ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৩৮৬টি মামলা ও ৫৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ট্রাফিক বিভাগ।
এছাড়া অভিযানকালে ৯৭টি গাড়ি ডাম্পিং ও ২৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। আজ সোমবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাত-দিন কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৩৮৬টি মামলা ও ৫৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
‘এছাড়া অভিযানকালে ৯৭টি গাড়ি ডাম্পিং ও ২৫টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই ডিএমপি কর্মকর্তা।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিজিবির পক্ষ থেকে এক দাপ্তরিক বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবির বার্তায় জানানো হয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ (সাবেক ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়), বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, শেরেবাংলা নগর এবং মহাখালীসহ বিভিন্ন কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবি সদস্যরা টহল ও অবস্থানে রয়েছেন। মূলত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগরসহ কয়েকটি জেলায় সশস্ত্র বাহিনী বা সেনাসদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সরকারের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর অধীনে সেনাসদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বেআইনি মিছিল বা শোডাউন থেকে যাতে জনমালের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই বিজিবি ও সেনাবাহিনীর এই সমন্বিত নিরাপত্তা উদ্যোগ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে পৃথক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ২৬ জন নেতাকর্মী রয়েছেন। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল সোমবার দিনব্যাপী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আওয়ামী লীগের গ্রেপ্তারকৃত ২৬ নেতাকর্মীর মধ্যে ধানমন্ডি থেকে সর্বোচ্চ ১০ জন এবং মোহাম্মদপুর থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া রমনা, খিলক্ষেত, বংশাল, কদমতলী, মিরপুর এবং তুরাগ এলাকা থেকেও দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপি সূত্রে আরও জানা গেছে, বিশেষ এই অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, দস্যু, ছিনতাইকারী এবং ডাকাতি চক্রের ৩৩ জন সদস্য রয়েছেন। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৭ জনকে। অন্যদিকে, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জালিয়াতি, প্রতারণা, চুরি এবং মাদক মামলার আরও ১০ জন আসামিকে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মহানগরের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই এই ধরনের কঠোর অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চেয়েছিল বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় পবিত্র আশুরার নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আওয়ামী লীগ আজকের মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইছে। তাদের এই পরিকল্পনাকে আমরা এখন পর্যন্ত নস্যাৎ করে দিয়েছি। আমি আশা করি, সামনে যে কয়েক ঘণ্টা সময় বাকি আছে, সেই সময়ের মধ্যেও তারা কোথাও মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত হতে পারবে না।” তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত তিন দিন ধরে ঢাকার প্রবেশমুখ, সীমান্ত এলাকা, ট্রেন ও বাস স্টেশনসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। সন্দেহভাজন বিভিন্ন হোটেল ও মেসে অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে ২৬ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নাশকতার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রসঙ্গে কমিশনার জানান, নিষিদ্ধ দলটির ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে তারা সুযোগ পেলে বড় ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল। তিনি বলেন, “যেহেতু মিছিল থেকে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা থেকে আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে সুযোগ পেলে তারা নাশকতামূলক কাজ চালাতে পারে।” এই অপতৎপরতা রুখতে রাজধানীতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট, মোবাইল প্যাট্রোল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টহল জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, এবার রাজধানীজুড়ে মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল বের হবে। প্রতিটি মিছিলের রুট সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। অতীতে তাজিয়া মিছিলে হামলাকারীরা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় নতুন কোনো হামলার ঝুঁকি আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখে দিতে তারা প্রস্তুত।
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের উদ্যোগে এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল পরবর্তী ব্রিফিং চলাকালে সাংবাদিকদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা দিয়ে একদল নেতাকর্মী ও সমর্থক এই হামলা চালায়।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াত নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়ে তিনি রক্তাক্ত জখম হন এবং দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া দৈনিক কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান এবং যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকীও এই হামলার শিকার হন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ২০-২৫ জন উত্তেজিত মিছিলকারী তাদের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি ও মারধর শুরু করে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতের মিছিলে মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনসহ অসংখ্য নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিল শেষে ব্রিফিং চলাকালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানালে হামলাকারীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। হামলার শিকার সংবাদকর্মীরা জানান, পুলিশ সদস্যদের সাহায্য চাইলেও তারা ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না’ বলে দায় এড়িয়ে যান।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগত কেউ ঢুকে পড়ে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।” তবে সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
