দেশে চলমান ভয়াবহ বন্যায় বন্যার্তদের সহায়তার জন্য টিএসসিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণ ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া র্যাবের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুঃস্থ মানুষদের উদ্ধার কাজ করা হচ্ছে।
শনিবার র্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক এএমএম ইমরান খান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ডুবে গেছে ফেনী জেলার অধিকাংশ এলাকার বাড়ি ঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলে বন্যায় বিপর্যস্থ লাখ লাখ পানিবন্দি মানুষ অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে।
গতকাল বন্যার্তদের সহায়তার জন্য র্যাবের পক্ষ থেকে ২ হাজার প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী (চিড়া, মুড়ি, গুড়া দুধ, মোমবাতি, এনার্জি বিস্কুট, পাটি, লাইটার, গুড়, চিনি, খেজুর, মশার কয়েল ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট) টিএসসিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণ ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছাত্রজনতার কাছে প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া বন্যা পরিস্থিতির শুরু থেকেই র্যাবের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ওষুধ, খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
গতকাল শুক্রবার ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচশতাধিক বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি ফেনীর পশুরাম সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে র্যাব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ১ জন গর্ভবতী মহিলা ও ২ জন নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করে অক্সিজেন সাপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ্য করে তাদেরকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পানিবন্দীদের র্যাবের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি র্যাবের সকল পদবীর সদস্যদের এক দিনের বেতনের সমপরিমান অর্থ বন্যার্তদের সহায়তার জন্য প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান, উদ্ধার কার্যক্রমসহ যে কোন মানবকি সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতারণা ও চুরির সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তাদের দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপে প্রতারণার চেষ্টা ব্যর্থ করা এবং চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বেলা ১ টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জোনের রমনা থানার অধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ০২ নম্বর (বাগান গেইট) প্রবেশপথ এলাকা থেকে রনি আহাম্মদ (৩৮) নামের এক প্রতারক চক্রের সদস্যকে স্বর্ণের বার সদৃশ পিতলের বার প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয়। পরে একই দিন আনুমানিক ২ টায় হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে বেলাল মিয়া (২৫) নামের আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অভিযানে ডিউটিরত এপিসি মোঃ সুজাত মোল্লা এবং আনসার সদস্য ইমরান, আল আমিন ও সুজন দায়িত্ব পালন করেন।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আটককৃত দুই অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রতারনার দায়ে আটক ব্যক্তির নাম রনি আহাম্মদ (৩৮), পিতা: মোঃ রুহুল আমিন, গ্রাম: জামতলা বাজার, ডাকঘর: নান্দাইল, থানা: নান্দাইল, জেলা: ময়মনসিংহ। অপরদিকে চুরির দায়ে আটক ব্যক্তির নাম বেলাল মিয়া (২৫), পিতা: সাদেক মিয়া, গ্রাম: পিরফ হাট মাস্টারপাড়া, ডাকঘর: পিরফ, থানা: শিবগঞ্জ, জেলা: বগুড়া।
উল্লেখ্য, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের সম্পদের সুরক্ষায় আনসার সদস্যরা সর্বদা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের এই তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীতে যানবাহনের চাপ কম থাকা এবং অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বায়ুদূষণের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশ্বের ১২২টি দেশের মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়, শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তানের লাহোর।।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার প্রকাশিত বায়ুগুণমান সূচক অনুযায়ী, শীর্ষে উঠে আসা লাহোরের বায়ুর মান ৪১০, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ মানদণ্ডে পড়ে।
এ ছাড়া ৩৪৯ স্কোরে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকার বাতাসও আজ ‘দুর্যোগপূর্ণ’।
তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে ভারতের কলকাতা ও দিল্লি, যার স্কোর হচ্ছে যথাক্রমে ১৮৫ ও ১৮৪। এ ছাড়া ১৭৭ স্কোরে নেপালের কাঠমাণ্ডু পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান।
সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ঢাকা প্রায় প্রতিদিনই বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষ স্থানে ছিল এবং মার্চের শুরুতেও সেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে জনবহুল ও নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে ধুলোর প্রকোপ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।
ভয়াবহ এই দূষণ থেকে বাঁচতে আইকিউএয়ার নগরবাসীকে জরুরি পরামর্শ প্রদান করেছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে দূষিত বায়ু প্রবেশ ঠেকাতে জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টর কবরস্থান রোড মেম্বার বাড়ির পাশে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা হলেন— রুবেল (৩০), তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), এনায়েতে ভাগনি আয়েশা (১৯) ও আবুল কালাম রুবেল (৩৫)।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে মেম্বার বাড়ির পাশে আবুল কালামের মালিকানাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বাসায় রাইড শেয়ারিং চালক রুবেল সপরিবারে বসবাস করেন। তার চাচাতো ভাই এনায়েত সম্প্রতি দুবাই থেকে দেশে ফিরে গ্রাম মাদারীপুরের শিবচর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রুবেলের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন।
