আদি ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রাকে উপজীব্য করে নির্মিত নাটক নিয়ে আয়োজিত ঢাকা নাট্যোৎসবের আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আয়োজিত "হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬" উৎসবের অংশ হিসেবে আজ ১৬ আগস্ট রাজধানীর সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে ‘ঢাকা নাট্যোৎসব’-এর উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিউর রহমান রানা নির্দেশিত, গ্রন্থিক নাট্যদল পরিবেশিত নাটক ‘গিরগিটি’; হামিদুর রহমান পাপ্পু নির্দেশিত, শৌখিন নাট্যদল পরিবেশিত নাটক ‘অন্তরালে আয়না’; সূচনা তিসা নির্দেশিত, মৈত্রী থিয়েটার পরিবেশিত নাটক ‘রঙিলা ফানুস’; এস. কে. রতন নির্দেশিত, নবনাট পরিবেশিত নাটক ‘ভেলকি’; খোরশেদুল আলম নির্দেশিত, শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র পরিবেশিত নাটক ‘চম্পাবতী’; গোলাম সারোয়ার নির্দেশিত, ঢাকা থিয়েটার মঞ্চ পরিবেশিত নাটক ‘ঘরজামাই’; শওকত হাসান নির্দেশিত, স্বরবিথী থিয়েটার পরিবেশিত নাটক ‘শাস্তি’; শুভাশীষ দত্ত তন্ময় নির্দেশিত, মেঘদূত নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশিত নাটক ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সমাজের অবক্ষয় রোধ ও তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। নাটক, গান, সাহিত্যচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন মুক্তিযুদ্ধকালে ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো, যুদ্ধ করি’ গান দিয়ে যেমন পরিবেশকে উজ্জীবিত করা হয়েছিল, তেমনি একটি ভালো গান ও ভালো সংস্কৃতির মাধ্যমে পুরো দেশের সমাজকে পরিবর্তন করা সম্ভব।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ছোটবেলায় এলাকায় এলাকায় নাটক হতো, লাইব্রেরি ছিল। ছেলে-মেয়েরা লাইব্রেরির সদস্য হয়ে বই নিয়ে যেত। উপন্যাস, নাটক, গল্প ও কবিতার বই পড়ত। সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণ তৈরি হতো।
তিনি বলেন, ‘এই ঢাকা আমার’—এই অনুভূতি যদি মন থেকে আসে, তাহলে ঢাকাটাকে আমি সুন্দর ও পরিষ্কার রাখতে পারব। আমার ড্রয়িংরুম সুন্দর রাখব, পড়ার ঘর সুন্দর রাখব, কিন্তু পাশের রাস্তাকে আবর্জনায় ভরে রাখব—এটা হতে পারে না। নিজের ঘরের মতো রাস্তাকেও ভালোবাসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খয়বর রহমান।
রাজধানীর উত্তরায় তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন যানবাহনের চালকরা। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি পাম্পে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ভোর থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মিরপুর, তেজগাঁও, ফার্মগেট, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় সমস্যায় পড়ছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও।
অনেক চালক বলেন, ‘গ্যাসের সংকটের কারণে দিনের একটি বড় অংশ পাম্পের লাইনে অপেক্ষা করতেই চলে যাচ্ছে। এতে আয় কমে যাচ্ছে, বাড়ছে গাড়ি পরিচালনার খরচ এবং তৈরি হচ্ছে অতিরিক্ত চাপ।’ আয়-রোজগার কমায় প্রতিদিনের গাড়ির জমা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
মিরপুরের সিএনজিচালক মো. মনির বলেন, ‘কিস্তি থেকে টাকা তুলে সিএনজি মালিককে জমা দিতে হচ্ছে। ভোর ৪টা থেকে লাইনে আছি, এখনো গ্যাস পাইনি। গাড়ির মালিককে জমা দেব কীভাবে, সংসার চালাব কীভাবে—সামনে বাসা ভাড়া দিতে হবে।’
অপর এক সিএনজিচালক জানান, প্রতিদিন মহাজনকে জমা দিতে হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। গ্যাস লাগে প্রায় ৫০০ টাকার। এর বাইরে সারাদিনে আমারও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ আছে। সব মিলিয়ে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হয়। গ্যাস না পাওয়ায় গত দুই মাস ধরে আয় বন্ধ।’
গ্যাস সংকটের বিষয়ে এম এ মাসুদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কামাল গণমাধ্যমকে জানান, চার-পাঁচ দিন আগেও স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস ছিল। এরপর মাঝখানে কয়েক দিন গ্যাস একেবারেই পাওয়া যায়নি। গতকাল (রোববার) রাতে কিছুটা গ্যাস সরবরাহ হলেও বর্তমানে আবারও সংকট দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়মিতভাবে সিগন্যাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চাপের গ্যাস নেই। তাদের স্টেশনের ভালভ কম প্রেসারে ওপেন হয় না। ফলে যেসব স্টেশনের ভালভ কম প্রেসারে চালু হয়, তারাই কিছুটা গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে।’
বর্তমানে বিশেষ করে রাতের দিকে কিছুটা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিকালের দিকে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়তে শুরু করে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর সড়কে নারীদের যাতায়াত নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে পৃথক বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। নারীচালক ও কন্ডাকটর দিয়ে পরিচালিত এ ‘পিংক বাস’ সেবা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চালু হবে।
