বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক রেপো, লিকুইডিটি সাপোর্ট সুবিধা এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি সুবিধার (আইবিএলএফ) নিলাম গত রোববার অনুষ্ঠিত হয়।
নিলামে সাত দিন মেয়াদি রেপো সুবিধার আওতায় সাতটি ব্যাংক মোট ১ হাজার ৭৫৪ দশমিক ৫৫ কোটি টাকার ২৭টি বিড, এক দিন মেয়াদি লিকুইডিটি সাপোর্ট সুবিধার আওতায় ১০টি পিডি ব্যাংক মোট ৩ হাজার ৮৯৪ দশমিক ৮৬ কোটি টাকার ৩৩টি বিড এবং ১৪ দিন মেয়াদি ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি সুবিধার আওতায় দুটি ব্যাংক ৫৫০ কোটি টাকার দুটি বিড দাখিল করে।
অকশন কমিটিতে সব বিডই গৃহীত হয়। ফলে রেপো, লিকুইডিটি সাপোর্ট সুবিধা এবং আইবিএলএফের আওতায় সর্বমোট ৬ হাজার ১৯৯ দশমিক ৪১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। উল্লিখিত সাত দিন মেয়াদি রেপো ও এক দিন মেয়াদি লিকুইডিটি সাপোর্ট সুবিধার সুদের হার ছিল যথাক্রমে বার্ষিক ৬ দশমিক ৬০ ও ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ১৪ দিন মেয়াদি ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি সুবিধার এক্সপেক্টেড প্রফিট রেট (ইপিআর) ছিল ৭ শতাংশ। বিজ্ঞপ্তি
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী সামিয়া আক্তারের জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে দেশের শীর্ষ রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। আর্থিক সংকটে থাকা এই শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সামিয়ার হাতে ৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেয় স্বপ্ন। প্রতি মাসে স্থানীয় চেয়ারম্যান এর তত্বাবধানে ৫ হাজার টাকা করে তুলতে পারবে যা তার পড়াশোনা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এভাবেই সামিয়ার ভবিষ্যতের জন্য ৪লাখ ৮০ হাজার টাকা অনুদানের কথা জানিয়েছে স্বপ্ন কতৃপক্ষ।
স্বপ্ন-এর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ছোট ছোট উদ্যোগও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সামিয়ার পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে আমরা সেই দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করেছি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের সহায়তা একটি অসচ্ছল পরিবারের জন্য বড় ভরসা। তারা আশা করছেন, নিয়মিত এই সহায়তা সামিয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় দুটি ফ্রিজ ও একটি এসি কিনে মিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন দেশের তিন জেলার আরও তিন ক্রেতা। এই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা হলেন— বান্দরবানের সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার সুপ্রকাশ চাকমা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের দিনমজুর কুদ্দুস হাওলাদার এবং নরসিংদীর স্কুল শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার। তাঁদের মধ্যে সুপ্রকাশ চাকমা ও কুদ্দুস হাওলাদার ওয়ালটন ফ্রিজ এবং তাহমিনা আক্তার এসি কিনে ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার পেয়েছেন।
গত বুধবার বান্দরবান শহরের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুপ্রকাশ চাকমার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর আগে গত সোমবার নরসিংদীর কাউরিয়া পাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে তাহমিনা আক্তারকে এবং ২৬ এপ্রিল ফকিরহাট বাজারে কুদ্দুস হাওলাদারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কারের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে চেক তুলে দেন ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আমিন খান এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী পরিচালিত ‘ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪’-এর