ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে কৃষি খাতে সহায়তা দেয়ার জন্য অ্যাগ্রো-সিএসআর প্রকল্প-২০২৩ ‘ভরসার নতুন জানালা’ প্রকল্পের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের নিহাল পার্কে দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ জেলার কৃষি উদ্যোক্তাদের নিয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রশিক্ষণে কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার প্রায় ৩৭০ জন কৃষি উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলএসসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি এ টি এম তাহমিদুজ্জামান বলেন, ‘‘বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরাই প্রথম কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি ও প্রণোদনা সৃষ্টি প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় হাজির হয়েছি। কৃষক যাতে খুব সহজে ও সহজশর্তে ঋণ গ্রহণ করে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারেন, ওই চেষ্টায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য আমরা আমাদের প্রকল্পের নাম দিয়েছি ‘ভরসার নতুন জানালা’। আমরা মূলত প্রান্তিক কৃষকদের মনে ভরসা জাগাতে চাই।
এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা কাজ করছি।’’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলএসসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম ভুঁইয়া, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও কৃষিতথ্য বিশ্লেষক রেজাউল করিম সিদ্দিক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র বণিক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান, কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মইনুল ইসলাম ইউসিবির জেলা শাখার ব্যবস্থাপক এস এম ওলি আহাদসহ ইউসিবির কর্মকর্তারা।
একই দিন নরসিংদী জেলার সমবায় আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জেলার ৬টি উপজেলার প্রায় ২৬০ জন কৃষি উদ্যোক্তাকে নিয়ে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে সহজশর্তে কৃষিঋণ বিতরণ ও কৃষি প্রণোদনা সহায়তা দেয়ার পথপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের জেলা শাখার ব্যবস্থাপক কাজী মনির হোসেন। বিজ্ঞপ্তি
উল্লেখ্য, ‘ভরসার নতুন জানালা’ নামক কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় নির্বাচিত প্রায় ১৭ হাজার কৃষি উদ্যোক্তাকে নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণে সহজ শর্তের কৃষিঋণ বিতরণ ও কৃষি প্রণোদনা সহায়তা প্রদানের পথপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া উন্নত ও সমৃদ্ধ কৃষির বিকাশে সহজশর্তে ও মানবিক অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করার উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তাদের নতুন হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য নিয়ে এসেছে। এ উপলক্ষে ‘শাওমি স্মার্ট লিভিং ফর এভরিওয়ান’ থিমে আজ (০৪ মে) ঢাকার বনানীতে অবস্থিত শেরাটনে জমকালো এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডটি স্মার্টফোনের নেতৃস্থানীয় জায়গা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট লাইফস্টাইল ইকোসিস্টেম নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলো।
স্মার্টফোন ও এআইওটি (এআই অব থিংস) উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত শাওমি বাংলাদেশের হোম ও লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। যেন স্মার্ট ও কানেক্টেড লাইফস্টাইলের বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণ করা যায়। চীনা গ্লোবাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমি বর্তমানে ১ নম্বরে রয়েছে এবং ১০০ কোটিরও (১ বিলিয়ন) বেশি কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে বিশ্বজুড়ে কনজ্যুমার এআইওটি মার্কেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়াও, স্মার্টফোন খাতে শাওমি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ব্র্যান্ড এবং ২০২৫ সালে শাওমি টিভি বৈশ্বিক শিপমেন্টে শীর্ষ ৫-এ অবস্থান করেছে। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ড ও স্মার্ট ইকোসিস্টেমের প্রতি ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বোঝা যায়।
বৈশ্বিক এই লক্ষ্যকে স্থানীয়ভাবে কাজে লাগানোর অংশ হিসেবে, শাওমি এখন স্মার্ট হোম কেয়ার সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে। ব্র্যান্ডটি মিজিয়া ফ্রন্ট লোড ওয়াশার ড্রায়ার ১০.৫ কেজি নিয়ে এসেছে, যার দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৭৪,৯৯৯ টাকা। ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই অ্যাপ্লায়েন্সের মাধ্যমে মাত্র ৫৯ মিনিটেই কাপড় ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের জন্য আদর্শ সমাধান এটি।
ক্রেতাদের জন্য শাওমি টিভি এস মিনি এলইডি সিরিজে কিউডি-মিনি এলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ব্যবহারকারীদের জন্য সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করতে রয়েছে ১২০০ নিটস ব্রাইটনেস, ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট, ডলবি ভিশন ও ডলবি অ্যাটমোস। এর ৯৮” ভ্যারিয়েন্টের দাম মাত্র ৪,৯৯,৯৯৯ টাকা, ৮৫” মাত্র ২,৪৫,৯৯৯ টাকা, ৭৫” মাত্র ১,৭৯,৯৯৯ টাকা, ৬৫” মাত্র ১,৩৯,৯৯৯ টাকা এবং ৫৫” মাত্র ১,০৩,৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একইসাথে, বিনোদন খাতে আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬ নিয়ে এসেছে ব্র্যান্ডটি। শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬-এ ৪কে ইউএইচডি ডিসপ্লে, প্রাণবন্ত ভিজ্যুয়াল ও স্মার্ট বিনোদনের জন্য গুগল টিভি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ৭৫” ভ্যারিয়েন্টের দাম মাত্র ১,৫৩,৯৯৯ টাকা, ৬৫” মাত্র ১১৪,৯৯৯ টাকা, ৫৫” মাত্র ৮৪,৯৯৯ টাকা এবং ৪৩” মাত্র ৫২,৯৯৯ টাকা।
এছাড়াও, ব্র্যান্ডটি বেশকিছু লাইফস্টাইল-ভিত্তিক পণ্য নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫ ও ৬ লিটার, স্মার্ট এয়ার পিউরিফায়ার ৪ কম্প্যাক্ট ও লাইট, শাওমি স্মার্ট ক্যামেরা সি২০১ ও সি৩০১, আউটডোর স্মার্ট ক্যামেরা এবং শাওমি স্মার্ট ট্যাগ। পণ্যগুলো নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিদিনের সুবিধাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতে শাওমির শক্তিশালী বৈশ্বিক অবস্থান রয়েছে। আমরা সেই একই মানের উদ্ভাবন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে আসছি। আজকের ক্রেতারা কেবল আলাদা আলাদা গ্যাজেট নয়, বরং এমন প্রযুক্তি চান যা তাদের প্রতিদিনের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। আমাদের ‘হিউম্যান × হোম × কার’ ভিশনের মাধ্যমে আমরা একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেন আমরা ‘গ্লোবাল হার্ডকোর টেক পার্টনার’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। মিনি এলইডি টিভি থেকে শুরু করে স্মার্ট লন্ড্রি ও ট্র্যাকিং সল্যুশন, সবকিছুতেই আমরা ক্রেতাদের জন্য স্মার্ট লিভিংকে আরও সহজ ও সাবলীল করতে চাই।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পণ্য প্রদর্শনী, মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশন ও পণ্য সম্পর্কে সরাসরি জানাশোনার গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল। হোম অ্যাপ্লায়েন্স সেগমেন্টে আসার মধ্য দিয়ে শাওমি বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট লিভিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিই পুনর্ব্যক্ত করলো, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্য ও সর্বোচ্চ মানের পণ্য নিশ্চিত করা হবে।
ন্যাশনাল ফাইন্যান্স পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদে রিজওয়ান মান্নান ও মাইশা ফারিজমা খান নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
রিজওয়ান মান্নান বর্তমানে ওএমসি স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ওএমসি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা দক্ষতার পাশাপাশি কর্পোরেট গভর্ন্যান্সে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হIল থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনাকরেছেন।
মাইশা ফারিজমা খান অনন্ত কোম্পানিজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও পোশাক খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম, কর্পোরেট কমিউনিকেশন ও গভর্ন্যান্সে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কমিউনিকেশনসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই দুই পরিচালকের অভিজ্ঞতা পর্ষদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।
পায়োনীয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) গত ৪ মে সোমবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কোম্পানির ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আর্থিক ফলাফলের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩৮৭.৬২ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে এবং কর পরিশোধের পর ৪৪.৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার বণ্টনের প্রস্তাবসহ অন্যান্য আলোচ্যসূচি অনুমোদিত হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত থাকা শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির এই সামগ্রিক আর্থিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনলাইন এই সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এম আনিস উদ দৌলা, সাঞ্চিয়া চৌধুরী, মুনিজে মঞ্জুর, সিলভানা সিকদার, মুনসুরা রহমতউল্লাহ, শাহানা রহমতউল্লাহ, আনিকা চৌধুরী, এম এ মাজেদ, পারভীন আক্তার, রোজিনা আফরোজ, শফিকুল ইসলাম খান এবং শেখ মোহাম্মদ সেলিমউল্লাহ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান ও কোম্পানি সচিব ইমরান হাসানসহ সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জাকির আহমেদ খান সকল শেয়ারহোল্ডারকে তাঁদের অকুন্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও শ্রমের প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনগুলোতেও এই কর্মস্পৃহা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ প্রাইম একাডেমিয়ার আওতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স) এবং ইউনিভার্সিটির ‘ক্যারিয়ার ক্লাব’-এর সহযোগিতায় “ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন: এনগেজিং অ্যান্ড ইনস্পায়ারিং ইয়ুথ ইন ব্যাংকিং” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ ইনফরমেশন অফিসার সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে তরুণদের ক্যারিয়ার গঠন, গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব লায়্যাবিলিটি অ্যান্ড উইমেন ব্যাংকিং শায়লা আবেদীন নৈতিক নেতৃত্ব, পরিস্থিতি বুঝে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে নারীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এম এম মাহবুব হাসান তরুণদের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা ও অর্থ ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি প্রাইম ব্যাংকের গত ৩১ বছরের পথচলায় অর্জিত সাফল্য ও উদ্ভাবনী উদ্যোগসমূহ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জুলহাস উদ্দিন, যিনি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন বুটেক্সের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান।
