রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রশাসকের নির্দেশে অপসারণ হচ্ছে মেট্রোরেলের পোস্টার ও লিফলেট

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৫

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের নির্দেশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল হতে মিরপুর ১০ মেট্রোরেল পিলারে সকল প্রকার পোস্টার ও লিফলেট সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রোববার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ছাত্রদল ও যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।

স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা রোববার সকাল ১০টা হতে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল পিলারের পোস্টার ও লিফলেট অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন এবং বিকেল নাগাদ শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল এলাকায় এসে অপসারণ কার্যক্রম শেষ হয়।

এ সময় মেট্রোরেলের প্রতিটি পিলার ও আশপাশের এলাকা হতে সকল ধরনের লিফলেট ও পোস্টার অপসারণ করা হয়।

এই অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হয়েছে বলে পথচারীরা জানান।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল এলাকায় সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম উদ্বোধনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মেট্রোরেলের নিচে পিলারের লিফলেট ও পোস্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন।


নির্বাচিত

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তুচ্ছ বিরোধের জের ধরে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় সংলগ্ন গ্রিন রোড এলাকায় ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এর ফলে সায়েন্সল্যাব ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলেজ ছুটির পর ঢাকা কলেজের একটি যাত্রীবাহী বাস সায়েন্সল্যাব মোড় অতিক্রম করার সময় আইডিয়াল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী বাস লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ে। এতে বাসের জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিহত করার চেষ্টা চালান।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, তাঁরা ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে কোনো উসকানি ছাড়াই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে তাঁদের কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং কয়েকজনের মাথা ফেটে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানান, কলেজ ছুটির পর বাস সায়েন্সল্যাব দিয়ে যাওয়ার সময় ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে আইডিয়াল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী বাস ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এর জের ধরেই দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ঢাকা কলেজের অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

অধ্যক্ষ আরও উল্লেখ করেন, সকাল থেকেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা আঁচ করতে পেরে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি থানা পুলিশকে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শান্ত রাখতে এবং সংঘর্ষে জড়ানো থেকে বিরত রাখতে কলেজ থেকে শিক্ষকদের একটি দলকেও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।


নির্বাচিত

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাট, শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে লুট হওয়া মালামালভর্তি দুটি ট্রাক উদ্ধার করেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় হানিফ মিয়া নামের এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ শনিবার পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে প্রায় আড়াই শ মুখোশধারী ব্যক্তি সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর চিকিৎসা সরঞ্জাম, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, সরকারি টিকা এবং নগদ অর্থ লুট করার পর ভারী খননযন্ত্র (ভেকু) ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। পরবর্তীতে জায়গাটি জবরদখলের উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ধ্বংসযজ্ঞ চলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এ হামলার নেপথ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধন থাকার অভিযোগ উঠলেও তাঁর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং লুটপাটে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯, উদ্ধার দুই ট্রাক মালামাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত বেসরকারি দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে হামলা, অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে সেখান থেকে লুট হওয়া চিকিৎসাসামগ্রী ও বিভিন্ন মালামালভর্তি দুটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শাহ আলী থানাধীন রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও হাতুড়ি নিয়ে সীমানাপ্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা শুরুতেই দায়িত্বরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে দড়ি দিয়ে বেঁধে আটকে রাখে। এরপর তারা হাতুড়ি দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে একটি ভারী ভেকু ঢুকিয়ে বিভিন্ন ভবন ও চিকিৎসাকেন্দ্রে তাণ্ডব চালাতে শুরু করে।

এজাহারের তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশের প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, যার আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি প্রায় তিন লাখ টাকা। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা অবকাঠামো ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। ক্লিনিক ইনচার্জ ও চিকিৎসকদের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ সেমিপাকা কক্ষ এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ রেজিস্ট্রেশন শাখায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আরও ২০ লাখ টাকার এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।

অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি থেকে দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি রেফ্রিজারেটর, তিনটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি), তিনটি স্টিলের আলমারি এবং বিপুল পরিমাণ জরুরি ওষুধসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় রাড্ডা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এ পর্যন্ত নয়জনকে আইনের আওতায় এনেছে এবং লুট হওয়া মালামালভর্তি দুটি ট্রাক জব্দ করেছে।


