আধুনিক ব্যাংকিংসেবা ও প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে গ্রাহকদের ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে এগিয়ে নিতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে তিন মাসব্যাপী ক্রেডিট কার্ড ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জাফর আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধান মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান, শাখা ব্যবস্থাপকরা ও উপশাখা ইনচার্জরা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন এবং অনেকে আলোচনায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাফর আলম বলেন, ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের বিকল্প নেই। আমাদের কার্ড শরী’য়াহভিত্তিক ব্যাংকের কার্ডগুলোর মধ্যে এগিয়ে আছে। আমাদের কার্ডের জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আহ্বান জনান। তিনি বলেন, সবার কাছে আমাদের কার্ডকে জনপ্রিয় করে তোলাই এ ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য। বিজ্ঞপ্তি
জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর ৮৮৩তম পরিচালনা পর্ষদের সভা মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মুহঃ ফজলুর রহমান। সভায় ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় পর্ষদের পরিচালক বদরে মুনির ফেরদৌস, ড. মোঃ আব্দুস সবুর, আব্দুল মজিদ শেখ, ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, মোঃ আহসান কবীর, অধ্যাপক ড. এ. এ. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মজিবর রহমান এবং উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আব্দুর রহমান ও মোঃ ফয়েজ আলম উপস্থিত ছিলেন। সভায় শ্রেণীকৃত খেলাপি ঋণ আদায়সহ ব্যাংকের অন্যান্য করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বিশ্বের শীর্ষ ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান ভিসা ইনকরপোরেটেড ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। রাজস্ব, নিট আয় এবং লেনদেন— সব সূচকেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থিতিশীল ভোক্তা ব্যয় এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
৩১ মার্চ ২০২৬ সমাপ্ত প্রান্তিকে ভিসার জিএএপি-ভিত্তিক নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৬.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা শেয়ারপ্রতি ৩.১৪ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নিট আয় বেড়েছে ৩২ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ। বিশেষ খাত ও কর-সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিলে, নন-জিএএপি ভিত্তিতে নিট আয় হয়েছে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ৩.৩১ ডলার— যা যথাক্রমে ১৭ শতাংশ ও ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। কনস্ট্যান্ট ডলার হিসেবে হিসাব করলে জিএএপি শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং নন-জিএএপি শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
ভিসার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রায়ান ম্যাকিনার্নি বলেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেট রাজস্ব ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। তিনি জানান, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং কোম্পানির উদ্ভাবনী সেবা কনজ্যুমার পেমেন্ট, ব্যবসায়িক লেনদেন ও মানি মুভমেন্ট খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি জোরদারে ‘ভিসা অ্যাজ এ সার্ভিস’ প্ল্যাটফর্মে নতুন সক্ষমতা যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে ভিসার মোট নেট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১১.২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি (কনস্ট্যান্ট ডলার হিসেবে ১৬ শতাংশ)। পেমেন্ট ভলিউম, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং মোট প্রসেসড ট্রানজ্যাকশন বৃদ্ধির ফলে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।
প্রান্তিকটিতে পেমেন্ট ভলিউম বেড়েছে ৯ শতাংশ, যেখানে আগের প্রান্তিকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশ। ইউরোপের অভ্যন্তরীণ লেনদেন বাদ দিলে আন্তর্জাতিক লেনদেন বেড়েছে ১১ শতাংশ এবং মোট ক্রস-বর্ডার লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ শতাংশ। একই সময়ে মোট ৬৬.১ বিলিয়ন লেনদেন প্রসেস হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি।
রাজস্বের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সার্ভিস রেভিনিউ ১৩ শতাংশ বেড়ে ৫.০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ডাটা প্রসেসিং রেভিনিউ ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে আয় ১০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যান্য আয় ৪১ শতাংশ বেড়ে ১.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্লায়েন্ট ইনসেনটিভের পরিমাণ ছিল ৪.২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।
জিএএপি ভিত্তিতে অপারেটিং ব্যয় ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪.০ বিলিয়ন ডলার, যা মূলত আইনি ব্যয় হ্রাসের ফল। তবে নন-জিএএপি ভিত্তিতে অপারেটিং ব্যয় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা জনবল ও বিপণন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে হয়েছে।
