শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩১ মাঘ ১৪৩২

রাজধানীতে বেপরোয়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা

নিয়মকানুন মানার বালাই নেই, সড়কে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা   
ছবি: সংগৃহীত
সৈয়দ ইকবাল 
প্রকাশিত
সৈয়দ ইকবাল 
প্রকাশিত : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২১:৪৯

রাজধানীর সিপাহীবাগ এলাকা। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্যামে বসে আছে মানুষ। এমনিতেই রাস্তা সরু, তার মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাস্তার দুই পাশে পার্ক করে যাত্রী ওঠানামা করছে। রাস্তার মাঝখানে যে জায়গা রয়েছে তা দিয়ে কোনোভাবেই দুই দিকের গাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারছে না। ফলে সৃষ্ট হচ্ছে জটলা, জ্যামের। এটা এই এলাকার নিত্যদিনের ঘটনা বলে জানান স্থানীয় মোবারক মিয়া। পেশায় তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর একরাশ অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন তিনি। বললেন, ‘এটা দেখার কেউ নেই। এখানে এই চিপা রাস্তার মধ্যে ব্যাটারির অটোরিকশাগুলো দুই পাশে পার্কিং করে রাখে। ফলে রাস্তা দিয়ে কোনোভাবেই গাড়ি চলাচল করতে পারে না। অফিস টাইম আর সন্ধ্যা বেলায় ভয়াবহ জ্যাম লাগে এখানে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় এখানে।’

শুধু সিপাহীবাগ বাজার এলাকার চিত্রই নয়। এ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন নগরের এক অন্যরকম এক আতঙ্কের নাম। সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ি, বাসাবো, বৌদ্ধ মন্দির, মুগদা, সিপাহীবাগ, মানিকনগর, মান্ডা, সায়েদাবাদ, কোনাপাড়া, বসিলাসহ এই এলাকাতেই হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। আর তো রয়েছেই শহরের অন্যান্য এলাকার চিত্র। এটার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নতুন নতুন গাড়ি প্রতিনিয়ত নামানো হচ্ছে রাস্তায়। কোনো নিয়মকানুন নেই।

তবে খবর নিয়ে জানা গেছে, নগরীর নিম্ন এলাকাগুলোয় এই ব্যাটারিচালিত রিকশা নামানোর ব্যাপারে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয় না। যেমন- গুলশান-বনানী কিংবা বারিধারায় চাইলেই এসব গাড়ি হুট করে নামানো যায় না; কিন্তু যাত্রাবাড়ি, সায়েদাবাদ, মুগদা, মানিকনগর, মান্ডা কিংবা সিপাহীবাগের মতো এলাকাগুলোতে যে কেউ যখন-তখন নামিয়ে ফেলতে পারে এসব রিকশা। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এসব এলাকায় আরও যানজট বাড়ছে, বাড়ছে রাস্তায় বিশৃঙ্খলাও। অথচ, নিয়ম রয়েছে রাস্তার হিসাব করে যেকোনো নামানো বিষয়টি। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যেন রাস্তায় নামানোই এখন সহজ একটি প্রক্রিয়া।

রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকা, লালবাগ, হাজারীবাগ, আজিমপুরসহ ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর এবং উত্তরাতেও ব্যাপক সংখ্যক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা যায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিন রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকদের বেপরোয়া চলাচলে প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। কিছু কিছু ঘটনা আলোচনায় আসছে। বাকি অনেক ঘটনা জানতেও পারছে না মানুষ।

সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে রিকশার সংখ্যা কত, এর সঠিক কোনো তথ্য কোনো সংস্থার কাছে নেই। ডিএসসিসি এলাকায় অবৈধ প্রায় ৪ লাখ রিকশা রয়েছে। ডিএনসিসি এলাকায়ও অবৈধ রিকশার সংখ্যা ৪ থেকে ৫ লাখ হবে বলে মনে করছেন ডিএনসিসি সংশ্লিষ্টরা। নতুন করে ঢাকায় যেসব রিকশা নামানো হচ্ছে, এর মধ্যে বড় একটি সংখ্যা ব্যাটারিচালিত। শারীরিক কষ্ট লাঘব করতে রিকশাচালকরা ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। এ জন্য রিকশার মালিকরাও রিকশায় ব্যাটারি যুক্ত করছেন।

