রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শফিকুর রহমান (৬০) ও ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক দম্পতির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৪তলা ভবনের নীচ তলার গাড়ি পার্কিং এলাকা থেকে শফিকুর রহমান ও দোতলার শোবার ঘর থেকে তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কোনাপাড়া এলাকার মোমেনবাগের বটতলার বাড়ি থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষযে প্রাথমিকভাবে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি কি পরিকল্পীত হত্যাকাণ্ড না কি ডাকাতি সে বিষয়েও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি।
পুলিশ জানান, শফিকুর রহমান জনতা ব্যাংকের সাবেক গাড়িচালক ছিলেন। নিহত দম্পতির ছেলে ইমন পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) উপপরিদর্শক হিসেবে চাকরিরত। নিহত শফিকুর রহমান মোমেনবাগের আড়াবাড়ি বটতলায় এলাকায় নতুন ৪তলা বাড়ি করেছেন। ভবনের দুই তলায় তারা থাকতেন আর নিচতলায়, তিনতলা ও চার তলায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এই দম্পতির ছেলে ইমন ও তার স্ত্রী একই বাসায় থাকেন। কিন্তু বুধবার ইমন দাদাবাড়ি ফেনীতে চলে যান এবং তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান।
পুলিশ আরও জানায়, সকালে ৭টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার নিচতলার গাড়ি পার্কিং এলাকায় শফিকুরের গলাকাটা লাশ দেখতে পায়। তার মাথায়ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে দোতলায় গিয়ে শোবার ঘরে মশারির ভেতর স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনের লাশ পাওয়া যায়। তার মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে সকাল ৭টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এসে পার্কিংয়ে শফিকুর রহমান ও দোতলায় শোবার ঘরে স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তাদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শফিকুর ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার সময় ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে থাকতে পারে। পরে দোতলায় গিয়ে তার স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। বাসার নিচের গেট ও দোতলায় ঘরের দরজা খোলা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, কি কারণে স্বামী-স্ত্রীকে এভাবে হত্যা করা হলো জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন টিম আলামত সংগ্রহ করেছে। এছাড়া, পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থলে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দুজনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ডিএমপির ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড না ডাকাতি তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বাসার আলমারি খোলা পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছি। তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ জানা যাবে।
রাজধানীতে দ্রুত গতির একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। গত রোববার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মগবাজার ওয়্যারলেস গেটসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন-নড়াইল সদর উপজেলার মধুরগাতি ফকিরপাড়া গ্রামের ইলিয়াস ফকিরের ছেলে জামান আহমেদ এবং একই গ্রামের লিয়াকত ফকিরের ছেলে রিয়াদ হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত গতির একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে থাকা দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে কলাতিয়া খাল ও ব্রিজের নিচে দীর্ঘ সময় ধরে পুঞ্জীভূত হয়ে থাকা ময়লার স্তূপ অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের বিশেষ সেবা ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে অভিযোগ দাখিলের পরপরই এই ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেল থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ এই তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবরণ থেকে জানা যায়, গতকাল রোববার ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে প্রাপ্ত জনদুর্ভোগের এই অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে আবর্জনা অপসারণের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলার ফলে খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হয়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পথচারীদের যাতায়াতে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানে দাবি জানালেও ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের হস্তক্ষেপে অতি দ্রুতই এর স্থায়ী সুরাহা হয়েছে। অভিযোগ গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সক্রিয় হয়ে খালের ময়লা সরিয়ে এলাকাটি সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, জনসাধারণের বিবিধ সমস্যা ও অভিযোগ দ্রুততম সময়ে নিস্পত্তির লক্ষ্যেই এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম গণমাধ্যম-কে বলেন, ‘নাগরিকদের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ময়লার স্তূপের বিষয়টি অভিযোগের মাধ্যমে আমাদের নজরে আসার পর সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে সেখানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে।’
তিনি জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। কেউ যেন যত্রতত্র ময়লা না ফেলেন, সে বিষয়ে স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে। ‘হ্যালো ডিসি’র মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সমাধানের এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সই করা এক আদেশে তাদের বদলি করা হয়।