গত রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালন’ কার্যক্রমের উদ্বোধন মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।’ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ সার্ভিস চালু করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ এহতেশামুল হক। বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোড়া (অতিরিক্ত সচিব) অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
রাজধানীর জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরিচালিত গত চব্বিশ ঘণ্টার নিয়মিত অভিযানে ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ৫২টি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে আজ সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৫৮ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৪ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৩ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৪৮ জন পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। লালবাগ বিভাগ থেকে ৪১ জন, গুলশান বিভাগে ৪৪ জন, রমনা বিভাগে ৩৫ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের এই অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি এবং একটি বিদেশি রিভলবার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপরাধীদের কাছ থেকে দুটি সামুরাই, একটি ছুরি ও একটি আংশিক ব্লেড জব্দ করা হয়েছে। মাদকবিরোধী এই তৎপরতায় উদ্ধার করা হয়েছে ৮৬ কেজি ৫৯০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ৭৬৩ পিস ইয়াবা, ৩.৩৫ গ্রাম হেরোইন এবং চার বোতল মদ। এছাড়াও ১০টি মোবাইল ফোন, ২১.২ লিটার ঔষধের রাসায়নিক এবং ট্রেন থেকে চুরি হওয়া ৯টি ট্যাপ উদ্ধার করা হয়। বিশেষ এই অভিযানের মাধ্যমে একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ডিএমপি।
রাজধানীর নারী যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে চালু হতে যাচ্ছে বিআরটিসি-র বিশেষ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) এই উদ্ভাবনী উদ্যোগে বাসগুলোতে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি চালক ও কন্ডাক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও থাকবেন নারী কর্মীরাই। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই নারী-বান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে।
বিআরটিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাকিম ভূঞা আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে এই বিশেষ বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এই বাসগুলো আকর্ষণীয় গোলাপি বা ‘পিংক’ রঙের হবে, যা সহজেই নারী যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। মূলত বাস পরিচালনায় নারীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এই খাতে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সেবার শুভ উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সড়ক পরিবহন সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজধানীতে গণপরিবহনে নারীদের দীর্ঘদিনের হয়রানি ও ভোগান্তি নিরসনে এই ‘পিংক বাস’ সার্ভিস একটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
লালবাগ বিভাগ কর্তৃক সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীতে চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ডাকাতি রোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় লালবাগ বিভাগের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল কামরাঙ্গীরচর থানাধীন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন দুরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গায় ডাকাতির পরিকল্পনা করছে। তারা বিভিন্ন বাহিনীর নাম ও পদবি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে দস্যুতা ও ডাকাতি করে আসছিল।
তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. তৌহর আলী সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাটোলে সরদারসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. তৌহর আলী সরদার (৪৫), পাভেল সরদার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৮), ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (২৮), নূরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)। তাদের মধ্যে পাভেল সরদার চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার এবং রাব্বি আলম চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে কিরিচ, মোবাইল ফোন, র্যাবের লোগোযুক্ত আইডি কার্ড হোল্ডার, সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ, ওয়াকিটকি, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, ভুয়া নম্বর প্লেট, র্যাব ও ডিবির নামযুক্ত ভেস্ট, রিফ্লেক্টিভ টর্চ, পিস্তল কাভার, খেলনা পিস্তলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা এবং রূপগঞ্জ থানায় পৃথক অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার বংশাল মুকিমবাজারে হেলমেটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট কাজ করেছে