নির্বাচিত

মধ্যরাতে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, মালামাল লুটের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ইসিবি চত্বর সংলগ্ন নিউগ্রিনি প্রপার্টিজের একটি ভবনে অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নিজস্ব স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্টুডিওর মূল্যবান প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ জরুরি কাজের সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে হামলায় কর্মরত কোনো কর্মী শারীরিকভাবে আহত হননি।

ঘটনার সময় ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন সালমান মুক্তাদির। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানে রাজধানীতে ফিরে তিনি স্টুডিও পরিদর্শন করেন এবং ফেসবুক লাইভে এসে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেখানে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি চলমান প্রজেক্টের শুটিং ফুটেজ ও মূল্যবান ডেটা সংরক্ষিত ছিল, যা ধ্বংস বা খোয়া যাওয়ায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও প্রদর্শন করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডিস্ট্রয় হয়ে গেছে।’

চাঁদা দাবির জের এবং ভবন মালিকের সঙ্গে থাকা বিরোধের প্রেক্ষাপটেই এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন সালমান। ফেসবুক লাইভে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘ভিডিওটা শুধু খুবই স্পেশালি বানানো আমাদের যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, উনার জন্য। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নিবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ।’ হামলার মূল কারণ বিশ্লেষণ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘যারা অ্যাটাক করছে, ওরা হয়তো জানত না যে এটা আমার জায়গা। বাট আমি পড়ছি অ্যাজ আ নরমাল সিটিজেন হিসেবে। ...আমাদের এখানকার যে ল্যান্ডওনার, উনি হয়তো খুব সম্ভবত আওয়ামী লীগ…উনার সাথে চাঁদাবাজি নিয়ে কোনো একটা কিছু হইছে যে-চাঁদা চেয়েছে বা সামথিং...। তো ওদের রিভেঞ্জ থেকে মাঝখানে আমাদের মানুষজন পড়ে গেছে। উনার প্রপার্টি ড্যামেজ করতে গিয়ে আমার প্রপার্টি এখানে মাঝখানে পড়ছে।’

এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সহকর্মীদের সাহস জুগিয়ে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’ যেকোনো মূল্যে সৃজনশীল কাজ অব্যাহত রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’ ভয় না পেয়ে কাজের প্রতি অবিচল থাকার বার্তা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’ দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা স্টুডিওতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের জাল, ৪০০ হটস্পটে দেড় হাজারের বেশি সক্রিয়

# মাদকের টাকার জোগানেও ছিনতাই # গ্রেপ্তার-জামিনের পর আবার মাঠে # হটস্পট চিহ্নিত, তবু নিরাপদ নয় রাজধানী # তালিকায় হাজারো নাম, গ্রেপ্তারও হাজারের বেশি #  অপরাধের জ্বালানি মাদক, সঙ্গে ভাসমান জীবনের অন্ধকার
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

একটি অটোরিকশা এসে থামল। দরজা খুলে চাপাতি হাতে নেমে এল দুই যুবক। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইলে ব্যস্ত এক ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলল তারা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে অটোরিকশায় চড়ে উধাও। পুরো ঘটনা শেষ হতে সময় লাগল মাত্র ১১ সেকেন্ড। ঢাকার মোহাম্মদপুরের বসিলা ফিউচার হাউজিংয়ের সেই দৃশ্য এখন শুধু একটি ছিনতাইয়ের ভিডিও নয়; রাজধানীর সড়কে অপরাধীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারে দিনের ব্যস্ত সময়ে প্রকাশ্যে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাই, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে এক প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু, চাঁদ উদ্যান এলাকায় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ—সাম্প্রতিক একের পর এক ঘটনায় একই প্রশ্ন সামনে এসেছে: এত অভিযান, এত গ্রেপ্তার, এত মামলা—তারপরও রাজধানীর রাস্তায় ছিনতাই থামছে না কেন?

ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন তালিকা ও পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান কয়েকশ। কোথাও ৩০০-এর বেশি, কোথাও প্রায় ৪০০টি হটস্পটের কথা উঠে এসেছে। তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যাও বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৯৮৯ থেকে ১ হাজার ৪০০ পর্যন্ত। পুলিশের বাইরে গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তালিকার বাইরেও সক্রিয় রয়েছে বহু অপরাধী।

অর্থাৎ সমস্যা শুধু কয়েকজন ছিনতাইকারীর নয়; রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে একটি চলমান অপরাধচক্র।

রাজধানীর ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি বড় অংশ পুলিশের নজরদারির তালিকায় রয়েছে। উত্তরা থেকে যাত্রাবাড়ী, বিমানবন্দর থেকে মোহাম্মদপুর, মিরপুর থেকে মতিঝিল—বেশির ভাগ ব্যস্ত প্রবেশপথ ও জনবহুল এলাকার আশপাশেই রয়েছে একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান।

ডিএমপির তালিকায় উত্তরা হাউস বিল্ডিং, আবদুল্লাহপুর, রাজলক্ষ্মী, বিমানবন্দর গোলচত্বর, দক্ষিণখানের বিভিন্ন এলাকা ও উত্তরা পশ্চিমের একাধিক স্থান রয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় সক্রিয় ছিনতাইকারীর সংখ্যা একটি তালিকায় ৭৭ এবং উত্তরা পশ্চিম এলাকায় ১৪৫ জনের তথ্য রয়েছে।

মিরপুরের কালাপানি, পাইকপাড়া, শিয়ালবাড়ী, শাহআলী মাজার, মিরপুর-১, কালশী, পূরবী, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া মেট্রো স্টেশনসংলগ্ন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।

মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় থেকে লাউতলা, বসিলা গার্ডেন সিটি, ঢাকা উদ্যান, শিয়া মসজিদ, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, চান মিয়া হাউজিং, নূরজাহান হাউজিংসহ বিভিন্ন এলাকাও তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া কারওয়ান বাজার, মগবাজার-ইস্কাটন, মালিবাগ, হাতিরঝিল, এফডিসি মোড়, আগারগাঁও, মতিঝিল, শনিরআখড়া, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন পয়েন্টে ছিনতাইয়ের ঝুঁকি রয়েছে।

অপরাধের ধরনও বদলেছে। আগে নির্জন গলি বা রাতের অন্ধকারকে বেশি ব্যবহার করলেও এখন ব্যস্ত সড়ক, সিগন্যাল, গণপরিবহন ও দিনের আলোতেও হামলা চালানোর ঘটনা ঘটছে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেড় বছরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৭০৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ জন। শুধু ২০২৫ সালে ৫৩১ মামলায় গ্রেপ্তার হয় ১ হাজার ৪৩৫ জন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১৭২ মামলায় আরও ৪০২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।

আবার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে দস্যুতা বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৩১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও বিভাগে ৫০, মতিঝিলে ৪৬ এবং ওয়ারীতে ৪৫টি মামলা হয়েছে।

পরিসংখ্যানের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশি তালিকায় থাকা অনেক ছিনতাইকারী একাধিক মামলার আসামি। তাদের একটি অংশ গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে বেরিয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বরও যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় ছিনতাইকালে রিফাত মোল্লা ও রমজান নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও দুটি ধারালো করাতের ব্লেড উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে ছিনতাইয়ের পেছনে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, মাদকও গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকীর মতে, শুধু পেটের দায়ে মানুষ ছিনতাইয়ে নামে না; মাদকের অর্থ জোগাড় করতেও অনেকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান অবস্থায় থাকা অপরাধীদের একটি অংশ মাদকাসক্ত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নজরদারিও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ছিনতাইয়ের পেছনে আরেকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ—এই অপরাধীদের নেটওয়ার্ক কে নিয়ন্ত্রণ করে?

কারা তাদের আশ্রয় দেয়? ছিনতাই করা মোবাইল, টাকা বা অন্যান্য মালামাল কোথায় যায়? অপরাধের অর্থের ভাগ কীভাবে বণ্টন হয়? নতুন সদস্যদের কে যুক্ত করে? এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু মাঠপর্যায়ের ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার করে অপরাধের মূল কাঠামো ভাঙা কঠিন বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকেরা।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক ছিনতাই মামলার আসামিদের জামিন প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, কারা আসামিদের জামিনে বের করে আনছে এবং জামিনের অর্থের উৎস কী—সেটিও অনুসন্ধানের বিষয় হওয়া উচিত।

