মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

এখনো জমেনি গাবতলী পশুর হাট, ক্রেতার অপেক্ষায় বেপারিরা

হাটে তোলা হয়েছে কোরবানির পশু, কিনতে ভিড় করছেন বিক্রেতারা। তবে এখনও ভিড় ততটা বাড়েনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৪ জুন, ২০২৪ ০০:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৪ জুন, ২০২৪ ০০:০৪

আর মাত্র দুই দিন বাকি কোরবানির ঈদের। এখনও জমে ওঠেনি রাজধানীর সবচেয়ে বড় গাবতলী পশুর হাট। কিছু ক্রেতা হাটে এলেও তারা মূলত বাজার দর যাচাই করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বেপারিরা তাদের পশুগুলো নিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

হাটের বিভিন্ন জায়গায় তাঁবু টানানো ও গেটের সাজসজ্জার কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। গতকাল বিকেলে ঢাকাজুড়ে বৃষ্টির কারণে ক্রেতা সমাগম কম ছিল।

হাট ঘুরে দেখা যায়, ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-ছাগল আসা অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে পশু আর বেপারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েনসহ ওয়াচ টাওয়ারও স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ছমির মিয়া বলেন, ‘তিন দিন আগে আমি গরু নিয়ে গাবতলীর হাটে আয়চি। এইবার ইদে আমি ৭টি গরু আনছি। এখনও একটাও বিক্রি হয়নি। সবাই দাম শুনে চলে যায়। ঢাকার মানুষ এত তাড়াতাড়ি গরু কেনে না। তাদের তো গরু রাখার জাইগা নেই। আশা করছি শুক্রবার থেকে বেচাকেনা শুরু হবে।’

রাজশাহীর তানোর থানা থেকে আসা আতাউর রহমান বেপারি বলেন, ‘আমি এবার দুইটা গরু নিয়ে আসছি। একটা অনেক বড় গরু আর একটা মাঝারি। বড় গরুর নাম রাজা বাবু। এর দাম চাচ্ছি ১৫ লাখ টাকা। তবে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ক্রেতা দাম বলেননি। আশা করছি শুক্রবার থেকে বেশি ক্রেতা আসবে। তখন হয়তো দামাদাম হবে।’

পাবনা থেকে আসা সিরাজ নামের এক বেপারি বলেন, ‘৮টি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। একটি গরু ৭০ হাজারে বিক্রি হয়েছে আরও ৭টি বাকি আছে। আমার ছোট গরু, তাই চিন্তা করি না। দুই-এক দিনের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাবে।’

এবারের গাবতলীর হাটে মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার বেশ উপস্থিতি দেখা গেছে। আতিয়ার নামের এক ছাগল ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার আমি সিরাজগঞ্জ থেকে ৬টি ছাগল নিয়ে আসছি। আমার এখানে প্রতিটি তিন থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার ছাগল আছে। দুইটা বিক্রি হয়েছে, আর ৪টা বাকি আছে।’

কথা হয় মোহাম্মদপুর থেকে আসা কাইসার নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মূলত গাবতলীতে এলাম গরুর দাম জানতে। আমরা ৬ বন্ধু মিলে কোরবানি দেব। দাম জেনে গেলে আমাদের হিসাব করতে সুবিধা হবে।’

ইকবাল খান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আমাদের বাসায় গরু রাখার জায়গা নেই। আমরা ঈদের ২-১ দিন আগে কিনব। এমনি দেখতে এলাম। তবে এরা এবার দাম বেশি চাচ্ছে মনে হচ্ছে। গতবার আমরা দেড় লাখ টাকার যে গরু কিনেছিলাম এবার প্রায় ওই রকম গরুর দাম ২ লাখ চাচ্ছে। এখন অপেক্ষা করব দেখি দাম পড়ে কি না।’

হাটে পশুর বাড়তি দামের অভিযোগ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় পশু সরবরাহের ব্যবস্থা বেশি আছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান। তিনি বলেছেন, গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ- সব মিলিয়ে কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা এক কোটি সাত লাখ। সেখানে আমাদের প্রস্তুত আছে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ পশু। ২৩ লাখ পশু বাড়তি রয়েছে।