আওতায় এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার জিতেছেন তাঁরা। এর আগের সিজনগুলোতেও বিভিন্ন পণ্য কিনে দেশজুড়ে আরও ৫০ জন ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পৃথক এই অনুষ্ঠানগুলোতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান ফিরোজ আলম, ওয়ালটন এসির চিফ বিজনেস অফিসার তানভীর রহমান এবং ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোয়েব আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুরস্কার প্রাপ্তির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানা গেছে, সুপ্রকাশ চাকমা গত ১৬ এপ্রিল বান্দরবানের ইস্টার্ন এজেন্সি থেকে ২৮ হাজার টাকায় একটি ১৪৫ লিটারের ফ্রিজ ক্রয় করেন। পণ্যটি কেনার পর তাঁর নাম ও ফোন নম্বর দিয়ে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করার পরপরই ১০ লাখ টাকা জেতার মেসেজ পান তিনি। একইভাবে নরসিংদীর তাহমিনা আক্তার ৬৬ হাজার ৩০০ টাকায় একটি দেড় টনের এসি কিনে এবং ফকিরহাটের কুদ্দুস হাওলাদার কিস্তিতে ৪২ হাজার ৬৯০ টাকার ফ্রিজ কিনে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সুপ্রকাশ চাকমা বলেন, “রসেবনে অনেক লটারি কিনেছি, প্রাইজ বন্ড কিনেছি। কখনো পুরস্কার পাইনি। ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে পুরস্কার পেয়েছি। পুরস্কার পেতে কার না ভালো লাগে! আমি কখনো ভাবিনি একটি ফ্রিজ কিনে এত বড় পুরস্কার জিতব। এ টাকা পারিবারিক ভরণপোষণে খরচ করব।” অন্যদিকে তাহমিনা আক্তার তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি একটি এসি কিনে এত বড় পুরস্কার পাব। এটি আমার জন্য অবিশ্বাস্য এক আনন্দের মুহূর্ত। এই অর্থ আমার পরিবারের অনেক উপকারে আসবে। ওয়ালটনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।”
ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান ফিরোজ আলম এক গণমাধ্যমকে বলেন যে, ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রেতারা কেবল অফারের জন্য নয়, বরং ওয়ালটনের পণ্যের উচ্চমানের কারণেই এগুলো ক্রয় করেন। বর্তমানে বিশ্বের ৫৫টিরও বেশি দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে জানিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের টাকা দেশেই রাখার আহ্বান জানান।
মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তি পেয়েছে একটি ভিন্নধর্মী ও আবেগঘন বিজ্ঞাপনচিত্র। মায়ের কাছে সন্তান আজীবন শিশুই থাকে, বাঙালির চিরচেনা এই ভাবনাকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে বিজ্ঞাপনটি। বিশ্বখ্যাত এয়ার কন্ডিশনার ব্র্যান্ড গ্রী’র এই বিজ্ঞাপনটি এরই মধ্যে দর্শকদের হৃদয় ছুঁতে শুরু করেছে।
গল্পটি শুরু হয় ছিমছাম এক মধ্যবিত্ত ড্রয়িংরুমে। শান্ত বিকেল। স্ক্রিনে দেখা যায়, এক মা তার ৭ বা ৮ বছরের ছোট্ট ছেলেকে মিষ্টি-মধুর কণ্ঠে বকা দিচ্ছেন। মায়ের অভিযোগ, “কত টাকা বেতন পাস তুই? হ্যাঁ? ছোটবেলায় এরচেয়ে গরমে ঘুমাস নাই? ফ্যান না চললে হাতপাখার বাতাসে ঘুমাইছে সবাই। আমাকে না জানাইয়া এসি কিনা নিয়া আসছে। কী দরকার ছিল এত খরচ করার?”
দর্শক এই দৃশ্যে প্রথমে একটু হোঁচট খেতে পারেন। এতটুকু বাচ্চা ছেলে আবার বেতন পায় কীভাবে! ওদিকে মায়ের বকুনিতে ছেলেটা অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে থাকে, যেন মস্ত বড় কোনো ভুল করে ফেলেছে। প্রতিটি সংলাপের ফাঁকে ফাঁকে বাজতে থাকে মিষ্টি এক লিড গিটারের সুর, যা মায়ের এই অভিমানকে আরও মায়াময় করে তোলে। মা একটু বিরক্তি নিয়েই বলেন, “কী এমন গরম?” ঠিক তখনই ছেলেটি মায়ের অজান্তেই রিমোট চেপে এসি চালু করে দেয়। মুহূর্তেই এক স্নিগ্ধ শীতল বাতাস এসে ছুঁয়ে যায় মাকে। বাতাসে মায়ের চুলগুলো আলতো করে উড়ে যায়, স্ক্রিনে ফুটে ওঠে চমৎকার এক দৃশ্য। শীতল বাতাসে মায়ের সব ক্লান্তি যেন জুড়িয়ে যায়। ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। মা বলে ওঠেন, “খুব বড় হয়ে গেছিস, তাই না?”