ছিনতাইয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অপরাধীদের প্রকাশ্য বেপরোয়া আচরণ।

ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অস্ত্র হাতে ছিনতাইকারীকে পুলিশের উপস্থিতির মধ্য দিয়েই চলে যেতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

গত জুনে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাই করে পালানোর সময় তিন দুর্বৃত্তকে আটক করতে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।

কমলাপুরে বাস থেকে নামার সময় একজনের মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, মিরপুরে নারীর ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে পালানোর ঘটনা কিংবা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর গলা থেকে দিনের আলোতে চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা—সবগুলোতেই একই প্রবণতা দেখা যায়: সুযোগ পেলেই দ্রুত হামলা ও দ্রুত পালিয়ে যাওয়া।

পুলিশ বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং নিয়মিত বিশেষ অভিযান চলছে।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, তালিকাভুক্তসহ সক্রিয় ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনতে থানাগুলোকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জামিনে বের হওয়া অপরাধীদের ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।

রাজধানীর ছিনতাইয়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে একক কোনো কারণকে দায়ী করা কঠিন। বরং কয়েকটি কারণ একে অন্যকে শক্তিশালী করছে।

একদিকে রয়েছে সংগঠিত ও সুযোগসন্ধানী ছিনতাইকারী চক্র। অন্যদিকে রয়েছে মাদকের অর্থের চাহিদা, কর্মসংস্থানের অভাব, ভাসমান জীবন, সামাজিক নজরদারির দুর্বলতা এবং গ্রেপ্তারের পর পুনরায় অপরাধে ফেরার প্রবণতা।

এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি বাস্তবতা—অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে চান না। ফলে পুলিশের নথিতে যে সংখ্যা দেখা যায়, প্রকৃত ঘটনা তার চেয়ে বেশি কি না, সেই প্রশ্নও থেকে যায়।

আবার বিভিন্ন সময়ে ডিএমপির তালিকায় হটস্পট ও সক্রিয় ছিনতাইকারীর সংখ্যায় পার্থক্য দেখা গেছে। কোথাও ৩০০-এর বেশি স্পট, কোথাও প্রায় ৪০০ হটস্পট; সক্রিয় ছিনতাইকারীর সংখ্যাও তালিকাভেদে ভিন্ন। এটি মূলত সময় ও তালিকা হালনাগাদের পার্থক্য নির্দেশ করতে পারে। তবে সব তালিকার একটি অভিন্ন বার্তা—ছিনতাই রাজধানীর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি বিস্তৃত নগর অপরাধের একটি স্থায়ী চিত্র।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, হটস্পটে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধীদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, মাদক সরবরাহ, চোরাই মালামালের বাজার, পুনরায় অপরাধে জড়ানোর পথ এবং জামিন-পরবর্তী নজরদারি—সবকিছুকে একই তদন্ত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

শুধু একজন ছিনতাইকারীকে ধরে আদালতে পাঠালে একটি ঘটনা থামতে পারে; কিন্তু ছিনতাইয়ের বাজার ও নেটওয়ার্ক অক্ষত থাকলে অপরাধী বদলাবে, অপরাধ থামবে না।

রাজধানীর সড়কে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু ‘কোথায় ছিনতাই হচ্ছে’ নয়। প্রশ্ন হলো—কেন একই জায়গায় বারবার ছিনতাই হচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীরা কীভাবে আবার ফিরছে এবং এই অপরাধের পেছনের অর্থনৈতিক ও মাদকভিত্তিক চক্র কোথায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করা না গেলে পুলিশের তালিকায় হটস্পটের সংখ্যা কমলেও নগরবাসীর আতঙ্ক কমবে কি না, সেটিই থেকে যাবে বড় প্রশ্ন।


