ইতিহাসে এই প্রথম দুর্গাপূজায় ৭০ লাখ টাকা অনুদান দিল ঢাকা জেলা পরিষদ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ কথা জানিয়েছেন পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
তিনি জানান, ঢাকা জেলা পরিষদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার ১ হাজার ১৮টি পূজামণ্ডপে মোট ৬৯ লাখ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৮৬৯টি পূজামণ্ডপে ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ঢাকা মহানগর এলাকার ১৪৯টি পূজামণ্ডপে ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা জেলা পরিষদ।
তিনি বলেন, ‘এ বছর ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ এবং ঢাকা মহানগর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির পূজামণ্ডপে এ অনুদান দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সাভারে ২৩৮টি, ধামরাইয়ে ২৩৫টি, নবাবগঞ্জে ২০১টি, কেরানীগঞ্জে ১৫৩টি এবং দোহারে ৪২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপে অনুদান বিতরণের মাধ্যমে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও দুর্গোৎসব উদ্যাপনে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রম গত মঙ্গলবার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
এ ছাড়া গত বুধবার ধামরাই উপজেলা পরিষদে পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ তমিজ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
একই দিন কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদে ঢাকা-২ আসনের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ মো. আমান উল্লাহ আমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
ঢাকা-৩ আসনের কেরানীগঞ্জ উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রমও গত বুধবার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের স্বর্গপুরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী।
সাভার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ কার্যক্রম গত বৃহস্পতিবার সাভার উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ।
মহানগরের ১৪৯ পূজামণ্ডপে ২৬ লাখ টাকা: ঢাকা মহানগর এলাকার ১৪৯টি পূজামণ্ডপে মোট ২৬ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য, তাদের প্রতিনিধি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
এ কার্যক্রমে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রশীদ, ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আবদুর রহমান সানি, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় চেক বিতরণ করেন।
এ ছাড়া সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ও ববি হাজ্জাজের নির্বাচনী এলাকা থেকে পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদানের চেক দেওয়া হয়। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন এবং বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও অনুদানের চেক দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগ ২৯ জন, লালবাগ বিভাগ ৪০ জন, ওয়ারী বিভাগ ৭৪ জন, মতিঝিল বিভাগ ৫৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৭২ জন, মিরপুর বিভাগ ১৩১ জন, গুলশান বিভাগ ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগ ৩৮ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানে ১০১৪৫ পিস ইয়াবা, ৬.১৭ গ্রাম হেরোইন, ৫০০ গ্রাম তামার তার, ১০০০ পিস সাবান ও ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ঢাক, শঙ্খ, ঘণ্টার শব্দ আর মন্ত্রোচ্চারণ ও উলুধ্বনির আনন্দঘন পরিবেশে শুভ মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের মেলাঙ্গনের বেলতলায় মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাস থেকে বেলতলায় দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়েই সূচনা ঘটে এই উৎসবের।
পূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বেলতলা সাজানো হয় বর্ণিল ফুলে। নৈবেদ্য হিসেবে রাখা হয় ফলমূল, দই ও নানা প্রসাদ। সকাল ৯টায় পুরোহিতরা বেলতলায় আসন গ্রহণ করে মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করেন। একদিকে শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান, অন্যদিকে ভক্তদের উলুধ্বনি ও কাঁসর-ঘণ্টার শব্দে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা শেষ হয়। এরপর ভক্তদের মাঝে শান্তির জল ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং শুরু হয় অঞ্জলি প্রদান।
পূজা শেষে পুরোহিত প্রার্থনায় সকলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন এবং বলেন, সব অমঙ্গল দূর হয়ে যেন প্রতিটি ঘরে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়ায়) মর্ত্যে এসেছেন এবং বিদায় নেবেন নৌকায়। পুরাণে বর্ণিত আছে, অশুভ অসুর শক্তিকে বিনাশ করে স্বর্গলোক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবীবিনাশী দুর্গা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির তথ্যমতে, এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে পূজা হচ্ছে ২৫৮টি মণ্ডপে।
শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়মিত ডিউটির বাইরে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশি উপস্থিতি, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘মণ্ডপের গুরুত্ব ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বিবেচনায় সেগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। নিরাপত্তায় ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ডগ স্কোয়াড ও ক্রাইম সিন ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।’
