ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত দখল করে নতুন করে দোকান বা কোনো স্থাপনা বসানো ঠেকাতে মনিটরিং টিম গঠন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। টিমটি নিয়মিত ওই এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিএনসিসির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশে এ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখল করে যাতে নতুন করে কোনো দোকান বা স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে টিমটি নিয়মিত নজরদারি করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হলে সংশ্লিষ্ট মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে দখল ঠেকানোর পাশাপাশি ফুটপাতের স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে হকার বসলে তাদের উচ্ছেদের পাশাপাশি মালপত্র জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন ‘সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ও অনুমোদিত স্থানের বাইরে ঢাকার কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পুরান ঢাকার ধলপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জনভোগান্তি সংক্রান্ত বিষয় পরিদর্শন করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমরা হকারদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফুটপাত ও স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। এর বাইরে জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাটের মূল সড়কসহ কোনো ফুটপাতে অবৈধভাবে হকার বসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, শহরের সব হকারকে সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া ঢাকা শহরের কোথাও কোনো হকার বসতে পারবে না।
উচ্ছেদের পরে পুনরায় ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন থেকে উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে মালামাল জব্দ ও সরাসরি মামলা দায়ের করা হবে।
হকারদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে সালাম বলেন, দফায় দফায় হকারদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং নতুন করে নোটিশ দেওয়ার কোনো বিষয় নেই।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এর প্রবেশপথে ঢাকা ওয়াসার উন্নয়ন কাজের কারণে জনভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এ কারণে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
রাজধানীর ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযানে গিয়ে বারবার সংঘর্ষের মুখে পড়ছে পুলিশ ও প্রশাসন। কখনো হুমকি, কখনো ইটপাটকেল নিক্ষেপ, আবার কখনো সরকারি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ—উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সহিংসতার চিত্র যেন ক্রমেই পরিচিত হয়ে উঠছে। সর্বশেষ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ এলাকায় অভিযানের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়ি ও উচ্ছেদে ব্যবহৃত যন্ত্র। আহত হয়েছেন সংবাদকর্মীরাও।
গত ছয় মাসে রাজধানীর অন্তত পাঁচটি ঘটনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যদের বাধা কিংবা হামলার মুখে পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। এসব ঘটনা শুধু সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয় নয়; একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলছে, কেন বারবার সংঘাতে গড়াচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান? সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি কতটা কার্যকর, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কতটা রয়েছে এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা কতটা সক্ষম—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।
মিরপুরে আগুন থেকে সংঘর্ষ: বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত সড়কে অবৈধ দোকানপাট ও হকার উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও পুলিশ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোপ মার্কেটের সামনে অভিযান চলার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দোকান ভাঙার সময় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। এতে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের নিচে থাকা ছয় থেকে সাতটি দোকান পুড়ে যায়। আগুনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হকার ও ব্যবসায়ীদের একাংশের সঙ্গে অভিযান পরিচালনাকারীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
হকারদের একাংশ লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের একটি পিকআপ ও উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে আহত হন সমকালের আলোকচিত্রী মাহবুব হোসেন নবীন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে বেলা আড়াইটার দিকে আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ছয় মাসে পাঁচ ঘটনা: মিরপুরের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগে মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, পল্লবী, গেন্ডারিয়া ও জুরাইনে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে পুলিশকে হুমকি, হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
৭ মার্চ যাত্রাবাড়ীতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের আপত্তিকর মন্তব্য ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাদের আটক করে আদালতে হাজির করা হলে বিশেষ মহানগর হাকিম আদালত দুজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
২০ মে পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ এলাকায় সরকারি জমি উদ্ধারে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার মুখে পড়েন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় অন্তত সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশের জন্য রিকুইজিশন করা চারটি বাসের কাচও ভাঙচুর করা হয়।
৮ জুন গেন্ডারিয়ায় পুরান ঢাকার ডিআইটি পুকুরপাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। এতে শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ও তাঁর দেহরক্ষী কনস্টেবল আহত হন। স্থানীয় একটি কাউন্সিলরের কার্যালয় উচ্ছেদ না করেই অভিযান শেষ করাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।
