রাজধানীর ফুটপাত উচ্ছেদ করতে না করতেই আবার বসছে হকাররা। সিটি করপোরেশন এক এলাকায় উচ্ছেদ চালিয়ে ফুটপাত খালি করে, আবার অন্য এলাকায় বসে পড়ে হকাররা। গত ২৩ মে অভিযান চালিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নীলক্ষেত এলাকার ফুটপাত হকারমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সম্প্রতি সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতের সঙ্গে রাস্তা দখল করে হকাররা পসরা সাজিয়েছে।
একই অবস্থা গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকায়। সেখানে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল ডিএসসিসি। উচ্ছেদের কয়েক দিন পর আবারও হকার বসে পড়ায় এই উচ্ছেদের অর্জন নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ছিল। ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেন। এ জন্য নীতিমালাও প্রণীত হয়েছে। মাঝেমাঝে অভিযানও চলছে। এমনকি নিজেও অভিযানে উপস্থিত থাকছেন। তারপরও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
নীতিমালা প্রণয়নের পরও এভাবে রাস্তা-ফুটপাত দখল করে কেন হকার বসছে, সে প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহসভাপতি শেখ মেহেদী আহসান বলেন, হকার উচ্ছেদের নামে আমরা নাটকের মঞ্চায়ন দেখেছি। বর্তমানেও তাই চলছে। ফুটপাত-রাস্তা হকারমুক্ত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন। কারণ তাদের কথা মানুষ শোনে। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় জনপ্রতিনিধি না থাকায় হকার সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সরকার যদি সত্যিকারে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে চায়, তাহলে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকাকে হকারমুক্ত করতে ব্যাপক পরিসরে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। সাংবাদিকসহ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকে ওই এলাকা হকারমুক্ত। কতদিন হকারমুক্ত থাকবে– এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, হকারদের আর নির্ধারিত জায়গার বাইরে বসতে দেওয়া যাবে না। এ যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি দেখা যায়, অভিযানের পর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পল্লবী, ২ নম্বর, ১৪ নম্বর ও শেওড়াপাড়া পর্যন্ত সড়ক হকারমুক্ত হয়েছিল। এখন ১০ নম্বর গোলচত্বরের অদূরে এক-দুজন করে ফুটপাতে আবার হকার বসতে শুরু করেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, বর্তমান প্রশাসকদের সময়ে গুলিস্তান, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, লালবাগ, ফার্মগেট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা-ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হলেও মিরপুর ছাড়া সর্বত্রই হকার বসে আছে। অভিযান শেষ হওয়ার সপ্তাহ পেরোনোর আগেই হকাররা আবার বসতে শুরু করেন।
কিছুদিন আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন চার হাজার হকারের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু রাজধানীতে হকারের সংখ্যা এখন প্রায় ছয় লাখ। তাহলে এ হকারদের বিষয়ে করণীয় কি সে প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ বলেন, আগে এক দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলত। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এলোমেলোভাবে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। এবার উচ্ছেদের পর নতুন বন্দোবস্ত চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যতদিন হকারদের জন্য আইন না হবে, ততদিন সুষ্ঠু সমাধান হবে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের (সাবেক ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড) সাবেক কমিশনার মো. নাজির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
মঙ্গবার (১৩ অক্টোবর) সাবেক কমিশনার মো. নাজির হোসেন মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
এক শোকবার্তায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকা ও জনগণের সেবায় মরহুম মো. নাজির হোসেনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আনসারের হাতে এক শিশু অপহরণকারী আটক হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে কর্তব্যরত আনসার সদস্য মোঃ শাহিন মিয়া লক্ষ্য করেন, এক ব্যক্তি ৯ মাস বয়সী এক ক্রন্দনরত শিশুকে নিয়ে সন্দেহজনকভাবে তড়িঘড়ি করে প্ল্যাটফর্মে নামছেন।
শিশুর অবিরত কান্না দেখে শাহিন মিয়াসহ উপস্থিত যাত্রীদের মনে সন্দেহ গভীর হয়। শাহিন মিয়াসহ উপস্থিত যাত্রীরা ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি স্টেশন থেকে নিচে নেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আনসার সদস্য শাহিন মিয়া তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সাহসীকতার সাথে রানা (৪০) নামের অপহরণকারীকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। তার এই দ্রুত পদক্ষেপের কারণে একটি নিষ্পাপ শিশু উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে স্টেশনে দায়িত্বরত অঙ্গীভূত আনসারের পিসি মোঃ রিপন বেপারী এসে দায়িত্বরত কন্ট্রোলারকে বিষয়টি অবহিত করেন। আইনি প্রক্রিয়া ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত শিশুসহ এমআরটি পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।
আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত রানা শিশুটিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বস্তি থেকে চুরি করে আনার কথা স্বীকার করেছে। ছোট্ট শিশুটির অভিভাবককে খুঁজে বের করে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মেট্রোরেলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তৎপর রয়েছেন। তারই আরো একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আজকের এই সফল উদ্ধার অভিযান।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা সমস্যা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, পূজাকে ঘিরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পূজা সুন্দরভাবে উদ্যাপিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মো. ফারুক হোসেন বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।