এরপরই আসে বিজ্ঞাপনের সেই চমকপ্রদ ও আবেগী মুহূর্ত। ক্যামেরা ঘুরে ছেলের দিকে যেতেই দেখা যায়, সেখানে কোনো শিশু বসে নেই। বসে আছে ফর্মাল অফিস পোশাক পরা এক পূর্ণবয়স্ক যুবক। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। ছেলের হাসিমুখ দেখে মা বলেন, “একদম বাপের মতো বেহিসাবি।” দুজনের মুখেই এক অনাবিল হাসি। বিজ্ঞাপনটির পেছনের মূল ভাবনা ছিল একটিই, মায়ের কাছে সন্তানের বয়স বাড়ে না। আমরা যতই বড় হই না কেন, নিজের উপার্জনে মায়ের জন্য কোনো উপহার কিনে আনি না কেন, মায়ের চোখে আমরা সেই ছোট্ট খোকাটিই থেকে যাই, যে না বুঝে পয়সা খরচ করে।
ইলেক্ট্রোমার্টের বাজারজাতকৃত গ্লোবাল ব্র্যান্ড গ্রী এসির জন্য এই চমৎকার ও আবেগঘন গল্পটি তৈরি করেছে বিজ্ঞাপনী সংস্থা ক্রসওয়াক কমিউনিকেশনস। প্রখ্যাত ফিল্ম ডিরেক্টর অনম বিশ্বাসের পরিচালনায় বিজ্ঞাপনচিত্রে খুব সুনিপুণভাবে বোঝানো হয়েছে যে, এসি এখানে শুধুই একটি যন্ত্র নয়, বরং মায়ের সেই হাতপাখার মমতা-মাখানো বাতাসের মতোই এক আধুনিক ভালোবাসার উপহার, যা একজন সন্তান তার মাকে দিতে চায়।
বিজ্ঞাপনটির শেষাংশে ভেসে আসে একটি হৃদয়স্পর্শী ভয়েসওভার, “মায়ের কাছে সন্তানের বয়স বাড়ে না। বয়স না বাড়া সকল সন্তানের পক্ষ থেকে পৃথিবীর সব মায়েদের জানাই মা দিবসের শুভেচ্ছা।” গ্রী এসির পক্ষ থেকে তৈরি করা এই বিজ্ঞাপনটি কেবল একটি পণ্যের প্রচারণাই নয়, বরং পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি এক বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবেই দেখছেন দর্শকরা। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাই এই সুন্দর নির্মাণটি নিয়ে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।
দেশের অন্যতম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক পিএলসি এবং প্রোটন ব্র্যান্ডের গাড়ির অনুমোদিত পরিবেশক র্যানকন কারস লিমিটেডের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে প্রাইম ব্যাংকের সম্মানিত গ্রাহকরা প্রোটন ব্র্যান্ডের নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ মূল্যছাড় ও আকর্ষণীয় সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। গত ৯ মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত র্যানকন কারস লিমিটেডের করপোরেট কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা সম্পন্ন হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকের এসইভিপি এবং হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক মামুর আহমেদ। অন্যদিকে, র্যানকন কারস লিমিটেডের পক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রশিদ ভূঁইয়া। উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয়, যা গ্রাহকদের জন্য বিশ্বমানের প্রোটন গাড়ি কেনাকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের ইভিপি এবং হেড অব কনজ্যুমার অ্যাসেটস অ্যান্ড কার্ডস জোয়ার্দ্দার তানভীর ফয়সাল এবং র্যানকন কারস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মাশনুর চৌধুরী। এ ছাড়াও উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই নতুন অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এই সহযোগিতার মাধ্যমে আধুনিক গ্রাহকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও চাহিদা অনুযায়ী উন্নত সেবা প্রদানের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হলো।
প্রাইম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অংশীদারিত্ব মূলত গ্রাহকদের লাইফস্টাইলভিত্তিক মানসম্পন্ন সেবা এবং উদ্ভাবনী আর্থিক সমাধান প্রদানের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতিরই একটি প্রতিফলন। প্রোটন গাড়ির মতো আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহনের সাথে প্রাইম ব্যাংকের আস্থার সেবার এই মেলবন্ধন গ্রাহকদের ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার স্বপ্নপূরণে সরাসরি সহায়তা করবে। সাশ্রয়ী ঋণ সুবিধার পাশাপাশি এই বিশেষ ছাড় গ্রাহকদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
র্যানকন কারসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের অটোমোবাইল বাজারে প্রোটন গাড়ির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে গ্রাহকদের নাগালে পৌঁছে দিতেই তারা প্রাইম ব্যাংকের সাথে এই উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত গ্রাহকসেবা এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনতে এই অংশীদারিত্ব এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এখন থেকে প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহকরা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে এই আকর্ষণীয় অফারটি গ্রহণ করতে পারবেন।
