বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৮

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। দুর্গোৎসব ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা মোকাবিলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যাতে চক্রান্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে যে, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হতে পারে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন বলেন, তাদের ১৬ বছরের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনাকে ব্যবহার করে প্রতিবেশী ভারতকে এমন একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ভারতের সমর্থনে ক্ষমতায় ছিল এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এসব বক্তব্য রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিযোগ; সভায় এর পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়নি।

রাশেদ খাঁন বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারই প্রথম শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে, যাতে ভারতের কাছে এই বার্তা দেওয়া যায় যে বিএনপি সরকারের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক চন্দন বসু মুক্ত এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্টরা।


নির্বাচিত

দখলমুক্ত ফুটপাতে মিরপুরে ফিরেছে পথচারীদের স্বস্তি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পড়ন্ত বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন শরীফুল ইসলাম। দুই হাতে দুই সন্তানের ছোট্ট হাত। প্রায় ২০ বছর ধরে মিরপুরে বসবাস করলেও এমন স্বস্তির মুহূর্ত তার জীবনে এই প্রথম। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এত বছরে কখনোই দুই সন্তানের হাত ধরে এই পথে হাঁটতে পারিনি, আজ পারছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

শরীফুল ইসলামের মতো স্বস্তি এখন মিরপুরের হাজারো মানুষের। একসময় যে ফুটপাতে পা ফেলার জায়গা ছিল না, সেখানে এখন নির্বিঘ্নে হাঁটছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও বয়স্ক মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার করছেন। গোলচত্বরের ফুটওভার ব্রিজের নিচে এতদিন অবৈধ দখলে থাকা জায়গায় গাছ লাগিয়ে পথচারীদের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দোকানপাট ও মানুষের ভিড়ে চেনা দৃশ্য বদলে মিরপুর-১০ এখন অনেকটাই খোলামেলা।

কিছুদিন আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও হোপ স্কুল রোডে রাস্তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে গড়ে উঠেছিল অবৈধ ফুটপাত মার্কেট। হোপ স্কুল ও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের সামনের ফুটপাত ও সড়কজুড়ে সারি সারি দোকান বসত। এসব দোকান থেকে হকারদের উচ্চস্বরে হাঁকডাকে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ত। গোলচত্বর থেকে পূর্বদিকের তিনটি সড়কের মুখেও যানবাহন ও মানুষের ভিড় লেগে থাকত।

মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এরপর মিরপুর-১০ ও হোপ স্কুলের সামনের অবৈধ ফুটপাত মার্কেট পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। উচ্ছেদ অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, এ উদ্যোগ শুধু মিরপুরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তর সিটির প্রতিটি এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট দখলমুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ আবার দোকান বসিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানার পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নগরবাসী যেন সুন্দর, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদে পথ চলতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

হকারদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, জীবিকার জন্য হকারদের ব্যবসার সুযোগ থাকবে, তবে তা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। মানুষের চলাচলের পথ দখল করে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।

উচ্ছেদ অভিযানের সুফল সবচেয়ে কাছ থেকে দেখছেন সড়কে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। মিরপুর-১০ নম্বরে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক সার্জেন্ট আব্দুল আজিজ বাসসকে বলেন, আগে মনে হতো যেন বাজারের মাঝখান দিয়ে গাড়ি চলছে। ফুটপাত দখল থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটত, ফলে যানজটও হতো। এখন রাস্তা অনেক ফাঁকা এবং যানজটও তেমন নেই। রাস্তায় গাড়ি চলছে, ফুটপাতে মানুষ হাঁটছে। এতে ট্রাফিক পুলিশের কাজের চাপও কমেছে।

ঢাকার নর্থ সিটি কলেজের প্রভাষক আবু বক্কর সরকার বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে তার প্রত্যাশা ফুটপাত সবসময় দখলমুক্ত থাকবে, যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে। তিনি ডিএনসিসি প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দাবি জানান।

মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক বলেন, দখলমুক্ত ফুটপাত ছিল দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। আগে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটলে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন ছিল। এখন পরিবেশ অনেক ভালো লাগছে।

মিরপুরের বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ অহোনা বলেন, প্রতিদিন মিরপুর-১০ থেকে মেট্রোরেলে ক্যাম্পাসে যান। আগে বাসা থেকে বের হয়ে দোকান ও ভিড় ঠেলে স্টেশনে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগত এবং প্রায়ই ক্লাসে দেরি হতো। এখন খোলা ফুটপাত দিয়ে কয়েক মিনিটেই স্টেশনে পৌঁছানো যায়। সন্ধ্যায় ক্লাস শেষে ফেরার পথেও নিশ্চিন্তে হাঁটা যায়।

মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল থেকে সন্তানকে নিয়ে ফিরছিলেন এক মা। তিনি বলেন, এমন পরিবেশে আগে কখনো হাঁটা হয়নি। এখন সন্তানকে নিয়ে নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারছেন।

ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় স্থায়ী ব্যবসায়ীরাও সুফল পাচ্ছেন। শাহ আলী প্লাজার বিক্রেতা শাহজাহান বাসসকে বলেন, উচ্ছেদের পর রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে। আগে যারা বাইরের ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করতেন, তারা এখন মার্কেটে আসছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটে ব্যবসা করা দোকানিদের বেচাকেনাও বাড়ছে।

মিরপুরের বাসিন্দা আনোয়ার জাহিদ বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এলাকায় বসবাস করছেন। একসময় রাস্তাটি খোলামেলা ছিল। পরে ফুটপাত এমনভাবে দখল হয়ে যায় যে সেখানে হাঁটার উপায় ছিল না। ফুটপাতের দোকানের কারণে মার্কেটের দোকানগুলোতেও বেচাকেনা কমে গিয়েছিল। এখন রাস্তাঘাট অনেক পরিচ্ছন্ন।

গাড়িচালক আমির বলেন, আগে মিরপুর-১০ থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত যেতে অনেক সময় লাগত। এখন অনেক দ্রুত সড়কটি পার হওয়া যাচ্ছে।

পথচারী শহীদুল ইসলাম বলেন, আগে এই পথটুকু পার হতে প্রায় ২০ মিনিট লাগত। এখন তিন-চার মিনিটেই পার হওয়া যায়। তিনি পুরো ঢাকা শহরকে এমন সুন্দর ও নিরাপদ রাখার প্রত্যাশা করেন।

বেসরকারি একটি ক্যাবল কোম্পানির এক কর্মী বলেন, আগে ভিড়ের মধ্যে পকেটমারের ভয় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করা যাচ্ছে। আরেক পথচারী শফিক শাকিল জানান, সকালে হাঁটতে বের হয়ে দেখেছেন ফুটপাতজুড়ে আগের মতো দোকানের সারি নেই; পুরো পথ খোলা।

দখলমুক্ত ফুটপাতে ফিরে আসা এই স্বস্তিতে খুশি মিরপুরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, মিরপুর-১০ নম্বরের মতো নগরীর অন্যান্য এলাকার ফুটপাতও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং তারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ পাবেন।


নির্বাচিত

মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত, জনমনে ফিরেছে স্বস্তি

* দুই দশক পর সন্তানদের হাত ধরে ফুটপাতে হাঁটলেন বাবা, কমেছে যানজট
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পড়ন্ত বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন শরীফুল ইসলাম। দুই হাতে দুই সন্তানের ছোট্ট হাত। প্রায় ২০ বছর ধরে মিরপুরে বসবাস করলেও এমন মুহূর্ত তার জীবনে এই প্রথম। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এত বছরে কখনোই দুই সন্তানের হাত ধরে এই পথে হাঁটতে পারিনি, আজ পারছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