খুলনায় ‘বি কোম্পানি’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর চার সদস্যকে ঢাকা মহানগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা নগর থেকে ওই গোষ্ঠীর আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নগরের খালিশপুরে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে হাজির করা হয়। সেখানে অভিযান ও গ্রেপ্তারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডিবির উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনা মহানগরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ জুন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা নজরদারি, গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তের কাজ চলছিল।
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার রাতে ঢাকা মহানগরের বংশাল এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন বরিশালের কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিন (২৯), যিনি বর্তমানে খুলনার শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকায় ভাড়া থাকতেন; মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামের বাসিন্দা তুষার শিকদার (৩৮), যিনি সোনাডাঙ্গার শেখপাড়া মেইন রোড এলাকায় বসবাস করতেন; সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কারপাসডাঙ্গা গ্রামের মো. আসিফ (২৫), যিনি নগরের নবীনগর এলাকায় থাকতেন এবং খুলনা সদরের টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা এলাকার আবরার ফয়সাল ওরফে রাফিনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনার চিহ্নিত বি কোম্পানি নামের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। দীর্ঘদিন ধরে তারা আত্মগোপনে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরের একটি এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, একটি রিভলবার ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে খুলনা মহানগরে সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অপরাধের বিভিন্ন ঘটনায় ঘুরেফিরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম উঠে এসেছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে (২৩ জুন) কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কে ২০০ চেকপোস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ১৮ হাজার সদস্য সন্দেহভাজনদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এতে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। গত রোববার রাত ১১টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর দুই শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্পটে বিশেষ তল্লাশিচৌকি বা চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গণপরিবহন, মোটরসাইকেল ও সন্দেহভাজন পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ ছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, ধোলাইপাড়, গাবতলী, উত্তরাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখগুলোয় পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট দেখা গেছে। এ ছাড়া ধানমন্ডি, গুলশান, কাকরাইল, বিজয় সরণি ছাড়াও বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশকে সতর্কাবস্থায় চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে।
গত রোববার রাত ১১টা থেকে শুরু হওয়া পুলিশের এই বিশেষ সতর্কতামূলক কার্যক্রমে সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ধানমন্ডি থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যাতে তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, এ জন্য ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুটি বাস, একটি মাইক্রোবাসসহ সন্দেহভাজন ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের ধানমন্ডি থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।’
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর (যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠন) শীর্ষ নেতারা পলাতক, কারাবন্দি কিংবা অনেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
২০২৫ সালের ১২ মে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী পাস হলেও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আদেশ বহাল রাখা হয়।
রাজধানী ঢাকাসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৯ মিনিট ২০ সেকেন্ড নাগাদ এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
আকস্মিক এই ঝাঁকুনিতে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষণিকের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এতে অনেকেই বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ঢাকায় ভূমিকম্পের এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কোভিদ গণমাধ্যমকে জানান, রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকায়।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার জানান, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর মিরপুর থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ জুন সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের কিছু উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় একই ধরনের মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। রিখটার স্কেলে সেই ভূকম্পনের তীব্রতা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪ দশমিক ৫ মাত্রা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে থাকায় বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণে সতর্কতা ও দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট নিক্ষেপে গুরুতর আহত আরোহী সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রাফি মারা গেছেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে। মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এর আগে ৯ জুন দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের ১০০ গজ পূর্ব পাশে ইব্রাহিমপুর পাকা রাস্তা দিয়ে বাসায় ফেরার সময় পূর্বশত্রুতার জেরে পরিচিতদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন রাফি। এ ঘটনায় রাফির চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা হলেন মো. পারভেজ (৩০), আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২) ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু (২৭)।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকায় জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকায় রাস্তার উভয় পাশের ফুটপাত ও সড়কে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ৭টি মামলার মাধ্যমে মোট ২৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফুটপাত ও সড়ক সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করা হয়, ফলে পথচারীদের চলাচল সহজতর হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক নগরবাসীর স্বার্থে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী অবৈধ দখল, ফুটপাত দখল এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেছেন, ‘বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘শব্দদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে— এই বিষয়টি জনগণকে বোঝাতে হবে। শব্দদূষণের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং অনিদ্রাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘একজন চালক যে হর্ন ব্যবহার করছেন, সেটিই তার নিজের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু একটি প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআরটিএ’র পরিচালক (অপারেশন) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মোশারফ হোসেন (৪৯), মো. রাসেল (২৪), মো. খলিল মিয়া (৫০), মো. রিশাদ (২৩), রুহী আক্তার (২২), তৌসিফ (১৮), মো. নাসির (১৯), মো. মাসুদ রানা ওরফে রনি (২৫), মো. বিল্লাল ভূঁইয়া (২৪), মো. শুভ (১৯), মো. শাহীন কাউছার (৪৭), মো. বেলাল হোসেন (৪০), ফেরদৌস কামাল, মোসা. রাশেদা বেগম, রোকসানা বেগম, মো. সাদ্দাম, মো. দিদারুল আলম টিপু, মো. ইউসুফ মজুমদার ও মো. শফিউল আলম।