সচিবালয়ে গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মিঠা পানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে উন্নীত হওয়া উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আব্দুর রহমান বলেন, ‘হয়তো কেউ নানাভাবে গরুর দাম বাড়াতে পারে। চড়া দাম হাঁকাতে পারে। কিন্তু দিন শেষে ওদের মাথায় হাত পড়বে। কারণ গরুর জোগান তো আমার আছে।’

যেসব জায়গায় বসছে কোরবানির পশুর হাট

গতকাল থেকে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় স্থায়ী দুটিসহ ২০টি পশুর হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশু বেচা-বিক্রি শুরু হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ ৯টি হাট এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সারুলিয়ার স্থায়ী পশুর হাটসহ ১১টি হাট বসেছে। তবে এ বছর আদালতের নির্দেশনার কারণে আফতাবনগরে হাট বসবে না।

ঢাকা উত্তরে অস্থায়ী ৮টি হাটের মধ্যে রয়েছে- উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের পাশের খালি জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাশের খালি জায়গা, মস্তুল চেকপোস্ট এলাকা, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, ভাটারার সুতিভোলা খালের কাছের খোলা জায়গা, মোহাম্মদপুরের বছিলায় ৪০ ফুট সড়কের পাশের খালি জায়গা, ভাটুলিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে রানাভোলা স্লুইচগেট পর্যন্ত খালি জায়গা ও দক্ষিণখানের জামুন এলাকার খালি জায়গা।

তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণে অস্থায়ী ১০টি হাটের মধ্যে রয়েছে খিলগাঁও রেলগেট মৈত্রী সংঘ ক্লাবসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, বনশ্রীর মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, লালবাগে রহমতগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।

বিষয়:

নির্বাচিত

বনানী থেকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ গ্রেপ্তার

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দিলীপ আগারওয়ালার বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলার সূত্র ধরে সিআইডির অনুরোধে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তবে মামলাটি কী অভিযোগে করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ডিবিপ্রধান।

এর আগে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামের এক কিশোরকে হত্যার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ মামলায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে জামিনে কারামুক্ত হন দিলীপ আগারওয়ালা।


নির্বাচিত

দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় আনসার-ভিডিপি, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মহাপরিচালক

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর রাখতে বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা দায়িত্ব সরেজমিনে তদারকির ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান এবং শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।

এসময় পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পরিদর্শনকালে তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দায়িত্ব পালনরত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম এবং পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেন।

মহাপরিচালক বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা সরাসরি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। পূজা উদযাপন কমিটি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে পূজামন্ডপ কেন্দ্রিক যেকোন বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা তাৎক্ষনিকভাবে সমাধান করা হচ্ছে। এবারের পূজায় পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের আধিক্যের পাশাপাশি ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপস’ এর সমন্বিত তাৎক্ষণিক সাড়াদান এবং তৎপরতা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেছে।

মহাপরিচালক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজস্ব প্রাঙ্গণে আয়োজিত পূজামণ্ডপগুলোও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং টিমের নিবিড় তদারকির আওতায় রয়েছে। এর মাধ্যমে সব পর্যায়ের পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা হচ্ছে।

তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন। কোনো ধরনের উসকানি, গুজব বা অপপ্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক সেবায়ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। পূজামণ্ডপে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, বয়স্ক দর্শনার্থীদের সহযোগিতা, সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা, নারী উত্যক্তকারীদের প্রতিহত ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীল সেবা প্রদান এবং উৎসবমুখর পরিবেশ সুরক্ষায় বাহিনীর সদস্যদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

মাদকের আস্তানায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অভিযান, আটক ৬

শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়ার রেললাইন সংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন চিহ্নিত মাদকের আস্তানায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রেতাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সংক্রান্ত দুটি ভিডিও নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন তিনি। ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর হাতে পিস্তল দেখা গেছে। তবে, পিস্তলের কিছু অংশ ভিডিওতে ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে বলা হয়, গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদক আস্তানা গুড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর একটি ভিডিওতে বেশ কয়েকজনকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে পুলিশকে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

পরে ইশরাকের মিডিয়া সেলের পক্ষে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেছেন, মাদক কারবারিরা যে দলেরই হোক, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তার নিজের দলের কেউ মাদক কারবারে জড়িত থাকলে তার শাস্তি আরও বড় হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করা হয়।

অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নাই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।’