২৬ জুলাই জুরাইনে সড়ক দখলমুক্ত করতে হকার উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে কদমতলী থানার একটি পুলিশ দল। এ সময় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনায় দুজনকে আটক করে পুলিশ।
সর্বশেষ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের গাড়ি ও এক্সকাভেটর ভাঙচুরের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনাগুলোর স্থান, পরিস্থিতি ও সংঘাতের কারণ এক নয়। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বাধা কিংবা হামলার ঘটনা নগর ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে।
সমন্বয়ের ঘাটতি, নাকি পরিকল্পিত বাধা: মিরপুরের সংঘর্ষের পর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ করেননি। ফলে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।
অন্যদিকে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রাখা এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিভিন্ন অভিযানে পুলিশ আইনের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করে। কিছু গোষ্ঠী উচ্ছেদের সময় পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পুলিশ পেশাদারত্বের সঙ্গে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের সময় মামলা বা আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে। কখন কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, কখন বলপ্রয়োগ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। তবে এই দাবির ব্যাপকতা ও মাঠপর্যায়ে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে স্বাধীন মূল্যায়ন প্রয়োজন।
উচ্ছেদের পর পুনর্দখল ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ: রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান নতুন নয়। কিন্তু বছরের পর বছর একই জায়গায় উচ্ছেদ, আবার দখল—এই চক্র ভাঙাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মিরপুরের এবারের অভিযান কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে উচ্ছেদের পর নজরদারি কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।
ফুটপাতের ওপর ছোট ব্যবসা ও হকারির সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। অন্যদিকে ফুটপাত দখল হয়ে গেলে পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলতে হয়, বাড়ে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ফলে শুধু উচ্ছেদ নয়, বৈধ বিকল্প ব্যবস্থা, পুনর্বাসন বা নির্ধারিত বাণিজ্যিক স্থান তৈরির মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন, দখলমুক্ত জায়গাগুলোকে নাগরিকবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মিরপুর-১০ গোলচত্বরের ফুট ওভারব্রিজের নিচে উচ্ছেদের পর গাছ লাগানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এবার পরীক্ষা প্রশাসনের: মিরপুরের সংঘর্ষের পর ডিএনসিসির সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—একদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অন্যদিকে সংঘাত এড়িয়ে সেই দখলমুক্ত অবস্থা ধরে রাখা।
প্রশাসকের কঠোর ঘোষণা, অভিযান থামবে না। তবে একটি উচ্ছেদ অভিযানের সাফল্য শুধু কতটি দোকান সরানো হলো, তার হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কতদিন ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা গেল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
মিরপুরের আগুন, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ তাই শুধু একটি দিনের ঘটনা নয়। এটি রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, হকারদের জীবিকা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের জটিলতাকেও সামনে এনেছে। এখন বড় প্রশ্ন, দখলমুক্ত করার পর ফুটপাত কতটা স্থায়ীভাবে নগরবাসীর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা যায়।
রাজধানী ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাঁচপুর বাস টার্মিনালের চলমান অবকাঠামোগত নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ে কাঁচপুরে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে অস্থায়ী শেড (Temporary Shed) নির্মাণ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ দূরপাল্লার ১৬টি জেলার বাস সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তীতে এখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও জানান, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করায় ঢাকা শহরের যানজট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। কাঁচপুর থেকে ট্রানজিট হিসেবে সায়েদাবাদে আসা-যাওয়া করা যাত্রীদের সুবিধার্থে ডিএসসিসির উদ্যোগে পরিবহন মালিকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে একটি বিশেষ 'শাটল সার্ভিস' চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্পের অগ্রগতি:
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে এই আধুনিক টার্মিনালের নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে। পুরো প্রকল্পের বর্তমান গড় অগ্রগতি ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
টার্মিনালে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকবে:
প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন কাঁচপুর বাস টার্মিনালে প্রায় ৪০৫টি বাসের ধারণক্ষমতা, ৩৭৮টি বাস পার্কিং, ২২টি বাস বে, ৫টি ওয়াশিং বে এবং ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালে ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন, ১০৬টি টিকিট কাউন্টার, পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ৬টি টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস ও ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুমের সংস্থান রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক কাজের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত করা, নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করা এবং কোনো ধরনের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কঠোর নির্দেশনা দেন।