আদেশে বলা হয়, গোয়েন্দা রমনা বিভাগে বদলির আদেশপ্রাপ্ত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আল আমিন হোসাইনকে বাড্ডা জোনে, ট্রাফিক-তেজগাঁওয়ে বদলির আদেশপ্রাপ্ত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এহসানুল কামরান তানভীরকে ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে, সহকারী পুলিশ কমিশনার জিয়াউল হক শাহকে পেট্রোল-মোহাম্মদপুরে, সহকারী পুলিশ কমিশনার রাকিবুল হাসান সাকিবকে পেট্রোল-উত্তরা-পূর্বে, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল্লাহকে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-উত্তররের ওয়েববেজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে, পেট্রোল-উত্তরা-পূর্বের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমানকে অপারেশনস বিভাগের ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার-৩ এ এবং পিওএম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহিবুল ইসলামকে লজিস্টিক বিভাগের অস্ত্রাগারে বদলি করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, গত ৬ আগস্ট মোতাবেক ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার তানিয়া সুলতানার বদলির আদেশ বাতিল করা হলো।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কর্তৃক পরিচালিত গত চব্বিশ ঘণ্টার নিয়মিত অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৫০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রবিবার (৯ আগস্ট) ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ৩৫টি মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন বিভাগ ভিত্তিক অভিযানে মিরপুর এলাকায় সর্বাধিক ১৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিল বিভাগে ৭২ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৫ জন এবং গুলশান বিভাগ থেকে ৪৭ জনকে আটক করা হয়। উত্তরা বিভাগে ৪০ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৯ জন ও রমনা বিভাগে ৩৪ জন পুলিশের জালে ধরা পড়েন। গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ অভিযানে আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ২২ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ, একটি ইলেকট্রিক শর্ট দেওয়ার যন্ত্র, সুইচ গিয়ার, চাকু, হ্যাক্সো ব্লেড, গ্যাস লাইট ও কাঁচি। মাদকদ্রব্যের তালিকায় প্রায় ৩০ কেজি গাঁজা, ২২৫ পিস ইয়াবা, ৩৫ গ্রাম হেরোইন এবং ৪৮ বোতল এস্কাফ সিরাপ (ফেনসিডিল) উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মাদক বিক্রয়লব্ধ ৮,৭৫০ টাকা নগদ অর্থসহ মোবাইল ফোন, পানির মোটর ও মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বলাকা লাউঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ এই আগুন লাগার ফলে মুহূর্তেই পুরো লাউঞ্জ ও আশপাশের এলাকা ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই লাউঞ্জের ভেতরে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
খবর পেয়ে বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত পরিমাণ জানা যায়নি।
ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় রাজধানীর বকশীবাজার এলাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া (আলিয়া মাদরাসা) এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার বকশিবাজার মোড়, আলিয়া মাদরাসা সড়ক ও গেটের সামনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বকশিবাজার মোড়, আলিয়া মাদরাসার সড়ক ও গেটের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মূলত এর আগে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক গ্রুপ আজ আলিয়া মাদরাসায় প্রবেশের ঘোষণার কারনে সংঘর্ষের শঙ্কা থেকে দ্বন্দ্ব মোকাবিলায় ও নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে দুপুর ১২টায় বকশি বাজার মোড়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ব্যারিকেড দেয়া হয়, যাতে কেউ আলিয়া মাদরাসায় যেতে না পারে। এতে ওই সড়কের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আলিয়া মাদরাসার হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর আলিয়া মাদ্রাসার হলগুলো দখলে নেয় ছাত্রদল।
পরবর্তীতে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে হলে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হলে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে মাদরাসা এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানো ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। আমরা তাদের অবজার্ভ করছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা কোনো প্রতিহিংসা নয়। কিন্তু অন্যায়কারীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ঢাবি ভিসি বলেন, ‘কেন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে তারা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইবেন, আমরা জানি না। যদি কেউ রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত হন, তাহলে আইনের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিচার করবেন।’
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আগে সাদা দলের মিটিংয়ে আওয়ামী লীগের শিক্ষকদের নজরদারি ছিল। আমরা কথা বলতে পারতাম না। নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন জাতীয় সংকটে রাস্তায় নেমেছি।’
রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অভিযানে মোট ৪৮৫ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে মহানগরীর বিভিন্ন থানায় ৫০টি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে শুক্রবার তথ্য প্রদান করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ধৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২৫ জন এবং তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৭ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া উত্তরা থেকে ৪৯ জন, ওয়ারী থেকে ৪৬ জন, লালবাগ থেকে ৩৪ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ৩১ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মতিঝিল ও গুলশান বিভাগ থেকে সমানসংখ্যক অর্থাৎ ৫৭ জন করে এবং গোয়েন্দা শাখার অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অভিযান চলাকালে আসামিদের কাছ থেকে ৪ হাজার ২৯৫ পিস ইয়াবা ও ৬১০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করার পাশাপাশি ৮টি মোবাইল ফোন, নগদ ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা এবং ৩টি চাকু, ৩টি লোহার পাইপ, ১টি কাটার ও ১টি লোহার পাতসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য ও অপরাধের আলামতসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ায় ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম সোহেলের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী তারিন আক্তার। ‘মব নাটক’ সাজিয়ে তার স্বামীকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তারিন আক্তার দাবি করেন, গত ২৬ জুলাই বেলা ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ায় বাসার সামনে অবস্থানকালে তার স্বামী খোরশেদ আলম সোহেলের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের অন্যতম সন্ত্রাসীরা হলেন- স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রতন, খোকন, মাসুম, কাউসার, হাবিব, রাফিসহ আরও ২/৩ জন। তারা লোহার রড, পাইপ, ইট, লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার স্বামীর ওপর হামলা চালায়। অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে। একপর্যায়ে তার স্বামী মাটিতে পড়ে যায়। ওই সময় তিনি ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীরা ১টি পিস্তল ও ১টি চাকু