ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে বেশি বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএসসিসির নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বর্ষাপূর্ব এডিস মশার লার্ভা জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।
আয়োজনে জরিপের সারসংক্ষেপ ও লার্ভার উৎস সম্পর্কে জানানো হয়। ডিএসসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন কর্মীর মাধ্যমে গত ১২ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। আধুনিক ‘কবো টুলবক্স’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরিদর্শন করা বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।
জরিপে জানানো হয়, বহুতল ভবনে সর্বোচ্চ ৩৫.২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বা একক বাড়িতে ২৭.৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। সেখানে মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬ শতাংশ, বালতিতে ১০.৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯ শতাংশ এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পাওয়া গেছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এই জরিপের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৭ জুন থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী ‘বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালানো হবে। পরবর্তী সপ্তাহে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও একই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এছাড়া, আগামী ৬ জুন ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর থেকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে, যা পরে অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে।
আবদুস সালাম বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা এবং প্রতি ৩ দিন অন্তর জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ট্রাফিক আইন অমান্য করলে পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ট্রাফিক আইন সবার জন্যই সমান। সেটা সরকারি হোক, বেসরকারি হোক। যেমন আমাদের যারা পুলিশ সদস্য, আমরা কিন্তু ক্লিয়ার মেসেজ দিয়েছি। আমাদের পুলিশ সদস্যের কেউ যদি ট্রাফিক আইন অমান্য করে, আইন অনুযায়ী আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছেন তিনি।
চলতি বছরের মে মাসে ডিএমপির জন নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহা কেন্দ্রীক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিএমপি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সরকারি অফিসাররা, সরকারি গাড়িগুলো ট্রাফিক আইন মানতে চান না। ঢাকা শহরের প্রায় প্রত্যেকটা সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িগুলোত হুটার লাগানো। যেখানে হর্ন বাজানোর দরকার নেই সেখানেও হর্ন বাজানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি অনেক দপ্তরের যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নেই। ইঞ্জিন নাম্বারে চলছে। পুলিশের অনেক যানবাহনও ইঞ্জিন নাম্বারে চলছে। এ ধরণের যানবাহন আইন অমান্য করলে এআই কীভাবে মামলা দেবে? জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, সরকারি এবং বেসরকারি যানবাহন হোক ট্রাফিক আইন যদি কেউ লঙ্ঘন করেন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, হচ্ছেও।
মে মাসে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ৩৮,২৮৪টি মামলা করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এর মধ্যে ৬৭২টি মামলা হয়েছে এআইভিত্তিক এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে। মোট ৮ কোটি ৭১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানায় ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।
ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মে মাসে সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্তে ৩৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। যার মধ্যে একজনকে কারাদণ্ডসহ অন্যদের ক্ষেত্রে সর্বমোট ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মে মাসে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ৫,২০৯টি ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। যার মধ্যে ৫,৯৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং সর্বমোট ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর লালবাগ থানার নিউ পল্টন লাইন এলাকার একটি বাসা থেকে মো. তানজিল হোসেন (২১) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ওই বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বুধবার (৩ জুন) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তানজিল হোসেন নিউ এলিফ্যান্ট রোডের ৫৩/১ নম্বর বাসার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজনের ছেলে। তিনি বর্তমানে লালবাগের নিউ পল্টন লাইনের ১৫২/৬ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে নিউ পল্টন লাইনের একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তানজিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক তরুণীর সঙ্গে তানজিলের প্রেম ছিল। সম্পর্ককে কেন্দ্র করে প্রেমিকার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, এর জেরে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তানজিল।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রেখেছে লালবাগ থানা পুলিশ।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর উত্তরা উত্তর ও উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার এ অভিযানে স্টেশন দুটির নিচে অবস্থানরত অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানপাট অপসারণ করা হয়েছে।
ডিএমটিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মো. শাওগাতুল আলমের নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএমটিসিএল’র তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযান চলাকালে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব ধরনের ভাসমান দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হকারদের ভবিষ্যতে মেট্রো স্টেশনের নিচে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বা দোকান স্থাপন না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
হকাররা ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না মর্মে ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে অঙ্গীকার করেন।
এছাড়া স্টেশনের নিচে ও আশপাশে যাতে কোনো ধরনের পরিবেশ দূষণ না ঘটে, সে জন্য পার্শ্ববর্তী স্থায়ী দোকানদারদের ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপস্থিত সবাই মেট্রোরেল এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাহজাহান আলী, মো. জাহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম এবং ডিএমটিসিএল-এর ডিজিএম (সিকিউরিটি) মেজর (অব.) মোহাম্মদ জাকির সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অভিযানে তুরাগ থানা পুলিশ, এমআরটি পুলিশ, আনসার সদস্য ও মেট্রোরেলের নিরাপত্তাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
ঈদুল আজহার ছুটি কাটিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফিরে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন দুই নারী। চাপাতির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ব্যাগ, লাগেজ ও মোবাইল নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। গত শনিবার (৩০ মে) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, দুই নারী রিকশা থেকে বাসার সামনে এসে নামেন। বাসায় ঢোকার মুহূর্তে লুঙ্গি পরা এক যুবক চাপাতি হাতে তাদের দিকে এগিয়ে আসেন। তার পেছনে আসেন আরেক যুবক।
হাতে চাপাতি থাকা যুবক কিছু একটা বলে প্রথমে রিকশাচালককে ধাক্কা দেন। পরে চাপাতির ভয় দেখিয়ে ব্যাগ, লাগেজ ও মোবাইল নিয়ে নেন তারা। নারীদের অলংকার ও মোবাইল ফোন নিতে তাদের তল্লাশি করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সোমবার (০১ জুন) মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান রাকিব বলেন, ‘ওই দুই নারী ঠাকুরগাঁও থেকে বাসে করে এসে ঢাকার শ্যামলীতে নামেন। পরে রিকশায় করে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসার সামনে গেলে তারা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে দুই নারীর কাছে থাকা ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে গেছে।’ এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিদর্শক রাকিবুজ্জামান রাকিব জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এক ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করতে পেরেছি। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট–সংলগ্ন খোলা জায়গায় কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাট বসেছিল। তবে হাট এলাকায় পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকায় গরমে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একই সঙ্গে হাট পরিচালনার কারণে আশপাশের পরিবেশেও কিছুটা প্রভাব পড়ে।
এমন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে হাটের জায়গা ও আশপাশের সড়ক বিভাজকে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন হাটটির ইজারাদার আমিনুল ইসলাম। সোমবার (১ জুন) দুপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম বলেন, হাটের ইজারাদার, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগে হাট এলাকার সব বর্জ্য ও অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। পরে ব্লিচিং পাউডার ও পানি ব্যবহার করে মাঠ ও আশপাশের সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার লক্ষ্যেই সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, শুধু এই মাঠ নয়, শিল্পাঞ্চল থানার আওতাধীন বিভিন্ন খালি জায়গায়ও পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এটি নগরকে আরও বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার প্রচেষ্টার অংশ।
ঈদপরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। শুধু পশুর হাট নয়, নগরের অন্যান্য স্থানেও নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং করা হচ্ছে।
মেট্রোরেলের উত্তরা সেন্টার স্টেশনসংলগ্ন এলাকার সবুজায়ন প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলোর পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানো হয়েছে। বর্তমানে আগের তুলনায় আরও সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে সরকার ও সিটি করপোরেশন সম্পর্কে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, ঈদের ছুটির কারণে কয়েকজন ইজারাদার হাটের স্থাপনা অপসারণের জন্য অতিরিক্ত এক-দুই দিন সময় চেয়েছেন। তারা ইতোমধ্যে স্থাপনা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন। নির্ধারিত সময়ের পরও কেউ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের জামানত থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের বিষয়ে ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বলেন, পশুর হাট বসার কারণে এলাকাটির পরিবেশ কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই প্রভাব কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাট চলাকালে তীব্র গরমে ব্যাপারী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি চোখে পড়েছে। ভবিষ্যতে মানুষ যাতে কিছুটা ছায়া ও স্বস্তি পায়, সে চিন্তা থেকেই নিমগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হাটের চারপাশ ও আশপাশের সড়ক বিভাজকে পাঁচ হাজার নিমগাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তীকালে আরও গাছ লাগানো হবে।
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় এই হামলায় বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের চিত্রগ্রহণের সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি হাসপাতালটির পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে সেখানে পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ভেতরেই একটি বেআইনি বেকারি ও অত্যন্ত নোংরা পরিবেশ দেখে মন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ ঝাড়েন।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "হাসপাতালে একটি বেকারি পাওয়া গেছে। দুটি ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে এই বেকারি চলে। কোনও ইঞ্জিনিয়ার নেই। এটা উচিত হয়নি। প্রচুর ময়লা পাওয়া গেছে।" উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পরপরই গেটগুলো তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মারমুখী অবস্থানে দেখা যায়। পেশাগত কারণে সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে বাদানুবাদ শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালের একদল কর্মী ও নার্স লাঠিসোঁটা নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ও পাথর নিক্ষেপ করে।
এই বর্বরোচিত হামলায় একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদক এবং অন্য একটি গণমাধ্যমের চিত্রগ্রাহক আহত হন। এছাড়া একটি গণমাধ্যমের ক্যামেরা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, "বেকারিটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলগালা করে দিয়ে গেছেন এবং এ অবস্থায় ভেতরে প্রবেশ সম্ভব নয়।" তবে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের মুখে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, "বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" উল্লেখ্য, গত বুধবার ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমার মেয়াদ আগামী ৩ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সম্পন্ন হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি অবহিত করেন যে, উৎসবের প্রথম দিনে ডিএসসিসি এলাকায় সর্বমোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৯টি পশু কোরবানি করা হয়েছে।
বর্জ্য অপসারণের অগ্রগতির তথ্য প্রদান করে তিনি জানান যে, ঈদের দিন রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৬৮৪ টন বর্জ্য অপসারিত হয়েছে। কাজের গতিবেগ বিবেচনা করে প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আজ রাত ১২টার মধ্যেই অপসারণকৃত বর্জ্যের পরিমাণ ১৮ হাজার টন অতিক্রম করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি জানান, প্রায় ৬৫ শতাংশ বর্জ্য ইতিমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্পোরেশনের অন্তর্গত ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭১টি ওয়ার্ডকে ইতিমধ্যে শতভাগ বর্জ্যমুক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাকি বর্জ্য সরিয়ে নিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পরিশেষে, সফলভাবে বর্জ্য অপসারণে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য তিনি নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগরী গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন সকালের দিকে কোরবানি নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও দুপুরের পর থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বিনোদনপ্রেমীরা ছুটে আসেন বন্যপ্রাণীর এই অভয়ারণ্যে। তবে এবারের ঈদে চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও কৌতূহল দেখা গেছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ খ্যাত বিশেষ একটি গোলাপি মহিষকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও দারুণভাবে আলোচিত এই মহিষটিকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ নম্বর খাঁচায় রাখা হয়েছে এই নতুন অতিথিকে। যারাই চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করছেন, তারা অন্তত একবারের জন্য হলেও ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটিকে দেখতে সেই খাঁচার সামনে ছুটে যাচ্ছেন। এর ফলে চিড়িয়াখানার অন্যান্য প্রাণীর খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও এই গোলাপি মহিষের খাঁচার সামনে সার্বক্ষণিক উপচে পড়া ভিড় ও জটলা লেগে থাকছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের আগের দিন রাত ১১টার দিকে এই বিশেষ মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুন এবং ব্যতিক্রমী রঙের একটি প্রাণী হওয়ায় সকাল থেকেই এটি দেখার জন্য সাধারণ মানুষের মাঝে অন্যরকম এক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, যার কারণে খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের এই উপচে পড়া ভিড়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে ঈদের কেনাকাটার ভিড়ের মধ্যেই ৬ তলা থেকে পড়ে এক অজ্ঞাত যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে শপিংমলের অভ্যন্তরে অসংখ্য ক্রেতার উপস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ করেই যুবকটি ওপর থেকে নিচে পড়ে যান, তবে এর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শপিংমলের এক নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, “তিনি কমপ্লেক্সের দক্ষিণ কোণে ডিউটি করছিলেন। হঠাৎ অপর পাশে দেখতে পান ৬ তলা থেকে একজন যুবক লাফ দেয়ার ভঙ্গিতে মুহূর্তের মধ্যেই নিচে পড়ে গেছেন।” তাঁর মতে, ওই যুবকের হাতে মেয়েদের একটি ছোট ভ্যানিটিব্যাগ সদৃশ বস্তু ছিল। নিচ তলার এক বিক্রয়কর্মী জানান, ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততার মাঝে বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখেন এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর জখম অবস্থায় আনুমানিক ২৭ বছর বয়সী ওই যুবককে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত যুবকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শপিং কমপ্লেক্সের সিনিয়র জিএম (হেড অফ অপারেশন) মেজর মিজান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, “ছেলেটি ৭ তলা থেকে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে লাফ দেয়। তার পরিচয়ও জানা সম্ভব হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে দুজন গার্ডের সহায়তায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে। আমরা জেনেছি তার কাছে একটা মোবাইল পাওয়া গেছে।”
তবে ঘটনাটি স্বেচ্ছায় মৃত্যু নাকি কোনো দুর্ঘটনা, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ। তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ ক্যাশৈন্যু মারমা জানিয়েছেন, “মৃত্যুর ঘটনাটি আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে টিম পাঠিয়েছি। তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন।” ঈদের আগের দিন এমন জনাকীর্ণ স্থানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণ শপিংমলের পরিবেশ থমথমে থাকলেও পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহত যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটনে হাসপাতালটিতে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। হাসপাতালটির ওই নির্দিষ্ট কক্ষে কোনো ধরনের বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি বা নিঃসরণ ঘটেছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরের পর ডিএমপির বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি বিশেষ দল আদ-দ্বীন হাসপাতালে প্রবেশ করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, যে কক্ষে নবজাতকদের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে উন্নত প্রযুক্তির বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। কক্ষে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছিল কি না, আর ছড়ালেও সেটি কী ধরনের এবং কী পরিমাণে ছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষ থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন আলামত ও নমুনা সংগ্রহ করেন।
ঘটনার সার্বিক বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ছয় শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।
রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসি জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কাজে মাঠে থাকবে ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং সাড়ে ৭ শতাধিক বর্জ্যবাহী গাড়ি। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর গুলশানস্থ ডিএনসিসি নগর ভবনে আয়োজিত কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর হাট, চামড়া ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের লোকদের ঈদের দিন ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিএনসিসির প্রস্তুতি সন্তোষজনক। নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির সময় সাময়িক জলজট তৈরি হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) ও ড্রেনেজ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে দ্রুত বর্জ্য খালাস নিশ্চিত করতে নতুন সংযোগ সড়ক, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্জ্য পরিবহন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ওয়েব্রিজের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ট্রিপ মনিটরিং চালু রাখা হয়েছে।
এদিকে নগরবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার, ১৩৪৮ ক্যান ফিনাইল এবং ৩৯০০ ক্যান স্যাভলন বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জনসচেতনতা বাড়াতে শহরজুড়ে মাইকিং, ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রচারণা, ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ ও মোবাইল এসএমএস কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর পল্লবীর কালশী বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণে আসে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেল। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে ওই বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। শুরুতে ৫টি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ১৫টি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণে যুক্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “কালশী বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করেছে। ঘটনাস্থলে পানির তীব্র সংকট থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। এ ছাড়া বাতাসের কারণেও আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়।” উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, রাজধানীর তীব্র যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় পানির পর্যাপ্ততা না থাকায় আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হয়।
প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে বস্তির অন্তত ১০০টিরও বেশি ঘর ভস্মীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।