শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাত কলেজের আন্দোলনে তীব্র যানজট, জলকামানে ছত্রভঙ্গ ৩৫ প্রত্যাশীরা

*জনদুর্ভোগ তৈরি না করে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার *শিক্ষার্থীদের ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধে যানজটে নাকাল নগরবাসী *রোববার থেকে অনশন ও ব্লকেড কর্মসূচি সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের সংস্কার কমিটি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের কমিশন গঠনের দাবিতে বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৩০ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:১৩
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:১২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজ সংস্কার কমিশন বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠনের দাবিতে সেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে। এতে বুধবার প্রায় পুরো দিন তীব্র যানজটে নাকাল ছিল রাজধানীবাসী। এর আগেও কয়েক দিন নানা দাবিতে আন্দোলন করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে একই সময়ে একই দাবিতে রাজধানীর মহাখালীতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নামলে নগরবাসীর ভোগান্তির মাত্রা তীব্র হয়। এ সময় বিভিন্ন সড়কে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

অন্যদিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে চাকরিতে বয়সের প্রবেশসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে বিক্ষোভ করেন ৩৫ প্রত্যাশী যুবকরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হলে শিক্ষা ভবনের সামনে জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এসব রাস্তায় আন্দোলনের কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে নগরবাসীকে পায়ে হেঁটে তাদের গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাবের সবকটি রাস্তায় যানবাহন বন্ধ করে দিয়ে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। সাত কলেজে শিক্ষার্থীদের এই শাটডাউন কর্মসূচির কারণে মিরপুর-আজিমপুর সড়ক, শাহবাগ-ধানমন্ডি সড়ক, ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর সড়কে পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এতে মাত্রাধিক ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রিকশা ও মোটরসাইকেল আরোহী যাত্রীদের বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতেও দেখা গেছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা বহনকারী যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করেছে আন্দোলনকারীরা। কিছু যাত্রীকে যানবাহন ঘুরিয়ে ভিন্ন পথে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। এ সময় সায়েন্সল্যাব ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।

অবরোধ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ‘অধিভুক্তি নাকি মুক্তি, মুক্তি, মুক্তি’, ‘শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য, মানি না, মানবো না’, ‘আর নয় দাসত্ব, হতে চাই স্বতন্ত্র’, ‘ঢাবির জায়গায় ঢাবি থাক, সাত কলেজ মুক্তি পাক’, ‘নিপীড়ন নাকি অধিকার, অধিকার, অধিকার’, ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না মানবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গে‌ছে।

শিক্ষার্থী‌দের দা‌বি, সাত কলেজ নিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সরকার মেনে নিচ্ছে না। সরকার যৌক্তিক সমস্যার সমাধান না করে তাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। সড়ক অবরোধ করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে চান না শিক্ষার্থীরা। তারা পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চান। তাই তাদের দাবি মেনে নিয়ে সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠন করার দাবি জানান তারা।

যতক্ষণ পর্যন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখা হবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

পরে আগামী রোববার থেকে অনশন এবং ফের ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করে বেলা পাঁচটায় সড়ক ছেড়ে যান আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দা‌বির ম‌ধ্যে রয়ে‌ছে- অনতিবিলম্বে সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠন করতে হবে; এই কমিশন বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করে ৩০ দিনের মধ্যে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করবে; স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কোনো সেশনজট তৈরি করা যাবে না। যতদিন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন না হবে ততদিন সেশনজট যেন না হয় সেভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হবে।

এ বিষ‌য়ে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের ফোকাল পার্সন ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছাড়া সাত কলেজের সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। গতকালও (মঙ্গলবার) আমরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু সে বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোনো নজর দেয়নি। যে কারণে আমরা আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন চলবে।

শিক্ষা উপদেষ্টার বিবৃতি

এদিকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং অন্যান্য শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট আন্দোলন প্রসঙ্গে বিবৃ‌তি দিয়ে‌ছেন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছেম যা সাত সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে। সমস্যাটির শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগে ঢাকার সাতটি কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতা থেকে বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত করার একটি অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাত কলেজের উভয় পক্ষেরই সমস্যা তৈরি হয়েছে। যে কারণে ওই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নানা অসুবিধা ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। সমস্যাগুলো জটিল এবং এগুলোর সুষ্ঠু সমাধান কী হতে পারে তা বিবেচনায় ন্যূনতম কিছু সময়ের প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এরই মধ্যে একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করেছেন। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে রাস্তায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, আন্দোলন ও আলটিমেটামের মাধ্যমে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠনের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো নজির কোথাও নেই। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় জনদুর্ভোগ তৈরি না করে ধৈর্য ধরার ও নিজ নিজ শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অনশন ও ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা

শিক্ষা উপদেষ্টার বিবৃতির পর বুধবার সন্ধ্যায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সাত কলেজ সংস্কার কমিশন বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠনের দাবিতে আগামী রোববার সকাল ১১টা থেকে অনশন করার কথা জানান শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ব্লকেড কর্মসূচি স্থগিত রেখে রোববার থেকে ব্লকেড কর্মসূ‌চিও চলমান রাখার কথা জানিয়েছেন তারা। এ সময় প্রতিটি কলেজে বিভাগভিত্তিক অনলাইন আলোচনা সভা করবেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান বলেন, বৈষম্য দূর করে সাত কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা একমাত্র সমাধান। আমরা আমলাতান্ত্রিক কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি। সরকার শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষা প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠন করবেন এই প্রত্যাশা রাখছি।

শিক্ষা উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি একজন শিক্ষাবিদ। আপনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে মূল্যায়ন করবেন। দীর্ঘ সাত বছরের বৈষম্য দূর করবেন এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণ করে দেবেন।

আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে

গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা কলেজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাত কলেজের সমস্যার চিত্র তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা। এরপর একই দাবি জানিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ও ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজকে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। একই স্মারকলিপি কলেজগুলোর অধ্যক্ষদেরও দেওয়া হয়।

পরে ২২ অক্টোবর সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা রাজধানীর নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। সে দিন ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাত কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সমস্যা নিরসনে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। শিক্ষার্থীরা এই কমিটিকেও প্রত্যাখ্যান করে।

জলকামান ও লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ ৩৫ প্রত্যাশীরা

সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশীদের লাঠিচার্জ ও জলকামান দিয়ে পানি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল থেকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হলে তারা সেখান থেকে সরে গিয়ে শাহবাগ থানার সামনে ফুলের দোকানগুলোর সামনে অবস্থান নেন। পরে সেখান থেকে শিক্ষা ভবন অভিমুখে যাত্রা করেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের দলটি হাইকোর্ট এলাকার সামনে আসলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সরে যেতে অনুরোধ করা হয়। সচিবালয়ের আশেপাশে সমাবেশ নিষিদ্ধ এটিও বলা হয়। এরপরও আন্দোলনকারীরা সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান দিয়ে পানি ছুড়তে থাকে এবং লাঠিচার্জ করে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে বয়স ৩৫ করার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তবে গত ২৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনবার বিসিএসে বসতে পারবেন, এমন ধারা সংযোজিত হবে বলেও উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।


গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসী কষ্ট করবে এটা হতে পারে না: ডিএনসিসি প্রশাসক

বক্তব্য রাখছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসী কষ্ট করবে এটা হতে পারে না। জনগণের টাকা অপচয় করে আমরা প্রতিদিন খাল পরিষ্কার করব আবার পরের দিন আগের অবস্থায় ফিরে যাবে সেটা মেনে নেয়া হবে না। এ জন্য অবৈধভাবে যারা খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি না অপসারণ করেন তাহলে আইনিভাবে এলাকাবাসীদের নিয়ে আমরা সেটা উচ্ছেদ করে দেব।’

বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর কালসিতে সাংবাদিক কলোনি খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রশাসক বলেন, ‘আপাতত আগামী এক সপ্তাহ খালটি পরিষ্কার করা হবে, যাতে এলাকাবাসী সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক সমিতি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খালটি অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা একাধিকবার খালটি পরিষ্কার করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাই আমরা বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাল উদ্ধারের বিকল্প নেই। এলাকাবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে হলে খাল উদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি।’ অবৈধ দখলদারদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে সরকারি বা সংস্থার জমির ওপর স্থাপনা নির্মাণ করে, তাহলে সেটির দায় তাকেই নিতে হবে।’

তবে মানবিক দিক বিবেচনায় কেউ সময় চাইলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ড্রেন বা খাল ময়লা ফেলার জায়গা নয়। যারা এখানে বসবাস করেন, তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই সচেতন না হলে শুধু পরিষ্কার করেই স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’


পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ১৮টি বহুতল ভবন নির্মাণ করবে ডিএসসিসি: প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক ও সুবিধাসম্বলিত ১৮টি বহুতল আবাসন নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে ভবন নির্মাণকালীন বিকল্প আবাসন, গ্যাস-পানি সমস্যার সমাধান এবং শিশুদের জন্য খেলার মাঠ ও উপাসনালয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে ডিএসসিসি।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর দয়াগঞ্জস্থ পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিবাস পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মী ও স্থানীয় সুধীজনের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিরাপদ আবাসন ও আধুনিকায়নঃ

বিদ্যমান ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “বর্তমান ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ভবন নির্মাণের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। আপনারা যত দ্রুত সহযোগিতা করবেন, আমরা তত দ্রুত আধুনিক আবাসন নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারব।”

তিনি জানান, মিরনজিল্লা, ধলপুর, গণকটুলি, দয়াগঞ্জ, ওয়ারী ও পোস্তগোলাসহ বিভিন্ন কলোনিতে ১৮টি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।

নাগরিক অধিকার ও বিশেষ নির্দেশনাঃ

মো. আবদুস সালাম পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেন-

  • নাগরিক সুবিধা: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার পাবেন। আবাসন প্রকল্পে মন্দির ও শিশুদের খেলার মাঠ থাকবে।
  • বকেয়া বিল: কর্মীদের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হবে এবং গ্যাস বিল ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
  • বর্জ্য অপসারণ: আসন্ন ঈদুল আজহায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেন তিনি।

সচেতনতার আহ্বানঃ

শহর পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, “নাগরিকরা সচেতন না হলে শুধু পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে শহর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলার কারণেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নগরবাসীকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

পরিদর্শনকালে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


‘সুরে সুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১০ মে, ২০২৬ ১৬:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে মশকবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে “সুরে সুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ” শীর্ষক বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। বাউল সংগীতের মাধ্যমে পরিচালিত এ ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান।

আজ দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ডিসিসি মার্কেটের সামনে এ বিশেষ প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

এ কর্মসূচির আওতায় ২০ দিনব্যাপী ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের মোট ১০০টি স্থানে সচেতনতামূলক বাউল সংগীত পরিবেশন করা হবে। বাউল গানের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রচলিত প্রচারণার পাশাপাশি মানুষের কাছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমধর্মী এই বাউল সংগীতভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিকরা নিজ নিজ বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি সবাইকে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা ঘর করি পরিষ্কার”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ডিএনসিসি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানি। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়, নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসম্পৃক্ততার কোনো বিকল্প নেই। শুধু সিটি কর্পোরেশন বা স্বাস্থ্য বিভাগ নয়, নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, বাউল সংগীতের মতো জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক মাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি কার্যক্রম মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


নাগরিক সচেতনতায় সুন্দর নগর গড়ার প্রত্যয় ডিএনসিসি প্রশাসকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কেবল মশার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সচেতনতার মাধ্যমে একটি তিলোত্তমা নগরী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। রোববার সকালে ডিএনসিসি সুপার মার্কেটের প্রাঙ্গণে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত ‘সুরে সুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী ভ্রাম্যমাণ বাউল সংগীত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রতি শনিবার হোক সবার অঙ্গিকার, নিজ নিজ বাসা করি পরিষ্কার।’ তিনি মনে করেন, নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এ সময় তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এখনো দেশের স্বার্থবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত। তবে নেতিবাচক প্রচারণার তোয়াক্কা না করে সুপরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।


রাজধানীতে বসছে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নজরদারি বাড়াতে মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জানান, মোহাম্মদপুরসহ অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র মোহাম্মদপুরেই কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই ঠেকাতে ৭০০টি সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। অপরাধ দমনে এই এলাকায় পুলিশের জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি বসিলায় নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে এবং আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও পেট্রোল ইন্সপেক্টর মোতায়েন করা হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, বর্তমানে রাজধানীতে ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭১০টি এবং গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকার ‘ল অ্যান্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটির’ মাধ্যমে ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা পরিচালিত হচ্ছে. নতুন প্রকল্পের আওতায় ১১ হাজার ক্যামেরা কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ফলে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত রেসপন্স টিম পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। স্থায়ী ক্যামেরার পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ বা জাতীয় দিবসের মতো বড় আয়োজনে অস্থায়ী ক্যামেরার মাধ্যমেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে বর্তমানে ব্লক রেইড, নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং সদস্যরা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে যেসব অপরাধ করছে, তাদের আইনের আওতায় আনাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে পুলিশ। অপরাধ দমনের পাশাপাশি রাজধানীর যানজট নিরসনেও এই ক্যামেরা প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই অপতথ্য রোধ করতে পারে: ডিএনসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুজব, অপতথ্য ও ডিপফেইকের এই সময়ে সাংবাদিকদের এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং সম্পর্কে দক্ষ হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই পারে অপতথ্য রোধ করতে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

