দেয়াল, গাড়ি ও কাঠের সর্বোচ্চ সুরক্ষায় তিন ক্যাটাগরিতে ১১টি নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে এসেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপের জনপ্রিয় রঙের ব্র্যান্ড ‘রেইনবো পেইন্টস’। এর মধ্যে ডেকোরেটিভ পেইন্ট ক্যাটাগরিতে ৬টি, উড কোটিং পেইন্ট ক্যাটাগরিতে ৪টি এবং কার পেইন্ট ক্যাটাগরিতে ১টি পণ্য রয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর বাড্ডার একটি হোটেলে নতুন ১১টি পণ্যের উদ্বোধন করেন আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল। ডেকোরেটিভ পেইন্ট ক্যাটাগরির ৬টি নতুন পণ্যের মধ্যে ৪টি হলো ড্যাম্প সিরিজের। পণ্যগুলো হলো ড্যাম্প প্রটেক্টর প্রাইমার, ড্যাম্প প্রটেক্টর হাই বিল্ড পাট্টি, ড্যাম্প প্রটেক্টর টপ কোট-ওয়ান স্টপ, ড্যাম্প প্রটেক্টর টপ কোট- সুপ্রিম। বাকি দুটো পণ্য হলো ওয়েদার কেয়ার ডার্ট গার্ড লং লাইফ ও ফেদার সিল্ক মেটালিক ফিনিশ। উড পেইন্ট ক্যাটাগরির ৪টি নতুন পণ্য হলো উড কেয়ার ফিলার, উড কেয়ার সিলার, উড কেয়ার স্টেইন ও উড কেয়ার টপ কোট। অন্যদিকে কার পেইন্ট ক্যাটাগরিতেও সাকা এনসি পেইন্ট বাজারে এসেছে। অনুষ্ঠানে আর এন পাল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের রং উৎপাদন করে বাজারজাত করায় অল্প সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। নতুন পণ্যের মাধ্যমে ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, রেইনবো পেইন্টসের নতুন পণ্যগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রেতারা দেয়াল, গাড়ি ও কাঠের সুরক্ষায় ভালো সমাধান পাবেন।’
নতুন পণ্যের বিষয়ে রেইনবো পেইন্টসের নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, ‘ড্যাম্প ও নোনা বিল্ডিংয়ের ক্ষতিসাধন করে। ফলে বিল্ডিংয়ের স্থায়িত্ব কমে যায়। ড্যাম্প সিরিজের পণ্য বাজারে আনা হয়েছে বিল্ডিংয়ের ভেতর ও বাহিরের দেয়ালকে ড্যাম্প ও নোনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য। এ ছাড়া ধুলা-ময়লা ও ডাস্ট বিল্ডিংয়ের ক্ষতিসাধন করে, ফলে বিল্ডিংয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। ডেকোরেটিভ ক্যাটাগরির নতুন পণ্য ওয়েদার কেয়ার ডার্ট গার্ড লং-লাইফ বিল্ডিংয়ের বাহিরের দেয়ালকে ধুলা-ময়লা ও ডাস্ট থেকে রক্ষা করে বিল্ডিংয়ের সৌন্দর্যকে অটুট রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাঠ, ভিনিয়ার ও এমডিএফ বোর্ডের তৈরি ফার্নিচার রং করার জন্য চারটি নতুন পণ্য বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ছাড়া অটো-রিফিনিশের ইকোনমিক সল্যুশন হিসেবে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করতে ওসাকা এনসি পেইন্ট বাজারে আনা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে রেইনবো পেইন্টসের জেনারেল ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) সালেহ আহম্মদ চৌধুরী, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মো. সোহেল রানা, হেড অব সেলস শাহজাহান সানী ও হেড অব মার্কেটিং মো. নাজমুল হকসহ রেইনবো পেইন্টসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি
অনলাইন ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ টানা চতুর্থবারের মতো তাদের জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ আয়োজন ‘গ্র্যান্ড ইফতার বাজার’ শুরু করেছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বনানীর সোয়াট ফিল্ডে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বারীন রেজা এবং জুবায়ের বি এ সিদ্দিকী।
উৎসবমুখর পরিবেশে পুরান ও নতুন ঢাকার বিখ্যাত সব ইফতার সামগ্রী একই স্থানে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের আয়োজনে বিউটি লাচ্ছি ও ফালুদা, হাজী বিরিয়ানি, মুসলিম সুইটস, মাস্টারশেফ সুবরাত আলীসহ নামকরা সব রেস্টুরেন্ট অংশগ্রহণ করেছে। গ্রাহকরা সরাসরি বনানীর ভেন্যুতে বসে ইফতার করার পাশাপাশি ফুডপ্যান্ডা অ্যাপের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি বা পিকআপের সুবিধাও গ্রহণ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বারীন রেজা বলেন, “বাংলাদেশে বড় হওয়ার সুবাদে রমজান আমার কাছে সব সময়ই একটা উৎসব। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে ইফতার তৈরিতে সাহায্য করা, আর বাবার সঙ্গে দোকান থেকে প্রিয় জিলাপি, হালিম, ঘুগনি আর রোল কিনে আনার কথা এখনও খুব করে মনে পড়ে। এই সাধারণ পারিবারিক রীতিগুলোই রমজান মাসটিকে আমার কাছে বিশেষ করে তুলত। সময়ের সঙ্গে ঢাকার জীবনযাত্রা বদলেছে। ব্যস্ত সড়ক, দীর্ঘ যানজট আর ব্যস্ত নাগরিক জীবনের বাস্তবতায় প্রতিদিন বিভিন্ন জনপ্রিয় জায়গায় গিয়ে ইফতার কেনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আবার পরিবারের সঙ্গে সেই আগের মতো ইফতার প্রস্তুতির সময়ও অনেকের হাতে থাকে না। এই প্রেক্ষাপটে গ্র্যান্ড ইফতার বাজারের চতুর্থ আয়োজন শুরু করছি আমরা। গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আমরা জনপ্রিয় সব রেস্টুরেন্টকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছি। আমাদের এ আয়োজনে ডাইন ইন, পিকআপ এবং ঘরে বসে অর্ডার করার ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা চাই আমাদের গ্রাহকদের ইফতারের আয়োজন হোক সহজ, আনন্দময় ও তৃপ্তিদায়ক। আমাদের এই আয়োজন গ্রাহকদের ভালো লাগবে এবং সবার রমজান বরকতময় হবে এটাই প্রত্যাশা।”