রোববার(১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার।
তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে খবর আসে বংশাল মুকিমবাজারে একটি হেলমেটের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই খবরে ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে মোট সাতটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে।
এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) আনুমানিক ভোর ৬টার দিকে তাকে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পায়। বর্তমানে রিধিকার মা ও পরিবারের সদস্যরা থানায় রয়েছেন। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজনের সঙ্গে রিধিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আর আজ ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করেন।’
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা ও মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিধির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক এবং মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তাদের মধ্যে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ছিলেন রিধিকা। নিয়মিত কাজের নানা আপডেট ও ছবি প্রকাশ করলেও গত ৩০ জুলাইয়ের পর তাকে আর ফেসবুকে কোনো পোস্ট করতে দেখা যায়নি।
প্রসঙ্গত, প্রথমে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে পরিচিতি পান রিধিকা রিধি। পরবর্তী সময়ে নাটকে অভিনয়ে তিনি নিয়মিত হন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’।
রাজধানী ঢাকার সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন নাগরিকদের কাছে তুলে ধরে ঢাকার প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আয়োজনে শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ঐতিহাসিক ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরপূর্তি এবং ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ডিএসসিসির উদ্যোগে ১ আগস্ট হতে শুরু হওয়া এ আয়োজন ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে চলবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৭টায় রাজধানীর মতিঝিল হতে শুরু হওয়া এই র্যালি প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
১ হাজারের অধিক নাগরিক এই হেরিটেজ রানে অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর হতে কাকরাইল মোড় হয়ে → রমনা → শাহবাগ মোড় → কাটাবন মোড় → ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় → পলাশি মোড় → লালবাগ কেল্লা → শহিদনগর মোড় → সোয়ারিঘাট (লঞ্চঘাট) এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যক রানারকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন এই বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলাকে যেভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, একইভাবে আমাদের ঐতিহ্যগুলোকে ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অত্যন্ত যথাযথ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও পরিচিত হয়ে উঠবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল—আমার শহর ঢাকা, যাকে নিয়ে আমার গর্ব করা উচিত। আজকের হেরিটেজ রানে অংশ নিয়ে আপনারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্র দেখেছেন। কোথাও ভালো রাস্তা, কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত—এটাই ঢাকার বাস্তবতা। এই বাস্তবতার মধ্যেই নগরবাসীর জীবনযাত্রা আরও সুন্দর করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা না ফেললে এবং ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সহযোগিতা করলে ঢাকাকে আরও সুন্দর রাখা সম্ভব। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুলত্রুটি থাকতেই পারে। পরবর্তী সময়ে তা সংশোধন করে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হবে। পুরান ঢাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন এবং হাঁটা ও দৌড়ের উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমার দায়িত্ব আমি পালন করব, আপনার দায়িত্ব আপনি পালন করবেন। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে এই ঢাকা শহর আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। আসুন, দেখি—এটাই আমার ঢাকা শহর। এই শহরেই আমাকে থাকতে হবে, তাই শহরটাকে আরও সুন্দর করতে হবে।’
