গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং নগদ লিমিটেড গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। একটি মোবাইল আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এবং একটি নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মধ্যে এই ধরনের অংশীদারত্ব বাংলাদেশে প্রথম, যার প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশি জনসাধারণের জন্য বিমা পরিষেবাগুলোকে সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী করা।
গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক - সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমেদ এবং নগদের নির্বাহী পরিচালক - মারুফুল ইসলাম ঝলক তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এ ছাড়া গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের হেড অব ডিজিটাল বিজনেস মনিরুজ্জামান খান, ফিনান্স কন্ট্রোলার সৈয়দ আলিউল আহবাব, নগদের হেড অব ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন মোহাম্মদ বায়েজিদসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মঈনউদ্দীন আহমেদ বলেন, এই অংশীদারত্বের ফলে গ্রাহকরা এখন থেকে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের যেকোনো শাখায় নগদের মাধ্যমে তাদের প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারবেন। অদূর ভবিষ্যতে, গ্রাহকরা ও জনসাধারণ খুব সহজেই নগদ অ্যাপ থেকে সরাসরি আমাদের বিমা পলিসি কিনতে সক্ষম হবেন। বিজ্ঞপ্তি
দেশের অন্যতম প্রযুক্তি পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান এরনা লিমিটেড (EERNA Limited) রাজধানীর বনানীতে তাদের নতুন এবং সুপরিসর প্রিমিয়াম টেক শোরুমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। সম্প্রতি এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আউটলেটটির উদ্বোধন করেন এরনা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। প্রযুক্তি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং গ্রাহকদের হাতে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য পৌঁছে দিতে এই আধুনিক শোরুমটি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বনানী ও আশেপাশের এলাকার প্রযুক্তিপ্রেমীরা এখন খুব সহজেই তাদের পছন্দসই পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
শোরুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে করপোরেট আমন্ত্রিত অতিথি এবং এরনা লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। আমন্ত্রিত অতিথিরা শোরুমের নান্দনিক পরিবেশ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পণ্যের বিশাল সংগ্রহের প্রশংসা করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাঁর বক্তব্যে গ্রাহকদের জন্য উন্নত সেবা ও নির্ভরযোগ্য পণ্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নতুন এই প্রিমিয়াম শোরুমটিতে গ্রাহকদের জন্য এক ছাদের নিচে সব ধরণের ডিজিটাল সমাধানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে ল্যাপটপ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গেমিং পিসি, লেটেস্ট স্মার্টফোন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরণের গ্যাজেট পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও যারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কম্পিউটার তৈরি করতে চান, তাদের জন্য থাকছে কাস্টম পিসি তৈরির সুবিধা। সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি করপোরেট গ্রাহকদের জন্য নেটওয়ার্কিং সল্যুশন এবং অফিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিও এই শোরুমে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এই আউটলেটে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য সরাসরি কেনার সুযোগ থাকছে। এর মধ্যে বিশ্বখ্যাত 'হনার' (Honor) ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন এবং 'সনি' (Sony) ব্র্যান্ডের টেলিভিশন ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বিশাল সমাহার রয়েছে। অথোরাইজড রিটেইলার হিসেবে এরনা লিমিটেড এসব পণ্যের গুণগত মান ও বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা প্রদান করছে। ফলে গ্রাহকরা আসল পণ্য কেনার ক্ষেত্রে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস পাবেন।
বনানীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় এই শোরুম চালুর মাধ্যমে এরনা লিমিটেড তাদের সেবার পরিধি আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। দক্ষ বিক্রয়কর্মী এবং উন্নত গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটি এই কেন্দ্রটিকে একটি ‘ওয়ান-স্টপ সল্যুশন’ হিসেবে গড়ে তুলেছে। প্রযুক্তি পণ্যের আপডেট এবং উদ্ভাবনী সব গ্যাজেট নিয়ে এই শোরুমটি খুব দ্রুতই গ্রাহকদের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
