বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৪ ১২:০২

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে রুট অ্যালাইনমেন্ট প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন অপসারণ এবং প্রতিস্থাপন কাজের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ১০ ঘণ্টা মগবাজার, নয়াটোলা, মধুবাগ, তেজগাঁও, হাতিরঝিল, মীরেরবাগ, গাবতলা, গ্রিনওয়ে, পেয়ারাবাগ, ইস্কাটন (দিলু রোড) এলাকার সকল আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।’

এ ছাড়া আশেপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।


বায়ুদূষণে চতুর্থ ঢাকা, স্বাস্থ্য ঝুঁকির সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:২৮
অনলাইন ডেস্ক

কয়েক দিনের সাময়িক স্বস্তির পর রাজধানী ঢাকার বাতাসের মানের পুনরায় অবনতি ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বৈশ্বিক বায়ুদূষণ সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর প্রতিবেদন অনুসারে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর আজ ১৪৭ রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুমানের এই স্তরটি বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আইকিউএয়ার-এর তথ্যমতে, আজ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড, যার স্কোর ১৬৮। ১৬০ স্কোর নিয়ে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা দ্বিতীয় এবং ১৫৯ স্কোর নিয়ে কঙ্গোর কিনশাসা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তালিকার প্রথম তিনটি শহরের পরেই ঢাকার অবস্থান। এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মেদান শহর, যার স্কোর ১৩১। ঢাকার বর্তমান বায়ুমানকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ পর্যন্ত হলে বাতাসের মান ‘ভালো’ ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত হলে তা ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে থাকলে তা সংবেদনশীল মানুষের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০-এর অধিক স্কোরকে অত্যন্ত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বায়ুদূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা এবং নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।


কারাগারে নেওয়ার পথে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা তানভীরকে ডিম নিক্ষেপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক মেহেদী হাসান এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে আজ ভোরে রাজধানীর মনিপুরী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ।

আদালতের শুনানি শেষে তানভীরকে যখন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন আদালত চত্বরে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সরকারি আজিজুল হক কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের একটি দল তাকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ করে। এই ঘটনাকে দলীয় কর্মীদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার। তিনি জানান, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে পুলিশ সজাগ ছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় জড়িত অন্য কাউকেও শনাক্ত করতে তারা রিমান্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই গাজী সালাউদ্দিন তানভীর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি উসকানিমূলক ও মানহানিকর পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। ওই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার জন্ম দেয়। যদিও সমালোচনার মুখে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন, তবুও বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল গত ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে এনসিপির একটি পথসভায় হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনি ওই বিতর্কিত পোস্টটি করেছিলেন।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে গত ১ আগস্ট এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এবং পরবর্তীতে তাকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মূলত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য করার দায়ে তাকে এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।


শেখ হাসিনার প্রশ্নে প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব, আমিও নামব: আসিফ নজরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে রাজপথে পুনরায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যে, নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিতের প্রশ্নে দেশবাসী ‘জুলাই’ গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে আজীবন ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তিনি লেখেন, “নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হবে, বিরোধ হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই হয়েই বাঁচব চিরদিন। প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব, আমিও নামব।”

আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্বীকার করলেও দলটির পতনের কারণ নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দেওয়া সত্ত্বেও কেন দলটিকে বারবার জনতার রুদ্ররোষে সমূলে উৎখাত হতে হলো, তা আওয়ামী লীগেরই খুঁজে বের করা উচিত। তবে তিনি আক্ষেপ করে জানান যে, দলটির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই অনুশোচনা বা আত্মসমালোচনার কোনো স্থান নেই। তাঁর মতে, “তারা ৩২ নম্বরকে ভাবে বাংলাদেশ, শেখ পরিবারকে ভাবে বাংলাদেশের মালিক, আর মুক্তিযুদ্ধকে মনে করে ভিন্নমতকে নিশ্চিহ্ন করার লাইসেন্স।” এই মালিকানাবোধ থেকেই তারা জনগণের ওপর সীমাহীন দমন-পীড়ন চালানোর ধৃষ্টতা পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক আরও উল্লেখ করেন যে, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভুল থাকলেও আওয়ামী লীগের মতো ক্ষমতার চরম স্পর্ধা ও অনাচার করার আত্মবিশ্বাস অন্য কারও মধ্যে তিনি দেখেননি। শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে উল্লসিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সহস্রাধিক মানুষের হত্যা ও অগণিত মানুষকে পঙ্গু করে দেওয়ার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন পূরণ হবে না। প্রয়োজনে রাজপথে আবারও অকুতোভয় প্রতিরোধের বার্তা দেন তিনি।

