শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

অল্প সময়ে ধনী হতে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৯:৩৮

মোবালই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়ার কথা বলে এক বছরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দু’টি প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও ফরিদপুরের ভাংগা এলাকা থেকে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১০।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদ উদ্দিন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কতিপয় প্রতারক চক্র রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান ও মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ/নগদের মাধ্যমে প্রতারিত করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তদন্তের এক পর্যায়ে র‌্যাব-১০ জানতে পারে, কক্সবাজারের পেকুয়া থানার বসবাসকারী ভুক্তভোগী ইসতাহাদ উদ্দিন সোহানের (১৯) মোবাইল নম্বরে গত ২২ মার্চ ৩টা ৩৬ মিনিটে কল দিয়ে তার নম্বরে উপবৃত্তির টাকা পাঠাবে বলে কৌশলে তার বিকাশের পিন নম্বর নিয়ে নেয় তারা। পরবর্তীতে ৩৮ লাখ ২৫৮ টাকা তার অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় তিনি কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এছাড়া গত ২৪ মার্চ কক্সবাজারের পেকুয়া থানার জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একই চক্র ২০ হাজার ৪০০ টাকা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা এলাকার লোকমান হোসেন (৪৪) এর কাছ থেকে তার ছেলের নামে উপবৃত্তির কথা বলে ১৬ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরে মঙ্গলবার রাতে গোয়ন্দা তথ্যে অভিযান চালিয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, চক্রের হোতা ইসমাইল মাতুব্বর (২১), ইব্রাহিম মাতুব্বর (২৭), মো. মানিক ওরফে মতিউর রহমান (১৯) ও মো. সিনবাদ হোসেনকে (২৪)। তাদের কাছ থেকে ২২টি মোবাইল ফোন, ৩৫টি সিম কার্ড, মোবাইলের পাঁচটি চার্জার, একটি ল্যাপটপ, একটি ব্যাগ ও নগদ ৩০ হাজার হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার ইসমাইল মাতুব্বর বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাৎ চক্রের হোতা। নম্বর ক্লোন করে নিজেকে শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কৌশলে বিকাশ বা নগদের পিন নম্বর হাতিয়ে নিতেন। এভাবে তার চক্র প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। চক্রের সবাই স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আশায় প্রতারণার আশ্রয় নেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

তদন্তকালে র‌্যাব-১০ আরও জানতে পারে অন্য আরেকটি প্রতারক চক্র গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আব্দুল মমিন (৪২) নামে একজন নতুন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৪২ হাজার ৭৭৭ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ডিএমপি ঢাকার ডেমরা থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী।

জিডির সূত্র ধরে একই রাতে র‌্যাব-১০ এর দুটি পৃথক দল ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এজেন্টদের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারিত করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের অন্যতম মূল হোতা সুমন ইসলাম (২০), মাহমুদুল হাসান পলক (২০), সাব্বির খন্দকার (১৯), মো. সাকিব (১৯), ও রাসেল তালুকদারকে (২৩) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের নিকট হতে ১৪টি মোবাইল ফোন, ৯১টি সিম কার্ড, ১টি ব্যাগ, ১০৪ পিস ইয়াবা ও ৫২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার সুমন ইসলাম মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ বা নগদ) ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এজেন্টদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা চক্রের হোতা। তার নেতৃত্বে চক্রটি প্রায় ৮-৯ মাস ধরে বিকাশ বা নগদ এজেন্টদের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।

এই চক্রটি ২ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৬০-৭০ জন বিকাশ/নগদ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানায়। তারা সবাই স্বল্প সময়ে কোটিপতি হবার আশায় এবং মাদক সেবনের অর্থ যোগান দিতে এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা যায়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক।


কেনো এক্সপ্রেসওয়ে গাড়িতে আগুন লাগলো তা জানালো পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:৩৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার অংশে একটি প্রাইভেটকারে আগুন লাগে। কেনো আগুন লেগেছে সেই বিষয়ের কারন জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের বাড্ডা অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার রাজন কুমার দে গণমাধ্যমকে বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গতকাল বিকেলে আবু শাহরিয়ার তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান নিয়ে গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো ঘ-১৭-২৭২১) ঘুরতে বের হন। তাঁরা রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শাহরিয়ারের ভাই। একপর্যায়ে গাড়িটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আগুন ধরে যায়। আগুন গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ার আগে তাঁরা সবাই নিরাপদে নেমে যান।

এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

গাড়িটির মালিক আল আজমি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু শাহরিয়ার‍।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, গতকাল বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর একটি গাড়িতে তারা আগুন লাগার খবর পায়। তখন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভালেও গাড়িটি ততক্ষণে পুড়ে যায়। কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, গাড়িটি হাইব্রিড (বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের সমন্বয়ে চালিত গাড়ি)।


সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের ২৫ হাজার টাকা দিল বিআইডব্লিউটিএ

