রাজধানীর ন্যাশনাল মডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার জেরে যাত্রাবাড়ীতে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে (ডিএমআরসি) কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, এপিবিএন, ছাড়্রাও যাত্রাবাড়ী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংরাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা চালায়। এ সময় কলেজটির ১০ তলা ভবনের প্রতিটি তলায় ভাঙচুর, বিভিন্ন সামগ্রী ও সরঞ্জাম লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই হামলা-সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুপক্ষে অনেকে আহত হন। তাদের মধ্যে ৩৩ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও রয়েছে বলে জানা গেছে।
মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, তাদের কলেজে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এরপর ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। কলেজের টাকাপয়সাও লুট করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয়, ভুল চিকিৎসায় অভিজিৎ হাওলাদার নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগের জের ধরে রোববার রাজধানীর ৩৫টি কলেজের ছাত্ররা পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এ সময় সোহরাওয়ার্দী কলেজে সাতটি কলেজের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষার হলেও হামলা চালায় ছাত্ররা। তাদের তাণ্ডবে পরীক্ষা পণ্ড হয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে এই পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে রোববার রাতেই সেন্ট গ্রেগরি কলেজে হামলা চালান সোহরাওয়ার্দী কলেজের ছাত্ররা। রাতেই তারা সংবাদ সম্মেলন করে সোহরাওয়ার্দী কলেজে হামলা-ভাঙচুরের বিচার ও প্রশাসনিক কাগজপত্র ফিরিয়ে দিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। তারা কলেজের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করে।
ওই ঘটনার জের ধরেই সোমবার ‘মেগা মানডে’ ঘোষণা করে কবি নজরুল কলেজের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে ডিএমআরসির উদ্দেশে রওনা হন এই দুই কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় যায়। অপরদিকে ডিএমআরসির ছাত্ররাও অবস্থান নেয় সড়কে, স্থানীয়রাও জোগদেন তাদের সঙ্গে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আহত হয়ে সড়কে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করেছেন।’
অপরদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে ৩৫ জনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব (১৯), শাহেদুল (২০), আশিকুল (২১), রোহান (১৯), সম্রাট (১৮) ও জয় (১৮)।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রানা (২০), মারুফ (১৯), হাসিনুর (১৯), সিফাত (১৮), জাহেদুল (২১), আসিফ মাহমুদ (১৮), সাকির (১৯), জুবায়ের রহমান সাজ্জাদ (১৯), সৈকত (১৯), জারিফ (১৮); আরাফাত (১৯), মারুফ (২২); অনুপম দাস (২৩), জুয়েল ইসলাম (২২), নাঈম (২২); সুমন (২২)।
রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত (১৯)। ইম্পেরিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের হুমায়ুন (২০)।
সলিমুল্লাহ কলেজের শিক্ষার্থী রুমান (১৯), নোমান (২০); সাইদুল ইসলাম (১৯), অনয় (২১), আব্দুর রহমান (২০); রাজীব (২৪)।
ড.মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের নাফি (১৮) (গুলিবিদ্ধ), অনার্স প্রথম বর্ষের ইশতিয়াক (২২)। দোলাইপাড় এ কে স্কুলের তাসরিফ (১৮)। দনিয়া ব্রাইট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র মাহিম হোসেন (১৫)।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, যাত্রাবাড়ী থেকে আহত অবস্থায় ৩৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের এক শিক্ষার্থীর পেটে গুলি লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এদিকে, গত রোববারের সংঘর্ষের ঘটনায় ভাঙচুর ও গুলিভর্তি ম্যাগাজিন চুরির অভিযোগে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের আট হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় মামলা করেছে পুলিশ। রোববার সুত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক এ কে এম হাসান মাহমুদুল কবীর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
সূত্রাপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখার উপ পরিদর্শক (এসআই) অনুপ দাস জানান, সোমবার (২৫ নভেম্বর) মামলার এজাহার আদালতে জমা দেওয়া হলে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত তা গ্রহণ করেন। আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২৪ নভেম্বর (রোববার) ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের ৭/৮ হাজার শিক্ষার্থী বেআইনি জনতাবদ্ধে মারাত্মক অস্ত্র-শস্ত্রসহ দাঙ্গা সৃষ্টি করে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। সরকারি অস্ত্রের (পিস্তল) গুলিভর্তি ম্যাগজিন চুরি, সরকারি ডিউটিতে ব্যবহৃত সাঁজোয়া যান বা এপিসি (আর্মার পার্সনেল ক্যারিয়ার) ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করে। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা, জীবননাশের হুমকি দেওয়া এবং ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করে। এছাড়া পুলিশের এপিসি কার ও ডিউটিরত পুলিশের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া গত রোববার সংঘর্ষের সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কেন অ্যাকশনে যায়নি সে বিষয়ে ব্যাখা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অ্যাকশনে গেলে আরও রক্তপাত হতো।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেন উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে বলা হয়, শত চেষ্টা ও বসে সমাধান করার আহ্বান জানানোর পরও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে জড়ানো থেকে আটকানো গেলো না। শিক্ষার্থীদের অ্যাগ্রেসিভনেস ও প্রস্তুতি দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও স্ট্রিক্ট অ্যাকশনে যায়নি। কোনও প্রকার অ্যাকশনে গেলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ ও রক্তপাত হতো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। একত্রে দেশ গড়ার সময়ে সংঘর্ষের মতো নিন্দনীয় কাজে জড়ানো দুঃখজনক। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়্রা, সংঘর্ষে না জড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। এসব সংঘাতের পেছনে কারো কোনো ধরনের ইন্ধন থাকলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে সংঘাত-সংঘর্ষ হয়েছে, সরকার নজর রাখছে। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের কোনো ধরনের সংঘর্ষে না জড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
এর আগে গত রোববার রাতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স) ও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলন্ত অবস্থায় মেট্রোরেলের পেছনের একটি দরজা হঠাৎ খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ২৬ মিনিট ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করার পর ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে এ অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক বিভ্রাট ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এমআরটি পুলিশের (অপারেশন) পরিদর্শক মো. মহসীন শেখ জানান, সকালে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলগামী একটি মেট্রোরেল চলাচলের সময় হঠাৎ এর পেছনের একটি দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই রুটে ট্রেন পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর প্রকৌশলীরা দ্রুত যান্ত্রিক ত্রুটি সমাধান করলে সকাল ৮টা ৩ মিনিটে পুনরায় পরিষেবা চালু করা হয়। সাময়িক এই বিভ্রাটের পর বর্তমানে মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে মো. জাভেদ আহম্মেদ (৫১) নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ভাটারা থানার একটি আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ধানমন্ডি ১০ নম্বর সড়কের লেকপাড়ে আবেশ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের ৭ নম্বর শাখার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
ধানমন্ডি থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে লেকে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সঙ্গে থাকা একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পায়। ওই পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হলে জাভেদ আহম্মেদের স্ত্রী শাহানা জাবিন খান মরদেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশকে শাহানা জাবিন খান জানান, জাভেদ দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন এবং আর্থিক সংকটে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে কীভাবে তিনি ধানমন্ডি লেকে গেলেন এবং সেখানে তার মৃত্যু হলো, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে এসআই গফুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জাভেদ আহম্মেদের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
রাজধানীর বনানীতে বাসের ধাক্কায় হাসান ইমাম সোহেল (৪৫) নামের এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেলের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায়। তিনি মোহাম্মদপুরে ভাড়া থাকতেন এবং একটি বেসরকারি কোম্পানিতে মার্কেটিংয়ের কাজ করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোহেল মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় লাবিব পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে
বিষয়টি নিশ্চিত করে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে।’
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীকে প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা। পরে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএমএ পশ্চিম জোনের শেরেবাংলানগর থানাধীন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক রোগীকে লক্ষ্য করে মো. রিয়াজ হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের জন্য নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
তবে রোগী বিষয়টি বুঝতে পেরে কোনো প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের অবহিত করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ পিসি মো. আমিনুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের আনসার টিম দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি দালালি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বিভিন্ন সময় রোগী ও স্বজনদের সহজে চিকিৎসাসেবা এবং কম খরচে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করতেন বলেও জানান।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। কর্তৃপক্ষ অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের নিকট সোপর্দ করে।
অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন পিসি মো. আমিনুল হক, এপিসি জহিরুল ইসলাম, আনসার মো. হাবিবুর রহমান ও মো. আমিনুল ইসলাম। দালালচক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও সাহসিকতার সঙ্গে তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নাগরিকদের সচেতনতা ও সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ চলছে। ডিএনসিসির বিভিন্ন অভিযানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এলাকায় ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া গেলেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম রয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’-এর উদ্বোধনে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ডিএনসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে সচেতনতামূলক লিফলেট তৈরি করে জোনাল কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বাসাবাড়ি, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন গণপরিসরে বিতরণ করা হচ্ছে।
নগরবাসীর সহযোগিতা ও সচেতনতা বাড়াতে প্রশাসকের স্বাক্ষর সংবলিত খোলা চিঠি খামজাত করে বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদরাসায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানায় প্রতিদিনের সব চিত্র একার পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরায় যেসব সমস্যা তুলে ধরেন, তার ভিত্তিতে আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারি। নগরবাসীর সেবাদানে সাংবাদিকরা আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার।
তিনি আরো বলেন, সামনের পিক সময়ে কোনো ধরনের নেতিবাচকতায় না গিয়ে আমাদের সবাইকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শহরের যাতায়াতব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। মিরপুর, উত্তরা, কারওয়ানবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুনরায় দখল ঠেকাতে তদারকি বাড়ানো হচ্ছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি এসেছে। অধিক জনসমাগম ও চলাচলকারী প্রধান সড়কগুলোতে এখন দুই শিফটে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে নাগরিক সচেতনতা ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
পথচলার সময় যেখানে-সেখানে ময়লা বা ব্যবহৃত টিস্যু না ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাতের বেলায় ময়লা ফেলা বন্ধে মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন ও সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, দেশ গঠন ও সুশাসনের লক্ষ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নগরসেবা দিতে ডিএনসিসি বদ্ধপরিকর। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং পরিচ্ছন্ন ও শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে একটি র্যালি বের করা হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার বক্তব্য দেন। তারা ডিএনসিসি প্রশাসকের নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানের প্রশংসা করে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামতকাজের জন্য মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় টানা পাঁচ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময়ের মধ্যে দক্ষিণ পাইকপাড়া, সোনালী নগর, বটতলার পূর্বাংশ ও পশ্চিমাংশসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।
এছাড়া এসব স্থান ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলে তিতাস জানিয়েছে।
গ্রাহকদের এই সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
একটি সিলিন্ডারের গায়ে লেখা—‘ডোন্ট ইউজ আফটার ২০২১’। অর্থাৎ চার বছর আগেই যার ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়েছে, ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সেই সিলিন্ডারই পাওয়া গেছে আশুলিয়ার একটি হোটেলের সামনে। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তার দাবি—গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান বা লরিতে এভাবে গ্যাস মজুত ও পরিবহন করার অনুমোদনই নেই।
এই দুটি তথ্য সামনে আসার পর আশুলিয়ার জামগড়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে আটজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া সিলিন্ডার কীভাবে ব্যবহার হলো, অনুমোদন না থাকা যানবাহনে কীভাবে গ্যাস পরিবহন করা হলো এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কার নজরদারিতে ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।
গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের চত্বরে কাভার্ডভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ছিটকে পড়ে আশপাশের সড়ক, দোকান ও ভবনে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিস্ফোরণের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর পুড়ে যাওয়া যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে একটি কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীর এতটাই পুড়ে গেছে যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের মধ্যে সালমা আক্তার ও বুলবুল নামে দুজনকে স্বজনেরা শনাক্ত করার দাবি করেছেন। পরিচয় নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে দুর্ঘটনায় আহত নজরুল ইসলাম (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে মারা যান। তিনি প্রীতি গ্রুপের কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বিক্রি করতেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে নজরুল মারা গেছেন। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন।
বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডার ছিটকে যায় কয়েকশ গজ: ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা শুধু প্রাণহানিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিস্ফোরণের অভিঘাতে সিলিন্ডার ও বিভিন্ন ধাতব অংশ ছিটকে গিয়ে আশপাশের ভবন ও দোকানে আঘাত করে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি দুইতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার দেয়াল ভেদ করে লোহার একটি অংশ ঢুকে যায়। দেয়ালে তৈরি হয় বড় দুটি ছিদ্র ও ফাটল।
সে সময় বাসায় ছিলেন গৃহিণী নাজমা ও তার মেয়ে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ঘরের আসবাবপত্র ও দেয়ালের ইট ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে মেয়েকে নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসেন তিনি।
নাজমার ভাষ্য, ভবনটি নির্মাণের বয়স ছয় মাসও হয়নি। এর মধ্যেই বিস্ফোরণের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন ক্ষতিপূরণ কে দেবে—এ প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে হোটেল মালিক আব্দুল হালিমের সামনে থাকা একটি সিলিন্ডার নজরে আসে।
সিলিন্ডারটির গায়ে ইংরেজিতে স্পষ্টভাবে লেখা—‘ডোন্ট ইউজ আফটার ২০২১’। অর্থাৎ সিলিন্ডারটি ২০২১ সালের পর ব্যবহার না করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সেটিই বিস্ফোরণের পর ছিটকে এসে পড়েছে লোকালয়ে।
আশুলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকনও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, সিলিন্ডারটি মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০২১ সালের পর সেটি ব্যবহারের কথা ছিল না।
এই তথ্য দুর্ঘটনার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সেটি কার হেফাজতে ছিল, কীভাবে ব্যবহার করা হলো এবং ব্যবহারের আগে সেটি পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন গুরুত্বপূর্ণ।
‘কাভার্ডভ্যানে গ্যাস পরিবহনই অনুমোদিত নয়’: মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়টিও।
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান বলেছেন, প্রীতি গ্রুপে কাভার্ডভ্যান বা লরিতে যেভাবে গ্যাস মজুত করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি অবৈধ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাভার্ডভ্যান বা লরিতে করে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন অনুমোদিত নয়। এ ধরনের যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও রয়েছে।
তাহলে অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও গ্যাসবাহী গাড়ি কীভাবে কারখানা চত্বরে ঢুকল—এ প্রশ্নের উত্তরও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বিস্ফোরক অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনুমোদনহীনভাবে গ্যাস পরিবহন ও মজুতের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলও করা হয়েছে।
তবে সংস্থাটির কর্মকর্তারা জনবল ও লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন। ঢাকা কার্যালয়ে কর্মকর্তা কম, নেই নিজস্ব গাড়িও। ফলে নিয়মিত নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
মেহেদী ইসলাম খান জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজর এড়িয়ে বিশেষ করে গভীর রাতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কারণে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পাশাপাশি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণায় আগুন লাগার দুটি সম্ভাবনা সামনে এসেছে। প্রথমত, আগুনের সংস্পর্শে অগ্নিকাণ্ড হতে পারে। দ্বিতীয়ত, মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কারণকেই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বের করা হবে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা জোন-৪-এর সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামানকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
তদন্তে বিস্ফোরণের সূত্রপাত, গ্যাস সিলিন্ডারের মান ও মেয়াদ, পরিবহন পদ্ধতি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা—সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।
বিশেষ করে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারটি কীভাবে ব্যবহারের সুযোগ পেল, সেটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম।
আটজনের মৃত্যু, তিনজনের আহত হওয়া, কয়েকশ গজ দূরে সিলিন্ডার ছিটকে পড়া এবং ভবনের দেয়াল ভেদ করে ধাতব অংশ ঢুকে যাওয়ার মতো ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এটি কি শুধুই একটি দুর্ঘটনা, নাকি নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষার ধারাবাহিক ফল?
মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহারের তথ্য এবং অনুমোদনহীনভাবে কাভার্ডভ্যানে গ্যাস পরিবহনের অভিযোগ সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই মিলতে পারে এর উত্তর।
বিএনপি কোনো খুচরা দল নয়, জনগণের সঙ্গে দলটির সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল। দলটি কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা চায় না। বিরোধী দলে থাকাকালে বিএনপি মারামারি করেনি এবং অস্ত্র হাতে তুলে নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আবদুস সালাম। সারাদেশে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয় বলে আয়োজকেরা জানান।
আবদুস সালাম বলেন, বিএনপি কোনো খুচরা দল নয়। জনগণের সঙ্গে দলটির সম্পর্ক রয়েছে। দলটি জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করে বলেও তিনি বক্তব্য দেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো ব্যক্তি বা বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় আসেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের ভোটেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীর দায়িত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি সবসময় গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে ছিল দাবি করে আবদুস সালাম বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সরানোর কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
তিনি বলেন, পাঁচ বছরের জন্য জনগণ ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছে। যারা সরকারকে সরানোর কথা বলছে, তাদের উদ্দেশে তিনি পাঁচ বছর অপেক্ষা করার আহ্বান জানান।
দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রতিটি এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত ছিল বলেই বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পেরেছে বলে মন্তব্য করে তিনি ভবিষ্যতেও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
নয়াপল্টনের কর্মসূচিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচিটি সারাদেশে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের সায়েন্স ল্যাব থেকে বাটা সিগন্যাল মোড় পর্যন্ত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স প্রদর্শন ও সিটি করপোরেশনের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে সড়কের দুই পাশের বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ও ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, সাইনবোর্ড কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং ফুটপাত অবৈধভাবে সাইনবোর্ড বা মালামাল রাখা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন দোকান, রেস্তোরাঁ ও ভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) পানি ফুটপাতে ফেলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং এডিস মশার লার্ভা বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
অভিযান চলাকালে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স প্রদর্শন এবং সিটি করপোরেশনের নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
জনস্বার্থে এবং নগরবাসীর জন্য সুশৃঙ্খল ও চলাচল উপযোগী ফুটপাত নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্বে মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান গুলশান বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারক করবেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ১০০টিরও বেশি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণবার উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জব্দ করা স্বর্ণবারগুলোর মোট পরিমাণ, ওজন ও আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে এসব স্বর্ণের চালানের সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য যাচাই, তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দরে অভিযান ও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। স্বর্ণবারগুলো কীভাবে বিমানের ফ্লাইটে আনা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযান ও যাচাই-বাছাই শেষে জব্দ করা স্বর্ণের সঠিক পরিমাণ, ওজন, আনুমানিক মূল্য এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ১০০টিরও বেশি স্বর্ণবার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণবার উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জব্দ করা স্বর্ণবারগুলোর মোট পরিমাণ, ওজন ও আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে এসব স্বর্ণের চালানের সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য যাচাই, তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দরে অভিযান ও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। স্বর্ণবারগুলো কীভাবে বিমানের ফ্লাইটে আনা হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযান ও যাচাই-বাছাই শেষে জব্দ করা স্বর্ণের সঠিক পরিমাণ, ওজন, আনুমানিক মূল্য এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর কার্যালয় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার বিআরটিএর মিরপুর কার্যালয় প্রাঙ্গণে অভিযান চালানো হয়।
বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামানের পরিচালনায় আদালত-৩-এর অধীনে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয় এলাকা থেকে ১১ জন দালালকে আটক করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনকে সর্বমোট ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং বাকি ৬ জনের প্রত্যেককে ৬০ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত।
কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে মো. মনির মোল্ল্যা, সুজন চন্দ্র দাস, মো. আল আমিন, মো. টিপু, মোফাজ্জেল হোসেন ও আব্দুল মান্নান শিকদারকে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এই প্রতারক চক্র বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কাগজপত্র ও টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যেত—এমন অসংখ্য অভিযোগ আমাদের কাছে ছিল। সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি দূর করতে এবং বিআরটিএ’কে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত রাখতে আমাদের এই অভিযান নিয়মিত চলমান আছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’
রাজধানীর বাড্ডা থানার আফতাবনগর এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে স্যানিটারি কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. নিহাম (১৫) নামের এক কিশোর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পারে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের সহকর্মী আল-আমিন জানান, আফতাব নগরের একটি ভবনের ৮তলায় স্যানিটারির কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়, ওখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।
তিনি আরও জানান, নিহত নিহামের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর নানুপুর মিয়াজী বাড়ি গ্রামে চান মিয়া গাজীর ছেলে। বর্তমানে তার পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার আফতাবনগর এফ-ব্লকে পাসপোর্ট অফিস এলাকায় থাকত। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ছোট।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।