বিশ্বজুড়ে শিশু ও তরুণদের শিক্ষা ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে মেটলাইফ এবং গ্লোবাল সিটিজেন যৌথভাবে ‘ফুটওয়ার্ক ফর ফিউচার্স’ নামে একটি অনন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক চ্যালেঞ্জ শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ এই প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন। এই সৃজনশীল উদ্যোগটি শিক্ষা এবং ক্রীড়াকে এক সুতোয় গেঁথে তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং আনন্দদায়ক করা হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিদের ফুটবল জাগলিং করার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও তৈরি করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, টিকটক অথবা এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করতে হবে। ভিডিওটি শেয়ার করার সময় অবশ্যই #FootworkForFutures হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে বিশেষ কোনো ফুটবলীয় দক্ষতার প্রয়োজন নেই; যে কেউ নিরাপদভাবে ফুটবল জাগলিং করার চেষ্টা করে ভিডিওটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারেন। এটি মূলত একটি বৈশ্বিক সংহতি প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
এই প্রচারণার একটি বড় দিক হলো সরাসরি আর্থিক অনুদানের সুযোগ। যোগ্য প্রতিটি ভিডিও পোস্টের বিপরীতে মেটলাইফ ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ ৫ মার্কিন ডলার করে অনুদান প্রদান করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে তারা ইতিমধ্যে ওই তহবিলে ৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এই অর্থ বিশ্বজুড়ে শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধিতে নিয়োজিত বিভিন্ন সংগঠনকে সহায়তা করবে।
মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, ফুটবল যেমন মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, তেমনি শিক্ষার সঙ্গে এর সমন্বয় নতুন সুযোগ তৈরির একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে। তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষকে এই অর্থবহ বৈশ্বিক কার্যক্রমে সহজে ও আনন্দের সঙ্গে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সামান্য একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন।
এই বিশেষ কর্মসূচিটি গত ১২ মে থেকে শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অথবা নির্ধারিত অনুদানের লক্ষ্য পূরণ হওয়া পর্যন্ত চলবে। ভিডিও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়মাবলি এবং প্রচারণার শর্তাবলি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। অনুদানের জন্য বিবেচিত হতে হলে ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীকে অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে ফুটবল জাগলিংয়ের চেষ্টা করতে দেখা যেতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং অংশগ্রহণের নিয়মগুলো বিস্তারিত দেখতে আগ্রহী ব্যক্তিরা ‘ফুটওয়ার্ক ফর ফিউচার্স’-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।
দেশের সুপরিচিত মিষ্টান্ন ও বেকারি ব্র্যান্ড ‘মিঠাই’ পরিবেশের সুরক্ষা এবং সুস্থ জীবনধারা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘মিঠাইয়ের সাথে সবুজের পথে’ শীর্ষক একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের গ্রাহকদের মাঝে মোট তিন হাজার ইনডোর প্লান্ট বা ঘরের ভেতরে রাখার উপযোগী চারা গাছ বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নগর জীবনে সবুজের ছোঁয়া বাড়ানো এবং গৃহস্থালি পরিবেশকে আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পেইনের নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর নির্ধারিত ১০টি আউটলেট থেকে যেকোনো ধরনের কেক ক্রয় করলে গ্রাহকরা উপহার হিসেবে একটি করে ইনডোর প্লান্ট বা চারা গাছ পাচ্ছেন। মিঠাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ঘরের অভ্যন্তরীণ বাতাস বিশুদ্ধ রাখতে এবং মানসিক প্রশান্তি জোগাতে এই উদ্ভিদগুলো অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বর্তমানে ঢাকার ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ মোকাবিলায় প্রতিটি বাড়িতে ছোট ছোট সবুজ এলাকা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে, যা এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং আনিসুল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, একিউএয়ার-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহরগুলোর তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে। এমন উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণ নগরবাসীর স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই তাঁরা ইনডোর প্লান্ট বিতরণের এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মিঠাই সবসময়ই গ্রাহকদের সাথে ইতিবাচক ও মানবিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকতে চায় এবং এই গ্রিন ক্যাম্পেইনটি প্রতিটি পরিবারকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার অংশীদার করবে।
কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা ও সময়সীমা সম্পর্কে মিঠাই-এর ডেপুটি ব্র্যান্ড ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ জানান, অতি সম্প্রতি ক্যাম্পেইনটি শুরু হলেও গ্রাহকদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি চারা গাছ বিতরণ করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই বিতরণ কার্যক্রম দেশজুড়ে (নির্ধারিত আউটলেটে) অব্যাহত থাকবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তিন হাজার চারা গাছ সফলভাবে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমানে ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা ও নিকেতনসহ মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের আউটলেটগুলো এই ক্যাম্পেইনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। পরিবেশ সচেতন এই উদ্যোগে অংশ নিয়ে সাধারণ ক্রেতারা যেমন ঘরের শোভাবর্ধনকারী চারা পাচ্ছেন, তেমনি এটি সামাজিক বনায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করছে। সুস্থ ও নির্মল বাতাস নিশ্চিত করতে মিঠাই-এর এই প্রয়াস বর্তমানে সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
রাজধানীর প্রচণ্ড গরম আর তীব্র দাবদাহের মাঝে নগরবাসীকে একটু স্বস্তি ও সতেজতার ছোঁয়া দিতে বিশেষ সামার ক্যাম্পেইন ‘বিট দা হিট’ শুরু করেছে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার ফাঁকে পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে মনোরম পরিবেশে সময় কাটানোর লক্ষে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় নানাবিধ আকর্ষণীয় অফার সাজানো হয়েছে। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রীষ্মের তপ্ত দিনগুলোকে উপভোগ্য করে তোলা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আভিজাত্যপূর্ণ সেবা নিশ্চিত করা।
এই ক্যাম্পেইনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বিশেষ রুম প্যাকেজ, যেখানে ব্যুফে ব্রেকফাস্টসহ থাকার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০,৫৫৫ টাকায়। যারা শহরের ভেতরেই একটি দারুণ স্টেকেশন বা অবকাশ যাপনের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ। আরামদায়ক আবাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি হোটেলের উন্নতমানের সেবা এই অফারটিকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ছুটির দিনগুলোকে আরও আনন্দময় করতে প্রতি শুক্রবার ও শনিবারের জন্য রাখা হয়েছে ‘মর্নিং স্প্ল্যাশ’ ফ্যামিলি প্যাকেজ। ‘ডাইভ অ্যান্ড ডাইন’ নামক এই প্যাকেজের আওতায় মাত্র ৩,০০০ টাকায় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুজন শিশু ব্যুফে প্রাতঃরাশের পাশাপাশি সুইমিং পুলে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। পরিবারের ছোট-বড় সবার জন্য এটি একটি স্বাস্থ্যকর ও আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হতে পারে, যা গ্রীষ্মের ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক হবে।
কেবল থাকা বা খাওয়ার অফারই নয়, ঢাকা রিজেন্সি এবার গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও নতুন দক্ষতা অর্জনের ওপর। যারা সাঁতার শিখতে বা সুইমিংয়ে পারদর্শিতা বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য নিয়মিত সুইমিং কোর্সে ২৫ শতাংশ বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শারীরিক সুস্থতা ও প্রশান্তির জন্য ফিজিওথেরাপি সেবার ওপরও থাকছে ২৫ শতাংশ বিশাল ছাড়। পাশাপাশি অতিথিদের তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে বিভিন্ন স্বাদ ও রঙের বৈচিত্র্যময় সামার ড্রিংকসের বিশেষ মেনু রাখা হয়েছে।
গ্রীষ্মের এই বিশেষ অফারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং অগ্রিম বুকিং নিশ্চিত করতে আগ্রহী গ্রাহকরা সরাসরি ০১৭১৩৩৩২৬৬১ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া হোটেলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ভিজিট করেও প্যাকেজগুলোর বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে সাজানো এই ‘বিট দা হিট’ ক্যাম্পেইনটি আগামী দিনগুলোতে গরমের তীব্রতার মাঝে প্রশান্তি খুঁজতে থাকা মানুষের প্রথম পছন্দে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল সেবার মানোন্নয়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) পরিচালিত ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব নার্সিং সার্ভিসেস ফেইজ-২ (সিবিএনএস-২)’ প্রকল্পের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এই প্রকল্পের চার বছরের অর্জন ও বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি নার্সিং কলেজ ও হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোগীদের জন্য আরও উন্নত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
