংশ কর ছিল। কিন্তু গত অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৭.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।" এবং করহার পুনরায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানান। তার মতে, হেলিকপ্টারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের অন্যান্য খাত থেকেও রাজস্ব আয় বাড়তে পারে।

বর্তমানে মোট ৩৭.২৫ শতাংশ করের মধ্যে ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম করসহ অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ প্রস্তাবের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, "কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশের নিচে নামানো মানেই তা শূন্য করে দেওয়া। এছাড়া ভ্যাট ও এআইটির ক্ষেত্রে আপনারা রিফান্ড বা ক্রেডিট সুবিধা পান। তবে, আমরা অগ্রিম আয়করের (এআইটি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারি। সার্বিক বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।"


যুদ্ধবিরতির খবরে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান, বাড়ল লেনদেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে জোরালো ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এর ফলে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় উত্থান ঘটে এবং লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দিনজুড়ে বাজার ইতিবাচক ধারায় এগিয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে থাকে, যা সূচককে দ্রুত উপরের দিকে নিয়ে যায়। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় দিনের শেষে সব সূচকেই শক্তিশালী উত্থান দেখা যায় এবং বাড়তি দামের তালিকাও দীর্ঘ হয়।

দিন শেষে ডিএসইতে ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির।

দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এবং শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে উঠেছে।

সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও গতি ফিরেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার তুলনায় ৩৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২৮ পয়েন্ট বেড়েছে। মোট ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার চেয়ে বেশি।


সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে ভাটা, আগ্রহ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের সঞ্চয়পত্রের বাজারে আবারও বিনিয়োগ মন্দা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুর কয়েক মাস বিক্রির পরিমাণ কিছুটা ইতিবাচক থাকলেও গত ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবারও ঋণাত্মক ধারায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ বর্তমানে নতুন বিনিয়োগের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তির পর গ্রাহকদের মূল টাকা ও মুনাফা পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ৫৫৫ কোটি টাকা ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একক মাস হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে নিট বিক্রি কমেছে এক হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। এর আগের মাস জানুয়ারিতেও বিক্রির চেয়ে পরিশোধের পরিমাণ ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেশি ছিল। যদিও অর্থবছরের প্রথম সাত মাস অর্থাৎ জানুয়ারি পর্যন্ত নিট বিক্রি ৬১০ কোটি টাকা বেশি ছিল, যা ফেব্রুয়ারির ধাক্কায় এখন ঋণাত্মক অবস্থানে পৌঁছেছে।

বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়পত্র ছেড়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারলেও ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগের কোনো উর্ধ্বসীমা নেই। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর দিতে হলেও বিল ও বন্ডের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। স্বল্পমেয়াদি ৯১ দিনের বিলে বিনিয়োগ করেও এখন প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। মূলত সরকারের ঋণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিল ও বন্ডে সুদের হার এখন বেশ চড়া।

বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল সরকার। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না পেয়ে সরকার এখন ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে সরকারের এই বিপুল ঋণ গ্রহণের প্রভাবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.০৩ শতাংশ।


যুদ্ধবিরতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলো ১৫ শতাংশ, ইতিবাচক ধারায় শেয়ারবাজার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে উন্মুক্ত করার ঘোষণার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ফিরেছে ইতিবাচক ধারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫ ডলারের বেশি কমে বর্তমানে ৯৩ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে এসেছে। এশীয় লেনদেনে একপর্যায়ে এটি ৯১ দশমিক ৭ ডলারেও নেমে যায়। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার।

এই ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বাজার ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হংকংয়ের হাং সেং সূচক ৩ শতাংশ এবং চীনের শেনচেন কম্পোজিট সূচক ৪ শতাংশ উত্থান দেখিয়েছে।

ইউরোপীয় বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার সকালে ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ, জার্মানির ড্যাক্স ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।

হারগ্রেভস ল্যান্সডাউনের সিনিয়র ইক্যুইটি অ্যানালিস্ট ম্যাট ব্রিটজম্যান বলেন, "এই যুদ্ধবিরতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ দেখিয়েছে এবং তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ঝুঁকি কমিয়েছে।"

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি বলে মনে করছে Maersk। রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে তারা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং আপাতত সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

স্যাক্সো ব্যাংকের চারু চানানা এবং ডয়চে ব্যাংকের জিম রিড মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ইসলামাবাদে আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


স্বর্নের ভরি আবার আড়াই লাখ ছাড়ালো

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে স্বর্নের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে, এক লাফে ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে ভালো মানের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্নের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এ মূল্য সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ন বিক্রি হবে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ন প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বর্নের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