আপডেটেড ১১ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদরঘাটে পন্টুনে বেঁধে রাখা লঞ্চে আরেক লঞ্চের ধাক্কায় রশি ছিঁড়ে নারী-শিশুসহ পাঁচজন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রতি মৃতব্যক্তির দাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

বৃহস্পতিবার নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার জাহাঙ্গীর আলম খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এমভি ফারহান-৬ ও এমভি তাসরীফ-৪ লঞ্চ দুটির রুট পারমিট ও সময়সূচি স্থগিত করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটি-এর পক্ষ হতে প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির নমিনির কাছে দাফন কাফন বাবদ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিএ-এর পরিচালক (ক্রয় ও সংরক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আজগর আলী এবং বন্দর শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেনকে সদস্য করে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্ম দিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন পেশ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়:

এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদ করলো ছাত্রলীগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১১ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:৫০
ঢাবি প্রতিনিধি

কারো মা নেই, কারো বাবা নেই, আবার কারো বাবা-মা দুজনই বেঁচে নেই। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে সবাই যখন বাড়ি ফিরছে তখন এই শিশুরা বসে ছিলো মাদরাসার প্রাঙ্গণেই। প্রিয়জন না থাকায় যেতে পারেনি বাড়িতে। তাই অন্য শিশুদের মতো তাদের ছিলো না ঈদ উদযাপনের আনন্দ। আর এসব শিশুদের নিয়েই ঈদ উদযাপন করেছে ছাত্রলীগ।

আজ বৃহস্পতিবার নাঙ্গলকোট উপজেলার হিয়াজোড়া দারুসসালাম মাদরাসা ও এতিমখানার ২০ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন আয়োজন করে তাদের ঈদ আনন্দ এনে দেওয়া হয়েছে। আর এই আয়োজনের মূল সংগঠক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাদ্রাসা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। এসব শিক্ষার্থীদের ঈদ উপহার বিতরণ, নিজ বাড়িতে ঘুরানো এবং মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা ছিলো ছাত্রলীগের এই আয়োজনে।

এই বিষয়ে হিয়াজোড়া দারুসসালাম মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, এই শিক্ষার্থীরা ঈদ উদযাপন করার জন্য বাড়ি যেতে পারেনি। কারণ তাদের অধিকাংশেরই বাবা-মা বেঁচে নেই। ঈদ উপলক্ষে তাদের আনন্দ-উল্লাসের কোন আয়োজন নেই, ছিলো না নতুন জামা-কাপড় এর ব্যবস্থা। জহিরুল ভাই আমাদের সাথে কথা বললে উনি নিজে এসে গাড়িতে করে শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।

এই শিক্ষক বলেন, তিনি তাদের সকলকে নতুন ঈদ পোশাক ও টুপি উপহার দেন এবং তাদের সামনে উনার মায়ের তৈরি করা খাবার পরিবেশন করেন। শিক্ষার্থীদের জন্য আইসক্রিম, চকলেট, সেমাই, দধিসহ ফলমূলের ব্যবস্থা ছিলো। শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় আসলে তাদের প্রফুল্ল মনে হয়েছে। আমাদের এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন করায় ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ।

এবিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এতিম ও অসহায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ ও তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও মানবিক ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি এই কাজটি দায়িত্ব হিসেবে পালন করেছি।

তিনি বলেন, এই এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের ঈদের দিনে যাওয়ার মতো কোন জায়গা ছিলো না, তাদের জন্য ঈদ উদযাপনের কোন আয়োজন ছিলো না, ছিলো না নতুন পোশাকের ব্যবস্থা। যেখানে অন্য সব বাচ্চারা তাদের পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করবে, সেখানে এই এতিম ও অসহায় বাচ্চাগুলো কোন প্রকার আনন্দ ছাড়া কাটিয়ে দিবে তা আমার কাছে অনেক খারাপ লাগে।

'এই অনুভূতি থেকে বাচ্চা গুলো যাতে অন্তত ঈদের দিন তাদের বাবা- মা হারানোর কষ্টের কথা ভুলে থাকতে পারে, সেই প্রচেষ্টা থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমার এই আয়োজন করি। আশা করি ভবিষ্যতে আমার এই কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো' যোগ করেন জহিরুল।


সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জবি প্রতিনিধি

রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালের পন্টুনে বাঁধা দুটি লঞ্চের মাঝখান দিয়ে আরেকটি লঞ্চ প্রবেশের সময় একটি লঞ্চের রশি ছিঁড়ে ৫ জন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই পাঁচজনের মধ্যে একই পরিবারের ৩ জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন- পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার মাটিচোরা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে বিল্লাল (৩০), তার স্ত্রী মুক্তা (২৬), তাদের মেয়ে সাইমা (৩)। তারা তিনজন একই পরিবারের সদস্য। বাকি দুজন হলেন পটুয়াখালী সদরের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রিপন হাওলাদার (৩৮) এবং ঠাকুরগাঁও সদরের নিশ্চিতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ কাফীর ছেলে রবিউল (১৯)।