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রাজধানীর রমনা থানাধীন সেগুনবাগিচা এলাকার একটি বাসা থেকে ডিবির গুলশান বিভাগের একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা, অনধিকার প্রবেশ ও মালামাল চুরিসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা এ মামলায় গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী চার নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে প্রায় ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রকল্প এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করে রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
হামলাকারীরা একপর্যায়ে প্রকল্প এলাকায় থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ স্টুডিওতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সেখান থেকে নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মূল্যবান তার, ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া সরঞ্জামসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করার পাশাপাশি কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। নিউগিনি প্রপার্টিজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই তাণ্ডবে তাদের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরি গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে, যার জবাবে আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে।
এর আগে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল। এছাড়া গত সোমবার বিকেলে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকা থেকে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের জামাতা ও মামলার নয় নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। সেই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবেই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হলো।
রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি সুপরিকল্পিত ছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রশাসক সাফ জানিয়ে দেন, কোনো হামলা বা বিশৃঙ্খলার মুখে পিছু হটা হবে না এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক অভিযোগ করেন, ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রাখা ব্যক্তি ও তাদের নেপথ্যের ইন্ধনদাতারা পরিকল্পিতভাবে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পুলিশ সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালিয়েছে। অভিযানের সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার অজুহাতে ক্ষুব্ধ হকাররা সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একটি খননযন্ত্র (ভেকু) ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম অংশে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কৃত্রিম অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর দায়ে ডিএনসিসি এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। উল্লেখ্য, সংঘাত চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও ছবি তুলতে গিয়ে হকারদের সরাসরি হামলায় আহত হয়েছেন গণমাধ্যমের আলোকচিত্রী মাহবুব হোসেন নবীন।
এদিকে স্থানীয় হকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা আকস্মিক দোকানপাট উচ্ছেদ করতে গেলে বৈদ্যুতিক তার থেকে অগ্নিকাণ্ডে তাদের মালামাল ভস্মীভূত হয়, যার ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে প্রশাসক উল্লেখ করেন, মিরপুরের সাধারণ জনগণ ফুটপাতকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত দেখতে চায়। ভবিষ্যতে কোনো মহলের মদদে পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং মিরপুর-১০ সংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অভিযান চলাকালে ক্ষুব্ধ হকার ও ব্যবসায়ীরা সিটি কর্পোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি খননযন্ত্র (ভেকু) ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুটপাত উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে একটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আকস্মিক আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সংগঠিত হয়ে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেন এবং পুলিশের গাড়িসহ উচ্ছেদে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অতিরিক্ত বিশৃঙ্খলা এড়াতে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় ধারালো অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানে আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে দুই রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়া হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটায় আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন—রাজিব হাওলাদার (৩০), সাগর ওরফে ছোট বিগার (২৪), শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)। তাদের মধ্যে রাজিব ও সাগরের পায়ে গুলি লাগে। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি জুয়েল রানা জানান, মঙ্গলবার রাত ২টা ৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মামলার কয়েকজন আসামি নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারের পেছনে খালপাড় এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৭-৮ জনকে দেখতে পায়।
পুলিশের দাবি, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে কয়েকজন ধারালো চাপাতি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে এসে হামলার চেষ্টা করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে রাজিব ও সাগর গুলিবিদ্ধ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি ও সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তার সাগর ওরফে ছোট বিগারের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় মোট আটটি মামলা রয়েছে। রাজিব হাওলাদার মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি বলেও পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তার শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের পেছনে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ ও বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে ককটেল ও পেট্রোল বোমা মজুদ করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-২। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিস্ফোরক শনাক্তের পর বোম ডিসপোজাল টিম তা নিষ্ক্রিয় করেছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে রায়েরবাজারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