সেখানে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় মুগদা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারিন আক্তার দাবি করেন, সন্ত্রাসীদের ফেলে রাখা অস্ত্র আমার স্বামীর নয়। এর আগে বিগত আওয়ামী সরকারের সময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিজ তার স্বামীর ইট-বালু সরবরাহের কাজ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে ৪/৫টি মামলা দিয়ে দেয়। র্যাব ও ডিবিকে দিয়ে তার স্বামীকে গ্রেপ্তারও করায়। কারাবন্দি থাকার পর তার স্বামী ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে এখন স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছিল। সে তার পৈত্রিক ব্যবসা করছিল। এটাই সন্ত্রাসীরা মেনে নিতে পারেনি। অভিযুক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। অবৈধ দাবি না মানায় তার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা এবং পরে ‘মবের নাটক সাজিয়ে’ হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, হামলার পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ফুটেজ সংরক্ষণ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে তা প্রকাশ করলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আসামীরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি নন্দীপাড়ার এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, খিলগাঁওয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রাজধানীর পল্লবীতে এক চায়ের দোকানের সামনে আড্ডাদানের সময় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. আলমগীর (৪৫) এবং জোসনা (৬৫) নামের এক পথচারী নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবী থানার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের ‘বি’ ব্লকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মাথায় ও পিঠে তিনটি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় আলমগীরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যদিকে পায়ে গুলিবিদ্ধ বৃদ্ধা জোসনাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা আলমগীর জানান, পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটে তাদের মাছের আড়তের ব্যবসা রয়েছে এবং লালবাগ-নবাবগঞ্জ রোডে স্থায়ী বাড়ি হলেও পরিবার নিয়ে তিনি মিরপুরেই বসবাস করেন। ঘটনার সময় একটি প্রাইভেট কার থেকে চারজন সন্ত্রাসী নেমে তাকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায় এবং দ্রুত ওই গাড়িতে করেই পালিয়ে যায়। আলমগীরের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে দুজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন, যারা যুবলীগের রুবেল ও বাপ্পী। তবে ঠিক কী কারণে তার ওপর এই হামলা চালানো হলো, তা তিনি বলতে পারেননি।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসী রুবেল ওরফে ‘ল্যাংড়া রুবেল’ আলমগীরকে লক্ষ্য করে এই গুলি চালিয়েছিল, যার ফলে তিনি ও এক পথচারী আহত হন। হামলার পেছনের মূল কারণ উদঘাটন করতে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। বর্তমানে মাছ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকার নিচে নামছে না এবং প্রতি ডজন ডিমের জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকা। গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকার আশেপাশে স্থিতিশীল থাকলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের উচ্চমূল্য। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ক্রেতাসাধারণের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রকার মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় পৌঁছালেও সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি দরে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। পুকুরে চাষ করা মাছের মধ্যে প্রতি কেজি জ্যান্ত পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের মতো মাছগুলোর দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কম থাকা এবং মাছের ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বগতি বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক সংকট তৈরি করছে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনসাধারণের প্রতি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শব্দদূষণ মানবস্বাস্থ্য, জনজীবন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ কারণে এলাকাভেদে শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং মিশ্র এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রা অনুমোদিত।
বিধিমালার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: কোনো উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র বা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করা যাবে না। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি পেলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং ব্যবহারের সময় ৫ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী যেকোনো ধরনের হর্নের উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, বিক্রি, বিতরণ, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ।
নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি পটকা, আতশবাজি বা শব্দদূষণ সৃষ্টি করে, এমন যেকোনো কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না।
প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্য প্রাণীর আবাসস্থলে বেলুন ফোটানো এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে, এমন যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ।
আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত শব্দসৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা যাবে না।
ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তারা ঘটনাস্থলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে বিধিমালার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরো জোরদার করা হচ্ছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে উজ্জল মিয়া নামের ৩২ বছর বয়সি এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারারক্ষী আনোয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন উজ্জল মিয়া। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে বিকেল পৌনে চারটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, মৃত উজ্জল মিয়া কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি হিসেবে ছিলেন। উজ্জল মিয়া ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগার কাপুরিয়া এলাকার শামসুল হকের ছেলে। তবে তিনি কোন মামলায় কারাবন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।