রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ। আজ সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ২৫৭ পিস ইয়াবা, ১৫৩ গ্রাম হেরোইন, ১৩ কেজি ৭০ গ্রাম গাঁজা ও ২১৫ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়।
ডিএমপি জানায়, ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত রোববার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২২টি মামলা রুজু হয়েছে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অটোরিকশার ধাক্কায় নওরীন নামে তিন বছর বয়সি এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাড়ে ৫টার দিকে বেগুনবাড়ি মসজিদ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর বাবা মো. নাজিম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। তারা বেগুনবাড়িতে থাকেন। তিনি পেশায় রিকশাচালক আর শিশুটির মা শিরিন আক্তার গৃহিণী। তাদের একমাত্র সন্তান নওরীন।
বিকেলে বাবা-মা দুজনের হাত ধরে বাসার সামনে বের হয়েছিল। তখন বাবার হাত থেকে ছুটে রাস্তা পার হওয়ার জন্য দৌড় দেয় শিশুটি। সঙ্গে সঙ্গে একটি অটোরিকশা এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ছিঁটকে রাস্তায় পড়লে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় সে।
নাজিম আরও জানান, সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তাদের নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে কার্যকর থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার পাশাপাশি এবার তুলনামূলক সাশ্রয়ী ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা স্থাপনের একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্বল্প ব্যয়ে মহানগরের প্রতিটি প্রান্তকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডিএমপি আশা করছে, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কম খরচে রাজধানীর আরো বেশি এলাকায় নজরদারির আওতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন আরো কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’ ভবিষ্যতে যানজট নিরসনে নতুন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা সে দিকটি নিয়েই কাজ করছি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে একটি নতুন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে ব্যবহৃত এআই ক্যামেরাগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হলেও তা বেশ ব্যয়বহুল। দ্রুততম সময়ে নজরদারির পরিধি বাড়াতে এই নতুন সিস্টেম সহায়ক হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ক্যামেরার দাম তুলনামূলকভাবে কম হলেও আমাদের উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর হবে।’ তাঁর মতে, ‘এসব ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো গেলে আশা করি, ট্রাফিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’
আধুনিক এই পদ্ধতির প্রতি নগরবাসীর ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি সবসময়ই নগরবাসীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কারণ আমাদের এআই ক্যামেরার এই নতুন পথচলা মাত্র দুই মাসের হলেও ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নগরবাসী এতটা দৃশ্যমান সহযোগিতা করবেন, শুরুতে তা আশা করিনি। তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং আধুনিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসাও করছেন।’ তিনি মনে করেন, মানুষ এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
তবে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু কাঠামোগত অন্তরায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনের মিশ্রণ এবং অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজটের অন্যতম কারণ। এছাড়াও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। পথচারীদের অসচেতন আচরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, অনেক ক্ষেত্রে সিগন্যাল না মেনেই মানুষ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন, যা সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শুধু সড়ক ব্যবহারকারী বা পুলিশের ওপর নয়, ট্রাফিক শৃঙ্খলা অনেকাংশে পথচারীদের আচরণগত পরিবর্তনের ওপরও নির্ভর করে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি পয়েন্টে যেখানে দিনরাত যানবাহনের প্রবল চাপ থাকে, সেখানে বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আনিছুর রহমানের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান ছাড়া মেগাসিটির এই বিশাল ট্রাফিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করে ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে থাকেন।
বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা সাইন্সল্যাব এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে ওই রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’—এমন সব দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা নজিরবিহীন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে পরীক্ষা নেওয়ায় অনেককে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কিংবা দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে।
এদিকে সাইন্সল্যাবের পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দলে দলে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের এই ঝটিকা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাইন্সল্যাব ও এর আশপাশের সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত উত্তরা ও সাইন্সল্যাব উভয় স্থানেই শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