নয়মুল হাসান বলেন, জুলাই জাদুঘরের পেছনে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ এবং বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের এলাকায় দুষ্কৃতকারীরা নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব বিস্ফোরক মজুদ করে থাকতে পারে। এসআরবির গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিস্ফোরক মজুদের স্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বোম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ককটেল ও পেট্রোল বোমাগুলো শনাক্ত করে।
এসআরবি-২ অধিনায়ক বলেন, কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা থাকলে তা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিস্ফোরকগুলো কারা এনে সেখানে রেখেছে, তা শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানান নয়মুল হাসান। এরই মধ্যে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিস্ফোরক মজুদের পেছনে কারা রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এর আগে গত বছর একই এলাকার কাছাকাছি একটি স্থান থেকে পেট্রোল বোমা ও ককটেল উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছিল। নিরাপত্তার দিক থেকে এলাকাটি একটি চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে যে কেউ সহজে আসা-যাওয়া করতে পারে। এই সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতকারীরা জায়গাগুলো বেছে নিতে পারে।
এসব স্থান নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এসআরবি-২ অধিনায়ক জানান, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে রাতে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে না। ককটেলগুলো এসআরবি-২-এর সদর দপ্তরে নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনের আলোয় সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে।
বিস্ফোরকগুলো কে বা কারা মজুদ করেছিল এবং সেগুলো কোনো নাশকতার পরিকল্পনার অংশ কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাচ্ছেন, সেবা নিতে গিয়ে কোনো ভোগান্তি বা অনিয়মের মুখোমুখি হচ্ছেন কি না, তা সরেজমিনে জানতে সাধারণ সেবাগ্রহীতার পরিচয়ে ভূমি অফিসে গেলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বোরকা পরে পরিচয় গোপন রেখে উত্তরখান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান তিনি। সেখানে সাধারণ নাগরিকের মতো ভূমিসেবা নেওয়ার পাশাপাশি সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তাদের কাছে সরাসরি জানতে চান, ভূমিসেবা নিতে গিয়ে কোনো ধরনের হয়রানি, ভোগান্তি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি কিংবা অন্য কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে কি না।
এ সময় ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রম, সেবার পরিবেশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণও পর্যবেক্ষণ করেন ডিসি ফরিদা খানম। সাধারণ সেবাগ্রহীতার দৃষ্টিকোণ থেকে ভূমি অফিসের সেবার বাস্তব চিত্র বোঝার চেষ্টা করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষকে দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
ফরিদা খানম বলেন, ‘আমি নিয়মিত আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি অফিসগুলো পরিদর্শন করি। তবে আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের সময় অনেক ক্ষেত্রে সেবার প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি জানা সম্ভব হয় না। সাধারণ মানুষ ভূমিসেবা নিতে গিয়ে বাস্তবে কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেটি সরেজমিনে জানতেই আমি সাধারণ সেবাগ্রহীতার পরিচয়ে এখানে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভূমিসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং সেবাগ্রহীতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এ ধরনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেবার বাস্তব চিত্র জানা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের জন্য ভূমিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সেবার প্রকৃত চিত্র জানতে আকস্মিক ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর এলাকায় পরিচালিত নিয়মিত কার্যক্রমে গত চব্বিশ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরিচালিত এই অভিযানে সর্বোচ্চ ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তেজগাঁও বিভাগ এলাকা থেকে।
সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তেজগাঁওয়ে ১০১ জন ছাড়াও মিরপুরে ৯৬, মতিঝিলে ৮৩, ওয়ারীতে ৭৯, উত্তরায় ৩৭, লালবাগ ও গুলশানে ৩৬ জন করে এবং রমনা বিভাগে ২৭ জন রয়েছেন। এর বাইরে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৩ জন এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ১ জনকে গ্রেপ্তার করে।
তল্লাশি ও অভিযানকালে পুলিশ ১২৫ পিস ইয়াবা, ১০৪ গ্রাম হেরোইন, মাদক বিক্রির নগদ ৪৭ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল এবং একটি ডিজিটাল ওজন পরিমাপক যন্ত্র উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ১১টি মুঠোফোন, ৪টি সিমকার্ড, ৩টি ধারালো ছুরি, পরিত্যক্ত অবস্থায় ৫ রাউন্ড গুলির খোসা ও প্রায় ৩৫ লাখ টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
রাজধানীর আদাবরে একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বাড়িটির দখল ফিরে পাওয়ার দেড় বছর না যেতেই—আবারও সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন সেখানে বসবাসকারীরা। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শ্যামলী হাউজিং এলাকার ওই বাড়িতে রামদা, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিকের স্বজনেরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির গেট খুলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। গেট না খোলায় তারা বলতে থাকে, ‘টাকা দে, বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না? বের হয়।’ এরপর রামদা ও চাপাতি দিয়ে বাড়ির মূল ফটকে কোপাতে শুরু করে। একপর্যায়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করে তারা।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এরপর হামলাকারীরা ক্যামেরা দুটিই নষ্ট করে দেন। ফলে হামলার পুরো সময়ের দৃশ্য সিসিটিভিতে ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