জানা গেছে, এসব রিকশা থেকে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। যা স্থানীয় থানাসহ রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতা-কর্মীরা ভাগ পেয়ে থাকে।

এদিকে একটা সময় ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো নগরীর প্রধান সড়কে ওঠানোর বিষয়ে বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়মের কোনো বালাই নেই বললেই চলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, দেদার ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো নগরীর প্রধান সড়কে চলার পাশাপাশি তা বিভিন্ন ফ্লাইওভারেও উঠে যাচ্ছে যেনোতেনোভাবে এসব রিকশা চলার ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা।

এদিকে এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছু ইতিবাচক মন্তব্য দিয়েছেন। তাদের মতে, এসব গাড়ির কারণে মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে এটা ইতিবাচক দিক। তবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। কেননা একজন চালককে জানাতে হবে- তার কোন রাস্তায় কীভাবে চলাচল করতে হবে। রাস্তায় চলাচলের একটা নিয়ম-নীতি রয়েছে। তাকে সেই শিক্ষাটা দিতে হবে।

ঢাকা শহরের মতো দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন রাস্তার বিষফোড়া। এলাকার ভেতরের রাস্তায় এসব রিকশা চলাচলের কথা থাকলেও এগুলো সব সময় মহাসড়কে উঠে আসে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নিয়ন্ত্রণ করা যায় না রাজনৈতিক কারণেই। কারণ দিনশেষে এ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। যার ভাগ রাস্তার পাতি নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসন পর্যন্ত পেয়ে থাকে।

দেশের অনেক সড়কেই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলে থাকে ধীরগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা গাড়িগুলো। অন্যদিকে, দূরপাল্লার পরিবহনগুলো দ্রুত গতির হয়ে থাকে। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা। সরু রাস্তা ও ধীরগতির অবৈধ যানবাহনের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্ভোগও।

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করা এই রিকশার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এটাই এখন বড় প্রশ্ন? শুধু অভিযান চালিয়ে অবৈধ রিকশার দাপট বন্ধ করা যাবে না বলে মন্তব্য নগর পরিকল্পনাবিদদের। তাই প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ। খবর নিয়ে জানা গেছে, ইজিবাইকগুলো রুট পারমিট ছাড়াই রাস্তায় চলাচল করছে।

চার্জ দিতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ট্রাফিক বিভাগের কাছে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও পুরো দেশজুড়েই চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। ধারণা করা হয় এ সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকাসহ দেশের জেলা শহরগুলোতে চলাচল করছে। সারা দেশে এই অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও তিন চাকার অটোবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের খরচ হচ্ছে। সাধারণত একটি ইজিবাইক চালানোর জন্য চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। আর প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৯০০ থেকে ১১০০ ওয়াট হিসেবে পাঁচ থেকে ছয় ইউনিট (দিনে বা রাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা) বিদ্যুৎ খরচ হয়। সে হিসেবে এক লাখ ইজিবাইক বা ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জের জন্য জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন অন্তত ১১০ মেগাওয়াট এবং মাসে ৩৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ গ্যারেজ চুরি করে ও লুকিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব ব্যাটারি রিচার্জ করায় সরকার বিদ্যুতের বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রিকশাগুলোর ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য গড়ে উঠেছে বেশ কিছু গ্যারেজ। এসব গ্যারেজে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো চার্জ দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। গ্যারেজের মালিকরা প্রতিটি রিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য দৈনিক ৪০ টাকা নিয়ে থাকেন। নিয়মানুযায়ী গ্যারেজগুলোতে বাণিজ্যিক মিটার থাকার কথা। কিন্তু গ্যারেজের মালিকরা বাড়ির পাশে গ্যারেজ গড়ে তুলে বাড়ির মিটারের সংযোগ থেকেই ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছেন। এতে সরকারের ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশার মালিক নিজের বাড়িতে অথবা গরিব কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর বাড়িতে রাতব্যাপী রিকশার ব্যাটারিগুলো চার্জ দিচ্ছেন। যার অধিকাংশ গ্যারেজেই নিষিদ্ধ এসব অটোবাইকের ব্যাটারি চার্জ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন। অনেক স্থানে চলছে মিটার টেম্পারিংয়ের মতো ঘটনা। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে ইজিবাইক আমদানি বন্ধ ও পুরোনোগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি গত কয়েক বছরেও।

