শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার সমন্বিত উদ্যোগ

* যানজট ও বিশৃঙ্খলা নয়, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়াই মূল লক্ষ্য * প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ  
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১১

রাজধানীর সড়কে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা, যাত্রী নিরাপত্তাহীনতা, যানজট এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা—দীর্ঘদিনের এসব সমস্যা এবার একসঙ্গে মোকাবিলায় উদ্যোগী হচ্ছে সরকার। ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করার উপায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের মূল আলোচনায় ছিল গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা এবং রাজধানীর পরিবহন খাতের বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করার পথ খোঁজা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। এতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। একইদিন সচিবালয়ে এক বৈঠকে প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো বিভিন্ন সংস্থার বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করা। সড়ক ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন পরিচালনা, বাস রুট ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীসেবা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই একাধিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকায় সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যেমন দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়, তেমনি দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা।

প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সরকারের লক্ষ্য, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করে সমস্যাগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সামগ্রিকভাবে মোকাবিলা করা।

যানজট কমানোর পথ খোঁজা: ঢাকার পরিবহন সংকটের আরেকটি দৃশ্যমান দিক যানজট। সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন, অপরিকল্পিতভাবে বাস থামানো, একই রুটে অসংখ্য বাসের চলাচল এবং সড়কের জায়গার অদক্ষ ব্যবহারের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব শুধু যাতায়াতের সময় বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার মতো অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। তাই গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা সংস্কারের ক্ষেত্রে যানজট নিরসনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোন রুটে কী পরিমাণ গণপরিবহন প্রয়োজন, কীভাবে যানবাহনের চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করা যায় এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে গণপরিবহন পরিকল্পনার সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো যায়—এসব প্রশ্ন সামনে আসছে।

যাত্রীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন: রাজধানীর গণপরিবহনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ যাত্রী। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের অভিযোগ—বাসে ওঠানামা, নির্ধারিত স্থানে না থামা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং সেবার মান নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে।

সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো শুধু যান চলাচল স্বাভাবিক করা নয়, একই সঙ্গে যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নিরাপদে বাসে ওঠানামা, নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানো, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যাত্রীদের জন্য নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে হলে পরিবহন খাতের ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠককে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, বৈঠকে শুধু পরিবহন মন্ত্রণালয় নয়; স্থানীয় সরকার, ডিটিসিএ ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ সমস্যাটিকে কেবল বাস বা ট্রাফিকের সমস্যা হিসেবে না দেখে পুরো নগর পরিবহন ব্যবস্থার সমস্যা হিসেবে বিবেচনার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই হবে মূল পরীক্ষা। রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ, সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহিদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বিকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে সেখানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

এ ছাড়া দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

শাহজাহানপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ২

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুরে সম্পত্তির বিরোধের জেরে ফখরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে দেশীয় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

খবর পেয়ে শাহজাহানপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত ফরহাদ রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নূর মোহাম্মদ। তিনি বেশ কয়েকবার স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন।

বর্তমানে কোনো কাজ করতে না পারায় বেশির ভাগ সময় বাসায়ই থাকতেন। প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে করলেও এই দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।

নিহতের বোন নার্গিস জানান, তারা দুই বোন ও এক ভাই। শাহজাহানপুরের চারতলা বাড়ির জমিটি দুই বোনের নামে নিবন্ধিত। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পত্তি, গ্যাস বিল ও পানি বিল নিয়ে বোন আফসানা ও তার স্বামী সুজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুরো বাড়িটি নিজেদের দখলে নেওয়া।

তিনি আরও জানান, ভবনের চারতলার ছাদের অংশটি নিজের নামে থাকায় সেখানে ভাইকে থাকার জায়গা দিয়েছিলেন। চারতলার ছাদের একটি টিনশেড কক্ষে ফরহাদ তার স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী পেশায় বিউটি পার্লারকর্মী।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে সুজন দেশীয় চাপাতি নিয়ে ফরহাদের ঘরে ঢুকে তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন নার্গিস। এ সময় তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, বুধবার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এসআই মেহেদী হাসান জানান, ধারালো চাপাতি দিয়ে গলায় আঘাত করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আফসানা ও তার স্বামী সুজনকে আটক করা হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় অনুমোদনবহির্ভূত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে রাজধানীর পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে সমন্বিত ইউটিলিটি ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ ক্যাবল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নতুন বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও নামাজের স্থান নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকার লেক সংরক্ষণ এবং রাজধানীতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। নিরীক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত নিরীক্ষা সম্পন্ন এবং অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশও করেছে কমিটি। পাশাপাশি অতীতে প্লট বরাদ্দে সংঘটিত অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন অংশ নেন।