সিবিএনএস-২ প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগীয় সরকারি নার্সিং কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৫৫০ জন দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৪ জন মাস্টার ট্রেইনার এবং ৪৮৬ জন ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং নার্সিং প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম) এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এই পুরো প্রক্রিয়ায় জাইকাকে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
সেমিনারে বাংলাদেশের নার্সিং খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘সিবিএনএস মডেল’ উপস্থাপন করা হয়। এই মডেলটির চারটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা দেশের নার্সিং শিক্ষায় এক নতুন ধারা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ক্যাসকেড পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত দক্ষতা বৃদ্ধি, অংশগ্রহণকারীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে আধুনিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার, নার্সিং কলেজ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্ষেত্রেও নার্সদের পারদর্শিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী জাইকার দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন যে, ক্যাসকেড মডেলের মাধ্যমে নার্সিং পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি মাইলফলক। অন্যদিকে, জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি মরিকাওয়া ইয়্যুকো জানান যে, এই প্রকল্প থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কার্যকর মডেলটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তৈরি হওয়া দক্ষ জনবলই আগামী দিনে বাংলাদেশের নার্সিং সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
দিনব্যাপী এই সেমিনারে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা নার্সিং খাতের মানবসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতা এবং পেশাদার নেটওয়ার্কিং ও জ্ঞান বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ নার্সিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই প্রকল্পের ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
দেশের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন খাতে কর্মরত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার ডট অর্গ। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নিয়োজিত ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। গত রোববার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘ওয়াটারক্রেডিট’ নামক এই বিশেষায়িত আর্থিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগটি দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে।
এই অংশীদারিত্বের আওতায় ট্রাস্ট ব্যাংক আগামী তিন বছরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ব্যাংকটি পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৩৫০ কোটি টাকার একটি ‘বিশেষায়িত ঋণ’ পোর্টফোলিও গঠন করবে। মূলত যারা নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং উন্নত স্যানিটেশন অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করছেন, তারা এই তহবিলের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পাবেন। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজতর হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের (এসএফডি) পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে সবুজ ও টেকসই অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক বদ্ধপরিকর। ট্রাস্ট ব্যাংকের এই উদ্যোগকে তিনি সময়োপযোগী হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও এ ধরনের প্রভাবভিত্তিক অর্থায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান জামান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ দর্শন স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ট্রাস্ট ব্যাংক কেবল বাণিজ্যিক লাভের জন্য নয়, বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রভাবভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে সমাজের টেকসই পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওয়াটার ডট অর্গ-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থার সাথে এই সমন্বয় ব্যাংকটিকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং গ্রাহকদের জীবনের মানোন্নয়নে এক ধাপ এগিয়ে দেবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উদ্বোধনী এই অধিবেশনে ট্রাস্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ওয়াটার ডট অর্গ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার সাথে জনস্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানটি একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়, যা ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) কলেজ অব নার্সিং এক বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) উত্তরার আইইউবিএটি অডিটোরিয়ামে এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নার্সিং পেশার গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতায়িত নার্সরাই জীবন বাঁচায়’—এই সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের আয়োজনটি সাজানো হয়।
দিবসটি উদযাপনের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। র্যালি পরবর্তী মূল অধিবেশনে ছিল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে আয়োজনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল অডিটোরিয়ামে পরিচালিত সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ নার্সদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিলুফার ইয়াসমিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নার্সদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নার্সরা কেবল সেবাই দেন না, বরং একটি জাতির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে কাজ করেন। বিশেষ করে নার্সদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইইউবিএটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আক্তার এবং কলেজ অব নার্সিং-এর সহযোগী অধ্যাপক সান্দ্রা রুমি মধু। বক্তারা নার্সিং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তাঁরা মনে করেন, মানসম্মত নার্সিং শিক্ষার মাধ্যমে আইইউবিএটি দেশের স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল জোগান দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নার্সিং পেশার মানবিক দিকগুলো নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অত্যন্ত কার্যকর। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা নার্সিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আইইউবিএটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে তারা বদ্ধপরিকর।
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পূবালী ব্যাংক পিএলসি তাদের গ্রাহকদের জন্য আধুনিক ও প্রিমিয়াম সেবার অংশ হিসেবে ‘গ্রিন লাউঞ্জ’ উদ্বোধন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ লাউঞ্জটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। মূলত ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারী গ্রাহকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং উন্নত করার লক্ষ্যেই এই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে এই নতুন সেবার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।
নান্দনিক ও অত্যন্ত আধুনিক সজ্জায় তৈরি এই গ্রিন লাউঞ্জে গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত মানের রিফ্রেশমেন্ট, উচ্চগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং দীর্ঘক্ষণ বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত আসন ব্যবস্থা অন্যতম। পূবালী ব্যাংকের নির্ধারিত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা এই লাউঞ্জটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কার্ডধারী গ্রাহক নিজে ব্যবহারের পাশাপাশি তাঁর সাথে থাকা একজন সহযাত্রীকে নিয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই লাউঞ্জ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন, যা যাত্রীদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
লাউঞ্জটির উদ্বোধনকালে পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পূবালী ব্যাংক সবসময় গ্রাহকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই গ্রিন লাউঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের বিমান ভ্রমণ কেবল একটি যাত্রা নয়, বরং একটি নিরাপদ ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। তিনি আরও জানান যে, আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহকসেবা আরও সহজতর করতে ভবিষ্যতে এ ধরণের আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংকের পরিচালক রুমানা শরীফ এবং পরিচালক রানা লায়লা হাফিজ উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। এছাড়া সিলেট প্রিন্সিপাল অফিসের মহাব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. শফিউল হাসান, কার্ড বিজনেস বিভাগের প্রধান এনএম ফিরোজ কামাল এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিখিলেশ কর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে এই লাউঞ্জের যাত্রা শুরু হয়, যা সিলেটের আকাশপথের যাত্রীদের জন্য একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