নির্বাচিত

ধ্বংসস্তূপের সামনে টিকাদান, শিশু ও মায়েদের ভোগান্তি

* ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা তদন্তে কমিটি * গ্রেপ্তার চার, আসামি ২০০-২৫০ * ৫০ বছরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত * রাতের অন্ধকারে স্থাপনা ভেঙে ফেলা অনাকাঙ্ক্ষিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজধানীর মিরপুরের প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে টিকা নিতে আসা শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া রাজধানীর মিরপুরের প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে নেই স্বাভাবিক সেবার পরিবেশ। তবু ধ্বংসস্তূপের সামনেই খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে শিশুদের টিকাদান চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে টেবিল-চেয়ার পেতে হামসহ শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এতে টিকা নিতে আসা শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের গেইটে ব্যানার-ত্রিপল টানিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্র। টিকাদানের সামগ্রী নিয়ে বসেছেন স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। সেখান বিভিন্ন বয়সী শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসেন অভিভাবকরা।

এদিকে, স্থাপনা ভাঙচুরের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঘটনার সময় পুলিশ যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না, কোনো সদস্যের গাফিলতি ছিল কি না—তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঘটনাটি আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় ঘটানো সম্ভব নয়। আলামত দেখে মনে হয়েছে, সময় নিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। ভবনের দুই পাশের টিনশেডসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। ভেতরে থাকা ডেটাসংক্রান্ত সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির অনেকগুলোও পাওয়া যাচ্ছে না।

ডিএমপি কমিশনার জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। দারুস সালাম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গ্রেপ্তার চার, আসামি ২০০-২৫০: এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এজাহারে নাম উল্লেখ থাকা একজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো দল বা মত বিবেচনা করা হবে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে। কোনো ধরনের দখল বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না। তদন্তে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

রাতের আঁধারে ভাঙচুর ও লুটপাট: প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে বিভিন্ন কক্ষ থেকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, ল্যাবরেটরি রিএজেন্ট, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়।

পরে ভারী যন্ত্রপাতি বা এক্সকাভেটর দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার বা সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতারের দাবি, প্রায় ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশে হামলা চালানো হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাটে অন্তত দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি তার।

মালিকানা বিরোধ আদালতে: রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তবে এর নিষ্পত্তি আদালতেই হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, এটি এনজিও পরিচালিত মাতৃসেবা কেন্দ্র। মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও রাতের অন্ধকারে এভাবে স্থাপনা ভেঙে ফেলা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি আদালতে নির্ধারিত হবে।

তিনি আরও বলেন, টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ হবে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ধ্বংসস্তূপের সামনেই টিকাদান: কেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও শনিবার সকাল থেকে মূল ফটকের বাইরে সড়কের পাশে ত্রিপল টাঙিয়ে টিকাদান শুরু করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। বেলা দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

খোলা জায়গায় টিকাদানের কারণে শিশু ও অভিভাবকদের ভোগান্তি হচ্ছে। গরম ও রোদে বাইরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জানান কয়েকজন অভিভাবক।

ডা. নাসরিন আখতার বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে। আশপাশের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সেবা চালু রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

৫০ বছরের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত: প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কেন্দ্রটি প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুর এলাকার নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সুবিধাও দেওয়া হতো।

কেন্দ্রটি ধ্বংস হওয়ায় এসব স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ: ভাঙচুরের ব্যাপকতা ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি সামনে আসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধনে ঘটনা ঘটেছে এবং পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও দাবি করেছেন, ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের গাফিলতি ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

মালিকানা বিরোধের নিষ্পত্তি আদালতে এবং ভাঙচুরের ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত—দুই প্রক্রিয়াই এখন চলছে। তদন্তে হামলার পরিকল্পনা, লুটপাট, স্থাপনা ধ্বংস, সম্ভাব্য দখলের উদ্দেশ্য এবং পুলিশের ভূমিকার বিষয়গুলো কতটা স্পষ্ট হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


নির্বাচিত

জাসদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া ২৮০-৩০০ জনকে যাচাই করা হচ্ছে: ডিসি হারুন

মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, জাসদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ জনকে থানায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন—এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। এ সময় স্থানীয় ছাত্র-জনতাও পুলিশকে সহায়তা করেছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসি হারুন বলেন, কী উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, তাদের কাছে কী তথ্য ছিল এবং সেখানে তারা কী ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তারা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কি না এবং কেন সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।

ডিসি হারুন জানান, প্রাথমিকভাবে সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ২৮০ থেকে ৩০০ জন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাইয়ের কাজে যুক্ত থাকায় তিনি সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পুরো ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করার স্বার্থে আমরা তাদের থানায় নিয়ে যাচ্ছি। যাচাই-বাছাই করে যার যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের নামে মামলা হবে বা আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না, তাদের ক্ষেত্রে অন্য যে প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।’

