ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভেঙ্গে পড়ে দেশের প্রায় সব থানার কার্যক্রম। বিভিন্ন থানায় পুলিশের ওপর হামলা, লুটপাট-অগ্নিসংযোগ করা হয়। আতঙ্কে থানা ছেড়ে গা-ঢাকা দেন পুলিশ সদস্যরা। এতে সারা দেশের মত রাজধানীর থানাগুলোর সেবা কার্য়ক্রমও মুখথুবড়ে পড়ে।
অবশেষে প্রায় চার দিন পর আজ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ২৯ থানায় সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি থানায় পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় থাকছেন সেনা সদস্যরা।
যেসব থানা কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হামলায় যেসব থানা খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব থানাগুলো এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এসব থানায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার কারণে এমনই পরিস্থিতি যে পুলিশ সদস্যরা থানায় এলেও বসার মতো ব্যবস্থা ছিল না। তাই ডিএমপির ২১ থানায় এখনো কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।
সেবা কার্যক্রম শুরু হওয়া থানাগুলো হলো- গুলশান, তেজগাঁও, রমনা, কলাবাগান, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, কোতোয়ালি, চকবাজার, সূত্রাপুর, ডেমরা, গেন্ডারিয়া, মতিঝিল, সবুজবাগ, শাহজাহানপুর, শেরেবাংলা নগর, হাতিরঝিল, শাহ আলী, কাফরুল, ভাষানটেক, দারুসসালাম, রূপনগর, ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, উত্তরা পশ্চিম, উত্তরখান ও বিমানবন্দর থানা।
আজ সকাল ১১টায় তেজগাঁও থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে জানান সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সেনাবাহিনীর ২৫ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের কোম্পানি কমান্ডার শাখাওয়াত খন্দকার বলেন, সেদিন (৫ আগস্ট) জনমানুষের প্রচণ্ড স্রোত ছিল। তাদের কন্ট্রোল করা তখন ডিফিকাল্ট হয়ে যাচ্ছিল। দুর্বৃত্তরা যেভাবে পুলিশসহ সাধারণ মানুষ হত্যা করছে, তখন আমরা ডিসিশন নিয়েছি থানা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতে হবে। তারা জনগণের সেবক, তাদের আবার রিফর্ম করার সুযোগ কের দিতে হবে। এছাড়াও তেজগাঁও থানায় কয়েকশ’ পরিবার আছে, পুলিশ সদস্যরা আছে। থানায় অনেক অস্ত্র রয়েছে। যেগুলো দুর্বৃত্তদের কাছে গেলে দেশ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তখন আমরা থানার নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা এ এলাকায় পুলিশকে সহায়তার জন্য ছাত্র-শিক্ষক, ব্যবসায়ী, স্কাউট, বিএনসিসি ও আনসার বাহিনীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ বাহিনীকে রিফর্ম করতে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
এ সময় তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে আমাদের পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আজ আমরা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় পুলিশের সব সেবা কার্যক্রম শুরু করেছি। সব নাগরিকের কাছে অনুরোধ, আপনারা থানায় আসুন। আপনাদের সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত।
তেজগাঁও বিভাগে ৬টি থানার মধ্যে ৩টি থানার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন- ক্ষতিগ্রস্ত থানায় স্বল্প পরিসরে কাজ চলছে। এরইমধ্যে থানাগুলোতে অনেক পুলিশ সদস্য কাজে যোগ দিয়েছেন। বাকিরাও আসতে শুরু করেছেন। আমরা আশা করছি দুপুরের মধ্যে আমাদের সব পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে যোগ দেবেন।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, কিছু দিন আগেও আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি। আজ আমাদের অনেক পুলিশ সদস্য কাছে নেই। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমাদের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য আমরা অনেক ভুল করেছি। মানুষ সঙ্গে আমাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আসলে আমরা জনগণের সেবক। আমরা কারো লেজুড়বৃত্তি করতে চাই না। জনগণই আমাদের মূল শক্তি। আপনারা থানায় আসুন। আপনাদের সেবার আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
এদিকে ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডা থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এমনই অবস্থা যে থানায় কাজ করার মত বসার জায়গা নেই। সেনাসদস্যদের মহায়তায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য থানায় এসেছেন। একজন সেনাসদস্য থানার সামনে বসে থানায় আসা পুলিশ সদস্যদের নামের তালিকা করছেন। একজন পরিদর্শকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানা, শিগগিরি তারা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশনায় কাজ শুরু করবেন।
অপরদিকে রাজধানীর শাহআলী থানায় সকাল থেকে পুলিশ সদস্যরা থানায় ফিরতে শুরু করেছেন। সেবা কার্যক্রম শুর করা হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা কাজে যোগদান শুরু করেছেন। পুলিশ সদস্যরা একটা ট্রমার মধ্যে আছেন। তাদের সবাইকে কাজে যোগ দিতে হাজির করাচ্ছি। তবে এখনও থানার সেবা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আসাবাপত্র ও পুলিশের ব্যবহারের গাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু গোছগাছ করা হচ্ছে। দ্রতই সেবা কার্যক্রম শুরু করা হবে। আমরা সবার দোয়া ও সহায়তা চাই।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকা থেকে পাবনা-২ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে (৬৯) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়ার মীনা বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটক খন্দকার আজিজুল হক ২০১৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম জানান, আটকের সময় সামান্য ধস্তাধস্তিতে তিনি সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত থাকায় নিরাপত্তা পাহারার মধ্য দিয়ে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। সার্বিক বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জনগণের অর্থে নির্মিত নতুন সড়ক কোনো সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে পুনরায় কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। নতুন সড়ক না কেটে বিকল্প উপায়ে কাজ সম্পাদন করার জন্য তিনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
সোমবার সকালে ডিএসসিসির আওতাধীন ইনার সার্কুলার রিং রোডের রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে প্রশাসক এ কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে আবদুস সালাম বলেন, “দীর্ঘ ২-৩ বছর ধরে চরম কষ্ট সহ্য করার পর আজ এলাকার মানুষের সামনে একটি নতুন রাস্তা দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু ওয়াসা ‘বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প’-এর আওতায় এই নতুন রাস্তা আবার খুঁড়ে প্রায় ৬ ফুট ব্যাসের পানির লাইন বসাতে চায়। আমরা একাধিক সভা করে তাদের বিকল্প রুট নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছি। জনগণকে পুনরায় ভোগান্তিতে ফেলে এবং জনঅর্থের অপচয় করে আমি এই রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দিতে পারব না।”
প্রকল্পের বিবরণ তুলে ধরে প্রশাসক জানান, ১ হাজার ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪.৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮ লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৪টি লেন এক্সপ্রেসওয়ে এবং ৪টি লেন সার্ভিস রোড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ১০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১০ কিলোমিটার ড্রেন, ৩টি ভেহিকুলার ওভারপাস, ৩টি ফ্লাইওভার, ৮টি স্লুইস গেট, ৬টি বাস-বে এবং ৬টি যাত্রী ছাউনি নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল এবং প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ৮টি টাওয়ার স্থানান্তরের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপের কাজের ভৌত অগ্রগতি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপে লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার বাস ঢাকা শহরের মূল যানজটে না ঢুকে সরাসরি এই রিং রোড ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। ফলে সমগ্র রাজধানীর পাশাপাশি বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকার যানজট নিরসনে আমূল পরিবর্তন আসবে। তাই উন্নয়নকাজের আগেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে আন্তঃসমন্বয় থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লালকুঠির সংস্কার পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবনের মাইলফলক: এর আগে সকালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক লালকুঠি (নর্থব্রুক হল)-এর সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক বলেন, ‘লালকুঠির সংস্কার পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শহর পুনরুজ্জীবনে একটি বড় মাইলফলক। ইনার সার্কুলার রিং রোডের মতো আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো এবং লালকুঠির মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ—দুটিই ঢাকার টেকসই উন্নয়নের অংশ।’
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘ডিসিএনইউপি’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ১ জুন শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক ভবনের মূল সংস্কারকাজ ২০২৬ সালের ৩১ মে সফলভাবে শেষ হয়। ভবনের মূল ঐতিহ্যবাহী চুন-সুরকির গাঁথুনি ও লাল ইটের স্থাপত্য অক্ষুণ্ন রেখেই এটি সংস্কার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে লালকুঠিকে সাহিত্যসভা, চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পাঠচর্চার একটি সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
পরিদর্শনকালে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট, বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জঁ পেমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি মো. আলী আফজালকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সভাপতির পদটি শূন্য ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখার উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে আলী আফজাল ঋণখেলাপি হওয়ায় ২০২২ সালের বাণিজ্য সংগঠন আইনের ২৩ (১)(খ) ধারা অনুযায়ী তার রিহ্যাব সভাপতি পদ শূন্য হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
ওই ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি কোনো বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাহী কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারিবেন না অথবা কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকিতে পারিবেন না, যদি তিনি—ঋণ খেলাপি হন অথবা হালনাগাদ কর, ভ্যাট, শুল্ক পরিশোধ না করিয়া থাকেন। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো পদে নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঋণ খেলাপি অথবা কর খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হইবার তারিখ হইতে ১৮০ (একশ আশি) দিনের মধ্যে উক্ত ঋণ বা কর পরিশোধ না করিলে উক্ত পদ শূন্য বলিয়া বিবেচিত হইবে।
অফিস আদেশটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, এফবিসিসিআই এবং রিহ্যাব কার্যালয়ে সদয় অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে, গত ১৮ এপ্রিল অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের রিহ্যাব নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন আলী আফজাল। প্রগতিশীল প্যানেল থেকে গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান আফজাল ২৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তখনকার বিদায়ী সভাপতি ‘আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের’ ওয়াহিদুজ্জামান পেয়েছিলেন ১৯৩ ভোট।
অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের যথাযথভাবে দাযিত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন তিনি।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং ডিউটির কোনো ঘাটতি না থাকে। সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’
আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা নিয়মিতভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনের সময় যেন এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সে জন্য রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’
মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উত্তম কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার। সভায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনগণের অর্থে নির্মিত নতুন সড়ক কোনো সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে পুনরায় কেটে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। নতুন সড়ক না কেটে বিকল্প উপায়ে কাজ সম্পাদন করার জন্য তিনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
আজ সোমবার সকালে ডিএসসিসির আওতাধীন ইনার সার্কুলার রিং রোডের রায়েরবাজার স্লুইস গেট থেকে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে প্রশাসক এ কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে আবদুস সালাম বলেন, "দীর্ঘ ২-৩ বছর ধরে চরম কষ্ট সহ্য করার পর আজ এলাকার মানুষের সামনে একটি নতুন রাস্তা দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু ওয়াসা 'বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প'-এর আওতায় এই নতুন রাস্তা আবার খুঁড়ে প্রায় ৬ ফুট ব্যাসের পানির লাইন বসাতে চায়। আমরা একাধিক সভা করে তাদের বিকল্প রুট নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছি। জনগণকে পুনরায় ভোগান্তিতে ফেলে এবং জনঅর্থের অপচয় করে আমি এই রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দিতে পারব না।"
প্রকল্পের বিবরণ তুলে ধরে প্রশাসক জানান, ১ হাজার ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪.৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮ লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৪টি লেন এক্সপ্রেসওয়ে এবং ৪টি লেন সার্ভিস রোড হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, ১০ কিলোমিটার ফুটপাত, ১০ কিলোমিটার ড্রেন, ৩টি ভেহিকুলার ওভারপাস, ৩টি ফ্লাইওভার, ৮টি স্লুইস গেট, ৬টি বাস-বে এবং ৬টি যাত্রী ছাউনি নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল এবং প্রায় ৪৮০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ৮টি টাওয়ার স্থানান্তরের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপের কাজের ভৌত অগ্রগতি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এই ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপে লোহার ব্রিজ থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার বাস ঢাকা শহরের মূল যানজটে না ঢুকে সরাসরি এই রিং রোড ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। ফলে সমগ্র রাজধানীর পাশাপাশি বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ ও হাজারীবাগ এলাকার যানজট নিরসনে আমূল পরিবর্তন আসবে। তাই উন্নয়নকাজের আগেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে আন্তঃসমন্বয় থাকা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
লালকুঠির সংস্কার পুরান ঢাকা পুনরুজ্জীবনের মাইলফলক
এর আগে সকালে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক লালকুঠি (নর্থব্রুক হল)-এর সংস্কারকাজ পরিদর্শন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক বলেন, "লালকুঠির সংস্কার পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও শহর পুনরুজ্জীবনে একটি বড় মাইলফলক। ইনার সার্কুলার রিং রোডের মতো আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো এবং লালকুঠির মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ—দুটিই ঢাকার টেকসই উন্নয়নের অংশ।"
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে 'ডিসিএনইউপি' প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ১ জুন শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক ভবনের মূল সংস্কারকাজ ২০২৬ সালের ৩১ মে সফলভাবে শেষ হয়। ভবনের মূল ঐতিহ্যবাহী চুন-সুরকির গাঁথুনি ও লাল ইটের স্থাপত্য অক্ষুণ্ন রেখেই এটি সংস্কার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে লালকুঠিকে সাহিত্যসভা, চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পাঠচর্চার একটি সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
পরিদর্শনকালে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব জোহানেস জুট (Mr. Johannes Zutt), বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব জঁ পেম (Mr. Jean Pesme)-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) অসুস্থ হয়ে পড়া আব্দুল মাবুদ (৫৮) ও আব্দুল বারেক (৭০) নামের দুই কারাবন্দি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
রোববার দুপুরে অচেতন অবস্থায় আব্দুল মাবুদকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল মাবুদের বাবার নাম আব্দুল সোবহান। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হামিমপুর এলাকায়। তবে তিনি কোনো মামলায় কারাগারে ছিলেন সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম জানান, হাজতি আব্দুল মাবুদ কেন্দ্রীয় কারাগারে সকালের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়া আব্দুল বারেক (৭০) নামের এক কারাবন্দি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। গত শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢামেকের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। একই দিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
কারা সূত্রে জানা যায়, তিনি হত্যা মামলায় বন্দি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তার বাবার নাম (মৃত) আব্দুল খালেক।
দুই বন্দির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় মাইনুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে বাসায় ঢুকে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তার ডান পায়ে গুলি লেগেছে।
আহত মাইনুল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বলেন, পূর্বপরিচিত ছোট ভাই মাসুদ আহমেদকে দেখতে তিনি উত্তর বাড্ডায় ময়নারবাগ বউবাজার এলাকায় তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থান করার সময় তামিমসহ তিন থেকে চারজন ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে তামিম তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। তামিমের মুখে মাস্ক ও অন্যদের মাথায় হেলমেট ছিল বলে জানান তিনি।