যাত্রাবাড়ী থানার বরাত দিয়ে নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘শনিবার যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে নিয়মিত ও পরোয়ানাভুক্ত মামলার আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অপরাধী রয়েছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কলেজ গেট এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার সকালে তাদের আটক করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রোববার সকালে কলেজগেট এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করে। আটক ব্যক্তিরা মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা জানান, তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
যানজট নিরসনে ঢাকার চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল—সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া—শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবকে অবাস্তব ও অকার্যকর বলে মনে করছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় না করে শুধু টার্মিনাল স্থানান্তর করলে যানজট কমার পরিবর্তে যাত্রীদের ভোগান্তি, যাতায়াত ব্যয় এবং নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
রোববার আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয় জানানো হয়।
আইপিডি জানায়, পর্যাপ্ত গণপরিবহন সংযোগ, ফিডার সার্ভিস ও লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি নিশ্চিত না করে কেবল টার্মিনালগুলো শহরের প্রান্তে কাঁচপুর, হেমায়েতপুর, টঙ্গী ও কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়া হলে তা ঢাকার পরিবহন সংকট আরও জটিল করবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসা সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়বেন।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, দুই কোটির বেশি মানুষের এই মহানগরীর যাতায়াত ব্যবস্থাকে টেকসই করতে হলে ঢাকার বর্ধিত নগর এলাকায় নতুন বাস ডিপো ও টার্মিনাল নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিদ্যমান চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছে আইপিডি।
সম্প্রতি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঢাকার যানজট কমাতে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে, মহাখালী টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে পূর্বাচলে এবং পরবর্তীতে টঙ্গীর কাছে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে।
আইপিডির মতে, ঢাকার যানজটের মূল কারণ হিসেবে বাস টার্মিনালগুলোকে দায়ী না করে পরিবহন খাতের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং, সড়কে যাত্রী ওঠানামা, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলার বিষয়গুলো আগে সমাধান করা প্রয়োজন। টার্মিনাল এলাকার এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আশপাশের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আইপিডি জানায়, প্রস্তাবিত চারটি টার্মিনালই মূল শহর থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এসব এলাকা থেকে ঢাকার কেন্দ্রে আসার জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো নেই। বিশেষ করে রাতের সময়ে এসব এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ফলে দূরপাল্লার যাত্রীদের বাড়তি খরচ ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।
আইপিডির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দূরের টার্মিনালে নামার পর যাত্রীরা যদি মেট্রোরেল, বিআরটি বা উন্নতমানের লোকাল বাসের মাধ্যমে সহজে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি হবে। পাশাপাশি সিএনজি, অ্যাপভিত্তিক যানবাহন কিংবা ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা বাড়বে, যা শহরের প্রবেশমুখে যানজট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ঢাকার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো লাখ লাখ অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ নেওয়ার মতো প্রস্তুত নয়। দূরপাল্লার যাত্রীদের চাপ বাড়লে মেট্রোরেল ও বাস ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং নগরের ভেতরে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে।
আইপিডি উল্লেখ করে, ঢাকার বর্তমান অনেক এলাকাই একসময় শহরের প্রান্তে ছিল। গাবতলী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তানও একসময় নগরের বাইরে বা প্রান্তিক এলাকায় ছিল। পরিকল্পনাহীন নগর সম্প্রসারণের কারণে এসব এলাকা এখন কেন্দ্রীয় অংশে পরিণত হয়েছে। তাই শুধু টার্মিনাল সরিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং সমন্বিত নগর ও পরিবহন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আইপিডি জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরে মূল শহরের ভেতরেই আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল রয়েছে। এসব টার্মিনাল শহরের মানুষের যাতায়াত সহজ করে এবং ছোট যানবাহনের চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই বিদ্যমান চারটি বাস টার্মিনাল সরিয়ে না নিয়ে এগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।
ঢাকার বাস টার্মিনাল ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আইপিডির ৮ দফা সুপারিশ হলো— এক. ঢাকার চার বাস টার্মিনাল সরানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করা। দুই. বিদ্যমান টার্মিনালের আশপাশের অব্যবস্থাপনা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তিন. প্রস্তাবিত এলাকায় বাস ডিপো নির্মাণ করে বর্তমান টার্মিনালের ওপর চাপ কমানো। চার. দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য মানসম্মত ফিডার সার্ভিস চালু করা। পাঁচ. বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা। ছয়. টার্মিনালকেন্দ্রিক রুট পারমিট, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। সাত. যাত্রীদের যাতায়াত পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আট. সমন্বিত টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে মাল্টিমোডাল হাব তৈরি করা।