পাবজি মোবাইল ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম সফল পাবজি দল ‘এ-ওয়ান ইস্পোর্টস’। এই অসামান্য সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তারা জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় গেমিং প্রতিযোগিতা ‘পাবজি মোবাইল গ্লোবাল ওপেন’ (পিএমজিও) সাউথ এশিয়া ফাইনালসে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই লড়াকু গেমারদের অনুপ্রেরণা জোগাতে এবং তাঁদের সফলতাকে উদযাপন করতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে তাঁদের দীর্ঘদিনের ব্র্যান্ড পার্টনার রবি আজিয়াটা পিএলসি-র ব্র্যান্ড এয়ারটেল।
বাংলাদেশের উদীয়মান ইস্পোর্টস অঙ্গনে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে এয়ারটেল প্রকাশ করেছে একটি বিশেষ ‘ইস্পোর্টস এন্থেম’ বা থিম সং। দেশের ইতিহাসে কোনো বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের উদ্যোগে একটি পেশাদার গেমার দলের জন্য এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ থিম সং হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশেষভাবে তৈরিকৃত এই গানটিতে পিএমজিও সাউথ এশিয়া ফাইনালস পর্যন্ত এ-ওয়ান ইস্পোর্টসের রোমাঞ্চকর যাত্রা এবং বিশ্ব দরবারে লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার লড়াকু গল্পটি শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এ-ওয়ান ইস্পোর্টস এবং এয়ারটেল বাংলাদেশের মধ্যকার এই কৌশলগত অংশীদারত্ব দীর্ঘদিনের। দলটির প্রধান ব্র্যান্ড পার্টনার হওয়ার পাশাপাশি এ-ওয়ান ইস্পোর্টস বর্তমানে এয়ারটেলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছে। মূলত তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল জীবনযাত্রা ও সৃজনশীলতার সাথে তাল মিলিয়ে এয়ারটেল সবসময়ই ইস্পোর্টসের মতো নতুন ধারার ক্রীড়া মাধ্যমকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এই থিম সং প্রকাশের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে এবং খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আসন্ন পাবজি মোবাইল গ্লোবাল ওপেন সাউথ এশিয়া ফাইনালসে বাংলাদেশের এই দলটিকে বেশ কঠিন প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করতে হবে। এই আসরে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় পাবজি দলগুলো অংশগ্রহণ করবে। এই আঞ্চলিক ফাইনালে যে দলগুলো সফল হবে, তারা পরবর্তীতে সরাসরি বৈশ্বিক পর্যায়ে মূল পিএমজিও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এ-ওয়ান ইস্পোর্টসের এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশের গেমিং ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্ববাসীর কাছে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এই ইস্পোর্টস টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা স্থানীয় তরুণ গেমারদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। এয়ারটেল ও এ-ওয়ান ইস্পোর্টসের এই যৌথ প্রয়াস প্রমাণ করে যে, যথাযথ সমর্থন পেলে বাংলাদেশের তরুণরা প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন বিশ্ব প্রতিযোগিতায় অভাবনীয় সাফল্য আনতে সক্ষম। ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে এই থিম সংটি গেমারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দকে গ্রাহকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে গ্লোবাল স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভো গত ৬ মে থেকে শুরু করেছে ২৩ দিনব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘ঈদের সেরা ডিল, ভিভো-তে ফুল ফিল!’। এই আয়োজনের আওতায় ভিভো স্মার্টফোন কিনে ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি গ্রাহক বিভিন্ন প্রিমিয়াম পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। উৎসবের এই মৌসুমে নতুন প্রযুক্তির স্মার্টফোন কেনার পাশাপাশি আকর্ষণীয় উপহার পাওয়ার সুযোগ গ্রাহকদের কেনাকাটায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ক্যাম্পেইনটি আগামী ২৮ মে পর্যন্ত চলবে এবং এখনো অনেক পুরস্কার জেতার সুযোগ রয়েছে।
ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপের বিজয়ীদের নাম সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে ভিভো। প্রথম পুরস্কার হিসেবে মূল্যবান ‘পোর্টেবল পাওয়ার স্টেশন’ জিতেছেন তিন জন ভাগ্যবান গ্রাহক। তাঁরা হলেন টঙ্গীর আলাউদ্দিন, ধানমন্ডির শুকরাবাদের শাকিল হোসেন এবং ঝিনাইদহের জাহিদ। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি করে ডিপ ফ্রিজ জিতেছেন নারায়ণগঞ্জের মহসিন ভূঁইয়া এবং ঢাকা দক্ষিণের বাবুল হোসেন। মূলত ভিভো ওয়াই৩১ডি এবং ওয়াই২১ডি মডেলের স্মার্টফোন ক্রয়ের মাধ্যমেই তাঁরা এই বিশেষ ড্র-তে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেন।
বিজয়ীদের তালিকায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের গ্রাহকরাও রয়েছেন। যেমন কুমিল্লা থেকে তুষার এবং বরিশালের পিরোজপুর থেকে প্রলয় মৃধা ভিভোর স্মার্টফোন কিনে জিতে নিয়েছেন মাইক্রোওয়েভ ওভেন। এই ক্যাম্পেইনে গ্র্যান্ড প্রাইজ ছাড়াও রয়েছে ডাব্লিউ১ এসই স্মার্টওয়াচ, রিরো এস৯০ পাওয়ার ব্যাংক এবং দুই বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধা। ভিভোর নির্বাচিত মডেল— ওয়াই২১ডি, ওয়াই৩১ডি, ভি৭০ এফই, ভি৭০ এবং এক্স৩০০ প্রো-এর ক্রেতারা এই লাকি ড্র-তে অংশ নিতে পারছেন। বিশেষ করে ওয়াই৩১ডি মডেলটি কিনলে গ্রাহকরা নিশ্চিত উপহার হিসেবে পাচ্ছেন একটি স্মার্টওয়াচ।
