বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
৪ চৈত্র ১৪৩২

মোহাম্মদপুরের 'মাদক সম্রাট'খ্যাত সেলিম গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৭:২১

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকার কুখ্যাত মাদক সম্রাটখ্যাত 'চোরা সেলিম' নামে পরিচিত মোহাম্মদ সেলিম আশরাফিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

কয়েক মাস গোয়েন্দা নজরদারির পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে পরোয়ানাভুক্ত সেলিমকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-২।

৪৪ বছর বয়সী সেলিমের বিরুদ্ধে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বছরের পর বছর ধরে আধিপত্য বিস্তারকারী একটি মাদক সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগ রয়েছে। তার কথিত অপরাধমূলক সাম্রাজ্যে মাদক ব্যবসা ছাড়াও হত্যা, চুরি, চাঁদাবাজি এবং সহিংস সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

জেনেভা ক্যাম্প এলাকা সেলিমের নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানা গেছে।

জেনেভা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় র‌্যাব-২ সেলিমের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের তৎপরতা জোরদার করে।

র‌্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার খান আসিফ তপু জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষায়িত দল বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানটি এই অঞ্চলে সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দেওয়ার চলমান প্রচেষ্টার অংশ বলেও জানান তিনি।

সেলিমের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, তার গ্রেপ্তার জেনেভা ক্যাম্প অঞ্চলের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত হবে, যা ব্যাপক মাদক ব্যবসা রোধ করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।


ঈদের আগে স্বস্তি: ঢাকার বাতাস আজ ‘নির্মল’

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১০:২২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে প্রায়ই শোনা যায় “বায়ুদূষণে শীর্ষে” থাকার খবর। তবে এবার চিত্র ভিন্ন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগ মুহূর্তে সাম্প্রতিক বৃষ্টি এবং ঈদের ছুটির প্রভাবে ঢাকার বাতাসে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় এবার অনেক নিচে নেমে এসেছে এই নগরী।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানআইকিউএয়ারের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা যায়। সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে প্রকাশিত তাৎক্ষণিক বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ৮৮তম।

আইকিউএয়ারের তথ্য বলছে, ওই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার আইকিউএয়ারের স্কোর ২০২—যা “খুবই অস্বাস্থ্যকর” পর্যায়ে পড়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ১৫৮)। তালিকার পরবর্তী অবস্থানগুলোতে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল, মঙ্গোলিয়ার উলানবাত্তার, নেপালের কাঠমুণ্ঠু, চীনের সাংহাই ও ভিয়েতনামের হ্যানয়।

অন্যদিকে, একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর ছিল ইন্দোনেশিয়ার বাতাম, যার আইকিউএয়ার স্কোর ছিল শূন্য। নির্মল বায়ুর তালিকায় আরও রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েটল, অস্ট্রেলিয়া ক্যানবেরা ও ডেনমার্কের কোপেনহেগেন।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, ০–৫০ স্কোরকে ভালো, ৫১–১০০ মাঝারি, ১০১–১৫০ সতর্কতামূলক, ১৫১–২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১–৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা চরম অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাজধানীর ভেতরেও বায়ুর মানে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে দূষিত এলাকা ছিল শাহবাগ, যেখানেআইকিউএয়ার স্কোর ছিল ১৪৪। এছাড়া গুলশান-১ (৭৫), বাড্ডা (১০২), নিকেতন (৭৫), বারিধারা (৯৩), হাজারীবাগ (৯৭) এবং মিরপুরে (৭৭) তুলনামূলকভাবে মাঝারি থেকে সতর্কতামূলক অবস্থায় ছিল।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহন চলাচল ও নগর কার্যক্রম বাড়লে বায়ুর মান আবারও খারাপ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রাণ হারান—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত।


শ্যামপুরে ডিএসসিসির বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রবিবার রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম উক্ত কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, “নগরবাসীর জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সড়কবাতির ব্যবস্থাকে শতভাগ কার্যকর করতে চাই। একই সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের কর আদায় প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব করতে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ট্যাক্স নির্ধারণ ও আদায় কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “নগর উন্নয়নমূলক সকল কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং কাজের গুণগত মান অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কোনো কাজ অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।” এ সময় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে শ্যামপুর এলাকায় একটি ব্যায়ামাগার ও পাঠাগার নির্মাণের বিষয়েও তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