একই ভবনে বসবাসরত একজন বলেন, ভোরে বিকট শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের ভেতরে থাকা ১০ জনই দগ্ধ হন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম সিদ্দিক জানান, ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনোভাবে গ্যাসের পাইপ থেকে লিকেজ হয়ে ঘরে গ্যাস জমে ছিল এবং ভোরে আগুন জ্বালাতে গেলেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বার্ন ইনিস্টিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, আমাদের এখানে ১০ জন রোগী এসেছে, তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সোনিয়ার শরীরের শতভাগ, মো. রুবেলের ৩২ শতাংশ, রোজার ১৮ শতাংশ, মো. হাবিরের ১৯ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, এনায়েতের ৪৫ শতাংশ, দোলানা খাতুনের ১৪ শতাংশ, জোনায়েদের ২৪ শতাংশ, আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ, ও আবুল কালাম রুবেলের শরীরের সাত শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বাসার লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিজার বা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর ২৫ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট এ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির সভাপতি হলেন চীফ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এ কে এম সাইদুল ইসলাম (খোকন) ও সাধারণ সম্পাদক হলেন সিনিয়র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মোঃ সোহরাব হোসেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং তারিখে বিএমইউর সম্মানিত প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানা যায়।
নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হলেন মোঃ সফিকুর রহমান (সুমন)। সহ-সভাপতি হলেন মোঃ মতিউর রহমান, মোঃ রফিকুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন মোঃ আব্দুল মোমিন সরকার। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন মোঃ সাইফুল্লাহ খালেদ, মোঃ নেছার উদ্দিন। সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন মোঃ ওবায়দুর রহমান (নীরব)। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন মোঃ শাহ আলম। অর্থ সম্পাদক হলেন মোঃ লোকমান হাকিম (হিমেল)। সহ-অর্থ সম্পাদক হলেন মোঃ আরিফুর রহমান। দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ মারুফ ভূঁইয়া। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হলেন মোঃ এম এম সুমন। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হলেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ মিয়া, সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহীম খলিল সুমন। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক তাহমিনা তাহের (তানিয়া), সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস। কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন মোছাঃ আফরোজা খাতুন, মোঃ আব্দুল হাই, মোঃ আরিফুল ইসলাম ও মোঃ নজরুল ইসলাম।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম। নগর ভবন অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ রাসেল রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি ডিএসসিসি এলাকায় মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসকের নির্দেশে এই বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়। সভায় মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মশক নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "মশা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা, ব্যর্থতা বা দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।" তিনি আরও জানান, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তিনি নিজেই সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। আগামীকাল থেকে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০ দিনের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে, যেখানে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
সভায় মশক কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং বর্তমান ওষুধের বিকল্প হিসেবে নতুন কার্যকর ওষুধের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো স্থাপনায় মশার উৎপত্তিস্থল পাওয়া গেলে এবং বারবার সতর্ক করার পরও ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসক।
উক্ত সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, কর্পোরেশন সচিব মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সকল বিভাগীয় প্রধান, আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর সিটি কর্পোরেশন, ব্যবসায়ী ও হকারদের সমন্বিত সভার মাধ্যমে পরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর রোড করিডোরের নিউমার্কেট এলাকায় ডিএসসিসি’র নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক ফুটওভার ব্রিজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তারা যৌথভাবে এই ঘোষণা দেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ রাসেল রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ৯,৭৭,৬২,২৫৮.৫৯ (নয় কোটি সাতাত্তর লক্ষ বাষট্টি হাজার দুইশত আটান্ন দশমিক পাঁচ নয়) টাকা ব্যয়ে এই দৃষ্টিনন্দন ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (DEW)। ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত নির্মাণকালীন সময়ের এই প্রকল্পটি আর.সি.