স্মার্টফোনের পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য উন্নত কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে ভিভো অংশীদারিত্ব করেছে টেলিকম অপারেটর গ্রামীণফোনের সাথে। নির্দিষ্ট কিছু মডেলের (ওয়াই০৫, ওয়াই১১ডি, ওয়াই২১ডি, ওয়াই৩১ডি, ভি৬০ লাইট, ভি৭০ এফই ও ভি৭০) ক্রেতারা পাবেন ৭ দিন মেয়াদী ৫জিবি ফ্রি ইন্টারনেট। এছাড়াও গ্রাহকদের জন্য মাইজিপি অ্যাপে বিশেষ ডেটা প্যাকের সুবিধা রাখা হয়েছে, যেখানে ২৯৮ টাকায় ৪০জিবি এবং ৯৯ টাকায় ১০জিবি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। এই বিশেষ ডেটা অফারগুলো নতুন স্মার্টফোনে আগামী ৬ মাস পর্যন্ত একাধিকবার নেওয়া যাবে।
উন্নত প্রযুক্তি, স্টাইলিশ ডিজাইন এবং আকর্ষণীয় সব পুরস্কারের সমন্বয়ে ভিভোর এই ক্যাম্পেইনটি ঈদের কেনাকাটাকে আরও উৎসবমুখর করে তুলেছে। লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিজয়ীদের নির্বাচন করা হচ্ছে এবং ২৮ মে পর্যন্ত প্রতিদিন অনেক গ্রাহক এই পুরস্কারের আওতায় আসছেন। ভিভো কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই ধরণের উদ্যোগ গ্রাহকদের সাথে ব্র্যান্ডের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সাধারণ মানুষকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে। আগ্রহী ক্রেতারা ভিভোর নিকটস্থ আউটলেট থেকে এই বিশেষ অফার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
অগ্রণী ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এবিটিআই) কর্তৃক আয়োজিত ৯৬ ও ৯৭তম অফিসার (ক্যাশ) ব্যাচের ৩০ কর্মদিবসব্যাপী দীর্ঘ মেয়াদী ফাউন্ডেশন কোর্সের সফল সমাপ্তি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র প্রদানের মাধ্যমে এই কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এক মাসব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন কর্মকর্তাদের আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক রূবানা পারভীন এবং মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. জালাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এবিটিআই-এর পরিচালক ও উপমহাব্যবস্থাপক ফারজানা বেগম। কর্মকর্তাদের পেশাগত বুনিয়াদ শক্ত করতে এই প্রশিক্ষণটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমন্ত্রিত অতিথিরা অভিমত ব্যক্ত করেন।
এবারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দুটি ব্যাচের অধীনে অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে আগত মোট ৭৯ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ সেশনে কর্মকর্তাদের ব্যাংকিং আইন, আমানত ও ঋণ ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত পাঠদান করা হয়। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের এই সমন্বয় কর্মকর্তাদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ করে তুলবে বলে আয়োজক সূত্রে জানানো হয়েছে।
সনদপত্র প্রদানকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আস্থার পেশা। তাই কর্মক্ষেত্রে পদায়নের পর কর্মকর্তাদের অবশ্যই সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও নৈতিকতাকে পাথেয় করতে হবে। আধুনিক ব্যাংকিং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের আপডেট রাখার পাশাপাশি গ্রাহকদের সাথে ভালো আচরণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পরিশেষে, প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র পেয়ে কর্মকর্তারা তাঁদের কর্মস্থলে নতুন উদ্দীপনা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অগ্রণী ব্যাংক নিয়মিতভাবে তার জনবলকে দক্ষ করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে, যা ব্যাংকের সুশাসন ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়। উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই সনদ বিতরণী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে দেশের জনপ্রিয় বিউটি ও লাইফস্টাইল রিটেইল চেইন ‘সুন্দোরা’ শুরু করেছে বিশেষ ঈদ ক্যাম্পেইন। এই আয়োজনের আওতায় কসমেটিকস, পারফিউম, লাইফস্টাইল পণ্য এবং খেলনার ওপর ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিশাল ছাড় প্রদান করা হচ্ছে। উৎসবের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইনটি চলবে ঈদের দিন পর্যন্ত, যা গ্রাহকদের জন্য সেরা ব্র্যান্ডের পণ্যগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে সংগ্রহের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
