দেশে ফেরার স্বপ্ন ছিল, আকাঙ্ক্ষা ছিল জীবনের শেষ সময়ে দেশের মানুষের পাশে থাকবেন। কিন্তু ইচ্ছা পূরণ হয়নি। এসব আফসোসের কথাই বললেন, ঢাকা ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রয়াত নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন আয়োজিত কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তার ছেলে ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
জীবনের শেষ পাঁচ বছর দেশের মানুষের সেবা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার ইচ্ছা পূরণ হয়নি। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর নিউইয়র্কে মৃত্যুর আগে শেষ তিন-চার দিন তিনি বাবার পাশে হাসপাতালে ছিলেন। তখন বাবা খুব বেশি কথা বলতে পারতেন না। তবে তার চোখের চাহনি দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন, মনের মধ্যে অনেক কষ্ট জমে ছিল। বাবা দীর্ঘ ৪০ বছর এই এলাকায় রাজনীতি করেছেন। অথচ জীবনের শেষ পাঁচ বছর দেশে ফিরতে পারেননি। নিজের বাবা-মায়ের কবর শেষবারের মতো দেখা কিংবা এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও হয়নি তার।’
ইশরাক আরও বলেন, ‘আব্বা একটা কথা অনেক সময় বলতেন, আমার মনে হয়, বাক্সবন্দি হয়ে দেশে যাইতে হবে। শেষ মুহূর্তে সেটি সত্য হয়। উনি বাক্সবন্দি হয়ে দেশে আসেন।’
মন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়ার পর রাজনীতিতে আবার ঢুকবেন কি না এমন প্রশ্নে ইশরাক বলেন, ‘আমি তো এখনও রাজনীতির মাঠে রয়েছি। এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। এক মাসের জন্যও দেশের বাইরে থাকতে হলে এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।’
সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে ইশরাক বলেন, ‘তার বাবা অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকারের প্রশ্নেও আপস করেননি। জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত নিজের আদর্শে অবিচল ছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর আগে যখন বাবার মুখ থেকে কথা বের হচ্ছিল না, তখনো তিনি খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেছিলেন। বাবার সেই আদর্শে তিনিও বিশ্বাস করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় কাজ করবেন।’
বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।’ ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে। এ সময় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ইশরাক বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত তাদের শরীরে বহমান। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া ও সদস্যসচিব বদরুল আলম সবুজ। এ ছাড়া বিএনপি, শ্রমিক দল, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে কেবল আবেদন করলেই মিলবে না নিবন্ধন; ই-রিকশাকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদন বা ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’―এর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সিটি করপোরেশনে আবেদন জমা দিলেই শুরু হবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ই-রিকশা নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, "আজ থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই— এই ফরম কিন্তু কোনো চলাচলের অনুমতিপত্র নয়, এটি কেবল নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও বুয়েটের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে।"
ই-রিক্সা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে একাধিক সুনির্দিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত মডেলের ই-রিক্সা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবহার বন্ধ করতে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, ই-রিক্সার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকাকে মোট চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জোন নির্ধারণ এবং অঞ্চলভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে।
একবারে সব অটো-রিকশা বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, "সব কিছু হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে আমরা ধাপে ধাপে এগুলোকে নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে চাই। প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার, ২ হাজার কিংবা ৫০০—যে কয়টি ই-রিকশা শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে।"
ফরম বিতরণ ও সংগ্রহের নিয়মাবলি:
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যে নিবন্ধন আবেদন ফরম বিতরণ করা শুরু হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নগর ভবন এবং ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।
অটোরিকশা ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে প্রশাসক এই সমস্যা সমাধানে নাগরিক, রিক্সা মালিক ও চালক এবং গণমাধ্যমসহ সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সাময়িকভাবে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলা এই বিক্ষোভ আজ টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেছে গণমাধ্যম।
মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটির কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এমআরটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। সংস্থাটি জানায়, সকালের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যকার পরিস্থিতি সহিংস আকার ধারণ করায় যাত্রী এবং স্টেশনের সার্বিক সুরক্ষার্থেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে উক্ত স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও সম্পূর্ণ স্থগিত রয়েছে। তবে মেট্রোরেল লাইনের অবশিষ্ট সবকটি স্টেশনে ট্রেন চলাচল যথারীতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মিরপুর-১১ স্টেশনটি আবারও সচল করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ।
রাজধানীর পাসপোর্ট অফিসে সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারই অংশ হিসেবে পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ জন দালালকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-২। আর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। সোমবার (২ নভেম্বর) এসআরবি-২-এর উপঅধিনায়ক এম মুবীন রহমান তাপস এ তথ্য জানিয়েছেন।
এসআরবি জানায়, সোমবার (২ নভেম্বর) এসআরবি-২-এর একটি অভিযানিক দল রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় পাসপোর্ট সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দালাল চক্রের ১২ জনকে আটক করে।