শ্যামপুর এলাকার এ বিশেষ অভিযানে প্রায় দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী অংশগ্রহণ করেন। অভিযান চলাকালে ড্রেন ও ফুটপাত থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হয়, পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ওষুধ ছিটানো হয়। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি র‍্যালিও অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


মাঠপর্যায়ের তদারকির লক্ষ্যে ওয়াসার এমডির বিভিন্ন স্থাপনা ও কার্যক্রম পরিদর্শন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম সেবার মানোন্নয়ন ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন স্থাপনা ও কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি মডস জোন–১ ও ৭ এবং রেভিনিউ জোন–১ ও ৭ পরিদর্শন করেন।

পরবর্তীতে তিনি সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ফেজ–১ ও ফেজ–২ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি পানি শোধন প্রক্রিয়া, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি আধুনিক স্কাডা প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহ কার্যক্রম তদারকির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন এবং এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. মিজানুল হক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ) (অতিরিক্ত দায়িত্ব), শওকত মাহমুদ, প্রধান প্রকৌশলী এবং ঢাকা ওয়াসার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঢাকা নগরবাসীকে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মেধা, সততা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেবার মান উন্নয়নে সকলকে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান।


রাজধানীর নদ্দায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বারিধারা এলাকার নদ্দায় একটি পদচারী-সেতুর নিচে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৯টা ৮ মিনিটের দিকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে জানায় ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ।

খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।


ছিনতাইকারী ও মলম পার্টি ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা ডিএমপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি ছিনতাইকারী ও মলম পার্টির সদস্যদের ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তান বাস টার্মিনালে আয়োজিত এক উদ্বুদ্ধকরণ সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। সভায় তিনি পরিবহন শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, শ্রমিকরাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন কারা প্রকৃত যাত্রী আর কারা অপরাধী, তাই পুলিশকে তথ্য দিয়ে বা সরাসরি ধরিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করলে যথাযথ পুরস্কার প্রদান করা হবে। তবে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যেন কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, বরং অপরাধীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পরিবহন শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি চালকদের নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা, বাসের ছাদে যাত্রী না তোলা এবং এক আসন একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি না করার বিষয়েও তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। অতিরিক্ত ভাড়া ও অনিয়ম রোধে বিআরটিএ এবং ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও তিনি সভায় উল্লেখ করেন।

চালকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার গুরুত্বারোপ করে কমিশনার জানান যে, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন বা অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না এবং টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি স্টিয়ারিংয়ে থাকা উচিত নয়। এছাড়া গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার এবং উচ্চস্বরে গান বাজানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় কালো ধোঁয়া নির্গত হওয়া ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি রাস্তায় না নামানোর জন্য তিনি মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

আসন্ন ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, ফিটনেস বা নম্বর প্লেটের মতো বিষয়গুলো ঈদ পরবর্তী সময়ে দেখা হবে, তবে বর্তমানে প্রধান লক্ষ্য হলো যানজট মুক্ত রাখা। রাস্তায় কোনো বাস নষ্ট হয়ে যাতে কৃত্রিম জ্যাম তৈরি না হয় সেদিকে চালকদের সতর্ক থাকতে হবে। জ্যাম সৃষ্টিকারী বা নিয়ম অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিএমপি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন।


​পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে ‘সিদ্দিক বাজার কমিউনিটি সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন ডিএসসিসি  প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে আধুনিক ও নান্দনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি নতুন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র উপহার দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকালে সিদ্দিক বাজার এলাকায় (আলাউদ্দিন রোড) নবনির্মিত 'সিদ্দিক বাজার কমিউনিটি সেন্টার'-এর শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব ইশরাক হোসেন, এমপি।

উদ্বোধনকালে প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই আধুনিক ৬-তলা ভবনটি সেই সীমাবদ্ধতা দূর করবে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা শুধু একটি ভবন নির্মাণ করিনি, বরং এখানে নাগরিকদের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, পাঠাগার এবং ব্যায়ামাগারের ব্যবস্থাও রেখেছি।" তিনি স্থানীয় নাগরিকদের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। এই কমিউনিটি সেন্টারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনকারী সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "উন্নয়নের কারণে পুরান ঢাকা আজও খোকা ভাইয়ের কাছে ঋণী।"

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব তত্তাবধানে ৩৮.৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬তলা বিশিষ্ট এই আধুনিক ভবনটিতে রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুপ্রশস্ত জায়গা। কমিউনিটি সেন্টারটির ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলায় প্রতি ফ্লোরে ৫৫০ জন করে মোট ১,৬৫০ জন অতিথি আপ্যায়নের সক্ষমতা রয়েছে। ভবনের ৫ম তলায় রয়েছে ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস, আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ও পাঠাগার (লাইব্রেরি)। এছাড়া, সুস্থ জীবনধারা নিশ্চিত করতে ৬ষ্ঠ তলায় স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক জিমনেসিয়াম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, বর্তমানে ডিএসসিসির অধীনে আরও বড় পরিসরে সামাজিক কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে DCNUP প্রকল্পের আওতায় ৯টি কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ৫২% সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিলে ১৯টি কেন্দ্রের কাজ চলমান এবং আরও ৩০টি নতুন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


২৫ লাখ টাকার জালনোট ও তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তুরাগে একটি জাল টাকা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। অভিযানে ২৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের জালনোট ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) র‍্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া অভিযানের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তুরাগের ডলিপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৩।

গ্রেপ্তাররা হলেন জাল নোট তৈরি চক্রের সদস্য নাইমুল ইসলাম ইশান (১৯) ও তার সহযোগী কেফায়েত উল্লাহ (১৯)।

র‍্যাব-৩ জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তুরাগের ডলিপাড়া বাদলদী সাকিন হাউজে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া দুই তরুণের কাছ থেকে ৫০০ টাকা মূল্যমানের ৫ হাজার ৫টি জাল নোট জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব নোটের বাজারমূল্য ২৫ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া জালনোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ২টি লেজার প্রিন্টিং ডায়েস, ১টি প্রিন্টার ও ৩টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা সনদ বড়ুয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন যে তারা একটি সঙ্ঘবদ্ধ জাল টাকা তৈরি চক্রের সদস্য। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাংলাদেশি বিভিন্ন মূল্যমানের টাকার জালনোট তৈরি করে আসছিল। পরে এসব জাল টাকা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি ও সরবরাহ করতেন তারা।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও র‍্যাব সূত্র নিশ্চিত করেছে।


ঢামেক হাসপাতালে আনসার সদস্যদের তৎপরতায় প্রতারণা ও চুরি চেষ্টার দুই অভিযুক্ত আটক

ঢামেক হাসপাতালে আনসার সদস্য কর্তৃক প্রতারক চক্রের সদস্য ও মোবাইল চোর আটকের ছবি। ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ৬ মার্চ, ২০২৬ ২১:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল হসপিটালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতারণা ও চুরির সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে আটক করে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তাদের দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপে প্রতারণার চেষ্টা ব্যর্থ করা এবং চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালে আনসার সদস্য কর্তৃক প্রতারক চক্রের সদস্য হতে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বার সদৃশ পিতলের বারের ছবি। ছবি: সংগৃহিত
ঢামেক হাসপাতালে আনসার সদস্য কর্তৃক প্রতারক চক্রের সদস্য হতে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বার সদৃশ পিতলের বারের ছবি। ছবি: সংগৃহিত

শুক্রবার (৬ মার্চ) বেলা ১ টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জোনের রমনা থানার অধীন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ০২ নম্বর (বাগান গেইট) প্রবেশপথ এলাকা থেকে রনি আহাম্মদ (৩৮) নামের এক প্রতারক চক্রের সদস্যকে স্বর্ণের বার সদৃশ পিতলের বার প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে আটক করা হয়। পরে একই দিন আনুমানিক ২ টায় হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে বেলাল মিয়া (২৫) নামের আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর করা হয়। অভিযানে ডিউটিরত এপিসি মোঃ সুজাত মোল্লা এবং আনসার সদস্য ইমরান, আল আমিন ও সুজন দায়িত্ব পালন করেন।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আটককৃত দুই অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রতারনার দায়ে আটক ব্যক্তির নাম রনি আহাম্মদ (৩৮), পিতা: মোঃ রুহুল আমিন, গ্রাম: জামতলা বাজার, ডাকঘর: নান্দাইল, থানা: নান্দাইল, জেলা: ময়মনসিংহ। অপরদিকে চুরির দায়ে আটক ব্যক্তির নাম বেলাল মিয়া (২৫), পিতা: সাদেক মিয়া, গ্রাম: পিরফ হাট মাস্টারপাড়া, ডাকঘর: পিরফ, থানা: শিবগঞ্জ, জেলা: বগুড়া।

উল্লেখ্য, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের সম্পদের সুরক্ষায় আনসার সদস্যরা সর্বদা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের এই তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


ছুটির দিনেও বায়ুদূষণে দ্বিতীয় ঢাকা, শীর্ষে লাহোর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীতে যানবাহনের চাপ কম থাকা এবং অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বায়ুদূষণের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশ্বের ১২২টি দেশের মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়, শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তানের লাহোর।।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার প্রকাশিত বায়ুগুণমান সূচক অনুযায়ী, শীর্ষে উঠে আসা লাহোরের বায়ুর মান ৪১০, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ মানদণ্ডে পড়ে।

এ ছাড়া ৩৪৯ স্কোরে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকার বাতাসও আজ ‘দুর্যোগপূর্ণ’।

তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে উঠে এসেছে ভারতের কলকাতা ও দিল্লি, যার স্কোর হচ্ছে যথাক্রমে ১৮৫ ও ১৮৪। এ ছাড়া ১৭৭ স্কোরে নেপালের কাঠমাণ্ডু পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান।

সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ঢাকা প্রায় প্রতিদিনই বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষ স্থানে ছিল এবং মার্চের শুরুতেও সেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে জনবহুল ও নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে ধুলোর প্রকোপ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।

ভয়াবহ এই দূষণ থেকে বাঁচতে আইকিউএয়ার নগরবাসীকে জরুরি পরামর্শ প্রদান করেছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে দূষিত বায়ু প্রবেশ ঠেকাতে জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।


রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ দগ্ধ ১০

আগুন। প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৬ মার্চ, ২০২৬ ১১:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তুরা‌গের কামারপাড়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টর কবরস্থান রোড মেম্বার বাড়ির পাশে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন— রুবেল (৩০), তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), এনায়েতে ভাগনি আয়েশা (১৯) ও আবুল কালাম রুবেল (৩৫)।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে মেম্বার বাড়ির পাশে আবুল কালামের মালিকানাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বাসায় রাইড শেয়ারিং চালক রুবেল সপরিবারে বসবাস করেন। তার চাচাতো ভাই এনায়েত সম্প্রতি দুবাই থেকে দেশে ফিরে গ্রাম মাদারীপুরের শিবচর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রুবেলের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন।

একই ভবনে বসবাসরত একজন বলেন, ভোরে বিকট শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখেন ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের ভেতরে থাকা ১০ জনই দগ্ধ হন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম সিদ্দিক জানান, ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনোভাবে গ্যাসের পাইপ থেকে লিকেজ হয়ে ঘরে গ্যাস জমে ছিল এবং ভোরে আগুন জ্বালাতে গেলেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিসের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বার্ন ইনিস্টিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, আমাদের এখানে ১০ জন রোগী এসেছে, তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সোনিয়ার শরীরের শতভাগ, মো. রুবেলের ৩২ শতাংশ, রোজার ১৮ শতাংশ, মো. হাবিরের ১৯ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, এনায়েতের ৪৫ শতাংশ, দোলানা খাতুনের ১৪ শতাংশ, জোনায়েদের ২৪ শতাংশ, আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ, ও আবুল কালাম রুবেলের শরীরের সাত শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বাসার লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিজার বা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।


বিএমইউর ২৫ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট এ্যাসোসিয়েশন গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর ২৫ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট এ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটির সভাপতি হলেন চীফ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট এ কে এম সাইদুল ইসলাম (খোকন) ও সাধারণ সম্পাদক হলেন সিনিয়র মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মোঃ সোহরাব হোসেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং তারিখে বিএমইউর সম্মানিত প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানা যায়।

নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হলেন মোঃ সফিকুর রহমান (সুমন)। সহ-সভাপতি হলেন মোঃ মতিউর রহমান, মোঃ রফিকুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন মোঃ আব্দুল মোমিন সরকার। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন মোঃ সাইফুল্লাহ খালেদ, মোঃ নেছার উদ্দিন। সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন মোঃ ওবায়দুর রহমান (নীরব)। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন মোঃ শাহ আলম। অর্থ সম্পাদক হলেন মোঃ লোকমান হাকিম (হিমেল)। সহ-অর্থ সম্পাদক হলেন মোঃ আরিফুর রহমান। দপ্তর সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ মারুফ ভূঁইয়া। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হলেন মোঃ এম এম সুমন। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হলেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ মিয়া, সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহীম খলিল সুমন। মহিলা বিষয়ক সম্পাদক তাহমিনা তাহের (তানিয়া), সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোছাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস। কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন মোছাঃ আফরোজা খাতুন, মোঃ আব্দুল হাই, মোঃ আরিফুল ইসলাম ও মোঃ নজরুল ইসলাম।