এ উপলক্ষে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি, কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি।
সবকিছু ঠিক আছে। আমরা মনে করি, পূজা সুন্দরভাবে উদ্যাপিত হবে এবং কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের মোতায়েন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে কি না, জানতে চাইলে ফারুক হোসেন বলেন, আগামী ১৫ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন। তাই এ মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।ৃ
মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও ভূমি দখলবাজ তারা যে পরিচয় বা অবস্থানেই থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এক্ষেত্রে বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় ঢাকা মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।
সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি স্থানীয় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেন।
অপরাধ সভা সঞ্চালনা করেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম), অতিরিক্ত দায়িত্বে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) মো. ফারুক হোসেন। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
অপরাধ সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সকল থানার ওসি ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের অবহিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে মিরপুর-১৩ এর ৪নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-১৫ আসনের ফ্যামিলি কার্ডবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিএনপি ঘোষণা করেছে। ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ হতে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত জনগণের জন্য উপহার। অতএব, ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কিত সকল তথ্য সংগ্রহ করবে বিএনপি, অন্য কেউ না।’
প্রশাসক অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেকে বলেন মাত্র ২৫০০ টাকা। আমরা বলি, যদি কেউ সাহস করে বেশি পরিমাণ টাকা দিতে পারে, তাহলে আরও বেশি করে দেখাক। সবাই কথা বলে বেশি কিন্তু জনগণের জন্য কাজ করে না। জনগণের জন্য একমাত্র কাজ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দল বিএনপি।’
প্রশাসক হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, ‘যদি দলের ভেতরে কেউ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো বিভ্রান্ত কিংবা কোনো কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রশাসক জানান, আমরা চাই সঠিক পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে এবং এখানে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো বিভেদ ও বিভক্তি করা হবে না।
প্রশাসক বলেন, ‘আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেসব প্রার্থী জনগণের জন্য কাজ করবে এবং জনগণের পাশে থেকে সেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ করে নগরীর ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ক্লিন ঢাকা গ্রিন ঢাকা নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে, করবে, তারাই দলের মনোনয়ন পাবে। জনগণের জন্য কাজ না করলে তারা মনোনয়ন পাবে না।’
প্রশাসক জানান, ১ হাজার ৯শ ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবক ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কাজ করবেন।
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে যদি কোনো গুপ্ত দলের কর্মীরা ভুল তথ্য বা কোনো প্রকার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
প্রশাসক বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রাস্তা ও ফুটপাত হকার মুক্ত করা হবে এবং নান্দনিক ফুটপাত উপহার দেওয়া হবে নগরবাসীদের।’
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ ও দখল রোধে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ অভিযানের প্রথম দিনে ঢাকার লালবাগের ইসলামবাগ এলাকায় নদীর দুই তীরে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। এ সময় অপসারণ করা হয়েছে প্রায় ১০০ টন বর্জ্য।
হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে। লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুটি এক্সক্যাভেটর ও পাঁচটি ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে উচ্ছেদ ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফ উদ্দিন, লালবাগের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দুই থানা ও নৌপুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের দুই তীরে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর দুই তীর ভরাট ও দখল হচ্ছে। পাশাপাশি লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদী। দখল হয়ে গেছে নদীর তীরবর্তী বিআইডব্লিউটিএর অনেক জায়গাও।
এ পরিস্থিতিতে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট অবৈধ স্থাপনা, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণ এবং এলাকা পরিষ্কারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে এ অভিযান শুরু হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ১০ দিন অভিযান চালিয়ে লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বুড়িগঙ্গার দুই তীরের প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য রয়েছে। তবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অপসারণের কাজ শেষ না হলে প্রয়োজনে অভিযানের সময় বাড়ানো হবে। অবৈধ দখলদারদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকা ও আশপাশের চারটি নদীর তীর দখলমুক্ত করতে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ওই সময় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
