রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি নিজেদের দাবি করে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। পরে প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করে মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি।’ তাদের দাবি, এরশাদ সরকারের আমলে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাঠটি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন তারা। তবে আমলারা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
তারা বলেন, ‘ওই মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে রাজধানীর পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’ পাশাপাশি কৃষি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির সংকট আরও বাড়বে। তাই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মাঠটি ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সেখানে সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়েছে।’ দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচি থেকেও মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তাদের দাবি, কৃষি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
খুলনায় ছিনতাইকারী ও দুষ্কৃতকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাহ আলমকে দেখতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন। মন্ত্রী আহতের সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া ঘটনায় দায়ী অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক জনাব শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশাযোগে পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁর পথরোধ করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে।
পরবর্তীতে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
রাজধানীর সড়কে জায়গার সংকট যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তবে ভাটারা থানার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়কের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। হকারদের দখল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল ও যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে প্রশস্ত এই সড়কটির বড় অংশই কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৯০ ফুট জায়গা বেদখলে থাকায় কোনো কোনো স্থানে যানবাহন চলাচলের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১০ ফুট। এতে বাড়ছে যানজট, তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, আর প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেখা যায়, সড়কের ফুটপাত পেরিয়ে মূল সড়কের ওপর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে হকারদের দোকানপাট। কোথাও তিন থেকে চার সারিতে বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে ১০০ ফুট প্রশস্ততার এই সড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। সড়কের বড় একটি অংশ দখল হয়ে থাকায় যানবাহনকে চলতে হচ্ছে সীমিত পরিসরে, যা ব্যস্ত সময়ে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
সড়কের পাশাপাশি ফুটপাতও দখল হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন পথচারীরা। হাঁটার নির্ধারিত জায়গা না পেয়ে অনেককে চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে কিংবা মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে মানুষের চলাচল বেড়ে গেলে সড়কটিতে নিরাপদে হাঁটাচলা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
যানজটের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা গেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। এসব যানবাহনের চালকদের অনেককে হঠাৎ লেন পরিবর্তন, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র থামা এবং মূল সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামাতে দেখা যায়। এতে অন্য যানবাহনের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি আকস্মিক সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অবৈধ পার্কিংয়ের সমস্যা। সড়কের দুই পাশে, প্রবেশপথ এবং বিভিন্ন সংযোগস্থলের কাছাকাছি ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা যায়। হকারদের দখল ও যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং মিলিয়ে সড়কের কার্যকর প্রশস্ততা আরও কমে গেছে। ফলে অল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী ব্যক্তিরা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটির এমন অবস্থা স্বাভাবিক যাতায়াতের পাশাপাশি সামগ্রিক জননিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, সড়কটি এভাবে সংকুচিত হয়ে থাকলে জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হতে পারে। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস কিংবা পুলিশের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সময় যানজট বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মাদানী অ্যাভিনিউয়ের ১০০ ফুট সড়ক অবিলম্বে দখলমুক্ত করা, ফুটপাত পথচারীদের ব্যবহারের উপযোগী করা, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু সাময়িক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে সড়কটির স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দখলমুক্ত করা ফুটপাতের পাশের দেয়ালে নতুন করে যুক্ত হয়েছে নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, পল্লিকবি জসীমউদ্দীন ও কবি জীবনানন্দ দাশের প্রতিকৃতি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ফুটপাতটির সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দেয়ালে এই তিন গুণী ব্যক্তির ছবি আঁকা হয়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-সংলগ্ন এই ফুটপাতের দেয়ালে এর আগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। নতুন তিনটি প্রতিকৃতি যুক্ত হওয়ায় দেয়ালজুড়ে বরেণ্য ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বাড়ল। তবে তালিকা থেকে সাংবাদিক ও গায়ক সঞ্জীব চৌধুরীর ছবি বাদ পড়েছে।
নতুন তিন প্রতিকৃতি নিয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহবুবুর রহমান তালুকদার বুধবার (১৪ অক্টোবর) বলেন, এটি আমাদের পরিকল্পনার অংশ। আরও গুণী মানুষের প্রতিকৃতি যুক্ত হবে। আমরা আরও কিছু দেয়াল চূড়ান্ত করেছি, সেগুলোতে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি মুছে সেখানে অন্য প্রতিকৃতি আঁকার বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে সঞ্জীব চৌধুরীর সময়ের একটা বিশাল ফারাক আছে। আমাদের অনেকে এও বলেছে এখানে কেন আইয়ুব বাচ্চু নেই, কেন আজম খান নেই। তরুণদের নিয়েও আমাদের ভাবনা আছে। তাদের প্রতিকৃতিগুলো আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিকৃতির সঙ্গে ফুটপাতটি সংস্কারের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে ডাস্টবিন ও বেঞ্চ। সংস্কার করা হয়েছে সীমানাপ্রাচীরও। আগে ফুটপাতটির একাংশ দখলে ছিল। সেটি দখলমুক্ত করার পর সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয় ডিএসসিসি।
৫ অক্টোবর সোমবার সকালে ফুটপাতটির সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। তবে হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিকল্প জায়গায় তাঁদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, রাজধানীকে ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’ রাখা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি নগরবাসীরও দায়িত্ব।
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বুধবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের বরাতে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টা ১৪ মিনিটে কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পর্যায়ক্রমে রাজধানীর উত্তরা, কুর্মিটোলা, পূর্বাচল, গাজীপুর চৌরাস্তা ও রাজেন্দ্রপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও ১৭টি ইউনিট এতে যোগ দেয়। এছাড়া মিরপুর থেকে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত বিশেষায়িত ‘হ্যাজম্যাট টেন্ডার’ গাড়িও মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হন সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা।
তাৎক্ষণিকভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্য কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ নিশ্চিত করা যায়নি।
উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তথ্যে প্রতিষ্ঠানটির নাম ভুলবশত ‘এসেনসিয়াল ড্রাগস’ বলে জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস। পরবর্তীতে এক সংশোধনীর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে অগ্নিকাণ্ডের শিকার কারখানাটি ড্রাগস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের।
গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির ইউনিট-২-এ এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে একটি ভবনে আগুন লাগলেও মুহূর্তের মধ্যে তা পাশের আরেকটি চারতলা পেনসিলিং ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চরম হিমশিম খেতে হয়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন এবং আগুনের ব্যাপকতা বাড়ায় পর্যায়ক্রমে স্টেশন সংখ্যা বাড়িয়ে বর্তমানে মোট ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের প্রচণ্ড তাপ এবং ঘন ধোঁয়ায় পুরো এলাকায় অবস্থান করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে কারখানায় থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের তীব্র গন্ধে চারপাশের পরিবেশ আরও বেশি উদ্বেগজনক ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। কারখানার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে কেমিক্যাল ও বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণ থাকায় অগ্নিনির্বাপণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য রাসায়নিক ঝুঁকি মাথায় রেখেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
শুরুতে কারখানার নিজস্ব পানির উৎস দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে একের পর এক পানিবাহী গাড়ি এনে আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত করা হয়।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা ১৯টি ইউনিট যৌথভাবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কারখানার পাশাপাশি পাশের ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বেশ আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ, হতাহতের কোনো খবর কিংবা ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। আগুন পুরোপুরি নির্বিভাপণ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ঢাকা-১৬ আসনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় দল-মতনির্বিশেষে সুবিধাভোগী পরিবারের নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন, কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন আমিনুল হক।
আমিনুল হক বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। বিএনপি বিশ্বাস করে, দল-মতনির্বিশেষে সবার ওপরে দেশের জনগণ। তাই অন্য রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়া পরিবারের নারীরাও এই কার্ড পাবেন। তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের নাম, বাবার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষ হলে পর্যায়ক্রমে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যে সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে আরও বেশি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পল্লবী ও রূপনগরের উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর স্থায়ী পুনর্বাসনের বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, এ এলাকার উর্দুভাষীদের পুনর্বাসন নিয়ে গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
আমিনুল হক বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যায়কারীদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তারা কারাগারে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের পাশে থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ এবং মানুষের বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
রাজধানীর ফুটপাত উচ্ছেদ করতে না করতেই আবার বসছে হকাররা। সিটি করপোরেশন এক এলাকায় উচ্ছেদ চালিয়ে ফুটপাত খালি করে, আবার অন্য এলাকায় বসে পড়ে হকাররা। গত ২৩ মে অভিযান চালিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নীলক্ষেত এলাকার ফুটপাত হকারমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সম্প্রতি সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতের সঙ্গে রাস্তা দখল করে হকাররা পসরা সাজিয়েছে।