এ ছাড়া হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, রাজউক চেয়ারম্যান, সিএজি কার্যালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কবরস্থানের সংকট, বড় জায়গা খুঁজছে ডিএনসিসি

সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ‘বিশ্ব আয়ুর্বেদিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কার্যক্রম পরিদর্শনকালে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে আবাসন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সড়কের পরিমাণ বাড়লেও কবরস্থানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হচ্ছে না। ফলে একই কবরের ওপর বারবার দাফন করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বড় পরিসরে নতুন একটি কবরস্থান নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

বিভিন্ন হাউজিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ‘বিশ্ব আয়ুর্বেদিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘দেখেন, আমাদের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমরা বাসস্থান করছি, আবাসন করছি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করছি, কবরস্থান নিয়ে কেউ ভাবে না। একজন মানুষ মারা গেলে স্বাচ্ছন্দ্যে তাকে দাফন-কাফন করবে, সেই জায়গাগুলো সংকুচিত হয়ে যাবে। এ জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুত না হলেও এখন থেকেই এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে হবে। ডিএনসিসির একটি বড় ধরনের কবরস্থান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে একটি কবরের ওপরই বারবার কবর দেওয়া হচ্ছে। এখন বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে বড় ধরনের একটা কবরস্থান নির্মাণ করা।’

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘কবরস্থান নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে ওইসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর নয়, তারও আগে থেকেই সিটি করপোরেশন কবরস্থান নির্মাণের বিষয়ে কাজ করছে। পত্রপত্রিকা রিপোর্ট করেছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে নয়, তার আগের থেকে কবরস্থান নিয়ে কাজ করছি। আমরা বড় জায়গা খুঁজছি। বিভিন্ন হাউজিং সেন্টার থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জায়গা কিনে আমরা একটা কবরস্থান নির্মাণ করব। মোটামুটি আমাদের কথা চলছে, এটা বাস্তবায়ন হবে।’


নির্বাচিত

দখলমুক্ত ফুটপাতে মিরপুরে ফিরেছে পথচারীদের স্বস্তি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পড়ন্ত বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন শরীফুল ইসলাম। দুই হাতে দুই সন্তানের ছোট্ট হাত। প্রায় ২০ বছর ধরে মিরপুরে বসবাস করলেও এমন স্বস্তির মুহূর্ত তার জীবনে এই প্রথম। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এত বছরে কখনোই দুই সন্তানের হাত ধরে এই পথে হাঁটতে পারিনি, আজ পারছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

শরীফুল ইসলামের মতো স্বস্তি এখন মিরপুরের হাজারো মানুষের। একসময় যে ফুটপাতে পা ফেলার জায়গা ছিল না, সেখানে এখন নির্বিঘ্নে হাঁটছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও বয়স্ক মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার করছেন। গোলচত্বরের ফুটওভার ব্রিজের নিচে এতদিন অবৈধ দখলে থাকা জায়গায় গাছ লাগিয়ে পথচারীদের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দোকানপাট ও মানুষের ভিড়ে চেনা দৃশ্য বদলে মিরপুর-১০ এখন অনেকটাই খোলামেলা।

কিছুদিন আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও হোপ স্কুল রোডে রাস্তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে গড়ে উঠেছিল অবৈধ ফুটপাত মার্কেট। হোপ স্কুল ও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের সামনের ফুটপাত ও সড়কজুড়ে সারি সারি দোকান বসত। এসব দোকান থেকে হকারদের উচ্চস্বরে হাঁকডাকে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ত। গোলচত্বর থেকে পূর্বদিকের তিনটি সড়কের মুখেও যানবাহন ও মানুষের ভিড় লেগে থাকত।

মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এরপর মিরপুর-১০ ও হোপ স্কুলের সামনের অবৈধ ফুটপাত মার্কেট পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। উচ্ছেদ অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, এ উদ্যোগ শুধু মিরপুরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তর সিটির প্রতিটি এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট দখলমুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ আবার দোকান বসিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানার পাশাপাশি দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নগরবাসী যেন সুন্দর, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদে পথ চলতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

হকারদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, জীবিকার জন্য হকারদের ব্যবসার সুযোগ থাকবে, তবে তা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানেই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। মানুষের চলাচলের পথ দখল করে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।

উচ্ছেদ অভিযানের সুফল সবচেয়ে কাছ থেকে দেখছেন সড়কে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। মিরপুর-১০ নম্বরে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক সার্জেন্ট আব্দুল আজিজ বাসসকে বলেন, আগে মনে হতো যেন বাজারের মাঝখান দিয়ে গাড়ি চলছে। ফুটপাত দখল থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটত, ফলে যানজটও হতো। এখন রাস্তা অনেক ফাঁকা এবং যানজটও তেমন নেই। রাস্তায় গাড়ি চলছে, ফুটপাতে মানুষ হাঁটছে। এতে ট্রাফিক পুলিশের কাজের চাপও কমেছে।

ঢাকার নর্থ সিটি কলেজের প্রভাষক আবু বক্কর সরকার বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে তার প্রত্যাশা ফুটপাত সবসময় দখলমুক্ত থাকবে, যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে। তিনি ডিএনসিসি প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার দাবি জানান।

মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক বলেন, দখলমুক্ত ফুটপাত ছিল দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। আগে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটলে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা কঠিন ছিল। এখন পরিবেশ অনেক ভালো লাগছে।

মিরপুরের বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ অহোনা বলেন, প্রতিদিন মিরপুর-১০ থেকে মেট্রোরেলে ক্যাম্পাসে যান। আগে বাসা থেকে বের হয়ে দোকান ও ভিড় ঠেলে স্টেশনে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগত এবং প্রায়ই ক্লাসে দেরি হতো। এখন খোলা ফুটপাত দিয়ে কয়েক মিনিটেই স্টেশনে পৌঁছানো যায়। সন্ধ্যায় ক্লাস শেষে ফেরার পথেও নিশ্চিন্তে হাঁটা যায়।

মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল থেকে সন্তানকে নিয়ে ফিরছিলেন এক মা। তিনি বলেন, এমন পরিবেশে আগে কখনো হাঁটা হয়নি। এখন সন্তানকে নিয়ে নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারছেন।

ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় স্থায়ী ব্যবসায়ীরাও সুফল পাচ্ছেন। শাহ আলী প্লাজার বিক্রেতা শাহজাহান বাসসকে বলেন, উচ্ছেদের পর রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে। আগে যারা বাইরের ফুটপাত থেকে কেনাকাটা করতেন, তারা এখন মার্কেটে আসছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটে ব্যবসা করা দোকানিদের বেচাকেনাও বাড়ছে।

মিরপুরের বাসিন্দা আনোয়ার জাহিদ বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি এলাকায় বসবাস করছেন। একসময় রাস্তাটি খোলামেলা ছিল। পরে ফুটপাত এমনভাবে দখল হয়ে যায় যে সেখানে হাঁটার উপায় ছিল না। ফুটপাতের দোকানের কারণে মার্কেটের দোকানগুলোতেও বেচাকেনা কমে গিয়েছিল। এখন রাস্তাঘাট অনেক পরিচ্ছন্ন।

গাড়িচালক আমির বলেন, আগে মিরপুর-১০ থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত যেতে অনেক সময় লাগত। এখন অনেক দ্রুত সড়কটি পার হওয়া যাচ্ছে।

পথচারী শহীদুল ইসলাম বলেন, আগে এই পথটুকু পার হতে প্রায় ২০ মিনিট লাগত। এখন তিন-চার মিনিটেই পার হওয়া যায়। তিনি পুরো ঢাকা শহরকে এমন সুন্দর ও নিরাপদ রাখার প্রত্যাশা করেন।

বেসরকারি একটি ক্যাবল কোম্পানির এক কর্মী বলেন, আগে ভিড়ের মধ্যে পকেটমারের ভয় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করা যাচ্ছে। আরেক পথচারী শফিক শাকিল জানান, সকালে হাঁটতে বের হয়ে দেখেছেন ফুটপাতজুড়ে আগের মতো দোকানের সারি নেই; পুরো পথ খোলা।

দখলমুক্ত ফুটপাতে ফিরে আসা এই স্বস্তিতে খুশি মিরপুরবাসী। তাদের প্রত্যাশা, মিরপুর-১০ নম্বরের মতো নগরীর অন্যান্য এলাকার ফুটপাতও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং তারা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের সুযোগ পাবেন।


নির্বাচিত

মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত, জনমনে ফিরেছে স্বস্তি

* দুই দশক পর সন্তানদের হাত ধরে ফুটপাতে হাঁটলেন বাবা, কমেছে যানজট
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পড়ন্ত বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটপাত ধরে হাঁটছিলেন শরীফুল ইসলাম। দুই হাতে দুই সন্তানের ছোট্ট হাত। প্রায় ২০ বছর ধরে মিরপুরে বসবাস করলেও এমন মুহূর্ত তার জীবনে এই প্রথম। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এত বছরে কখনোই দুই সন্তানের হাত ধরে এই পথে হাঁটতে পারিনি, আজ পারছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

শরীফুলের মতো স্বস্তি ফিরেছে মিরপুরের হাজারো মানুষের। যে ফুটপাতে একসময় পা ফেলার জায়গা ছিল না, সেখানে এখন নির্বিঘ্নে হাঁটছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও বয়স্ক মানুষ। সড়কে চলছে যানবাহন, আর ফুটপাত ফিরে পেয়েছে পথচারী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক ও ফুটপাত পরিষ্কার করছেন। গোলচত্বরের ফুটওভারব্রিজের নিচে দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে থাকা জায়গায় গাছ লাগিয়ে নান্দনিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কয়েক দিন আগেও চিত্র ছিল ভিন্ন। মিরপুর-১০ গোলচত্বর ও হোপ স্কুল রোডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে গড়ে উঠেছিল অবৈধ ফুটপাতের বাজার। হোপ স্কুল ও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের সামনে ফুটপাত ও সড়কজুড়ে সারি সারি দোকান বসায় পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। হকারদের হাঁকডাক ও মানুষের ভিড়ে গোলচত্বর থেকে পূর্বদিকের তিনটি সড়কের মুখে প্রায়ই যানজট তৈরি হতো। ফুটপাত দখল থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে হাঁটতে হতো।

এই দুর্ভোগ দূর করতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এরপর মিরপুর-১০ ও হোপ স্কুলের সামনের অবৈধ ফুটপাত মার্কেট পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বাসসকে বলেন, ‘উদ্যোগটি শুধু মিরপুরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; উত্তর সিটির প্রতিটি এলাকার ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। উচ্ছেদের পর কেউ আবার দোকান বসিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা দিলে জরিমানার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, হকারদের জীবিকার সুযোগ থাকবে, তবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়; নির্ধারিত স্থানেই ব্যবসা করতে হবে।’

ট্রাফিক সার্জেন্ট আব্দুল আজিজ বাসসকে বলেন, ‘আগে মনে হতো বাজারের মধ্য দিয়ে গাড়ি চলছে। ফুটপাত দখল থাকায় মানুষ রাস্তায় হাঁটত, ফলে যানজটও হতো। এখন রাস্তা অনেক ফাঁকা, গাড়ি সড়কে আর মানুষ ফুটপাতে চলছে।’

ঢাকার নর্থ সিটি কলেজের প্রভাষক আবু বক্কর সরকার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার দাবি জানান। মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক বলেন, ‘এটি ছিল দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। এখন ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে ভালো লাগছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ অহোনা বলেন, ‘আগে মিরপুর-১০ থেকে মেট্রোরেল স্টেশনে যেতে দোকান ও ভিড় ঠেলে সময় লাগত, প্রায়ই ক্লাসে দেরি হতো। এখন কয়েক মিনিটেই স্টেশনে পৌঁছানো যায়।’

সন্তানকে নিয়ে ফেরা এক অভিভাবকও বলেন, ‘আগে এমন পরিবেশে হাঁটা হয়নি; এখন নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারছেন।’ শাহ আলী প্লাজার বিক্রেতা শাহজাহান জানান, উচ্ছেদের পর পরিবেশ পরিষ্কার হয়েছে এবং মার্কেটে ক্রেতা বাড়ছে।

মিরপুরের ২৫ বছরের বাসিন্দা আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘ফুটপাতের দোকানের কারণে একসময় হাঁটার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মার্কেটের বৈধ দোকানগুলোর বেচাকেনাও কমেছিল। এখন রাস্তা-ফুটপাত অনেক পরিচ্ছন্ন।’

গাড়িচালক আমির জানান, আগে মিরপুর-১০ থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত যেতে অনেক সময় লাগত; এখন দ্রুত পার হওয়া যায়। পথচারী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে পথটুকু পার হতে প্রায় ২০ মিনিট লাগলেও এখন তিন-চার মিনিটেই পার হওয়া যায়।’

এক বেসরকারি ক্যাবল কোম্পানির কর্মী জানান, আগে ভিড়ের মধ্যে পকেটমারের ভয় ছিল; এখন স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে। শফিক শাকিলও বলেন, ‘পুরো ফুটপাত এখন খোলা।’

মিরপুরবাসীর প্রত্যাশা, এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে এবং মিরপুর-১০-এর মতো ঢাকার অন্যান্য ফুটপাতও ফিরে যাবে পথচারীদের কাছে।


নির্বাচিত

রাজধানীতে ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেফতার ৪৬৫, নতুন মামলা ৭৩টি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে রাজধানীজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখার পরিচালিত এই সমসাময়িক অভিযানে মোট ৭৩টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএমপির আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে মিরপুর বিভাগ। অন্যান্য এলাকার মধ্যে মতিঝিল বিভাগে ৭৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬০ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৯ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া উত্তরা বিভাগ ৪২ জন, গুলশান বিভাগ ২৯ জন, রমনা বিভাগ ২১ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ৮ রাউন্ড গুলি, ৪টি ছুরি ও ১টি স্টিলের কাটার। পাশাপাশি ২৪৮৪ পিস ইয়াবা এবং ২ কেজি ৩৬০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।


নির্বাচিত

ঢাকার বাসে নৈরাজ্য বন্ধে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’

* ৯৮ রুট গুটিয়ে ৩২টি মূল করিডর ও ২৫ চক্রাকার রুট * যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী থাকছে বাসের সংখ্যা * পাঁচ রুটে ৫২ আসনের আধুনিক বাস
ঢাকায় গণপরিবহনের চিত্র । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

একই সড়কে একাধিক কোম্পানির বাস। যাত্রী ধরতে পাশাপাশি ছুটছে বাস, কোথাও থামছে যেখানে-সেখানে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বাস, আবার কোথাও যাত্রীর ভোগান্তি বাড়িয়ে বাসের সংকট। মালিকের সংখ্যা বেশি, ব্যবস্থাপনা খণ্ডিত—ঢাকার গণপরিবহনের এই পুরোনো চিত্র বদলাতে এবার রুট ও কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজধানীর সচল ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি মূল রুটে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি ধারণা—‘এক রুট, এক কোম্পানি’। অর্থাৎ একই রুটে একাধিক কোম্পানির অসুস্থ প্রতিযোগিতার বদলে একটি কোম্পানির অধীনে নির্ধারিতসংখ্যক বাস পরিচালিত হবে। তবে এটি শুধু রুট কমানোর পরিকল্পনা নয়। কোন রুটে কত বাস চলবে, কোথায় কাউন্টার থাকবে, কোথায় ডিপো ও লে-ওভার পার্কিং হবে, বাসের ধরন ও ন্যূনতম মান কী হবে—সবকিছুকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে আনার প্রস্তাব রয়েছে।

ডিটিসিএর পরিকল্পনাটি অংশীজনদের পর্যালোচনার জন্য সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাসমালিক, শ্রমিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ৩২ রুটের প্রস্তাবটি প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে ডিটিসিএ বলছে, এটি এখনো চূড়ান্ত নয়; আলোচনার ভিত্তিতে পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুযোগ রয়েছে।

৪১৮ অনুমোদিত, সচল মাত্র ৯৮: ঢাকার বাস রুট ব্যবস্থার বর্তমান বাস্তবতাই এই পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে। বিআরটিএ অনুমোদিত বাস রুটের সংখ্যা ৪১৮ হলেও জরিপে সচল পাওয়া গেছে মাত্র ৯৮টি। অর্থাৎ কাগজে-কলমে থাকা বিপুলসংখ্যক রুট বাস্তবে কার্যকর নয়।

এই খণ্ডিত ব্যবস্থার বদলে যাত্রী চলাচলের ধরন, সড়কের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান বাস পরিচালনার তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ডিটিসিএ।

প্রস্তাবিত ৩২টি রুটের গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশই বিদ্যমান রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব রুটে ঢাকা বিমানবন্দর, গাবতলী, মহাখালী, কুড়িল, গুলিস্তান, মতিঝিল, সায়েদাবাদ, সদরঘাট, কাঁচপুর, সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জের মতো বড় পরিবহন কেন্দ্রগুলোকে একই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে নন্দনপার্ক–ডেমরা, নন্দনপার্ক–কাঁচপুর, দিয়াবাড়ী–সদরঘাট, শ্রীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির, কোনাবাড়ী–কেরানীগঞ্জ, গাবতলী–শিমুলতলী, ঘাটারচর–সালনা, নবীনগর–বাবুবাজার, সাভার–কাঁচপুর, গাবতলী–ডেমরা, গাবতলী–কুড়িল, কাঁচপুর–গাজীপুর ও সাভার–আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুট।

বাস কমবে, কিন্তু চলবে চাহিদা বুঝে: পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হবে বাসের সংখ্যা নির্ধারণের পদ্ধতিতে। এখন যেখানে একটি রুটে যাত্রী ধরার প্রতিযোগিতায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বাস চলার অভিযোগ রয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

ডিটিসিএর ডেপুটি প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, কোনো রুটে ৬০টি বাস প্রয়োজন হলেও যদি সেখানে ১০০টি বাস চলাচল করে, তাহলে অতিরিক্ত বাসের পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস বাদ দেওয়া হবে। অচল ও অনুপযোগী বাস বন্ধ রাখার বিষয়ে মালিক সমিতিও নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে জানান তিনি। এর অর্থ, নতুন ব্যবস্থায় শুধু রুট নয়, বাসের বহরও হবে নিয়ন্ত্রিত। যাত্রী যত, বাসও তত—এই নীতিতেই ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