শুক্রবার (৮ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সাত দিনব্যাপী এআই নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেছেন।

প্রশাসক বলেন, শুধু সংবাদ সংগ্রহ নয়, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতাও এখন সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা থাকবে বলে জানান তিনি। এছাড়া তথ্য বিকৃতি ও অপতথ্য প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।

ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সাত দিনে বিভিন্ন ব্যাচে মোট ৬০০ সদস্য অংশ নেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে ডিআরইউ, সহযোগিতায় ছিল

এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই। সমাপনী দিনে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন।


রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অজ্ঞান পার্টির ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইনজেকশন ও চেতনানাশক দ্রব্যসহ অজ্ঞান পার্টির সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

গত মঙ্গলবার (৫ মে) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় চত্বরের উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টারের সামনে পাকা রাস্তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (৬ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-মো. সাইফুল ইসলাম (৬০), মো. অপু আহমেদ সরকার (৩৮), মো. সুজন খান (৩৫), মুহাম্মদ রাশেদ ব্যাপারী (৫৮), মিঠু মিয়া ওরফে মন্টু ব্যাপারী ওরফে মিন্টু ব্যাপারী ওরফে মিটু (৫২), মো. মকবুল খন্দকার (৫৫) ও মো. টুটুল বিশ্বাস ওরফে সুমন (৫৫)।

এ সময় তাদের হেফাজত থেকে একটি প্যাকেটে রক্ষিত পলিথিনে মোড়ানো কালো রঙের হালুয়াসদৃশ চেতনানাশক দ্রব্য, একটি কৌটায় রক্ষিত চেতনানাশক হালুয়া ও চেতনানাশক ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া তাদের কাছ থেকে অজ্ঞান করার কলাকৌশল ও প্রচারণামূলক সাতটি লিফলেট ও সাতটি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল সেটও উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও জনাকীর্ণ এলাকায় সাধারণ যাত্রীদের কৌশলে চেতনানাশক দ্রব্য সেবন করিয়ে বা ইনজেকশন পুশ করে সর্বস্ব লুট করত।

এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।


ফার্মগেটে চলন্ত প্রাইভেটকারে আগুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় চলন্ত একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বুধবার (৬ মে) সকাল ১০টার দিকে তেজগাঁও থানাধীন ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা ট্রাফিক বক্সের সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৩৩৯৭ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে গাড়িটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু সময় সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ফার্মগেট ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) জয়নাল আবেদীন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, সোনারগাঁও ক্রসিং থেকে আসার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রাইভেটকারটিতে আগুন লাগে। এতে গাড়িটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর রেকারের মাধ্যমে গাড়িটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ঘটনায় গাড়ির চালক-যাত্রী কিংবা সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।


ফার্মগেটে চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেটে চলন্ত একটি মাইক্রোবাসে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল ১০টা ৩ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সকাল ১০টা ৩ মিনিটে আমরা খবর পাই যে, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে একটি মাইক্রোবাসে (নোহা) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।” তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে আসা দুটি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টা ২৯ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে যানবাহনটির অধিকাংশ অংশই ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে। ব্যস্ত সড়কে দিনের বেলা এ ধরনের ঘটনায় পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিজয়স্মরণী ও সচিবালয় এলাকায় ক্যাম্পেইন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প” এর আয়োজনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে রাজধানীর বিজয়স্মরণী এবং সচিবালয় এলাকায় সোমবার (৪ মে) থেকে ১০ দিন ব্যাপী ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৫ মে) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

শব্দদূষণ বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, সরকার পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এবার ক্যাম্পেইন পরিচালনায় সহযোগিতায় রয়েছে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীণ ভয়েস এর ভলান্টিয়ারগণ।

শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। এ সময় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন যানবাহনে অযথা হর্ন না বাজানোর স্লোগান সম্বলিত ষ্টিকার লাগানো হয় এবং পথচারী ও বাস চালকদের মাঝে শব্দদূষণের বিভিন্ন তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।

নো হর্ন, শব্দদূষণ শ্রবণ শক্তি নষ্ট করে, শব্দদূষণ বহুবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ। আসুন, অযথা হর্ন না বাজাই এরকম বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লেকার্ড, ফেষ্টুন এবং ব্যানার নিয়ে এ ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে বিধি-নিষেধসমূহ:

নীরব এলাকা (Silent Zone): হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতের চারদিকের ১০০ মিটার এলাকা পর্যন্ত হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

নিষিদ্ধ হর্ন: হাইড্রোলিক হর্ন, মাল্টি টিউন হর্ন বা উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী হর্ন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

সময়সীমা: আবাসিক এলাকায় রাত ৯:০০ টার পর যেকোনো ধরনের শব্দদূষণ আইনত দণ্ডনীয়।

মাইক ও লাউড স্পিকার: জনসমাগমস্থলে কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া মাইক বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করবেন না।

জীববৈচিত্র্য রক্ষা: আতশবাজি ও পটকা শুধু শব্দ নয়, বরং বায়ুদূষণ ও পাখির মৃত্যুর কারণ। প্রকৃতি বাঁচাতে এগুলো বর্জন করুন।

সতর্কবার্তা: সড়কে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক সার্জেন্ট এখন থেকে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

​আসুন, সুন্দর ও সুস্থ আগামীর জন্য নিজে সচেতন হই এবং শব্দদূষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলি।


শাহবাগে ভাড়া বাসা থেকে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগের একটি ভাড়া বাসা থেকে আবিদ হাসান জিসান (২৬) নামের এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জিসান চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আহসান হাবিবের ছেলে। তিনি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিএস পাস করে ইন্টার্ন শেষ করে পপুলারে জব করছিলেন।

জিসানসহ কয়েকজন মিলে হাবিবুল্লাহ রোডের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

জিসানের রুমমেট ও সহকর্মী সূত্রে জানা যায়, জিসানের রুমমেট দীপ্ত সিংহ দুপুরে বাসায় গিয়ে তাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় বিছানায় দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেন, কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে, দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানকার চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২টায় ৩০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন।

রুমমেট দীপ্ত বলেন, সকালে রুম থেকে বের হওয়ার সময়ে দেখছিলাম, জিসান তার বাড়িতে কথা বলেছিল।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


মাসের প্রথম শনিবার ডিএসসিসিতে 'ক্লিনিং ডে' ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এবং শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে ‘ক্লিনিং ডে’ হিসেবে ঘোষণা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৯ মে ডিএসসিসি এলাকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্লিনিং ডে’ উদযাপিত হবে।

সোমবার নগর ভবনের সম্মেলনকক্ষে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে ডিএসসিসির নেতৃত্বে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকরা একযোগে এই কর্মসূচি পালন করবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিএসসিসি এলাকার সব সরকারি প্রতিষ্ঠান, কোয়ার্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা), রাজউক ও রিহ্যাবের আওতাধীন এলাকা এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্লটগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা হবে। এ ছাড়া ডিএসসিসির মশকনিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের মান, প্রয়োগ পদ্ধতি, তদারকি এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ পেশাদারির বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাই আমাদের প্রধান অস্ত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা যদি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখেন, তবেই মশাবাহিত রোগ নির্মূল করা সম্ভব। মশক নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র গাফিলতি সহ্য করা হবে না।’

তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বাণিজ্যিক প্রচারণার পাশাপাশি জনস্বার্থে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ডিএমপি, ডিএমসি, বিজিবি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, রাজউক, বাংলাদেশ রেলওয়ে, রিহ্যাব, শিক্ষা অধিদপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


হঠাৎ বৃষ্টিতে রাজধানীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ নেমে আসা মুষলধারে বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার দুপুরের পর শুরু হওয়া মুষলধারার বর্ষণে নগরীর অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। মানুষ ও পথচারীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।

বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় পানি জমে যায়, বিশেষ করে নিচু অঞ্চলগুলোতে হাঁটু সমান পানি দেখা যায়। এতে করে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে যানজট।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়েছে। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি আরো বাড়বে।


banner close