সিস্টেম আপগ্রেডেশনের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ডেসকোর প্রিপেইড মিটার রিচার্জ সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হবে। আজ মঙ্গলবার এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে ডেসকো কর্তৃপক্ষ।
বার্তায় জানানো হয়, প্রিপেইড সিস্টেম আপগ্রেডেশন কাজের জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত প্রিপেইড রিচার্জ সেবা সাময়িক বিঘ্নিত হতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রিপেইড মিটারে পর্যাপ্ত টাকা রিচার্জ করার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য ডেসকো কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মশকবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে “সুরে সুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ” শীর্ষক বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। বাউল সংগীতের মাধ্যমে পরিচালিত এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।
আজ দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ডিসিসি মার্কেটের সামনে এ বিশেষ প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এ কর্মসূচির আওতায় ২০ দিনব্যাপী ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের মোট ১০০টি স্থানে সচেতনতামূলক বাউল সংগীত পরিবেশন করা হবে। বাউল গানের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রচলিত প্রচারণার পাশাপাশি মানুষের কাছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমধর্মী এই বাউল সংগীতভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নাগরিকরা নিজ নিজ বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি সবাইকে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা ঘর করি পরিষ্কার”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ডিএনসিসি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততার কোনো বিকল্প নেই। শুধু সিটি কর্পোরেশন বা স্বাস্থ্য বিভাগ নয়, নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, বাউল সংগীতের মতো জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি কার্যক্রম মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
কেবল মশার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সচেতনতার মাধ্যমে একটি তিলোত্তমা নগরী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। রোববার সকালে ডিএনসিসি সুপার মার্কেটের প্রাঙ্গণে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত ‘সুরে সুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী ভ্রাম্যমাণ বাউল সংগীত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রতি শনিবার হোক সবার অঙ্গিকার, নিজ নিজ বাসা করি পরিষ্কার।’ তিনি মনে করেন, নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এ সময় তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এখনো দেশের স্বার্থবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত। তবে নেতিবাচক প্রচারণার তোয়াক্কা না করে সুপরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নজরদারি বাড়াতে মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, মোহাম্মদপুরসহ অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র মোহাম্মদপুরেই কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই ঠেকাতে ৭০০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। অপরাধ দমনে এই এলাকায় পুলিশের জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি বসিলায় নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে এবং আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও পেট্রোল ইন্সপেক্টর মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, বর্তমানে রাজধানীতে ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭১০টি এবং গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকার ‘ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটির’ মাধ্যমে ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা পরিচালিত হচ্ছে. নতুন প্রকল্পের আওতায় ১১ হাজার ক্যামেরা কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ফলে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত রেসপন্স টিম পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। স্থায়ী ক্যামেরার পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ বা জাতীয় দিবসের মতো বড় আয়োজনে অস্থায়ী ক্যামেরার মাধ্যমেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে বর্তমানে ব্লক রেইড, নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং সদস্যরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে যেসব অপরাধ করছে, তাদের আইনের আওতায় আনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে পুলিশ। অপরাধ দমনের পাশাপাশি রাজধানীর যানজট নিরসনেও এই ক্যামেরা প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গুজব, অপতথ্য ও ডিপফেইকের এই সময়ে সাংবাদিকদের এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং সম্পর্কে দক্ষ হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে অপতথ্য রোধ করতে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
শুক্রবার (৮ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সাত দিনব্যাপী এআই নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
প্রশাসক বলেন, শুধু সংবাদ সংগ্রহ নয়, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতাও এখন সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা থাকবে বলে জানান তিনি। এছাড়া তথ্য বিকৃতি ও অপতথ্য প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সাত দিনে বিভিন্ন ব্যাচে মোট ৬০০ সদস্য অংশ নেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে ডিআরইউ, সহযোগিতায় ছিল
এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই। সমাপনী দিনে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইনজেকশন ও চেতনানাশক দ্রব্যসহ অজ্ঞান পার্টির সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় চত্বরের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারের সামনে পাকা রাস্তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৬ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. সাইফুল ইসলাম (৬০), মো. অপু আহমেদ সরকার (৩৮), মো. সুজন খান (৩৫), মুহাম্মদ রাশেদ ব্যাপারী (৫৮), মিঠু মিয়া ওরফে মন্টু ব্যাপারী ওরফে মিন্টু ব্যাপারী ওরফে মিটু (৫২), মো. মকবুল খন্দকার (৫৫) ও মো. টুটুল বিশ্বাস ওরফে সুমন (৫৫)।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে একটি প্যাকেটে রক্ষিত পলিথিনে মোড়ানো কালো রঙের হালুয়াসদৃশ চেতনানাশক দ্রব্য, একটি কৌটায় রক্ষিত চেতনানাশক হালুয়া ও চেতনানাশক ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া তাদের কাছ থেকে অজ্ঞান করার কলাকৌশল ও প্রচারণামূলক সাতটি লিফলেট ও সাতটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল সেটও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও জনাকীর্ণ এলাকায় সাধারণ যাত্রীদের কৌশলে চেতনানাশক দ্রব্য সেবন করিয়ে বা ইনজেকশন পুশ করে সর্বস্ব লুট করত।
এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় চলন্ত একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বুধবার (৬ মে) সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা ট্রাফিক বক্সের সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৩৩৯৭ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে গাড়িটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু সময় সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ফার্মগেট ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) জয়নাল আবেদীন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, সোনারগাঁও ক্রসিং থেকে আসার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রাইভেটকারটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর রেকারের মাধ্যমে গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ঘটনায় গাড়ির চালক-যাত্রী কিংবা সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেটে চলন্ত একটি মাইক্রোবাসে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল ১০টা ৩ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সকাল ১০টা ৩ মিনিটে আমরা খবর পাই যে, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে একটি মাইক্রোবাসে (নোহা) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।” তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে আসা দুটি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টা ২৯ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে যানবাহনটির অধিকাংশ অংশই ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে। ব্যস্ত সড়কে দিনের বেলা এ ধরনের ঘটনায় পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প” এর আয়োজনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে রাজধানীর বিজয়স্মরণী এবং সচিবালয় এলাকায় সোমবার (৪ মে) থেকে ১০ দিন ব্যাপী ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৫ মে) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শব্দদূষণ বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, সরকার পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এবার ক্যাম্পেইন পরিচালনায় সহযোগিতায় রয়েছে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীণ ভয়েস এর ভলান্টিয়ারগণ।
শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। এ সময় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন যানবাহনে অযথা হর্ন না বাজানোর স্লোগান সম্বলিত ষ্টিকার লাগানো হয় এবং পথচারী ও বাস চালকদের মাঝে শব্দদূষণের বিভিন্ন তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।
নো হর্ন, শব্দদূষণ শ্রবণ শক্তি নষ্ট করে, শব্দদূষণ বহুবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ। আসুন, অযথা হর্ন না বাজাই এরকম বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড, ফেষ্টুন এবং ব্যানার নিয়ে এ ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে বিধি-নিষেধসমূহ:
নীরব এলাকা (Silent Zone): হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতের চারদিকের ১০০ মিটার এলাকা পর্যন্ত হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
নিষিদ্ধ হর্ন: হাইড্রোলিক হর্ন, মাল্টি টিউন হর্ন বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
সময়সীমা: আবাসিক এলাকায় রাত ৯:০০ টার পর যেকোনো ধরনের শব্দদূষণ আইনত দণ্ডনীয়।
মাইক ও লাউড স্পিকার: জনসমাগমস্থলে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করবেন না।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা: আতশবাজি ও পটকা শুধু শব্দ নয়, বরং বায়ুদূষণ ও পাখির মৃত্যুর কারণ। প্রকৃতি বাঁচাতে এগুলো বর্জন করুন।
সতর্কবার্তা: সড়কে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক সার্জেন্ট এখন থেকে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
আসুন, সুন্দর ও সুস্থ আগামীর জন্য নিজে সচেতন হই এবং শব্দদূষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলি।
রাজধানীর শাহবাগের একটি ভাড়া বাসা থেকে আবিদ হাসান জিসান (২৬) নামের এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জিসান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আহসান হাবিবের ছেলে। তিনি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিএস পাস করে ইন্টার্ন শেষ করে পপুলারে জব করছিলেন।
জিসানসহ কয়েকজন মিলে হাবিবুল্লাহ রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
জিসানের রুমমেট ও সহকর্মী সূত্রে জানা যায়, জিসানের রুমমেট দীপ্ত সিংহ দুপুরে বাসায় গিয়ে তাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় বিছানায় দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন, কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে, দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানকার চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২টায় ৩০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।
রুমমেট দীপ্ত বলেন, সকালে রুম থেকে বের হওয়ার সময়ে দেখছিলাম, জিসান তার বাড়িতে কথা বলেছিল।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এবং শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে ‘ক্লিনিং ডে’ হিসেবে ঘোষণা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৯ মে ডিএসসিসি এলাকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্লিনিং ডে’ উদযাপিত হবে।
সোমবার নগর ভবনের সম্মেলনকক্ষে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে ডিএসসিসির নেতৃত্বে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকরা একযোগে এই কর্মসূচি পালন করবে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএসসিসি এলাকার সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, কোয়ার্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা), রাজউক ও রিহ্যাবের আওতাধীন এলাকা এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্লটগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা হবে। এ ছাড়া ডিএসসিসির মশকনিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, প্রয়োগ পদ্ধতি, তদারকি এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ পেশাদারির বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাই আমাদের প্রধান অস্ত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা যদি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখেন, তবেই মশাবাহিত রোগ নির্মূল করা সম্ভব। মশক নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র গাফিলতি সহ্য করা হবে না।’
তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বাণিজ্যিক প্রচারণার পাশাপাশি জনস্বার্থে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডিএমপি, ডিএমসি, বিজিবি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, রাজউক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, রিহ্যাব, শিক্ষা অধিদপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ নেমে আসা মুষলধারে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার দুপুরের পর শুরু হওয়া মুষলধারার বর্ষণে নগরীর অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। মানুষ ও পথচারীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় পানি জমে যায়, বিশেষ করে নিচু অঞ্চলগুলোতে হাঁটু সমান পানি দেখা যায়। এতে করে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে যানজট।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি আরো বাড়বে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি ১১তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই যুবকের নাম অর্ণব ইসলাম (৩৪)।
পুলিশ বলছে, দুপুরে ধানমন্ডি ১১ নম্বর সড়কের ৩১ নম্বর বাসার ছাদ থেকে পড়ে যান অর্ণব। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ধানমন্ডি থানার ওসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘অর্ণব শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তাকে একাধিকবার মানসিক চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে। এরপরও মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’
রাজধানীর রায়ের বাজারে বিষপানে সৌরভ হালদার (২৫) নামে এক বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়তেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার বোন সনজিদা হালদার জানান, তারা থাকেন রায়ের বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। বাসায় বিকালে সবার অগোচরে বিষাক্ত কোনো তরল পদার্থ পান করে তার ভাই। পরে দেখতে পেয়ে তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘কী কারণে সৌরভ এ ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি কারও জানা নেই। তবে প্রেম-সংক্রান্ত কোনো কারণে হতে পারে।’ তাদের বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুল গ্রামে। বাবার নাম অমল হালদার।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে।