বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মিরপুরের মতো অন্যান্য এলাকার ফুটপাতও দখলমুক্ত হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৫

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করে নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যেসব জায়গায় ফুটপাত দখল হয়ে আছে এবং জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, সেসব হটস্পট চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে। একটি একটি করে ফুটপাত দখলমুক্ত করে নগরবাসীর হাঁটাচলার পথ তৈরি করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, গত ১৭ তারিখে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখতে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ জন্য সরকার ও সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জনগণকেও সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। তাদের পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের কাজে যুক্ত করা হলে নগরবাসী আরও উপকৃত হবে এবং সিটি করপোরেশনও সহযোগিতা পাবে।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেকেই ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন দেশ গড়ার সময়। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশকে আধুনিক ও বাসযোগ্য করার নির্দেশনা দিচ্ছেন, তার একজন সহকর্মী হিসেবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে যেসব জায়গায় গাছ লাগানো হয়েছে, সেগুলোর পরিচর্যা করবেন। নতুন করে যেসব জায়গায় গাছ লাগানো হবে, সেখানেও নিয়মিত পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন রুটিন করে গাছে পানি দেওয়া এবং যেসব জায়গায় বেশি ময়লা জমে আছে, সেগুলো নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার করার কাজ করবেন। এ কাজে সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করবে।

নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘আমার ঢাকা’ নামে একটি অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, অ্যাপটির কাজ চলছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি উদ্বোধন করা হবে। নগরীর যেকোনো এলাকার সমস্যা অ্যাপের মাধ্যমে জানানো হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফিক্স ইট ডিএনসিসি’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করেছিলেন। সেটির মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে এই এলাকার ফুটপাত দিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারতেন না। ব্যবসায়ীদেরও চলাচলে সমস্যা হতো। মিরপুরবাসী ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এখন সেটিকে আরও নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করতে সংস্কারকাজ চলছে। ইতোমধ্যে সেখানে গাছ লাগানো হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শুধু মিরপুর-১০ নয়, যেসব জায়গায় যানজট সৃষ্টি হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে কিংবা নগরবাসীর হাঁটাচলায় সমস্যা হয়, সেসব এলাকার ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন দেশ গড়ার সময়। প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের প্রসঙ্গে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, একটি রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, নগরবাসী যেন তাকে সহযোগিতা করেন। মিরপুর-১০ নম্বরের মতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার দখল হয়ে থাকা ফুটপাত উদ্ধার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক মহসিন সিদ্দিকী রনিসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।


নির্বাচিত

ডিএসসিসি’র অভিযানে শতাধিক অবৈধ অবকাঠামো উচ্ছেদ ও মালামাল জব্দ

রাজধানীতে অবৈধ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর উচ্ছেদকৃত মালামাল ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আজ ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত থেকে শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসি’র চারজন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদ কর্মী এবং ৬ প্লাটুন পুলিশের সহায়তায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। পে-লোডারসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অবৈধ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর উচ্ছেদকৃত মালামাল ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

​ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম সরাসরি উপস্থিত থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শন করেন এবং গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন।

​পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত রাখা হচ্ছে। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তারা কেবল সেখানেই বসতে পারবেন। বিশেষ করে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখা হবে এবং মূল রাস্তায় কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।"

​হকারদের সতর্ক করার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার রাখার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করার পাশাপাশি হকার সংগঠনের নেতাদের সাথেও একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদের পরও পুনরায় বসে পড়ায় এখন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। নিয়ম অমান্য করে বসলে মালামাল জব্দের পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে।" এই উচ্ছেদ ও দখলমুক্তকরণ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

​অভিযানটি পরিচালনা করেন ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) মোঃ আমিনুল ইসলাম।

​পথচারীদের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এই অভিযান সামনেও অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে সয়েল টেস্টে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের বাধা