ঢাকায় আবারও শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ টেক্সটাইল সোর্সিং প্রদর্শনী ‘ইনটেক্স বাংলাদেশ ২০২৬’। আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। গত ১১ বছরে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ইনটেক্স সাউথ এশিয়া সিরিজের ১৭টি সফল প্রদর্শনীর পর এবার ঢাকায় ১৮তম আসর বসতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজনে মূলত টেকসই ও উদ্ভাবনী সোর্সিং সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে, যা বাংলাদেশের পোশাক ও বস্ত্র খাতের আধুনিকায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এই প্রদর্শনীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টেক্সটাইল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকদের এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি হবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন। ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, হংকং, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ ১২টিরও বেশি দেশের অগ্রণী প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। বিশেষ করে ভারতের শীর্ষ টেক্সটাইল রপ্তানি উন্নয়ন সংস্থা টেক্সপ্রসিল, পেডেক্সিল ও ম্যাটেক্সিলের সহযোগিতায় শতাধিক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান তাঁদের উন্নত মানের ফাইবার, সুতা ও কাপড় প্রদর্শন করবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে।
এবারের আয়োজনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘ইনডাইকেম’ (InDyeChem) নামে ডাই, কেমিক্যাল ও ফিনিশিং সল্যুশনের জন্য নির্ধারিত বিশেষ প্যাভিলিয়ন। কেমেক্সসিলের (CHEMEXCIL) সহযোগিতায় এই প্যাভিলিয়নে দায়িত্বশীল উৎপাদন ব্যবস্থা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক ও টেকসই রাসায়নিক উদ্ভাবনগুলো সবার সামনে তুলে ধরা হবে। টেক্সপ্রসিলের নির্বাহী পরিচালক ড. সিদ্ধার্থ রাজাগোপাল এই আয়োজনকে আঞ্চলিক টেক্সটাইল অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়া আয়োজিত এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান পোশাক শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজে সংগ্রহে বড় ভূমিকা রাখবে।
তিন দিনের এই আয়োজনে প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) ম্যাচমেকিং সেশন এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজনেস ফোরামের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব ও শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং নিশ্চিত করতে পুরো ভেন্যুকে আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল প্যাভিলিয়ন, ইন্ডিয়া প্যাভিলিয়ন, চায়না প্যাভিলিয়ন এবং প্রিমিয়াম ফাইবার ও সুতা—এই চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হবে। বিকেএমইএ, বিজিসিসিআই এবং ইউএসবিসিসিআই-এর মতো প্রভাবশালী দেশি-বিদেশি শিল্পসংগঠন ও বাণিজ্যিক চেম্বারগুলো এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সফল করতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা প্রদান করছে।
বিশ্বের পোশাক উৎপাদন খাতে বাংলাদেশের বর্তমান শীর্ষ অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করাই ইনটেক্সের প্রধান লক্ষ্য। ওয়ার্ল্ডেক্স ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক আরতি ভগত মনে করেন, সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের এই শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা সম্ভব। পোশাক শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, উদ্যোক্তা এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরা এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও পণ্য বৈচিত্র্যের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আগ্রহী অংশগ্রহণকারীরা ইনটেক্স বাংলাদেশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও অগ্রিম নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন।
আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নতুন এবং এক্সক্লুসিভ আর্থিক সেগমেন্ট ‘আইপিডিসি ইনফিনিট’-এর শুভ সূচনা করেছে। মূলত প্রিমিয়াম গ্রাহকদের বিশেষ প্রয়োজন ও আধুনিক জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে এই বিশেষ আর্থিক সেবাটি ডিজাইন করা হয়েছে। গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে এই সেগমেন্টের উদ্বোধন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো প্রথাগত আর্থিক সেবার গণ্ডি পেরিয়ে গ্রাহকদের জন্য এক অনন্য এবং ব্যক্তি-কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা, যা তাঁদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।
গ্রাহকদের বৈচিত্র্যময় আর্থিক পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা পূরণের সুবিধার্থে এই নতুন সেগমেন্টকে ‘এলিট’ এবং ‘ইনফিনিট’—এই দুটি স্তরে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা কেবল তাঁদের বিনিয়োগ বা ঋণের প্রয়োজনীয় আর্থিক সমাধানই পাবেন না, বরং একটি সমৃদ্ধ লাইফস্টাইল ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আইপিডিসি কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই বিভাজন গ্রাহকদের নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সেবা নির্বাচন করতে এবং প্রিমিয়াম ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রকৃত মানদণ্ড অনুভব করতে বিশেষভাবে সহায়তা করবে।
‘আইপিডিসি ইনফিনিট’-এর আওতায় গ্রাহকদের জন্য থাকছে একগুচ্ছ আকর্ষণীয় এবং বিশেষায়িত সুবিধা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য ডেডিকেটেড রিলেশনশিপ ম্যানেজার এবং গ্রাহকদের সুবিধার্থে দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা বা ডোরস্টেপ সাপোর্ট। এ ছাড়াও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাস্টমার সাপোর্ট, বিমানবন্দরে বিশেষ লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা এবং ভ্রমণ ও ডাইনিংয়ের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় সব অফার এই সেবার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ হেলথকেয়ার সুবিধাসহ বিভিন্ন লাইফস্টাইল প্রিভিলেজ এই সেগমেন্টের গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নতুন এই সেগমেন্টের উদ্বোধন প্রসঙ্গে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন যে, আধুনিক সময়ের প্রিমিয়াম গ্রাহকরা কেবল সাধারণ লেনদেন নয়, বরং বিশেষ গুরুত্ব ও আধুনিক সেবার এক সমন্বিত রূপ প্রত্যাশা করেন। সেই চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আইপিডিসি ইনফিনিট চালু করা হয়েছে, যা গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে। গ্রাহক অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করতে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষস্থানীয় ট্রাভেল, হসপিটালিটি, ডাইনিং এবং হেলথকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে আইপিডিসি ফাইন্যান্স অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক রিলেশনশিপ ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল। এক্সক্লুসিভিটি এবং পার্সোনালাইজড কেয়ার বা ব্যক্তিগত তদারকি নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী এবং আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। মূলত উচ্চবিত্ত গ্রাহক শ্রেণির জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন এক আধুনিক মানদণ্ড তৈরি করতেই আইপিডিসি এই উদ্ভাবনী সেবাটি বাজারে নিয়ে এসেছে। এটি দেশের আর্থিক খাতে এক নতুন ধারার সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন ‘অনার ৬০০ ৫জি’ সিরিজ উন্মোচন করেছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অনার। গত বুধবার (৭ মে) রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অনার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ল্যাং গুও এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সাংবাদিক ও ইনফ্লুয়েন্সারদের উপস্থিতিতে নতুন এই সিরিজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের উন্নত এআইওটি (AIoT) ভিশন তুলে ধরেছে। কান্ট্রি ম্যানেজার জানান, অনারের এই নতুন উদ্ভাবন ব্যবহারকারীদের সৃজনশীলতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অনার ৬০০ সিরিজের সবথেকে বড় আকর্ষণ হলো এর ‘এআই ইমেজ টু ভিডিও ২.০’ প্রযুক্তি, যা ব্যবহার করে স্থির ছবি থেকে মুহূর্তেই সিনেম্যাটিক ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি প্রেমীদের জন্য এতে যুক্ত করা হয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী এআই ক্যামেরা সিস্টেম। পেশাদার মানের ভিডিওর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এতে ‘সিআইপিএ ৬.০’ গ্রেডের ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন এবং স্বল্প আলোতে চমৎকার ছবির জন্য ‘আল্ট্রা ক্লিয়ার নাইট ক্যামেরা’ ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনের কারিগরি দক্ষতাকে ব্যবহারকারীবান্ধব করতে এতে একটি ডেডিকেটেড এআই বাটনও রাখা হয়েছে।
নান্দনিক ডিজাইনের ক্ষেত্রেও এই সিরিজটি নতুন রেকর্ড গড়েছে, যার বেজেল মাত্র ০.৯৮ মিমি—যা বর্তমানে স্মার্টফোন জগতের সবচেয়ে সরু বেজেল। ফোনটিকে টেকসই ও আরামদায়ক করতে এর বডিতে কম্পোজিট ফাইবার এবং ম্যাট মেটাল ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে। সুরক্ষার দিক থেকে এটি অর্জন করেছে ‘এসজিএস ৫-স্টার’ সার্টিফিকেট, যা দৈনন্দিন ছোটখাটো আঘাত বা পড়ে যাওয়া থেকে ফোনটিকে রক্ষা করবে। এই সিরিজের কার্ভড ইউনিবডি ডিজাইন ফোনটিকে একটি প্রিমিয়াম লুক প্রদান করেছে।
স্মার্টফোনটির প্রসেসর ও ব্যাটারি বিভাগে রাখা হয়েছে অভাবনীয় সক্ষমতা। এই সিরিজের প্রো ভ্যারিয়েন্টে ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট’ এবং রেগুলার মডেলে ‘স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪’ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে এতে রয়েছে ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি, যা দ্রুত চার্জ করার জন্য ৮০ ওয়াট ওয়্যারড এবং ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস সুপারচার্জিং প্রযুক্তি সাপোর্ট করে। প্রো মডেলের পাশাপাশি বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে ‘অনার ৬০০ লাইট’ সংস্করণটিও উন্মোচন করা হয়েছে, যা ব্যাটারি ও পারফরম্যান্সের এক দারুণ সমন্বয়।