মহাসড়কের আতঙ্ক থ্রি হুইলার

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের শহর ও গ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটো চার্জার ভ্যান, নছিমন, করিমন, ভটভটি, থ্রি হুইলার জাতীয় ইজিবাইক, টেম্পো ও অযান্ত্রিক যানবাহন। নানা পদক্ষেপের পরও বিপজ্জনক এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সড়ক-মহাসড়কে বাধাহীনভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যানবাহন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার মালিকরা আইন মানতে নারাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের শহর-বন্দর-গ্রামের সড়ক ছেয়ে গেছে এসব ব্যাটারিচালিত ‘থ্রি হুইলার’ রিকশা ও ইজিবাইক।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করেন বুয়েটের অধ্যাপক ও গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল হক। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন যেসব গাড়ি যেমন- ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নছিমন, করিমন সেগুলোর বিষয়ে করণীয় কী এগুলো কেউ ভাবছেন বলে মনে হচ্ছে না। প্রতিদিনই এসব গাড়ির জন্য সড়কে দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ। এসব গাড়ির চালকের গাড়ি চালানোর কোনো দক্ষতাই নেই। নেই গাড়ির কোনো নিবন্ধনও। বিআরটিএ এসব গাড়ির বিষয়ে এখনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন বুঝি না। মহাসড়কে ধীরগতির এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন দুর্ঘটনার বড় কারণ। মহাসড়ক সব সময় অবারিত থাকা উচিত। এসব ছোট গাড়ির জন্য আলাদা লেন করতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, সিঙ্গেল সড়কগুলো যখন সরাসরি মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হয় আর আইন করা হয় এসব তিন চাকার যান মহাসড়কে ওঠা নিষেধ, তাহলে বিকল্প রাস্তা প্রয়োজনের জন্য। আর বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা না করে আইন করে কখনোই এসব যানবাহন বন্ধ করা সম্ভব নয়। কেননা ২০০৯ সালে যখন চীন থেকে এসব যানবাহন আমদানি হয়েছে তখনই এ বিষয়ে পরিকল্পনা করা দরকার ছিল। গত ১৫ বছরে কয়েক লাখ মানুষের কর্মনির্ভর করে এখানে। তিনি বলেন, সব মহাসড়কের দুই পাশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্ভিস রোড চালু করতে হবে। এতে মহাসড়ক একদিকে ঝুঁকিমুক্ত হবে এবং থ্রি-হুইলারসহ অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ হবে। আনফিট যানবাহন সরিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত কয়েক বছরে লাখ লাখ অটোরিকশা আমদানি করা হয়েছে। এর অর্ধেকও লাইসেন্স পায়নি; কিন্তু স্থানীয়ভাবে দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা দিয়ে চলছে। ইজিবাইক, নছিমন, করিমন, ভটভটি একই প্রক্রিয়ায় চলছে। তিনি বলেন, মহাসড়ক নিরাপদ করতে হলে জাতীয় সড়ক কাউন্সিলের দেওয়া ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। সিটি সার্ভিসের ৯৮ শতাংশ বাস-মিনিবাস চলাচলের অযোগ্য। আন্তঃজেলা দূরপাল্লার ৪৮ শতাংশ বাস ২০ বছরের বেশি পুরোনো। আনফিট, লক্কর-ঝক্কর যানবাহন সরিয়ে নিতে হবে। তাছাড়া দক্ষ চালকের অভাব রয়েছে। পরিকল্পনা করে মহাসড়কগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন খুবই জরুরি। পুলিশ ও মালিক-শ্রমিকদের চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি।


