রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত একটি পিকআপ ট্রাক জব্দ করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার পেট্রোবাংলা ভবনের সামনে থেকে পিকআপটি জব্দ করা হয়।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের কনস্ট্রাকশন সল্যুশনস নামক একটি প্রতিষ্ঠানের গোডাউনে অজ্ঞাত পরিচয় ১৫/২০ জনের একটি ডাকাত দল প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে কন্টেইনারের ভেতর আটকে রেখে গোডাউনে থাকা নগদ ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করে। পরে একটি পিকআপ ট্রাকে করে গোডাউনে থাকা প্রায় তেত্রিশ লাখ টাকার মালামাল, একটি মোটরসাইকেল ও ১৫টি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে খিলগাঁও থানার মেরাদিয়া নয়াপাড়া এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মো. রাসেল (৪৫) মো. মীর হোসেন (২৪) ও মো. আবুল হাসান (২২) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সেই পিকআপ ট্রাকটি খিলগাঁও থানা পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর তেজগাঁও কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির (৪৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী আবদুর রহমান জানান, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তিনি কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। ওই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন, ‘আমাকে বাঁচান, আমারে হাসপাতালে নিয়ে যান। আমার পেটে রড ঢুকেছে।’ তবে রড কীভাবে পেটে ঢুকল কিংবা কেউ তাকে আঘাত করেছে কি না, সে বিষয়ে ওই ব্যক্তি কিছু বলতে পারেননি।
আবদুর রহমান আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অন্য আরেকজনের সহযোগিতা নিয়ে গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, নিহতের পেটে রক্তাক্ত জখম রয়েছে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শফিক নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ রায় ঘোষণা করেন।
বিচারক রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. সোহেল রানা ওরফে কালু ও মো. নাজিম উদ্দিন ওরফে নাজিম ওরফে নজু। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায়ে বিচারক বলেন, ‘আসামিরা পেশাদার অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষিত যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপুর্যপরি আঘাতের মাধ্যমে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে ছিনতাই করতে গিয়ে, তাই আসামিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হকদার।’
নথি থেকে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ২২ জুন ভোর সোয়া ৪টার দিকে এজাহারকারীর ছেলে শফিক বগুড়া থেকে এস আর পরিবহনে ঢাকার কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে তার বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে রওনা করেন। এশিয়া সিনেমা হলের সম্মুখে পৌঁছালে তিনজন আসামি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শফিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দ্বারা এলোপাথাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় ভুক্তভোগী মারা যায়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকবর আলী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর আসামি মো. সোহেল রানা ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর সে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।
২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮৭০টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১১টি বাস, ১টি ট্রাক, ৬টি সিএনজি ও ৩৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৯৫টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ৬টি বাস, ৪টি ট্রাক, ২৩টি সিএনজি ও ৮০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৩৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ১৯টি বাস, ১টি ট্রাক, ১৩টি কাভার্ড ভ্যান, ৮৭টি সিএনজি ও ১৩৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩০০টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-ওয়ারি বিভাগে ২৬টি বাস, ২৩টি ট্রাক, ৩২টি কাভার্ড ভ্যান, ৪৩টি সিএনজি ও ১০৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩০৭টি মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১২টি বাস, ৭টি ট্রাক, ১৪টি কাভার্ড ভ্যান, ৬১টি সিএনজি ও ৮৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৩০টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৯টি বাস, ১৪টি ট্রাক, ২৮টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৭টি সিএনজি, ১৮১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩১৪টি মামলা হয়েছে।
ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৭টি বাস, ৯টি ট্রাক, ৯টি কাভার্ড ভ্যান, ৫৩টি সিএনজি ও ৯৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৮৫টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ১৭টি বাস, ২টি ট্রাক, ৯টি কাভার্ড ভ্যান, ৪৫টি সিএনজি ও ৬০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২০৩টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানকালে মোট ৪৯৩টি গাড়ি ডাম্পিং ও ২৭৩টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
গত শনিবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মামলা করে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আজ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় এবং প্রতি পরিবারকে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিহাসের এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরো বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, কঠিন সময়েও সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের অবদান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
বক্তব্যে তিনি অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনার সত্য উদঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যা জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করে। জনগণের কল্যাণ, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ন্যায়, ইনসাফ ও সমৃদ্ধির রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল সবসময় শহিদ সাংবাদিক পরিবারের পাশে থাকবে। তাদের পরিবার ও সন্তানদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবকে ভুলতে দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।
অনুষ্ঠানে শহিদ সাংবাদিক পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আজ রবিবার রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অফিসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বৃষ্টি হলেও বাতাসের উষ্ণতায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই, অর্থাৎ তাপমাত্রা প্রায় একই থাকবে। রবিবার সকাল ৭টা হতে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য প্রদান করা এক বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আজ ঢাকার গগন আংশিক হতে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক হতে ঘণ্টায় ১০ হতে ১৫ কিলোমিটার বেগে মৃদু বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর পারদ ছিল ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। উল্লেখ্য যে, গত শনিবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বিগত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় সামান্য ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস-ট্রাকসহ সব যান দ্রুত সরিয়ে নিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিবেশ দূষণবিষয়ক সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এসব কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেন।