সি এবং স্টিল স্ট্রাকচারের সমন্বয়ে অত্যন্ত মজবুতভাবে তৈরি করা হয়েছে। ৪২ মিটার দীর্ঘ এবং ২০ ফুট প্রশস্ত এই ব্রিজে পথচারীদের, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের যাতায়াত সহজ করতে চলন্ত সিঁড়ি (Escalator) যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ সিটির ফুটওভার ব্রিজগুলোর মধ্যে বর্তমানে একমাত্র এই ব্রিজটিতেই স্কেলেটর সুবিধা বিদ্যমান। এছাড়া বিকল্প হিসেবে দুই পাশে ৭ ফুট প্রশস্ত সাধারণ সিঁড়ি এবং ক্রেতাদের সুবিধার্থে ব্রিজের পূর্ব পাশে নূর ম্যানশন ও পশ্চিম পাশে নিউ সুপার মার্কেটের সাথে সরাসরি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। রাতের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনে এতে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক লাইটিং ব্যবস্থা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী জনাব শেখ রবিউল ইসলাম এম. পি. বলেন, “৩১টি মার্কেট পরিবেষ্টিত নিউমার্কেট অত্যন্ত জনাকীর্ণ এলাকা হওয়ায় এই ফুটওভার ব্রিজটি জনসাধারণের যাতায়াতের ভোগান্তি বহুলাংশে লাঘব করবে। তবে জনস্বার্থে নির্মিত এই ব্রিজে কোনো অবস্থাতেই অবৈধ হকার বা দোকান বসতে দেওয়া হবে না।” শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর সর্তকতা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনকল্যাণ ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ডিএসসিসি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে।” তিনি নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পবিত্র রমজানে আপনারা ক্রেতাদের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় করবেন এবং মার্কেট এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট থাকবেন।”
বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে মোট ৩১টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এর বাইরে মগবাজার পুরাতন রমনা থানার সন্নিকটে আরও একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলমান আছে। পাশাপাশি পরিবাগ, সোবাহানবাগ, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, বলাকা ও হাটখোলার মোড়সহ মোট ৭টি ব্রিজ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিক ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহারের ফলে নিউমার্কেট এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন হবে এবং পথচারীরা নিরাপদে রাস্তা পারাপার হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রথম সারিতেই নাম উঠে আসছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার। বৈশ্বিক এই প্রেক্ষাপটে আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একটি আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান বর্তমানে তৃতীয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ২২২ রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিবেশগত মানদণ্ডে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সময়ে ৩১৬ স্কোর নিয়ে দূষণের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। লাহোরের এই বায়ুমানকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতের রাজধানী দিল্লি ২২৫ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, যার বাতাসও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের আরেক শহর কলকাতার বাতাসে দূষণের মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও সেখানকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। ১৮২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা কলকাতার বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বায়ুমান সূচক বা একিউআই-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোরকে ভালো বা নিরাপদ হিসেবে গণ্য করা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে মাঝারি এবং ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। এছাড়া সূচকের মান ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকলে সেই বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। তবে দূষণের মাত্রা যদি আরও বেড়ে ৩০১ থেকে ৪০০ এর ঘরে পৌঁছায়, তবে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমানকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই ঘটনায় মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার নামের আরও তিন শিক্ষার্থীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশান এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের একটি কক্ষে হামলার এই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতদের শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এই হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১২ নম্বর কক্ষে ক্যাম্পাস সংক্রান্ত আলোচনার এক পর্যায়ে আসামিরা নির্জনের ওপর চড়াও হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্জাকের নির্দেশে অন্য আসামিরা চেয়ার দিয়ে নির্জনকে আঘাত করেন এবং রাজ্জাক নিজে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে জনৈক সাবেক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদা দাবির অভিযোগে রাজ্জাক গ্রেফতার হয়েছিলেন।
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে শেওড়াপাড়ার ওই ভবনে আগুন লাগার ঘটনাটি ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে তারা আগুনের খবর পান। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়।"
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরকে চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইমুক্ত রাখতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ, সোয়াট টিম ও ডগ স্কোয়াডের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন আলোচিত ‘রেড স্পট’-এ অভিযান চলছে। বিশেষ করে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় মাদক কারবারি ও অপরাধীদের ধরতে সোয়াট ও প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড নিয়ে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের লক্ষ্য হলো এলাকাবাসীর নিরাপত্তা জোরদার করা, রমজানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি করা।