পোস্টের সমাপ্তিতে অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন যে তাঁকে বা মুক্তিকামী জনতাকে ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই, কারণ তাঁরা মৃত্যুভয়কে জয় করেছেন। তিনি আবেগের সাথে যোগ করেন, “যতদিন বেঁচে থাকব, বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের বুকে গুলি চালানো খুনিকে একবিন্দুও ভয় করব না, এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমা করব না।” জুলাই মাসকে জাতির পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মূলত ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাঁর এই জোরালো বার্তার মূল প্রতিপাদ্য।


জবিতে সংঘর্ষ ও মারামারির তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে ঢোকাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন ও শহীদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল শিক্ষকদের নিয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টার দিকে জকসু নেতারা ও কয়েকজন কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে ঢুকতে যান। প্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ ও অস্থায়ী হল নির্মাণ, মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব-সুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগসংক্রান্ত দাবি জানানো হয়। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তখন ইনকিলাব মঞ্চের কিছু সদস্যও সেখানে ছিলেন।

ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দল শিক্ষকদের নিয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে জকসু, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চ ও ছাত্রশক্তিসহ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জকসুর ভিপি ও জিএস, সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন।

ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর এবং মো. শহীদুল্লাহ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন আগে থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

তবে অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এ ধরনের সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার পরিবেশ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ক্ষতিকর।’

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনকে মতপ্রকাশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।


ঢাবির সলিমুল্লাহ হলের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগ থানার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ হলসংলগ্ন ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সলিমুল্লাহ হলের ফুটপাত থেকে ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে।

পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহবাগ থানার এসআই লিটন আলী জানান, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি আর বেঁচে নেই।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও ওই নারীর পরিচয় জানা যায়নি। লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও পরিচয় নিশ্চিত করতে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


রাজধানীতে ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৫৮

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকা জুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে ৪৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই ব্যাপক অভিযানে মোট ৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় তথ্যানুযায়ী, অভিযানে সবচেয়ে বেশি ১৩৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন মিরপুর বিভাগ থেকে। এছাড়া উত্তরা বিভাগ থেকে ৭১ জন, তেজগাঁও থেকে ৫৭ জন, ওয়ারী থেকে ৪৯ জন, লালবাগ থেকে ৩৭ জন এবং মতিঝিল বিভাগ থেকে ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। রমনা বিভাগ থেকে ৩৪ জন, গুলশান থেকে ৩১ জন এবং ডিবি ও সিটিটিসি বিভাগ থেকে যথাক্রমে ৬ ও ২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১১ কেজি ৯৮০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৩৩৬ পিস ইয়াবা এবং ৯০ বোতল ফেন্সিডিল। এছাড়াও একটি ওয়ান শাটারগান, একটি সামুরাই, ১৭টি মোবাইল ফোন, ৩০টি খালি চেক বইয়ের পাতা, নগদ ১ হাজার ৮০ টাকা এবং ২৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ জালনোট উদ্ধার করা হয়। নিয়াজ মেহেদী জানান যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীদের দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।


রাজধানীতে দিনভর বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকায় আজ ভোর থেকেই নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দিনভর আকাশ আংশিক থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। বৃষ্টির প্রভাবে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, ঢাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর তাপমাত্রা ২৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯২ শতাংশ। বিগত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করেছে আবহাওয়া বিভাগ। গতকাল সোমবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কাল বুধবার ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে সূর্যোদয় হবে।


বৈশ্বিক বায়ুদূষণ সূচকে শীর্ষে লাহোর, ঢাকার অবস্থা কী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর বায়ুদূষণ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দূষণের তালিকায় পুনরায় শীর্ষস্থান দখল করেছে পাকিস্তানের লাহোর। তবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমানে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, ৮৪ স্কোর নিয়ে ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের ১৬তম দূষিত শহরের তালিকায় অবস্থান করছে, যা বায়ুমান সূচকে ‘মাঝারি’ বা গ্রহণযোগ্য পর্যায় হিসেবে বিবেচিত। বাতাসের মানের এই উন্নতি জনস্বাস্থ্যের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৫৫ স্কোর নিয়ে লাহোর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে, যার বাতাসের মান বর্তমানে ‘অস্বাস্থ্যকর’। তালিকায় ১৫2 স্কোর নিয়ে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা দ্বিতীয় এবং ১৪৪ স্কোর নিয়ে বাহরাইনের মানামা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (১৪৪) এবং কাতারের দোহা (১৩৯) স্থান পেয়েছে। শীর্ষ দশে থাকা অন্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা, জেরুজালেম, কুয়েত সিটি, চীনের সাংহাই ও দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ।