একই অবস্থা গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকায়। সেখানে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল ডিএসসিসি। উচ্ছেদের কয়েক দিন পর আবারও হকার বসে পড়ায় এই উচ্ছেদের অর্জন নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ছিল। ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেন। এ জন্য নীতিমালাও প্রণীত হয়েছে। মাঝেমাঝে অভিযানও চলছে। এমনকি নিজেও অভিযানে উপস্থিত থাকছেন। তারপরও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
নীতিমালা প্রণয়নের পরও এভাবে রাস্তা-ফুটপাত দখল করে কেন হকার বসছে, সে প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহসভাপতি শেখ মেহেদী আহসান বলেন, হকার উচ্ছেদের নামে আমরা নাটকের মঞ্চায়ন দেখেছি। বর্তমানেও তাই চলছে। ফুটপাত-রাস্তা হকারমুক্ত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন। কারণ তাদের কথা মানুষ শোনে। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় জনপ্রতিনিধি না থাকায় হকার সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সরকার যদি সত্যিকারে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে চায়, তাহলে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকাকে হকারমুক্ত করতে ব্যাপক পরিসরে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। সাংবাদিকসহ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকে ওই এলাকা হকারমুক্ত। কতদিন হকারমুক্ত থাকবে– এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, হকারদের আর নির্ধারিত জায়গার বাইরে বসতে দেওয়া যাবে না। এ যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি দেখা যায়, অভিযানের পর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পল্লবী, ২ নম্বর, ১৪ নম্বর ও শেওড়াপাড়া পর্যন্ত সড়ক হকারমুক্ত হয়েছিল। এখন ১০ নম্বর গোলচত্বরের অদূরে এক-দুজন করে ফুটপাতে আবার হকার বসতে শুরু করেছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, বর্তমান প্রশাসকদের সময়ে গুলিস্তান, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, লালবাগ, ফার্মগেট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা-ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হলেও মিরপুর ছাড়া সর্বত্রই হকার বসে আছে। অভিযান শেষ হওয়ার সপ্তাহ পেরোনোর আগেই হকাররা আবার বসতে শুরু করেন।
কিছুদিন আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন চার হাজার হকারের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু রাজধানীতে হকারের সংখ্যা এখন প্রায় ছয় লাখ। তাহলে এ হকারদের বিষয়ে করণীয় কি সে প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ বলেন, আগে এক দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলত। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এলোমেলোভাবে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। এবার উচ্ছেদের পর নতুন বন্দোবস্ত চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যতদিন হকারদের জন্য আইন না হবে, ততদিন সুষ্ঠু সমাধান হবে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের (সাবেক ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড) সাবেক কমিশনার মো. নাজির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
মঙ্গবার (১৩ অক্টোবর) সাবেক কমিশনার মো. নাজির হোসেন মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
এক শোকবার্তায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকা ও জনগণের সেবায় মরহুম মো. নাজির হোসেনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আনসারের হাতে এক শিশু অপহরণকারী আটক হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে কর্তব্যরত আনসার সদস্য মোঃ শাহিন মিয়া লক্ষ্য করেন, এক ব্যক্তি ৯ মাস বয়সী এক ক্রন্দনরত শিশুকে নিয়ে সন্দেহজনকভাবে তড়িঘড়ি করে প্ল্যাটফর্মে নামছেন।
শিশুর অবিরত কান্না দেখে শাহিন মিয়াসহ উপস্থিত যাত্রীদের মনে সন্দেহ গভীর হয়। শাহিন মিয়াসহ উপস্থিত যাত্রীরা ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি স্টেশন থেকে নিচে নেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আনসার সদস্য শাহিন মিয়া তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সাহসীকতার সাথে রানা (৪০) নামের অপহরণকারীকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। তার এই দ্রুত পদক্ষেপের কারণে একটি নিষ্পাপ শিশু উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে স্টেশনে দায়িত্বরত অঙ্গীভূত আনসারের পিসি মোঃ রিপন বেপারী এসে দায়িত্বরত কন্ট্রোলারকে বিষয়টি অবহিত করেন। আইনি প্রক্রিয়া ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত শিশুসহ এমআরটি পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।
আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত রানা শিশুটিকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বস্তি থেকে চুরি করে আনার কথা স্বীকার করেছে। ছোট্ট শিশুটির অভিভাবককে খুঁজে বের করে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মেট্রোরেলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তৎপর রয়েছেন। তারই আরো একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে আজকের এই সফল উদ্ধার অভিযান।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা সমস্যা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, পূজাকে ঘিরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। পূজা সুন্দরভাবে উদ্যাপিত হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মো. ফারুক হোসেন বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।
এ উপলক্ষে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি, কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি।
সবকিছু ঠিক আছে। আমরা মনে করি, পূজা সুন্দরভাবে উদ্যাপিত হবে এবং কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা নেই।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশের মোতায়েন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে কি না, জানতে চাইলে ফারুক হোসেন বলেন, আগামী ১৫ অক্টোবর ডিএমপি কমিশনার এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন। তাই এ মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চান না।ৃ
মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও ভূমি দখলবাজ তারা যে পরিচয় বা অবস্থানেই থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে সেপ্টেম্বর-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এক্ষেত্রে বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় ঢাকা মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন ডিএমপি কমিশনার।
সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি স্থানীয় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ কমিয়ে আনার নির্দেশনা দেন।
অপরাধ সভা সঞ্চালনা করেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম), অতিরিক্ত দায়িত্বে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) মো. ফারুক হোসেন। তিনি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
অপরাধ সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সকল থানার ওসি ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের অবহিতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে মিরপুর-১৩ এর ৪নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-১৫ আসনের ফ্যামিলি কার্ডবিষয়ক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বিএনপি ঘোষণা করেছে। ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ হতে নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত জনগণের জন্য উপহার। অতএব, ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কিত সকল তথ্য সংগ্রহ করবে বিএনপি, অন্য কেউ না।’
প্রশাসক অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেকে বলেন মাত্র ২৫০০ টাকা। আমরা বলি, যদি কেউ সাহস করে বেশি পরিমাণ টাকা দিতে পারে, তাহলে আরও বেশি করে দেখাক। সবাই কথা বলে বেশি কিন্তু জনগণের জন্য কাজ করে না। জনগণের জন্য একমাত্র কাজ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দল বিএনপি।’
প্রশাসক হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, ‘যদি দলের ভেতরে কেউ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো বিভ্রান্ত কিংবা কোনো কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রশাসক জানান, আমরা চাই সঠিক পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে এবং এখানে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কোনো বিভেদ ও বিভক্তি করা হবে না।
প্রশাসক বলেন, ‘আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেসব প্রার্থী জনগণের জন্য কাজ করবে এবং জনগণের পাশে থেকে সেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ করে নগরীর ডেঙ্গু মোকাবিলায় কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ক্লিন ঢাকা গ্রিন ঢাকা নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালাবে, করবে, তারাই দলের মনোনয়ন পাবে। জনগণের জন্য কাজ না করলে তারা মনোনয়ন পাবে না।’
প্রশাসক জানান, ১ হাজার ৯শ ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবক ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কাজ করবেন।
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে যদি কোনো গুপ্ত দলের কর্মীরা ভুল তথ্য বা কোনো প্রকার বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
প্রশাসক বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রাস্তা ও ফুটপাত হকার মুক্ত করা হবে এবং নান্দনিক ফুটপাত উপহার দেওয়া হবে নগরবাসীদের।’
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ ও দখল রোধে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ অভিযানের প্রথম দিনে ঢাকার লালবাগের ইসলামবাগ এলাকায় নদীর দুই তীরে ৫০টি অবৈধ স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। এ সময় অপসারণ করা হয়েছে প্রায় ১০০ টন বর্জ্য।
হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা জেলা প্রশাসন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে। লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুটি এক্সক্যাভেটর ও পাঁচটি ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে উচ্ছেদ ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফ উদ্দিন, লালবাগের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর কার্যালয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দুই থানা ও নৌপুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের দুই তীরে গড়ে ওঠা প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর দুই তীর ভরাট ও দখল হচ্ছে। পাশাপাশি লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদী। দখল হয়ে গেছে নদীর তীরবর্তী বিআইডব্লিউটিএর অনেক জায়গাও।
এ পরিস্থিতিতে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট অবৈধ স্থাপনা, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণ এবং এলাকা পরিষ্কারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে এ অভিযান শুরু হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার বলেন, প্রাথমিকভাবে ১০ দিন অভিযান চালিয়ে লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বুড়িগঙ্গার দুই তীরের প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য রয়েছে। তবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অপসারণের কাজ শেষ না হলে প্রয়োজনে অভিযানের সময় বাড়ানো হবে। অবৈধ দখলদারদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকা ও আশপাশের চারটি নদীর তীর দখলমুক্ত করতে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ওই সময় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
সেই অভিযানে নদীর সীমানার মধ্যে থাকা বহুতল পাকা ভবন, সেমিপাকা ঘর, কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধার করা হয় নদীর কয়েক শ একর তীরভূমি। এসব জায়গা বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি পুনরায় দখল ঠেকাতে সীমানা পিলার স্থাপন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও বনায়নের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে উচ্ছেদ অভিযানের পরও নদীর বিভিন্ন স্থানে পুনরায় দখলের চেষ্টা চলছে। এ কারণে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।