ছবি: পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের জন্য আনা সয়েল টেস্টের দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলমান সয়েল টেস্টের কাজে বাধা দিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে গণজমায়েত ও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে গিয়ে সয়েল টেস্টে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাঠ পুনরুদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ নিতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিছিল ও স্লোগান দিয়ে গবেষণা মাঠে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার উদ্বোধনের কথা থাকা এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা বন্ধের দাবি জানান। এ সময় মাঠে টানানো গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি সাইনবোর্ড সরিয়ে দেন তারা। পরে সয়েল টেস্টের কাজে ব্যবহৃত দুটি গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেও গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে মাঠটি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। গবেষণা মাঠ থেকে ফিরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুল লতিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময়সীমা বেধে দেন তারা। জবাবে উপাচার্য গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার-সংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মো. আশিক আহমদ বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আমরা মাঠে চলমান সয়েল টেস্টের স্যাম্পল নিয়ে ক্যাম্পাসে চলে এসেছি। প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আপনারা কতটা নির্জীবতা দেখাচ্ছেন যে, চোখের সামনে থেকে আপনাদের মাঠ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অথচ আপনাদের কোনো হেলদোল নেই! আমরা প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সিন্ডিকেট সভা ডেকে জোরালো আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিতে হবে এবং ওই জায়গা যে আমাদের, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।’ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার জানান, মাঠ রক্ষার এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তরের সকল পরীক্ষা ও ক্লাস বয়কট করেছেন।

বাণিজ্যমেলার মাঠ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আমাদের কমিটির সিদ্ধান্ত বারবার জানানোর পরও সে অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।’ সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বাণিজ্যমেলার মাঠ সংক্রান্ত আমাদের একটি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটি আমাদের রিটের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তারা সিদ্ধান্ত জানালে আমাদের লিগ্যাল অ্যাডভাইজরকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কাজ শুরু করব।’


নির্বাচিত

গেন্ডারিয়ায় ইশরাকের অভিযান চালানো সেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করল পুলিশ

ঘুন্টিঘরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে আলোচনায় আসা ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় গড়ে ওঠা সেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে সিটি করপোরেশনের হুইল লোডার দিয়ে ছোট ছোট ঘরের মতো তৈরি স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে এলাকাটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক কেনাবেচা ও সেবনের আড্ডা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির গণমাধ্যমকে বলেন, ঘুন্টিঘর এলাকায় রাস্তা-ঘাট সব পরিষ্কার করে গাড়ি চলাচলের যোগ্য করা হচ্ছে। রেললাইনের পাশে যে মাদকের আড্ডা ছিল, ওইটা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। একদম নিট অ্যান্ড ক্লিন করে সব সময় গাড়ি মুভমেন্ট করবে।

গত ১৯ অক্টোবর ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন, মুন্সিরটেকসহ আশপাশের মাদকপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও এসআরবি-১০। ডিএনসির ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে অন্তত ১৪ জনকে আটক করা হয়।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, সিটি করপোরেশনের যন্ত্রপাতি, সাবেক কাউন্সিলর, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। এ কাজে এলাকার মানুষের সহযোগিতা রয়েছে।

এর আগে ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচনায় আসেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

ঘুন্টিঘর রেলস্টেশন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের স্থান হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে সেখানে অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবারও মাদকসেবী ও কারবারিদের উপস্থিতি দেখা যায়। কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে একাধিক অভিযান চালায়।


নির্বাচিত

নাগরিক সেবায় অবহেলা করলে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

রাজধানীর কলাবাগানে বিশেষ নাগরিক মতবিনিময় সভায় সভাপতি ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাগরিক সেবায় অবহেলা করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সড়কবাতি সচল রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কলাবাগান গ্রিন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মিলনায়তনে ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, রমনা ও শাহবাগ এলাকার ১৫ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ নাগরিক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্ড প্রতিনিধিরা এলাকার জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতির সমস্যা এবং জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। প্রশাসক এসব অভিযোগ ও পরামর্শ শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাছে সমস্যাগুলোর ব্যাখ্যা চান।