শরীফুলের মতো স্বস্তি ফিরেছে মিরপুরের হাজারো মানুষের। যে ফুটপাতে একসময় পা ফেলার জায়গা ছিল না, সেখানে এখন নির্বিঘ্নে হাঁটছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও বয়স্ক মানুষ। সড়কে চলছে যানবাহন, আর ফুটপাত ফিরে পেয়েছে পথচারী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার করছেন। গোলচত্বরের ফুটওভারব্রিজের নিচে দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকা জায়গায় গাছ লাগিয়ে নান্দনিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কয়েক দিন আগেও চিত্র ছিল ভিন্ন। মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও হোপ স্কুল রোডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে গড়ে উঠেছিল অবৈধ ফুটপাতের বাজার। হোপ স্কুল ও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের সামনে ফুটপাত ও সড়কজুড়ে সারি সারি দোকান বসায় পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। হকারদের হাঁকডাক ও মানুষের ভিড়ে গোলচত্বর থেকে পূর্বদিকের তিনটি সড়কের মুখে প্রায়ই যানজট তৈরি হতো। ফুটপাত দখল থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে হাঁটতে হতো।

এই দুর্ভোগ দূর করতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এরপর মিরপুর-১০ ও হোপ স্কুলের সামনের অবৈধ ফুটপাত মার্কেট পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বাসসকে বলেন, ‘উদ্যোগটি শুধু মিরপুরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; উত্তর সিটির প্রতিটি এলাকার ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার দোকান বসিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা দিলে জরিমানার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, হকারদের জীবিকার সুযোগ থাকবে, তবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়; নির্ধারিত স্থানেই ব্যবসা করতে হবে।’

ট্রাফিক সার্জেন্ট আব্দুল আজিজ বাসসকে বলেন, ‘আগে মনে হতো বাজারের মধ্য দিয়ে গাড়ি চলছে। ফুটপাত দখল থাকায় মানুষ রাস্তায় হাঁটত, ফলে যানজটও হতো। এখন রাস্তা অনেক ফাঁকা, গাড়ি সড়কে আর মানুষ ফুটপাতে চলছে।’

ঢাকার নর্থ সিটি কলেজের প্রভাষক আবু বক্কর সরকার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার দাবি জানান। মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক বলেন, ‘এটি ছিল দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এখন ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে ভালো লাগছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ অহোনা বলেন, ‘আগে মিরপুর-১০ থেকে মেট্রোরেল স্টেশনে যেতে দোকান ও ভিড় ঠেলে সময় লাগত, প্রায়ই ক্লাসে দেরি হতো। এখন কয়েক মিনিটেই স্টেশনে পৌঁছানো যায়।’

সন্তানকে নিয়ে ফেরা এক অভিভাবকও বলেন, ‘আগে এমন পরিবেশে হাঁটা হয়নি; এখন নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারছেন।’ শাহ আলী প্লাজার বিক্রেতা শাহজাহান জানান, উচ্ছেদের পর পরিবেশ পরিষ্কার হয়েছে এবং মার্কেটে ক্রেতা বাড়ছে।

মিরপুরের ২৫ বছরের বাসিন্দা আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘ফুটপাতের দোকানের কারণে একসময় হাঁটার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মার্কেটের বৈধ দোকানগুলোর বেচাকেনাও কমেছিল। এখন রাস্তা-ফুটপাত অনেক পরিচ্ছন্ন।’

গাড়িচালক আমির জানান, আগে মিরপুর-১০ থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত যেতে অনেক সময় লাগত; এখন দ্রুত পার হওয়া যায়। পথচারী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে পথটুকু পার হতে প্রায় ২০ মিনিট লাগলেও এখন তিন-চার মিনিটেই পার হওয়া যায়।’

এক বেসরকারি ক্যাবল কোম্পানির কর্মী জানান, আগে ভিড়ের মধ্যে পকেটমারের ভয় ছিল; এখন স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে। শফিক শাকিলও বলেন, ‘পুরো ফুটপাত এখন খোলা।’

মিরপুরবাসীর প্রত্যাশা, এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে এবং মিরপুর-১০-এর মতো ঢাকার অন্যান্য ফুটপাতও ফিরে যাবে পথচারীদের কাছে।