পাঁচ রুটে বদলের পরীক্ষামূলক শুরু: ৩২টি রুটের মধ্যে পাঁচটিকে আধুনিক বাস পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাত্রী চাহিদা, বাসের প্রাপ্যতা ও সড়কের অবস্থা বিবেচনায় এসব রুটে ১২ মিটার দীর্ঘ ৫২ আসনের বাস চালুর প্রস্তাব রয়েছে।

রুটগুলো হলো— বেরাইদ–খিলগাঁও রেলগেট, টিটিপাড়া–সদরঘাট, কাঁচপুর–গাজীপুর চৌরাস্তা, নন্দনপার্ক (জিরানী)–ডেমরা ও শ্রীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির। এর মধ্যে বেরাইদ–খিলগাঁও রেলগেট রুটের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার এবং দৈনিক যাত্রী চাহিদা ১ লাখ ২০ হাজার ৮৭৮ জন। টিটিপাড়া–সদরঘাট রুট ৫৬ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ; দৈনিক যাত্রী চাহিদা ৮৬ হাজার ৫০৯ জন।

কাঁচপুর–গাজীপুর চৌরাস্তা রুটের দৈর্ঘ্য ৪৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার, দৈনিক যাত্রী ৮৫ হাজার ২৬৬ জন। নন্দনপার্ক–ডেমরা রুট ৪১ দশমিক ৬২ কিলোমিটার, দৈনিক চাহিদা ৬০ হাজার ৮৯০ জন। আর শ্রীপুর–ঢাকেশ্বরী মন্দির রুট ৫৪ দশমিক ২৭ কিলোমিটার, দৈনিক যাত্রী চাহিদা ৫৮ হাজার ৯১০ জন।

পরিকল্পনাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে ডিটিসিএর সমীক্ষায়। ঢাকার মোট প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বাস চলাচলের উপযোগী সড়ক মাত্র ২৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬৮ কিলোমিটার এবং দক্ষিণে ১১২ কিলোমিটার।

অর্থাৎ শুধু বাসের সংখ্যা কমালেই সমস্যার সমাধান হবে না; কোন সড়কে কতটা গণপরিবহন চলতে পারবে, সেই সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ডিটিসিএ ৯৮টি সক্রিয় রুটে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর ওঠা-নামা এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর যাত্রার শুরু ও গন্তব্য নিয়ে সমীক্ষা করেছে। ঢাকার ৫২টি স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনা এবং ড্রোনের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িংও করা হয়েছে।

মূল রুটের পাশে ২৫ চক্রাকার রুট: শুধু দীর্ঘ রুটকে ঢেলে সাজিয়েই থামছে না পরিকল্পনা। স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য ২৫টি চক্রাকার বা সার্কুলার রুট চালুর প্রস্তাব রয়েছে।

এসব রুটের মাধ্যমে মেট্রোরেলের সঙ্গে বাসের সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মূল সড়কে ব্যাটারি রিকশার চাপ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চালকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

আসল পরীক্ষা মালিকদের এক কোম্পানিতে আনা: পরিকল্পনার সবচেয়ে কঠিন ধাপ সম্ভবত এখানেই। একটি রুটে বর্তমানে একাধিক মালিক ও কোম্পানি থাকলে তাদের কীভাবে একটি কোম্পানির কাঠামোর মধ্যে আনা হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

ডিটিসিএ চলতি মাসেই মালিক সমিতির সঙ্গে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করবে। কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস চালাবে, সে বিষয়ে মালিকদের প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও থাকবে। একই সঙ্গে কোন রুটে কত যাত্রী এবং কত বাস প্রয়োজন—সেই হিসাবের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায়িক মডেল তৈরির কাজ চলছে।

ডিটিসিএর লক্ষ্য, ৩২টি রুট একসঙ্গে চালু করা সম্ভব না হলেও যতগুলো সম্ভব, সেগুলোতে নতুন ব্যবস্থা চালু করা এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের এক ছাতার নিচে আনা।

পরবর্তী ধাপে বাসের তালিকা যাচাই, প্রতিটি বাসের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে বাস পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিপো, কাউন্টার ও সময়সূচির বিস্তারিতও পরে নির্ধারণ করা হবে।


