এবারের ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ জোর দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফাঁকা ঢাকায় যেন ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরির মতো ঘটনা না ঘটে সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রেড জোন চিহ্নিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে র্যাব। অন্যদিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে স্পেশাল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত বছর ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় একাধিক ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনা ছিল পুলিশ সদস্য মনিরুজ্জামান তালুকদারের হত্যাকাণ্ড। গত ঈদুল আজহার ছুটির দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন পুলিশ সদস্য মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া গত ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর বাড্ডার গুদারাঘাটে একটি বাসায় ঘটে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা। সেই বাসার সবাইকে দিনের বেলায় জিম্মি করে ডাকাতরা লুট করে নিয়ে যায় স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা। এবারের ঈদেও এসব অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
আরও জানা যায়, অন্য ঈদের ছুটির মতো এবারও রাজধানী ছেড়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষ নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। এর ফলে ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা প্রায় ফাঁকা থাকবে। এ সুযোগে প্রতি বছরই অপরাধীদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। তাদের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয় ফাঁকা ঢাকার ফ্ল্যাট বাসা ও রাস্তার পথচারীরা। তাই এবারের ঈদের ছুটিতে যেন এসব অপরাধ না ঘটে, সে জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হচ্ছে। সাপ্তাহিক ও ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের ছুটি মিলিয়ে এবার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লম্বা ছুটি মিলছে। তাই ঈদ উদ্যাপনের জন্য দলে দলে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব ও পুলিশ। রমজানজুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে নতুন করে নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ ছাড়া ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। অতীতের ঘটনা মাথায় রেখে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে নতুন করে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, বিগত পাঁচ বছরে রাজধানীতে এক হাজারের মতো ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। অন্যদিকে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে কয়েক হাজার। ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২০২৩ সালে রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৯৯টি, চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ১ হাজার ৫১১টি। ২০২২ সালে ছিনতাই মামলা ৩১০টি এবং চুরির মামলা ১ হাজার ৬০৩টি। ২০২১ সালে ছিনতাই মামলা হয় ১৬৬টি এবং চুরি সংক্রান্ত মামলা ১ হাজার ৩৪৩টি। ২০২০ সালে ছিনতাই মামলা ১৭৬টি এবং চুরির মামলা ১ হাজার ২১৭টি। এ ছাড়া ছিনতাই ও চুরির অনেক ঘটনার মামলা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
ফাঁকা ঢাকায় থাকবে ডিএমপির স্পেশাল টিম
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ দমনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে ডিএমপির স্পেশাল টিম। ডিএমপির স্পেশাল টিম এলাকায় এলাকায় ঘুরে টহল দেবে এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় সন্দেহজনক কারও চলাফেরা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ঈদের ছুটির সময় কাজ করে যাবে এই স্পেশাল টিম। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা দিতে ডিএমপির ৫০টি থানাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা দিতে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। মোবাইল টহল টিমের পাশাপাশি চেকপোস্ট জোরদার করা হবে। ফাঁকা ঢাকায় যেকোনো অপরাধ দমনে মাঠ পর্যায়ে থাকবে স্পেশাল টিম। এ ছাড়া বিশেষ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ডিএমপির প্রতিটি থানাকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
থানায় থানায় নির্দেশ
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা দিতে ডিএমপির ৫০টি থানাকে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিএমপির সদর দপ্তরে। এসব সভায় ডিএমপির ৫০টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফাঁকা ঢাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদের ছুটির কয়েক দিন আগে থেকে এবং ঈদের ছুটির কয়েক দিন পর পর্যন্ত টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি থানাধীন এলাকায় রাতে ও দিনে টহল দিতে হবে।
এ বিষয়ে ডিএমপির হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, ফাঁকা ঢাকায় নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে নিরাপত্তা দিতে অন্য সময়ের তুলনায় আমাদের তৎপরতা বেশি থাকবে। ছুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য আমাদের পেট্রোলিং ব্যবস্থা ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া দিনেরাতে চেকপোস্ট থাকবে আমাদের। অপরাধীরা যাতে ঢাকায় অপরাধ করে বের হয়ে যেতে না পারে এবং অপরাধীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ না করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী বলেন, ফাঁকা ঢাকায় পুলিশ প্রতিবারই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এবারও আমাদের ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষ বাড়িতে যাবে, তাদের বাসাবাড়ি পাহারা দিতে আমাদের বিশেষ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে।