প্রান্তিক শেষে ভিসার হাতে নগদ অর্থ, নগদ সমতুল্য এবং বিনিয়োগ সিকিউরিটিজ মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪.২ বিলিয়ন ডলার।
আধুনিক ব্যাংকিং সেবা প্রদানের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ২৮০তম উপশাখা রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্ণাঢ্য এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক এবং উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. আজহারুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক বলেন, "শিশু হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র উপশাখা উদ্বোধন অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্বাস্থ্যসেবাকে আরও মানবিক ও সহজলভ্য করতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা পালন করবে। আমি আশা করি, এই উপশাখা শিশু হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।" তাঁর মতে, চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দাপ্তরিক ও আর্থিক কাজগুলো এই উপশাখার মাধ্যমে আরও সহজতর হবে।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকের গ্রাহকবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "পূবালী ব্যাংক সবসময় গ্রাহক কেন্দ্রিক সেবা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ। শিশু হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উপশাখা চালুর মাধ্যমে আমরা রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও সহজ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে পারব। এটি শুধু একটি ব্যাংকিং সেবা নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি উদ্যোগ। ভবিষ্যতে ও পূবালী ব্যাংক দেশের স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রেখে যাবে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও ঢাকা উত্তর অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান একেএম আব্দুর রকীব। এছাড়া অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি শাখা ব্যবস্থাপক ও উপ-মহাব্যবস্থাপক নিগার সুলতানা, সোনারগাঁও জনপথ শাখা ব্যবস্থাপক ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান সরদার এবং জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ ব্যাংক ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে এই ব্যাংকিং সেবা চালুর ফলে চিকিৎসক ও সেবাগ্রহীতা উভয় পক্ষই বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। পূবালী ব্যাংকের এই সম্প্রসারণ কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ।
ঈদুল আযহার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে সিঙ্গার বেকো নিয়ে এলো বহুল প্রতীক্ষিত ভরপুর সল্যুশন অফার ক্যাম্পেইন।
এই ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী গ্রাহকরা পাচ্ছেন হাজার হাজার ফ্রি পণ্য আর আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট পাবার সুযোগ।
যেকোনো সিঙ্গার বেকো স্টোর থেকে কেনাকাটা করলেই গ্রাহকরা পাবেন একটি ‘সলিউশন কার্ড’। সল্যুশন কার্ড ঘষে গ্রাহকরা জিতে নিতে পারেন হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্স। হাউসফুল অ্যাপ্লায়েন্সে থাকছে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সব পণ্যের একটি কমপ্লিট সেট— যার মধ্যে রয়েছে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, গ্রাইন্ডার এবং গ্যাস বার্নার।
মেগা প্রাইজ ছাড়াও, প্রতিটি নির্দিষ্ট কেনাকাটায় গ্রাহকদের জন্য থাকছে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, গ্রাইন্ডার এবং গ্যাস বার্নারের মতো আকর্ষণীয় যেকোনো একটি পণ্য জেতার সুযোগ। এর পাশাপাশি, রয়েছে নিশ্চিত ডিসকাউন্ট, যা এই উৎসবের মৌসুমে গ্রাহকদের জন্য তাদের পণ্যগুলো আপগ্রেড করা আরও সহজ হবে।
আধুনিক পরিবারের প্রয়োজন এবং আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে সাজানো এই ঈদ ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে প্রতিটি পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটাকে আরও আনন্দদায়ক এবং স্মরণীয় করে তোলা।
এই ক্যাম্পেইনটি ঈদুল আযহার আগের দিন পর্যন্ত চলবে এবং সারা দেশের সকল সিঙ্গার বেকো রিটেইল স্টোর ও সকল অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টে পাওয়া যাবে।
বিস্তারিত জানতে গ্রাহকদের নিকটস্থ সিঙ্গার বেকো আউটলেটে যোগাযোগ করতে অথবা ২৪/৭ টোল-ফ্রি কাস্টমার সার্ভিস নম্বর ০৮০০০০১৬৪৮২-এ কল করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘জাগরণ’ প্রকল্প। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে প্রকল্পটির জাতীয় উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ এবং কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে এই জনহিতকর উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে, যেখানে অর্থায়ন করছে এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস ওয়ার্ল্ডওয়াইড ই ভি।