এই সেমিনারের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক প্রাইমএকাডেমিয়ার মাধ্যমে তরুণদের আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে একাডেমিয়া ও বাস্তবমুখী ব্যাংকিং সেবার মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার-এর মধ্যে সম্প্রতি একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্ড বিজনেস ডিভিশনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির ফলে পূবালী ব্যাংকের গ্রাহকরা আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও ছাড় পাবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংকের কার্ড বিজনেস প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক এনএম ফিরোজ কামাল এবং নভোএয়ার-এর মার্কেটিং ও সেলস ডিরেক্টর সোহেল মজিদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং কার্ড মার্কেটিং প্রধান ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুল্লাহ খানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এই সমঝোতার আওতায় পূবালী ব্যাংকের কার্ডধারীদের জন্য টিকিট ক্রয়ে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পূবালী মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা নভোএয়ার-এর মোবাইল অ্যাপ এবং সেলস কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি পূবালী ব্যাংকের অন্যান্য সকল কার্ডধারীদের জন্য থাকছে ১০ শতাংশ মূলছাড়ের সুবিধা।
এনসিসি ব্যাংক সম্প্রতি প্রধান কার্যালয়ের নারী কর্মীদের জন্য ‘মাইন্ড ম্যাটারস: ওয়ার্কপ্লেস মেন্টাল হেলথ টক ফর উইমেন’ শীর্ষক একটি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করেছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. নাসিম জাহান। তিনি কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক যেমন—মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, আবেগীয় স্থিতিস্থাপকতা এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করেন।
এছাড়া, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ডিএএসএস (ডিপ্রেশন অ্যাংজাইটি স্ট্রেস স্কেল) এবং পিএইচকিউ (পেশেন্ট হেলথ কোয়েশ্চেনিয়ার) এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন টুলসের সঙ্গে পরিচিত করা হয়। এসব টুলস অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হতে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে। এনসিসি ব্যাংকের ইভিপি ও হেড অব সাসটেইনেবল অ্যান্ড উইমেন্স ব্যাংকিং নিঘাত মমতাজ এই কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন।
ব্যাংকের ১৪২ জন নারী কর্মকর্তা সরাসরি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন শাখার নারী কর্মকর্তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এতে যুক্ত হন। বর্তমানে পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাংকের এ ধরনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণকারীরা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) পদে যোগ দিয়েছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এর আগে তিনি দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসবিএসি ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ১৯৯৪ সালে আইএফআইসি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং সেখানে আট বছরের বেশি কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে যোগ দেন। এখানে ২০ বছর কর্মরত ছিলেন। এ সময় প্রিন্সিপাল ও ধানমণ্ডি শাখার ব্যবস্থাপক এবং ফরেন ট্রেড সার্ভিসেস ডিভিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংকে ডিএমডি পদে যোগ দেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দীর্ঘ ৩২ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী পরিকল্পনা প্রণয়ন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্পদের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান উল্লেখযোগ্য। ব্যাংকিং খাতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং একাধিকবার সেরা ব্যবস্থাপকের সম্মাননা পেয়েছেন।
ব্যাংকিং খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের লক্ষ্যে সিটি ব্যাংক এবং হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড বাংলাদেশ (এইচএসবিসি) একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীনে সিটি ব্যাংক এইচএসবিসি ব্যাংককে তাদের এমপ্লয়ি ব্যাংকিং সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।
সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসেন খালেদের উপস্থিতিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব উর রহমান। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি সইকালে সিটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ইকোনমিস্ট আশানুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান অরূপ হায়দার এবং এমপ্লয়ি ব্যাংকিং প্রধান হাসান উদ্দিন আহমেদ। এক বিজ্ঞপ্তি সূত্রে এই কৌশলগত চুক্তির তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। উভয় ব্যাংক মনে করছে, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে ‘কমিউনিটি এডুসুইট ৩৬০’—একটি আধুনিক, উদ্ভাবনী ও সমন্বিত স্কুল ব্যাংকিং সমাধান; যা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক, প্রশাসনিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরে এই সেবাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র চেয়ারম্যান জনাব মো. আলী হোসেন ফকির।
শিক্ষা খাতে উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কমিউনিটি ব্যাংক তৈরি করেছে ‘কমিউনিটি এডুসুইট ৩৬০’—একটি পূর্ণাঙ্গ এন্ড-টু-এন্ড ব্যাংকিং ও সেবা প্ল্যাটফর্ম। এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থী কল্যাণের বিভিন্ন চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। সমন্বিত এই সেবা প্যাকেজ প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা উন্নয়ন, অভিভাবকদের জন্য সহজ সেবা নিশ্চিতকরণ এবং পুরো স্কুল ইকোসিস্টেমে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন—জনাব এ. কে. এম. আওলাদ হোসেন, অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিন), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মো. আকরাম হোসেন, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি (ফিন্যান্স), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মো. শিবগাত উল্লাহ, বিপিএম (সেবা), পিপিএম, অ্যাডিশনাল আইজি (ডেভেলপমেন্ট), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব সরদার নূরুল আমিন, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কাজী মো. ফজলুল করিম, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি অ্যান্ড রেক্টর, পুলিশ স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কামরুল আহসান, ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মুনতাসিরুল ইসলাম, পিপিএম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (হাইওয়ে পুলিশ), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব আহমেদ মুঈদ, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কামরুল হাসান তালুকদার, ইন্সপেক্টর, বাংলাদেশ পুলিশ; ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব সৈয়দ রফিকুল হক, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন এফসিএ, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব কিমিয়া সাআদাত, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং কোম্পানি সচিব জনাব সাইফুল আলম এফসিএসসহ অন্যরা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা যারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালে অর্জিত মুনাফার ওপর ভিত্তি করে লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি। পূর্ববর্তী বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এই বছরও লভ্যাংশ প্রদানের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৫২তম সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়।
ডিভিডেন্ড ঘোষণার পাশাপাশি উক্ত সভায় গত বছরের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিগত ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই সভাটি সম্পন্ন হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। এছাড়া সভায় অংশ নেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক মোর্শেদ, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয় এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব।
সীমান্ত ব্যাংক পিএলসিতে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন আবুল কাশেম মো. শিরিন ও ব্যারিস্টার শাহ্ওয়ার জামাল নিজাম। ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিজ্ঞ ব্যাংকার আবুল কাশেম মো. শিরিন প্রায় এক দশক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ২০০৩ সালে ইভিপি হিসেবে ব্যাংকটিতে যোগ দেন।
তার নেতৃত্বে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ এটিএম/পিওএস, কার্ড, মোবাইল অ্যাপ, এমএফএস ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক স্থাপন করে।
এর আগে আবুল কাশেম মো. শিরিন বেসিক ব্যাংকে ডিজিএম ও হেড অব আইটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনে সহকারী প্রকৌশলী (কম্পিউটার প্রোগ্রামার) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
আবুল কাশেম মো. শিরিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ব্যাংকক থেকে যথাক্রমে স্নাতক ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
অন্যদিকে ব্যারিস্টার শাহ্ওয়ার জামাল নিজাম ২০০১ সালে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কোম্পানি ল চেম্বার ‘আর্সকিন চেম্বারস’-এ পিউপিল ব্যারিস্টার হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। ২০০২ সালে দেশে ফিরে এসে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে কাজ শুরু করেন।
শাহ্ওয়ার জামাল নিজাম ২০০৪ সালে সিটি ব্যাংক এনএ-তে লিগ্যাল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন।
২০০৭ সালে তিনি সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক ল ফার্ম অ্যাশার্স্ট অ্যান্ড ডুয়েন মরিসে কাজ শুরু করেন। ২০১১ সালে আবারো দেশে ফিরে এসে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে বিশেষায়িত ল’ ফার্ম ডিএফডিএল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন।
শাহ্ওয়ার জামাল নিজাম ১৯৯৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড, ইউকে থেকে করপোরেট ও বাণিজ্যিক আইনের ওপর বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন।
তিনি ২০০০ সালে সোসাইটি অব সোসাইটি অব লিঙ্কন’স ইন থেকে ডাক পেয়ে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস বারের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এছাড়া ২০০১ সালে কুইন ম্যারি কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং লর ওপর এলএলএম সম্পন্ন করেন।
