মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্য আহত ও সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের পর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার ফুটপাতে আর কোনো হকার বসেননি। ওই এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো হকার ফুটপাতে বসতে এলেই পুলিশ তাকে আটক করছে। এ কারণে অনেক হকার এলাকায় আসছেন না এবং কেউ কেউ গা-ঢাকা দিয়েছেন।
মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ সদস্য আহত করা এবং সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গত বুধবার মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এ সময় হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে হকারদের সঙ্গে ডিএনসিসির কর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের একাধিক গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এরপর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পুলিশ ও সিটি করপোরেশন নিয়মিত নজরদারি করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফুটপাত দখল করে হকার বসানো এবং উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট ও দোকান আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এ সময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চালু থাকবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখার উপসচিব সোনিয়া বিনতে তাবিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
তবে ২৩ অক্টোবর থেকে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে আগের সময়সূচি কার্যকর হবে। অর্থাৎ সেদিন থেকে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকান খোলা রাখার নিয়ম বহাল থাকবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেশে শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সুবিধা এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার বিষয় বিবেচনায় সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ফলে পূজার কেনাকাটার ব্যস্ত সময়ে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ক্রেতারা রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট ও দোকান থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন। ২৩ অক্টোবর থেকে আবার আগের সময়সূচি অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জোনাইদের আদালত গত রোববার তার জামিনের আদেশ দেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তারেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ঢাকার রমনা থানার সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
রিমান্ড শেষে রোববার গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর জেহাদ হোসেন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তার পক্ষে আইনজীবী জামিনের আবেদন করে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আদালত আগামী ধার্য দিন ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই হাজার টাকা মুচলেকায় গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫০ জনের একটি দল দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় ঢুকে হামলা চালায়। তাদের হাতে গুলি, রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা ছিল। হামলায় কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকায় থাকা নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে। এ সময় কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতের আদেশে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী আপাতত জামিনে রয়েছেন।
এক দফা কর্মসংস্থানের দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে শতাধিক প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের একমাত্র দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন উপযুক্ত পদে বিশেষ নিয়োগের ব্যবস্থা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষিত বেকার প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটদের তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ‘চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদ’ এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। সংগঠনটির নেতারা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের লাগাতার আন্দোলন চলবে। দ্রুত দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন দেশের ৬৪ জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।
আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ দাবি আদায় না হলে আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরির অপেক্ষায় আছি। আমাদের দাবি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; আমরা আমাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান চাই। এক দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। তারপরও যদি আমাদের দাবি পূরণ করা না হয়, তাহলে এই যে দেখেন, হাতে বিষের বোতল! আমরা সবাই এখানে বিষপান করে আত্মহত্যা করব।’
সংগঠনের সদস্য সচিব মো. আলিফ হোসেন বলেন, ‘বহু বছর ধরে বিভিন্নভাবে কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়ে আসছি। বারবার আশ্বাস পেলেও বাস্তব সমাধান পাইনি। এবার আমরা এক দফা দাবিতে মাঠে নেমেছি। বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করা পর্যন্ত কর্মসূচি থেকে পিছুপা হব না।’
আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট বলেন, ‘শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও বছরের পর বছর বেকার থাকা অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা কারও দয়া চাই না, কাজের সুযোগ চাই। কর্মসংস্থানের কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধ্য হব।’
আরেক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমাদের পরিবার আছে, ভবিষ্যৎ আছে, স্বপ্ন আছে। কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি। সরকার বিষয়টি মানবিক ও জরুরি হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে-এটাই প্রত্যাশা।’
আন্দোলনকারীরা বলেন, তাদের ন্যায্য কর্মসংস্থানের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদ।
রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের 'এন্ট্রি-এ' গেটে সোমবার (৫ অক্টোবর) এক নারী যাত্রীর ব্যাগ ধরে টানাটানি করছিল এক ছিনতাইকারী। লিফটের সামনে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনকালে বিষয়টি স্টেশনটিতে টহল ডিউটিরত আনসার সদস্য মোঃ রাকিবুল ইসলামের নজরে আসে।
তাৎক্ষণিকভাবে তিনি এপিসি রোকনুজ্জামান ও আনসার শাহীন মিয়াকে সাথে নিয়ে দ্রুত সাহসিকতার সাথে অভিযান পরিচালনা করেন। তাদের ক্ষিপ্রতায় জাকির হোসেন নামে ঐ ছিনতাইকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে একটি বড় ধারালো ছুরি জব্দ করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে আটকের পর বিষয়টি দ্রুত মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের কন্ট্রোলারকে জানানো হয়। পরবর্তীতে স্টেশনের কন্ট্রোলারের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে আনসার সদস্যরা জব্দকৃত ধারালো অস্ত্রসহ আটককৃত ছিনতাইকারীকে এমআরটি (MRT) পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন।
ব্যস্ততম মেট্রোরেল স্টেশনে আনসার সদস্যদের এমন তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে একটি বড় অপরাধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের জন্য ভুক্তভোগী নারী এবং উপস্থিত সাধারণ যাত্রীরা আনসার বাহিনীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও গভীর প্রশংসা জ্ঞাপন করেন।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টি আবাসন প্রকল্পে হামলায় বিকাশ চন্দ্র সরকার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার (৪ অক্টোবর) গভীর রাতে মাগুরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির এক কর্মকর্তা সোমবার (৫ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ বলছে, বিকাশ চন্দ্র নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হামলার আগে বিকাশ ওই আবাসন প্রকল্পের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেন। সমঝোতা না হওয়ায় মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদকে হামলার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করে দেন।
এদিকে হামলার এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। গত রোববার (৪ অক্টোবর) তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তারা হলেন– শাহরিয়া মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নেতা শাহ আলম অনিক, কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আব্দুর গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান, ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা মো. মামুন, মো. মুন্না ও অটোরিকশাচালক আসলাম।
এদিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় গত রোববার ওই মামলার চার নম্বর আসামি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘ছয় আসামিকে ডিবিতে আনা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লটুপাট চালানো হয়। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। হামলার ঘটনা সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক শাহরিয়ার মাহমুদ। হামলার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা আগেও ইসিবি চত্বর এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় শাহরিয়া মাহমুদ ও মামলার ২ নম্বর আসামি ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কাশেমসহ ১৪ জন বৈঠক করেন। বৈঠকের ছবি তদন্তসংশ্লিষ্টদের হাতে এসেছে। বৈঠকে বিকাশ কুমার নামে একজন ঠিকাদারকেও শনাক্ত করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত সূত্র জানায়, বৈঠকে যাদের ছবি দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে প্রথমে শাহরিয়া মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গত রোববার রাতে বিকাশ কুমার গ্রেপ্তার হলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করেছিল। অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানকার নির্মাণশ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের বাসিন্দারা। হামলায় অনেক তরুণকে অংশ নিতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থল ও ঘটনার পর যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তারা বস্তির বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক। তাদের ভাড়া করে আনা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন পর রাজধানীর অনেক ফুটপাতে হাঁটার জায়গা ফিরেছে। কোথাও উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ দোকান, কোথাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে হকার। ব্যস্ত সড়কের পাশের ফুটপাত এখন অনেকটাই ফাঁকা। কেউ কেউ বলছেন, এক যুগেরও বেশি সময় পর ঢাকার ফুটপাতে এমন স্বস্তি অনুভব করছেন তারা।
তবে এই স্বস্তি কতদিন থাকবে, তা নিয়েই প্রশ্ন নগরবাসীর। অতীতে বহুবার উচ্ছেদ অভিযান হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক এলাকায় আবার ফুটপাত দখল করে বসেছে হকার ও অবৈধ দোকান। ফলে এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। নগরবাসীর দাবি, শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই হবে না, পুনর্দখলের নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বর্তমানে তৎপর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় চলছে উচ্ছেদ অভিযান। পাশাপাশি উচ্ছেদের পর ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নজরদারি জোরদারের কথাও জানিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন।
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার পর অনেক সড়ক ও ফুটপাত তুলনামূলক ফাঁকা দেখা গেছে। এতে দীর্ঘদিন পর স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। মিরপুর-১০ ও হোপ মার্কেট এলাকার পরিস্থিতিও বদলে গেছে। গত বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) অভিযানের পর মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতের অনেক অংশ এখন ফাঁকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ এই পরিবর্তনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখল করে দোকান বসানোর পরিবর্তে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে মানুষ প্রয়োজন হলে সেখানে গিয়ে কেনাকাটা করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রধান সড়ক ও ফুটপাতও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ফুটপাত দখলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পেছনে শুধু হকারদের দায়ী না করে এর নেপথ্যের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া বছরের পর বছর একই জায়গায় হকার বসে থাকা সম্ভব নয়।
তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযান হলে কয়েক দিন ফুটপাত ফাঁকা থাকে। এরপর আবার আগের জায়গায় দোকান বসে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কারও সহযোগিতা ছাড়া এভাবে বারবার দখল করা সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করেন।
একজন বাসিন্দা বলেন, ‘শুধু হকারদের সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারা তাদের বসতে দেয় এবং কারা এর বিনিময়ে টাকা নেয়, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই আবার ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
উচ্ছেদের পর ফুটপাত যাতে আবার দখল না হয়, সে জন্য নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। গত শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ফুটপাত যেখানে দখল হবে, সেখানেই উচ্ছেদ অভিযান চলবে।’ সম্প্রতি মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিনের দখলে থাকা ফুটপাত স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটি নিয়মিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে। ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হলে মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। একপর্যায়ে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হন। পরে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
রাজধানীর পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে বংশালের নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ওই এলাকা পরিদর্শন করে জানান, এসব মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং তারা স্বেচ্ছায় এসব মূল সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে গুলিস্তানের রমনা ভবনসংলগ্ন পূর্ব পাশের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা রেখে নির্ধারিত স্থানে নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধিত নির্দিষ্টসংখ্যক হকার বসতে পারবেন। নির্ধারিত স্থান, সময়, সংখ্যা ও নিবন্ধনের বাইরে যত্রতত্র হকার বসার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার সাম্প্রতিক উদ্যোগে নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, অতীতে উচ্ছেদ অভিযান বারবার হলেও পুনর্দখল ঠেকানো যায়নি।
নগরবাসীর মতে, ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যেমন জরুরি, তেমনি হকারদের জীবিকার বিষয়টিও বাস্তবতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ের মধ্যে হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া গেলে একদিকে তাদের জীবিকা বজায় থাকবে, অন্যদিকে পথচারীদের চলাচলেও বাধা সৃষ্টি হবে না।
তবে এর পাশাপাশি ফুটপাত দখলের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগও তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। দীর্ঘদিন পর ফুটপাতে যে স্বস্তি ফিরেছে, সেটি কতটা স্থায়ী হবে, এখন মূল প্রশ্ন সেটিই। উচ্ছেদের পাশাপাশি পুনর্দখল ঠেকানো, দখলের নেপথ্যের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং হকারদের জন্য কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা—এই তিনটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে রাজধানীর ফুটপাত কতটা পথচারীবান্ধব থাকে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা দাবি জানিয়েছেন অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ১) অটোরিকশার জন্য রোড পারমিটের ব্যবস্থা করা, ২) চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, ৩) অটোরিকশা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ৪) অটোরিকশার গ্যারেজগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বন্ধ করা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অটোরিকশচালকরা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ও মালিকরা নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।’
বিশেষ করে গ্যারেজে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, অটোরিকশা আটকের পর ‘ডাম্পিং’ এর নামে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মালিক-শ্রমিকদের পুনর্বাসনেরও দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ি ঢাকার বিজয় সরণির ব্যস্ত সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় তাকে নিয়মিত সালাম দেন ঐ সড়কে প্রতিদিন ফুল, পানি ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা বেশ কিছু পথশিশু। প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত তাদের সালাম গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, নিয়মিত যাতায়াতের পথে প্রধানমন্ত্রী তাদের দেখেন এবং তাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি তার নজরে আসে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শুধু তাদের সালাম গ্রহণ করেই থেমে থাকেননি। তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিজয় সরণিতে থাকা এসব মানুষের জন্য দুপুরের একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুপুরে তাদের ডেকে নিয়ে বিজয় সরণির একটি রেস্টুরেন্টে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে পথশিশু, বয়স্ক নারীসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো একসঙ্গে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।
হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন আয়োজন পেয়ে আনন্দিত ও অভিভূত হন তারা। তাদের কয়েকজন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সালাম গ্রহণ করেন, এটিই জানতাম না। তিনি আমাদের কথা মনে রেখে খাবারের ব্যবস্থা করবেন, কখনো ভাবেননি।
ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এমন কথা জানিয়ে সংস্থাটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচলের হকার মুক্ত ফুটপাত, ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগর উপহার দিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাজ করে যাচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস ও সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমরা বিগত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিভিত্তিক এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য নগরবাসীকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা করা এবং ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারি ভবন, বাসা-বাড়ি ও পরিত্যক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংস করছেন।
