দেশে চলমান ভয়াবহ বন্যায় বন্যার্তদের সহায়তার জন্য টিএসসিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণ ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া র্যাবের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গর্ভবতী নারী, শিশু ও দুঃস্থ মানুষদের উদ্ধার কাজ করা হচ্ছে।
শনিবার র্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক এএমএম ইমরান খান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ডুবে গেছে ফেনী জেলার অধিকাংশ এলাকার বাড়ি ঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলে বন্যায় বিপর্যস্থ লাখ লাখ পানিবন্দি মানুষ অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে।
গতকাল বন্যার্তদের সহায়তার জন্য র্যাবের পক্ষ থেকে ২ হাজার প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী (চিড়া, মুড়ি, গুড়া দুধ, মোমবাতি, এনার্জি বিস্কুট, পাটি, লাইটার, গুড়, চিনি, খেজুর, মশার কয়েল ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট) টিএসসিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণ ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছাত্রজনতার কাছে প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া বন্যা পরিস্থিতির শুরু থেকেই র্যাবের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ওষুধ, খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়।
গতকাল শুক্রবার ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচশতাধিক বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি ফেনীর পশুরাম সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে র্যাব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ১ জন গর্ভবতী মহিলা ও ২ জন নবজাতক শিশুকে উদ্ধার করে অক্সিজেন সাপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ্য করে তাদেরকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পানিবন্দীদের র্যাবের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি র্যাবের সকল পদবীর সদস্যদের এক দিনের বেতনের সমপরিমান অর্থ বন্যার্তদের সহায়তার জন্য প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান, উদ্ধার কার্যক্রমসহ যে কোন মানবকি সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে আরও ৪০১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় বিভিন্ন থানায় ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য জানান।
নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৪৪ জন, লালবাগ বিভাগে ২৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪১ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৩১ জন, মিরপুর বিভাগে ১১৯ জন, গুলশান বিভাগে ৪৭ জন ও উত্তরা বিভাগে ৩৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ২৫ হাজার ১০৯ পিস ইয়াবা, ২০ কেজি ৯৫০ গ্রাম গাঁজা, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ১৫টি বাঁশের তৈরি মশাল, ৮৩টি মোবাইল ফোন, আওয়ামী লীগের স্লোগানসংবলিত একটি ব্যানার, পাঁচটি প্ল্যাকার্ড, একটি হাইস গাড়ি, ৬ হাজার ৬০০টি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে ডিএমপি জানিয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মানিকনগর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা ও প্রজনন স্থান ধ্বংসে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ডিএসসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএসসিসি কর্তৃক বারবার সচেতন ও সতর্ক করার পরও অবহেলা করায় অভিযানে ৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ অপরাধে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫টি মামলায় সর্বমোট ৩১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি, লার্ভা পাওয়া স্থানগুলো লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই বিশেষ মশকনিধন অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বাচলের নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান। এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির খান, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মহাখালী টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বাচলের নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় যানজট কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মহাখালী বাস টার্মিনালটি ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। টার্মিনালের ভেতরে আনুমানিক ৪০০টি বাস রাখার স্থান থাকলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বাস সেখানে আসা-যাওয়া করে। ফলে মূল সড়কে বাস পার্কিংসহ পুরো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি, রাজউক, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে রাজউকের মালিকানাধীন প্রায় ১০ একর জমিতে অস্থায়ী বাস ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, এ উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকারের নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হলো। এর ফলে মহাখালীকেন্দ্রিক যানজট বহুলাংশে কমবে এবং ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ, রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর সফল বাস্তবায়ন রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস স্থানান্তর কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আজ বুধবার রাজপথে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘোষিত ‘লংমার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে। বুধবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দুপুর হতে উত্তরা, মিরপুর এবং সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ দেশের ৫৯টি জেলায় নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার পরপরই বিক্ষোভের ডাক দেন। ঢাকার উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সমবেত হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও সায়েন্সল্যাব এলাকায় সড়ক আটকে দেওয়া হয়, যার ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁরা শাহবাগ ও অন্যান্য পয়েন্টে জড়ো হয়ে সম্মিলিতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করবেন।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলও বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এই কঠোর অবস্থান রাজধানী জুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে প্লাবিত ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলের পানিবন্দী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে গুলশান সোসাইটি। আজ ১৪ই জুলাই, ২০২৬ (রোজ মঙ্গলবার) সোসাইটির নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় চরম সংকটে থাকা মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে তাৎক্ষণিক খাদ্য সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। খাবার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, মহাসচিব মজিবুর রহমান মৃধা এবং সোসাইটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
খাবার বিতরণ কর্মসূচি চলাকালে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্য্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, "জলাবদ্ধতার কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই সংকটের মুহূর্তে অভুক্ত ও পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নাগরিক ও নৈতিক দায়িত্ব। গুলশান সোসাইটি সবসময় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।"
তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, "পানিবন্দী মানুষের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জরুরি খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি তাদের এই কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে। সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংগঠনকেও এই দুর্যোগে সহায়তায় এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।"
গুলশান সোসাইটির সদস্যবৃন্দের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পানিবন্দী মানুষের হাতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়। সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,জলাবদ্ধতার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং আক্রান্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে না ফেরা পর্যন্ত তাদের এই ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অটোরিকশার ধাক্কায় নওরীন নামে তিন বছর বয়সি এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাড়ে ৫টার দিকে বেগুনবাড়ি মসজিদ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুর বাবা মো. নাজিম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। তারা বেগুনবাড়িতে থাকেন। তিনি পেশায় রিকশাচালক আর শিশুটির মা শিরিন আক্তার গৃহিণী। তাদের একমাত্র সন্তান নওরীন।
বিকেলে বাবা-মা দুজনের হাত ধরে বাসার সামনে বের হয়েছিল। তখন বাবার হাত থেকে ছুটে রাস্তা পার হওয়ার জন্য দৌড় দেয় শিশুটি। সঙ্গে সঙ্গে একটি অটোরিকশা এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ছিঁটকে রাস্তায় পড়লে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় সে।
নাজিম আরও জানান, সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তাদের নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে কার্যকর থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার পাশাপাশি এবার তুলনামূলক সাশ্রয়ী ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা স্থাপনের একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্বল্প ব্যয়ে মহানগরের প্রতিটি প্রান্তকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডিএমপি আশা করছে, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কম খরচে রাজধানীর আরো বেশি এলাকায় নজরদারির আওতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন আরো কার্যকর হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’ ভবিষ্যতে যানজট নিরসনে নতুন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমরা সে দিকটি নিয়েই কাজ করছি। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ নামে একটি নতুন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে ব্যবহৃত এআই ক্যামেরাগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হলেও তা বেশ ব্যয়বহুল। দ্রুততম সময়ে নজরদারির পরিধি বাড়াতে এই নতুন সিস্টেম সহায়ক হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ক্যামেরার দাম তুলনামূলকভাবে কম হলেও আমাদের উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর হবে।’ তাঁর মতে, ‘এসব ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো গেলে আশা করি, ট্রাফিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।’
আধুনিক এই পদ্ধতির প্রতি নগরবাসীর ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমি সবসময়ই নগরবাসীর প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। কারণ আমাদের এআই ক্যামেরার এই নতুন পথচলা মাত্র দুই মাসের হলেও ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নগরবাসী এতটা দৃশ্যমান সহযোগিতা করবেন, শুরুতে তা আশা করিনি। তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং আধুনিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসাও করছেন।’ তিনি মনে করেন, মানুষ এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়ম পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
তবে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু কাঠামোগত অন্তরায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনের মিশ্রণ এবং অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজটের অন্যতম কারণ। এছাড়াও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যানবাহন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার অভাব এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। পথচারীদের অসচেতন আচরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, অনেক ক্ষেত্রে সিগন্যাল না মেনেই মানুষ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন, যা সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শুধু সড়ক ব্যবহারকারী বা পুলিশের ওপর নয়, ট্রাফিক শৃঙ্খলা অনেকাংশে পথচারীদের আচরণগত পরিবর্তনের ওপরও নির্ভর করে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি পয়েন্টে যেখানে দিনরাত যানবাহনের প্রবল চাপ থাকে, সেখানে বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আনিছুর রহমানের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান ছাড়া মেগাসিটির এই বিশাল ট্রাফিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করে ‘দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ’ স্লোগান দিতে থাকেন।
বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা সাইন্সল্যাব এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে ওই রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’—এমন সব দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছিল।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা নজিরবিহীন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতিকে তোয়াক্কা না করে পরীক্ষা নেওয়ায় অনেককে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কিংবা দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে।