টানা কয়েক দিনের বর্ষণের অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোদ ওঠার কারণে আজ দিনের তাপমাত্রা গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে জনজীবনে গরমের অস্বস্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে মেঘের ফাঁক দিয়ে রোদ থাকলেও কোথাও কোথাও বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। গতকাল অর্থাৎ সোমবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে সারাদেশের জন্য দেওয়া আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা ভাড়ার বকেয়া মাত্র ১ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. স্বপন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত স্বপনের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার তাহের ফকির কান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মান্নান। তিনি আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন এবং কসমেটিক্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম জানান, তারা দুই ভাই সাবলেটে বসবাস করতেন। বাসার বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি রিজভী মাস শেষ হওয়ার আগেই ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দিতেন। চলতি মাসের ভাড়ার মধ্যে এক হাজার টাকা বকেয়া ছিল। রোববার (১২ জুলাই) রাতে রিজভী ওই টাকা চাইলে তারা দু-এক দিনের মধ্যে পরিশোধ করবেন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিজভী তাদের গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিমের অভিযোগ, রাতের ঘটনার পর সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহান তাদের কক্ষের সামনে এসে আবারও বকেয়া ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর তার ভাই স্বপনকে কিলঘুষি মারতে মারতে টেনে হিঁছড়ে কোয়ার্টারের সামনের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে স্বপনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার প্রকৃত বিবরণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পাশে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের পেছনের ফুটপাত থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে পৃথক দুটি স্থান থেকে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেক) পেছনে ফুটপাত অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন এক ব্যক্তি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। পরে ঢামেক হাসপাতালের নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী জানান, সকালে খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় ওই যুবককে জরুরি বিভাগের পেছনে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আইয়ুব আলী জানান, যুবকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এখনো তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। তার নাম পরিচয় জানার জন্য এরই মধ্যে সিআইডির ক্রাইমসিনকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বেলা ১১টার দিকে অমর একুশে হলের ফুটপাত থেকে দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় করা হয়। পরে ঢামেকে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদেরকেও মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার উপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে তারা অমর একুশে হলের ফুটপাত থেকে দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ব্যক্তিদের বয়স আনুমানিক ৫০ ও ৬০ বছর।
এসআই বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকদের জিজ্ঞেস করে আমরা ওই ব্যক্তিত্বদের নাম পরিচয় জানতে পারিনি। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের নাম পরিচয় জানার জন্য ইতোমধ্যেই সিআইডির ক্রাইমকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন জানালে রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর আদালত জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন। আহমেদ জোবায়েরের আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন জানান, গত ১৮ জুন থেকে তিনি কারাগারে বন্দী রয়েছেন। মামলায় অন্য আসামিরা জামিনে থাকলেও কেবল জোবায়েরকেই কারাগারে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সমনের নির্দেশ অমান্য করে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১৭ জুন আহমেদ জোবায়েরসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরদিন ১৮ জুন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে ওই দিনই মামলার অন্য তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়।
গত ১০ মে সৈয়দ আসাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকার আদালতে এই মামলাটি করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত আসামিদের ১৭ জুনের মধ্যে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন। নির্ধারিত সময়ে আসামিরা হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহতের নাম শাহিদা বেগম (৬৮)। তিনি যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার অনাবিল হাসপাতাল রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সাত তলায় ভাড়া থাকতেন। নিহত ওই নারীর বাড়ি কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার সীতলাই গ্রামে। তিনি মৃত শফিকুল ইসলাম সরকারের স্ত্রী ছিলেন।
রোববার সকালে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের একটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি বলেন, আমরা এ বিষয়ে এখনো তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আমরা বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে তদন্ত করছি এবং আমাদের কয়েকটি টিম অভিযান পরিচালনা করছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর যেকোনো সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার বাসায় প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা করে তার বাসায় থাকা স্বর্ণের দুই সেট কানের দুল একটি গলার চেইন ও ৫০০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
রাজধানী বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। বৃহস্পতি ও শুক্রবার (৯-১০ জুলাই) রাজধানীজুড়ে পৃথক এসব অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ২ হাজার ৮৩৬টি মামলা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযানে মোট ৮৩৪টি গাড়ি ডাম্পিং ছাড়াও ৩১৭টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে গত ২ দিনে ৭টি বাস ও ৪টি কাভার্ড ভ্যান ছাড়াও ২৭টি সিএনজি ও ৩৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪৭টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ট্রাফিক-রমনা বিভাগ। পাশাপাশি এই সময়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৬টি বাস ও ১১টি ট্রাক ছাড়াও একটি কাভার্ড ভ্যান, ৩৭টি সিএনজি ও ১৪২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৩৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগ।
