ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের পূর্বঘোষিত ৬ ঘণ্টায় শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় পূর্বঘোষিত ছয় ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটির কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের আন্তরিক সহযোগিতায় এটি করতে পেরেছি। আমি নগরবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আগামী দিনেও ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে জনগণ ও সিটি করপোরেশনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
সোমবার ঈদের দিন যারা কোরবানি দিতে পারেননি তাদেরকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই কোরবানি সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
মেয়র আরও বলেন, ‘অনেকে সন্ধ্যার পর এমনকি রাতেও কোরবানি দিচ্ছেন। তারা আমাদের হটলাইন ১৬১০৬ নম্বরে ফোন করে জানাবেন। আমাদের কর্মীরা বর্জ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে।’
সোমবার বেলা ২টায় ডিএনসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত মিরপুর সেকশন-২ ব্লক-এইচ রোড নম্বর ৬-এ বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
দুপুর ২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে রাত ৮টায় নির্ধারিত ৬ ঘণ্টায় সব ওয়ার্ডের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করে ডিএনসিসি।
ডিএনসিসির সব ওয়ার্ড থেকে ঈদের দিন রাত ৮টা পর্যন্ত ২১০১ ট্রিপে প্রায় ১০ হাজার ৩৭৪ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।ডিএনসিসির বর্জ্য বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫৪টি ওয়ার্ডের সব এলাকার শতভাগ বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।
ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং সরাসরি তদারকি করেন। দুপুর ২টায় মিরপুরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে মিরপুর এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি কালশী, বনানী, গুলশান, হাতিরঝিল, মধুবাগ, মগবাজার, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, বাড্ডা, বারিধারা প্রগতি সরণিসহ উত্তরা এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম রাত ৮টা পর্যন্ত সশরীরে পরিদর্শন করেন।
এছাড়াও ডিএনসিসির দশটি অঞ্চলের তদারকির জন্য দশজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে দশটি গ্রুপ গঠন করা হয়। ১০টি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ অন্যান্য বিভাগীয় প্রধানগণ। দশটি গ্রুপ ডিএনসিসির দশটি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণে ১০ হাজারের অধিক কর্মী কাজে নিয়োজিত ছিল। গুলশান নগর ভবনে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের হট লাইন নম্বর ১৬১০৬।
পরিদর্শন শেষে ডিএনসিসি মেয়র বর্জ্য বিভাগকে এবং তদারকির জন্য গঠিত দশটি গ্রুপকে মঙ্গলবারও কোরবানির বর্জ্য দ্রুত সময়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম, সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফিদা হাসান, ডিএনসিসির সব বিভাগীয় প্রধান ও ডিএনসিসির কাউন্সিলর এবং অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরাণীগঞ্জে পৃথক অভিযানে একটি ‘উগ্রবাদী সংগঠনের’ চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)।
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচর থানার তারা মসজিদ সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ইমরান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কেরাণীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে তার ছোট ভাই মোস্তাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর এলাকা থেকে রিপন হোসেন শেখ ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে ডিবি-রমনা বিভাগের সদস্যরা।
এনএম নাসিরুদ্দিন বলেন, অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শ্যুটারগান, ১৪ রাউন্ড গুলি, তিনটি গুলির খোসা, একাধিক স্মার্টফোন, ডিভিআর, ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশ, মাল্টিফাংশনাল চার্জার, মেটাল ডিটেক্টর, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং উগ্রবাদী মতাদর্শ সংশ্লিষ্ট বই উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিজ বাড়ির আঙিনার মতো পুরো ঢাকা শহরকেও পরিচ্ছন্ন ও সবুজে সুশোভিত করে সাজিয়ে তুলতে চান জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতাই পারে ঢাকাকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’তে রূপান্তর করতে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ মোড়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সড়কের মিডিয়ান ও ফুটপাতে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেছেন।