এবারের কোরবানির ঈদে সাজসজ্জায় নতুন মাত্রা যোগ করতে সুন্দোরা বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের নিজস্ব প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড ‘সুন্দোরা কালেকশন’। এই নতুন কালেকশনে রয়েছে উন্নতমানের মেকআপ ব্রাশ এবং স্পঞ্জ লাইন। পাশাপাশি সুন্দোরা বিউটিতে পাওয়া যাচ্ছে ক্যারোলিনা হেরেরা, অ্যাকোয়া ডি পার্মা, জিন পল গলটিয়ার, ভিক্টর অ্যান্ড রলফ, ম্যাক, টনি মলি এবং ইয়াঙ্কি ক্যান্ডেলের মতো বিশ্ববিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের প্রসাধন ও সুগন্ধি। শিশুদের ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলতে সুন্দোরা টয়েজে রাখা হয়েছে লেগো, বার্বি ও হট হুইলস-এর মতো জনপ্রিয় সব খেলনার সমাহার।
এই বিশেষ উদ্যোগ সম্পর্কে সুন্দোরার রিটেইল মার্কেটিং লিড মুনাওয়ার চৌধুরী জানান, ঈদুল আজহা মূলত ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের এক বিশেষ বার্তা বহন করে। এই উৎসবের সময়ে গ্রাহকরা যেন তাঁদের প্রিয়জনদের জন্য মানসম্মত উপহার সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটা করে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই বিশাল ছাড়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেরা ব্র্যান্ডের পণ্যগুলো সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসার মাধ্যমে গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনই তাঁদের এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য।
সুন্দোরার এই বিশেষ ঈদ অফারটি রাজধানী ঢাকার বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি এবং যমুনা ফিউচার পার্কের আউটলেটগুলোতে সরাসরি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকদের কেনাকাটা আরও সহজ করতে নিজস্ব ওয়েবসাইটের (sundora.com.bd) মাধ্যমে অনলাইন অর্ডারের সুবিধাও রাখা হয়েছে। কোরবানির ঈদের আমেজ ফুটিয়ে তুলতে প্রতিটি আউটলেটে বিশেষ সজ্জার পাশাপাশি গ্রাহকদের সুবিধার্থে লাইভ প্রোডাক্ট ডেমোনেস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ক্রেতারা পণ্যগুলো ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারবেন।
মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালিত ‘মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড’-এর প্রাথমিক ইউনিট বিক্রির কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফান্ডের নির্ধারিত ২৫ কোটি টাকার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য আধুনিক ও পেশাদার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে এই ফান্ডটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক সাবস্ক্রিপশন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর এখন ফান্ডটি তার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রস্তুত।
ফান্ডের মূলধনী কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি টাকার মধ্যে ফান্ডের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি আড়াই কোটি টাকার ইউনিট ক্রয় করেছে। বাকি সাড়ে ২২ কোটি টাকার ইউনিট সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একটি বে-মেয়াদি বা ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড হিসেবে এই ফান্ডের অনুমোদন দিয়েছিল। বিএসইসি’র বিধিমালা অনুসরণ করেই পুরো সাবস্ক্রিপশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।
এই মিউচুয়াল ফান্ডটির দক্ষ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। ফান্ডের স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করছে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এছাড়া ফান্ডের অর্জিত অর্থের হেফাজতকারী বা কাস্টডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি। এই শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলটি শেয়ারবাজারের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় এবং লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইউনিট বিক্রির এই সফল সমাপ্তিতে মিডল্যান্ড ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামির উদ্দিন বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, মিডল্যান্ড ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের এই বিপুল সাড়া প্রমাণ করে যে দেশে পেশাদারভাবে পরিচালিত বিনিয়োগ উপকরণের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দক্ষ পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণীয় মুনাফা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিবিহীন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে এই গ্রোথ ফান্ডটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বে-মেয়াদি ফান্ড হওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট নেভি (NAV) মূল্যে যেকোনো সময় এই ফান্ডের ইউনিট ক্রয় বা পুনরায় বিক্রি করার সুবিধা পাবেন। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন তারল্য নিশ্চিত করবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। ফান্ডের এই প্রাথমিক সাফল্য দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।