অনার ৬০০ সিরিজের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের দাম দেশের গ্রাহকদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রো মডেলটির (১২+২৫৬ জিবি) দাম ধরা হয়েছে ৯৯,৯৯৯ টাকা, অন্যদিকে রেগুলার ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হচ্ছে ৬৪,৯৯৯ টাকা থেকে। এ ছাড়া ৬০০ লাইট সংস্করণটি পাওয়া যাবে ৪৪,৯৯৯ টাকায়। অরেঞ্জ, গোল্ডেন হোয়াইট এবং ব্ল্যাক—এই তিনটি নজরকাড়া রঙে ফোনগুলো পাওয়া যাবে। আগ্রহী ক্রেতারা আগামী ১৫ মে পর্যন্ত আকর্ষণীয় অফারে ফোনগুলো প্রি-বুক করার সুযোগ পাবেন। নতুন এই সিরিজটি প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারে অনারের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জনতা ব্যাংক পিএলসির আয়োজনে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক এক বিশেষ ভার্চুয়াল সম্মেলন ‘ব্যামেলকো (BAMLCO) কনফারেন্স’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত এই সম্মেলনে ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থপাচারের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আইনি কাঠামোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনতা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের সাধারণ ব্যবস্থাপক (জিএম) এবং চিফ এন্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার (সিএএমএলসিও) মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) যুগ্ম পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান উপস্থিত থেকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনা ও কৌশল তুলে ধরেন।
এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের দেশব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কর্মকর্তারা যুক্ত হন। এর মধ্যে ৯২৫টি শাখার এন্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার, ১৩ জন বিভাগীয় কমপ্লায়েন্স অফিসার এবং ৫২ জন এরিয়া কমপ্লায়েন্স অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। এত বিশাল পরিসরে কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্মেলনের মূল আলোচনায় অর্থপাচার প্রতিরোধে একটি ঝুঁকিভিত্তিক, টেকসই ও সময়োপযোগী কমপ্লায়েন্স কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধ করতে হলে প্রতিটি পর্যায়ে কর্মকর্তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং গ্রাহক পরিচিতি ও নথিপত্র যাচাইয়ে কোনো শিথিলতা দেখানো চলবে না। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার যথাযথ পরিপালনের মাধ্যমেই কেবল ব্যাংকের সুনাম রক্ষা এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব বলে সম্মেলনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
পরিশেষে, অর্থপাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করা হয়। জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন, যাতে ব্যাংকটির প্রতিটি কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই ধরণের নিয়মিত সম্মেলন কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করেছে। গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ন ট্রেড সেন্টারের এনআরবি লাইফ মিলনায়তনে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত পাঁচ বছরের দীর্ঘ পথচলা এবং গ্রাহকসেবায় অর্জিত বিভিন্ন সাফল্যের মাইলফলকগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই আনন্দঘন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীটি পালন করা হয়।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. শাহ্ জামাল হাওলাদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনআরবি ইসলামিক লাইফের চেয়ারম্যান কিবরিয়া গোলাম মোহামাদ। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে কোম্পানির উত্তরোত্তর সাফল্যের জন্য সকল কর্মী ও গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, স্বচ্ছতা ও আধুনিক সেবার মাধ্যমে কোম্পানিটি খুব দ্রুতই দেশের বীমা খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির পরিচালক আফতাব আহমেদ, বিএম ইউছুফ আলী, মো. জামাল উদ্দিন, মোস্তফা হেলাল কবির এবং নুরুল আজিম রিফাত। এ ছাড়াও এই আনন্দঘন আয়োজনে যোগ দেন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার মাহফুজুর রহমান এবং শুভানুধ্যায়ী একেএম মুস্তাফিজুর রহমান ও হোসনে আরা বেগম। আমন্ত্রিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শরিয়াহ ভিত্তিক বীমা ব্যবস্থার গুরুত্ব এবং এনআরবি ইসলামিক লাইফের ব্যবসায়িক সুশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই আয়োজনে কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিরা মিলে কেক কেটে কোম্পানির ষষ্ঠ বছরে পদার্পণের মুহূর্তটি উদযাপন করেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বীমা সচেতনতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণিল অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ সম্প্রতি আয়োজন করেছে 'বিকাশ পার্টনার এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬'। ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেইসব সাপ্লাই চেইন পার্টনারদের সম্মাননা জানিয়েছে, যারা দেশজুড়ে কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাজধানীর একটি ভেন্যুতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মোট আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৭টি সেরা সাপ্লাই চেইন পার্টনারকে তাদের অসামান্য অবদানের জন্য স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