নির্বাচিত

রাজধানীতে ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেফতার ৪৬৫, নতুন মামলা ৭৩টি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে রাজধানীজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখার পরিচালিত এই সমসাময়িক অভিযানে মোট ৭৩টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএমপির আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে মিরপুর বিভাগ। অন্যান্য এলাকার মধ্যে মতিঝিল বিভাগে ৭৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৯ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া উত্তরা বিভাগ ৪২ জন, গুলশান বিভাগ ২৯ জন, রমনা বিভাগ ২১ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ৮ রাউন্ড গুলি, ৪টি ছুরি ও ১টি স্টিলের কাটার। পাশাপাশি ২৪৮৪ পিস ইয়াবা এবং ২ কেজি ৩৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।


নির্বাচিত

ঢাকার বাসে নৈরাজ্য বন্ধে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’

* ৯৮ রুট গুটিয়ে ৩২টি মূল করিডর ও ২৫ চক্রাকার রুট * যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী থাকছে বাসের সংখ্যা * পাঁচ রুটে ৫২ আসনের আধুনিক বাস
ঢাকায় গণপরিবহনের চিত্র । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাস। যাত্রী ধরতে পাশাপাশি ছুটছে বাস, কোথাও থামছে যেখানে-সেখানে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বাস, আবার কোথাও যাত্রীর ভোগান্তি বাড়িয়ে বাসের সংকট। মালিকের সংখ্যা বেশি, ব্যবস্থাপনা খণ্ডিত—ঢাকার গণপরিবহনের এই পুরোনো চিত্র বদলাতে এবার রুট ও কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজধানীর সচল ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি মূল রুটে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি ধারণা—‘এক রুট, এক কোম্পানি’। অর্থাৎ একই রুটে একাধিক কোম্পানির অসুস্থ প্রতিযোগিতার বদলে একটি কোম্পানির অধীনে নির্ধারিতসংখ্যক বাস পরিচালিত হবে। তবে এটি শুধু রুট কমানোর পরিকল্পনা নয়। কোন রুটে কত বাস চলবে, কোথায় কাউন্টার থাকবে, কোথায় ডিপো ও লে-ওভার পার্কিং হবে, বাসের ধরন ও ন্যূনতম মান কী হবে—সবকিছুকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

ডিটিসিএর পরিকল্পনাটি অংশীজনদের পর্যালোচনার জন্য সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাসমালিক, শ্রমিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ৩২ রুটের প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে ডিটিসিএ বলছে, এটি এখনো চূড়ান্ত নয়; আলোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুযোগ রয়েছে।

৪১৮ অনুমোদিত, সচল মাত্র ৯৮: ঢাকার বাস রুট ব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতাই এই পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে। বিআরটিএ অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮ হলেও জরিপে সচল পাওয়া গেছে মাত্র ৯৮টি। অর্থাৎ কাগজে-কলমে থাকা বিপুলসংখ্যক রুট বাস্তবে কার্যকর নয়।

এই খণ্ডিত ব্যবস্থার বদলে যাত্রী চলাচলের ধরন, সড়কের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান বাস পরিচালনার তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ডিটিসিএ।

প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশই বিদ্যমান রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব রুটে ঢাকা বিমানবন্দর, গাবতলী, মহাখালী, কুড়িল, গুলিস্তান, মতিঝিল, সায়েদাবাদ, সদরঘাট, কাঁচপুর, সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জের মতো বড় পরিবহন কেন্দ্রগুলোকে একই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে নন্দনপার্ক–ডেমরা, নন্দনপার্ক–কাঁচপুর, দিয়াবাড়ী–সদরঘাট, শ্রীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির, কোনাবাড়ী–কেরানীগঞ্জ, গাবতলী–শিমুলতলী, ঘাটারচর–সালনা, নবীনগর–বাবুবাজার, সাভার–কাঁচপুর, গাবতলী–ডেমরা, গাবতলী–কুড়িল, কাঁচপুর–গাজীপুর ও সাভার–আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুট।

বাস কমবে, কিন্তু চলবে চাহিদা বুঝে: পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হবে বাসের সংখ্যা নির্ধারণের পদ্ধতিতে। এখন যেখানে একটি রুটে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বাস চলার অভিযোগ রয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