মাইনুলের দাবি, কিছুদিন আগে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তিন দিন আগে গুলশান এলাকা থেকে আল আমিন নামের একজন ছিনতাইকারীকে ধরার কারণে তাঁর ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারণ, ওই ছিনতাইকারী তামিমের গ্রুপের সদস্য।
মাইনুলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদীতে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে ভাটারা নতুনবাজারের কাজীবাড়ি এলাকায় থাকেন।
এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, রাত দুইটার দিকে মাইনুল গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। আজ তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে যান।
রাজধানীর গুলশান এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মোট ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গুলশানে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে বের হওয়া আকস্মিক মিছিলে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই ৪০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ নম্বরের ভোলা মসজিদের সামনে থেকে কয়েকশ নেতাকর্মী আকস্মিক মিছিল বের করার চেষ্টা চালান। সে সময় পুলিশ তাঁদের প্রতিহত করতে গেলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ পাল্টা দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছেন এবং পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে তাঁদের প্রতিহত করছে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাউদ হোসেন জানান, শুক্রবারের ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামতসহ আরও পাঁচটি তাজা ককটেল উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যাপক তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে মিছিলে অংশগ্রহণকারী বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মস্তক ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করা ক্ষতবিক্ষত খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে আদাবর ১০ নম্বর সড়কের হাক্কার মোড় এলাকা থেকে প্রায় দশটি টুকরো করা অবস্থায় এই মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়।
বর্বরোচিত এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিকভাবে ওই নারীর কাটা মাথা ও দুটি হাত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটন এবং শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধারে পুলিশের একটি দল কাজ করছে এবং সার্বিক তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
রাজধানীর শাহবাগ এলাকার পৃথক দুটি স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ভবঘুরে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ। শনিবার দুপুর বারোটার দিকে জাতীয় ঈদগাহের প্রধান ফটক সংলগ্ন ফুটপাত এবং কদম ফোয়ারা মোড় এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬৫ ও ৪৫ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ও জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন ফুটপাত থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী তাঁরা ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় অসুস্থতাজনিত কারণেই তাঁদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত ব্যক্তিদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর গুলশান এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার সকালে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন।
পুলিশের এই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার গুলশানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের যে ঝটিকা মিছিলটি বের করা হয়েছিল, তাতে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) পিএস পরিচয় দিয়ে জালিয়াতির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আটক হওয়া মাসুদুর রহমান (৩৪) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গত দুই দিন ধরে একটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাপ দিয়ে আসছিল।
গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আটক করে আনসার সদস্যরা। বাহিনীটির সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সে ওই কর্মকর্তার পিএসকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোমার নামে অনেক রিপোর্ট আছে, তোমাকে দেখে নেব।’
বিষয়টি সেখানে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির মুখোমুখি হন। তার পরিচয় ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও প্রতারণার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে বনানী থানা পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রতারককে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। আনসার বাহিনীর পিসি মো. সাহাবউদ্দীনের নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এপিসি জালাল উদ্দীন, আনসার মনিরুল ইসলাম ও আনসার শ্রী পূর্ণ রায়।
ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি সুপারশপের সামনে থেকে রাব্বী নামে (২৬) এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে কেউ হত্যা করে থাকতে পারে। শুক্রবার সকালে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবকের বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজু আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে সনটেক এলাকার একটি সুপারশপের সামনের সড়ক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাব্বির বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে, তা জানা যায়নি।’
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ শনাক্তকরণ দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে বলে জানান ওসি রাজু আহমেদ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকার শনির আখড়ায় থাকতেন রাব্বি। তিনি যাত্রাবাড়ীতে তার বাবার সঙ্গে মাছের আড়তে কাজ করতেন।