রোববার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সাত কলেজের আন্দোলনে তীব্র যানজট, জলকামানে ছত্রভঙ্গ ৩৫ প্রত্যাশীরা

*জনদুর্ভোগ তৈরি না করে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার *শিক্ষার্থীদের ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধে যানজটে নাকাল নগরবাসী *রোববার থেকে অনশন ও ব্লকেড কর্মসূচি সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের সংস্কার কমিটি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের কমিশন গঠনের দাবিতে বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
৩০ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:১৩
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:১২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজ সংস্কার কমিশন বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠনের দাবিতে সেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে। এতে বুধবার প্রায় পুরো দিন তীব্র যানজটে নাকাল ছিল রাজধানীবাসী। এর আগেও কয়েক দিন নানা দাবিতে আন্দোলন করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে একই সময়ে একই দাবিতে রাজধানীর মহাখালীতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরাও রাস্তায় নামলে নগরবাসীর ভোগান্তির মাত্রা তীব্র হয়। এ সময় বিভিন্ন সড়কে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়।

অন্যদিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে চাকরিতে বয়সের প্রবেশসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে বিক্ষোভ করেন ৩৫ প্রত্যাশী যুবকরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হলে শিক্ষা ভবনের সামনে জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। ফলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এসব রাস্তায় আন্দোলনের কারণে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে নগরবাসীকে পায়ে হেঁটে তাদের গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাবের সবকটি রাস্তায় যানবাহন বন্ধ করে দিয়ে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। সাত কলেজে শিক্ষার্থীদের এই শাটডাউন কর্মসূচির কারণে মিরপুর-আজিমপুর সড়ক, শাহবাগ-ধানমন্ডি সড়ক, ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর সড়কে পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এতে মাত্রাধিক ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রিকশা ও মোটরসাইকেল আরোহী যাত্রীদের বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতেও দেখা গেছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা বহনকারী যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করেছে আন্দোলনকারীরা। কিছু যাত্রীকে যানবাহন ঘুরিয়ে ভিন্ন পথে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। এ সময় সায়েন্সল্যাব ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।

অবরোধ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা ‘অধিভুক্তি নাকি মুক্তি, মুক্তি, মুক্তি’, ‘শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য, মানি না, মানবো না’, ‘আর নয় দাসত্ব, হতে চাই স্বতন্ত্র’, ‘ঢাবির জায়গায় ঢাবি থাক, সাত কলেজ মুক্তি পাক’, ‘নিপীড়ন নাকি অধিকার, অধিকার, অধিকার’, ‘প্রশাসনের প্রহসন, মানি না মানবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা গে‌ছে।

শিক্ষার্থী‌দের দা‌বি, সাত কলেজ নিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি সরকার মেনে নিচ্ছে না। সরকার যৌক্তিক সমস্যার সমাধান না করে তাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। সড়ক অবরোধ করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে চান না শিক্ষার্থীরা। তারা পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে চান। তাই তাদের দাবি মেনে নিয়ে সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠন করার দাবি জানান তারা।

যতক্ষণ পর্যন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখা হবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

পরে আগামী রোববার থেকে অনশন এবং ফের ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করে বেলা পাঁচটায় সড়ক ছেড়ে যান আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দা‌বির ম‌ধ্যে রয়ে‌ছে- অনতিবিলম্বে সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন গঠন করতে হবে; এই কমিশন বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করে ৩০ দিনের মধ্যে একটি রূপরেখা প্রণয়ন করবে; স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কোনো সেশনজট তৈরি করা যাবে না। যতদিন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন না হবে ততদিন সেশনজট যেন না হয় সেভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হবে।

এ বিষ‌য়ে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর টিমের ফোকাল পার্সন ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছাড়া সাত কলেজের সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। গতকালও (মঙ্গলবার) আমরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু সে বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কোনো নজর দেয়নি। যে কারণে আমরা আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন চলবে।