পরবর্তী সময়ে এসআরবির এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আটককৃতদের মধ্যে অপরাধ বিবেচনায় ৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন। এদের মধ্যে ১ জনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম, ২ জনকে ৭ দিনের বিনাশ্রম এবং ৪ জনকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে বাকি ৫ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দালাল চক্রের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এসআরবি আরও জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্র আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় পার্সপোর্ট সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ফরম পূরণ, ফরম সত্যায়ন, কাগজপত্র ঘাটতি, ভুল বা ভুয়া কাগজপত্র করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এমনকি অতি দ্রুত পাসপোর্ট তৈরির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে টাকা দিয়েও পারপোর্ট না দেওয়া বা জাল কাগজপত্র সরবরাহের মাধ্যমে গ্রাহকদের হয়রানি করার অসংখ্য অভিযোগ আসে এসআরবি-২-এর কাছে। এই অভিযান অব্যহত থাকবে বলে জানায় এসআরবি।
দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল মো. আমিরুল ইসলাম (৩৯) নামে এক যুবকের। রাজধানীর কদমতলীতে ঘটে এ দুর্ঘটনা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে রায়েরবাগ ফুটওভারব্রিজের নিচে মোটরসাইকেলচালক ওই যুবক দুর্ঘটনার শিকার হোন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মো. আমিরুল ইসলাম (৪০) টাঙ্গাইল সদরের চরপাড়া এলাকার মো. ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি শ্যামপুরের ফরিদাবাদ এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন।
আমিরুলকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পথচারী ইমরান ফকির বলেন, ‘রায়েরবাগ ফুটওভারব্রিজের নিচে দ্রুতগামী দুই গাড়ি প্রতিযোগিতা করে যাওয়ার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আমিরুল গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তার পকেটে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তার নাম-পরিচয় জানা যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা আছে
রাজধানীর মিরপুরে সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনকারী শ্রমিকদের হটিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড ও বাঁশি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেটির কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পরও আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের ধারণা, কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র আন্দোলনের আড়ালে জড়িয়ে পড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ লাঘবে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সড়কটি দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কেবল ছত্রভঙ্গ করতেই সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়; কোনো ধরনের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্যও আহত হননি।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলনরত তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সংলগ্ন মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকা রণক্ষেত্রে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ৮টার দিকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সমবেত হয়ে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার জন্য দফায় দফায় অনুরোধ করলেও আন্দোলনকারীরা অবরোধ অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা চারপাশ থেকে সংগঠিত হয়ে আবারও ইটপাটকেল ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরবর্তীতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে এই উত্তেজনারই ধারাবাহিকতায় দুপুরে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
রবিবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। দ্রুতই এ আন্দোলন মিরপুর-১১, ১২ নম্বর এবং প্রশিকা মোড়সহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক সড়কে নেমে এলে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালালে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ে এবং পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, সকাল থেকেই মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শ্রমিকেরা জমায়েত হয়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়ক উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এদিকে শ্রমিকদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে শ্রম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করলেও ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে অনড় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা।
এর আগে শনিবারও একই দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মিরপুর-১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় টানা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই দিন দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ মিরপুর-১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকায় গিয়ে শাহ আলী থানার অন্তর্গত হিমালয় গার্মেন্টসের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সে সময় ওই কারখানা ও সংলগ্ন বাগদাদ শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুর চালানো হয়। পরবর্তীতে বিকেলে পল্লবী থানার কালশী আদর্শনগর এলাকার একটি বহুতল পোশাক কারখানা লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছিলেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা।
রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময় ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৭ জন, লালবাগ বিভাগে ৬৯ জন, ওয়ারী বিভাগে ৭৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৩ জন, মিরপুর বিভাগে ১৭৫ জন, গুলশান বিভাগে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৪ জন রয়েছেন।