এদিকে সাইন্সল্যাবের পাশাপাশি রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দলে দলে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের এই ঝটিকা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাইন্সল্যাব ও এর আশপাশের সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত উত্তরা ও সাইন্সল্যাব উভয় স্থানেই শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
টানা কয়েক দিনের বর্ষণের অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোদ ওঠার কারণে আজ দিনের তাপমাত্রা গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে জনজীবনে গরমের অস্বস্তি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে মেঘের ফাঁক দিয়ে রোদ থাকলেও কোথাও কোথাও বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। গতকাল অর্থাৎ সোমবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে সারাদেশের জন্য দেওয়া আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা ভাড়ার বকেয়া মাত্র ১ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. স্বপন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত স্বপনের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার তাহের ফকির কান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মান্নান। তিনি আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন এবং কসমেটিক্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম জানান, তারা দুই ভাই সাবলেটে বসবাস করতেন। বাসার বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি রিজভী মাস শেষ হওয়ার আগেই ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দিতেন। চলতি মাসের ভাড়ার মধ্যে এক হাজার টাকা বকেয়া ছিল। রোববার (১২ জুলাই) রাতে রিজভী ওই টাকা চাইলে তারা দু-এক দিনের মধ্যে পরিশোধ করবেন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিজভী তাদের গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিমের অভিযোগ, রাতের ঘটনার পর সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহান তাদের কক্ষের সামনে এসে আবারও বকেয়া ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর তার ভাই স্বপনকে কিলঘুষি মারতে মারতে টেনে হিঁছড়ে কোয়ার্টারের সামনের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে স্বপনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার প্রকৃত বিবরণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পাশে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের পেছনের ফুটপাত থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে পৃথক দুটি স্থান থেকে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেক) পেছনে ফুটপাত অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন এক ব্যক্তি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। পরে ঢামেক হাসপাতালের নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী জানান, সকালে খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় ওই যুবককে জরুরি বিভাগের পেছনে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আইয়ুব আলী জানান, যুবকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এখনো তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। তার নাম পরিচয় জানার জন্য এরই মধ্যে সিআইডির ক্রাইমসিনকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বেলা ১১টার দিকে অমর একুশে হলের ফুটপাত থেকে দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় করা হয়। পরে ঢামেকে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদেরকেও মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার উপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে তারা অমর একুশে হলের ফুটপাত থেকে দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ব্যক্তিদের বয়স আনুমানিক ৫০ ও ৬০ বছর।
এসআই বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকদের জিজ্ঞেস করে আমরা ওই ব্যক্তিত্বদের নাম পরিচয় জানতে পারিনি। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের নাম পরিচয় জানার জন্য ইতোমধ্যেই সিআইডির ক্রাইমকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন জানালে রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর আদালত জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন। আহমেদ জোবায়েরের আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন জানান, গত ১৮ জুন থেকে তিনি কারাগারে বন্দী রয়েছেন। মামলায় অন্য আসামিরা জামিনে থাকলেও কেবল জোবায়েরকেই কারাগারে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সমনের নির্দেশ অমান্য করে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ১৭ জুন আহমেদ জোবায়েরসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরদিন ১৮ জুন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে ওই দিনই মামলার অন্য তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়।
গত ১০ মে সৈয়দ আসাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকার আদালতে এই মামলাটি করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত আসামিদের ১৭ জুনের মধ্যে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন। নির্ধারিত সময়ে আসামিরা হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহতের নাম শাহিদা বেগম (৬৮)। তিনি যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার অনাবিল হাসপাতাল রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনের সাত তলায় ভাড়া থাকতেন। নিহত ওই নারীর বাড়ি কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার সীতলাই গ্রামে। তিনি মৃত শফিকুল ইসলাম সরকারের স্ত্রী ছিলেন।
রোববার সকালে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাজু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের একটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি বলেন, আমরা এ বিষয়ে এখনো তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। আমরা বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে তদন্ত করছি এবং আমাদের কয়েকটি টিম অভিযান পরিচালনা করছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর যেকোনো সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার বাসায় প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা করে তার বাসায় থাকা স্বর্ণের দুই সেট কানের দুল একটি গলার চেইন ও ৫০০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।