ঘাটে বাঁধা দুটি লঞ্চ হলো ‘এমভি তাশরিফ-৪’ ও ‘এমভি পূবালী-১’ আর ধাক্কা দেয়া লঞ্চটির নাম ‘এমভি ফারহান-৬’। লঞ্চে যাত্রী ওঠার সময় আরেকটি লঞ্চের ধাক্কায় ছেঁড়া রশির আঘাতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতরের দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানাধীন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ১১ নম্বর পন্টুনের সামনে ঢাকা থেকে ভোলাগামী এমভি তাশরিফ-৪ ও এমভি টিপু নামে দুটি লঞ্চ রশি দিয়ে পন্টুনে বাঁধা ছিল। লঞ্চ দুটির মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে গেলে পাঁচ জন যাত্রী লঞ্চে ওঠার সময় গুরুতর আহত হন। এদের মধ্যে বাবা-মা ও সন্তান ছিল। পরে সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নদীতে জোয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে হঠাৎ রশি ছিঁড়ে যাত্রীদের ধাক্কা দিলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

গুরুতর আহত পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) জরুরি বিভাগের ডিউটিরত চিকিৎসক ডাক্তার হিমাদ্রি শেখর।

তিনি জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাদের শরীরে পালস না পাওয়া যাওয়ায় তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। গুরুতর আহত হওয়ায় পাঁচজনের শরীর থেকেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন কোনো রোগী হাসপাতালে ভর্তি নেই। এ ঘটনায় পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সদরঘাট নৌ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহতদের মধ্যে একজন নারী, তিনজন পুরুষ ও একজন শিশু রয়েছে। তাদের মৃতদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালে রাখা আছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত এমভি ফারহান ৬ এর চালক পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন সদরঘাট নৌ থানা পুলিশ।

ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন জানান, ফারহান-৬ লঞ্চটি জোরে পার্কিং করতে যাওয়ায় তাসরিফের রশি ছিঁড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। এ দুর্ঘটনার পর এমভি ফারহান ও এমভি টিপুর যাত্রা বাতিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এ ঘটনায় নৌ পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নৌ পুলিশের ঢাকা জোনের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।

ফেয়ারী শিপিং লাইনস লিমিটেডের মালিকানাধীন এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চটি ঢাকা-চরফ্যাশন-বতুয়া রুটে চলাচল করে।

বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জয়নাল আবেদীন জানান, লঞ্চের রশি ছিঁড়ে ঘটা এ দুর্ঘটনার পর এমভি ফারহান-৬ ও এমভি তাসরিফ-৪ এর রুট পারমিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চের রশি ছিঁড়ে রশির আঘাতে পন্টুনে থাকা ৫ জন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিআইডব্লিউটিএ'র পরিচালক (ক্রয় ও সংরক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম কমিটির আহ্বায়ক, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. আজগর আলী এবং বন্দর শাখার যুগ্ম পরিচালক মো. কবীর হোসেন কমিটির সদস্য। কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যানের নিকট প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।


চিড়িয়াখানায় হাতির শুঁড়ের আছাড়ে প্রাণ গেল কিশোরের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদের দিন সকালে ঢাকার মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হাতির শুঁড়ের আছাড়ে প্রাণ হারিয়েছে এক কিশোর। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার জসীম উদ্দিন মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, ছেলেটি হাতির মাহুতের ছেলে। তিনি বলেন, ‘ঈদের কারণে চিড়িয়াখানায় প্রচুর মানুষ আসে। দর্শকদের ফুটবল নিয়ে খেলা দেখানোর সময় মাহুতের ছেলে বাবার কাছেই ছিল। হঠাৎ করেই একটি হাতি ওই কিশোরকে শুঁড় দিয়ে তুলে আছাড় মারে। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ এই ঘটনার পর হাতিটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় আলাদা করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।


সদরঘাটে এক লঞ্চের সঙ্গে আরেক লঞ্চের ধাক্কা: নারী-শিশুসহ নিহত ৫

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১১ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদরঘাট লঞ্চঘাটের ১১ নং পন্টুনের সামনে `এমভি তাশরিফ-'৪ ও `এমভি পূবালী-১' নামক দুটি লঞ্চ রশি দিয়ে পন্টুনে বাঁধা ছিলো। এমন সময় এ দুটি লঞ্চের মাঝখান দিয়ে `ফারহান' নামের আরেকটি লঞ্চ প্রবেশের সময় এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে গেলে ৫ জন যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঈদুর ফিতরের দিন বিকেলের দিকে সদরঘাটের ১১নং পন্টুনের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সদরঘাট নৌ-পুলিশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম। নিহত ৫ জনের মধ্যে মহিলা একজন, পুরুষ ৩ জন এবং শিশু একজন রয়েছে বলে সদরঘাটের ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়।