নির্বাচিত

ধানমন্ডি লেকের প্রাণ ফেরাতে খনন শুরু, হবে ‘নজরুল সরোবর’: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের নাব্যতা সংকট দূর করা ও নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুনঃখনন (ড্রেজিং) ও সামগ্রিক উন্নয়নকাজ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ৭৫ কোটি টাকার এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় লেক সংস্কারের পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবরের আদলে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে ‘নজরুল সরোবর’।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম এবং ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

ডিএসসিসি জানায়, ১৯৬০-এর দশকে পুরোনো পাণ্ডু নদীর অবশিষ্টাংশ নিয়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৮৬ একরের এই স্থানে বর্তমানে জলাশয় রয়েছে ৫৫ একর। ৩.১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৬ মিটার গড় প্রস্থের লেকটিতে জমা হওয়া প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ ঘনমিটার কাদা ও বর্জ্য (স্লাজ) অপসারণ করা হবে। প্রায় এক বছর মেয়াদি এই প্রাথমিক কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। প্রতিদিন ৭০০ ঘনমিটার বর্জ্য অপসারণে দুটি ভাসমান এক্সকাভেটর ও চারটি বার্জ ব্যবহার করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘ধানমন্ডি লেকের সার্বিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। প্রধানমন্ত্রী এ-সংক্রান্ত দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন, যার প্রথম ধাপ হিসেবে আজ (গতকাল) লেকের স্লাজ অপসারণ কাজ শুরু হলো। ডিটেইল ডিজাইন অনুযায়ী পুরো লেক সংস্কার করা হবে।’ এ সময় তিনি লেকের পরিবেশ রক্ষায় দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “লেকের তলদেশ পরিষ্কারের পরপরই পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার, ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং লাইটিংয়ের কাজ শুরু হবে। শিশুদের জন্য স্পিডবোটের সুযোগসহ পুরো ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও সার্বিক অবকাঠামো সাজানো হবে। এ ছাড়া রবীন্দ্র সরোবরের মতো এখানে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।”

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানায়, লেকের অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাড় সুরক্ষা, আধুনিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, হাঁটার পথ সংস্কার এবং আলোকসজ্জার কাজ করা হবে। বিনোদনের নতুন ব্যবস্থা হিসেবে থাকছে তিনটি ভাসমান ডেক, কিয়স্ক, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার এবং পার্কিং সুবিধা। পাশাপাশি পরিবেশ ও নাগরিক সেবার জন্য উদ্ভিদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত ‘ট্রি হাসপাতাল’, নিরাপদ খাবার পানি, জনবান্ধব শৌচাগার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও এনাউন্সমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ ‘নজরুল চত্বর’ বা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ঠিক বিপরীতে নির্মাণ করা হবে। প্রায় ৫১ কাঠা জমির ওপর এই সাংস্কৃতিক পরিসরে থাকবে উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার, গ্রিনরুম, নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্মভিত্তিক বুক কর্নার, লাইব্রেরি, প্লাজা, লেকের ঘাট এবং নগর বন।

দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে কবির পছন্দের খাবার পরিবেশনকারী বিশেষ রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে। লেকের তলদেশ স্লাজমুক্ত করার পরপরই মূল সংস্কার ও নজরুল সরোবরের কাজ একযোগে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

এবারের দুর্গাপূজা উৎসব আমাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা: ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলনকক্ষে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই এবারের এই উৎসব আমাদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলনকক্ষে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘মহালয়াসহ দুর্গাপূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং মণ্ডপের ইনচার্জরা বডিওর্ন ক্যামেরা নিয়ে ডিউটি করবেন। দুর্গাপূজা চলাকালে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা মহানগর এলাকার প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করবে।’

পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘নিজেদের মণ্ডপের নিরাপত্তা নিজেদের নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকতে হবে। পূজা কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থী সবার ওপর নজর রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ।’

ডিএমপি কমিশনার আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে নিরাপদে নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে।’

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফাইন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ওসমান গণিসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।

সভায় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ঢাকার আদালত থেকে আবারও পালাল আসামি শরিফুল

পলাতক আসামি শরিফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শরিফুল ইসলাম নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের জুনেও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে যান তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে আঘাত করে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। সেদিনই হাজতখানার ইনচার্জ রিপন মোল্লা বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় আজ তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে তোলা হয়।

এদিন সাক্ষী না আসায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। পরে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল আব্দুল আলিম তাকে আদালত থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন শরিফুল কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, কোতোয়ালি থানার মামলায় হাজতি শরিফুল ইসলাম কৌশলে হাতকড়া খুলে পালিয়েছেন। এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।