আবদুস সালাম বলেন, ‘কর্মকর্তাদের কাছে আপনারা জানতে চাইবেন, কেন নির্দিষ্ট জায়গায় সড়কবাতি জ্বলছে না, কেন এলাকায় দুর্গন্ধ হচ্ছে। এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্যই তাদের এখানে আসতে হবে। সমস্যাগুলো তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও সড়কবাতির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।’

আবদুস সালাম বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তারপরও প্রতিটি ওয়ার্ডে কিছু উন্নয়নকাজ করার চেষ্টা করা হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য সমস্যাগুলোরও সমাধান করা হবে। একই ওয়ার্ডের সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়।’

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘নিউমার্কেট, গ্রিন রোডসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা আগে থেকেই রয়েছে। গত ১৭ থেকে ২০ বছরে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো সমাধানে সময় প্রয়োজন।’

আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র কয়েক মাস হলো। আমি চাইলেও এই অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে ফেলতে পারব না। সব রাস্তা মেরামত হয়ে যাবে, সব সড়কবাতি জ্বলবে, সব ব্যবস্থা নিখুঁতভাবে চলবে, এটা অল্প সময়ে সম্ভব নয়। এ জন্য সময় লাগবে।’

তবে কিছু নাগরিক সেবা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘যেখানে সড়কবাতি নষ্ট, সেখানে বাতি জ্বালাতে হবে। যেখানে আবর্জনা রয়েছে, তা পরিষ্কার করতে হবে। ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন কিংবা নাগরিক সনদ পেতে যেন কোনো সমস্যা বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় প্রশাসক বলেন, ‘রাজধানীর রাজপথ ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকার প্রধান সড়কগুলো থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘এ ধরনের মতবিনিময় সভা শুধু একটি ওয়ার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আশপাশের অন্যান্য ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।’

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে সব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্দিষ্ট জনবল ও দপ্তর দিয়ে এককভাবে সব সমস্যার সমাধান করা কঠিন।’

ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘শুধু সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেই হবে না, কখন তা সমাধান করা হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

হকার উচ্ছেদ বন্ধের দাবি, গ্রেপ্তার করলে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

ছবি: বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের আয়োজনে এ বিক্ষোভ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিকল্প পুনর্বাসন ও জীবিকার ব্যবস্থা না করে ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন হকার নেতারা। সেই সঙ্গে আর কোনো হকারকে গ্রেপ্তার করা হলে সংশ্লিষ্ট থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের আয়োজনে এ বিক্ষোভে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক হকার অংশ নেন।

হকার প্রতিনিধিরা বলেন, টানা এক মাস ধরে উচ্ছেদ অভিযানের কারণে হাজারো হকার পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া অথবা হকার ইউনিয়নের ১২ দফা দাবির ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

হকার নেতারা জানান, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হতে চান না, বরং স্বাধীনভাবে ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার চান। এখন দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ থাকায় অনেকের ঘরে খাবার নেই। সন্তানদের স্কুলের বেতন ও পরীক্ষার ফি দিতে পারছেন না। পাশাপাশি এনজিও ও ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প বসার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত হকারদের ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার আহ্বানও জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, হকাররা নিয়মিত কর দেওয়া পণ্য বিক্রির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তারা এ দেশের নাগরিক। তাই উচ্ছেদের আগে তাদের জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী রাখার পাশাপাশি হকারদের জীবিকা নিশ্চিত করতে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার দাবি জানান তারা।

হকার্স ইউনিয়নের উপদেষ্টা জলি তালুকদার বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনসংগ্রামে শ্রমজীবী হকারদের অবদান ও আত্মত্যাগ রয়েছে। অথচ উচ্ছেদের নামে তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। হকারদের অনাহারে রেখে কিংবা জোর করে উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’

তার মতে, একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি চালু করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে হকার ইউনিয়নের ১২ দফা দাবির আলোকে ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানান তিনি।