ঢাকা নদী বন্দর (সদরঘাট) এর যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, সদরঘাটের এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ মিডফোর্ড হাসপাতালে রাখা আছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরে মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন গণমাধ্যমকে বলেন, এমভি তাশরিফ-৪ ও এমভি পূবালী-১ নামে দুটি লঞ্চ রশি দিয়ে পন্টুনে বাঁধা ছিল। এ দুটি লঞ্চের মাঝখান দিয়ে ফারহান নামের আরেকটি লঞ্চ ঢুকানোর সময় এমভি তাশরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে গেলে পাঁচজন নিহত ও পাঁচজন যাত্রী লঞ্চে উঠার সময় গুরুতর আহত হন। সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের অ্যাম্বুলেন্সযোগে আহতদের মিটফোর্ড হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।


ঈদুল ফিতরে কোনো জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতরে কোনো জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাঁচস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পুরো ঈদগাহ ময়দান পর্যবেক্ষণ করা হবে। নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা জায়নামাজ ব্যতীত কোন প্রকার ব্যাগ সঙ্গে আনতে পারবেন না।

মঙ্গলবার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর সব ঈদ জামাতেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কেএনএফ নিয়ে রাজধানীতে এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা নেই। জঙ্গি তৎপরতার খবর নেই। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার আছে।

এছাড়া ঈদ যাত্রায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

বিষয়:

ফাঁকা ঢাকায় সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

থানায় থানায় বিশেষ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এবারের ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফাঁকা ঢাকায় যেন ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরির মতো ঘটনা না ঘটে সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

রেড জোন চিহ্নিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে র‍্যাব। অন্যদিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পেশাল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত বছর ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় একাধিক ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা ছিল পুলিশ সদস্য মনিরুজ্জামান তালুকদারের হত্যাকাণ্ড। গত ঈদুল আজহার ছুটির দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন পুলিশ সদস্য মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া গত ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর বাড্ডার গুদারাঘাটে একটি বাসায় ঘটে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা। সেই বাসার সবাইকে দিনের বেলায় জিম্মি করে ডাকাতরা লুট করে নিয়ে যায় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা। এবারের ঈদেও এসব অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

আরও জানা যায়, অন্য ঈদের ছুটির মতো এবারও রাজধানী ছেড়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। এর ফলে ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা প্রায় ফাঁকা থাকবে। এ সুযোগে প্রতি বছরই অপরাধীদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। তাদের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয় ফাঁকা ঢাকার ফ্ল্যাট বাসা ও রাস্তার পথচারীরা। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে যেন এসব অপরাধ না ঘটে, সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। সাপ্তাহিক ও ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের ছুটি মিলিয়ে এবার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লম্বা ছুটি মিলছে। তাই ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য দলে দলে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‍্যাব ও পুলিশ। রমজানজুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে নতুন করে নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ ছাড়া ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। অতীতের ঘটনা মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে নতুন করে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, বিগত পাঁচ বছরে রাজধানীতে এক হাজারের মতো ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। অন্যদিকে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে কয়েক হাজার। ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০২৩ সালে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৯৯টি, চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৫১১টি। ২০২২ সালে ছিনতাই মামলা ৩১০টি এবং চুরির মামলা ১ হাজার ৬০৩টি। ২০২১ সালে ছিনতাই মামলা হয় ১৬৬টি এবং চুরি সংক্রান্ত মামলা ১ হাজার ৩৪৩টি। ২০২০ সালে ছিনতাই মামলা ১৭৬টি এবং চুরির মামলা ১ হাজার ২১৭টি। এ ছাড়া ছিনতাই ও চুরির অনেক ঘটনার মামলা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

ফাঁকা ঢাকায় থাকবে ডিএমপির স্পেশাল টিম

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ দমনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে ডিএমপির স্পেশাল টিম। ডিএমপির স্পেশাল টিম এলাকায় এলাকায় ঘুরে টহল দেবে এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় সন্দেহজনক কারও চলাফেরা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ঈদের ছুটির সময় কাজ করে যাবে এই স্পেশাল টিম। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা দিতে ডিএমপির ৫০টি থানাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা।

এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা দিতে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। মোবাইল টহল টিমের পাশাপাশি চেকপোস্ট জোরদার করা হবে। ফাঁকা ঢাকায় যেকোনো অপরাধ দমনে মাঠ পর্যায়ে থাকবে স্পেশাল টিম। এ ছাড়া বিশেষ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ডিএমপির প্রতিটি থানাকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

থানায় থানায় নির্দেশ

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা দিতে ডিএমপির ৫০টি থানাকে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিএমপির সদর দপ্তরে। এসব সভায় ডিএমপির ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফাঁকা ঢাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদের ছুটির কয়েক দিন আগে থেকে এবং ঈদের ছুটির কয়েক দিন পর পর্যন্ত টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি থানাধীন এলাকায় রাতে ও দিনে টহল দিতে হবে।