প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গড়ার স্বপ্নের অংশ হিসেবে এই সড়কটিকে একটি ‘আইডিয়াল ও মডেল রাস্তা’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে এই সড়কে বিভিন্ন আকৃতির ৫৪টি নান্দনিক ফুলের টব স্থাপন করা হয়েছে। এসব টবে বাগান বিলাস, রঙ্গন, অলোকানন্দা, পর্তুলিকা ও কামিনীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হবে।
ফুটপাত দখল ও গাছ নষ্ট হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন বা পুলিশের পক্ষে সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা একদিকে গাছ লাগাব আর অন্য কেউ তা ছিঁড়ে ফেলবে— এমনটি হলে সুফল আসবে না।
নগরবাসীকে শপথ নিতে হবে যে, ডাস্টবিন ছাড়া কোথাও আবর্জনা ফেলব না এবং পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল থাকব।’ তিনি নগরবাসীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ জানান।
আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এক মাসের মধ্যে বর্তমান প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। পরবর্তী ধাপে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা ও লেক-কেন্দ্রিক নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
রাজধানীর ডেমরায় আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় কালি তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার ফাইটারসহ দুজন দগ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন ওই কারখানার কর্মচারী মো. সুজন (২২) ও ফায়ার ফাইটার মো. নাঈম হোসাইন (২৮)। সুজনের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামে। বাবার নাম মো. সুরুজ্জামান মিয়া। তিনি ওই কারখানার মেশিন অপারেটরের কাজ করেন। আর নাঈম হোসাইন বঙ্গবাজার ইউনিটের ফায়ারম্যান হিসেবে কর্মরত।
হাসপাতালে সুজনের সহকর্মী মো. সোহেল জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকার ‘ইমো রোটো ফ্লেক্সি প্যাক’ নামের কালি তৈরির কারখানার ভেতরে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখান থেকে সুজন দগ্ধ হন। পরে তাকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান বলেন, ‘ডেমরার আমুলিয়া থেকে ওই কারখানার কর্মচারী ও এক ফায়ারম্যান আমাদের এখানে এসেছে। সুজনের ৬০ শতাংশ ও ফায়ার ফাইটার নাঈমের ডান পায়ে সামান্য দগ্ধ হয়েছে।’
এর আগে, আগুন লাগার খবরে দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস। বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুলিশের পেশাগত দক্ষতার উন্নয়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৯টি অ্যাপ-সফটওয়্যার উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে পুলিশের মাহপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির সফটওয়্যারের উদ্বোধন করেন।
এসব সফটওয়্যার ও অ্যাপে নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুলিশের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইজিপি বলেন, সফটওয়্যারের আওতায় পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, পুলিশ আরও জনবান্ধব হবে, কমবে অপরাধ।
উদ্বোধন হওয়া সফটওয়্যার ও অ্যাপের মধ্যে রয়েছে–এআই বেজড রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ভায়োলেশন ডিটেকশন সিসটেম, হোটেল বোর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম, হ্যালো ডিএমপি অ্যাপ, ডিএমপি অনলাইন ট্রেনিং সিস্টেম, ডিএমপি রেসিডেন্স অ্যালোকেশন সিস্টেম, ডিএমপি লিভ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ডিএমপি ট্রাফিক ডিউটি ডিস্ট্রিবিউশন সফটওয়্যার, ডিএমপি এমপ্লয়ি পারফর্মেন্স ইভ্যালুয়েশন সফটওয়্যার এবং ডিএমপি ট্রাফিক নিউজ আর্কাইভ। এগুলোর মধ্যে হ্যালো ডিএমপি অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি পুলিশের সেবা গ্রহণ করতে পারবেন এবং অভিযোগ জানাতে পারবেন। অ্যাপটি বিভিন্ন পুলিশি সেবার তথ্য ও লিংকও সরবরাহ করবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেবার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কমিশনার) মো. সরওয়ার বলেছেন, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ গড়ে তুলতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই। নতুন সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তে ‘এআইএস রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট ভায়োলেশন ডিটেকশন সিস্টেম’ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটালভাবে মামলা প্রক্রিয়া পরিচালনা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে। বুধবার বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘ঢাকার নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং পুলিশের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নয়টি সফটওয়্যার, অ্যাপ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা শহরের প্রায় ৭০টি স্থানে সড়ক ও ক্রসিং উন্নয়ন করে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্পিড ক্যামেরা, ভিডিও মামলা, ডিজিটাল ডাটাবেজ সংযুক্তি এবং ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘হ্যালো ডিএমপি’ অ্যাপ, সিটিজেন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ভেহিকল ট্র্যাকিং, সাইবার সাপোর্ট সেন্টারসহ একাধিক ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ১১ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নাগরিকদের পাঠানো ভিডিও যাচাই করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও কার্যকর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ভবনে আজ রাজধানীর যানজট নিরসন ও জনভোগান্তি লাঘবে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ‘বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান মালিক ফেডারেশন’-এর নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভ্যানকে চলাচলের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট তীব্রতর হচ্ছে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
সভায় ফেডারেশনের নেতারা জানান, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার দাপটে প্যাডেল চালিত রিকশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে অনেক চালকই প্যাডেল চালিত রিকশা চালাতে আগ্রহী নন। ফলে কিছু মালিক লাইসেন্সযুক্ত প্যাডেল রিক্সার কাঠামোতে ব্যাটারি সংযুক্ত করেছেন। তারা দাবি করেন, লাইসেন্সকৃত যেসব প্যাডেল রিকশায় ব্যাটারি যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোকে নতুন নীতিমালার আওতায় বৈধতা প্রদান করার জন্য। এছাড়া, ঢাকা শহরের স্থায়ী রিক্সা মালিক ও চালক ব্যতীত মৌসুমি রিকশা চালক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়।
সভায় প্রশাসক বলেন, "রিকশা ঢাকার ঐতিহ্য হলেও বর্তমানে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিক্সা নাগরিকদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।" সরকার অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "নগরীর শৃঙ্খলা ফেরাতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সরকার নীতিমালা তৈরি করছে। নীতিমালায় জনভোগান্তি ও জীবিকা নির্বাহ দুটি বিষয়কেই ভারসাম্য করা হবে।"
তিনি জানান, "নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডিজাইন, গতি ও নিরাপত্তা বিশিষ্ট নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা রাস্তায় চলবে, যাতে রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।" এ সময় ঢাকা শহরের বাইরে থেকে যারা অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা শহরের প্রকৃত রিকশা চালক ও মালিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর সবুজবাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. মোবারক হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে সবুজবাগের বাসাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বাসাবো খেলার মাঠসংলগ্ন একটি শৌচাগারের (টয়লেট) দক্ষিণ পাশের দেয়ালের নিচ থেকে মোবারকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোবারকের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনায়। তার বাবার নাম মঙ্গল মিয়া। সম্প্রতি তিনি ঢাকায় এসে পূর্ব বাসাবো টেম্পোস্ট্যান্ড এলাকায় থাকছিলেন। আগে তিনি নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করলেও বর্তমানে কোনো পেশায় যুক্ত নেই।
মোবারকের ভাগনে সুমন ইসলাম বলেন, দেড় মাস আগে গ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন তার মামা। পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত ছিল। সকালে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, বৈদ্যুতিক তার কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক তার কাটার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে এসব ব্যক্তিদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শরীফ আহাম্মেদ রেজা ওরফে পাপেল নেওয়াজ (৩৫), মোছা. কাকলী আক্তার (৩২), মো. ফারুক হোসেন (৩৬), মো. রফিকুল ইসলাম (৩০), মো. আব্দুল কাদের দেওয়ান (৪১), মো. সালমান হোসেন (২৬), রাসেল মিয়া (২৬), মোসা. শিল্পী বেগম (৩৭), মো. মেহেদী হাসান (২৫), মোছা. রহিমা (২৪), মো. মোশারফ হোসেন (৪২), হোসাইন আলী (২০), মো. সোহেল (২৫), মো. লিমন মিয়া (২৫), মো. রাজু আহম্মেদ (২২), মো. মিজান (২৪), মো. সায়েম (৩০), মো. সম্রাট (১৯), মো. আলী (২০), মো. সালাম (২৫), মো. আনোয়ার হোসেন (২১), মো. মাহবুব আলম (২০), মো. আব্দুল জলিল (৪৫), মো. জাফরুল ইসলাম (২২), মো. তাজবীর আহমেদ (২০), মো. সম্রাট (১৮), মো. মোফাজ্জল হোসেন (৪৭), মো. রাসেল (৩৮), মো. ওবায়দুর রহমান বাবু (২৬), মিলন শেখ (২৬), মো. ফরিদ হোসেন, মো. শুভ হাওলাদার (২২), মো. বাবুল হোসেন (২৫), মো. আলমগীর (২৬), মো. ইমরান গাজী রতন (৩৩), মো. ফয়সাল (২৯), মো. ছাব্বির হোসেন (২০), মো. ইয়াছিন হোসেন (৩১), মো. মেহেদী হাসান (২৫), মো. আল আমিন (২৯), নাজমা আক্তার শিল্পী ওরফে বিবি মালিকা (২০), সুমি সরকার ওরফে সীমা (৪৫), সাবিনা (৪৫), মো. রুবেল মিয়া (৩০), মো. মাঈন উদ্দিন (২৮), আনোয়ার হোসেন রাজু (২৯), মো. সাগর (২৫), মো. জামিল হোসেন (২৮), মো. কাজল (৩০), মো. সাব্বির ওরফে কাইচ্যা সাব্বির (৩৮), সঞ্জয় চন্দ্র দাস (৩১), মো. ইমন, মো. আলমগীর (৩৮), মো. রমজান (১৯), মো. ইয়াছিন দেওয়ান (১৯), মো. শাকিল (২৩), মো. ইব্রাহিম (২২), মো. মনিরুল আলম রিজু (২৩), মো. মাছুম (২২), মো. খায়রুল (২৫), মো. সাব্বির হোসেন (১৯), মো. মহসীন (২৯), মো. রাব্বি (২২) ও আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত একজন শিশু।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা ২৩ জন, শেরেবাংলা নগর থানা ১৩ জন, আদাবর থানা ১০ জন, তেজগাঁও থানা ১০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পাঁচ জন ও হাতিরঝিল থানা তিন জন রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তেজগাঁও বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ২১ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ৪ জন, আদাবর থানায় ৮ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৬ জন ও হাতিরঝিল থানায় ১০ জন রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৫০০ প্যাকেট আর্ট কার্ড, মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ৩ হাজার ৫ শত ২০ টাকা এবং তিনটি পুরাতন ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ধর্ষণের অভিযোগে রাশেদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, রাব্বি একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’। মাত্র দুই মাসে অন্তত ১৩ তরুণীকে ব্লাকমেইল ও ধর্ষণ করেন তিনি। আর ভুক্তভোগী সবাই স্কুল-কলেজপড়ুয়া। এমনকি, তার বর্তমান স্ত্রীকেও ট্র্যাপে ফেলে বিয়ে করেছেন এই যুবক। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে রাব্বিকে আটক হয় বলে জানান তিনি।
ডিসি জানান, আটক রাব্বি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে একটি ফেক আইডি তৈরি করে এবং মেয়ে কণ্ঠে কথা বলে একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কৌশলে তার মোবাইলটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর ওই ফোনে লগইন করা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও সিম ব্যবহার করে নারী কণ্ঠে কথা বলে ভুক্তভোগীর বন্ধু তালিকায় থাকা স্কুল ও কলেজের ছাত্রীদের টার্গেট করেন। নারীকণ্ঠে কথা বলে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পর উপহার দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যেতেন। সেখানে তাদের জোর করে ধর্ষণ এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতেন।
পরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। ধারণকৃত অশ্লীল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বা পর্ন সাইটে আপলোড করার হুমকি দিয়ে আবারও ভুক্তভোগীদের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন এবং নিয়মিত টাকা আদায় করতেন।
আহসান উদ্দিন সামী বলেন, গত শুক্রবার দুপুরে এক ভুক্তভোগীকে ফ্যামিলি মিট-আপের কথা বলে ওই নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যান রাব্বি। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ডার্ক পর্ন সাইট ও টেলিগ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য নিয়মিত চাপ দিতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, গত সোমবার পোশাক ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলে এক ভুক্তভোগীকে যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ি মোড়সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবনের চতুর্থ তলায় ডেকে নেয়। সেখানে তাকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় এবং তার মোবাইল ও নগদ টাকা লুটে নেওয়া হয়। এছাড়া গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় আরেক ভুক্তভোগীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার মোবাইল, নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়।