মূলত পার্টনারদের অপারেশনাল এক্সিলেন্স বা কর্মদক্ষতা, নিয়মনীতি পরিপালন ও সততা (কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড ইন্টেগ্রিটি), এবং স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে এই পুরস্কারের জন্য বিজয়ী নির্বাচন করা হয়েছে। এ ছাড়াও পার্টনার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনায় যারা বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, তাঁদের কর্মক্ষমতাকেও এই আনুষ্ঠানিক পুরস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করেছে বিকাশ। সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে এই পার্টনারদের নিরলস পরিশ্রম ও সমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই এই নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিকাশের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) মঈনুদ্দিন মোহাম্মদ রাহগীর এবং ইভিপি ও হেড অব সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মোহাম্মদ রাশেদুল আলম। এছাড়াও পার্টনার কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বিকাশের ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে সাপ্লাই চেইন পার্টনারদের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সরবরাহে তাঁদের নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সাপ্লাই চেইন পার্টনারদের সাথে বিকাশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও আত্মিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। বিকাশ মনে করে, পার্টনারদের সাথে এই উন্নত কাজের পরিবেশ এবং পেশাদার সম্পর্ক ভবিষ্যতে গ্রাহকসেবার মানকে আরও উন্নত করতে এবং ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি দেশব্যাপী আরও বিস্তৃত করতে সহায়ক হবে।
দেশের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে বিকাশের অবস্থান শক্তিশালী করার পেছনে দক্ষ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট একটি বড় স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। এ ধরনের স্বীকৃতিমূলক অনুষ্ঠান কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করে না, বরং পুরো খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিয়মিত এই সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে বিকাশ তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে রাজধানীর রমনা থানাধীন বড় মগবাজারে অবস্থিত ইস্পাহানি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুল প্রাঙ্গণে গতকাল (৮ মে) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘কিডস আর্ট কার্নিভাল ২০২৬’। বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এই প্রাণবন্ত আয়োজনে বিপুল সংখ্যক শিশু এবং তাদের অভিভাবকরা অংশ নেন। মূলত শ্রেণিকক্ষের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে শিশুদের কল্পনাশক্তি বিকাশের এক বিশেষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আনন্দঘন পরিবেশ পুরো স্কুল প্রাঙ্গণকে এক বর্ণিল উৎসবে পরিণত করে।
আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, যা তিনটি ভিন্ন বয়সভিত্তিক গ্রুপে বিভক্ত ছিল। ৩ থেকে ৫ বছর এবং ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ছিল উন্মুক্ত বিষয়, যাতে তারা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজেদের মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকতে পারে। অন্যদিকে, ৯ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য নির্ধারিত বিষয় ছিল ‘আমার স্বপ্নের স্কুল’। শিশুদের রং-তুলির ছোঁয়ায় ক্যানভাসে ফুটে ওঠে তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের সৃজনশীল গুণাবলি বিকাশের এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্পাহানি গ্রুপের ডিরেক্টর জাহিদা ইস্পাহানি। বিশেষ অতিথি হিসেবে শিশুদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের স্বনামধন্য শিক্ষক ও শিল্পী রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্কুলের প্রিন্সিপাল মিস শামনাজ ফারজানা আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান। এ সময় ইস্পাহানি গ্রুপের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিল্প ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিশুদের এমন সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন।
এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়েই নামকরা এই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকরা কার্নিভালের পাশাপাশি স্কুলের আধুনিক অবকাঠামো এবং পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভের সুযোগ পান। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ব্যাচের নিয়মিত ক্লাস আগামী জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হবে। মানসম্মত ও মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে, যার প্রতিফলন এই কিডস কার্নিভালের প্রতিটি আয়োজনে ফুটে উঠেছে।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য ছিল জাদুকরী ম্যাজিক শো এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্রি-প্লে সেশন। এ ছাড়াও একটি বৈচিত্র্যময় ‘ফুড কার্নিভাল’ শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য খাবারের সুস্বাদু অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ইস্পাহানি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড প্রাইমারি স্কুল এই সফল আয়োজনের সমাপ্তি টানে। অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি কার্নিভালটিকে সার্থক করে তোলে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রেরণা জোগাবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুই দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার ২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। আজ ৭ মে অনুষ্ঠিত মেলার সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং করপোরেট জগতের সঙ্গে তাঁদের একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করা।