এদিকে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে একই অপরাধে ১৩টি বাস, ২১টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৩টি সিএনজি ও ১৩৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৫৬টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক-ওয়ারি বিভাগে গত ২ দিনে ৫৮টি বাস, ৭৭টি ট্রাক, ৭২টি কাভার্ড ভ্যান, ১৪৭টি সিএনজি ও ২৭৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৮৫৭টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে গত ২ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২২টি বাস, ৬টি ট্রাক, ১৮টি কাভার্ড ভ্যান, ৪৭টি সিএনজি ও ১০১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৭৪টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগ। পাশাপাশি এই সময়ে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ কর্তৃক ৩৬টি বাস, ৯টি ট্রাক, ৩৬টি কাভার্ড ভ্যান, ৯৬টি সিএনজি, ২৮১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৫২৭টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২৫টি বাস, ১০টি ট্রাক, ৫টি কাভার্ড ভ্যান, ৬৩টি সিএনজি ও ৯২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৯৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগ। পাশাপাশি এই সময়ে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২১টি বাস, ৩টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ড ভ্যান, ৫২টি সিএনজি ও ৬৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৩৭টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
রাজধানীর ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
রাজধানীর এফডিসি মোড় এলাকার একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে (সাবস্টেশন) আগুন লাগার পর থেকে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এফডিসি মোড়ের কাছে অবস্থিত সাবস্টেশনটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে তেজগাঁও ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডিপিডিসি সূত্র জানায়, সাবস্টেশনে আগুন লাগার কারণে কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, বাংলামোটর, পরীবাগ, মগবাজার, ইস্কাটনসহ আশপাশের এলাকায় দুপুর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে।
ডিপিডিসির এক পরিচালক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত উপকেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।
রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে ৯৬১ বোতল ফেনসিডিলসহ একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর আলম (৩৩)।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ গাড়িসহ জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৯৬১ বোতল ফেনসিডিল, মাদক বিক্রির ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং মিনি পিকআপ গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
রাজধানীর গুলিস্তানে ছয় বছর বয়সি এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রিয়াদ গাজী (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে গুলিস্তান মতিউর রহমান পার্কে এ ঘটনা ঘটে।
পল্টন থানার এসআই তুষার দেবনাথ জানান, শিশুটির পরিবার গুলিস্তান এলাকায় থাকেন। তাদের বাড়ি বরিশালে। গুলিস্তানে ভাসমান অবস্থায় থাকে। শিশুটির বাবা ও মা ঘুরে ঘুরে পানি এবং কলম বিক্রি করেন। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৩টার দিকে গুলিস্তান মতিউর রহমান পার্কের পাশের রাস্তা পার হওয়ার সময় মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শিশুটি।
এরপর বাবা-মা শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে থানায় খবর আসে, এক যুবককে গণধোলাই দিয়ে স্থানীয়রা গুলিস্তান আহাদ পুলিশ বক্সে হস্তান্তর করেছে। পরে সেখানে গিয়ে ওই যুবককে হেফাজতে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ভোরের দিকে গুলিস্তান মতিউর রহমান পার্কের উত্তর পাশের কোনায় বটগাছের নিচে রিয়াদ গাজী শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করছিল। তখন স্থানীয়রা দেখে তাকে আটক করে এবং গণধোলাই দেয়।
তুষার দেবনাথ আরও জানান, শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
রাজধানী ঢাকায় ভরা মৌসুমেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আম। আম্রপালি, ফজলি, সুরমা, ব্যানানা ও বারি জাতের বিভিন্ন আম মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৬০ টাকায়। এমনকি ভ্যানেও ৮০ টাকার নিচে মিলছে না ভালো কোনো আম।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। দেশে আমের মৌসুম সাধারণত মে মাস থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে, তবে মূল ভরা মৌসুম হলো জুন ও জুলাই।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। এ ক্ষেত্রে কালচে রং পড়া ও বেশি পেকে যাওয়াগুলো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। আর কম পাকা ও সতেজ আম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। গত সপ্তাহেও ভালো মানের আম্রপালি বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়।
এ ছাড়া কেজিপ্রতি সুস্বাদু বারি আম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, টক-মিষ্টি সুরমা আম ১১০ টাকা, ফজলি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা আর ব্যানানা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মিরপুর ১১ নম্বর কাঁচাবাজারের ফল বিক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, ‘ল্যাংড়া আমের সিজন শেষ। আম্রপালিও আর বেশি দিন পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া আমের ক্রেতা কিছুটা কমেছে। সবকিছু মিলিয়ে দাম বাড়তি। তবে বারি ও সুরমা আম কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।’
রাইনখোলা বাজারের ফল বিক্রেতা আলমগীর বলেন, ‘এখন ফজলি আমের সিজন। এই আমটাই বেশি বিক্রি হবে। মানুষ আম কিনছে কম। এ মাসের পর আম পাওয়া যাবে না আর।’
মিরপুর অরজিনাল ১০ নম্বর ফল বাজারে আম কিনতে আসা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘এখনো আম্রপালি আছে। যতদিন বাজারে থাকবে ততদিন কিনব। আজ চার কেজি আম্রপালি ও এক কেজি সুরমা আম নিয়েছি। সিজন শেষের দিকে, আমের দাম তাই কিছুটা বাড়তি।’
এদিকে পাড়া-মহল্লার ভ্যানগুলোতেও আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে এ আম পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে।