পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এ জন্য পার্শ্ববর্তী সব ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘ঢাকার টার্মিনাল থেকে বাসগুলো ছেড়ে সারা দেশে চলে যাচ্ছে। শুধু সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকেই দেশের ৩৮টি জেলার বাস যায়। মাওয়া হাইওয়ে, সিলেট ও চট্টগ্রাম হাইওয়েতে বাসগুলো ওঠে। কিন্তু টার্মিনালের পরের রাস্তাগুলো সুবিধার নয়। রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে, দ্রুততম সময়ে সংস্কার হয়ে গেলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।’
ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, এবারের ঈদ উপলক্ষে অন্তত এক থেকে সোয়া কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। বাসের ট্রিপগুলো ঠিক সময়ে দিতে পারলে শিডিউল বিপর্যয় এড়ানো যায়। শিডিউল বিপর্যয় হলেই রাস্তায় অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের শেষ মুহূর্তে একসঙ্গে ছুটি হয়। লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে বাড়িতে রওনা হয়। তখন কিছুটা ভোগান্তি দেখা যায়। আশা করি অন্যান্য বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার ভালো সেবা দিতে পারব।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ডিএমপির অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত গাড়ির কাগজ যাচাই করে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। অনেক ভালো গাড়ির ফিটনেস থাকে না আবার দেখতে ভাঙাচোরা মনে হলেও দেখা যাচ্ছে সেই গাড়ির ফিটনেস থাকে। ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও কোনো গাড়ি রাস্তায় নষ্ট হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি তৈরি করবে। এদিকে, শ্রমিকরা একযোগে যখন যাত্রা শুরু করে তখন অযাচিত কিছু যানবাহন ঢুকে পড়ে। আমাদের চোখে পড়লে ব্যবস্থা নিই। আমরা সচেতন আছি, ক্রাইম ডিভিশনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছি। যাতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বের হতে না পারে সে জন্য আমরা গ্যারেজগুলোতে বিশেষ নজরদারি করছি।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুনিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রাফিক বিষয়টা একটা সিস্টেমের ওপর ডিপেন্ড করে। ঈদে যখন আমাদের এলাকা থেকে বাসগুলো বের হয়ে যায় তখন বেশি দেরি হয় না। পরে কিছু কিছু সড়কে জটিলতা দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ অনেক ডেভেলপ হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের যদি সমন্বয়টা ভালো করতে পারে, এন্ট্রি-এক্সিটে সমস্যা না হলে এবার খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না।’
ডিএমপির প্রধান ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে আমাদের সবসময় পদক্ষেপ থাকে। রেকার, ডাম্পিং গ্রাউন্ড, জনবল রয়েছে। অনেক সময় ফিটনেস ভালো থাকলেও অযাচিত যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এমন আশঙ্কা থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে আমাদের ব্যবস্থা থাকে। এন্ট্রি-এক্সিট পয়েন্টে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।’
ট্রাফিকপ্রধান বলেন, টার্মিনালের ভেতর থেকে বাসে যাত্রী ওঠানামার কাজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই টার্মিনাল থেকে বের হয়ে রাস্তা থেকে বাসে যাত্রী উঠা-নামানোর কাজ করা যাবে না। গণপরিবহনগুলো নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করবে না। বিশেষ করে ছাদে কোনো যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে যাবে না। দূরপাল্লার গণপরিবহনগুলো মহানগরীর মধ্যে যাত্রী ওঠানামার কাজ করবে না। এ ক্ষেত্রে গেটলক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। মোটরসাইকেলে যারা দূরপাল্লার যাত্রী থাকবেন তাদের অবশ্যই যাত্রাকালীন সময়ে হেলমেট পরতে হবে। ঝুঁকি পরিহার করার জন্য মোটরসাইকেল যাত্রীদের অতিরিক্ত মালামাল বহন না করা জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব যানবাহনে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহৃত হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডারটি যেন মেয়াদোত্তীর্ণ/ঝুঁকিপূর্ণ না থাকে সে বিষয়টি যাত্রাপথের আগে নিশ্চিত করতে হবে। লঞ্চ টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যাত্রীদের গমনাগমন সুষ্ঠু করার জন্য ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সচেষ্ট থাকবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তেজগাঁও বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ২১ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ৪ জন, আদাবর থানায় ৮ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৬ জন ও হাতিরঝিল থানায় ১০ জন রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৫০০ প্যাকেট আর্ট কার্ড, মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ৩ হাজার ৫ শত ২০ টাকা এবং তিনটি পুরাতন ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ধর্ষণের অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, রাব্বি একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’। মাত্র দুই মাসে অন্তত ১৩ তরুণীকে ব্লাকমেইল ও ধর্ষণ করেন তিনি। আর ভুক্তভোগী সবাই স্কুল-কলেজপড়ুয়া। এমনকি, তার বর্তমান স্ত্রীকেও ট্র্যাপে ফেলে বিয়ে করেছেন এই যুবক। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে রাব্বিকে আটক হয় বলে জানান তিনি।