এ বিষয়ে ডিএমপির হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ফাঁকা ঢাকায় নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে নিরাপত্তা দিতে অন্য সময়ের তুলনায় আমাদের তৎপরতা বেশি থাকবে। ছুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য আমাদের পেট্রোলিং ব্যবস্থা ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া দিনেরাতে চেকপোস্ট থাকবে আমাদের। অপরাধীরা যাতে ঢাকায় অপরাধ করে বের হয়ে যেতে না পারে এবং অপরাধীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ না করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী বলেন, ফাঁকা ঢাকায় পুলিশ প্রতিবারই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এবারও আমাদের ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষ বাড়িতে যাবে, তাদের বাসাবাড়ি পাহারা দিতে আমাদের বিশেষ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে।

রেড জোনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে র‍্যাব

ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‍্যাবও। গোয়েন্দা দল, চেকপোস্ট, রোবাস্ট পেট্রোল ও টহল টিমের পাশাপাশি কিছু এলাকার জন্য স্পেশাল টিম ইতোমধ্যে প্রস্তুত রেখেছে র‍্যাব। এ ছাড়া রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকাকে অপরাধের জন্য রেডজোন চিহ্নিত করে এসব এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে র‍্যাব।

সোমবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নাড়ির টানে ঢাকা শহরের অনেক বাসিন্দা গ্রামে চলে যান। শূন্য ঢাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের ওপর বর্তায়। কোনো এলাকায় যদি কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয় তা আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জানতে পারি আর তখন আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকাকে আমরা রেড জোন হিসেবে দেখছি। যেখানে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেশি ঘটে। এসব রেড জোনে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি।

এদিকে গত রোববার দুপুরে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ঈদের ছুটিতে অনেকেই বাড়ি যাবেন। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা বাড়িতে কেউ যাতে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে সে জন্য আপনারা ফ্ল্যাট বাড়ির নিরাপত্তার জন্য পাহারাদার নিয়োজিত করবেন। অনেক সময় দেখা যায়, অপরাধ সংঘটিত হলে সিসিটিভির ক্যামেরা অন্যদিকে মুখ করে থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিক আছে কি না এবং যেদিকে মুখ করে থাকার কথা সেদিকে আছে কি না তা আপনারা চেক করে নেবেন। যাতে করে অপরাধ সংঘটিত হলে পাহারাদার না ধরতে পারলেও আমরা যেন গিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারি।

ছিনতাই নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ঈদের সময় ছিনতাইকারীরা যেমন তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি করে তেমনি আমরাও আমাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছি। ছিনতাই নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা কাজ করছি। প্রতিটি ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে আমরা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ছিনতাইকারীদের আমরা আইনের আওতায় আনছি। অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ঢাকা ছাড়ার আগে নগরবাসীকে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো মধ্যে রয়েছে–

১। গ্যাসের ও পানির লাইনসহ সব ধরনের লাইট, ফ্যানের সুইচ, বৈদ্যুতিক প্লাগ বন্ধ করে বাসা থেকে বের হবেন। বাসাবাড়িতে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে ছুটি শেষে বাড়ি থেকে ফিরে এসে দরজা-জানালা খুলবেন। ঘরে জমে থাকা গ্যাস বের না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই গ্যাসের চুলা জ্বালানো কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করবেন না।

২। বাসাবাড়িতে সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে। পূর্বে বসানো সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না পরীক্ষা করতে হবে।

৩। বাসার চারপাশে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৪। নগদ টাকা কিংবা স্বর্ণালংকার ব্যাংক কিংবা নিকটাত্মীয়দের কাছে নিরাপদে রেখে যাবেন।

৫। রাতে কিংবা দিনে একসঙ্গে মুখে মাস্ক এবং মাথায় ক্যাপ পরিহিত অপরিচিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারি করতে হবে। প্রয়োজনে ৯৯৯ ফোন দিতে হবে।

৬। মোটরসাইকেল চুরি রোধে অ্যালার্ম লাগাতে হবে। এতে কেউ মোটরসাইকেল স্পর্শ করলেই অ্যালার্ম বেজে উঠবে। লক করার কাজে স্টিলের তৈরি মেরিন অ্যাংকর চেইন ব্যবহার করতে হবে। মোটরসাইকেলে জিপিএস ট্র্যাকার লাগাতে হবে এবং চাকাতে উন্নত মানের ডিস্ক লক ব্যবহার করতে হবে।

বিষয়:

তিন মাসে ১৪৬৪ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৬৭

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। এর পেছনে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উদ্যোগ বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চলতি বছর দুর্ঘটনা বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এক হাজার ৪৬৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ৩৬৭ জন নিহত ও এক হাজার ৭৭৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের প্রথম তিন মাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৭টি এবং এতে এক হাজার ৫১ জন নিহত ও এক হাজার ৪৪০ জন আহত হন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘বানোয়াট’ উল্লেখ করে এর সমালোচনা করার পর বিআরটিএ তাদের বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এর পর সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ে গত বছরের জানুয়ারিতে বিআরটিএ প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করে।

বেসরকারি সংস্থাগুলো মূলত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করে। বিআরটিএর প্রতিবেদনকে তারা ‘খুবই ন্যূনতম অনুমান’ বলে অভিহিত করেছে। তারা আরও জানায়, দুর্ঘটনা নিয়ে বিআরটিএর তথ্যের সঙ্গে পুলিশের সংগ্রহ করা তথ্যেরও পার্থক্য আছে।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৩২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩৩ জন নিহত হন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫৬৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২৩ জন এবং গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩০৮টি দুর্ঘটনায় ৩০৩ জন নিহত হন। ২০২৪ সালের মার্চে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪০ জন, যেখানে গত বছরের মার্চে ৩৮৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪১৫ জন।

বিআরটিএর তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে পাঁচ হাজার ৪২৫টি দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচ হাজার ২৪ জন নিহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী জানান, তিনি এখনো বিআরটিএর তথ্য না দেখায় এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।

‘তবে আমরা এখন অথেনটিক তথ্য সংগ্রহ করছি। আগেরটি অথেনটিক ছিল না’, বলেন তিনি।


সড়কে আনফিট গাড়ি নামালে কঠোর ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদে আনফিট গাড়ি নামার সুযোগ নেই, কেউ যদি বের করে, সেটি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে লোকাল প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার।

গাবতলী বাস টার্মিনালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে শনিবার বিআরটিএ চেয়ারম্যান এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকদের রিকুইজিশন দিতে বলেছি, যাতে আনফিট গাড়ি না নিয়ে বিআরটিসির বাস নিতে পারে। সুতরাং এখানে আনফিট গাড়ি রাস্তায় নামার সুযোগ নেই। এ ছাড়া যেসব জায়গা থেকে আনফিট গাড়ি বের হওয়ার চেষ্টা করে সেগুলো বন্ধ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা নজরদারিতে রেখেছি।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ ছাড়া ঈদের সময় কিছু আনফিট গাড়ি রাস্তায় নেমে আসে, এমন একটি কমন অভিযোগ থাকে প্রতি বছরই। এবার কোনোভাবেই যাতে আনফিট গাড়ি রাস্তায় নামতে না পারে, এ জন্য আমরা বিআরটিসির ৫৫০টি বাস রিজার্ভেশনে রেখেছি বলে দাবি বিআরটিএ চেয়ারম্যানের।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা এই টার্মিনালগুলো পরিদর্শন করি মানুষের ঈদযাত্রা যাতে স্বস্তিদায়ক হয়। এখানে (গাবতলী বাস টার্মিনাল) আমাদের মোবাইল কোর্ট, ভিজিলেন্স টিম, মনিটরিং টিম কাজ করছে। আমি এখানে বিভিন্ন টিকিট কাউন্টার ঘুরে দেখলাম, বেশির ভাগ জায়গায় ভাড়া কম নেওয়া হচ্ছে।’

নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘দুই-এক জায়গায় রুট ভুল লিখেছে। তাই ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করতে বলেছি। এখানে যাত্রীরও তেমন ভিড় নেই, পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ দেখছি না।’

বিআরটিএ-র পক্ষ থেকে প্রতিটি কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট, ভিজিলেন্স টিম সদস্য দেখছে। মালিক সমিতির নেতারাও এই ব্যাপারে সিরিয়াস, যাতে তাদের বদনাম না হয়।’

যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ভাড়ার চার্ট দেখে ভাড়া দেবেন, সেই তালিকা অনুযায়ী ভাড়া দেবেন। অতিরিক্ত এক টাকাও ভাড়া দেবেন না। যদি কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে টিকিট কাটার আগে আমাদের ভিজিলেন্স টিমের কাছে অভিযোগ করবেন। যদি এর পরেও কোনো সুরাহা না হয়, তাহলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’