সেই অভিযানে নদীর সীমানার মধ্যে থাকা বহুতল পাকা ভবন, সেমিপাকা ঘর, কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধার করা হয় নদীর কয়েক শ একর তীরভূমি। এসব জায়গা বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি পুনরায় দখল ঠেকাতে সীমানা পিলার স্থাপন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও বনায়নের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে উচ্ছেদ অভিযানের পরও নদীর বিভিন্ন স্থানে পুনরায় দখলের চেষ্টা চলছে। এ কারণে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শাহজাহানপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন।
নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক করে তুলতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং নগরবাসীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কল্যাণ, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের জন্য চার লাখ টাকা করে মৃত্যুজনিত ঝুঁকি ভাতা এবং স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪২০টি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষাসামগ্রী প্রদানে ‘হারপিক’ ও ‘সাজেদা ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগিতা প্রশংসনীয়।”
নগরবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ডাস্টবিনে বর্জ্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকলে নগর পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বহুগুণে কমানো সম্ভব হবে। নাগরিক সেবাসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সিটি করপোরেশনকে জানালে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এই ঢাকা শহর আমাদের সবার—আমরা নিজেরা সচেতন হলে এবং নিজেদের অভ্যাসের পরিবর্তন করলে ঢাকা শহরও দ্রুত বদলে যাবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী ও নিরাপত্তা উপকরণ বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত উপকরণের মধ্যে ছিল—সেফটি গামবুট, হ্যান্ড গ্লাভস, হেলমেট, সেফটি গগলস, ফার্স্ট এইড বক্স, ওয়ার্নিং কোন, কশন ফ্লোর সাইন এবং হাই ভিজিবিলিটি ভেস্ট। এসব উপকরণ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদান করবে।
ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কলাবাগান, পুরান এলিফ্যান্ট রোডের সবজি বাগান, মালিবাগ ও বুয়েটসংলগ্ন পলাশী এলাকার এসটিএস আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চাকরিজীবন শেষ হয়েছে; কিন্তু অবসর-পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি অভিযোগ করছেন গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও পুনঃপেনশন চালুর দাবিতে এবার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে গণজমায়েত, অবস্থান ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
রোববার ২০০৪, ২০১৬ ও ২০১৮ সালে সরকার ঘোষিত প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের দাবিতে বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, ২০০৪, ২০১৬ ও ২০১৮ সালের সরকার ঘোষিত প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও পুনঃপেনশন সুবিধা নিশ্চিত করা।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে সংগঠনটির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনকারীরা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন। তবে এ অবস্থান কর্মসূচির কারণে আশপাশের সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কর্মসূচির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই দিন দুপুর আড়াইটার পরে আন্দোলনরত কর্মচারীরা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের দুটি ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ চারপাশে মোতায়েন করতে দেখা যায়।
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফ্লাইওভার, প্রবেশ ও বহির্গমনপথসহ বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে দুই শতাধিক চেকপোস্ট। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে মোটরসাইকেল চলাচলে নজরদারি। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও আভিযানিক দলও মাঠে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা, সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্য। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গোপন তৎপরতা এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছেন গোয়েন্দারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা ও সহিংসতার পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের তথ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব তৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যৌথ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