ডিসি জানান, আটক রাব্বি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে একটি ফেক আইডি তৈরি করে এবং মেয়ে কণ্ঠে কথা বলে একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কৌশলে তার মোবাইলটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর ওই ফোনে লগইন করা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার করে নারী কণ্ঠে কথা বলে ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকায় থাকা স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদের টার্গেট করেন। নারীকণ্ঠে কথা বলে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পর উপহার দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যেতেন। সেখানে তাদের জোর করে ধর্ষণ এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতেন।
পরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। ধারণকৃত অশ্লীল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বা পর্ন সাইটে আপলোড করার হুমকি দিয়ে আবারও ভুক্তভোগীদের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন এবং নিয়মিত টাকা আদায় করতেন।
আহসান উদ্দিন সামী বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে এক ভুক্তভোগীকে ফ্যামিলি মিট-আপের কথা বলে ওই নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান রাব্বি। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ডার্ক পর্ন সাইট ও টেলিগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য নিয়মিত চাপ দিতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, গত সোমবার পোশাক ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলে এক ভুক্তভোগীকে যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ি মোড়সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবনের চতুর্থ তলায় ডেকে নেয়। সেখানে তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় এবং তার মোবাইল ও নগদ টাকা লুটে নেওয়া হয়। এছাড়া গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় আরেক ভুক্তভোগীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়।
যাত্রাবাড়ী থানায় এক ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে রাব্বিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীদের পাঁচটি মোবাইল জব্দ করা হয়। আটক রাব্বির বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে জানিয়ে ওয়ারী বিভাগের ডিসি বলেন, গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত রাব্বির বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ পেয়েছি। আর ১০টা ঘটনায় একই ধরনের। আর সব ভুক্তভোগী মিরপুর এলাকায়। অন্য কোথাও এ ধরনের কাজ করছে কি না জানার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, রাব্বি যে নারীকে বিয়ে করেছে, তাকেও একই কায়দায় ট্র্যাপে ফেলে বিয়ে করেন তিনি। গত দুই মাসেই এ ধরনের ১৩টি ঘটনা ঘটিয়েছে। সব ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাত নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিনের দখল, ময়লা ও দুর্গন্ধের পরিবর্তে এখন চোখে পড়ে ফুলের টব, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ এবং দেয়ালজুড়ে রঙিন গ্রাফিতি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এই দখলমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, "রাজধানী ঢাকা বাংলাদেশের মুখমন্ডল। একে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতেই আমরা এই নান্দনিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন এবং সাংবাদিকসহ সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা এই সুন্দর পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে চাই।"
হকার ও জনদুর্ভোগ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "রাস্তায় যত্রতত্র ব্যবসা করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। তবে আমরা হকার ও রিকশাওয়ালাদের প্রতি অমানবিক হতে চাই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জনভোগান্তি দূর করার পাশাপাশি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। ফুটপাতে অস্থায়ী ব্যবসা করতে হলে সিটি কর্পোরেশন থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমানে আমরা পুলিশের সহযোগিতায় এলাকাভিত্তিক হকারদের তালিকা তৈরি করছি। তালিকা সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট এলাকায়, নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট সংখ্যক হকারকে বসার অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া আমরা 'হলিডে মার্কেট' ও 'নৈশকালীন মার্কেট' চালুর পরিকল্পনা করছি। আমরা কাউকে উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসন করতে চাই।"