ভুয়া এনআইডিতে ৩০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক

একই নামে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৩০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তারা হলেন- জয়নাল আবেদীন ওরফে ইদ্রিস (৪২), পল্লব দাস (৩৬), রফিকুল ইসলাম খান (৩৮) ও আলিফ হোসেন (২৩)। ডিবি বলছে, তাদের মধ্যে পল্লব দাস রংপুর বিভাগীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে আইটি সেকশনে খণ্ডকালীন নিযুক্ত ছিলেন। আর জয়নাল আবেদীন তার মাধ্যমে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়ে পরিবর্তন করিয়ে নিতেন। সম্প্রতি জয়নাল আবেদীন নন ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি থেকে ৫০ লাখ টাকা ঋণ পান। ঋণ প্রাপ্তির কাগজপত্র মেঘনা ব্যাংকে জমা দিয়ে তার নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার আবেদন করেন। মেঘনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার কাগজপত্র সন্দেহ হলে তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে পাঠায়। ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার হুমায়ন কবীরের নেতৃত্বে একটি টিম তদন্ত করে জয়নালের ঋণ জালিয়াতির তথ্য পায়। গতকাল শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন উর রশীদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার জয়নাল এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কয়েক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। প্রতিটি ঋণের আবেদনে তিনি তার এনআইডি ও একটি জমির দলিল ব্যবহার করেছেন। তিনি এনআইডিতে তার নাম পরিচয় ঠিক রেখে এনআইডির সিরিয়াল নম্বর পরিবর্তনের জন্য পল্লব দাসের সহায়তা নিতেন। পল্লব দাস রংপুর বিভাগীয় নির্বাচন কমিশনে আইটি সাইটটি দেখতেন। এ কারণে পল্লব দাস নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে ঢুকে তথ্য পরিবর্তন করতে পারতেন। সেই সুযোগটি জয়নাল কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে তার এনআইডি জমা দেন। এর সঙ্গে জমির দলিল একটাই দেওয়া হতো। ওই জমির দলিলের বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তন করে জাল দলিল জমা দেওয়া হতো। এভাবেই তিনি কয়েক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার একটি সাত তলা বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তিনি-চারটি ফ্ল্যাট কিনেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির ডিবিপ্রধান বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ অনুমোদনের পেছনে হয়তো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে। সে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। কয়টি ব্যাংক থেকে তিনি ঋণ নিয়েছেন এবং তার পেছনে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে- সে বিষয়ে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হারুন উর রশীদ আরও বলেন, ‘প্রতারক জয়নালের একসময় কিছুই ছিল না। তিনি ইমিটেশন পণ্যের দোকান করতেন। কিন্তু সেই ব্যবসায় লস করে তিনি ব্যবসা ছাড়েন। এরপর জড়িয়ে পড়েন প্রতারণায়। জয়নাল তার প্রতারণার জন্য একটি কোম্পানি খুলে সেখান থেকে আরও সাতটি কোম্পানির নামে কাগজপত্র তৈরি করে রেখেছিলেন। পরে সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের দিয়ে তিনি ঋণ নিতেন। আমরা তাকেসহ পল্লব দাসকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসা করব। পল্লব দাস জয়নালের মতো আর কতজনকে সার্ভার ব্যবহারে এমন কার্যকর এনআইডি তৈরি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া তারা আর কতটি ব্যাংক থেকে এমন ঋণ নিয়েছেন তা আমরা খতিয়ে দেখব। এই পল্লবের সঙ্গে আরও ইসির যদি কেউ জড়িত থাকে তাদেরও আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পল্লব প্রতি এনআইডি বাবদ জয়নালের কাছ থেকে ২-৩ লাখ করে টাকা নিতেন। তবে এই পল্লব এনআইডি বানিয়ে দিয়ে কত টাকা নিয়েছেন এবং তার অর্থ সম্পদ করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখবে ডিবি।’

ডিবি বলছে, জয়নালের কার্যকর ১০টি এনআইডি ছিল। এসব এনআইডি দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করতেন। এনআইডির নাম ও ঠিকানা ঠিক থাকত। শুধু সেটির নম্বর পরিবর্তন করে আরেকটি তৈরি করত। পল্লব দাসের কাছে নির্বাচন কমিশনের ব্যবহৃত সার্ভারের পাসওয়ার্ড থাকত। এই সুবাধে তিনি এসব ভুয়া কিন্তু কার্যকর এনআইডি করতেন।


ঈদে ঢাকা ছাড়বে সোয়া কোটি মানুষ: ডিএমপি

ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এ জন্য পার্শ্ববর্তী সব ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘ঢাকার টার্মিনাল থেকে বাসগুলো ছেড়ে সারা দেশে চলে যাচ্ছে। শুধু সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকেই দেশের ৩৮টি জেলার বাস যায়। মাওয়া হাইওয়ে, সিলেট ও চট্টগ্রাম হাইওয়েতে বাসগুলো ওঠে। কিন্তু টার্মিনালের পরের রাস্তাগুলো সুবিধার নয়। রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে, দ্রুততম সময়ে সংস্কার হয়ে গেলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।’

ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, এবারের ঈদ উপলক্ষে অন্তত এক থেকে সোয়া কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। বাসের ট্রিপগুলো ঠিক সময়ে দিতে পারলে শিডিউল বিপর্যয় এড়ানো যায়। শিডিউল বিপর্যয় হলেই রাস্তায় অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের শেষ মুহূর্তে একসঙ্গে ছুটি হয়। লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে বাড়িতে রওনা হয়। তখন কিছুটা ভোগান্তি দেখা যায়। আশা করি অন্যান্য বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার ভালো সেবা দিতে পারব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ডিএমপির অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত গাড়ির কাগজ যাচাই করে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। অনেক ভালো গাড়ির ফিটনেস থাকে না আবার দেখতে ভাঙাচোরা মনে হলেও দেখা যাচ্ছে সেই গাড়ির ফিটনেস থাকে। ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও কোনো গাড়ি রাস্তায় নষ্ট হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি তৈরি করবে। এদিকে, শ্রমিকরা একযোগে যখন যাত্রা শুরু করে তখন অযাচিত কিছু যানবাহন ঢুকে পড়ে। আমাদের চোখে পড়লে ব্যবস্থা নিই। আমরা সচেতন আছি, ক্রাইম ডিভিশনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। যাতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বের হতে না পারে সে জন্য আমরা গ্যারেজগুলোতে বিশেষ নজরদারি করছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুনিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রাফিক বিষয়টা একটা সিস্টেমের ওপর ডিপেন্ড করে। ঈদে যখন আমাদের এলাকা থেকে বাসগুলো বের হয়ে যায় তখন বেশি দেরি হয় না। পরে কিছু কিছু সড়কে জটিলতা দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ অনেক ডেভেলপ হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের যদি সমন্বয়টা ভালো করতে পারে, এন্ট্রি-এক্সিটে সমস্যা না হলে এবার খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না।’

ডিএমপির প্রধান ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে আমাদের সবসময় পদক্ষেপ থাকে। রেকার, ডাম্পিং গ্রাউন্ড, জনবল রয়েছে। অনেক সময় ফিটনেস ভালো থাকলেও অযাচিত যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এমন আশঙ্কা থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের ব্যবস্থা থাকে। এন্ট্রি-এক্সিট পয়েন্টে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।’

ট্রাফিকপ্রধান বলেন, টার্মিনালের ভেতর থেকে বাসে যাত্রী ওঠানামার কাজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই টার্মিনাল থেকে বের হয়ে রাস্তা থেকে বাসে যাত্রী উঠা-নামানোর কাজ করা যাবে না। গণপরিবহনগুলো নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করবে না। বিশেষ করে ছাদে কোনো যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে যাবে না। দূরপাল্লার গণপরিবহনগুলো মহানগরীর মধ্যে যাত্রী ওঠানামার কাজ করবে না। এ ক্ষেত্রে গেটলক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। মোটরসাইকেলে যারা দূরপাল্লার যাত্রী থাকবেন তাদের অবশ্যই যাত্রাকালীন সময়ে হেলমেট পরতে হবে। ঝুঁকি পরিহার করার জন্য মোটরসাইকেল যাত্রীদের অতিরিক্ত মালামাল বহন না করা জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব যানবাহনে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারটি যেন মেয়াদোত্তীর্ণ/ঝুঁকিপূর্ণ না থাকে সে বিষয়টি যাত্রাপথের আগে নিশ্চিত করতে হবে। লঞ্চ টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যাত্রীদের গমনাগমন সুষ্ঠু করার জন্য ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সচেষ্ট থাকবে।

বিষয়:

পরিত্যক্ত পলিথিন-ডাবের খোসা কিনবে ডিএনসিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশার প্রজননস্থল এবং পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিত্যক্ত পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, ডাবের খোসা, অব্যবহৃত টায়ার, কমোড ও অন্যান্য পরিত্যক্ত দ্রব্য জনগণের কাছ থেকে নগদ অর্থে কিনে নেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডেঙ্গু মোকাবিলায় এ উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীর গুলশান-২ নগর ভবনের হলরুমে আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় পরিষদের ২৬তম করপোরেশন সভার আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত জানান মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। মেয়র জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে গিয়ে যে কেউ উল্লিখিত দ্রব্য জমা দিয়ে নগদ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের কেনা পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিকটবর্তী সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) অপসারণ করবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় কাউন্সিলরদের সম্মতিক্রমে পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি ও সেগুলো সংগ্রহের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়। চিপসের প্যাকেট বা সমজাতীয় প্যাকেট ১০০টি ১০০ টাকা; আইসক্রিমের কাপ, ডিসপোজেবলব গ্লাস বা কাপ ১০০টি ১০০ টাকা; অব্যবহৃত পলিথিন প্রতি কেজি ৫০ টাকা; ডাবের খোসা প্রতিটি দুই টাকা; মাটি, প্লাস্টিক, মেলামাইন বা সিরামিকের পাত্র প্রতিটি তিন টাকা; পরিত্যক্ত টায়ার প্রতিটি ৫০ টাকা; কনডেন্সড মিল্কের কৌটা, পরিত্যক্ত কমোড বা বেসিন প্রতিটি ১০০ টাকা; অন্যান্য পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের দ্রব্যাদি প্রতি কেজি ১০ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের পরে কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান মেয়র।

বিষয়:

banner close