দেশের অন্যতম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এবং স্বনামধন্য শিল্প গোষ্ঠী আকিজ রিসোর্স-এর মধ্যে একটি ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার (৩ মে) রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত আইএফআইসি টাওয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চূড়ান্ত করা হয়। এই চুক্তির ফলে আকিজ রিসোর্স এখন থেকে তাদের দেশব্যাপী ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে আইএফআইসি ব্যাংকের বিশেষায়িত আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা এবং ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই চুক্তিতে আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস অ্যান্ড হেড অব অপারেশন্স হেলাল আহমেদ। অন্যদিকে আকিজ রিসোর্স-এর প্রতিনিধিত্ব করেন এবং চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির রিপ্রেজেনটেটিভ ডিরেক্টর ও গ্রুপ কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রুহুল ইসলাম।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আইএফআইসি ব্যাংক তার দেশব্যাপী বিস্তৃত ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আকিজ রিসোর্সকে সর্বাধুনিক ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সেবা প্রদান করবে। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ও অফলাইন সমাধান নিশ্চিত করা হবে। মূলত বড় আকারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দৈনিক লেনদেন এবং নগদ প্রবাহকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। এটি আকিজ রিসোর্সের আর্থিক তারল্য ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এই অংশীদারিত্বের ফলে আকিজ রিসোর্সের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক আর্থিক কার্যক্রম আরও সহজ, গতিশীল এবং সময়সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে আইএফআইসি ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম এবং আকিজ রিসোর্সের চিফ ট্রেজারি অফিসারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই চুক্তিটি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও কার্যকরী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।
আইএফআইসি ব্যাংক দীর্ঘ দিন ধরে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করে আসছে। আকিজ রিসোর্সের মতো একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সাথে এই চুক্তি ব্যাংকিং খাতে বিশেষায়িত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আইএফআইসি ব্যাংকের সক্ষমতারই প্রতিফলন। উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, এই কৌশলগত সমঝোতা দেশের সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি শক্তিশালী ও আধুনিক মানদণ্ড তৈরি করতে সহায়ক হবে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১ হাজার ৭৩০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ১৭৩ টাকা লভ্যাংশ পাবেন। রোববার (৩ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ প্রকাশের পাশাপাশি এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার লভ্যাংশের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর আগের অর্থাৎ ২০২৪ হিসাব বছরে রেকিট বেনকিজার তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মোট ৩ হাজার ৩০০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ৩৩০ টাকা নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছিল। যদিও গত বছরের তুলনায় এবার লভ্যাংশের পরিমাণ কমেছে, তবুও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বড় অংকের লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি তাদের শীর্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৭২ টাকা ৯৩ পয়সা। গত ২০২৪ হিসাব বছরে তাদের ইপিএস ছিল ১৫৯ টাকা ১৭ পয়সা। অর্থাৎ বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানিটি গত বছরের চেয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ ছাড়া ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮৭ টাকা ৫৮ পয়সায়। ঘোষিত এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটি শীঘ্রই বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) সময়সূচি ও রেকর্ড ডেট ঘোষণা করবে।
বার্ষিক প্রতিবেদনের পাশাপাশি চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে রেকিট বেনকিজার। বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২৩ টাকা ২৬ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩২ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ বছরের শুরুতেই কোম্পানিটির মুনাফায় কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে চলতি বছরের ৩১ মার্চ শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ২১০ টাকা ৮৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য এমন বড় অংকের লভ্যাংশ ঘোষণা রেকিট বেনকিজারের শক্তিশালী আর্থিক সক্ষমতারই পরিচয় দেয়। বহুজাতিক এই কোম্পানিটি নিয়মিতভাবে তাদের লভ্যাংশের একটি বড় অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বণ্টন করে থাকে। প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বার্ষিক আয় এবং সম্পদমূল্য বৃদ্ধির তথ্য বিনিয়োগকারীদের মাঝে কোম্পানিটি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। এখন চূড়ান্ত লভ্যাংশ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।