সেখানে সাংবাদিক বা অন্য কোনো পেশার মানুষ আটক হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি হারুন বলেন, সাংবাদিকসহ অন্য কোনো পেশার মানুষ সেখানে আছেন কি না, পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাসদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার জন্য তাদের কোনো অনুমতি ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

ডিসি হারুন জানান, ঘটনাটি পল্টন থানার আওতাধীন। তদন্তের সুবিধার্থে প্রয়োজন হলে আটকদের আশপাশের কোনো থানায় রাখা হতে পারে।


নির্বাচিত

বনানীতে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিয়েরা লিওনের নাগরিকসহ নিহত ২

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বনানীতে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি এবং অপরজন পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনের নাগরিক। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে বনানীর আমতলী মোড়ের পশ্চিম পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সিরাজ মিয়ার বাড়ির মোহাম্মদ রফিক উল্লাহর ছেলে মো. খালেদ সাইফুল্লাহ (৩৮) এবং সিয়েরা লিওনের নাগরিক মাইকেল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারেক জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং মাইকেলের মৃত্যুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে জানানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বিদেশি নাগরিকের পরিচয় ও বিস্তারিত জানিয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন বলেন, ‘বিদেশি নাগরিক মাইকেল মালিবাগে অবস্থিত কানাডিয়ান ট্রিলিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে চাকরি করতেন। তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। শুক্রবার তিনি তার স্কুল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন এবং গত শনিবার তার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্কুল থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে করে ফেরার পথে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের পর তার মরদেহ সংরক্ষণের (ফ্রিজিং) জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি।’

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে আমতলী মোড় পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান তাদের পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ে চালক পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘাতক কাভার্ড ভ্যানটি শনাক্ত করাসহ চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

* হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: ডিএমপি কমিশনার
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে ভাঙচুরের ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। তবে ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল, এ কথা স্বীকার করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন।

ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন কাউকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়নি, এমন প্রশ্নে অবশ্য স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করলেও তাদের পরিচয় জানায়নি পুলিশ।

হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না: রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা আধাঘণ্টা বা ১ ঘণ্টায় হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না। গতকাল শনিবার বিকেলে রাড্ডা ক্লিনিক পরিদর্শনে গিয়ে ডিএমপি কমিশনার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, এ ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ করে আড়াইশ জনের নামে মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪ জনকে।

ডিএমপি কমিশনানের ভাষ্য, ‘রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা আধাঘণ্টা বা ১ ঘণ্টায় ঘটেনি। ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১ জনের নাম উল্লেখ করে আড়াইশ জনের নামে মামলা হয়েছে। জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাড্ডার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল কিনা– সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এডিসি দারুসসালামকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজকের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামিরা অর্থের বিনিময়ে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন; তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ক্লিনিকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি এনে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রাড্ডা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামলাকারীরা ওষুধ, ভ্যাকসিন, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে বলে গত শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। হানিফ মিয়া অবশ্য ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎসুক জনতাকে সেখানে দেখতে পায় এবং মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে গতকাল তিনি বলেছেন, ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই কীভাবে এত বড় পরিসরে ভাঙচুর ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলল এবং তখন কাউকে আটক করা হলো না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর হোসেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছিলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। সরকারি ইপিআই কর্মসূচিও সেখানে পরিচালিত হতো।


নির্বাচিত

বাস ভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা, নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা

* হুঁশিয়ারির পরও বাড়তি, ৩০ টাকার ভাড়া ৪০ * যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর গণপরিবহনের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটেও। তবে রাজধানীর অধিকাংশ বাসে এখনো সেই তালিকা ঝোলানো হয়নি। কোথাও পুরোনো তালিকা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি। ফলে একই দূরত্বে যাত্রীভেদে ভিন্ন ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন, রামপুরা, বাড্ডা, শাহবাগ, কারওয়ান বাজার ও গাবতলী এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকাংশ বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা নেই। কোনো কোনো বাসে পুরোনো তালিকা ঝুলছে। আবার তালিকা অনুযায়ী ভাড়া না নিয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন বাসে চালক ও হেলপারের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্‌বিতণ্ডাও হচ্ছে।