বায়ুমান সূচকের কারিগরি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্কোর ০-৫০ হলে বাতাস ‘ভালো’, ৫১-১০০ হলে ‘মাঝারি’, ১০১-১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১-২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। এছাড়া স্কোর ২০০ অতিক্রম করলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০-এর অধিক হলে তাকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছালে শিশু, বৃদ্ধ, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ফুসফুস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাইরের কর্মকাণ্ডে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। নিয়মিত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ও দূষণ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণই নাগরিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের প্রধান উপায়।


সচল হচ্ছে ঢাকার চারপাশের নৌপথ, চলবে ওয়াটার বাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানী ঢাকার চারপাশের নৌপথগুলো সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কীভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাব্যতাসহ পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নৌপথ সচল করার পাশাপাশি কীভাবে ঢাকার নদীগুলোর দূষণ প্রতিরোধ করা যায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যায় এবং নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, বৈঠকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশনাও দিয়েছেন, যেন পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং নদীর তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা নদীকে যুক্ত করে গঠিত এই চক্রাকার নৌপথ নিয়মিত সচল থাকলে রাজধানীর গাবতলী, সদঘাট, আশুলিয়া, কাঁচপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সহজে যাতায়াত করা যাবে।

উদ্যোগের মূল সুবিধাসমূহ: সড়কপথের তীব্র ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে নদীর বুক চিরে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াতের সুযোগ। তুলনামূলক কম খরচে এবং মনোরম পরিবেশে ভ্রমণের সুবিধা। শুধু সাধারণ যাত্রী নয়, রাজধানীর চারপাশের ছোট আকারের পণ্য পরিবহনেও এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তবে বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সঠিক তদারকির অভাবে অনেক সময় এই ওয়াটার বাস সার্ভিসগুলো স্থবির হয়ে পড়ে। তাই এবার উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদে সফল করতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতা সংকট দূর করতে নিয়মিত ড্রেজিং নিশ্চিত করতে হবে। উন্নতমানের আধুনিক নৌযান নামাতে হবে এবং যাত্রী ধরে রাখতে সঠিক সময়সূচি ধরে রাখতে হবে। টার্মিনাল বা ঘাট থেকে মূল সড়কে যাতায়াতের জন্য সহজ সংযোগ সড়ক ও গণপরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে নৌপথ নিরাপদ ও দূষণমুক্ত রাখতে হবে।

তারা আরো বলছেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে সচল রাখতে পারলে তা রাজধানীর পুরো গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। সঠিক তদারকি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ওয়াটার বাস সার্ভিসকে একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।


কলাবাগানে স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যা করে থানায় যুবক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে হৃদয় ওরফে শিপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর তিনি কলাবাগান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগানের আল-আমিন রোডের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফারজানা আক্তার রাত্রী (২০) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৪০)।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত হৃদয় ওরফে শিপন থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (১ আগস্ট) স্বামী-স্ত্রী মোহাম্মদপুরে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে এসে রাতে কাঁঠালবাগানের আল-আমিন রোডে শ্বশুরের বাসায় ওঠেন। রোববার (২ আগস্ট) সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিকআপ ভ্যানচালক হৃদয় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আলামিন রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। রোববার (২ আগস্ট) সকাল নয়টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ফারজানার মা ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিলে জামাতা শিপন এই ঘটনা ঘটান।

অভিযোগ রয়েছে, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঝগড়ার একপর্যায়ে হৃদয় ঘরে থাকা তরকারি কাটার ছুরি দিয়ে প্রথমে স্ত্রী ফারজানাকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বাধা দিতে এলে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকেও ছুরিকাঘাত করেন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।


দক্ষিণ এশিয়ায় অনিরাপদ এবং অপরাধের শীর্ষে ঢাকা শহর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর মধ্যে অপরাধের হারের দিক থেকে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। একই সঙ্গে এই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক সংস্থা 'নাম্বিও' (Numbeo) প্রকাশিত ২০২৬ সালের অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচকে এ চিত্র ফুটে উঠেছে।