কাগজবিহীন কাস্টমসের পথে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফএক্সটিএমএস)-এর আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রমের পাইলটিং শুরু হয়। বিকেলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এর আগে ব্যাংক থেকে প্রত্যয়িত কমার্শিয়াল ইনভয়েস কাস্টমসে সরাসরি কাগজ আকারে জমা দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় এখন এফএক্সটিএমএস থেকে রিয়েল-টাইমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ইনভয়েসের তথ্য যুক্ত হবে। ফলে কাস্টমস অফিসে গিয়ে আলাদা করে কাগজ জমা দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কমার্শিয়াল ইনভয়েস যাচাই প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ অনলাইন ও রিয়েল-টাইম কাগজপত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে রাজস্ব ঝুঁকি হ্রাস পাবে। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের খালাস হবে সহজ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত হবে। পাশাপাশি ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং কমবে।

এনবিআর জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি হবে। পাইলট কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে বিল অব এন্ট্রিতে বাধ্যতামূলকভাবে কমার্শিয়াল ইনভয়েস সংযোজন চালু করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমন্বিত উদ্যোগ কাগজবিহীন কাস্টমস ব্যবস্থার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও সহজ হবে এবং কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হবে।


৫১ হাজার টন অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের নতুন চালান আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের আরও দুটি চালান আমদানি করা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়া থেকে মোট ৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, প্রায় ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন বহনকারী ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে আন্দামান সাগরে রয়েছে এবং বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

একই সময়ে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজও মালয়েশিয়া থেকে আসছে, যা একই দিনে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, এলপিজি ও এলএনজি বহনকারী আরও দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। নাইজেরিয়া থেকে আসা ‘কুল ভয়েজার’ জাহাজে এলএনজি রয়েছে, যার স্থানীয় এজেন্ট ইন্টারপোর্ট। এছাড়া চীন থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে ‘গ্যাস জার্নি’, যার এজেন্ট ইউনাইটেড শিপিং। খালাস শেষে জাহাজ দুটি বুধবার বন্দর ত্যাগ করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বর্তমানে বন্দরের জলসীমায় এলপিজি ও এলএনজি বহনকারী দুটি জাহাজ অবস্থান করছে এবং মোট চারটি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস চলছে। এর মধ্যে ৩১ মার্চ ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ এবং ৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে ‘শ্যান গ্যাং ফা শিয়ান’ বন্দরে পৌঁছায়। ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ থেকে ভাটিয়ারিতে এলপিজি খালাস করা হচ্ছে।

ফারজিন হাসান মৌমিতা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসি নিয়মিতভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে।


চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব থাকলেও চলতি বছরের শুরুতে কনটেইনার পরিবহনে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে বন্দরে মোট ৭ লাখ ৯৯ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭ লাখ ৯৫ হাজার। অর্থাৎ কনটেইনার বেড়েছে ৩ হাজার ৮৪৫টি।

তবে একই সময়ে পণ্য হ্যান্ডলিং কমেছে। এ সময়ে মোট ৩ কোটি ৫৯ লাখ টন পণ্য ওঠানামা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ লাখ ৪১ হাজার টন কম।

জাহাজ আগমনেও কিছুটা হ্রাস দেখা গেছে। গত বছরের ১ হাজার ১১১টির বিপরীতে চলতি বছরে এসেছে ১ হাজার ৮৭টি জাহাজ।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে মোট কার্গো হ্যান্ডলিং দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৮ টনে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বন্দরে ৩২৩০টি জাহাজ এসেছে, যা ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এককভাবে ২১ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, ডলার সংকটের কিছুটা উন্নতি এবং জ্বালানি, গম ও শিল্প কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধিকে এই অগ্রগতির পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাহাজের গড় অবস্থানকাল কমেছে এবং বর্হিনোঙ্গরে অপেক্ষার সময় শূন্যে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘বন্দরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সেবার অটোমেশনসহ নানা উদ্যোগের ফলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। অর্থবছরের বাকি সময়েও বন্দর কর্তৃপক্ষ এ অগ্রগতি চলমান রাখতে চায়।’

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেডের অধীনে যাওয়ার পর কার্যক্রমে গতি এসেছে। ই-গেট এবং টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম চালুর ফলে দক্ষতা বেড়েছে।

বর্তমানে বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় প্রায় নেই। জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম চার দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৫৩ দিনে নেমে এসেছে। ‘সিপিএ স্কাই’ ও প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেস (পিএপি)-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও এ উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘এনসিটি’র কার্যক্রম হস্তান্তরের পর দক্ষতা ১২ থেকে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম বজায় থাকায়, এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।’

এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভাড়া ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এ ছাড়া এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে বন্দর কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ অর্জন, জাহাজের গড় ‘টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বার্থ অকুপেন্সি দক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হবে এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।


এপ্রিলের প্রথম ৬ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬৬ কোটি ডলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি মাসের শুরুতেই দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। এপ্রিলের প্রথম ছয় দিনে মোট ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১১ কোটি ডলারের সমান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৬ কোটি ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৫১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।”

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এর আগে ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।


banner close