মাদকাসক্তির কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই মাদকের কারণে আমাদের তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দা দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছি। যারা বাইরে থেকে এসে মাদক দিয়ে যায়, তাদের আটক করতে পারবে—এমন ব্যক্তিদের আমার মাথায় করে রাখব। আমার এই এলাকা থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। সারা বাংলাদেশ অভিযান চলবে,বাংলাদেশে কোথাও মাদকের জায়গা হবে না।’

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা ছেড়ে দেওয়ার জন্য হাতজোড় করলে তাদের আশ্বস্ত করেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের গায়ে কেউ হাত দেবে না, তোমাদের কেউ কিছু করবে না। তোমরা থানায় যাবা, পুলিশ তোমাদের ব্যবস্থা নেবে। তোমাদের মারার জন্য আমরা আসি নাই। এই দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে। তাদের বিচার হবে, বিচারের মাধ্যমে তাদের শাস্তি হবে।’

এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আসনটিকে মাদকমুক্ত করতে এ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন।

ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


নির্বাচিত

ঢাকায় টিনশেড বাসা থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তর শাজাহানপুরের একটি টিনশেড বাসা থেকে আব্দুল ফারুক (৪৮) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি ঠিকাদারের সহকারী হিসেবে কাজ করত।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) মো. মনজুরুল আলম জানান, আমরা দুপুর ১২টার দিকে খবর পেয়ে উত্তর শাজাহানপুরের একটি টিনশেড দোতলা বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আমরা স্বজনদের মুখে জানতে পারি নিহত ব্যক্তি ঠিকাদারের সহকারী হিসেবে কাজ করত। সকালে কোন এক সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

নিহতের স্ত্রী আছিয়া জানান, আমার স্বামী ঠিকাদারের সহকারী হিসেবে কাজ করতো এবং আমি বাসা বাড়িতে কাজ করি। সকালে বাসাবাড়ি কাজ শেষ করে এসে আমি বাসার দরজা লাগানো দেখতে পাই। পরে বাসার দরজা ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়; পরে ভিতরে গিয়ে আমার স্বামীকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পাই। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল মর্গে পাঠায়। কী কারণে আমার স্বামী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

তিনি আরো জানান, আমার স্বামীর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর জেলার চরখোয়াজপুর গ্রামে। তিনি মৃত আব্দুল হামিদের সন্তান। আমরা ঢাকা উত্তর শাহজাহানপুর ৩৪ নং বাসার একটি টিনশেটের দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকতাম। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে।


নির্বাচিত

উত্তরায় শ্রমিকদের সড়কে নামতে বাধা, জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বকেয়া বেতন পরিশোধ ও সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতনের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় সড়কে নামার চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় তাদের বাধা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে উত্তরা রাজলক্ষ্মী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা।

এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সূত্র জানায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মূল বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে আন্দোলনকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।

একপর্যায়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। তাদের সড়ক অবরোধ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


নির্বাচিত

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৮১

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগ ২৯ জন, লালবাগ বিভাগ ৪০ জন, ওয়ারী বিভাগ ৭৪ জন, মতিঝিল বিভাগ ৫৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৭২ জন, মিরপুর বিভাগ ১৩১ জন, গুলশান বিভাগ ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগ ৩৮ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

অভিযানে ১০১৪৫ পিস ইয়াবা, ৬.১৭ গ্রাম হেরোইন, ৫০০ গ্রাম তামার তার, ১০০০ পিস সাবান ও ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশের এই কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

দুর্গাপূজায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান দিল ঢাকা জেলা পরিষদ

দুর্গাপূজায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান দিল ঢাকা জেলা পরিষদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইতিহাসে এই প্রথম দুর্গাপূজায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান দিল ঢাকা জেলা পরিষদ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ কথা জানিয়েছেন পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

তিনি জানান, ঢাকা জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার ১ হাজার ১৮টি পূজামণ্ডপে মোট ৬৯ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৮৬৯টি পূজামণ্ডপে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ঢাকা মহানগর এলাকার ১৪৯টি পূজামণ্ডপে ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা জেলা পরিষদ।

তিনি বলেন, ‘এ বছর ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ এবং ঢাকা মহানগর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির পূজামণ্ডপে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সাভারে ২৩৮টি, ধামরাইয়ে ২৩৫টি, নবাবগঞ্জে ২০১টি, কেরানীগঞ্জে ১৫৩টি এবং দোহারে ৪২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপে অনুদান বিতরণের মাধ্যমে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রম গত মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