রেড জোনে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে র্যাব
ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা দিতে পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাবও। গোয়েন্দা দল, চেকপোস্ট, রোবাস্ট পেট্রোল ও টহল টিমের পাশাপাশি কিছু এলাকার জন্য স্পেশাল টিম ইতোমধ্যে প্রস্তুত রেখেছে র্যাব। এ ছাড়া রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকাকে অপরাধের জন্য রেডজোন চিহ্নিত করে এসব এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে র্যাব।
সোমবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, নাড়ির টানে ঢাকা শহরের অনেক বাসিন্দা গ্রামে চলে যান। শূন্য ঢাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব অবশ্যই আমাদের ওপর বর্তায়। কোনো এলাকায় যদি কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয় তা আমরা এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জানতে পারি আর তখন আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকাকে আমরা রেড জোন হিসেবে দেখছি। যেখানে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা বেশি ঘটে। এসব রেড জোনে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছি।
এদিকে গত রোববার দুপুরে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ঈদের ছুটিতে অনেকেই বাড়ি যাবেন। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা বাড়িতে কেউ যাতে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে সে জন্য আপনারা ফ্ল্যাট বাড়ির নিরাপত্তার জন্য পাহারাদার নিয়োজিত করবেন। অনেক সময় দেখা যায়, অপরাধ সংঘটিত হলে সিসিটিভির ক্যামেরা অন্যদিকে মুখ করে থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিক আছে কি না এবং যেদিকে মুখ করে থাকার কথা সেদিকে আছে কি না তা আপনারা চেক করে নেবেন। যাতে করে অপরাধ সংঘটিত হলে পাহারাদার না ধরতে পারলেও আমরা যেন গিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারি।
ছিনতাই নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ঈদের সময় ছিনতাইকারীরা যেমন তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি করে তেমনি আমরাও আমাদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছি। ছিনতাই নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা কাজ করছি। প্রতিটি ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে আমরা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। ছিনতাইকারীদের আমরা আইনের আওতায় আনছি। অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে ঢাকা ছাড়ার আগে নগরবাসীকে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো মধ্যে রয়েছে–
১। গ্যাসের ও পানির লাইনসহ সব ধরনের লাইট, ফ্যানের সুইচ, বৈদ্যুতিক প্লাগ বন্ধ করে বাসা থেকে বের হবেন। বাসাবাড়িতে অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে ছুটি শেষে বাড়ি থেকে ফিরে এসে দরজা-জানালা খুলবেন। ঘরে জমে থাকা গ্যাস বের না হওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই গ্যাসের চুলা জ্বালানো কিংবা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করবেন না।
২। বাসাবাড়িতে সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে। পূর্বে বসানো সিসি ক্যামেরা সচল আছে কি না পরীক্ষা করতে হবে।
৩। বাসার চারপাশে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৪। নগদ টাকা কিংবা স্বর্ণালংকার ব্যাংক কিংবা নিকটাত্মীয়দের কাছে নিরাপদে রেখে যাবেন।
৫। রাতে কিংবা দিনে একসঙ্গে মুখে মাস্ক এবং মাথায় ক্যাপ পরিহিত অপরিচিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারি করতে হবে। প্রয়োজনে ৯৯৯ ফোন দিতে হবে।
৬। মোটরসাইকেল চুরি রোধে অ্যালার্ম লাগাতে হবে। এতে কেউ মোটরসাইকেল স্পর্শ করলেই অ্যালার্ম বেজে উঠবে। লক করার কাজে স্টিলের তৈরি মেরিন অ্যাংকর চেইন ব্যবহার করতে হবে। মোটরসাইকেলে জিপিএস ট্র্যাকার লাগাতে হবে এবং চাকাতে উন্নত মানের ডিস্ক লক ব্যবহার করতে হবে।
আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজধানীর বর্তমান চিত্র পরিবর্তন করে একে একটি মানসম্পন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য ও সমষ্টিগত নাগরিক প্রয়াসের ওপর জোর দিয়েছেন।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর সিরডাপ ভবনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত 'ঢাকায় বৃষ্টি ভোগায় কেন!' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই ঢাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে দূষিত, আবর্জনা-গন্ধময় ও মশার শহর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। জনগণ যদি ৫০ শতাংশ এবং সরকার বা সিটি কর্পোরেশন যদি বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তবে শতভাগ সফল হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।”
বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান:
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নাগরিক শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে মো. আবদুস সালাম বলেন, “গত জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের পর একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এখনই এই সরকারকে ফেলে দেওয়ার বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য মানুষকে ম্যান্ডেট বা সময় দিতে হবে। অন্তত দুই-তিন বছর সময় দিয়ে দেখুন তারা জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারছে কি না।” রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ঢাকার শৃঙ্খলা ফেরাতে সব রাজনৈতিক দলকে ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ধানমন্ডিতে ‘নজরুল চত্বর’ গড়ে তোলার ঘোষণা:
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে জিয়া শিশু কিশোর মেলা আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় অংশ নেন ডিএসসিসি প্রশাসক। সেখানে তিনি ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের পাশে “নজরুল চত্বর” নামে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন।
প্রশাসক জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং আসন্ন ঈদের পর থেকেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এই চত্বরে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার গড়ে তোলা হবে, যেখানে নজরুলের সাহিত্য, গান, নাটক, প্রবন্ধ এবং জীবন ও কর্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অধ্যয়ন ও গবেষণার বিশেষ সুযোগ রাখা হবে।
জাতীয় কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, “শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের জন্যই নজরুল সাহিত্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর কবিতা ও গান মানুষের মধ্যে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা জাগ্রত করে। নজরুল প্রকৃত অর্থেই একজন জাতীয়তাবাদী ও মানবতাবাদী লেখক ছিলেন, যিনি ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতি, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।”
পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর বর্জ্য সুনির্দিষ্ট ও পরিবেশসম্মত উপায়ে ব্যবস্থাপনায় উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করতে নাগরিকদের মাঝে বর্জ্য অপসারণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
শুক্রবার (২২ মে) রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সচেতন ও সহযোগিতা করতে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে এবার ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল (পচনশীল) ব্যাগ, ৪০ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন বিতরণ করা হচ্ছে।
আবদুস সালাম নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা দয়া করে কোরবানির বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেবেন। ডিএসসিসির কর্মীরা দ্রুততম সময়ে সেগুলো সংগ্রহ করে নেবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক সতর্ক করে বলেন, কোরবানির বর্জ্য কোনোভাবেই ড্রেন বা নর্দমায় ফেলা যাবে না। এতে একদিকে যেমন রোগ-জীবাণু ছড়াবে, অন্যদিকে বৃষ্টি হলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করবে।
ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে বর্জ্য অপসারণের মূল কার্যক্রম শুরু হবে উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, পরবর্তী আট ঘণ্টার মধ্যে প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর বর্জ্য সুনির্দিষ্ট ও পরিবেশসম্মত উপায়ে ব্যবস্থাপনায় উদ্বুদ্ধ ও সহযোগিতা করতে নাগরিকদের মাঝে বর্জ্য অপসারন সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ শুক্রবার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "নাগরিকদের সচেতন ও সহযোগিতা করতে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে এবার ১ লক্ষ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল (পচনশীল) ব্যাগ, ৪০ টন ব্লিচিং পাউডার ও ১,০৫০ লিটার স্যাভলন বিতরণ করা হচ্ছে।" তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনারা দয়া করে কোরবানির বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দেবেন; ডিএসসিসির কর্মীরা দ্রুততম সময়ে সেগুলো সংগ্রহ করে নেবে।"
ডিএসসিসি প্রশাসক সতর্ক করে বলেন, কোরবানির বর্জ্য কোনোভাবেই ড্রেন বা নর্দমায় ফেলা যাবে না। এতে একদিকে যেমন রোগ-জীবাণু ছড়াবে, অন্যদিকে বৃষ্টি হলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করবে। ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে বর্জ্য অপসারণের মূল কার্যক্রম শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।" এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে ‘হৃদয়ে এলিফ্যান্ট রোড সোসাইটি’র নিকট বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ, ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন হস্তান্তরের মাধ্যমে এই বিতরণ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, সাধারণ নাগরিকেরা নিজ নিজ এলাকার ওয়ার্ড অফিস এবং বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বা পিসিএসপির (PCSP) কাছ থেকে এই বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার সংগ্রহ করতে পারবেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানব বলেছেন, মাঠের চারদিকে অনুমোদনহীনভাবে মাছের বাজার বসে। এতে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। আজকের পর থেকে এখানে কোনো অবৈধ কাঁচাবাজার, মাছের বাজার বা ফুটপাত দখল করে ফুড কোর্ট বসতে দেওয়া হবে না। আমি প্রশাসক হিসেবে নির্দেশ দিয়ে গেলাম, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এটি বাস্তবায়ন করবেন এবং এলাকাবাসী সহযোগিতা করবেন।
মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডসংলগ্ন মসজিদুল আকবার ঈদগাহ মাঠের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমার জীবনের শৈশবের অনেক স্মৃতি এই মাঠকে ঘিরে। রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিও এই মাঠের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই এই মাঠকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।