বাড়ির মালিক আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন লোক এসে কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করে। পরে চারজন মূল ফটকের সামনে আসে। তাদের দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটকের কিছুটা দূরে পিস্তল হাতে আরেকজন দাঁড়িয়েছিলেন। তার দাবি, ওই ব্যক্তিই হামলাকারীদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
মনির হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গেট না খোলায় হামলাকারীরা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ভাঙচুর চালায়। তারা মূল ফটকের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। ইটের টুকরা ছুঁড়ে দোতলার আরও দুটি জানালার কাচও ভাঙা হয়। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে পরে তারা চলে যায়।
হামলা চলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন মনির। তার অভিযোগ, প্রায় তিন ঘণ্টা পর পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে আদাবর থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়।
মনির হোসেনের দাবি, এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নিয়েছিলেন। তখন আদাবর থানায় অভিযোগ দিয়েও সমাধান না হওয়ায়, আদালতে মামলা করেন তারা। আদালতের নির্দেশে পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিষয়টি তদন্ত করে।
মনির জানান, পিবিআই প্রায় চার মাস তদন্তের পর অভিযোগপত্র দেয়। এরপর গত ১২ মার্চ তারা বাড়িটির দখল ফিরে পান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানের নির্দেশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল হতে মিরপুর ১০ মেট্রোরেল পিলারে সকল প্রকার পোস্টার ও লিফলেট সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
রোববার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ছাত্রদল ও যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।
স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা রোববার সকাল ১০টা হতে মিরপুর-১০ মেট্রোরেল পিলারের পোস্টার ও লিফলেট অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেন এবং বিকেল নাগাদ শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল এলাকায় এসে অপসারণ কার্যক্রম শেষ হয়।
এ সময় মেট্রোরেলের প্রতিটি পিলার ও আশপাশের এলাকা হতে সকল ধরনের লিফলেট ও পোস্টার অপসারণ করা হয়।
এই অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের পরিবেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হয়েছে বলে পথচারীরা জানান।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল এলাকায় সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম উদ্বোধনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মেট্রোরেলের নিচে পিলারের লিফলেট ও পোস্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন।
ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি নগরীর খালগুলোকে পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করছে সরকার। রোববার বিকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, এমপি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এতে করে পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি অবৈধ দখল রোধ হবে এবং নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত বিনোদন ও চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর পয়ঃবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে শোধন করে নদীতে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একদিনেই দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। বাস্তবতাকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চাই। তবে নদী-খাল রক্ষা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়; ঢাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও সর্বাত্মক প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘ডিএসসিসির নতুন যুক্ত হওয়া অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত সুবিধার জন্য বর্তমান সরকার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে। তবে একটি সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আরও বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রকল্প সম্পর্কিত তথ্য: পরিদর্শনকৃত ৩.৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৪ থেকে ২৫ মিটার প্রস্থের জিরানী খালটি ‘ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের অধীনে সংস্কার করা হচ্ছে।
৮৯৮.৬১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে (জিওবি ৭০শতাংশ, ডিএসসিসি ৩০শতাংশ) অক্টোবর ২০২২ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএসসিসি। ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ২১.৮৪ শতাংশ। (খালভিত্তিক অগ্রগতি: মান্ডা খাল ৭.৮৩শতাংশ, জিরানী খাল ৫.৬০শতাংশ, কালুনগর খাল ৬.৩৬শতাংশ এবং শ্যামপুর খাল ২.০৫শতাংশ)।
প্রকল্পের প্রধান কাজসমূহ: চার খালের প্রায় ২০.৫৯ কিমি পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ ও স্লোপ প্রটেকশন।
৩২.৫৬ কিমি রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮.০৬ কিমি সুরক্ষা বেষ্টনী এবং ৩২.৪৪ কিমি ওয়াকওয়ে নির্মাণ। ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন এবং পরিবেশ দূষণ রোধে ৮টি ইটিপি নির্মাণ। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ১৪৯টি এবং পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকরণ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খালের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ উচ্ছেদের জটিলতা, অচল কালভার্ট অপসারণ, সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।