একই প্রসঙ্গে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুবায়ের বি এ সিদ্দিকী বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ইফতার মানেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আর সবার সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ।। ইফতার আমাদের জীবনের নানা প্রাপ্তির কথাও মনে করিয়ে দেয়। গত কয়েক বছরে গ্র্যান্ড ইফতার বাজার অভিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এক জায়গায় মিলিত হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। চতুর্থ বছরেও আমাদের চেষ্টা থাকবে বিশেষ এই মাসে যাতে আমাদের ঐতিহ্য আর সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত হয়।” এবারের আয়োজনে পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং সহযোগী পার্টনার হিসেবে কোকাকোলা, ডেটল ও হারপিকসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। বনানীর সোয়াট ফিল্ডের এই ইফতার বাজারটি পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিন পর্যন্ত নিয়মিত চলবে।
ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেড-এর আসন্ন নির্বাহী কমিটি নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ব্যাংকার্স ঐক্য পরিষদ প্যানেলের পরিচিতি সভা ও ইফতার মাহফিল আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩:৩০ মিনিটে রাওয়া কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ রাশেদ আকতার, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী সুবীর কুমার কুন্ডু, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ মোফাজ্জল মামুন খান ও শফিকুল ইসলাম ফকির পিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রশীদ-উন-নবী সহ বিভিন্ন পদপ্রার্থীরা উপস্থিত থেকে ক্লাব সদস্যদের সামনে নিজেদের পরিচয় ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তাঁরা ক্লাবের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সদস্যকল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (AMD), উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (DMD) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের চারজন বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটার— গাজী আশরাফ হোসেন লীপু, হাবিবুল বাশার সুমন, খালেদ মাসুদ পাইলট ও হাসিবুল হোসেন শান্ত। তাঁরা ভবিষ্যতেও ব্যাংকার্স ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ব্যাংকারদের ক্রীড়া কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত সম্মানিত ক্লাব সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
প্যানেলের পক্ষ থেকে ক্লাবের ঐক্য সুদৃঢ়করণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সদস্যদের জন্য আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে ক্যাম্পাসে নির্মিত ‘শহীদ মিনার’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পরবর্তীতে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং ভাষা আন্দোলন ও বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমেদ সোবহানী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজনের আহ্বায়ক ও ফার্মেসি বিভাগের প্রধান ড. আবু বিন ইহসান। এছাড়া রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মো. মাহফুজুর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. মো: আবদুল্লাহ আল হুমায়ুন এবং ইংরেজি বিভাগের প্রধান মো: রফিউজ্জামান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব, বাংলার ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং ভাষাগত বৈচিত্র্য ও ঐক্যের প্রচার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব এবং এর মধ্য দিয়ে অর্জিত বিভিন্ন সাফল্য সভায় তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন আইন বিভাগের প্রভাষক মো: ওমর ফারুক। স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড প্লেসমেন্টের উপ-পরিচালক কে. এম. মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন করেছে সোনালী ব্যাংক পিএলসি। ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির এমডি অ্যান্ড সিইও মো. শওকত আলী খান।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরবৃন্দ, জেনারেল ম্যানেজারবৃন্দ ও অন্যান্য নির্বাহীবৃন্দের পাশাপাশি জিয়া পরিষদ, সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়ীজ এসোসিয়েশন ও জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি এদিন দেশব্যাপী সোনালী ব্যাংক পিএলসির সকল কার্যালয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে জনতা ব্যাংক পিএলসি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহঃ ফজলুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মজিবর রহমানের নেতৃত্বে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল মজিদ শেখ ও মোঃ ওবায়দুল হক এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফয়েজ আলমসহ সকল স্তরের নির্বাহী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন করেছে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)।
শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি বিএইচবিএফসি সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে অবস্থিত নিজস্ব শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বিএইচবিএফসি’র পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব এ এস এম আব্দুল হালিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ নূর আলম সরদার সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপকবৃন্দ এবং ঢাকা সিটির জোনাল ও শাখা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সদর দপ্তরের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোও স্থানীয় পর্যায়ে একইভাবে বিনম্র শ্রদ্ধায় দিবসটি পালন করে।
বাংলাদেশে নারী অধিকার রক্ষা এবং নারীর নেতৃত্ব বিকাশে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। ‘রিনিউড ওমেনস ভয়েস অ্যান্ড লিডারশিপ’ (আরডাব্লিউভিএল) প্রকল্পের অধীনে আজ বৃহস্পতিবার দেশের ২২টি গুরুত্বপূর্ণ নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠনের (ডাব্লিউআরওএস) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সংস্থাটি। রাজধানীর একটি অভিজাত মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রায় তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। মূলত প্রথম পর্যায়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই নবায়িত উদ্যোগটি এখন থেকে আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশব্যাপী কাজ করবে।
এই বিশেষ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী আলোচনায় নারী নেতৃত্বাধীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে জেন্ডার সমতা আনয়ন এবং নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের নারী আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার অজিত সিং তাঁর মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নারীর নেতৃত্ব ও অন্তর্ভুক্তি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিনিউড ওমেনস ভয়েস অ্যান্ড লিডারশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূলের ২২টি সংগঠনের সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক এই যাত্রায় কানাডা সরকার অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। হাই কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্ম-উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বরকে জোরালো করতে এই ধরনের উদ্যোগ সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
স্বাগত বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম প্রকল্পটি পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। আজকের এই চুক্তির মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে ২২টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁরা এই অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশের নারী অধিকার আন্দোলনের জন্য এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। বক্তারা পরিশেষে উল্লেখ করেন যে, নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার রক্ষা কেবল কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের কাজ নয়, বরং এর জন্য সরকার, এনজিও এবং তৃণমূল সংগঠনগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। আরডাব্লিউভিএল প্রকল্পটি সেই দীর্ঘস্থায়ী সমন্বয় ও লক্ষ্য অর্জনে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর নির্বাহী কমিটির ৯১৩তম সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ের পর্ষদ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান জনাব মো. সানাউল্লাহ সাহিদ। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ব্যাংকের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বিভিন্ন কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে মূলত দেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থায়ন এবং সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা নিয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা শরিয়াহ নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে বিনিয়োগের মান উন্নয়ন এবং গ্রাহক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় জানানো হয় যে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাংকটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সভায় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জনাব খন্দকার শাকিব আহমেদ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া পর্ষদ পরিচালক ও কমিটির সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ, জনাব আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা, প্রকৌশলী জনাব মো. তৌহীদুর রহমান, জনাব ফকির আখতারুজ্জামান এবং জনাব আবদুল হাকিম সভায় উপস্থিত থেকে তাঁদের সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন। শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি সভার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক নির্দেশনার জন্য সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ। পর্ষদ সচিবালয়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব এ এইচ এম আশরাফ উদ্দিন। সভায় ব্যাংকের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও শক্তিশালী করা এবং আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সভার সিদ্ধান্তগুলো ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাকে আরও আনন্দময় এবং সাশ্রয়ী করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পুরো রমজান মাসজুড়ে দেশের নামী সুপারস্টোরগুলোতে বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটা করে গ্রাহকরা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক সুবিধা ভোগ করতে পারছেন। গ্রোসারি বা কাঁচাবাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন নামী ফ্যাশন ব্র্যান্ড, বেকারি, ইফতার বাজার, ইলেকট্রনিক্স এবং রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই আকর্ষণীয় অফারগুলো চালু করা হয়েছে। মূলত ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করা এবং উৎসবের মৌসুমে গ্রাহকদের আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।
সুপারস্টোরে কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বড় ডিসকাউন্ট সুবিধা। আগোরা, ইউনিমার্ট, মিনা বাজার, প্রিন্স বাজার এবং হোলসেল ক্লাবের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় চেইন শপগুলোতে এই অফারটি পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপে ‘D2’ কুপন কোড ব্যবহার করে ন্যূনতম ১,৫০০ টাকার কেনাকাটা করলেই এই ছাড়ের সুযোগ পাবেন। অফার চলাকালীন একজন গ্রাহক দিনে একবার ১০০ টাকা করে মোট পাঁচবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পেতে পারেন। তবে প্রতিবার পেমেন্টের আগে কুপনটি পুনরায় যোগ করে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ক্রেতারা তাঁদের মাসিক বাজারের খরচে বড় একটি অংশ সাশ্রয় করতে পারবেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ সুপারস্টোর স্বপ্ন (Shwapno) এবং ডেইলি শপিং-এর গ্রাহকদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা। এই দুই প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় গ্রোসারি কেনাকাটায় গ্রাহকরা ‘D3’ কোড ব্যবহার করে মোট ৩০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট উপভোগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের ন্যূনতম পরিমাণ হতে হবে ৮০০ টাকা। ক্যাম্পেইন চলাকালীন একজন গ্রাহক দিনে একবার ১০০ টাকা এবং সব মিলিয়ে তিনবার এই সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে মোট ৩০০ টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন। বড় পরিসরের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার চেইন শপগুলোতেও বিকাশের এই পদচারণা সাধারণ মানুষের বাজার করার অভিজ্ঞতাকে সহজতর করছে।
বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান অনলাইন কেনাকাটার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতেও ক্যাশব্যাক অফার দিচ্ছে বিকাশ। চালডাল, মিনা বাজার অনলাইন এবং প্যারাগনের মতো অনলাইন গ্রোসারি শপ থেকে যেকোনো অর্ডারে বিকাশ পেমেন্ট করলে গ্রাহকরা ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাবেন। ১,২০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের অর্ডারে ৫ শতাংশ হারে এই ক্যাশব্যাক প্রদান করা হচ্ছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং পুরো অফার চলাকালীন দুইবারে মোট ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে। এই ডিজিটাল সেবার ফলে বাজারে যাওয়ার ভিড় এড়িয়ে ঘরে বসেই সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে বিকাশের এই বহুমুখী ক্যাম্পেইনটি আগামী ২১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। গ্রোসারি পণ্যের বাইরেও লাইফস্টাইল, ভ্রমণ এবং খাদ্য খাতেও বিকাশের আরও অনেক আকর্ষণীয় অফার রয়েছে যা গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিয়মিত জানতে পারছেন। নিরাপদ ও দ্রুততর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে বিকাশের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা গ্রাহক মহলে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। নতুন এই ক্যাম্পেইনটি বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য রমজানের বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যমুনা ব্যাংক পিএলসি তাদের প্রধান কার্যালয়ের সকল বিভাগীয় প্রধানদের অংশগ্রহণে ‘আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক সাক্ষরতা’ বিষয়ক একটি বিশেষ কর্মশালা বা পলিসি গাইডলাইন ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছে। দেশের সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কর্মশালাটিতে মূলত আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যমুনা ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. আব্দুস সালাম। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরো সেশনটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. ইকবাল মহসীন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে কীভাবে একটি আধুনিক ও টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কাঠামো গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ইকবাল মহসীন বলেন, বর্তমান অর্থনীতিতে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে নিরাপদ ও স্বচ্ছ ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, গ্রাহকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক সাক্ষরতা বা সচেতনতা বৃদ্ধি করা সমানভাবে জরুরি। গ্রাহক যদি ব্যাংকিং পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন, তবেই এই সেবার প্রকৃত সুফল পাওয়া সম্ভব। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সর্বশেষ নীতিমালাসমূহ কীভাবে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে বিভাগীয় প্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ পরমর্শ দেন।
যমুনা ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে এবং কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ, এ. কে. এম. আতিকুর রহমান, মো. শাহীদুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যমুনা ব্যাংক তাদের গ্রাহক সেবা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে কর্মশালাটির সমাপ্তি ঘটে।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তিন লাখেরও বেশি উদ্যোক্তার সন্তানদের মেধা বিকাশে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ। পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক আবহ ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে ‘নগদ ইসলামিক’-এর পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে ‘সন্তানের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত’ শীর্ষক এক বিশেষ প্রতিযোগিতা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে উন্মুক্ত হওয়া এই আয়োজনে এরই মধ্যে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যেই তিন হাজারেরও বেশি শিশুর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রতিদিন এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। মূলত তিনটি ভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে এই প্রতিযোগিতা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুরা তাদের তিলাওয়াতের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে।
অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রাখা হয়েছে যাতে দেশের ১০টি অঞ্চলের সকল উদ্যোক্তা নিজ নিজ অবস্থান থেকেই এতে যুক্ত হতে পারেন। প্রতিযোগিতার প্রথম বিভাগে ৩ থেকে ৬ বছর, দ্বিতীয় বিভাগে ৬ থেকে ১১ বছর এবং তৃতীয় বিভাগে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহী অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানের কুরআন তিলাওয়াতের এক থেকে দুই মিনিটের একটি ভিডিও রেকর্ড করে নির্ধারিত গুগল ফর্ম লিঙ্কে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আপলোড করছেন। প্রাপ্ত সকল ভিডিও পর্যালোচনা করবেন নগদ ইসলামিক-এর শরীয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী। প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি অঞ্চলের প্রতিটি বয়স শ্রেণি থেকে সেরা তিনজনকে নির্বাচন করে মোট ৯০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, যাদের প্রত্যেককে বিশেষ সনদ প্রদান করা হবে।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায় বা গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার বনানীতে অবস্থিত নগদের প্রধান কার্যালয়ে। প্রতিটি অঞ্চলের প্রতি বয়স শ্রেণি থেকে যারা প্রথম স্থান অধিকার করবেন, এমন মোট ৩০ জন শিশু সরাসরি এই চূড়ান্ত পর্বে লড়াই করার সুযোগ পাবেন। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বিচারকদের রায়ে ৯ জন জাতীয় পর্যায়ের বিজয়ী নির্বাচিত হবেন। এই বিজয়ীদের জন্য ‘নগদ ইসলামিক’-এর পক্ষ থেকে থাকবে আকর্ষণীয় অংকের নগদ অর্থ পুরস্কার, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট। চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত শিশুদের সাথে তাঁদের একজন অভিভাবককেও ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।
এই মহতী উদ্যোগ সম্পর্কে নগদ ইসলামিক শরীয়াহ সুপারভাইজারি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম শহীদুল ইসলাম বারাকাতি বলেন, গত বছরের সফলতার ধারাবাহিকতায় এবারও তাঁরা উদ্যোক্তাদের পরিবারের শিশুদের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই ধরনের আয়োজন শিশুদেরকে শুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষা ও তিলাওয়াত করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের মনে মানবিক গুণাবলি ও শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। মূলত একটি সুন্দর ও নৈতিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শিশুদের শৈশব থেকেই সুপথে পরিচালিত করা এবং তাঁদের সুপ্ত প্রতিভার মূল্যায়ন করাই এই প্রতিযোগিতার মূল দর্শন। নগদের এই কার্যক্রমটি কেবল ধর্মীয় চর্চাই নয়, বরং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও একটি প্রশংসনীয় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বা এসডিজি অর্জনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা। বৈশ্বিক এই ‘নেট জিরো’ বা শূন্য কার্বন এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ যখন অন্যতম শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে লড়াই করছে, তখন দেশের অর্থনীতির ‘সবুজ রূপান্তর’ বা গ্রিন ট্রান্সফরমেশনে এক শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ। ক্যাশবিহীন ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার ঘটিয়ে বিকাশ কেবল আর্থিক অন্তর্ভুক্তিই নিশ্চিত করছে না, বরং পরিবেশবান্ধব এক টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বিকাশ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠীকে আধুনিক আর্থিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। সাধারণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসে লেনদেনের সুবিধা দেওয়ার ফলে বাজারে কাগুজে নোট বা ক্যাশ টাকার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। যেহেতু নগদ টাকা উৎপাদন, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে কার্বন নিঃসরণ হয়, তাই ডিজিটাল পেমেন্ট এই ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। গত কয়েক বছরে বিকাশ নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব পণ্য ও সেবা চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে ঘরে বসে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বেতন গ্রহণ এবং কেনাকাটার পেমেন্ট করার সুবিধার কারণে মানুষের যাতায়াত বা চলাচলের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। এর ফলে যানবাহন থেকে নির্গত গ্রিনহাউজ গ্যাস এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত সহায়ক।
ডিজিটাল লেনদেনের এই ইতিবাচক প্রভাবের চিত্র ফুটে ওঠে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের তথ্য অনুযায়ী, এমএফএস-এর মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে ১০ কোটিরও বেশি লেনদেন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। একই মাসে সাড়ে ৩ কোটির বেশি মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ৬০ লাখ মানুষের বেতন ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদান করা হয়েছে। এর বাইরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল বাবদ ২ কোটি ৪০ লাখ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বিকাশের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সিংহভাগই সম্পাদিত হয়েছে কোনো ধরনের কাগজ বা শারীরিক যাতায়াত ছাড়া। ইউরোপীয় ডিজিটাল পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্স ও অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স-এর গবেষণা বলছে, যে দেশ ডিজিটাল অবকাঠামোতে যত বেশি উন্নত, সেই দেশ কার্বন নিঃসরণ কমাতে তত বেশি সক্ষম। বিকাশ বাংলাদেশে সেই ডিজিটাল অবকাঠামোর মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।
বিকাশের ব্যবসায়িক মডেলটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে এখন ডিজিটাল ঋণ, সঞ্চয় বা ডিপিএস এবং ‘পে লেটার’-এর মতো সেবা নিতে কোনো ধরনের কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় না। গ্রাহকরা লেনদেনের পর কাগজের রসিদের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল রসিদ পেয়ে যাচ্ছেন, যা বন উজাড় রোধে পরোক্ষ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া দেশজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোড এবং এনএফসি ট্যাপ প্রযুক্তির ব্যবহার কাগজবিহীন পেমেন্ট ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বর্তমানে বিকাশের ৮ কোটি ২০ লাখেরও বেশি গ্রাহক ভিসা, মাস্টারকার্ড বা অ্যামেক্স কার্ড থেকে কোনো চার্জ ছাড়াই তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা এনে দৈনন্দিন যাবতীয় প্রয়োজন মেটাতে পারছেন। দেশজুড়ে বিস্তৃত ৩ লাখ ৫০ হাজার এজেন্ট পয়েন্টের বিশাল নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের হাতের নাগালে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এই নিরবচ্ছিন্ন সেবা ব্যবস্থা কেবল সময় ও অর্থই সাশ্রয় করছে না, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে পথ দেখাচ্ছে। সবশেষে বলা যায়, উদ্ভাবনী আর্থিক সমাধানের মাধ্যমে বিকাশ এখন আর কেবল একটি পেমেন্ট অ্যাপ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের এক অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দেশের ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করতে এবং গ্রাহকদের আধুনিক লেনদেনে অভ্যস্ত করে তুলতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ সীমান্ত সম্ভার ও সীমান্ত স্কয়ারে ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন’ বুথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্ট, কার্ডের বহুমুখী ব্যবহার এবং ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) সেবার সুবিধা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ক্যাশলেস ব্যাংকিং ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ খান। ঢাকা উত্তর অঞ্চলের অঞ্চল প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক এ কে এম আব্দুর রকীবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ব্যাংকের সিএফও মোহাম্মদ লিটন মিয়া এফসিএ, অলটারনেটিভ ডেলিভারি চ্যানেল ডিভিশন প্রধান মো. রবিউল আলম এবং ধানমন্ডি ও সোনারগাঁও জনপথ শাখার ব্যবস্থাপকসহ ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যাংকের শুভানুধ্যায়ীরা এই উদ্বোধনী আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, পূবালী ব্যাংক সবসময়ই প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বর্তমান সময়ে একটি কার্যকর ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই ক্যাম্পেইনটি মূলত ব্যাংকের ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা কেবল ব্যাংকিং সেবাই গ্রহণ করবেন না, বরং নিরাপদ ও স্বচ্ছ ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবেন যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজতর করবে।
ক্যাম্পেইনটির মূল লক্ষ্য হলো দৈনন্দিন কেনাকাটা ও আর্থিক লেনদেনে নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা। উদ্বোধিত বুথগুলোতে ব্যাংকের দক্ষ কর্মকর্তারা গ্রাহকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। সেখানে পূবালী ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার পদ্ধতি, পিওএস (POS) মেশিনের মাধ্যমে পেমেন্ট এবং মোবাইল অ্যাপভিত্তিক লেনদেনের সুবিধাগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে। বিশেষ করে ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে কীভাবে মুহূর্তেই নির্ভুল পেমেন্ট সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়টি গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত সহজভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রচারণামূলক কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। পূবালী ব্যাংকের এই উদ্যোগটি গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্যাম্পেইনটি আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত এই দুই শপিং মলে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।