চেকপোস্টে তল্লাশি, নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক: রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফ্লাইওভার ও প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করেছে। এসব চেকপোস্টে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহন পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানিয়েছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার ও প্রবেশপথে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রমও চলছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ। সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গে কারা জড়িত, কারা এসব ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছে এবং নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা অপরাধীদের পেছনে কারা রয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে মাঠপর্যায়ের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা একসঙ্গে চালানো হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের নাম আসছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পোশাকধারী পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। অভিযান আরও জোরালো করা হবে। নতুনভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অপরাধীদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ চলছে।
এসআরবির ২১ টহল দল মাঠে: ডিএমপির পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করেছে। সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, রাজধানীজুড়ে ৪০টির বেশি চেকপোস্ট এবং ২১টি টহল দল কাজ করছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও আভিযানিক দলও মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনলাইনে কোনো ধরনের উসকানিমূলক তৎপরতা বা সহিংসতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়টিও নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ।
যৌথ অভিযানের ওপর জোর: পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে রাজধানীর নিরাপত্তা কার্যক্রম এখন তিনটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত—চেকপোস্টে তল্লাশি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ। তবে এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা নির্ভর করবে অপরাধের পরিকল্পনা আগেভাগে শনাক্ত করা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর।
রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সহিংসতা ঠেকানো নয়; বরং সম্ভাব্য নাশকতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধ করে জনজীবনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
প্রতি শনিবার (১০ অক্টোবর) ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হলে ঢাকা শহর অপরিচ্ছন্ন থাকবে না।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষক ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ডিএসসিসির সকল ওয়ার্ডে একযোগে ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনায় নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘোষিত তিন মাসের কর্মসূচি নিরলস ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নগরের রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমে আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন, তবে এ কর্মসূচি সফল করতে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। এ জন্য স্কুল, কলেজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে এবং বৃষ্টির পর বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। কোথাও ব্যক্তিগতভাবে জমে থাকা পানি অপসারণ সম্ভব না হলে সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে; করপোরেশনের পক্ষ থেকে তা অপসারণ করা হবে।’
পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘গণমাধ্যমে এ কর্মসূচি প্রচারিত হওয়ায় জনগণের মধ্যে ইতোমধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। জনগণের পূর্ণাঙ্গ সচেতনতা অর্জিত হলে এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ সফল হবে।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ করপোরেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বামীবাগে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান
স্বামীবাগ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রক্ষ্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে বস্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি বা ব্যবসা নয়, বরং মানুষ হিসেবে সবাইকে সমানভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান।’
তিনি বলেন, ‘সব ধর্মেই মানবিকতা, নৈতিকতা ও ভালো কাজের শিক্ষা রয়েছে। শুধু ধর্মীয় বাণী উচ্চারণ করলেই হবে না, সেগুলো ব্যক্তিজীবনে চর্চা করতে হবে। সমাজ থেকে অনৈতিকতা, মাদক ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বিকল্প নেই। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন পর রাজধানীর অনেক ফুটপাতে হাঁটার জায়গা ফিরেছে। কোথাও উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ দোকান, কোথাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে হকার। ব্যস্ত সড়কের পাশের ফুটপাত এখন অনেকটাই ফাঁকা। কেউ কেউ বলছেন, এক যুগেরও বেশি সময় পর ঢাকার ফুটপাতে এমন স্বস্তি অনুভব করছেন তারা।
তবে এই স্বস্তি কতদিন থাকবে, তা নিয়েই প্রশ্ন নগরবাসীর। অতীতে বহুবার উচ্ছেদ অভিযান হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক এলাকায় আবার ফুটপাত দখল করে বসেছে হকার ও অবৈধ দোকান। ফলে এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। নগরবাসীর দাবি, শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই হবে না, পুনর্দখলের নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদেরও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বর্তমানে তৎপর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় চলছে উচ্ছেদ অভিযান। পাশাপাশি উচ্ছেদের পর ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নজরদারি জোরদারের কথাও জানিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন।
সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার পর অনেক সড়ক ও ফুটপাত তুলনামূলক ফাঁকা দেখা গেছে। এতে দীর্ঘদিন পর স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ পেয়েছেন সাধারণ মানুষ। মিরপুর-১০ ও হোপ মার্কেট এলাকার পরিস্থিতিও বদলে গেছে। গত বুধবারের অভিযানের পর মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতের অনেক অংশ এখন ফাঁকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ এই পরিবর্তনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখল করে দোকান বসানোর পরিবর্তে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে মানুষ প্রয়োজন হলে সেখানে গিয়ে কেনাকাটা করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রধান সড়ক ও ফুটপাতও পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ফুটপাত দখলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পেছনে শুধু হকারদের দায়ী না করে এর নেপথ্যের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা ছাড়া বছরের পর বছর একই জায়গায় হকার বসে থাকা সম্ভব নয়।
তাদের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযান হলে কয়েক দিন ফুটপাত ফাঁকা থাকে। এরপর আবার আগের জায়গায় দোকান বসে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী কারও সহযোগিতা ছাড়া এভাবে বারবার দখল করা সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করেন।
একজন বাসিন্দা বলেন, ‘শুধু হকারদের সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারা তাদের বসতে দেয় এবং কারা এর বিনিময়ে টাকা নেয়, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে। তা না হলে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই আবার ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উচ্ছেদের পর ফুটপাত যাতে আবার দখল না হয়, সে জন্য নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। গত ৩ অক্টোবর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ফুটপাত যেখানে দখল হবে, সেখানেই উচ্ছেদ অভিযান চলবে।’ সম্প্রতি মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিনের দখলে থাকা ফুটপাত স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় দখলমুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটি নিয়মিত এলাকা পর্যবেক্ষণ করবে। ফুটপাত দখল করে কোনো দোকান বা স্থাপনা বসানো হলে মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। একপর্যায়ে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হন। পরে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৩ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র, সমাজ এবং সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সমান নিরাপত্তা, সমান স্বাধীনতা এবং সমান মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন এ কথা বলেন।
সকাল ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতারা। পরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্যদিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। একই সঙ্গে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা।’ সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
মাহদী আমিন এ সময় বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমরা এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে, আর তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি।’
তিনি সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।’
দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই এই উৎসবের আনন্দ একইভাবে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।’
তিনি বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক দৃঢ় বন্ধন। আমাদের মধ্যকার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।’
বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের অন্তরের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই আমাদের চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সার্বিক জনকল্যাণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আর সে কারণেই আমরা বলি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মহালয়ার বার্তা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি।’ সবশেষে তিনি আয়োজনের সুন্দর ও সার্থকতার মাধ্যমে সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায় প্রমুখ।
ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর বছিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-০৫ এর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, সারা দেশের প্রতিটি জেলায়, উপজেলায়, ইউনিয়ন, পাড়ায়, মহল্লায়, গ্রামে, গঞ্জে ও শহরে প্রতি শনিবার (১০ অক্টোবর) অন্ততপক্ষে আমরা যার যার বাসার আঙিনা, যার যার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মচারীরা তাদের আবাসনস্থল ১০ মিনিট সময় দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’
বর্জ্যের সাথে মশার একটি সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাই ময়লার পরিমাণ কমাতে হবে। গত ৯ বছরের তুলনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক কম।
তিনি বলেন, ‘লার্ভা ধ্বংসে প্রতিটি অঞ্চলে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বছিলা এলাকায় একটি নান্দনিক কমিউনিটি সেন্টার উপহার দেওয়া হবে। ফুটপাত ও বছিলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
এই সরকার জনগণের সরকার, জনগণ যা চাইবে সরকার তাই করবে। অটোরিকশা বা হকার উচ্ছেদসহ জনস্বার্থে নেওয়া সকল পদক্ষেপে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আসুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর ঢাকা গড়তে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।