নাম্বিওর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার অপরাধ সূচক বর্তমানে ৬২ দশমিক ২, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সব শহরের তুলনায় সর্বোচ্চ। বিপরীতে নিরাপত্তার দিক থেকে ঢাকা তলানিতে অবস্থান করছে; শহরটির নিরাপত্তা সূচক মাত্র ৩৭ দশমিক ৮। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বড় শহরগুলোর পরিস্থিতিও বর্তমানে ঢাকার চেয়ে অনেক ভালো।

দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচক

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরের অপরাধ ও নিরাপত্তা সূচকের তুলনামূলক চিত্র নিচে একটি সুবিন্যস্ত টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

ক্রম

শহর ও দেশ

অপরাধ সূচক (Crime Index)

নিরাপত্তা সূচক (Safety Index)

ঢাকা, বাংলাদেশ

৬২.২

৩৭.৮

করাচি, পাকিস্তান

৫৯.১

৪০.৯

দিল্লি, ভারত

৫৯.১

৪০.৯

গাজিয়াবাদ, ভারত

৫৮.৪

৪১.৬

নয়ডা, ভারত

৫৫.১

৪৪.৯

গুরগাঁও, ভারত

৫৪.১

৪৫.৯

ব্যাঙ্গালোর, ভারত

৫৪.০

৪৬.০

রাওয়ালপিন্ডি, পাকিস্তান

৫১.৬

৪৮.৪

কলম্বো, শ্রীলঙ্কা

৪২.৬

৫৭.৪

১০

কাঠমান্ডু, নেপাল

৩৬.৭

৬৩.৩

১১

ইসলামাবাদ, পাকিস্তান

৩১.৪

৬৮.৬

১২

ম্যাঙ্গালোর, ভারত

২৫.৬

৭৪.৪

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি। শহরটির অপরাধ সূচক মাত্র ১১ দশমিক ১ এবং নিরাপত্তা সূচক ৮৮ দশমিক ৯। এর তুলনায় ঢাকার নিরাপত্তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সূচক বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ঢাকার বাসিন্দারা রাতে বাইরে চলাফেরায় চরম অনিরাপদ বোধ করেন এবং বেশিরভাগ সময় অপরাধের আতঙ্কে থাকেন।

নাম্বিওর বৈশ্বিক তালিকায় অপরাধপ্রবণতার দিক থেকে বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ৫৯তম। অর্থাৎ অপরাধ ও নিরাপত্তার অভাবের দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ ১৫ শতাংশ শহরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপদ শহরগুলোর মধ্যে ভারতের ম্যাঙ্গালোর ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদ উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। এমনকি রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত করাচি বা লাহোরও নিরাপত্তার সূচকে ঢাকার চেয়ে এগিয়ে আছে।

নাম্বিও মূলত বিশ্বজুড়ে শহর ও দেশগুলোর জীবনযাত্রার মান, আবাসন, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা ও ট্রাফিকসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত সূচক প্রকাশ করে থাকে। তাদের ২০২৬ সালের এই সূচকটি ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


রাজধানীতে মেয়ের জামাইয়ের হাতে স্ত্রী-শাশুড়ি খুন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শিপন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে কাঁঠালবাগান আল আমিন মসজিদের পাশের একটি পাঁচতলা ভবনে এই লোমহর্ষক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ২০ বছর বয়সী রাত্রি এবং তার মা ৩৫ বছর বয়সী ফিরোজা বেগম।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আল আমিন মসজিদের সংলগ্ন ৫২ নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় শিপন ও তার স্ত্রী রাত্রির মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শাশুড়ি ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিয়ে কথা বলায় শিপন উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুজনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাত্রির মৃত্যু হয় এবং গুরুতর জখম অবস্থায় মা ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাত্রির সঙ্গে শিপনের আগেই বিবাহবিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা একই বাসায় বসবাস করছিলেন। ঘটনার পর পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঘাতক শিপনকে আটক করেছে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। কেন এই হত্যাকাণ্ড এবং নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে গণমাধ্যম সূত্রে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৩১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, এই সাঁড়াশি অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৭০টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিভাগওয়ারি গ্রেপ্তারকৃতদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৭৯ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৭ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪৫ জন, গুলশান বিভাগে ৪৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪০ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৯ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ৯ জন এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের অভিযানে আরও ৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

অভিযানকালে পুলিশ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি খালি ম্যাগাজিন, ১৪ হাজার ১৪২ পিস ইয়াবা, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হেরোইন ও গাঁজা। এছাড়া ৩১টি মোবাইল ফোন, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং একটি ক্যামেরা জব্দ করার পাশাপাশি একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। ডিএমপি জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরণের নিয়মিত বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


banner close