ডিটিসিএর ডেপুটি প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, কোনো রুটে ৬০টি বাস প্রয়োজন হলেও যদি সেখানে ১০০টি বাস চলাচল করে, তাহলে অতিরিক্ত বাসের পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস বাদ দেওয়া হবে। অচল ও অনুপযোগী বাস বন্ধ রাখার বিষয়ে মালিক সমিতিও নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে জানান তিনি। এর অর্থ, নতুন ব্যবস্থায় শুধু রুট নয়, বাসের বহরও হবে নিয়ন্ত্রিত। যাত্রী যত, বাসও তত—এই নীতিতেই ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

পাঁচ রুটে বদলের পরীক্ষামূলক শুরু: ৩২টি রুটের মধ্যে পাঁচটিকে আধুনিক বাস পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাত্রী চাহিদা, বাসের প্রাপ্যতা ও সড়কের অবস্থা বিবেচনায় এসব রুটে ১২ মিটার দীর্ঘ ৫২ আসনের বাস চালুর প্রস্তাব রয়েছে।

রুটগুলো হলো— বেরাইদ–খিলগাঁও রেলগেট, টিটিপাড়া–সদরঘাট, কাঁচপুর–গাজীপুর চৌরাস্তা, নন্দনপার্ক (জিরানী)–ডেমরা ও শ্রীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির। এর মধ্যে বেরাইদ–খিলগাঁও রেলগেট রুটের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার এবং দৈনিক যাত্রী চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার ৮৭৮ জন। টিটিপাড়া–সদরঘাট রুট ৫৬ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ; দৈনিক যাত্রী চাহিদা ৮৬ হাজার ৫০৯ জন।

কাঁচপুর–গাজীপুর চৌরাস্তা রুটের দৈর্ঘ্য ৪৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার, দৈনিক যাত্রী ৮৫ হাজার ২৬৬ জন। নন্দনপার্ক–ডেমরা রুট ৪১ দশমিক ৬২ কিলোমিটার, দৈনিক চাহিদা ৬০ হাজার ৮৯০ জন। আর শ্রীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির রুট ৫৪ দশমিক ২৭ কিলোমিটার, দৈনিক যাত্রী চাহিদা ৫৮ হাজার ৯১০ জন।

পরিকল্পনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে ডিটিসিএর সমীক্ষায়। ঢাকার মোট প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বাস চলাচলের উপযোগী সড়ক মাত্র ২৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬৮ কিলোমিটার এবং দক্ষিণে ১১২ কিলোমিটার।

অর্থাৎ শুধু বাসের সংখ্যা কমালেই সমস্যার সমাধান হবে না; কোন সড়কে কতটা গণপরিবহন চলতে পারবে, সেই সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ডিটিসিএ ৯৮টি সক্রিয় রুটে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর ওঠা-নামা এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর যাত্রার শুরু ও গন্তব্য নিয়ে সমীক্ষা করেছে। ঢাকার ৫২টি স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা এবং ড্রোনের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িংও করা হয়েছে।

মূল রুটের পাশে ২৫ চক্রাকার রুট: শুধু দীর্ঘ রুটকে ঢেলে সাজিয়েই থামছে না পরিকল্পনা। স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য ২৫টি চক্রাকার বা সার্কুলার রুট চালুর প্রস্তাব রয়েছে।

এসব রুটের মাধ্যমে মেট্রোরেলের সঙ্গে বাসের সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল সড়কে ব্যাটারি রিকশার চাপ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চালকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

আসল পরীক্ষা মালিকদের এক কোম্পানিতে আনা: পরিকল্পনার সবচেয়ে কঠিন ধাপ সম্ভবত এখানেই। একটি রুটে বর্তমানে একাধিক মালিক ও কোম্পানি থাকলে তাদের কীভাবে একটি কোম্পানির কাঠামোর মধ্যে আনা হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

ডিটিসিএ চলতি মাসেই মালিক সমিতির সঙ্গে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করবে। কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস চালাবে, সে বিষয়ে মালিকদের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও থাকবে। একই সঙ্গে কোন রুটে কত যাত্রী এবং কত বাস প্রয়োজন—সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায়িক মডেল তৈরির কাজ চলছে।

ডিটিসিএর লক্ষ্য, ৩২টি রুট একসঙ্গে চালু করা সম্ভব না হলেও যতগুলো সম্ভব, সেগুলোতে নতুন ব্যবস্থা চালু করা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের এক ছাতার নিচে আনা।

পরবর্তী ধাপে বাসের তালিকা যাচাই, প্রতিটি বাসের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে বাস পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিপো, কাউন্টার ও সময়সূচির বিস্তারিতও পরে নির্ধারণ করা হবে।


নির্বাচিত

ধানমন্ডি লেকের প্রাণ ফেরাতে খনন শুরু, হবে ‘নজরুল সরোবর’: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের নাব্যতা সংকট দূর করা ও নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখনন (ড্রেজিং) ও সামগ্রিক উন্নয়নকাজ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ৭৫ কোটি টাকার এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় লেক সংস্কারের পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবরের আদলে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে ‘নজরুল সরোবর’।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম এবং ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

ডিএসসিসি জানায়, ১৯৬০-এর দশকে পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশ নিয়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৮৬ একরের এই স্থানে বর্তমানে জলাশয় রয়েছে ৫৫ একর। ৩.১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৬ মিটার গড় প্রস্থের লেকটিতে জমা হওয়া প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ ঘনমিটার কাদা ও বর্জ্য (স্লাজ) অপসারণ করা হবে। প্রায় এক বছর মেয়াদি এই প্রাথমিক কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। প্রতিদিন ৭০০ ঘনমিটার বর্জ্য অপসারণে দুটি ভাসমান এক্সকাভেটর ও চারটি বার্জ ব্যবহার করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী এ-সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন, যার প্রথম ধাপ হিসেবে আজ (গতকাল) লেকের স্লাজ অপসারণ কাজ শুরু হলো। ডিটেইল ডিজাইন অনুযায়ী পুরো লেক সংস্কার করা হবে।’ এ সময় তিনি লেকের পরিবেশ রক্ষায় দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “লেকের তলদেশ পরিষ্কারের পরপরই পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার, ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং লাইটিংয়ের কাজ শুরু হবে। শিশুদের জন্য স্পিডবোটের সুযোগসহ পুরো ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও সার্বিক অবকাঠামো সাজানো হবে। এ ছাড়া রবীন্দ্র সরোবরের মতো এখানে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।”

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানায়, লেকের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাড় সুরক্ষা, আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, হাঁটার পথ সংস্কার এবং আলোকসজ্জার কাজ করা হবে। বিনোদনের নতুন ব্যবস্থা হিসেবে থাকছে তিনটি ভাসমান ডেক, কিয়স্ক, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার এবং পার্কিং সুবিধা। পাশাপাশি পরিবেশ ও নাগরিক সেবার জন্য উদ্ভিদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত ‘ট্রি হাসপাতাল’, নিরাপদ খাবার পানি, জনবান্ধব শৌচাগার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও এনাউন্সমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ ‘নজরুল চত্বর’ বা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ঠিক বিপরীতে নির্মাণ করা হবে। প্রায় ৫১ কাঠা জমির ওপর এই সাংস্কৃতিক পরিসরে থাকবে উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার, গ্রিনরুম, নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্মভিত্তিক বুক কর্নার, লাইব্রেরি, প্লাজা, লেকের ঘাট এবং নগর বন।

দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে কবির পছন্দের খাবার পরিবেশনকারী বিশেষ রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে। লেকের তলদেশ স্লাজমুক্ত করার পরপরই মূল সংস্কার ও নজরুল সরোবরের কাজ একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