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন ঘিরেও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাটে শেষ হবে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘কোনো সন্দেহজনক ঘটনা বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য জানাতে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে।’
তিনি পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও নগরবাসীকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
রাজধানীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াতে মিটার থাকলেও ভাড়া নির্ধারিত হচ্ছে দর-কষাকষিতে। পছন্দের গন্তব্যে যেতে চালকদের অনীহা, মিটারে চলতে অস্বীকৃতি এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি—সব মিলিয়ে অটোরিকশা সেবায় শৃঙ্খলার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। গ্যাস সরবরাহে সংকটের সময় বাড়তি ভাড়া নেওয়া শুরু হলেও পরিস্থিতির উন্নতির পরও তা কমেনি। বরং গ্যাসের দাম বাড়ার অজুহাতে অনেক চালক একই পথে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি চাইছেন। এর সঙ্গে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে বাড়ছে সড়কের বিশৃঙ্খলা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মের দুর্বল প্রয়োগ, নজরদারির অভাব এবং ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থায় অসংগতিই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। এতে যাত্রীদের বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভাড়া নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ যাত্রী: রাজধানীর বনশ্রীর মেরাদিয়া থেকে গুলশান-২ যেতে আগে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া লাগত। এখন চালকেরা ৩৫০ টাকা পর্যন্ত চাইছেন। দর-কষাকষির পরও অনেকে ৩২০ টাকার নিচে যেতে রাজি হন না।
মেরাদিয়ার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ব্যবসায়িক কাজে প্রায় প্রতিদিন গুলশান-২ এলাকায় যেতে হয়। আগে ২৫০ টাকায় যাওয়া যেত, শুক্রবার সকালে রাস্তা ফাঁকা থাকলে ২০০ টাকাতেও সম্ভব হতো। এখন একই পথে ৩৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
একই এলাকার মিঠু চৌধুরী জানান, তেজগাঁও যেতে আগে ২৫০ টাকা লাগলেও এখন ৩০০ টাকা চাওয়া হয়। ফেরার পথে ইউলুপ ঘুরে আসার কথা বলে কোনো কোনো চালক ৩৫০ টাকা দাবি করেন।
রামপুরার বাসিন্দা জুয়েল বলেন, রামপুরা থেকে বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন সদর দপ্তরে যেতে আগে ৩০০ টাকা লাগত। এখন চালকেরা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা চান। বসুন্ধরা সিটি থেকে খিলগাঁওয়ের তালতলা রুটে আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা লাগলেও এখন ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে জানান যাত্রী আশরাফুল ইসলাম। তার ভাষ্য, প্রায় ২০ দিন ধরে ৪৫০ টাকার নিচে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বনশ্রী, রামপুরা, বাড্ডা, বসুন্ধরা, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, মিরপুর ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি। তবে এসব রুটে ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সমন্বিত সরকারি জরিপ পাওয়া যায়নি।
গ্যাসের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া: গ্যাস সরবরাহে সংকটের সময় রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক চাহিদামতো গ্যাস পাননি। এতে কর্মঘণ্টা কমেছে, বেড়েছে আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা।
খিলগাঁও এলাকার চালক আবু বকর বলেন, গাড়ির দৈনিক জমা প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। গ্যাস নিয়ে সারা দিন গাড়ি চালানোর পরও আয় কম হলে সংসার চালানো কঠিন। এ কারণে আগে যে পথে ২৫০ টাকা নিতেন, এখন ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা নিচ্ছেন। রামপুরার চালক আতাউরের দাবি, গ্যাসের সরবরাহ ও যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি না নিলে খরচ মেটানো কঠিন।
তবে সিএনজি ও অটোগ্যাস আলাদা জ্বালানি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে। এ মূল্যবৃদ্ধিকে সিএনজির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা থাকলেও তা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করে না।
সড়কে বিশৃঙ্খলা, নজরদারির ঘাটতি: ভাড়া নিয়ে অনিয়মের পাশাপাশি যাত্রীর গন্তব্য পছন্দ না হলে যেতে না চাওয়া, মিটারে চলতে অস্বীকৃতি এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। ব্যস্ত সড়ক ও মোড়ে যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে সড়কের কার্যকর জায়গা কমে গিয়ে অন্য যানবাহনের গতি বাধাগ্রস্ত হয়।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিটারভাড়া কার্যকরের নির্দেশকে কেন্দ্র করে অটোরিকশাচালকদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্যকে সড়কে সুশাসন ও শৃঙ্খলার ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার মতে, কার্যকর সুশাসন না থাকলে আইন অমান্য করে মিটার ছাড়া চলাচল এবং যাত্রীর কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩৫(৩) ধারায় নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় না করার বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মিটারভাড়ার বেশি আদায়কারী চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মহানগর পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু চালকদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের মুখে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাটি ভাড়া নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা জারির পাশাপাশি ধারাবাহিক প্রয়োগ ও তদারকির গুরুত্ব তুলে ধরে।
প্রয়োজন কার্যকর ব্যবস্থা: রাজধানীর অটোরিকশা সেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে মিটারভাড়া কার্যকর করা, মিটার সচল রাখা এবং নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও গন্তব্যে যেতে অস্বীকৃতির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সহজে অভিযোগ জানানো ও দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
ব্যস্ত সড়ক ও মোড়ে নির্ধারিত স্থানের বাইরে অটোরিকশা দাঁড়ানো বন্ধে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, দৈনিক জমা ও যানজটে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা বিবেচনায় নিয়ে চালকদের পরিচালন ব্যয় পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
চালকদের ন্যায্য আয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়ায় নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়ার অধিকারও রক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর নজরদারি, আইনের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং চালক-মালিক-যাত্রীর স্বার্থের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই রাজধানীর অটোরিকশা সেবায় শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রধান শর্ত।
রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি নিজেদের দাবি করে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। পরে প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করে মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি।’ তাদের দাবি, এরশাদ সরকারের আমলে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাঠটি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন তারা। তবে আমলারা সরকারকে ভুল বুঝিয়ে সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
তারা বলেন, ‘ওই মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে রাজধানীর পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’ পাশাপাশি কৃষি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির সংকট আরও বাড়বে। তাই মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান তারা। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মাঠটি ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সেখানে সচিবালয় স্থাপনের পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়েছে।’ দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ‘টেক ব্যাক শেকৃবি ল্যান্ড’ শীর্ষক কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। ওই কর্মসূচি থেকেও মাঠটি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। তাদের দাবি, কৃষি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় জমির সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, স্বাধীন জীবনযাপন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। তিনি বলেন, ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা করুণার পাত্র নন, তারা সমাজের সমান অধিকার ও মর্যাদার অধিকারী নাগরিক। তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপদ চলাচল ও স্বনির্ভর জীবনযাপনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ২০০টি সাদা ছড়ি বিতরণ করা হয়।
‘আলোকিত ডিজএবল্ড স্বনির্ভর সোসাইটি’ ও ‘প্রগতি প্রতিবন্ধী মানবকল্যাণ সংস্থা’-এর প্রতিনিধিদের হাতে এসব সাদা ছড়ি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠন দুটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা কোনো মানুষের মেধা, যোগ্যতা, স্বপ্ন কিংবা সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করতে পারে না। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবন সংগ্রাম, সাহস ও আত্মবিশ্বাস সবার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাদের প্রতি শুধু দয়া বা অনুকম্পা নয়, ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।’
সাদা ছড়িকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি তাদের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। তবে শুধু সাদা ছড়ি বিতরণের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ ফুটপাত, বাধামুক্ত চলাচলের পথ, প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহজে সেবা পাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘রাস্তায় চলাচল, যানবাহনে ওঠানামা কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।’
ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নাগরিক সেবা গ্রহণ সহজ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ফরিদা খানম বলেন, ‘সরকারি সেবা নিতে গিয়ে তারা যেন বৈষম্য, অবহেলা কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব সাদা ছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়।
রাজধানীর নতুন বাজার-মাদানী অ্যাভিনিউ সড়কটি নামেই ১০০ ফিট। বাস্তবে সড়কটির বড় একটি অংশ হকারদের দখলে থাকায় যান চলাচলের জন্য ১০ ভাগও অবশিষ্ট নেই। ফুটপাত ও সড়ক দখল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এ পথে চলাচলকারী মানুষ। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এখন যানজটের পাশাপাশি জননিরাপত্তার ঝুঁকিতেও পরিণত হয়েছে।
সড়কের বিভিন্ন অংশে হকাররা এক বা দুই সারিতে সীমাবদ্ধ না থেকে কোথাও কোথাও তিন থেকে চার সারিতে দোকান সাজিয়ে বসেছেন। এতে মূল সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কের পাশাপাশি ফুটপাত ও পথচারীদের চলাচলের জায়গাও দখল হয়ে গেছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে কিংবা মূল সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিসহ সব শ্রেণির পথচারীর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। সন্ধ্যা ও রাতে মানুষের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এদিকে, সড়কটিতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসব যানবাহনের চালকদের অনেককে হঠাৎ লেন পরিবর্তন, উল্টো পথে চলাচল, যেখানে-সেখানে থামা এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য মূল সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে যানজটের পাশাপাশি যানবাহনের সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের সমস্যা। সড়কের দুই পাশে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও সংযোগস্থলের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। একদিকে হকারদের দখলে ফুটপাত ও সড়কের বড় অংশ, অন্যদিকে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং—দুইয়ে মিলে যান চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, একই স্থানে হকারদের তিন থেকে চার সারির দোকান, অটোরিকশার বিশৃঙ্খল চলাচল এবং সড়কের পাশে পার্ক করা যানবাহন একসঙ্গে থাকায় কোনো কোনো অংশে স্বাভাবিক চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও যাত্রী ও পথচারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারীরা প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের স্থায়ী জট ও সংকুচিত চলাচলের জায়গা অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অন্য জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। কোনো জরুরি প্রয়োজন বা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে স্থানীয়দের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। স্থানীয়রা গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিকে দখলমুক্ত করে নিরাপদ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান।
অনন্ত মহাবিশ্বের শতকোটি গ্রহ-নক্ষত্রের মাঝে পৃথিবীই একমাত্র প্রাণোচ্ছল নীলাভ নীড়, আর এই প্রাণের অস্তিত্বের প্রথম ও প্রধান পূর্বশর্ত হলো জল। আধুনিক বিজ্ঞান যেমন পৃথিবীতে জীবনের সূচনাকে জলের সঙ্গে যুক্ত করেছে, তেমনি হাজার হাজার বছর আগে বৈদিক ঋষিরাও জলকেই সৃষ্টির আদি তত্ত্ব হিসেবে উপলব্ধি করেছিলেন। ঋগ্বেদের নাসদীয় সূক্তে সৃষ্টির পূর্বাবস্থার বর্ণনায় বলা হয়েছে - সৃষ্টির আদিতে সর্বত্র ছিল অন্ধকারে আচ্ছন্ন এক অসীম জলরাশি। সনাতন ভাবনায় পঞ্চমহাভূতের মধ্যে ‘অপ’ বা জলই সেই মূল উপাদান, যা বাকি সব উপাদানের মাঝে প্রাণসঞ্চার করে। নদী, বৃষ্টি, পুকুর, বিল ও সমুদ্রের সঙ্গে গড়ে ওঠা আমাদের রূপসী বাংলার জীবন ও সংস্কৃতির গভীরে জলের এই অস্তিত্বকেই এবার দুর্গাপূজার ভাবনায় ধারণ করে গুলশান–বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন বেছে নিয়েছে অনন্য এক থিম - ‘জলজ’ (জল থেকে যার জন্ম)।
সনাতন ধর্মে জল কেবল একটি প্রাকৃতিক উপাদান নয়; জল স্বয়ং পবিত্রতা, পরমেশ্বর ও পরম সংস্কারের স্তম্ভ। মাতৃগর্ভের তরল থেকে শুরু করে গঙ্গাতীরে জীবনের শেষ অঞ্জলি - মানুষের সমগ্র জীবনচক্র জলের প্রবাহেই বাঁধা। জলই মাঙ্গলিক সূচনা, ঘটস্থাপন, তর্পণ, হোম কিংবা আত্মশুদ্ধির প্রধান মাধ্যম। শ্রীশ্রীচণ্ডীতে দেবী মা কেবল শক্তিরূপা নন, তিনি জীবের জীবনধারণের মূল আকুতি:‘তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা!’ জলের বুক চিরে যেমন পদ্ম প্রস্ফুটিত হয়, তেমনি জীবচেতনার তৃষ্ণা থেকেই প্রকাশিত হন মহাশক্তি মা দুর্গা।
এই ভাবনাকেই এবছর গুলশান–বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের মণ্ডপসজ্জায় স্থাপত্য, প্রকৌশল, কুটিরশিল্প, আলোক-নকশা আর নানান অলংকরণের মিশেলে রূপ দেয়া হচ্ছে এক বৃহৎ জলজ জৈব-রূপকল্পে। পরিবেশবান্ধব উপাদান যেমন বাঁশ, বেত, প্রাকৃতিক তন্তু ও চটের সাহায্যে নির্মিত হবে ঢেউখেলানো বহুস্তরীয় দৃশ্যপট, যা এক স্থির বিশাল উর্মিমালার মতো দর্শককে ঘিরে রাখবে। প্রবেশপথ থেকে মণ্ডপের অন্তঃস্থল পর্যন্ত দর্শকের যাত্রা হবে এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা - প্রকৃতির উত্তাল তরঙ্গ থেকে শান্ত হয়ে মাতৃচরণের দিকে অগ্রসর হওয়া। জলপ্রপাত, রিফ্লেকশন পুল ও আলোর মেলবন্ধনে সৃষ্টি হবে এক রূপান্তরশীল পরিবেশ। আর প্যান্ডেলের কেন্দ্রে থাকবে একটি বৃহৎ পদ্মরূপী স্থাপত্য, যেখান থেকে জলের গভীরতা থেকে প্রস্ফুটিত পদ্মের মতো শংখ-পটে উদ্ভাসিত হবেন আদ্যাশক্তি মা দুর্গা।
তবে ‘জলজ’ কেবল ধর্মীয় অনুভূতির মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি তার আবেদনকে প্রসারিত করেছে বৈশ্বিক ও পরিবেশগত সামাজিক দায়বদ্ধতায়। আজ জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল ও জলদূষণের কারণে পৃথিবীর জলচক্র মারাত্মক সংকটে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য এই সংকট অস্তিত্বের প্রশ্ন। তাই জলকে সম্মান করা ও রক্ষা করা মানেই জীবন, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা। ‘জলজ’ মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার, প্রকৃতিকে ভালোবাসার এবং জীবমণ্ডলকে রক্ষা করার এক সানন্দ আহ্বান।
জল, পদ্ম, তীর্থবারি, তৃষ্ণা ও পরম জীবন – এ সবকিছু মিলিয়ে দেবী দুর্গার কাছে আমাদের আকুল প্রার্থনা: মা, তুমি বিশ্বসংসারকে তৃষ্ণামুক্ত করো, জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করো, মানুষকে দাও সংহার নয়, সৃষ্টির শক্তি।
গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং স্থপতি অমিতি কুন্ডু ও শিল্পী-গবেষক পার্থপ্রতিম সাহার পরিকল্পনা, ডিজাইন ও তত্ত্বাবধানে বনানী কামাল আতাতুর্ক পার্কে শারদোৎসবের এই অভিনব ও দৃষ্টিনন্দন সার্বজনীন মন্ডপ সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত।
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৩) তাদের গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এসআরবির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ওই পাঁচ জন কারা তা জানাননি সূত্রটি।
এসআরবি জানায়, ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত অর্থদাতাদের ধরতে অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
এর আগে গত শনিবার যুব উন্নয়নের ওই প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। অভিযোগ তদন্তে শনিবারই পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। যদিও কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।
ক্ষমতার চেয়ে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে সবাইকে সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা কালী মন্দিরে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত স্বল্পমূল্যে ‘পাঁচ টাকায় পূজার বাজার’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, "প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে গরিব, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এক টাকায় এক ডজন ডিম এবং পাঁচ টাকায় শাড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার এই উদ্যোগ মানুষের আত্মমর্যাদা বজায় রেখে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।" এই কর্মসূচিতে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনসহ নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হওয়ায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে এটি পুনর্গঠনে সময়ের প্রয়োজন। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে দেশীয় অর্থনীতি আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এমন নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ না নিয়ে সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।"
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত মানুষ। তাই দেশ ও মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়—এমন কর্মসূচি এড়িয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, "পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। পাঁচ বছর পর জনগণ ভোটের মাধ্যমেই তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।"
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। যেমনটি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—'ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।' তাই দরিদ্র মানুষ কিংবা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে অহেতুক রাজনীতি না করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।" তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৭ বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত সাফল্য যেন কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সংযমী হতে হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আবদুস সালাম জানান, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার ১৬৮টি মণ্ডপে উদযাপিত হতে যাওয়া এ উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন হয়, সে জন্য ডিএসসিসির পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন ও উৎসবের মধ্য দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার শপথ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাজধানীর উত্তরা আজমপুর এলাকায় আজও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন ৭ থেকে ৮টি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। চলমান এই অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও অফিসগামী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রেজাউল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, উত্তরার আজমপুর এলাকায় সকাল ১০টা থেকে ৭-৮টি কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ব্যস্ততম অফিস সময়ে হঠাৎ সড়ক অবরোধ করায় আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধান অভিযোগ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চরম ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে তাদের পক্ষে সংসার চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নের জন্য কারখানার মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুতি জানালেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বাধ্য হয়েই তারা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শ্রমিকেরা তাদের দাবি আদায়ের স্লোগান দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিমানবন্দর গোলচত্বরে অনুরূপ দাবিতে পোশাক শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছিলেন।
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এক পাশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে আশপাশের সড়কগুলোতেও দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আজমপুর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তারা এই আন্দোলনে নেমেছেন।
শ্রমিকদের মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে থমকে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ওই সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে সড়ক খালি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের ডিসি শাহজাহান হোসেন জানান, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে সোমবার থেকে রাজধানীর সড়কে বিক্ষোভ করে আসছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।