মাঠটি সারাদিন উন্মুক্ত থাকবে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, এলাকার ছেলে-মেয়েরা এখানে খেলাধুলা করবে। খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রয়োজন হলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রদান করা হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি। তিনি বলেন, ঢাকার প্রতিটি এলাকাতেই শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জায়গার সংকট রয়েছে। অনেক মাঠ দখল হয়ে গেছে বা অব্যবস্থাপনায় পড়ে আছে। এই মাঠ সংস্কারের মাধ্যমে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা রক্ষা করতে সামাজিকভাবেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন, পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আলেম-ওলামা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রসঙ্গত, ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের উদ্যোগে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে মাঠটির সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। সংস্কার কাজের আওতায় মাঠে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ২৬০ মিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ নির্মাণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, একাধিক প্রবেশ গেট নির্মাণ, ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। মাঠটিতে একসঙ্গে প্রায় ৭ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়াও জানাজার নামাজ আদায়ের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
রাজধানীর কদমতলী থানার দনিয়া এলাকার ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুনের মৃত্যু ঘিরে বিদ্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সাবিকুনের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসিক চাপ ও অপমানজনক আচরণের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল সে। এই কারণে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে সাবিকুন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলেছে, গত বুধবার (২০ মে) ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপর বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় লোকজনও। এ সময় তারা ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে অবরুদ্ধ করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনাও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান পুলিশ সদস্যরা।
বেলা ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে জানালাসহ বিভিন্ন জায়গার কাচ ভেঙে যায়। এরপরই তারা ১০ তলা ভবনটির নিচতলার ভেতরের কিছু আসবাব ভাঙচুর করেন। বেলা ৪টার দিকে পুলিশ গিয়ে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাঁকে মারধর করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বিক্ষোভ, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় পুলিশের দুজন সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে নিয়ে যাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর কদমতলী থানার পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ভবনের সামনে হাজির হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড মারা হয়। বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এ ব্যাপারে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান লায়ন মাসুদ হাসান লিটন বলেন, শিক্ষার্থী সাকিবুন গত বুধবার রাতে আত্মহত্যা করেছে। তিনি দাবি করেন, তার মা তাকে বকা দেওয়ায় সে আত্মহত্যা করেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র বলেছে, শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির আচরণ অত্যন্ত কঠোর ও অসম্মানজনক। সামান্য বিষয়েও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ডেকে অপমান করা হয় এবং প্রায়ই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, স্কুলের কিছু শিক্ষকের আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপে আছে।
সাবিকুনের মৃত্যুর পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি শান্ত। আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। স্কুলের চেয়ারম্যান ও পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় দুটি মামলা হবে।’
রাজধানীর মুগদায় আলোচিত সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) সকালে মুগদা থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যৌথ অভিযানে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোকাররম মিয়া (৩৮)। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে পূর্বের পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি মুগদার মান্ডা প্রথমম গলিতে প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন।
এরপর ১৭ মে দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা প্রথম গলির ২৬০/১ নম্বর ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহটি মোকাররমের বলে শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সূত্রে বিভিন্ন সময়ে মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন তাসলিমা। গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম ওই টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে স্বামীকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এতে দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া শুরু হয়।
পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ান। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা ও ভাগনি হালিমা আক্তার মিলে ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।
হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাথরুমে নিয়ে মরদেহের মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৮ মে র্যাব এ মামলার এক নম্বর আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে (১৩) গ্রেপ্তার করে। পরে হেলেনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যে দলেরই হোক, অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘থানায় কোনো দালালের অস্তিত্ব থাকবে না। যদি কোনো থানায় দালালের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অফিসারের কারণে জনবান্ধব পুলিশিং বাধাগ্রস্ত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কে কতদিন দায়িত্বে আছেন, সেটা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি, যেন জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করা হয়। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; কিন্তু কারও গায়ে হাত তোলা বা অতিরিক্ত বল প্রয়োগের সুযোগ নেই। বিগত সময়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। আমরা এটা কঠোরভাবে দেখব। আমার সময়ে কেউ এমন করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কিশোর গ্যাং দমনে ডিএমপির অবস্থান কঠোর জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘কিশোর গ্যাং সদস্য ও গ্যাং লিডারদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তবে শুধু পুলিশের পক্ষে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মব কালচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে কোনো মব কালচার চলবে না। যেখানেই এমন ঘটনা ঘটবে, সেখানেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাহ আলী মাজারে সাম্প্রতিক ঘটনায় আমরা সঙ্গে সঙ্গে মামলা নিয়েছি এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি।’
শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযানের তথ্য তুলে ধরে কমিশনার জানান, গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৬ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ, ৮৪৭ জন মাদক কারবারি এবং ৬৭০ জন ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী রয়েছে।
থানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার নতুন যানবাহন কেনার অনুমোদন দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুত ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নষ্ট গাড়িগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ এ ছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ‘এআই’ভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহারের পরিধি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা যার পেছনে বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৪৮টি অভিযানে ব্যাটারি জব্দ ও ডাম্পিং করা হয়েছে।’ এটি সমাধানে সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন তিনি।
উগ্রবাদ দমনে পুলিশের অবস্থান নিয়ে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা ‘‘জঙ্গি’’ শব্দের পরিবর্তে ‘‘উগ্রবাদ’’ শব্দটি ব্যবহার করছি। ঢাকায় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত আছে।’
পরিশেষে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দ্রুত নগরায়ণ, সাইবার অপরাধ ও মাদক বর্তমানে পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ।’ একটি নিরাপদ মহানগরী গড়তে ছোট অপরাধের তথ্যও পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
রাজধানীর রমনায় এসি মেরামতের সময় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে তিন যুবক দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) এ দুর্ঘটনার পর দগ্ধ তিনজনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তারা হলেন মোহাম্মদ মামুন (৩২), মোহাম্মদ রসুল (৩০) ও রতন চন্দ্র (৩২)।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, দুপুর ২টার দিকে রমনা এলাকা থেকে তিনজনকে দগ্ধ অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে মামুনের শরীরের ৩৫ শতাংশ, রসুলের শরীরের ছয় শতাংশ ও রতনের শরীরের সাত শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় মামুনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্য দুজনকে জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এসি মেরামতের সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।’
ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ জাহিদুল ইসলাম। শনিবার (১৬) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, ‘ট্রাফিক-অ্যাডমিন ও প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মিনা মাহমুদকে।’ এর আগে রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে বদলি করা হয়।
শেখ জাহিদুল ইসলাম সর্বশেষ নীলফামারী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে নীলফামারী থেকে ডিএমপিতে বদলি করে।
অন্যদিকে মিনা মাহমুদ জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকেও ডিএমপিতে বদলির আদেশ দেয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, "ঢাকা শহরকে একটি বাসযোগ্য, আধুনিক এবং 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠন এবং সাধারণ নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন।"