গুলিস্তানের খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্সে আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার অগ্নিকাণ্ডের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৫টা ২৮ মিনিটে শপিং কমপ্লেক্সের ছয়তলার একটি গোডাউনে আগুন লাগার সংবাদ পায় তারা। খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে ৬টি ইউনিট পাঠানো হয়। জনবহুল এলাকা হওয়ায় এবং শপিং কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ফায়ার ফাইটাররা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


রাজধানীতে ৪ দিনব্যাপী আবাসন মেলা শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আবাসন খাতের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ‘রিহ্যাব ফেয়ার-২০২৫’ শুরু হয়েছে রাজধানীতে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত চার দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। আগামী ২৭ ডিসেম্বর মেলার পর্দা নামবে।

রিহ্যাব সভাপতি মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) চেয়ারম্যান মোছা. ফেরদৌসী বেগম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি আক্তার বিশ্বাসসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এ সময় রিহ্যাবের সাবেক ও বর্তমান নেতা, বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

রিহ্যাব জানায়, এবারের মেলায় মোট ২২০টি স্টল রয়েছে। এতে অংশগ্রহণ করছে ৪টি ডায়মন্ড স্পন্সর, ৭টি গোল্ড স্পন্সর, ১০টি কো-স্পন্সর, ১৪টি নির্মাণসামগ্রী প্রতিষ্ঠান এবং ১২টি আর্থিক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

রিহ্যাব নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ড্যাপ (ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান) সংক্রান্ত জটিলতায় আবাসন খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে গত ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত নতুন ড্যাপ এবং ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫ আবাসন খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আবাসন খাত কেবল মানুষের আবাসন চাহিদা পূরণেই সীমাবদ্ধ নয়; এই খাত সরকারের রাজস্ব আয়, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রড, সিমেন্টসহ ২০০টির বেশি লিংকেজ শিল্পের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে নির্মাণ খাতের অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় ১৫ শতাংশ এবং এ খাতের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় ২ কোটি মানুষ।

তারা আরও জানান, রিহ্যাব ফেয়ার ক্রেতাদের জন্য একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম, যেখানে এক ছাদের নিচে ফ্ল্যাট ও প্লট কেনাবেচা, গৃহঋণ সুবিধা, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এবং আধুনিক নির্মাণসামগ্রী সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যস্ত জীবনে আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে এই মেলা ক্রেতাদের সময় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজ করে।

মেলায় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। প্রবেশ টিকিটের মূল্য সিঙ্গেল এন্ট্রির জন্য ৫০ টাকা এবং মাল্টিপল এন্ট্রির জন্য ১০০ টাকা। টিকিট বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ রিহ্যাবের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। প্রতিদিন রাত ৯টায় র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার।


ঢাকার মিরপুরের ‘আরামবাগ সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন’―এর জে-ড্রাম স্থাপন

দক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন মাইলফলক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সহায়তায় রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত আরামবাগ সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) সফলভাবে উদ্ভাবনী বর্জ্য সংকোচন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা জে-ড্রাম স্থাপন করেছে জাপান ক্লিন সিস্টেম কো., লিমিটেড (জেসিএস)। নতুন এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। এ উদ্যোগ দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এবিএম শামসুল আলম। অন্যদিকে, জেসিএস -এর পক্ষ থেকে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাসাতাকা ইয়ামানো। জাইকা বাংলাদেশ অফিসের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি মিস ইজুমি শোজিও এ সময় উপস্থিত ছিলেন ।