শিক্ষা উপদেষ্টার বিবৃতি

এদিকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং অন্যান্য শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট আন্দোলন প্রসঙ্গে বিবৃ‌তি দিয়ে‌ছেন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছেম যা সাত সপ্তাহের মধ্যে দ্রুত একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে। সমস্যাটির শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগে ঢাকার সাতটি কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতা থেকে বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্ত করার একটি অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাত কলেজের উভয় পক্ষেরই সমস্যা তৈরি হয়েছে। যে কারণে ওই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নানা অসুবিধা ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। সমস্যাগুলো জটিল এবং এগুলোর সুষ্ঠু সমাধান কী হতে পারে তা বিবেচনায় ন্যূনতম কিছু সময়ের প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এরই মধ্যে একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করেছেন। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে রাস্তায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, আন্দোলন ও আলটিমেটামের মাধ্যমে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠনের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো নজির কোথাও নেই। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় জনদুর্ভোগ তৈরি না করে ধৈর্য ধরার ও নিজ নিজ শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অনশন ও ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা

শিক্ষা উপদেষ্টার বিবৃতির পর বুধবার সন্ধ্যায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সাত কলেজ সংস্কার কমিশন বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠনের দাবিতে আগামী রোববার সকাল ১১টা থেকে অনশন করার কথা জানান শিক্ষার্থীরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ব্লকেড কর্মসূচি স্থগিত রেখে রোববার থেকে ব্লকেড কর্মসূ‌চিও চলমান রাখার কথা জানিয়েছেন তারা। এ সময় প্রতিটি কলেজে বিভাগভিত্তিক অনলাইন আলোচনা সভা করবেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান বলেন, বৈষম্য দূর করে সাত কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা একমাত্র সমাধান। আমরা আমলাতান্ত্রিক কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি। সরকার শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষা প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিশন গঠন করবেন এই প্রত্যাশা রাখছি।

শিক্ষা উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি একজন শিক্ষাবিদ। আপনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে মূল্যায়ন করবেন। দীর্ঘ সাত বছরের বৈষম্য দূর করবেন এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণ করে দেবেন।

আন্দোলনের সূত্রপাত যেভাবে

গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা কলেজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাত কলেজের সমস্যার চিত্র তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা। এরপর একই দাবি জানিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ও ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজকে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। একই স্মারকলিপি কলেজগুলোর অধ্যক্ষদেরও দেওয়া হয়।

পরে ২২ অক্টোবর সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা রাজধানীর নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন। সে দিন ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাত কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সমস্যা নিরসনে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। শিক্ষার্থীরা এই কমিটিকেও প্রত্যাখ্যান করে।

জলকামান ও লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ ৩৫ প্রত্যাশীরা

সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশীদের লাঠিচার্জ ও জলকামান দিয়ে পানি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল থেকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হলে তারা সেখান থেকে সরে গিয়ে শাহবাগ থানার সামনে ফুলের দোকানগুলোর সামনে অবস্থান নেন। পরে সেখান থেকে শিক্ষা ভবন অভিমুখে যাত্রা করেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের দলটি হাইকোর্ট এলাকার সামনে আসলে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের সরে যেতে অনুরোধ করা হয়। সচিবালয়ের আশেপাশে সমাবেশ নিষিদ্ধ এটিও বলা হয়। এরপরও আন্দোলনকারীরা সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর জলকামান দিয়ে পানি ছুড়তে থাকে এবং লাঠিচার্জ করে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পুলিশের লাঠিচার্জে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে বয়স ৩৫ করার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তবে গত ২৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনবার বিসিএসে বসতে পারবেন, এমন ধারা সংযোজিত হবে বলেও উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।


নির্বাচিত

ঢাকার রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিএসসিসি এলাকায় ই-রিকশা নিবন্ধন শুরু