সমাপনী অধিবেশনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞান সঞ্চালনের মাধ্যমে দেশের জনগোষ্ঠীর মাঝে ঐক্য সৃষ্টিতে অনন্য ভূমিকা পালন করে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশ থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা অবৈধভাবে পাচার হওয়ার কারণে জাতীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের বীর যোদ্ধাদের, বিশেষ করে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তিনি দেশ পুনর্গঠনে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র সরকারের একার পক্ষে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পরিবর্তনের লক্ষে একযোগে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম। এতে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট টিএম আসাদুজ্জামান। বক্তারা শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
এবারের জব ফেয়ারে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল, ওষুধ শিল্প, টেলিকম এবং রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন খাতের মোট ৫৫টি বহুজাতিক ও দেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। মেলা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি চাকরিপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছে এবং তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের প্রাথমিক নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দুই দিনের এই কর্মসূচিতে দুটি বিশেষ ক্যারিয়ার সেমিনার ও বেশ কয়েকটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে শিল্প বিশেষজ্ঞরা পেশাদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম মোফাজ্জল হোসেনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সমাপনী আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই আয়োজনটি চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপনের একটি অত্যন্ত কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। সফল এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে উচ্চশিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচবে এবং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে বলে আয়োজকরা বিশ্বাস করেন।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) পেঁয়াজ ও সরিষার উৎপাদন এবং গুণাগুণ বৃদ্ধিতে সিলিকন প্রযুক্তির কার্যকর ভূমিকা শীর্ষক এক গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে বিএএস-ইউএসডিএ-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা জানান, সিলেট অঞ্চলের অম্লীয় মাটির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সিলিকন প্রযুক্তির ব্যবহার পেঁয়াজ ও সরিষার ফলন বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিকৃবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ায় আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। তিনি উল্লেখ করেন যে, পেঁয়াজ দেশের একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলা জাতীয় ফসল হওয়া সত্ত্বেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আমদানি করতে হয়। সিলিকন প্রযুক্তির মাধ্যমে পেঁয়াজ ও সরিষা চাষের সম্প্রসারণ ঘটলে আমদানি ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি পতিত জমির সঠিক ব্যবহার ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
গবেষণা কার্যক্রম ও ফলাফল উপস্থাপনকালে প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: কামরুল হাসান এবং সহ-প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো: শাহাদৎ হোসেন জানান, সিলেট অঞ্চলের মাটি অম্লীয় প্রকৃতির হওয়ায় এখানে সাধারণত পেঁয়াজ ও সরিষার আবাদ কম হয়। তবে তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুই ফসলে সিলিকন ব্যবহারের ফলে গাছের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে এই প্রযুক্তি পেঁয়াজের আগাম পরিপক্বতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংগ্রহের পরবর্তী সময়ে বাল্বের সংরক্ষণক্ষমতা বৃদ্ধি করে পচন রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সিলিকন ব্যবহারের ফলে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ফসলের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে। এই গবেষণা প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে এই প্রযুক্তির সফল প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে তেলের চাহিদা পূরণে সরিষা এবং মসলার সংকট নিরসনে পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা আরও আগ্রহী হবেন। এর ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ফসল অন্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সাউরেসের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুল ইসলাম ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষকবৃন্দ এবং স্থানীয় কৃষকরা অংশ নেন। কর্মশালার সমাপনীতে উপস্থিত সকলে মাঠ পর্যায়ে এই আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।