মশক নিধনে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের, কাল থেকে শুরু হচ্ছে ১০ দিনের ক্রাশ প্রোগ্রাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মশক নিধন কার্যক্রমে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আব্দুস সালাম। নগর ভবন অডিটোরিয়ামে স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ রাসেল রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি ডিএসসিসি এলাকায় মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসকের নির্দেশে এই বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়। সভায় মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিতকরণ, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মশক নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "মশা নিয়ন্ত্রণে অবহেলা, ব্যর্থতা বা দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।" তিনি আরও জানান, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তিনি নিজেই সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। আগামীকাল থেকে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে ১০ দিনের বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু হবে, যেখানে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

সভায় মশক কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং বর্তমান ওষুধের বিকল্প হিসেবে নতুন কার্যকর ওষুধের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি যে কোনো স্থাপনায় মশার উৎপত্তিস্থল পাওয়া গেলে এবং বারবার সতর্ক করার পরও ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসক।

উক্ত সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম, কর্পোরেশন সচিব মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সকল বিভাগীয় প্রধান, আঞ্চলিক কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মশক নিধন শাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ঈদের পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর সিটি কর্পোরেশন, ব্যবসায়ী ও হকারদের সমন্বিত সভার মাধ্যমে পরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর রোড করিডোরের নিউমার্কেট এলাকায় ডিএসসিসি’র নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক ফুটওভার ব্রিজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তারা যৌথভাবে এই ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ রাসেল রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ৯,৭৭,৬২,২৫৮.৫৯ (নয় কোটি সাতাত্তর লক্ষ বাষট্টি হাজার দুইশত আটান্ন দশমিক পাঁচ নয়) টাকা ব্যয়ে এই দৃষ্টিনন্দন ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (DEW)। ১ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত নির্মাণকালীন সময়ের এই প্রকল্পটি আর.সি.সি এবং স্টিল স্ট্রাকচারের সমন্বয়ে অত্যন্ত মজবুতভাবে তৈরি করা হয়েছে। ৪২ মিটার দীর্ঘ এবং ২০ ফুট প্রশস্ত এই ব্রিজে পথচারীদের, বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের যাতায়াত সহজ করতে চলন্ত সিঁড়ি (Escalator) যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ সিটির ফুটওভার ব্রিজগুলোর মধ্যে বর্তমানে একমাত্র এই ব্রিজটিতেই স্কেলেটর সুবিধা বিদ্যমান। এছাড়া বিকল্প হিসেবে দুই পাশে ৭ ফুট প্রশস্ত সাধারণ সিঁড়ি এবং ক্রেতাদের সুবিধার্থে ব্রিজের পূর্ব পাশে নূর ম্যানশন ও পশ্চিম পাশে নিউ সুপার মার্কেটের সাথে সরাসরি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। রাতের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনে এতে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক লাইটিং ব্যবস্থা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী জনাব শেখ রবিউল ইসলাম এম. পি. বলেন, “৩১টি মার্কেট পরিবেষ্টিত নিউমার্কেট অত্যন্ত জনাকীর্ণ এলাকা হওয়ায় এই ফুটওভার ব্রিজটি জনসাধারণের যাতায়াতের ভোগান্তি বহুলাংশে লাঘব করবে। তবে জনস্বার্থে নির্মিত এই ব্রিজে কোনো অবস্থাতেই অবৈধ হকার বা দোকান বসতে দেওয়া হবে না।” শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর সর্তকতা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জনকল্যাণ ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ডিএসসিসি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে।” তিনি নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পবিত্র রমজানে আপনারা ক্রেতাদের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় করবেন এবং মার্কেট এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট থাকবেন।”

বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে মোট ৩১টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এর বাইরে মগবাজার পুরাতন রমনা থানার সন্নিকটে আরও একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলমান আছে। পাশাপাশি পরিবাগ, সোবাহানবাগ, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, বলাকা ও হাটখোলার মোড়সহ মোট ৭টি ব্রিজ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আধুনিক ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহারের ফলে নিউমার্কেট এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন হবে এবং পথচারীরা নিরাপদে রাস্তা পারাপার হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।


banner close