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ই-রিকশা নিবন্ধন কর্যক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কেবল আবেদন করলেই মিলবে না নিবন্ধন; ই-রিকশাকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদন বা ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’―এর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সিটি করপোরেশনে আবেদন জমা দিলেই শুরু হবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ই-রিকশা নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।

প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, "আজ থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই— এই ফরম কিন্তু কোনো চলাচলের অনুমতিপত্র নয়, এটি কেবল নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও বুয়েটের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে।"

ই-রিক্সা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে একাধিক সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত মডেলের ই-রিক্সা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার বন্ধ করতে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ই-রিক্সার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকাকে মোট চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জোন নির্ধারণ এবং অঞ্চলভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে।

একবারে সব অটো-রিকশা বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, "সব কিছু হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে আমরা ধাপে ধাপে এগুলোকে নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে চাই। প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার, ২ হাজার কিংবা ৫০০—যে কয়টি ই-রিকশা শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে।"

ফরম বিতরণ ও সংগ্রহের নিয়মাবলি:

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে নিবন্ধন আবেদন ফরম বিতরণ করা শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নগর ভবন এবং ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।

অটোরিকশা ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে প্রশাসক এই সমস্যা সমাধানে নাগরিক, রিক্সা মালিক ও চালক এবং গণমাধ্যমসহ সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।


নির্বাচিত

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশন

বেতনভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরে আজও পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সাময়িকভাবে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলা এই বিক্ষোভ আজ টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেছে গণমাধ্যম।

মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটির কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এমআরটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। সংস্থাটি জানায়, সকালের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যকার পরিস্থিতি সহিংস আকার ধারণ করায় যাত্রী এবং স্টেশনের সার্বিক সুরক্ষার্থেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে উক্ত স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও সম্পূর্ণ স্থগিত রয়েছে। তবে মেট্রোরেল লাইনের অবশিষ্ট সবকটি স্টেশনে ট্রেন চলাচল যথারীতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মিরপুর-১১ স্টেশনটি আবারও সচল করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ।


নির্বাচিত

পাসপোর্ট অফিসের ৭ ‘দালালকে’ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ জন দালালকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পাসপোর্ট অফিসে সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারই অংশ হিসেবে পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ জন দালালকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। সোমবার (২ নভেম্বর) এসআরবি-২-এর উপঅধিনায়ক এম মুবীন রহমান তাপস এ তথ্য জানিয়েছেন।

এসআরবি জানায়, সোমবার (২ নভেম্বর) এসআরবি-২-এর একটি অভিযানিক দল রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় পাসপোর্ট সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের ১২ জনকে আটক করে।

পরবর্তী সময়ে এসআরবির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আটককৃতদের মধ্যে অপরাধ বিবেচনায় ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। এদের মধ্যে ১ জনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম, ২ জনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম এবং ৪ জনকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বাকি ৫ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দালাল চক্রের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসআরবি আরও জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্র আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় পার্সপোর্ট সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ফরম পূরণ, ফরম সত্যায়ন, কাগজপত্র ঘাটতি, ভুল বা ভুয়া কাগজপত্র করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এমনকি অতি দ্রুত পাসপোর্ট তৈরির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও পারপোর্ট না দেওয়া বা জাল কাগজপত্র সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করার অসংখ্য অভিযোগ আসে এসআরবি-২-এর কাছে। এই অভিযান অব্যহত থাকবে বলে জানায় এসআরবি।


নির্বাচিত

রাজধানীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল আমিরুলের

ছবি: ভুক্তভোগী মো. আমিরুল ইসলাম ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল মো. আমিরুল ইসলাম (৩৯) নামে এক যুবকের। রাজধানীর কদমতলীতে ঘটে এ দুর্ঘটনা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে রায়েরবাগ ফুটওভারব্রিজের নিচে মোটরসাইকেলচালক ওই যুবক দুর্ঘটনার শিকার হোন।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. আমিরুল ইসলাম (৪০) টাঙ্গাইল সদরের চরপাড়া এলাকার মো. ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি শ্যামপুরের ফরিদাবাদ এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।

আমিরুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী ইমরান ফকির বলেন, ‘রায়েরবাগ ফুটওভারব্রিজের নিচে দ্রুতগামী দুই গাড়ি প্রতিযোগিতা করে যাওয়ার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আমিরুল গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তার পকেটে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তার নাম-পরিচয় জানা যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা আছে


নির্বাচিত

বিক্ষোভ করা শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যান চলাচল স্বাভাবিক

মিরপুরে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী শ্রমিকদের হটিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও বাঁশি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেটির কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পরও আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের ধারণা, কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র আন্দোলনের আড়ালে জড়িয়ে পড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ লাঘবে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়কটি দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কেবল ছত্রভঙ্গ করতেই সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়; কোনো ধরনের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্যও আহত হননি।


নির্বাচিত

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়িতে আগুন

মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলনরত তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সংলগ্ন মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ৮টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সমবেত হয়ে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার জন্য দফায় দফায় অনুরোধ করলেও আন্দোলনকারীরা অবরোধ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা চারপাশ থেকে সংগঠিত হয়ে আবারও ইটপাটকেল ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরবর্তীতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে এই উত্তেজনারই ধারাবাহিকতায় দুপুরে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিষয়:

নির্বাচিত

মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

রবিবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। দ্রুতই এ আন্দোলন মিরপুর-১১, ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড়সহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক সড়কে নেমে এলে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ে এবং পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শ্রমিকেরা জমায়েত হয়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়ক উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে শ্রমিকদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে শ্রম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করলেও ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

এর আগে শনিবারও একই দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় টানা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই দিন দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় গিয়ে শাহ আলী থানার অন্তর্গত হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সে সময় ওই কারখানা ও সংলগ্ন বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালানো হয়। পরবর্তীতে বিকেলে পল্লবী থানার কালশী আদর্শনগর এলাকার একটি বহুতল পোশাক কারখানা লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছিলেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।

বিষয়:

নির্বাচিত

রাজধানীতে গ্রেপ্তার ৫৩৮, নতুন মামলা ২৯

গ্রাফিক্স ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময় ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৭ জন, লালবাগ বিভাগে ৬৯ জন, ওয়ারী বিভাগে ৭৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৩ জন, মিরপুর বিভাগে ১৭৫ জন, গুলশান বিভাগে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৪ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে ১ হাজার ৪০ পিস ইয়াবা, ৯০ পুরিয়া হেরোইন, ২২২ পুরিয়া গাঁজা, ৫টি মোবাইলফোন, ২টি চাকু, ১টি প্রাইভেটকার, ১টি মোটরসাইকেল, ১৩ হাজার ৮২০ টাকা ও দুজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

নিউ মার্কেটের ফুটপাত দখলমুক্ত করে গাছ লাগালো ডিএসসিসি

ফুটপাত দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন গাছের টব স্থাপন করা হয়েছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকার মূল রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী নিউমার্কেট এলাকায় ব্যাপক উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর)বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

​অভিযানের অংশ হিসেবে নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট থেকে চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট সংলগ্ন ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত মূল রাস্তা ও ফুটপাত এবং প্রিয়াঙ্গন সুপার মার্কেট থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত মূল রাস্তা সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হয়।

​পরবর্তীতে দখলমুক্ত ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয় এবং এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, সেজন্য সেখানে সাময়িকভাবে ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন গাছের টব স্থাপন করা হয়েছে।

​অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, “আমরা বারবার সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি, যাতে তাঁরা রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনা না করেন। এরপরও কেউ যদি রাস্তা দখল করে বসেন, তবে তাঁদের মালামাল জব্দসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। তাঁদের সহযোগিতায় নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনোভাবেই সড়কের ওপর অবৈধভাবে কেউ বসতে না পারেন।”