হকার নেতাদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসে পথচারীদের চলাচল ও হকারদের জীবিকা দুটিই নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান জলি তালুকদার। অন্যথায় তারা সুশৃঙ্খল আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং হকারদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেবেন বলে জানান তিনি।

মিরপুরের হকার নেতা নাসির বলেন, ‘বিকল্প বসার ব্যবস্থা না করে হকারদের উচ্ছেদ করে অনাহার-অর্ধাহারে রাখা অমানবিক। হকাররা রাষ্ট্র বা সরকারবিরোধী নন। তাই তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নিয়মানুগ ও সুশৃঙ্খলভাবে ফুটপাতে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হকারদের পরিবারের রুটি-রুজি এবং সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার স্বার্থে মানবিক বিবেচনায় তাদের বসার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।’

উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে সাতজন হকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।


নির্বাচিত

কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে আট ইউনিট

‘আমান প্লাস্টিক কারখানায়’ আগুন লাগার এ ঘটনা ঘটে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিক প্রস্তুতকারী কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার নারিকেল বাগ এলাকার ‘আমান প্লাস্টিক কারখানায়’ আগুন লাগার এ ঘটনা ঘটে। কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকজাত কাঁচামাল ও দ্রব্যাদি থাকায় খুব দ্রুতই তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে তাদের প্রথম দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি ও আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ধাপে ধাপে যুক্ত হয়ে বর্তমানে মোট ৮টি ইউনিট যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। অগ্নিনির্বাপণ কাজ শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ও আগুন লাগার মূল কারণ জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

বিরোধীদলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা

জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রকাশ্যে মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফন প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

নিজেদের দলীয় নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার দাবি তুললেও সাধারণ ও ভিন্নমতের মানুষের ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। বিরোধীদলে থাকা অবস্থাতেই পিরোজপুরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিজ বসতভিটায় দাফনে বাধা দেওয়ার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতা এই দলের হাতে পৌঁছালে তাদের আচরণ কেমন রূপ নেবে। সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এসব কথা লেখেন।

বাঙালি সমাজের সামাজিক রীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে কারও মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া মাত্রই পাড়ার যুবকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোদাল, বাঁশ আর চাটাই নিয়ে সমবেত হয় এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করাই আমাদের সামাজিক শিক্ষা। অথচ গত শনিবার সকাল ১০টায় পিরোজপুরের ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নিয়ে পরিবারকে সারাদিন গভীর উৎকণ্ঠায় কাটাতে হয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা মিছিল করে, মাইকিং করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে ঘোষণা দেয় যে তাঁকে পিরোজপুরের মাটিতে সমাহিত করতে দেওয়া হবে না।

মরদেহ নিয়ে স্বজনদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, পৈতৃক ভিটায় নিহতের জন্য পূর্বে খোঁড়া একটি কবর কিছু মানুষ এসে মাটি ফেলে ভরাট করে দেয়। পরবর্তীতে বিরূপ পরিস্থিতির আশঙ্কায় কাউকে পাশে না পেয়ে নিহতের মেয়ে ও বোনেরা বাধ্য হয়ে কোদাল হাতে নতুন কবর খনন করেন। অবশেষে গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় সেই কবরে মরদেহ দাফন করা হয়, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়া সমাজের সাধারণ কারও উপস্থিতি ছিল না।

গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি এমন আচরণের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রকাশ্যে মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া ও দাফন প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন; অথচ পরে তারাই দাবি করেন যে লাশের রাজনীতিতে তারা বিশ্বাসী নন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে মাইক হাতে দাফন আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না।