যাত্রাবাড়ী থানায় এক ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের সামনে অভিযান চালিয়ে রাব্বিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীদের পাঁচটি মোবাইল জব্দ করা হয়। আটক রাব্বির বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা করা হয়েছে জানিয়ে ওয়ারী বিভাগের ডিসি বলেন, গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত রাব্বির বিরুদ্ধে ১০টি অভিযোগ পেয়েছি। আর ১০টা ঘটনায় একই ধরনের। আর সব ভুক্তভোগী মিরপুর এলাকায়। অন্য কোথাও এ ধরনের কাজ করছে কি না জানার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, রাব্বি যে নারীকে বিয়ে করেছে, তাকেও একই কায়দায় ট্র্যাপে ফেলে বিয়ে করেন তিনি। গত দুই মাসেই এ ধরনের ১৩টি ঘটনা ঘটিয়েছে। সব ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ফুটপাত নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিনের দখল, ময়লা ও দুর্গন্ধের পরিবর্তে এখন চোখে পড়ে ফুলের টব, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ এবং দেয়ালজুড়ে রঙিন গ্রাফিতি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এই দখলমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, "রাজধানী ঢাকা বাংলাদেশের মুখমন্ডল। একে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করতেই আমরা এই নান্দনিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন এবং সাংবাদিকসহ সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় আমরা এই সুন্দর পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে চাই।"
হকার ও জনদুর্ভোগ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "রাস্তায় যত্রতত্র ব্যবসা করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। তবে আমরা হকার ও রিকশাওয়ালাদের প্রতি অমানবিক হতে চাই না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা জনভোগান্তি দূর করার পাশাপাশি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। ফুটপাতে অস্থায়ী ব্যবসা করতে হলে সিটি কর্পোরেশন থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। বর্তমানে আমরা পুলিশের সহযোগিতায় এলাকাভিত্তিক হকারদের তালিকা তৈরি করছি। তালিকা সম্পন্ন হলে নির্দিষ্ট এলাকায়, নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্দিষ্ট সংখ্যক হকারকে বসার অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া আমরা 'হলিডে মার্কেট' ও 'নৈশকালীন মার্কেট' চালুর পরিকল্পনা করছি। আমরা কাউকে উচ্ছেদ নয়, পুনর্বাসন করতে চাই।"
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবন থেকে চানখাঁরপুল পর্যন্ত প্রায় ১৩৫০ ফুট এলাকায় দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে এবং ৫৫০টি ফুলের টব ও ৬৫০টি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া অপেক্ষমাণ স্বজনদের জন্য ৫০টি বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পাহাড়ের আদলে ২টি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে শহরের অন্যান্য ব্যস্ত ফুটপাতেও একই ধরনের সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ গত ২৪ ঘণ্টায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, এলাকার অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাংলা নববর্ষের উৎসবে রাজধানীর রমনা পার্কের চিরচেনা পান্তা-ইলিশের আয়োজনে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। একসময় বৈশাখ বরণের দিনে পার্কজুড়ে সারি সারি অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশ বিক্রির মহোৎসব চললেও এবার সেই ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যটি একেবারেই অনুপস্থিত ছিল।
ঢাকাবাসীর নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই উদ্যানে এ বছর কোনো ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী খাবারের দোকান লক্ষ করা যায়নি। তবে পার্কের ভেতরে অবস্থিত স্থায়ী রেস্তোরাঁগুলোতে এই ঐতিহ্যবাহী খাবার পাওয়া গেলেও তার দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মাত্র এক টুকরো ছোট ইলিশ মাছসহ এক প্লেট পান্তা ভাতের মূল্য রাখা হচ্ছে ৬০০ টাকা, যা নিয়ে উৎসবে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু রমনা পার্কেই নয়, রাজধানীর অন্যান্য প্রধান এলাকাগুলোতেও এবার অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশের পসরা চোখে পড়েনি। মূলত মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া পাইকারি বাজারে মাছের অতিরিক্ত দামের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এবার বৈশাখী আয়োজনে দোকান দিতে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। মূলত চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের জন্য পান্তা-ইলিশ এবার কেবল ব্যয়বহুল বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।