এসটিএস -এ বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, যেমন: অদক্ষ প্রচলিত উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কমপ্যাক্টর ট্রাকের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা এবং দুর্গন্ধ ও তরল বর্জ্য নিঃসরণের মতো পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে কাজ করে জে-ড্রাম সিস্টেম। এছাড়াও, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্জ্য বোঝাই এবং খালাস করার মাধ্যমে জে-ড্রাম পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, শারিরীক শ্রমের পরিমাণ কমিয়ে আনবে এবং এসটিএস -এ ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল যে জায়গায় এটি স্থাপন করা হয়, এটি সে স্থানের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং এর স্বয়ংক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

অন্যদিকে, এর অত্যাধুনিক এবং স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থা দুর্গন্ধ, শব্দ ও পানি ফুটো হয়ে নিঃসরণ হওয়া প্রতিরোধ করে। স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি হওয়ায় এ ব্যবস্থা টেকসই। জাপান ক্লিন সিস্টেম কো., লিমিটেডের বিশ্বব্যাপী ১,৬০০টিরও বেশি ইউনিট স্থাপনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাপানে প্রতিষ্ঠানটির বাজার হিস্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

এই স্থাপনাটি ‘এসডিজি বিজনেস ভেরিফিকেশন সার্ভে’ -এর আওতাধীন প্রকল্পের অংশ। এর লক্ষ্য হল বাংলাদেশে দক্ষ ও স্বাস্থ্যসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার প্রসার এবং পাশাপাশি, খরচ কমানো ও সহজলভ্যতা বাড়ানোর জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনা উন্মোচনে ভূমিকা রাখা।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই নতুন ব্যবস্থাপনাটি এসটিএস কর্মীদের কাজের পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে। এতে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও এর পরিবহন খরচ কমবে। তাছাড়া, এসটিএস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন স্থাপনার আশেপাশের পরিবেশগত স্বাস্থ্যবিধির উন্নতি হবে, যা বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং চাঁন-মানিক গ্রুপের প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকার আলোচিত কিশোর গ্যাং চাঁন-মানিক গ্রুপের প্রধান চাঁন মিয়া ওরফে রাতুলকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ ছিনতাই ও মাদক আইনে মোট ২২টি মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রায়েরবাজারের পাবনা হাউস গলির পাভেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চাঁন মিয়া ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাপাতি ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলো— লিমন, মো. রমিজ, মো. খাইরুল ইসলাম ও মো. বাবু। তারা এই গ্যাংয়ের সদস্য ও পেশাদার ছিনতাইকারী।

মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থানকেন্দ্রিক আলোচিত কিশোর গ্যাং চাঁন-মানিক গ্রুপের প্রধান চাঁন মিয়া ওরফে রাতুলকে চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে এই গ্রুপের আরেক প্রধান মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে। তার বিরুদ্ধেও হত্যা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মামলা রয়েছে।’

এসি মামুন আরও বলেন, ‘এই গ্যাংটিতে উঠতি বয়সের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য রয়েছে। তারা রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন অলিগলিতে অস্ত্রহাতে ওৎ পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই নিরীহ পথচারীদের ওপর হামলা করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। এই গ্যাংটি রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী, মিনা হাউসিং গলি, পাবনা হাউস গলিসহ আশপাশের এলাকায় সক্রিয়।’

অভিযানে অংশ নেওয়া রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজমুল আলম শেখ বলেন, ‘চাঁন-মানিক গ্রুপের কার্যক্রমে আতঙ্কিত ছিল এলাকার মানুষ। তাদের বিরুদ্ধে কুপিয়ে পথচারীদের মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আমরা এই চক্রের সব সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।’