৩০ টাকার ভাড়া ৪০: সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহানগর এলাকায় বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ ভাড়া বেড়েছে ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে এর চেয়েও বেশি ভাড়া নেওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে।

গাবতলী থেকে বসুমতি পরিবহনের বাসে গুলিস্তানে আসেন স্ট্যাম্প ভেন্ডার শাহাদত উল্লাহ। তিনি বলেন, আগে এ পথে ৩০ টাকা ভাড়া দিতেন। এখন তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৪০ টাকা।

শাহাদত উল্লাহ বলেন, সরকার কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছে। কিন্তু কম দূরত্বের পথেও ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। বাসে নতুন ভাড়ার তালিকা টানানো থাকলে যাত্রীদের প্রকৃত ভাড়া বুঝতে সুবিধা হতো।

সরেজমিনে কয়েকটি বাসে দেখা যায়, একই দূরত্বের জন্য যাত্রীভেদে ভিন্ন ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কারও কাছ থেকে আগের ভাড়া নেওয়া হলেও অন্য যাত্রীর কাছে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দাবি করা হচ্ছে। তুলনামূলক দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ বেশি।

বনশ্রী থেকে আছিম পরিবহনের একটি বাসে উঠে দেখা যায়, সেখানে নতুন তো নয়, পুরোনো ভাড়ার তালিকাও নেই। এ বিষয়ে চালকের সহকারী ইলিয়াস আলী বলেন, ‘সবকিছু মালিকের বিষয়। আমরা ভাড়ায় গাড়ি চালাই। মালিক পক্ষ থেকে এখনো নতুন চার্ট দেওয়া হয়নি। তাই টানাইনি। চার্ট না থাকায় আমরা সবার কাছ থেকে আগের ভাড়াই নিচ্ছি।’

শাহবাগে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেলপার দূরত্বভেদে আগের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দাবি করেন। বাসটির চালক মো. জয়নাল বলেন, ‘আমাদের গাড়ি ডিজেলে চলে। সরকার ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এজন্য বাস ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। তালিকা মালিকপক্ষ থেকেই দেওয়া হবে।’

হুঁশিয়ারির পরও বাড়তি ভাড়া: সরকার নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সার বেশি ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীবাহী পরিবহনের রুট পারমিট স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে বলে পরিবহন মালিকদের হুঁশিয়ার করা হয়েছিল।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন রুট ঘুরে দেখা গেছে, যেসব বাসে ভাড়ার তালিকা টানানো আছে, সেগুলোর অনেকটিতেই পুরোনো তালিকা রয়েছে। আবার ওই তালিকা অনুযায়ী ভাড়া না নিয়ে নতুন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, এভাবে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হলেও তা বন্ধে কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না।

ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি: যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে ভাড়ার তালিকা না থাকায় প্রকৃত ভাড়া জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই পথে একেক বাসে এবং কখনো একই বাসে যাত্রীভেদে ভিন্ন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অনেক যাত্রী জানেনও না যে বিআরটিএর ওয়েবসাইটে নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

সাইনবোর্ড থেকে আসা লাব্বাইক পরিবহনের একটি বাসে চালকের আসনের ওপরে পুরোনো ভাড়ার তালিকা ঝুলতে দেখা যায়। ওই বাসে মৌচাক থেকে ওঠেন বেসরকারি চাকরিজীবী দীপেন ঘোষ। তিনি জানান, সকালে গাবতলী থেকে একই পথে ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছেন। ফেরার সময় তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৪০ টাকা।