এ ছাড়া গত বুধবার ধামরাই উপজেলা পরিষদে পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ তমিজ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

একই দিন কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে ঢাকা-২ আসনের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ মো. আমান উল্লাহ আমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

ঢাকা-৩ আসনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রমও গত বুধবার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের স্বর্গপুরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী।

সাভার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রম গত বৃহস্পতিবার সাভার উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।

মহানগরের ১৪৯ পূজামণ্ডপে ২৬ লাখ টাকা: ঢাকা মহানগর এলাকার ১৪৯টি পূজামণ্ডপে মোট ২৬ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য, তাদের প্রতিনিধি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

এ কার্যক্রমে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রশীদ, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আবদুর রহমান সানি, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় চেক বিতরণ করেন।

এ ছাড়া সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ও ববি হাজ্জাজের নির্বাচনী এলাকা থেকে পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন এবং বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

ঢাকেশ্বরীতে মহাষষ্ঠীর পূজার্চনায় শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলাঙ্গনের বেলতলায় মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাক, শঙ্খ, ঘণ্টার শব্দ আর মন্ত্রোচ্চারণ ও উলুধ্বনির আনন্দঘন পরিবেশে শুভ মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলাঙ্গনের বেলতলায় মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস থেকে বেলতলায় দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়েই সূচনা ঘটে এই উৎসবের।

পূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বেলতলা সাজানো হয় বর্ণিল ফুলে। নৈবেদ্য হিসেবে রাখা হয় ফলমূল, দই ও নানা প্রসাদ। সকাল ৯টায় পুরোহিতরা বেলতলায় আসন গ্রহণ করে মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করেন। একদিকে শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান, অন্যদিকে ভক্তদের উলুধ্বনি ও কাঁসর-ঘণ্টার শব্দে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা শেষ হয়। এরপর ভক্তদের মাঝে শান্তির জল ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং শুরু হয় অঞ্জলি প্রদান।

পূজা শেষে পুরোহিত প্রার্থনায় সকলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন এবং বলেন, সব অমঙ্গল দূর হয়ে যেন প্রতিটি ঘরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়ায়) মর্ত্যে এসেছেন এবং বিদায় নেবেন নৌকায়। পুরাণে বর্ণিত আছে, অশুভ অসুর শক্তিকে বিনাশ করে স্বর্গলোক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবীবিনাশী দুর্গা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির তথ্যমতে, এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে পূজা হচ্ছে ২৫৮টি মণ্ডপে।


নির্বাচিত

ঢাকায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ২০৭২ পুলিশ সদস্য মোতায়েন: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়মিত ডিউটির বাইরে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি উপস্থিতি, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘মণ্ডপের গুরুত্ব ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বিবেচনায় সেগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। নিরাপত্তায় ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।’

বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরেও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে শেষ হবে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘কোনো সন্দেহজনক ঘটনা বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য জানাতে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।’

তিনি পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও নগরবাসীকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

মিটার থাকলেও ভাড়া চলে দর-কষাকষিতে

* ভাড়া নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ যাত্রী * একই পথে বাড়তি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা * সড়কে চালকদের রাজত্ব, বাড়ছে বিশৃঙ্খলা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াতে মিটার থাকলেও ভাড়া নির্ধারিত হচ্ছে দর-কষাকষিতে। পছন্দের গন্তব্যে যেতে চালকদের অনীহা, মিটারে চলতে অস্বীকৃতি এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি—সব মিলিয়ে অটোরিকশা সেবায় শৃঙ্খলার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। গ্যাস সরবরাহে সংকটের সময় বাড়তি ভাড়া নেওয়া শুরু হলেও পরিস্থিতির উন্নতির পরও তা কমেনি। বরং গ্যাসের দাম বাড়ার অজুহাতে অনেক চালক একই পথে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি চাইছেন। এর সঙ্গে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে বাড়ছে সড়কের বিশৃঙ্খলা।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মের দুর্বল প্রয়োগ, নজরদারির অভাব এবং ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থায় অসংগতিই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। এতে যাত্রীদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ভাড়া নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ যাত্রী: রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদিয়া থেকে গুলশান-২ যেতে আগে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া লাগত। এখন চালকেরা ৩৫০ টাকা পর্যন্ত চাইছেন। দর-কষাকষির পরও অনেকে ৩২০ টাকার নিচে যেতে রাজি হন না।