এবারের দুর্গাপূজা উৎসব আমাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা: ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলনকক্ষে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই এবারের এই উৎসব আমাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলনকক্ষে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মহালয়াসহ দুর্গাপূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং মণ্ডপের ইনচার্জরা বডিওর্ন ক্যামেরা নিয়ে ডিউটি করবেন। দুর্গাপূজা চলাকালে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর এলাকার প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করবে।’

পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নিজেদের মণ্ডপের নিরাপত্তা নিজেদের নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকতে হবে। পূজা কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থী সবার ওপর নজর রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ।’

ডিএমপি কমিশনার আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে নিরাপদে নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে।’

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফাইন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ওসমান গণিসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।

সভায় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ঢাকার আদালত থেকে আবারও পালাল আসামি শরিফুল

পলাতক আসামি শরিফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শরিফুল ইসলাম নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের জুনেও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যান তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। সেদিনই হাজতখানার ইনচার্জ রিপন মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় আজ তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তোলা হয়।

এদিন সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। পরে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল আব্দুল আলিম তাকে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন শরিফুল কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, কোতোয়ালি থানার মামলায় হাজতি শরিফুল ইসলাম কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়েছেন। এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।


নির্বাচিত

মৃধাবাড়ি ওয়াসা থেকে কাজলা পর্যন্ত ফুটপাত-সড়ক দখলমুক্ত করল ডিএসসিসি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃধাবাড়ি ওয়াসা থেকে কাজলা পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামে নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে স্থাপিত বিভিন্ন অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে, সড়কের ওপর অবৈধভাবে রাখা বিভিন্ন মালামাল অপসারণ করে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হয়।

অভিযানে অবৈধভাবে দোকান পরিচালনা এবং সড়কের ওপর মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অপরাধে ৪টি মামলায় মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, দোকান পরিচালনা কিংবা সড়কে মালামাল রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

‘ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে’

ধানমন্ডি লেকের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে আমার নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার এখন বাস্তবায়নের পথে।

তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হওয়ায়, এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজধানীবাসীর জন্যও আনন্দের বিষয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডি লেকের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেক ঢাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী একটি জলাধার। রাজধানীর এমন কোনো নাগরিক নেই, যিনি এ লেকের নাম জানেন না। দীর্ঘদিন ধরে লেকটির উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের দাবি ছিল। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় আমি ধানমন্ডি লেককে আরও মনোরম ও আধুনিক করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ায় আমি সন্তোষ প্রকাশ করছি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ধানমন্ডি লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। তিনি বলেন, লেকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় বিপুল পরিমাণ স্লাজ অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে লেকের জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানো এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু লেকের খনন বা সৌন্দর্যবর্ধন করলেই হবে না, এটিকে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের জন্য ব্যবহারযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই ধানমন্ডি লেকের জন্য বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।

লেকের চারপাশে মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ব্যবস্থা, বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও সুস্থ জীবনযাপনের উপযোগী বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

লেক এলাকায় লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম এবং নজরুল মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে উন্নয়নকাজ শেষ হলে ধানমন্ডি লেক শুধু একটি জলাধার হিসেবে নয়, বরং নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেককে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ ও উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। লেকের উন্নয়নের পাশাপাশি এর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি।

সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা থাকলে লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সৌন্দর্যবর্ধন করলে হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণেও সরকারের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে এই সৌন্দর্যবর্ধন বেশিদিন ধরে রাখা যাবে না।’

লেকের পানি পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশে ময়লা-আবর্জনা লেকে না ফেলার আহ্বান জানান।

শেখ রবিউল আলম বলেন, একটি লেককে সুন্দর করে তোলা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সেই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও রয়েছে। নাগরিকরা সচেতন হলে উন্নয়নকাজের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন শুধু একটি এলাকার মানুষের জন্য নয়, এটি পুরো ঢাকা শহরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত জলাধার ও সবুজ পরিবেশ মানুষের স্বস্তি ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে। তাই লেকটির উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এদিকে, এর আগে ধানমন্ডি লেকের পরিবেশ ও ভারসাম্য সংরক্ষণে ডিএসসিসির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