তিনি বাসা-বাড়ি ও নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রশাসক জানান, বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। নগরবাসী ও ডিএনসিসির সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। সরকার ঘোষিত ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিএনসিসি স্থানীয় হাউজিং সোসাইটি, মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করে যাচ্ছে।
প্রশাসক বলেন, ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেটের সামনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে থাকা ফুটপাত সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। জনগণের সুবিধার জন্য এ ধরনের ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুনর্দখল রোধে স্থানীয় জনগণ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাসহ করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১১ জন নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শককে দেশের বিভিন্ন রেঞ্জ ও ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আদেশে সই করেছেন অ্যাডিশনাল আইজিপি (অ্যাডমিন) একেএম আওলাদ হোসেন।
আদেশ অনুযায়ী, নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. মহিদুল ইসলামকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তাঁর সিলেট রেঞ্জ অফিসে সংযুক্তি বহাল থাকবে। সিরাজুল ইসলাম খানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে, তোফায়েল আহমেদ ও মো. হাফিজুর রহমানকে রংপুর রেঞ্জে এবং মো. মেহেদী হাসানকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঠাকুর দাস মালোকে নৌ-পুলিশে, এস কে খোদা নেওয়াজকে ট্যুরিস্ট পুলিশে, মো. ইয়ামিন কবীরকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে এবং মো. আলমগীর সিদ্দিককে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে মো. নজরুল ইসলামকে এপিবিএন এবং মো. নূর আলমকে খুলনা রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আদেশে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ না করলে ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।
ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত দখল করে নতুন করে দোকান বা কোনো স্থাপনা বসানো ঠেকাতে মনিটরিং টিম গঠন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। টিমটি নিয়মিত ওই এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ডিএনসিসির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নির্দেশে এ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখল করে যাতে নতুন করে কোনো দোকান বা স্থাপনা গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে টিমটি নিয়মিত নজরদারি করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হলে সংশ্লিষ্ট মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন করে দখল ঠেকানোর পাশাপাশি ফুটপাতের স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ঢাকার বায়ুদূষণ, অপরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শহরের সকল শিক্ষার্থীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় ডিএসসিসির সাপ্তাহিক 'ক্লিনিং ডে' এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "বাংলাদেশের ইতিহাসে সবসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে পথ দেখিয়েছে। বর্তমান বায়ুদূষণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে। শহীদ মিনার, টিএসসি ও শাহবাগের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।"
তিনি আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ২০০টি ডাস্টবিন (ওয়েস্ট বিন) স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি ও ঢাবি ছাত্রদলের যৌথ উদ্যাগে পালিত বৃক্ষরোপণ, ফগার মেশিন বিতরণ ও মশক নিধন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে টিএসসি থেকে একটি জনসচেতনতামূলক র্যালি শুরু হয়ে কলা ভবনের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ডিএসসিসি কর্তৃক স্থাপিত ২০০টি ওয়েস্ট বিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন। এছাড়া ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
মুগদায় জনসচেতনতামূলক সমাবেশ:
'ক্লিনিং ডে' উপলক্ষে রাজধানীর মুগদায় এক জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে অতিথিগণ ওয়াসা রোড প্রান্তের মান্ডা খাল পরিদর্শন এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া, হায়দার আলী স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে কর্মসূচি:
সাপ্তাহিক এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডেই একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও জনগণের অংশগ্রহণে মশার ওষুধ ছিটানোসহ বিভিন্ন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে হকার বসলে তাদের উচ্ছেদের পাশাপাশি মালপত্র জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন ‘সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ও অনুমোদিত স্থানের বাইরে ঢাকার কোথাও হকার বসতে দেওয়া হবে না’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পুরান ঢাকার ধলপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে তিনি সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জনভোগান্তি সংক্রান্ত বিষয় পরিদর্শন করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমরা হকারদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ফুটপাত ও স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছি। এর বাইরে জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাটের মূল সড়কসহ কোনো ফুটপাতে অবৈধভাবে হকার বসলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও জানান, শহরের সব হকারকে সিটি করপোরেশন থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া ঢাকা শহরের কোথাও কোনো হকার বসতে পারবে না।
উচ্ছেদের পরে পুনরায় ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন থেকে উচ্ছেদের সঙ্গে সঙ্গে মালামাল জব্দ ও সরাসরি মামলা দায়ের করা হবে।
হকারদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে সালাম বলেন, দফায় দফায় হকারদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং নতুন করে নোটিশ দেওয়ার কোনো বিষয় নেই।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এর প্রবেশপথে ঢাকা ওয়াসার উন্নয়ন কাজের কারণে জনভোগান্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এ কারণে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।