প্রকল্পটির কর্মপরিধি মূলত খুলনা ও গাজীপুর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। এর আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় ১২ হাজার তরুণ-তরুণী সরাসরি উপকৃত হবেন। বিশেষ বিষয় হলো, এই প্রকল্পের মোট অংশগ্রহণকারীর অন্তত অর্ধেক হবেন নারী এবং এক্ষেত্রে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও বেকার তরুণদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘জাগরণ’ প্রকল্প মূলত তরুণদের কর্মমুখী দক্ষতার অভাব এবং আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করবে। বাজার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন ও নীতিগত সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জাগরণ প্রকল্পটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত একটি উদ্যোগ, যা দেশের তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। দক্ষতা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব বলে আমরা বিশ্বাস করি। এবং এই প্রকল্পের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার তার পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধি নাসিবা সেলিম প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি বাজারমুখী দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ড. মো. এনামুল হক তরুণদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জানান যে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে এই তরুণরাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস এই অংশীদারিত্বের প্রতি তাঁর প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে লোগো উন্মোচন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা সবাইকে ধন্যবাদ জানান। দুই দিনব্যাপী এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষ হবে ‘জাগরণ ইয়ুথ কার্নিভাল’-এর মাধ্যমে, যা তরুণদের জন্য এক আনন্দময় ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে ৮% হারে ঋণ বিতরণ করবে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক মোর্শেদ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং উইমেন অন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডব্লিউইএবি) সভানেত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল।
উল্লেখ্য, এসএমই ফাউন্ডেশনের ‘রিভলভিং ফান্ড ক্রেডিট হোলসেলিং’ কর্মসূচির আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। বিশেষভাবে নারী উদ্যোক্তা, পিছিয়ে পড়া অঞ্চল ও প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাসহ যারা এখনো ব্যাংক ঋণের আওতার বাইরে, তারা এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালু করেছে সরকার। এর পাশাপাশি পেশাজীবীদের মধ্যে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার প্রবণতাও দ্রুত বাড়ছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে
এই প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে ‘হোম কানেক্টিভিটি’ প্যাক চালু করেছে দেশের শীর্ষ ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করা পেশাজীবী ও অনলাইন ক্লাসে যুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি এ প্যাকটি দেশে প্রথম এ ধরনের অ্যাপভিত্তিক ডাটা বান্ডল।
নিজ পেশা, অনলাইন ক্লাস কিংবা অন্যান্য বিভিন্ন প্রয়োজনে যাদের নিয়মিত বিভিন্ন ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ ব্যবহার করতে হয় তাঁদের প্রয়োজন বিবেচনায় প্যাকটিকে সাজানো হয়েছে। এতে ভিডিও কনফারেন্সিং এর অন্য দরকারি নির্দিষ্ট কিছু অ্যাপের জন্য আলাদা ডাটা এবং যেকোন সাধারণ ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট ডাটা রাখা হয়েছে। ফলে ক্লাস বা মিটিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন অন্য যেকোন কাজও নির্বিঘ্নে করা যাবে।
৩০ দিন মেয়াদি এই প্যাকের দাম ৩৪৮ টাকা। এতে মোট ৩৬ জিবি ডাটা পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ৩০ জিবি ডাটা নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে মাইক্রোসফট টিমস, জুম, গুগল মিট ও গুগল ক্লাসরুম এর মতোন প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের জন্য। এতে অনলাইন ক্লাস বা জরুরি মিটিংয়ের সময় ডাটা ফুরিয়ে যাওয়ার শংকা থাকবে না। এ ছাড়া ৬ জিবি ডাটা—যেমন ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সহ অনলাইনের অন্য যেকোন কাজে ব্যবহার করা যাবে।
‘হোম কানেক্টিভিটি’ প্যাক চালু করা প্রসঙ্গে বাংলালিংকের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মাহবুব হাসান বলেন, “গ্রাহকের পরিবর্তিত প্রয়োজন মাথায় রেখে নতুন সেবা তৈরি করাই বাংলালিংকের লক্ষ্য। অনলাইন ক্লাস ও হোম-অফিস অনেক পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ‘হোম কানেক্টিভিটি প্যাক’ সেই চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে। এতে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা এমন একটি সমাধান পাবেন, যেখানে প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে পর্যাপ্ত ডাটা থাকবে।”
প্রিপেইড ও বিটুসি পোস্টপেইড—দুই ধরনের গ্রাহকেরাই এ প্যাকের সুবিধা নিতে পারবেন। রিটেইল আউটলেটের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, মাইবিএল অ্যাপ কিংবা ১২১৩৪৮# ডায়াল করে প্যাকটি কেনা যাবে।