আজ শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে (প্রত্যাশা চত্বর) শাহবাগ থানা বিএনপি আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে:
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রশাসক বলেন, "সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে-এর আওতায় আমরা নগরজুড়ে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তবে মশা নিয়ন্ত্রণে সফল হতে হলে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। নিজেদের বাসাবাড়ি ও আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া আমাদের নাগরিক দায়িত্ব।"
সবুজায়ন ও রাজনৈতিক উদ্যোগ:
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকা শহরকে সবুজায়নের মাধ্যমে সুশোভিত করতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরনের কার্যক্রম শহরকে বাসযোগ্য রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রশাসক সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে একটি চারা রোপণ করে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় শাহবাগ থানা বিএনপি ও স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ লাখ জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামাদিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. মজিবুর রহমান (৩৮), মো. দুলাল মৃধা (৪০) ও মো. মামুন (২৫)।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার (১৩ মে) দুপুরে উত্তরা পূর্ব থানার সমবায় বাজার (বিডিআর) মার্কেটের সামনে থেকে মো. মজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চার লাখ জাল টাকা ও জাল টাকা বিক্রির নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন গাজীপুর মহানগর বাসন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দুলাল মৃধা ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে আরও ৩০ লাখ জাল টাকা, জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, তিনটি কালার প্রিন্টার, এক রোল সোনালি রঙের ফয়েল পেপার, ২০০টি সিকিউরিটি ট্যাগ ও জলছাপ সংবলিত সাদা কাগজ, ১০০টি একপাশে ১০০০ টাকার প্রিন্ট করা কাগজ অপর পাশে সাদা, ২ লিটারের দু’টি তরল জাতীয় গাম, একটি কাটার এবং জলছাপ বসানোর দু’টি ডাইস উদ্ধার করা হয়।
ডিবি উত্তরা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তাররা আন্তঃজেলা জাল টাকা তৈরি চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা তৈরি করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত “ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি” কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, "১৯৭১ সালে যেমন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ডাকে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন, আজও তেমনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ডাকে ঢাকা শহরকে 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' করতে তারা রাজপথে নেমেছেন।"
একজন মুক্তিযোদ্ধা ও ডিএসসিসি প্রশাসক হিসেবে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "আমরা একদিন চলে যাব, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মকেই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে দেশের জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর। এই শহরকে যদি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে চাই, তাহলে আগে নিজেদের বদলাতে হবে। আমরা বদলালে ঢাকা বদলাবে। আমরা চাই না পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ শহরের তালিকায় ঢাকা থাকুক। আমরা চাই পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সবুজ শহরের তালিকায় ঢাকা এক নম্বরে থাকুক।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান নগর ভবন থেকে শুরু হয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের ১ নম্বর গেট হয়ে বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেয়ে শেষ হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসী কষ্ট করবে এটা হতে পারে না। জনগণের টাকা অপচয় করে আমরা প্রতিদিন খাল পরিষ্কার করব আবার পরের দিন আগের অবস্থায় ফিরে যাবে সেটা মেনে নেয়া হবে না। এ জন্য অবৈধভাবে যারা খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি না অপসারণ করেন তাহলে আইনিভাবে এলাকাবাসীদের নিয়ে আমরা সেটা উচ্ছেদ করে দেব।’
বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর কালসিতে সাংবাদিক কলোনি খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রশাসক বলেন, ‘আপাতত আগামী এক সপ্তাহ খালটি পরিষ্কার করা হবে, যাতে এলাকাবাসী সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক সমিতি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খালটি অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা একাধিকবার খালটি পরিষ্কার করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাই আমরা বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘খাল উদ্ধারের বিকল্প নেই। এলাকাবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে হলে খাল উদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি।’ অবৈধ দখলদারদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে সরকারি বা সংস্থার জমির ওপর স্থাপনা নির্মাণ করে, তাহলে সেটির দায় তাকেই নিতে হবে।’
তবে মানবিক দিক বিবেচনায় কেউ সময় চাইলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ড্রেন বা খাল ময়লা ফেলার জায়গা নয়। যারা এখানে বসবাস করেন, তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই সচেতন না হলে শুধু পরিষ্কার করেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’