২৭ এপ্রিলের পর থেকে ডিএনসিসির কোনো এলাকার বাসাবাড়ি কিংবা কার্যালয়ে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে জেল-জরিমানার মতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।
সোমবার রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় ডিএনসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মেয়র আতিকুল ইসলাম ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সচেতনতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার সময় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
সপ্তাহব্যাপী ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সচেতন করার এ কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সবাইকে অনুরোধ করছি, নিজ নিজ ঘরবাড়ি ও অফিস পরিষ্কার রাখবেন। জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা হয়। ২৭ এপ্রিলের পর থেকে কোনো বাড়িতে-অফিসে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে জেল-জরিমানা করা হবে।’
‘সরকারি অফিসেও যদি লার্ভা পাওয়া যায়, সেই অফিসের যিনি দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধে মামলা, জরিমানা হবে। এমনকি আমার সিটি করপোরেশনের কোনো অফিসেও যদি লার্ভা পাওয়া যায়, সেই অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার ক্লিয়ার মেসেজ। লার্ভা পেলে মামলা, জেল, জরিমানা হবে এবং জরিমানার টাকার পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যাবে। এজন্য আমাদেরকে আরও ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি’- বললেন মেয়ার আতিক।
তিনি বলেন, ‘আমি আগেই ঘোষণা দিয়েছি, ঈদের পর থেকে ডেঙ্গু মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে একযোগে ৫৪টি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করবো। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কারিগরি কমিটি রয়েছে। তারা সবসময় আমাদের পরামর্শ দেন, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি।’
সেই বিষয়ে তথ্য দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কীটতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, এখন থেকেই মাঠে নামতে। তাই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। বিনীত অনুরোধ, আপনারা সচেতন হলে জেল-জরিমানা, মামলার দরকার নেই। তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিন। এডিস মশা জন্মাতে পারে এমন জায়গাগুলো পরিষ্কার করুন। এডিস মশা কামড় না দিলে ডেঙ্গু হবে না।’
মেয়র বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতে খালের ও ড্রেনের ময়লা পানিতে এডিস মশা জন্মায় না। জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা জন্মায়। যেসব পরিত্যক্ত দ্রব্যাদিতে পানি জমে এডিসের লার্ভা জন্মাতে পারে সেসব দ্রব্যাদি সিটি করপোরেশন কিনে নিচ্ছে। ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, দইয়ের কাপ এগুলো যত্রতত্র না ফেলে ডিএনসিসির কাউন্সিলরদের কাছে জমা দিন। নগদ টাকা গ্রহণ করুন। পুরোনো টায়ার, কমোড, রঙের কৌটা এগুলো ছাদে বা বারান্দায় না রেখে আমাদের কাউন্সিলরদের কাছে জমা দিয়ে টাকা নিন।’
ডিএনসিসির মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার অভিযান উদ্বোধন শেষে ডিএনসিসি মেয়র এডিস মশার উৎসস্থল গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, মাটির পাত্র, খাবারের প্যাকেট, অব্যবহৃত কমোড দেখিয়ে জনগণকে সচেতন করেন। এছাড়াও পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি ক্রয়ের মাধ্যমে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় গ্যাস লাইনের সামনে সিগারেট ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের (৬ জুন) এ ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তরখানে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে আরও তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মিরপুরের পাইকপাড়ায় দগ্ধরা হলেন মিরাজ (২৬), সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪) নামে তিন যুবক। শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে চারটার দিকে দগ্ধ অবস্থায় আহতদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্নের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
ডা. শাওন জানান, শনিবার (৬ জুন) ভোরের দিকে তিন যুবক দগ্ধ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে মিরাজের শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ, সুজনের শরীরের ২৪ শতাংশ দগ্ধ এবং বিপ্লবের শরীরের ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তিনজনকেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে।
এদিকে, উত্তরখানের একটি বাসার রান্নাঘরে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন গৃহকর্তা আলী হোসেন (৫০), তার স্ত্রী হাসনাহেনা (৪০) ও তাদের মেয়ে আখি (৩০)। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, ‘আজ (শনিবার) সকালের দিকে দগ্ধ অবস্থায় আলী হোসেনের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ, হাসনাহেনার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ এবং আখির শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ৩ জনকেই আমরা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছি।’
ঢাকার বায়ু, পানি ও পরিবেশদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রাজধানীকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ইদানীং ঢাকা ছেড়ে দেশের অন্য কোনো শহরে গিয়ে বসবাস করার কথা ভাবছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শহরকে আর কোনোভাবেই বাসযোগ্য মনে হয় না।
শনিবার (৬ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নিজের এই ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা জানান।
অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা শহরে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও নগরবাসী আসলে কতটুকু উপকৃত হচ্ছে, তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে একটি প্রকৃত বাসযোগ্য নগর গড়তে কার্যকর পরিকল্পনা, জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেকোনো প্রকল্প নেওয়ার আগেই এই মৌলিক বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এগোনো দরকার। ঘর থেকে বের হলেই দূষিত বাতাস এবং সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামনে এগিয়ে আনতে না পারলে সুন্দর নগরীর সব স্বপ্নই অপূর্ণ থেকে যাবে।
মানুষ যাতে আরও দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে, সে জন্য বিশুদ্ধ বাতাস নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।
শুধু সাধারণ নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা নীতিনির্ধারণ করছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনকে একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি পরিশেষে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক নগরী নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত করপোরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাই দেশের এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
রাজধানীতে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। দোকানিদের দাবি, ঈদ শেষে গ্রাম থেকে ফেরেনি অনেক আড়তদার-পাইকার। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ানবাজার ও নিউমার্কেটের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ সময় মুরগি ও সবজির দামে স্বস্তি দেখা গেলেও মাছের দাম ছিল অনেকটাই চড়া।
বাজারে করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম মানভেদে ৬০ থেকে ১২০ টাকা এবং কচুর লতির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।
এছাড়া টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা কমে বর্তমানে ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। লেবুর দামও কমেছে। এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ২০ টাকায়। দেশি ধনেপাতা ২৫০ টাকা, হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ টাকা কেজি এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেপসিকামের দাম কেজিতে ৩২০ টাকা।
ঈদের পর মুরগির বাজারে দাম কিছুটা কমেছে। সোনালি কক মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৮০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাল লেয়ার মুরগি ৩৭০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজারে লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে।
মাছের বাজারে ইলিশের দাম এখনও চড়া। ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রুই মাছ ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাগুরের দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং দেশি শিং মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি।
ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ঈদ-পরবর্তী ছুটির কারণে রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারে গরু ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ দেখা গেছে।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গুলশান-২ এলাকার পৃথক দুটি স্পা সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোর্শেদ আলম (৩৩), কায়কোবাদ সরকার (২৫), রমজান ভুঁইয়া (৪৫), মেহেদী হাসান (২৭), তারভীর আলম (২২), মাহফুজ কামাল স্বাধীন (৩২), মনিরুল ইসলাম মুন্না (২৬), মো. হাসান (৩৭), বাবুল হোসেন (৩৮), মো. মোস্তফা (৬০), পরিতোষ শীল (৩৭), মো. শোহান (২৫), রফিকুল ইসলাম রানা (৩৭), জহিরুল ইসলাম (৩৬), মো. আরিফুল ইসলাম (৪৩), খাদিজা ইসলাম শান্তা (২৫), ফাহিমা সুলতানা (২৫), রত্না আক্তার (২৩), মাহিমা আক্তার (২৪), ফারজানা আমিন (২৬), রোকসানা আক্তার (৩২), মায়া আক্তার (২৪), ফারিয়া ইসলাম (২৪), ইসরাত জাহান জয়া (২২), রুবিনা আক্তার (১৯), তাহিয়া ইসলাম (২৩), ময়না (২১) ও মাহমুদা আক্তার (৪২)।
শুক্রবার (৫ জুন) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, স্পা ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, দেহব্যবসা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কয়েকটি স্পা সেন্টার পরিচালনা করে আসছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা ও সৌন্দর্যচর্চার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়।
ওসি জানান, রাজধানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের গমনাগমন বিষয়ে সংবাদকে বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছে ডিএমপি। শুক্রবার (৫ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সবাই সমান’ শীর্ষক সংবাদে ডিএমপি কমিশনারের গমনাগমন সংক্রান্ত যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর, অসম্পূর্ণ এবং প্রকৃত পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়। মিন্টো রোডের সংশ্লিষ্ট সিগন্যালটি ‘ওয়ান ওয়ে’ বা একমুখী এবং ডিএমপি কমিশনারের গাড়িবহরকে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে পার করা হয়েছে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মিন্টো রোড কোনোভাবেই একমুখী সড়ক নয়। এ সড়কে উভয় দিকেই যানবাহন চলাচল করে থাকে। যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে কয়েক মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিকের অস্থায়ী কোণ স্থাপনের মাধ্যমে উত্তরমুখী যানবাহনকে ইউটার্ন করে দক্ষিণমুখী করার একটি অস্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়। এটি কোনো স্থায়ী অবকাঠামো বা স্থায়ী ট্রাফিক বিধিনিষেধ নয়। সংশ্লিষ্ট স্থানে ট্রাফিক পরিস্থিতি, যানবাহনের চাপ এবং তাৎক্ষণিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এই অস্থায়ী ইউটার্ন ব্যবস্থা প্রতিদিনই একাধিকবার খোলা ও বন্ধ করা হয়ে থাকে।
এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এবং এ পথে নিয়মিত চলাচলকারী চালক ও পথচারীরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। ডিএমপি কমিশনার গাড়িবহরের গমনাগমনও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আওতাতেই সম্পন্ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, বিশেষ সুবিধা গ্রহণ কিংবা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।
বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাইপূর্বক সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আওতাধীন ৬০ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক আব্দুস সালাম। শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানী ওয়ারীতে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এই কথা জানিয়েছেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ৬০ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেছে। তাই বাড়ির উঠান, ছাদ, ফুলের টপে যাতে পানি না জমে সেদিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।
বাড়ি এবং আশেপাশের আঙ্গিনা সব জায়গাতেই পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এইসব বিষয়ে অনেক সচেতন। শুধু তাই নয়, খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করছেন তিনি।
এলাকার পরিবেশ সুন্দর রাখতে হলে অবশ্যই সবাইকে আগে সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, জনগণ সমর্থনে যদি মেয়র নির্বাচিত হই তাহলে নগরের শিক্ষাঙ্গনে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে গুলশান-২ গোল চত্বরে আয়োজিত এক শব্দ সচেতনতামূলক সমাবেশ ও র্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এই ঘোষণা দেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদফতর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ডিএনসিসি প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঘোষণার পর থেকে বিমানবন্দর এলাকায় কোনো ধরনের শব্দ দূষণ সহ্য করা হবে না। যদি কেউ এই আইন অমান্য করে হর্ন বাজায় বা শব্দ দূষণ সৃষ্টি করে, তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিমানবন্দর এলাকার পাশাপাশি গুলশান, বনানী, নিকেতন ও বারিধারা এলাকাকেও নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রশাসক। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, স্থানীয় সোসাইটিগুলোর সহযোগিতায় নগরবাসীর জন্য শব্দ ও বায়ু দূষণমুক্ত একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় এই দূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। একদিনেই শতভাগ পরিবর্তন সম্ভব না হলেও, সবার সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক আরও জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি সফলভাবে কাজ করছে এবং আগামীতেও এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। এই সচেতনতামূলক সমাবেশে গুলশান, নিকেতন, বনানী ও বারিধারা সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।
রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে সেলিনা আফরোজ (৫৫) নামে আরও এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার (৩ জুন) রাতে ওই এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সেলিনা আফরোজ দীর্ঘদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হানিফ বলেন, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিনা আফরোজের স্বামী ও দুই সন্তান বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। প্রায় ১২ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে এসে মিরপুরের ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস শুরু করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গত ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে কোনো এক সময়ে তার মৃত্যু হয়েছে। কারণ, সর্বশেষ ২৬ মে রাতে তার এক ভাতিজা মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
গত ৩১ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে নুরুজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ নিয়ে একা বসবাসরত মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নুরুজাহান বেগমের তিন ছেলের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন শিক্ষক ও অন্যজন কানাডাপ্রবাসী। তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে, আর্থিকভাবে সচ্ছল সন্তান থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি দীর্ঘ সময় একা ও অযত্নে ছিলেন।
ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ট্রাফিক আইন সবার জন্যই সমান। সেটা সরকারি হোক, বেসরকারি হোক। যেমন আমাদের যারা পুলিশ সদস্য, আমরা কিন্তু ক্লিয়ার মেসেজ দিয়েছি। আমাদের পুলিশ সদস্যের কেউ যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করে, আইন অনুযায়ী আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন তিনি।
চলতি বছরের মে মাসে ডিএমপির জন নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহা কেন্দ্রীক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিএমপি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সরকারি অফিসাররা, সরকারি গাড়িগুলো ট্রাফিক আইন মানতে চান না। ঢাকা শহরের প্রায় প্রত্যেকটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িগুলোত হুটার লাগানো। যেখানে হর্ন বাজানোর দরকার নেই সেখানেও হর্ন বাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি অনেক দপ্তরের যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নেই। ইঞ্জিন নাম্বারে চলছে। পুলিশের অনেক যানবাহনও ইঞ্জিন নাম্বারে চলছে। এ ধরণের যানবাহন আইন অমান্য করলে এআই কীভাবে মামলা দেবে? জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি যানবাহন হোক ট্রাফিক আইন যদি কেউ লঙ্ঘন করেন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, হচ্ছেও।
মে মাসে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৩৮,২৮৪টি মামলা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা হয়েছে এআইভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানায় ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।
ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্তে ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। যার মধ্যে একজনকে কারাদণ্ডসহ অন্যদের ক্ষেত্রে সর্বমোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মে মাসে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ৫,২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। যার মধ্যে ৫,৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং সর্বমোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে বেশি বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএসসিসির নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
আয়োজনে জরিপের সারসংক্ষেপ ও লার্ভার উৎস সম্পর্কে জানানো হয়। ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মীর মাধ্যমে গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিদর্শন করা বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।
জরিপে জানানো হয়, বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫.২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বা একক বাড়িতে ২৭.৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। সেখানে মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০.৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯ শতাংশ এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পাওয়া গেছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৭ জুন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী ‘বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া, আগামী ৬ জুন ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে, যা পরে অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।
আবদুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি ৩ দিন অন্তর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
রাজধানীর লালবাগ থানার নিউ পল্টন লাইন এলাকার একটি বাসা থেকে মো. তানজিল হোসেন (২১) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ওই বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার (৩ জুন) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তানজিল হোসেন নিউ এলিফ্যান্ট রোডের ৫৩/১ নম্বর বাসার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজনের ছেলে। তিনি বর্তমানে লালবাগের নিউ পল্টন লাইনের ১৫২/৬ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে নিউ পল্টন লাইনের একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তানজিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক তরুণীর সঙ্গে তানজিলের প্রেম ছিল। সম্পর্ককে কেন্দ্র করে প্রেমিকার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, এর জেরে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তানজিল।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রেখেছে লালবাগ থানা পুলিশ।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর উত্তরা উত্তর ও উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার এ অভিযানে স্টেশন দুটির নিচে অবস্থানরত অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানপাট অপসারণ করা হয়েছে।
ডিএমটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. শাওগাতুল আলমের নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএমটিসিএল’র তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযান চলাকালে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব ধরনের ভাসমান দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হকারদের ভবিষ্যতে মেট্রো স্টেশনের নিচে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বা দোকান স্থাপন না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
হকাররা ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না মর্মে ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে অঙ্গীকার করেন।
এছাড়া স্টেশনের নিচে ও আশপাশে যাতে কোনো ধরনের পরিবেশ দূষণ না ঘটে, সে জন্য পার্শ্ববর্তী স্থায়ী দোকানদারদের ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপস্থিত সবাই মেট্রোরেল এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাহজাহান আলী, মো. জাহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম এবং ডিএমটিসিএল-এর ডিজিএম (সিকিউরিটি) মেজর (অব.) মোহাম্মদ জাকির সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অভিযানে তুরাগ থানা পুলিশ, এমআরটি পুলিশ, আনসার সদস্য ও মেট্রোরেলের নিরাপত্তাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফিরে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন দুই নারী। চাপাতির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ব্যাগ, লাগেজ ও মোবাইল নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। গত শনিবার (৩০ মে) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই নারী রিকশা থেকে বাসার সামনে এসে নামেন। বাসায় ঢোকার মুহূর্তে লুঙ্গি পরা এক যুবক চাপাতি হাতে তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। তার পেছনে আসেন আরেক যুবক।
হাতে চাপাতি থাকা যুবক কিছু একটা বলে প্রথমে রিকশাচালককে ধাক্কা দেন। পরে চাপাতির ভয় দেখিয়ে ব্যাগ, লাগেজ ও মোবাইল নিয়ে নেন তারা। নারীদের অলংকার ও মোবাইল ফোন নিতে তাদের তল্লাশি করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সোমবার (০১ জুন) মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান রাকিব বলেন, ‘ওই দুই নারী ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে করে এসে ঢাকার শ্যামলীতে নামেন। পরে রিকশায় করে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসার সামনে গেলে তারা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে দুই নারীর কাছে থাকা ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে গেছে।’ এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান রাকিব জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এক ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করতে পেরেছি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’