দীপেন ঘোষ বলেন, সরকার ওয়েবসাইটে ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করলেও বাসে তা না থাকলে যাত্রীরা প্রকৃত ভাড়া জানবেন কীভাবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বাসে ভাড়ার তালিকা না থাকায় শুধু যাত্রী নয়, চালক ও ভাড়া আদায়কারীদেরও প্রকৃত ভাড়া জানতে সমস্যা হচ্ছে। তার দাবি, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাস্তবে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর আগেও ভাড়া নির্ধারণ ও বাসে নতুন তালিকা টানাতে সময় লেগেছে। প্রযুক্তির যুগেও এখনো পুরোনো ব্যবস্থাই চলছে। বাস মালিকদের কাছে দ্রুত নতুন ভাড়ার তালিকা পৌঁছে দেওয়া এবং তা বাসে প্রদর্শন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নতুন ভাড়ার তালিকা বাসে না টানানোর বিষয়ে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালিকা না থাকলে শাস্তি: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, গণপরিবহনে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। আইনের ৩৪ ধারায় সহজে দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ছাড়া গণপরিবহনে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ নেই। বাসের ভেতরে যাত্রীদের চোখে পড়ে এমন স্থানে ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখার বিধান রয়েছে।

আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনধিক এক মাসের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে এক দোষসূচক পয়েন্ট কেটে নেওয়ার বিধানও রয়েছে।

জ্বালানি তেলের রেকর্ড দাম: ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে।

এগুলো দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। দাম বৃদ্ধির পরদিন থেকেই গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় পরিবহন মালিক সমিতি। তাদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর এলাকায় কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

সরকারি ওয়েবসাইটে নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ হলেও রাজধানীর বাসে তা প্রদর্শন না করায় এখন যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া আদায় হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


নির্বাচিত

ডিএসসিসির বিশেষ অভিযানে নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে পালিত হতে যাচ্ছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান বা ‘সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডিএসসিসির ‘বর্ষা পূর্ব জরিপ ২০২৬’-এর তথ্য অনুযায়ী, এডিস মশার লার্ভা বহুতল ভবনে ৩৫.২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭.৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন ভবনে ১৭.৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪.৫৯ শতাংশ পাওয়া গেছে। প্রজননক্ষেত্রের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ড্রামে ৮.৮৯ শতাংশ, মেঝেতে জমে থাকা পানিতে ১২.২৬ শতাংশ এবং বালতির পানিতে ১০.৩৪ শতাংশ লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বসতবাড়ি বা ব্যক্তিগত আঙিনায় জমা পানি, ফুলের টব, এসি-ফ্রিজের ট্রে, কিংবা বাথরুমের কমোডে জন্মানো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সিটি করপোরেশনের পক্ষে একা সম্ভব নয়। নিজ বাসাবাড়িতে প্রজনন হওয়া মশা পরিবারের সদস্যদের জন্যই সবচেয়ে বড় হুমকির কারণ। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল ওষুধ ছিটানোই যথেষ্ট নয়; বরং নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখাই মূল সমাধান।

​অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের আবাসিক এলাকা, সড়ক, ড্রেন, ছাদ ও নির্মাণাধীন ভবনে কার্যকর লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং চালানো হবে। একই সাথে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, টায়ারসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

এ ছাড়া, সচেতনতা বাড়াতে ৭৫টি ওয়ার্ডেই বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে এবং ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হবে। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ওয়ার্ড পর্যায়ের এই ‘ক্লিনিং ডে’ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।

​ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রেখে এবং কোথাও পানি জমতে না দিয়ে ‘সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে’ সফল করতে সর্বস্তরের নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

​একই সাথে, নগরবাসীকে সচেতন করতে এবং কোথাও ৩ দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়ার বার্তা পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছে ডিএসসিসি।


নির্বাচিত

রাজধানীতে ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধারসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাগাশুর এলাকায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় জাহিদ হাসান ইমনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত শনিবার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি তদন্তে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতের তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হাসান ইমন স্বীকার করে লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সাহায্যে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃত ইমনের বিরুদ্ধে ডিএমপির শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুইটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তার আরও ৫৪৮, মামলা ৫১

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার ও ৫১টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩১ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৪ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৭৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৯৬ জন, মিরপুর বিভাগে ৯২ জন, গুলশান বিভাগে ৪৬ জন, উত্তরা বিভাগে ৯৩ জন, গোয়েন্দা বিভাগে ১৬ জন এবং সিটিটিসি বিভাগে একজন রয়েছেন।’

অভিযানে ৩৬ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, ১৭ হাজার ৩৪৫ পিস ইয়াবা ও ৫০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মোটরসাইকেল, ১০টি মোবাইল ফোন ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদকদ্রব্য ও আলামত উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’


নির্বাচিত

banner close