​তিনি আরও বলেন, “নিউমার্কেট এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারও মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। তাই পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জনগণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কোনো অবস্থাতেই জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না।”

​হকার নীতিমালায় হকারদের সার্ভিস চার্জ প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, “হকারদের পক্ষ থেকে সার্ভিস চার্জ কমানোর যে দাবি জানানো হয়েছে, তা ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত জানালে সে অনুযায়ী তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং এই তালিকার বাইরে কাউকে কোথাও বসার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

​পরিশেষে, এলাকার পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষকে ডিএসসিসি-কে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।


নির্বাচিত

ফুটপাত আবারও দখলের ষড়যন্ত্র করলে ছাড় নয়: ডিএনসিসি প্রশাসক

বক্তব্য দিচ্ছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর আবারও অবৈধ দখল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলে তা মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এ নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তা বরদাশত করা হবে না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গুরোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা দিতে ‘মোবাইল ফিভার ক্লিনিক’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অংশ। প্রধানমন্ত্রী জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ করছে সিটি করপোরেশন।

তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর আবারও দখল ফিরিয়ে আনার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে এসব চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে সরকার তার সক্ষমতা দেখিয়েছে। কেউ নতুন করে দখলের চেষ্টা করলে তা মোকাবিলা করা হবে।

নগরবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা থাকলে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে।

বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তারা দীর্ঘ ১৮ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। দলের নেতাকে নিয়ে সমালোচনা হলে তারা চুপ থাকবেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে তারা সহনশীল অবস্থানে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে নগরবাসীকে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ চলবে।

তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টসের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা ও দেশ গড়ার কাজে কাজ করবেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজধানীর পল্লবীতে ১২টি স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমির উদ্বোধন

পল্লবী ও রূপনগরে একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে তোলার প্রত্যয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পল্লবী ও রূপনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

পাশাপাশি এলাকায় পাঁচটি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যুবসমাজ ও পল্লবী থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে ১২টি স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমিনুল হক।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, পল্লবী ও রূপনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে উঠুক। শুধু ক্লাব গঠন করলেই হবে না, সারা বছর নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে।

এ জন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সার্বিক সহযোগিতা সরকারিভাবে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুবসমাজ চাইলে সামাজিক সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি শৃঙ্খলিত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।’

তরুণরা খেলাধুলায় মনোযোগী হলে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। এ পরিবর্তনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পল্লবী ও রূপনগরে পাঁচটি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে জানিয়ে আমিনুল বলেন, ‘দ্রুতই মাঠগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ ছাড়া রূপনগরের একটি মাঠ খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৩২টি প্লট বরাদ্দ থাকায় বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের অন্য জায়গায় প্লটের ব্যবস্থা করা হলে মাঠের জন্য জায়গাটি ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছেন তারা।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, মাঠটি প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লাগবে। সেখানে কৃত্রিম ঘাস, সীমানাপ্রাচীর ও আলোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।


নির্বাচিত

সাবেক বিমান কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু, হত্যার সন্দেহ বাবার

* বন্ধুর ডাকে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ * নদে মিলল মরদেহ; ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ
ছবি: সাবেক বিমান কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। গত বুধবার বিকেলে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার সন্দেহ, তাহসিফকে হত্যা করে নদে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ময়নাতদন্ত শেষে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাহসিফের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার বিষয়টি সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বন্ধুর ডাকে বেরিয়ে নিখোঁজ: তাহসিফের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিনের বেশির ভাগ সময় মায়ের সঙ্গে কাটান তিনি। পরিবারের জন্য কেনাকাটাও করেন। সন্ধ্যার দিকে দ্বীপ নামে এক ব্যক্তি তাকে ডাকতে এলে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর আর ফিরে আসেননি।

পরিবারের সদস্যরা তার ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে রাত ১টার পর তাহসিফ তার মাকে বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানান। কিন্তু এরপরও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তাহসিফের বাবা জানান, বুধবার দুপুরে ছেলের খোঁজে থানায় যান তিনি। পরে বিকেলে পুলিশ তাকে ফোন করে তুরাগ নদ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর জানতে পারেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার ছেলের।