এর আগে বুধবার রাত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার জুরাইন হুন্ডিগড় এলাকায় লেগুনা ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- মো. আজিজুল ইসলাম (৫৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম (৫৫)।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তাদের নিয়ে আসা পথচারী মো. খোকন বলেন, ‘জুরাইন হুন্ডিগড় এলাকায় লেগুনা ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন গুরুতর আহত হন। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহত মো. আজিজুল ইসলাম প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। তিনি ৩৩/১২ সতীশ সরকার রোড এলাকার থাকেন। তার বাবার নাম এম এ সালাম মৃধা। নিহত সাইফুলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলায়। তার বাবার নাম লোকমান খোন্দকার। বর্তমানে গেন্ডারিয়ার ডি আই টি মসজিদ এলাকার একটি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি পেশায় মোটর পার্টসের ব্যবসা করতেন।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
রাজধানীর আদাবরে একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা ও শ্রমিকদের কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, কারখানার মালিক মুস্তাফিজুর রহমান ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন রোহান খাঁন রাসেল (৩০), মারুফ (৩৫), হাসান (২৩), মো. রায়হান (২২) ও মো. রোমান (২৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আদাবরের মুনসুরাবাদ ১২ নম্বর সড়কে মুস্তাফিজুর রহমানের একটি এমব্রয়ডারি কারখানা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে কারখানার শ্রমিকরা কাজ শেষে বেতন-ভাতা নিয়ে বের হলে অভিযুক্তরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে আতঙ্কিত শ্রমিকেরা আবার কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে হামলাকারীরা সামুরাই, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে কারখানায় প্রবেশ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় শ্রমিক তোফায়েল ও হাফিজ আহমেদ বাধা দিলে তাদের কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে হামলাকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত দুজনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার বিচার দাবিতে গত শনিবার মধ্যরাতে কারখানার শ্রমিকেরা আদাবর থানা ঘেরাও করেন। তারা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রাসেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে রমজানের প্রথম দিনই ইফতারসামগ্রীর বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। ক্রেতা–বিক্রেতার ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে শাহি মসজিদের সামনে সার্কুলার রোডের দুই পাশজুড়ে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী এই ইফতারির বাজার। দাম আগের মতো হলেও কয়েকটি পদের ইফতারির দাম কিছুটা বাড়তি বলে অভিযোগ আছে ক্রেতাদের। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জোহরের নামাজের পরই দেখা যায়, দোকানিরা নানা পদের ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন। হাজারো ক্রেতা সেখানে ভিড় করছেন পছন্দের পদের ইফতারি কিনতে।
প্রতি বছর রমজান মাসজুড়ে এই বাজারে নানা পদের ইফতারি বিক্রি হয়। পুরান ঢাকার বাসিন্দারা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চকবাজারে আসেন পছন্দের ইফতারসামগ্রী কিনতে।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকা থেকে ইফতারি কিনতে এসেছেন আবদুল হক। তিনি জানান, ইফতারির বিভিন্ন পদের দাম আগের মতোই আছে। তবে মুরগি, কোয়েল পাখির রোস্ট এসব আইটেমে দাম কিছুটা বাড়তি চাচ্ছে। আর গরুর আইটেমের দাম আগের মতোই আছে। কিন্তু এই দাম আমার কাছে কিছুটা বাড়তি মনে হয়েছে।
আবদুল হক অভিযোগ করেন, শুরুতে দাম যেমনই থাকুক, অনেক সময় ক্রেতা বেড়ে গেলে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেন।
ইফতারসামগ্রী বিক্রি করছিলেন মো. জাকির হোসেন। তিনি পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ থেকে এসেছেন। এই বিক্রেতা বলেন, তিনি প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানে ইফতারির বিভিন্ন আইটেম বিক্রি করছেন। তার ভাষ্য, ‘এবার বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক। শুধু মুরগির দাম একটু বেড়েছে, বাকিগুলোর দাম আগের মতোই আছে।’
ইফতারির অন্য পদলোর দাম স্বাভাবিক বলে দাবি করেন এই বিক্রেতা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারসামগ্রীর মধ্যে কোয়েল পাখির রোস্ট বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। চিকেন কাঠি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুরগির রোস্ট প্রতি পিচ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। চিকেন ললিপপ প্রতি পিচ ৫০ টাকা। কাঠি কাবাব ৬০ টাকা পিস এবং চিকেন বল ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
নান–রুটির মধ্যে দুধ নান ৬০ টাকা, স্পেশাল বাদাম নান ৮০ টাকা এবং গারলিক নান ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ভারী আইটেমের মধ্যে খাসির লেগ প্রতি পিস ৮০০ টাকা। গরুর সুতি কাবাব কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা ও খাসির সুতি কাবাব কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় আইটেম হিসেবে একটি আস্ত খাসির কাবাবের দাম ১০ হাজার টাকা হাঁকছেন বিক্রেতারা।
মো. সালেহ নামের এই বিক্রেতা ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য আস্ত খাসির কাবাব প্রদর্শনে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘সবাই কিনবে এমন না, কিন্তু দেখতেই মানুষ ভিড় করছে।’
এ ছাড়া গরুর কালা ভুনা প্রতি প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং চিকেন তাওয়া প্যাকেট ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
চকবাজারে ইফতারি কিনতে এসেছেন নিউমার্কেটের দোকানি মামুন হোসেন। তিনি জানান, প্রথম রমজান উপলক্ষে তিনি তার দোকানের সব কর্মচারীকে চকবাজারের ইফতারি খাওয়াবেন।
মামুন হোসেন বলেন, ‘প্রথম রমজানের ইফতারি কিনতে এসেছি। দাম আগের মতোই মনে হয়েছে। কিছু আইটেমে সামান্য বেশি দাম চাচ্ছে, তবে মোটের ওপর আগের মতোই আছে। ঐতিহ্যের কারণে চকবাজার থেকেই ইফতারি নেওয়ার আলাদা আনন্দ আছে।’
রমজানজুড়ে প্রতিদিনই দুপুর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।