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবন থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত প্রায় ১৩৫০ ফুট এলাকায় দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে এবং ৫৫০টি ফুলের টব ও ৬৫০টি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া অপেক্ষমাণ স্বজনদের জন্য ৫০টি বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পাহাড়ের আদলে ২টি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে শহরের অন্যান্য ব্যস্ত ফুটপাতেও একই ধরনের সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ গত ২৪ ঘণ্টায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, এলাকার অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলা নববর্ষের উৎসবে রাজধানীর রমনা পার্কের চিরচেনা পান্তা-ইলিশের আয়োজনে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। একসময় বৈশাখ বরণের দিনে পার্কজুড়ে সারি সারি অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশ বিক্রির মহোৎসব চললেও এবার সেই ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যটি একেবারেই অনুপস্থিত ছিল।
ঢাকাবাসীর নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই উদ্যানে এ বছর কোনো ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী খাবারের দোকান লক্ষ করা যায়নি। তবে পার্কের ভেতরে অবস্থিত স্থায়ী রেস্তোরাঁগুলোতে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার পাওয়া গেলেও তার দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মাত্র এক টুকরো ছোট ইলিশ মাছসহ এক প্লেট পান্তা ভাতের মূল্য রাখা হচ্ছে ৬০০ টাকা, যা নিয়ে উৎসবে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু রমনা পার্কেই নয়, রাজধানীর অন্যান্য প্রধান এলাকাগুলোতেও এবার অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশের পসরা চোখে পড়েনি। মূলত মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পাইকারি বাজারে মাছের অতিরিক্ত দামের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এবার বৈশাখী আয়োজনে দোকান দিতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। মূলত চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের জন্য পান্তা-ইলিশ এবার কেবল ব্যয়বহুল বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার সকালে রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এছাড়া ইউনিসেফ-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. রাজেশ নারোয়ালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, এ ক্যাম্পেইনের আওতায় মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৪০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০টি স্থায়ী এবং ৪৫০টি অস্থায়ী। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১১ মে পর্যন্ত মাসব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে।
উদ্বোধন শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক ও প্রতিমন্ত্রী খিলগাঁও নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ২৬টি স্টল নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এই মেলা। শেষ হবে ১৬ এপ্রিল। রোববার ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম এ মেলার উদ্বোধন করেছেন।
উদ্বোধন শেষে এ মেলায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, পাট আমাদের ঐতিহ্য। আমরা মনে করি পাট দিয়ে মাত্র দুই-একটা জিনিস তৈরি করা যায়। কিন্তু এখানে আসলে অবাক হয়ে দেখবেন যে পাট দিয়ে শতাধিক জিনি তৈরি করা যায়। এমনকি জিনিসগুলো এত সুন্দর বোঝাই যায় না এগুলো পাট দিয়ে তৈরি। পাটপণ্য নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের যে সৃষ্টিশীলতা সেটাকে আমাদের সাপোর্ট করতে হবে। তাহলে পাটের বাজার দেশে বিদেশি ছড়িয়ে যাবে। এছাড়া এসব পণ্য যখন আমরা ব্যবহার করব তখন পাটের বাজার আরও বিস্তৃত হবে। পুরান ঢাকাবাসীকে উদ্দেশ্য করে জেলা প্রশাসক বলেন, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সম্পর্কে সবাই জানে। কিন্তু এমন একটা মেলা প্রদর্শন করারত প্লাটফর্ম নেই। এখানে ওপেন স্পেসের ঘাটতি থাকায় আমরা চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে বাঁধার সম্মুখীন হই। এবারের পহেলা বৈশাখে আমরা পুরান ঢাকায় একটু ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরতে চাই। পহেলা বৈশাখের দিন আমাদের বর্ণাঢ্য র্যালি আছে সেখানে আমরা পুরান ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরতে চাই। যেন এখানকার মানুষ সেদিন এসে উদযাপন করতে পারে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল ওয়ারেছ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) লিটুস লরেন্স চিরান, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. আ. হালিম ও জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের (জেডিপিসি) তত্ত্বাবধান ও সম্প্রসারণ নির্বাহী মো. মোজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর গুলশানে অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডে ১১/এ নম্বর বাসার সামনে এ অভিযান চালানো হয়।