জানাজার মানবিক দিকটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, সাধারণত জানাজার পূর্বে মরহুমের স্বজনেরা উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আমার আব্বা যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, মাফ করে দেবেন।’ এরপর সাধারণ মানুষ সব ক্ষোভ ভুলে ক্ষমা করে দেয়, কারণ মৃত্যুর সাথে সাথে দুনিয়াবি সমস্ত বিরোধের সমাপ্তি ঘটে। অথচ পিরোজপুরের ঘটনায় মানিক পশারীর নিজ গ্রামে তাঁর শেষ জানাজাটুকুও হতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পরিবার গ্রামবাসীদের সামনে দাঁড়িয়ে মার্জনা চাওয়ার স্বাভাবিক সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছে।

জমিদারসুলভ মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করে ডা. তাসনিম জারা লেখেন, ‘পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশ করে যেন তারা গোটা এলাকার একক মালিকানা পেয়ে গেছে। অতীতে দলটির বিরুদ্ধে যখন ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।’ স্লোগান দেওয়া হতো, তখন তারা এর অন্যায় রূপটি উপলব্ধি করতে পেরেছিল। অথচ আজ বিরোধী অবস্থানে থেকেই তারা সেই অসহিষ্ণুতার চর্চা করছে। একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করা একটি দলের নেতাকর্মীরা আজ ঠিক করে দিতে চাইছে কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং কার শেষ ঠিকানা কোথায় হবে।

বিবৃতির সমাপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, নিজেদের স্বার্থে জামায়াত নিয়মিতভাবে মানবাধিকার, নিয়মতান্ত্রিক বিচার ও মানবিক সম্মানের দাবি তুললেও অন্যের ক্ষেত্রে তারা চরম নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করে। নির্বাচনের আগে ইনসাফের বাণী শোনানো এই দলটি বিরোধী অবস্থানে থেকেই একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষকৃত্যে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় রাষ্ট্রের পূর্ণ ক্ষমতা পেলে তাদের আচরণ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

মেট্রোরেলে নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ

মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে বসছে বিমানবন্দরের আদলে নিরাপত্তা সরঞ্জাম
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার ও যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। রোববার সংস্থাটির পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় স্টেশনের প্রবেশমুখে যাত্রীদের শরীর পরীক্ষার জন্য আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং সাথে থাকা ব্যাগ ও মালামাল পরীক্ষার স্বার্থে স্বয়ংক্রিয় লাগেজ স্ক্যানার বসানো হবে। প্রয়োজনীয় এসব আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ১৯ অক্টোবর জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএলের স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিভাগ।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই স্বয়ংক্রিয় স্ক্যানিং ব্যবস্থা কার্যকর হলে যাত্রীদের সঙ্গে থাকা মালামাল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং শরীরে বহন করা যেকোনো ধাতব বস্তুর উপস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়বে। এতে নিরাপত্তা তদারকির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি প্রতিহত করা সহজ হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ঠিক কতটি যন্ত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে কিংবা কোন কোন স্টেশনে এগুলো আগে স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

একই দরপত্রের অধীনে উত্তরা ডিপোসহ এমআরটি লাইন-৬-এর সামগ্রিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় লো-ভোল্টেজ ব্যবস্থা, ডিজেল জেনারেটর, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ (ইউপিএস) ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থার যাবতীয় তদারকি ও সার্ভিসিং সম্পন্ন করা হবে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী আগামী ১১ নভেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

মোহাম্মদপুরে নারী-কিশোরসহ ১৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারী, পুরুষ, কিশোরসহ ১৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নারীসহ ১৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি সুইচ গিয়ার, দুটি ধারালো চাকু, চারটি রড ও একটি করাত কাটার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন কিশোর ও একজন নারী রয়েছেন।

তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হাসনাইন হাসান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি ও শেরেবাংলানগর থানায় ছিনতাইয়ের অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা পথচারী, বাসযাত্রী, রিকশার আরোহী এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনদের টার্গেট করতেন। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কিংবা নারীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতেন তারা।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মোহাম্মদপুর থানার এই কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৮৪