নির্বাচিত

মৃধাবাড়ি ওয়াসা থেকে কাজলা পর্যন্ত ফুটপাত-সড়ক দখলমুক্ত করল ডিএসসিসি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃধাবাড়ি ওয়াসা থেকে কাজলা পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামে নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে স্থাপিত বিভিন্ন অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে, সড়কের ওপর অবৈধভাবে রাখা বিভিন্ন মালামাল অপসারণ করে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হয়।

অভিযানে অবৈধভাবে দোকান পরিচালনা এবং সড়কের ওপর মালামাল রেখে জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অপরাধে ৪টি মামলায় মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে। জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, দোকান পরিচালনা কিংবা সড়কে মালামাল রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

‘ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে’

ধানমন্ডি লেকের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে আমার নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার এখন বাস্তবায়নের পথে।

তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হওয়ায়, এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজধানীবাসীর জন্যও আনন্দের বিষয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডি লেকের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেক ঢাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী একটি জলাধার। রাজধানীর এমন কোনো নাগরিক নেই, যিনি এ লেকের নাম জানেন না। দীর্ঘদিন ধরে লেকটির উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের দাবি ছিল। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় আমি ধানমন্ডি লেককে আরও মনোরম ও আধুনিক করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ায় আমি সন্তোষ প্রকাশ করছি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ধানমন্ডি লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। তিনি বলেন, লেকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় বিপুল পরিমাণ স্লাজ অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে লেকের জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানো এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু লেকের খনন বা সৌন্দর্যবর্ধন করলেই হবে না, এটিকে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের জন্য ব্যবহারযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই ধানমন্ডি লেকের জন্য বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।

লেকের চারপাশে মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ব্যবস্থা, বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও সুস্থ জীবনযাপনের উপযোগী বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

লেক এলাকায় লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম এবং নজরুল মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে উন্নয়নকাজ শেষ হলে ধানমন্ডি লেক শুধু একটি জলাধার হিসেবে নয়, বরং নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেককে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ ও উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। লেকের উন্নয়নের পাশাপাশি এর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি।

সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা থাকলে লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সৌন্দর্যবর্ধন করলে হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণেও সরকারের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে এই সৌন্দর্যবর্ধন বেশিদিন ধরে রাখা যাবে না।’

লেকের পানি পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশে ময়লা-আবর্জনা লেকে না ফেলার আহ্বান জানান।

শেখ রবিউল আলম বলেন, একটি লেককে সুন্দর করে তোলা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সেই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও রয়েছে। নাগরিকরা সচেতন হলে উন্নয়নকাজের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন শুধু একটি এলাকার মানুষের জন্য নয়, এটি পুরো ঢাকা শহরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত জলাধার ও সবুজ পরিবেশ মানুষের স্বস্তি ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে। তাই লেকটির উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এদিকে, এর আগে ধানমন্ডি লেকের পরিবেশ ও ভারসাম্য সংরক্ষণে ডিএসসিসির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

লেককে ঘিরে লাইব্রেরি, জিমনেসিয়ামসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা মন্ত্রীও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে, এটি একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব লেকে পরিণত হবে।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই উন্নয়ন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকা শহরে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর অধীনে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি জানান, এ লক্ষ্যে খুব দ্রুতই একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ঢাকার ট্রাফিক পরিস্থিতি ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। প্রস্তাবিত নীতিমালার মাধ্যমে প্রধান সড়ক ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এসব যানের চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। দীর্ঘদিনের এই পেশার সঙ্গে জড়িত চালকদের জীবিকার বিষয়টি অনুধাবন করে তিনি উল্লেখ করেন, নিয়ম কার্যকর হলে তাদের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে, তবে সামগ্রিক নাগরিক স্বার্থে এই অব্যবস্থাপনা দূর করতে সবাইকে ঐক্যমতে আসতে হবে। সাধারণ কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে বাস্তবমুখী প্রক্রিয়ায় উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকা শহরকে অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ধানমন্ডি লেকের খনন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণে মোট ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অধীনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাংস্কৃতিক ও মননশীল চর্চার সুযোগ বাড়াতে একটি পাঠাগারসহ ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ ও ডাম্পিং বন্ধ না হলে ঢাকা অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন চালক ও মালিক সমিতির নেতারা। একই সঙ্গে বৈধ লাইসেন্স ও রোড পারমিট প্রদানের দাবি জানিয়ে তারা ঘোষণা দেন, চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। এই দাবিতে সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করা হলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের একপর্যায়ে কাকরাইলে ভিক্টর ক্লাসিক গোল্ড সিটি পরিবহনের একটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং কর্মসূচি অমান্য করে যান চালানোর চেষ্টাকালে কয়েকজনকে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে।


নির্বাচিত

banner close