অভিযানকালে ১ হাজার ৪০ পিস ইয়াবা, ৯০ পুরিয়া হেরোইন, ২২২ পুরিয়া গাঁজা, ৫টি মোবাইলফোন, ২টি চাকু, ১টি প্রাইভেটকার, ১টি মোটরসাইকেল, ১৩ হাজার ৮২০ টাকা ও দুজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকার মূল রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী নিউমার্কেট এলাকায় ব্যাপক উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর)বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অভিযানের অংশ হিসেবে নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট থেকে চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট সংলগ্ন ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত মূল রাস্তা ও ফুটপাত এবং প্রিয়াঙ্গন সুপার মার্কেট থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত মূল রাস্তা সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে দখলমুক্ত ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয় এবং এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, সেজন্য সেখানে সাময়িকভাবে ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন গাছের টব স্থাপন করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, “আমরা বারবার সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি, যাতে তাঁরা রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনা না করেন। এরপরও কেউ যদি রাস্তা দখল করে বসেন, তবে তাঁদের মালামাল জব্দসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। তাঁদের সহযোগিতায় নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনোভাবেই সড়কের ওপর অবৈধভাবে কেউ বসতে না পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “নিউমার্কেট এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারও মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। তাই পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জনগণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কোনো অবস্থাতেই জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না।”
হকার নীতিমালায় হকারদের সার্ভিস চার্জ প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, “হকারদের পক্ষ থেকে সার্ভিস চার্জ কমানোর যে দাবি জানানো হয়েছে, তা ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত জানালে সে অনুযায়ী তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং এই তালিকার বাইরে কাউকে কোথাও বসার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
পরিশেষে, এলাকার পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষকে ডিএসসিসি-কে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর আবারও অবৈধ দখল ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলে তা মোকাবিলা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এ নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করলে তা বরদাশত করা হবে না।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গুরোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা দিতে ‘মোবাইল ফিভার ক্লিনিক’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অংশ। প্রধানমন্ত্রী জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ করছে সিটি করপোরেশন।
তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর আবারও দখল ফিরিয়ে আনার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে এসব চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে সরকার তার সক্ষমতা দেখিয়েছে। কেউ নতুন করে দখলের চেষ্টা করলে তা মোকাবিলা করা হবে।
নগরবাসীর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা থাকলে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে।
বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তারা দীর্ঘ ১৮ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। দলের নেতাকে নিয়ে সমালোচনা হলে তারা চুপ থাকবেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তবে তারা সহনশীল অবস্থানে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে নগরবাসীকে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ চলবে।
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টসের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা ও দেশ গড়ার কাজে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বমুক্ত সমাজ গড়তে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পল্লবী ও রূপনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পাশাপাশি এলাকায় পাঁচটি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে যুবসমাজ ও পল্লবী থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে ১২টি স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমিনুল হক।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, পল্লবী ও রূপনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় একটি করে স্পোর্টিং ক্লাব ও একাডেমি গড়ে উঠুক। শুধু ক্লাব গঠন করলেই হবে না, সারা বছর নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে।
এ জন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সার্বিক সহযোগিতা সরকারিভাবে এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’
তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুবসমাজ চাইলে সামাজিক সব ধরনের বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি শৃঙ্খলিত সমাজ গড়ে তুলতে পারে।’
তরুণরা খেলাধুলায় মনোযোগী হলে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। এ পরিবর্তনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পল্লবী ও রূপনগরে পাঁচটি ফুটসাল মাঠ নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে জানিয়ে আমিনুল বলেন, ‘দ্রুতই মাঠগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ ছাড়া রূপনগরের একটি মাঠ খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ৩২টি প্লট বরাদ্দ থাকায় বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের অন্য জায়গায় প্লটের ব্যবস্থা করা হলে মাঠের জন্য জায়গাটি ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছেন তারা।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, মাঠটি প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লাগবে। সেখানে কৃত্রিম ঘাস, সীমানাপ্রাচীর ও আলোর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর ঢাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। গত বুধবার বিকেলে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে করছেন না বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার সন্দেহ, তাহসিফকে হত্যা করে নদে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ময়নাতদন্ত শেষে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাহসিফের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার বিষয়টি সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বন্ধুর ডাকে বেরিয়ে নিখোঁজ: তাহসিফের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিনের বেশির ভাগ সময় মায়ের সঙ্গে কাটান তিনি। পরিবারের জন্য কেনাকাটাও করেন। সন্ধ্যার দিকে দ্বীপ নামে এক ব্যক্তি তাকে ডাকতে এলে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর আর ফিরে আসেননি।