‘হোম কানেক্টিভিটি প্যাক’ চালুর মধ্য দিয়ে বাংলালিংকের গ্রাহকের দৈনন্দিন ব্যবহার ও পরিবর্তিত চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি-ই প্রতিফলিত হয়েছে। নির্দিষ্ট অ্যাপভিত্তিক এই ডাটা প্যাকের মাধ্যমে কাজ ও শেখার বদলে যাওয়া ধারার সাথে মানিয়ে নিতে গ্রাহকদের পাশে থাকতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. আবদুল্লাহ আল মামুন। ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ ২৮ বছরের বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কর্মকর্তা সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া মতিঝিল, দিলকুশা ও উত্তরা মডেল টাউন শাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেট শাখাসমূহের ব্যবস্থাপক হিসেবে তার সফলতার বিশেষ রেকর্ড রয়েছে।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জামালপুর সদর উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চতর শিক্ষার অংশ হিসেবে ২০১৩ সালে কানাডার টরন্টোর সেন্টেনিয়াল কলেজ স্কুল অব বিজনেস থেকে ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ব্যাংকিং পেশায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং সিঙ্গাপুরসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত অসংখ্য সম্মেলন, সেমিনার ও উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন।
বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ২০২৫ সালের নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫.৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫৫ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। চলমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও এই অর্জন আইপিডিসি’র ব্যবসায়িক মডেলের স্থিতিশীলতা প্রমাণ করে। শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে পরিচালনা পর্ষদ ১০% লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৫% নগদ ও ৫% স্টক। বিনিয়োগ আয়, সুদ আয়ের বৃদ্ধি, বহুমুখী কৌশলগত পোর্টফোলিও এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এই অর্জনে ভূমিকা রেখেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১.১১ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মোট সুদ আয় ৮.৫০% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯,৫৬০ মিলিয়ন টাকা। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আগের বছরের তুলনায় কোম্পানির পরিচালন আয় ৭.৪৩% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৪৮৪ মিলিয়ন টাকা এবং বিনিয়োগ আয় বেড়েছে ৯৩.২৯ শতাংশ। যা ট্রেজারি ইয়েল্ড ও পুঁজিবাজারে কৌশলগত পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার ফলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩২৪ মিলিয়ন টাকা।
আইপিডিসি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সঠিক নিয়োগ ও পারফর্ম্যান্স আরও উন্নত করে পরিচালন ব্যয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। গত বছরের পরিচালন ব্যয় ১০.৩৩% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৩১ মিলিয়ন টাকা এবং পরিচালন মুনাফা ৫.০১শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮৫৩ মিলিয়ন টাকা। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৫৫ মিলিয়ন টাকা।
২০২৫ সালের শেষে ঋণ, লিজ ও অগ্রীমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪,৬২২ মিলিয়ন টাকা, যা আগের তুলনায় ৭.৩১% বৃদ্ধি পেয়েছে। আমানত আগের বছরের তুলনায় ১৪.৬০% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২,২৪৯ মিলিয়ন টাকা, যার মাধ্যমে ১২.১৮% বাজার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়েছে এবং গ্রাহকদের ধারাবাহিক আস্থা ও ব্র্যান্ডের স্থিতিশীলতা প্রকাশ পেয়েছে।
উচ্চতর মুনাফা অর্জনে রিটার্ন অন ইক্যুইটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৭৪% এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৭.৮৫ টাকা। শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো হয়েছে ৯.৯৪ টাকা, যা ভবিষ্যতে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে আইপিডিসিকে সাহায্য করবে।
এ প্রসঙ্গে আইপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, “২০২৫ সালে আমরা পরিকল্পিত বাস্তবায়ন ও কৌশলগত স্থিতিশীলতায় বাড়তি মনোযোগ দিয়েছি। চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিবেশেও আমরা বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে আয়ের উৎস বাড়িয়েছি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে আয়ভিত্তি আরও শক্তিশালী করেছি। পোর্টফোলিও’র মান, দক্ষ মূলধন ব্যবহার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমরা টেকসই মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছি এবং ব্যালান্স শিট আরও শক্তিশালী করেছি। দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে আমরা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন বাড়াতে কাজ করবো।”
বাটা বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জন্য ১০৫% চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ প্রস্তাব করেছে, যা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং পুরো বছরের মোট লভ্যাংশকে ২৪৮%-এ উন্নীত করেছে। একই সময়ে, বাটা বাংলাদেশ ৯,১৬৪ মিলিয়ন টাকা টার্নওভার অর্জন করেছে, যেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই এই সাফল্য এসেছে। ভোক্তাদের একটি বড় অংশ যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ কমিয়েছে, তখন এই ক্যাটাগরির অংশ হিসেবে বাটাও এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না।