হত্যার সন্দেহ পরিবারের: বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাহসিফের বাবা বলেন, তার ছেলে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সামাজিক ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বাবার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতেন তিনি।

বাবার দাবি, ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। তার সন্দেহ, তাহসিফকে হত্যা করে নদে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে কারা বা কী কারণে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

তাহসিফের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তার বাবা বলেন, ছেলের সঙ্গে কারও ঝগড়া বা বিরোধের কথা তিনি জানতেন না। স্বাভাবিকভাবে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা পরিবারের কেউ ভাবেননি।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ: নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় প্রথমে তাকে পরিচয় না জানা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের তৈরি সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট ফোলা ছিল। তবে বুক, পিঠ, পেট ও পায়ে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারের সময় তার পরনে কালো ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার ছিল। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরেই তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

ঢাকা জেলা নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কর্মজীবন ও সাম্প্রতিক ঘটনা: তাহসিফ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা জানান, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সর্বশেষ ভার্গ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় বিশ্রামে ছিলেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের সঙ্গে তাহসিফের নাম জড়িয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাহসিফের এমন মৃত্যু ঘিরে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার মৃত্যুর পেছনে দুর্ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।


নির্বাচিত

অবৈধ দখলদারদের উৎসাহিত করে এমন প্রশ্ন না করার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত পরিচালিত দুটি বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অবৈধ ফুটপাত দখলের পক্ষে যতই যুক্তি বা অজুহাত দেখানো হোক না কেন, কোনো অবস্থাতেই রাস্তা ও ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।

​আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত পরিচালিত দুটি বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি এ কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রথম দফায় সকাল ১১টা এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

​উচ্ছেদ অভিযান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা:

​অভিযানকালে মূল রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা বিপুল পরিমাণ অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয় এবং অবৈধ হকারদের মালামাল জব্দ করা হয়। ডিএসসিসির এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত সম্পূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হয়।

​পুনরায় দখল রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি:

​বারবার অভিযানের পরও হকারদের পুনরাগমনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন:

​"যতবারই অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা হবে, ততবারই আমরা নগরবাসীর স্বার্থে অভিযান চালাব। একাধিকবার আলোচনা, অনুরোধ ও সতর্ক করার মতো সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এখন থেকে অবৈধভাবে বসলে কেবল উচ্ছেদ নয়, মালামাল জব্দসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে।"

​গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে বক্তব্য:

​হকারদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদের অভিযোগ বিষয়ে প্রশাসক বলেন, গণমাধ্যমের উচিত নগরবাসীদের প্রকৃত দাবির পক্ষে জনমত গঠন করা।

“গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, এমন কোনো প্রশ্ন করবেন না যাতে অবৈধ দখলকারীরা উৎসাহিত হয়। ঢাকার নাগরিকরা কী চান এবং দেশের সাধারণ মানুষের দাবি কী—দয়া করে সে অনুযায়ী জনমত গড়ে তুলুন।”

​সিটি কর্পোরেশনের সীমাবদ্ধতা: “সারা দেশের বাস্তুচ্যুত মানুষের দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিতে পারবে না। এই ঢাকাকে আমাদের বাঁচাতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।”

​বিকল্প সমাধান: জনগণের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমিতসংখ্যক হকারকে বসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে; তবে বাকিদের নিজ নিজ জেলায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

​পথচারীদের উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি:

​অভিযান চলাকালে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পর চলাচলের সুব্যবস্থা ফিরে পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ডিএসসিসি প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে এই ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়মিত বজায় রাখার জোর দাবি জানান।

​এ বিষয়ে আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট পরিবর্তন বা ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানোর প্রয়োজন হয়, জানাবেন!


নির্বাচিত

banner close