গ্রাফিক্স ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে ৬৮৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৩৮ জন, লালবাগ বিভাগ ৪৭ জন, ওয়ারী বিভাগ ৮৭ জন, মতিঝিল বিভাগ ৭৮ জন, তেজগাঁও বিভাগ ১১০ জন, মিরপুর বিভাগ ২০৬ জন, গুলশান বিভাগ ৭৮ জন, উত্তরা বিভাগ ৩২ জন, এসআরইউ বিভাগ ৪ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

অভিযানকালে ২৫০৮ পিস ইয়াবা, ২৩ কেজি গাঁজা, ৪৯৮ গ্রাম হেরোইন, ১৮টি মোবাইল ফোন, ৭৯টি সিম, ১টি মোটরসাইকেল, ১টি অটোরিকশা (৪টি ব্যাটারিসহ), নগদ ৩২ হাজার ৫৩০ টাকা, ১০৪টি জুয়া খেলার কার্ড, ৮টি খাতা ও গাঁজা ভর্তি কলকীসহ কাটার উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।


নির্বাচিত

রাস্তা ও ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই মামলা ও মালামাল ক্রোক: ডিএসসিসি প্রশাসক

সাপ্তাহিক 'ক্লিনিং ডে' উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুরোধের পালা শেষ, রাস্তায় ও ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই এখন থেকে সরাসরি মামলা দায়ের ও মালামাল ক্রোক করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।

​শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক 'ক্লিনিং ডে' উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, "রাস্তায় যানজট, যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য বহুলাংশে দায়ী অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানসমূহ। ঢাকাবাসী তথা সিটি কর্পোরেশন এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায়। তাই মানবিকতার দোহাই দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখলের কোনো সুযোগ নেই। ডিএসসিসি নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালেই মালামাল জব্ধ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

​নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই সেখানে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না।

​ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, "ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।" রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পাশাপাশি সচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচারণা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​অভিযানকালে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, জনস্বার্থে সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এসটিএসটি স্থানান্তর করে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরেকটি নতুন এসটিএস নির্মাণের কাজ চলছে, যা চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

​উল্লেখ্য, 'ক্লিনিং ডে' উপলক্ষে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি সিআইডি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুলে গিয়ে শেষ হয়। পথিমধ্যে ডিএসসিসি প্রশাসক জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার ও অবৈধ দোকান অপসারণের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং ও সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।


নির্বাচিত

রাস্তা-ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই মামলা এবং মালামাল ক্রোকের হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

কোনো অবস্থাতেই সড়ক দখল করে হকার বসতে দেওয়া হবে না
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে দোকানপাট বসালে আর কোনো ধরনের অনুরোধ নয়, বরং সরাসরি মামলা দায়ের এবং মালামাল ক্রোক করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

শনিবার করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে আয়োজিত বিশেষ 'ক্লিনিং ডে' উপলক্ষে মালিবাগ এলাকায় মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক উল্লেখ করেন, নগরীর যানজট বৃদ্ধি, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা এবং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য মূলত অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানগুলোই দায়ী। ঢাকাবাসীকে এই চরম ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে মানবিকতার অজুহাতে রাস্তা বা ফুটপাত দখলের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। করপোরেশনের নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে দোকান বসালেই তাৎক্ষণিক মালামাল বাজেয়াপ্ত ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত রাখা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই সেখানে পুনরায় সাঁড়াশি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই সড়ক দখল করে হকার বসতে দেওয়া হবে না।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক পরিবেশের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই এবং কোথাও যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বায়ুদূষণ ও যানজট কমাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচার কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ ছাড়া মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনটি (এসটিএস) সরিয়ে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন এসটিএস নির্মাণের কাজ চলতি মাসের মধ্যেই শেষ হবে।

'ক্লিনিং ডে' উপলক্ষে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি সিআইডি কার্যালয়ের সম্মুখভাগ থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুল এলাকায় গিয়ে সমাপ্ত হয়। পুরো যাত্রাপথে সড়ক থেকে বর্জ্য অপসারণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন প্রশাসক।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close