পরিবারের সদস্যরা তার ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে রাত ১টার পর তাহসিফ তার মাকে বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানান। কিন্তু এরপরও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তাহসিফের বাবা জানান, বুধবার দুপুরে ছেলের খোঁজে থানায় যান তিনি। পরে বিকেলে পুলিশ তাকে ফোন করে তুরাগ নদ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর জানতে পারেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তার ছেলের।
হত্যার সন্দেহ পরিবারের: বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাহসিফের বাবা বলেন, তার ছেলে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সামাজিক ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কও ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বাবার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতেন তিনি।
বাবার দাবি, ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। তার সন্দেহ, তাহসিফকে হত্যা করে নদে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে কারা বা কী কারণে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
তাহসিফের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তার বাবা বলেন, ছেলের সঙ্গে কারও ঝগড়া বা বিরোধের কথা তিনি জানতেন না। স্বাভাবিকভাবে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা পরিবারের কেউ ভাবেননি।
শরীরে আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ: নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় প্রথমে তাকে পরিচয় না জানা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে সঙ্গে থাকা মুঠোফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের তৈরি সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মরদেহের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট ফোলা ছিল। তবে বুক, পিঠ, পেট ও পায়ে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারের সময় তার পরনে কালো ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার ছিল। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের সূত্র ধরেই তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ঢাকা জেলা নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কর্মজীবন ও সাম্প্রতিক ঘটনা: তাহসিফ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাবা জানান, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও নেত্র নিউজের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। সর্বশেষ ভার্গ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক দিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় বিশ্রামে ছিলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের সঙ্গে তাহসিফের নাম জড়িয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মাত্র ২৮ বছর বয়সে তাহসিফের এমন মৃত্যু ঘিরে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার মৃত্যুর পেছনে দুর্ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
অবৈধ ফুটপাত দখলের পক্ষে যতই যুক্তি বা অজুহাত দেখানো হোক না কেন, কোনো অবস্থাতেই রাস্তা ও ফুটপাতে হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত পরিচালিত দুটি বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তিনি এ কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রথম দফায় সকাল ১১টা এবং দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উচ্ছেদ অভিযান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা:
অভিযানকালে মূল রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা বিপুল পরিমাণ অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয় এবং অবৈধ হকারদের মালামাল জব্দ করা হয়। ডিএসসিসির এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার পর্যন্ত সম্পূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হয়।
পুনরায় দখল রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি:
বারবার অভিযানের পরও হকারদের পুনরাগমনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন:
"যতবারই অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা হবে, ততবারই আমরা নগরবাসীর স্বার্থে অভিযান চালাব। একাধিকবার আলোচনা, অনুরোধ ও সতর্ক করার মতো সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এখন থেকে অবৈধভাবে বসলে কেবল উচ্ছেদ নয়, মালামাল জব্দসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হবে।"
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে বক্তব্য:
হকারদের পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদের অভিযোগ বিষয়ে প্রশাসক বলেন, গণমাধ্যমের উচিত নগরবাসীদের প্রকৃত দাবির পক্ষে জনমত গঠন করা।
“গণমাধ্যমের কাছে অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, এমন কোনো প্রশ্ন করবেন না যাতে অবৈধ দখলকারীরা উৎসাহিত হয়। ঢাকার নাগরিকরা কী চান এবং দেশের সাধারণ মানুষের দাবি কী—দয়া করে সে অনুযায়ী জনমত গড়ে তুলুন।”
সিটি কর্পোরেশনের সীমাবদ্ধতা: “সারা দেশের বাস্তুচ্যুত মানুষের দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নিতে পারবে না। এই ঢাকাকে আমাদের বাঁচাতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।”
বিকল্প সমাধান: জনগণের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমিতসংখ্যক হকারকে বসার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে; তবে বাকিদের নিজ নিজ জেলায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পথচারীদের উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি:
অভিযান চলাকালে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন পর চলাচলের সুব্যবস্থা ফিরে পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ডিএসসিসি প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে এই ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়মিত বজায় রাখার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট পরিবর্তন বা ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানোর প্রয়োজন হয়, জানাবেন!