পুরান ঢাকায় ফের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে আরমানিটোলার হাজী টাওয়ারে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বাবুবাজারের আরমানীটোলার হাজী টাওয়ারে ১৪ তলা ভবনের ৬ তালায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে সদরঘাট ফায়ার স্টেশনে দুটি ইউনিট ৬টা ৪৫ মিনিটে পৌঁছায়। পরে সিদ্দিকবাজারের পাঁচটি, সূত্রাপুরের দুটিসহ মোট ৯টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ৭টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার ইসলামবাগ চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় একটি প্লাস্টিকের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিটের চেষ্টায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে কারখানাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।


ঢাকা দক্ষিণের সকল নির্বাচনি প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করল ডিএসসিসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্যবহৃত সকল প্রকার নির্বাচনি প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করেছে ডিএসসিসি। ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ডিএসসিসি আওতাধীন এলাকায় অনুমতিবিহীন সকল ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বিজ্ঞাপন, সাইনবোর্ড ও নির্বাচনি প্রচারপত্র ইত্যাদি স্ব উদ্যোগে অপসারনের জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠন/ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ডিসেম্বর হতে সকল ওয়ার্ডের অনুমতিবিহীন সকল বিজ্ঞাপন ও নির্বাচনি প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ শুরু হয়।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ রাসেল রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল ঘোষণার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা সামগ্রী অপসারণের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসি সফলভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় সকল প্রকার নির্বাচনি প্রচারণা সমাগ্রী অপসারণে সফল হয়। উপর্যুক্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ প্রতিপালনে ডিএসসিসি সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাচ্ছে।

তবে, ডিএসসিসি এলাকায় পুনরায় কেউ অননুমোদিত কোনো নির্বাচনি সামগ্রী স্থাপন করলে অথবা বিদ্যমান নির্বাচনি সামগ্রী সম্পর্কিত তথ্য জানাতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০২২২৩৩৮৬০১৪ নম্বরে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে।


রাজধানীর বাড্ডায় ফার্নিচার কারখানায় আগুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় একটি ফার্নিচার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে মুন্সিবাড়ি এলাকায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের স্টেশন অফিসার শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। মোট ৮টি ইউনিট টানা চেষ্টা চালিয়ে রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

স্বস্তির খবর হলো, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে বা এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সতর্ক অবস্থানে সেনাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজেস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনার পর থেকেই ঢাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এ অবস্থায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফার্মগেট এলাকায় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার, কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো এবং ধানমন্ডি এলাকায় ছায়ানট ভবনে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নগরীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত ছায়ানট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান দেখা গেলেও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কিংবা শাহবাগ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক কম।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর একদল বিক্ষোভকারী বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এসময় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক সংবাদকর্মী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

হামলাকারীদের থামাতে রাতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে গিয়ে একদল ব্যক্তির হাতে নাজেহাল হন নিউ এইজ সম্পাদক ও সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি নূরুল কবীর। এসময় তাকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।

একই রাতে ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালায় একদল উত্তেজিত জনতা। হামলা আর ভাঙচুরে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি।

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ নভেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। দেশে চিকিৎসার পর গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে খবর আসে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন।


খুলে দেওয়া হলো মিরপুর ৬০ ফিট সড়ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিরপুরের বহুল প্রতীক্ষিত ৬০ ফিট সংযোগ সড়ক নির্মাণের পর সর্বসাধারণের যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে এ উপলক্ষে এক উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিএনসিসি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘এই শহরের গত ১৫, ২০ কিংবা ৩০ বছরের যে পেন্ডিং কাজগুলো রয়েছে, সেগুলো আমরা একে একে সমাধান করার চেষ্টা করছি। ৬০ ফিট সংযোগ সড়কের কাজটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ঝুলে ছিল। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করে মাত্র ২ মাসেই আমরা নগরবাসীর জন্য রাস্তাটা খুলে দিতে পেরেছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘এই রাস্তাটির একটি প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। তা হলো- সরকারের সব সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যদি এক জায়গায় এসে কাজ করে, তাহলে এই নগরকে এখনো বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নগরবাসীকে দৈনন্দিন হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই সবার জন্য একটি ন্যায্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীর মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ লাঘবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৬০ ফিট সড়ককে সরাসরি মিরপুরের প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যে ডিএনসিসির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের নামে সিটি জরিপে রেকর্ড করা ৮০৮০০ ও ৪০৪৫৬ দাগের জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয় এবং ডাকবিভাগের জমি অধিগ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক এস এম শাহাব উদ্দীন, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দীন, অঞ্চল-৪-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন প্রমুখ।