লেককে ঘিরে লাইব্রেরি, জিমনেসিয়ামসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা মন্ত্রীও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে, এটি একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব লেকে পরিণত হবে।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই উন্নয়ন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকা শহরে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর অধীনে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি জানান, এ লক্ষ্যে খুব দ্রুতই একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ঢাকার ট্রাফিক পরিস্থিতি ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে প্রধান সড়ক ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এসব যানের চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দীর্ঘদিনের এই পেশার সঙ্গে জড়িত চালকদের জীবিকার বিষয়টি অনুধাবন করে তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম কার্যকর হলে তাদের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে, তবে সামগ্রিক নাগরিক স্বার্থে এই অব্যবস্থাপনা দূর করতে সবাইকে ঐক্যমতে আসতে হবে। সাধারণ কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে বাস্তবমুখী প্রক্রিয়ায় উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকা শহরকে অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ধানমন্ডি লেকের খনন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণে মোট ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অধীনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাংস্কৃতিক ও মননশীল চর্চার সুযোগ বাড়াতে একটি পাঠাগারসহ ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ ও ডাম্পিং বন্ধ না হলে ঢাকা অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন চালক ও মালিক সমিতির নেতারা। একই সঙ্গে বৈধ লাইসেন্স ও রোড পারমিট প্রদানের দাবি জানিয়ে তারা ঘোষণা দেন, চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। এই দাবিতে সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করা হলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে কাকরাইলে ভিক্টর ক্লাসিক গোল্ড সিটি পরিবহনের একটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং কর্মসূচি অমান্য করে যান চালানোর চেষ্টাকালে কয়েকজনকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে।


নির্বাচিত

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে রাজধানী ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইকিউ এয়ারের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বায়ুমান সূচকে স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ভুক্ত। একই সময়ে ১৯৮ স্কোর নিয়ে দূষণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা শহর।

সংস্থাটির হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ১৯১ স্কোর নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর। এছাড়া ভারতের রাজধানী দিল্লি ১৮৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা ১৬২ স্কোর পেয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে, বায়ুমান সূচকে স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত থাকলে তা স্বাস্থ্যকর বা ভালো এবং ৫১ থেকে ১০০ হলে সহনীয় কিংবা মাঝারি বিবেচনা করা হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য এবং ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত বাতাসকে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সূচকে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-তে পৌঁছালে বায়ুর মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ অতিক্রম করলে সেটিকে পরিবেশের জন্য ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।


নির্বাচিত

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত, গ্রেপ্তার ৩৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পুলিশ সদস্য আহত ও সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের পর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার ফুটপাতে আর কোনো হকার বসেননি। ওই এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো হকার ফুটপাতে বসতে এলেই পুলিশ তাকে আটক করছে। এ কারণে অনেক হকার এলাকায় আসছেন না এবং কেউ কেউ গা-ঢাকা দিয়েছেন।

মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ সদস্য আহত করা এবং সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হামলার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গত বুধবার মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এ সময় হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে হকারদের সঙ্গে ডিএনসিসির কর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের একাধিক গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এরপর থেকে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পুলিশ ও সিটি করপোরেশন নিয়মিত নজরদারি করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফুটপাত দখল করে হকার বসানো এবং উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

শপিং মল-দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট ও দোকান আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এ সময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চালু থাকবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখার উপসচিব সোনিয়া বিনতে তাবিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

তবে ২৩ অক্টোবর থেকে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে আগের সময়সূচি কার্যকর হবে। অর্থাৎ সেদিন থেকে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকান খোলা রাখার নিয়ম বহাল থাকবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেশে শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সুবিধা এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার বিষয় বিবেচনায় সাময়িকভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ফলে পূজার কেনাকাটার ব্যস্ত সময়ে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ক্রেতারা রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট ও দোকান থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন। ২৩ অক্টোবর থেকে আবার আগের সময়সূচি অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।


নির্বাচিত

banner close