আটকরা হলেন মো. আবু হানিফ পালোয়ান (৫০), রেজাউল শেখ (৪০) এবং আব্দুল্লাহ মজুমদার আশিক (২৪)।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন জানান, মিরপুর থেকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার নিয়ে জাল টাকা নিয়ে আসেন হানিফ পালোয়ান এবং আশিক। টাকা নেওয়ার জন্য ১১/এ নম্বর বাসার সামনে রাস্তায় আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রেজাউল। এসময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছে থাকা একটি বাজার করা ব্যাগ থেকে ১০০০ টাকার ৫০টি বান্ডেলে সর্বমোট ৫০ লাখ টাকার জাল নোট এবং প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রটির হোতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা হবে। সবাইকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর মৌচাক মোড় এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর থেকে দগ্ধ অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীর পুড়ে যাওয়ায় কারণে তিনি পুরুষ নাকি নারী শনাক্ত করা যায়নি। গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শাহজাহানপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান সরকার জানান, আমরা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে মৌচাক মোড় ফ্লাইওভারের ওপর থেকে সম্পূর্ণ দগ্ধ অবস্থায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, রাতে সিটি করপোরেশনের লোকজন ময়লার কাজ করতে এসে পোড়া মরদেহ দেখতে পায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবার ফোন দেয়। এরপর পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় পুরুষ নাকি নারী, আপাতত তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। এমনকি বয়স নির্ধারণ করাও সম্ভব হয়নি।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকের জিপিও লিঙ্ক রোড এলাকায় হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের স্বর্ণ গলি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ৯ এপ্রিল বায়তুল মোকাররম মার্কেটের দক্ষিণ গেটের জিপিও লিঙ্ক রোডের দুই পাশের ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এতে সেখানকার দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানের পরদিনই শুক্রবার হকাররা আবার সেখানে দোকান বসানোর চেষ্টা করলে সোনা ব্যবসায়ীরা বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে আবার বায়তুল মোকাররম স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে ফুটপাতে থাকা অস্থায়ী দোকানের কাঠের টেবিলসহ সরঞ্জাম উচ্ছেদ শুরু করলে হকাররা তাতে বাধা দেন। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, দোকানপাট উচ্ছেদ নিয়ে হকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। বড় সংঘর্ষ হয়নি। কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, ফলে গরমের অনুভূতি কিছুটা বাড়তে পারে।
শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯১ শতাংশ, যা ভ্যাপসা আবহাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দিনের বেলায় তাপমাত্রা আবার বাড়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, হাজারীবাগ থানা পুলিশ থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জিহাদ শেখ (২৩), অনিক আহম্মেদ শাওন (৩০), মো. চাঁন মিয়া (১৯), মো. রবিন (২৩), মো. আশরাফুল ইসলাম রনি (২৮), মো. সুজন (৪৮), মো. আরিফ (২৬), মো. কাদের (৩৬), মো. রুবেল (২৮), মো. সাজিদুল (২০), মো. রিয়াদ হোসেন (২০), মো. সুমন (৩০), সানজিদা হাসান (১৯), মো. ইমরান (৩১), আতাউল হাসান (২৮), তন্ময় খাতুন মিতু (২৫), ফজলে রাব্বি (২৬), হাবিবুল্লাহ (৩৫), মো. মাজেদুল ইসলাম (৫০), মো. রাশেদুল ইসলাম (২৮), মো. সালাউদ্দিন (৫৮), মোহাম্মদ মনির হোসেন (৫০) ও মো. শাহজাহান (৪৫)। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৭ পুড়িয়া গাঁজা ও এক পুড়িয়া হেরোইন জব্দ করা হয়।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের এলাকায় থাকা ২৪০টি অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে এ অভিযান শুরু হয়।
এদিন বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে প্রথমে মাইকে ঘোষণা দেন, ৩০ মিনিটের মধ্যে অবৈধ কাউন্টার সরানো না হলে সিলগালাসহ অর্থদণ্ড করা হবে। ওই ঘোষণার ৩০ মিনিট পর অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা শুরু করে ডিএসসিসি।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জানান, ঢাকা শহরের ভেতরে যতগুলো অবৈধ বাস কাউন্টার রয়েছে একে একে সবগুলো উচ্ছেদ করা হবে। টার্মিনালে যাত্রী ভোগান্তি কমাতে কাজ করবে সিটি করপোরেশন।
তিনি বলেন, ‘দুপুর পর্যন্ত ছয়টি অবৈধ কাউন্টার সিলগালাসহ তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মোট ২৪০টি কাউন্টার সিলগালা করা হবে। অভিযানে একাধিক অবৈধ কাউন্টারের বিলবোর্ড বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।’