মেরাদিয়ার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ব্যবসায়িক কাজে প্রায় প্রতিদিন গুলশান-২ এলাকায় যেতে হয়। আগে ২৫০ টাকায় যাওয়া যেত, শুক্রবার সকালে রাস্তা ফাঁকা থাকলে ২০০ টাকাতেও সম্ভব হতো। এখন একই পথে ৩৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

একই এলাকার মিঠু চৌধুরী জানান, তেজগাঁও যেতে আগে ২৫০ টাকা লাগলেও এখন ৩০০ টাকা চাওয়া হয়। ফেরার পথে ইউলুপ ঘুরে আসার কথা বলে কোনো কোনো চালক ৩৫০ টাকা দাবি করেন।

রামপুরার বাসিন্দা জুয়েল বলেন, রামপুরা থেকে বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন সদর দপ্তরে যেতে আগে ৩০০ টাকা লাগত। এখন চালকেরা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা চান। বসুন্ধরা সিটি থেকে খিলগাঁওয়ের তালতলা রুটে আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা লাগলেও এখন ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে জানান যাত্রী আশরাফুল ইসলাম। তার ভাষ্য, প্রায় ২০ দিন ধরে ৪৫০ টাকার নিচে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, বনশ্রী, রামপুরা, বাড্ডা, বসুন্ধরা, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি। তবে এসব রুটে ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সমন্বিত সরকারি জরিপ পাওয়া যায়নি।

গ্যাসের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া: গ্যাস সরবরাহে সংকটের সময় রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক চাহিদামতো গ্যাস পাননি। এতে কর্মঘণ্টা কমেছে, বেড়েছে আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা।

খিলগাঁও এলাকার চালক আবু বকর বলেন, গাড়ির দৈনিক জমা প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। গ্যাস নিয়ে সারা দিন গাড়ি চালানোর পরও আয় কম হলে সংসার চালানো কঠিন। এ কারণে আগে যে পথে ২৫০ টাকা নিতেন, এখন ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা নিচ্ছেন। রামপুরার চালক আতাউরের দাবি, গ্যাসের সরবরাহ ও যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি না নিলে খরচ মেটানো কঠিন।

তবে সিএনজি ও অটোগ্যাস আলাদা জ্বালানি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে। এ মূল্যবৃদ্ধিকে সিএনজির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা থাকলেও তা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করে না।

সড়কে বিশৃঙ্খলা, নজরদারির ঘাটতি: ভাড়া নিয়ে অনিয়মের পাশাপাশি যাত্রীর গন্তব্য পছন্দ না হলে যেতে না চাওয়া, মিটারে চলতে অস্বীকৃতি এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। ব্যস্ত সড়ক ও মোড়ে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে সড়কের কার্যকর জায়গা কমে গিয়ে অন্য যানবাহনের গতি বাধাগ্রস্ত হয়।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিটারভাড়া কার্যকরের নির্দেশকে কেন্দ্র করে অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্যকে সড়কে সুশাসন ও শৃঙ্খলার ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার মতে, কার্যকর সুশাসন না থাকলে আইন অমান্য করে মিটার ছাড়া চলাচল এবং যাত্রীর কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩৫(৩) ধারায় নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় না করার বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মিটারভাড়ার বেশি আদায়কারী চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মহানগর পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু চালকদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের মুখে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাটি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা জারির পাশাপাশি ধারাবাহিক প্রয়োগ ও তদারকির গুরুত্ব তুলে ধরে।

প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থা: রাজধানীর অটোরিকশা সেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে মিটারভাড়া কার্যকর করা, মিটার সচল রাখা এবং নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও গন্তব্যে যেতে অস্বীকৃতির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সহজে অভিযোগ জানানো ও দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

ব্যস্ত সড়ক ও মোড়ে নির্ধারিত স্থানের বাইরে অটোরিকশা দাঁড়ানো বন্ধে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, দৈনিক জমা ও যানজটে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা বিবেচনায় নিয়ে চালকদের পরিচালন ব্যয় পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

চালকদের ন্যায্য আয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়ায় নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়ার অধিকারও রক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর নজরদারি, আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং চালক-মালিক-যাত্রীর স্বার্থের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই রাজধানীর অটোরিকশা সেবায় শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রধান শর্ত।


নির্বাচিত

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ ফেরত দাবি শেকৃবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শেকৃবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি নিজেদের দাবি করে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। পরে প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করে মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি।’ তাদের দাবি, এরশাদ সরকারের আমলে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাঠটি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন তারা। তবে আমলারা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

তারা বলেন, ‘ওই মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে রাজধানীর পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’ পাশাপাশি কৃষি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির সংকট আরও বাড়বে। তাই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মাঠটি ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সেখানে সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়েছে।’ দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচি থেকেও মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তাদের দাবি, কৃষি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।


নির্বাচিত

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: ডিসি ফরিদা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, স্বাধীন জীবনযাপন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি বলেন, ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা করুণার পাত্র নন, তারা সমাজের সমান অধিকার ও মর্যাদার অধিকারী নাগরিক। তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপদ চলাচল ও স্বনির্ভর জীবনযাপনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ২০০টি সাদা ছড়ি বিতরণ করা হয়।

‘আলোকিত ডিজএবল্ড স্বনির্ভর সোসাইটি’ ও ‘প্রগতি প্রতিবন্ধী মানবকল্যাণ সংস্থা’-এর প্রতিনিধিদের হাতে এসব সাদা ছড়ি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠন দুটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা কোনো মানুষের মেধা, যোগ্যতা, স্বপ্ন কিংবা সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করতে পারে না। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন সংগ্রাম, সাহস ও আত্মবিশ্বাস সবার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের প্রতি শুধু দয়া বা অনুকম্পা নয়, ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।’

সাদা ছড়িকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি তাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। তবে শুধু সাদা ছড়ি বিতরণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ ফুটপাত, বাধামুক্ত চলাচলের পথ, প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহজে সেবা পাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় চলাচল, যানবাহনে ওঠানামা কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।’

ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নাগরিক সেবা গ্রহণ সহজ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, ‘সরকারি সেবা নিতে গিয়ে তারা যেন বৈষম্য, অবহেলা কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়।


নির্বাচিত

১০০ ফিট সড়কের ৯০ ভাগই বেদখলে, যান চলাচলে ভোগান্তি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নতুন বাজার-মাদানী অ্যাভিনিউ সড়কটি নামেই ১০০ ফিট। বাস্তবে সড়কটির বড় একটি অংশ হকারদের দখলে থাকায় যান চলাচলের জন্য ১০ ভাগও অবশিষ্ট নেই। ফুটপাত ও সড়ক দখল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এ পথে চলাচলকারী মানুষ। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এখন যানজটের পাশাপাশি জননিরাপত্তার ঝুঁকিতেও পরিণত হয়েছে।

সড়কের বিভিন্ন অংশে হকাররা এক বা দুই সারিতে সীমাবদ্ধ না থেকে কোথাও কোথাও তিন থেকে চার সারিতে দোকান সাজিয়ে বসেছেন। এতে মূল সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

সড়কের পাশাপাশি ফুটপাত ও পথচারীদের চলাচলের জায়গাও দখল হয়ে গেছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে কিংবা মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিসহ সব শ্রেণির পথচারীর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সন্ধ্যা ও রাতে মানুষের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

এদিকে, সড়কটিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব যানবাহনের চালকদের অনেককে হঠাৎ লেন পরিবর্তন, উল্টো পথে চলাচল, যেখানে-সেখানে থামা এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য মূল সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে যানজটের পাশাপাশি যানবাহনের সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের সমস্যা। সড়কের দুই পাশে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও সংযোগস্থলের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। একদিকে হকারদের দখলে ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশ, অন্যদিকে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং—দুইয়ে মিলে যান চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, একই স্থানে হকারদের তিন থেকে চার সারির দোকান, অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল এবং সড়কের পাশে পার্ক করা যানবাহন একসঙ্গে থাকায় কোনো কোনো অংশে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও যাত্রী ও পথচারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারীরা প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের স্থায়ী জট ও সংকুচিত চলাচলের জায়গা অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অন্য জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। কোনো জরুরি প্রয়োজন বা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে স্থানীয়দের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্থানীয়রা গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিকে দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।


নির্বাচিত

banner close