ঢাকায় যানবাহনের হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়া রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজধানীতে আরও ৪৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময়ে ৩৮টি মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী শনিবার (১৮ জুলাই) এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৪৭, লালবাগ বিভাগে ৩২, ওয়ারী বিভাগে ৪৫, মতিঝিল বিভাগে ৫০, তেজগাঁও বিভাগে ৫০, মিরপুর বিভাগে ১১৪, গুলশান বিভাগে ৪৭, উত্তরা বিভাগে ৬৪, সিটিটিসিতে একজন ও গোয়েন্দা বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৫৮০ গ্রাম গাঁজা, একটি সিএনজি, একটি মোটরসাইকেল, ১০টি মোবাইল, চারটি অটোরিকশার ব্যাটারি, একটি চাকু, একটি চাপাতি ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা তার নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি গাইবান্ধায় রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা দাবি করেছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় নির্মাণ, রক্ষা ও সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও অংশগ্রহণ ছিল। সরকার গঠনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দিরে কত উচ্চতার মূর্তি নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে আইনি কোনো নির্ধারিত সীমা নেই।
আর যে মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ছিল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি জানতেন। এর পরও মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংখ্যালঘুদের ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায় না।
যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল মণ্ডল প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
প্রসঙ্গত, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি স্পোর্টস কারে তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক সাজ্জাদ হোসেন আশিক (২০) শাহআলী থানাধীন তুরাগ সিটির বাসিন্দা সাহাদাত হোসেন বাপ্পির ছেলে।
জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে দারুসসালাম ট্রাফিক জোনে দায়িত্ব পালনকালে সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায় বেপরোয়া গতিতে চলা হলুদ রঙের একটি নতুন স্পোর্টস কারকে থামানোর সংকেত দেন। চালক প্রথমে গাড়ি থামালেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশির জন্য চালক ও আরোহীকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়।
এ সময় চালক হঠাৎ দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায় তাৎক্ষণিক ধাওয়া করেন। পরে গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সেলফি কাউন্টারের সামনে থেকে গাড়িটি আটক করা হয়।
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) বিকাসুজ্জামান রনিসহ ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে গাড়ির আরোহী সাজ্জাদ হোসেন আশিককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ দারুসসালাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সতর্ক, সক্রিয় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সীমানা প্রাচীর টপকে রিম্পা (২১) নামে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী বন্দি পালানোর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই চরম নিরাপত্তা বিচ্যুতির দায়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুইজন মেট্রন এবং পাঁচজন মহিলা কারারক্ষীসহ মোট সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ বরখাস্তের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরখাস্তকৃতরা হলেন— মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেট্রন মেরিনা, মেট্রন রেহেনা এবং মহিলা কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের অভ্যন্তরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। সেই সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের চোখের আড়াল হয়ে বন্দি রিম্পা অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সুকৌশলে দেওয়াল টপকে পালিয়ে যান।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। ঘটনার পরপরই কারা অভ্যন্তরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরবর্তীতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে স্থানীয় কোনাবাড়ী মডেল থানায় কারা প্রশাসনের পক্ষ হতে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক সুলাইমান তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে কমলাপুর এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মতিঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে সুব্রত বাইনের ছত্রছায়ায় থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অপরাধমূলক কাজ পরিচালনা করে আসছিল। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডিবি ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে আরও ৪০১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় বিভিন্ন থানায় ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্য জানান।
নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৪৪ জন, লালবাগ বিভাগে ২৬ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪২ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪১ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৩১ জন, মিরপুর বিভাগে ১১৯ জন, গুলশান বিভাগে ৪৭ জন ও উত্তরা বিভাগে ৩৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ২৫ হাজার ১০৯ পিস ইয়াবা, ২০ কেজি ৯৫০ গ্রাম গাঁজা, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ১৫টি বাঁশের তৈরি মশাল, ৮৩টি মোবাইল ফোন, আওয়ামী লীগের স্লোগানসংবলিত একটি ব্যানার, পাঁচটি প্ল্যাকার্ড, একটি হাইস গাড়ি, ৬ হাজার ৬০০টি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ ও একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে ডিএমপি জানিয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মানিকনগর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা ও প্রজনন স্থান ধ্বংসে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ডিএসসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএসসিসি কর্তৃক বারবার সচেতন ও সতর্ক করার পরও অবহেলা করায় অভিযানে ৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ অপরাধে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫টি মামলায় সর্বমোট ৩১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি, লার্ভা পাওয়া স্থানগুলো লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই বিশেষ মশকনিধন অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।