শাহজালালে এভসেকের অভিযানে নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গোতে অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (AVSEC) ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৪ ডিসেম্বর দুবাই থেকে আগত Solit Air-এর কার্গো বিমানে আমদানিকৃত দুইটি শিপমেন্ট পরীক্ষা করে ২ হাজার ৮৭৮ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম, বিভিন্ন প্রকার গার্মেন্টস পণ্য ও ইলেকট্রনিক্স অ্যাক্সেসরিজ উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ কোটি ৮৪ লাখ ৯২ হাজার ২০০ টাকা।

জব্দকৃত পণ্যের বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্তৃক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


কর্মীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির কারণে বন্ধ মেট্রোরেল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেট্রোরেলের কর্মীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতির কারণে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উত্তরা থেকে বিকাল ৩টা ও মতিঝিল থেকে ৩টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও কোনো ট্রেনই স্টেশন ছাড়েনি। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

এর আগে স্বতন্ত্র চাকরি বিধিমালা প্রণয়নে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাতটা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। এ কারণে মেট্রোরেলের যাত্রীসেবায় বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা দেখা দেয়।

যদিও বৃহষ্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানায়, শুক্রবার মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এ ঘোষণা মানেননি আন্দোলনকারীরা।

ডিএমটিসিএলের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ হওয়ার পথে। কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় আছে। এরপরও যাত্রীসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার সব কিছু বিবেচনা করে দেখছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে সপরিবারে অনেকেই ঘুরতে বের হন, কিন্তু মেট্রোরেল বন্ধ থাকার কারণে আজ তাদের ঘুরতে যাওয়া হচ্ছে না। এমনই একজন কাজীপাড়ার ওবায়েদ ইসলাম। তিনি সপরিবারে রমনা পার্কে যাওয়ার জন্য মেট্রো স্টেশনে এসে দেখেন মেট্রোর গেট তালাবদ্ধ। তা দেখেই ফিরে যান তিনি। চারটার দিকে শেওড়াপাড়া স্টেশনে গিয়েও সিঁড়িতে ওঠার কলাপসিবল গেট তালা লাগানো দেখা যায়।

এদিকে স্টেশনে ওঠার অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।


“দুর্যোগে মানুষের পাশে”—আনসার-ভিডিপি, কড়াইলে নিরাপদ পানি ব্যাবস্থাপনার উদ্বোধন

আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২০:৫১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কড়াইল বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ পানির চরম সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি জরুরি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে দুটি বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক স্থাপন ও উদ্বোধন করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এই উদ্যোগ দুর্যোগ-উত্তর পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের জন্য দ্রুত স্বস্তি, নিরাপত্তা ও আশার বার্তা নিয়ে এসেছে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে আক্রান্ত এলাকায় ঢাকা মহানগর আনসার পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান গণি আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যাংক দুটির উদ্বোধন করেন। প্রতিদিন ট্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে, যা অগ্নিদুর্গত মানুষের খাদ্য, আশ্রয় ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে।

উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের পর নয় দিনব্যাপী দুই হাজার মানুষকে দু’বার করে রান্না করা খাবার, ৯০০ কম্বল এবং জরুরি সহায়তা হিসেবে ১,২০০ প্যাকেট শিশুখাদ্য (গুঁড়া দুধ) বিতরণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন—“দুর্যোগের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের অঙ্গীকার। কড়াইলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন নিরাপদ পানি পায়, সেই নিশ্চয়তা দিতেই মহাপরিচালক মহোদয়ের নির্দেশনায় এই ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অতীতের মতো ভবিষ্যতেও যেকোনো সংকটে জনগণের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীরা এই মানবিক উদ্যোগকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুর্ঘটনার পরপরই বিশুদ্ধ পানির সংকট ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা; নতুন ট্যাংক স্থাপনের ফলে দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা মিলবে। এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ কড়াইল এলাকার পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের চলমান প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আনসারের জোন কমান্ডারগণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অঙ্গীভূত আনসার, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং টিডিপি সদস্য-সদস্যাগণ।


মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা

হত্যার পর স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২৩:৪৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় গৃহিনী মালাইলা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যার পর বাথরুমে গোসল করে গৃহকর্মী আয়েশা (২৩)। এরপর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, মাত্র চার দিন আগে বাসার দারোয়ান মালেকের মাধ্যমে ওই মেয়েকে আনা হয়। পরে গৃহকর্মী হিসেবে নিহত মালাইলা আফরোজের বাসায় কাজ দেওয়া হয়। তখন নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেয়। পরে মা-মেয়েকে হত্যার পর নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে যায় সেই মেয়ে।

ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত মালাইলা আফরোজ (৪৮) গৃহিণী। মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম পেশায় শিক্ষক। তিনি উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক।

ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নাফিসার বাবা স্কুলের উদ্দেশে সকাল ৭টার দিকে বের হয়ে যান। সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসার লিফটে ওঠে সাত তলায় যায় গৃহকর্মী আয়েশা। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ড্রেস পরে মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফিসার বাবা বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

নিহত নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাসায় একজন কাজের মহিলা দরকার ছিল। সাধারণত গেটে অনেকে কাজের সন্ধানে আসেন। চার দিন আগে একটি মেয়ে আসে। বোরকা পরিহিত মেয়েটি বাসার দারোয়ান খালেকের কাছে কাজের সন্ধান করলে সে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেয়।

পরে স্ত্রীর মুখে শুনেছি, মেয়েটার নাম আয়েশা। বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর। জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকে। বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তার শরীরেও আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটা কাজ শুরুর পর প্রথম দুদিন সময়মতো এসেছে। গতকাল সে সাড়ে ৯টার দিকে আসে। আজ কী হয়েছে, এটা তো আর বলার অবস্থায় নেই।

এদিকে ঘটনাস্থল ফ্ল্যাটটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ। বাসার আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা।

পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, মাকে হত্যার পর ওই মেয়েটি দৌড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হয়তো ইন্টারকমে সিকিউরিটি গার্ডকে ফোন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে ইন্টারকমের লাইনটি খোলা পাওয়া যায়। মেয়েটি খুব সুন্দরভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে নাফিসার স্কুলের ড্রেস পরে নির্দ্বিধায় গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়।

তল্লাশি করে বাথরুমে একটি সুইচ গিয়ার ও একটি ধারাল অস্ত্র পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দুটি দিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করেছে গৃহকর্মী আয়েশা। এ ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পায়। মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে নেওয়ার পর মারা যায়। পরে লাশ দুটি সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই-বাছাই চলছে।

গৃহকর্মীর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে-পরে তার উপস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব।

বাসার ভেতরের অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বলছে, বাসায় ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে, মেঝেতে এবং দেওয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে। আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ অবস্থায় রয়েছে। যা মনে করছি, প্রাথমিকভাবে কিছু খোয়া যেতে পারে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা একজনকেই দেখেছি, পরে দেখব আশপাশে আরও কেউ ছিল কি না?

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ধারাল ছুরি উদ্ধার করেছে এবং হত্যাকারী ফ্রেশ হয়েছে বাথরুমে— এমন আলামত পাওয়া গেছে।


banner close
ad-close 20260212090517.jpg
ad-close 20260212090004.jpg