আগামী ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এড়াতে পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহানগরের সকল প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কে-নাইন ইউনিটকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনসমাগমস্থলে প্রস্তুত ও সুইপিং কার্যক্রমে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় থাকবে। পাশাপাশি ডিবি, সিটিটিসি, সিটিএসবি ও আইএডির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছেন। সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত র্যাব ও সিআইডি টিম মাঠে মোতায়েন থাকবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) নিয়াজ মেহেদী জানান, সাধারণ মোতায়েনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, অনুষ্ঠানস্থল, মেট্রোরেল স্টেশন, বাসটার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ট্রেন স্টেশন ও শপিংমলসহ সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। ডিএমপির সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরেজমিনে মাঠে থেকে নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকি করবেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে বেশ কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ৪৮টি মামলা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ডিএমপি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগ ৩৯, লালবাগ বিভাগ ৪০, ওয়ারী বিভাগ ৭০, মতিঝিল বিভাগ ৭১, তেজগাঁও বিভাগ ৪৭, মিরপুর বিভাগ ১১৬, গুলশান বিভাগ ৫৬, উত্তরা বিভাগ ৫৬ ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে এক কেজি ২০৪ গ্রাম গাঁজা, ১৬ হাজার ৩৩৩ পিস ইয়াবা, ৫০ বোতল এস্কাফ সিরাপ, চার গ্রাম হেরোইন, পাঁচটি মোটরসাইকেল ও ১৫ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গত বুধবার (১২ আগস্ট) ডিএমপির অভিযানে ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইসব ঘটনায় ৫৮টি মামলা করা হয়।
রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে গোলাগুলিতে মো. এস এম আরিফুল ইসলাম পাভেল (৩০) নামে এক ডাকাত সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে আফতাবনগরের ‘এম’ ব্লকের ৫ নম্বর সেক্টরের ইস্ট অ্যান্ড হাউসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ পাভেলকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
গুলশান ডিবির পরিদর্শক আনোয়ার জানান, ইস্ট অ্যান্ড হাউসিং এলাকায় একদল সশস্ত্র ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
তিনি বলেন, ‘ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্য পাভেল পিস্তল বের করে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে ডিবি সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে পাভেল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।’
ডিবির এ কর্মকর্তা আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাভেলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
আহত পাভেল ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার বাকেরগঞ্জ গ্রামের আবু সাদেক সর্দার বাদলের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরকে গডফাদার ও সন্ত্রাসী তৎপরতামুক্ত করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বাহিনীটির দাবি, ধারাবাহিক অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গডফাদারদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে মোহাম্মদপুরে কোনো কিশোর গ্যাং সক্রিয় নেই।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নেয়ামুল হাসান।
তিনি জানান, মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং লিডার এলেক্স ইমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে রিপোল ওরফে বিপুলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক এবং সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, ‘অভিযানে মূলত গডফাদারদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। নিচের সারির সদস্য বা ছোটখাটো গ্রুপের পরিবর্তে অপরাধের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
তার দাবি, গডফাদারদের গ্রেপ্তারের পর মোহাম্মদপুরের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে। আগামী দিনে এ এলাকা আরও নিরাপদ ও বসবাসের উপযোগী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নেয়ামুল হাসান বলেন, ‘মোহাম্মদপুরকে ‘সিটি অব গডস’ হিসেবে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা থেকে এলাকাটিকে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে মোহাম্মদপুর থেকে গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। একইভাবে পুরো রাজধানীকেই বখাটে ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’
এলেক্স ইমন হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২ এর অধিনায়ক জানান, হত্যার নেপথ্যের বিস্তারিত তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তাই জানাতে পারবেন। র্যাব মূলত তদন্তে সহায়তার অংশ হিসেবে আসামিদের গ্রেপ্তারকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। যেহেতু র্যাব সরাসরি মামলাটির তদন্ত করছে না, তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থানা পুলিশই জানাতে পারবে।’