সারা বছরজুড়ে কোম্পানিটি গ্রাহককেন্দ্রিক কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে, যেখানে উচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় সেগমেন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ক্যাজুয়াল, স্নিকার এবং প্রিমিয়াম পণ্যের ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা পরিবর্তনশীল বাজার প্রবণতার সঙ্গে ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পণ্য উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করেছে ব্র্যান্ডের ওমনিচ্যানেল (অনলাইন) নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি, যার ফলে গ্রাহকরা ডিজিটাল ও সরাসরি দোকান—উভয় প্ল্যাটফর্মেই নির্বিঘ্নভাবে ব্র্যান্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পেরেছেন।
বর্তমানে বাটা বাংলাদেশ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একটি সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রাখার মাধ্যমে বাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি পণ্য উদ্ভাবন এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে কোম্পানিটি আগামীর উজ্জ্বল সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে প্রস্তুত। এই দূরদর্শী পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করছে যে, দেশের জুতা শিল্পে বাটা তার শীর্ষস্থান ধরে রেখে সচেতন গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে।
ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি-র ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত বছরের আর্থিক ফলাফলে লক্ষণীয় উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কর-পরবর্তী ও প্রভিশন সংরক্ষণের পর ব্যাংকটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯৬৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১০৪ শতাংশ বা প্রায় ২.০৪ গুণ বেশি। গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান মিস সাদিয়া রায়ান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৩০৭তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করা হয়।
উক্ত সভায় ২০২৫ সালের জন্য বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে মোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মোট লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ। মুনাফা বৃদ্ধির এই ধারা ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস-এর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০২৪ সালে যেখানে ইপিএস ছিল ৪.৯০ টাকা, ২০২৫ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৯.৯৮ টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ৫৩.৩৯ টাকা থেকে বেড়ে ৬২.১৪ টাকা হয়েছে।
আর্থিক স্থিতিশীলতার সূচকেও ব্যাংকটি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান প্রদর্শন করেছে। ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা সিআরএআর ২০২৪ সালের ১৩.৮৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ১৭.১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার চেয়ে অনেক বেশি। ব্যাংকটির সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক পরিধি এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে। পর্ষদ সভায় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি.’র পরিচালনা পর্ষদের ৭৫তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির। উক্ত সভায় ২০২৫ সালের ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয় এবং নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও সভায় কয়েকটি বিনিয়োগ প্রস্তাব ও ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জনাব এ. কে. এম. আওলাদ হোসেন, অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিন), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মোঃ আকরাম হোসেন, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি (ফিন্যান্স), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মোঃ ছিবগাত উল্লাহ, বিপিএম (সেবা), পিপিএম, অ্যাডিশনাল আইজি (ডেভেলপমেন্ট), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব সরদার নূরুল আমিন, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কাজী মো. ফজলুল করিম, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি অ্যান্ড রেক্টর, পুলিশ স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কামরুল আহসান, ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মুনতাসিরুল ইসলাম, পিপিএম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (হাইওয়ে পুলিশ), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব আহম্মদ মুঈদ, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কামরুল হাসান তালুকদার, ইন্সপেক্টর, বাংলাদেশ পুলিশ; ড. মোঃ মোর্শেদ হাসান খান, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব সৈয়দ রফিকুল হক, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব মোহাম্মদ তফাজ্জুল হোসেন, এফসিএ, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব কিমিয়া সাআদত, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি. এবং কোম্পানি সচিব জনাব সাইফুল আলম এফসিএস সভায় উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং গুলশান ইয়ুথ ক্লাব লিমিটেডের মধ্যে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও স্পোর্টস কমপ্লেক্স (শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ স্মৃতি পার্ক) পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে উক্ত সমঝোতা স্মারকটি গুলশান ইয়ুথ ক্লাব লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ডা. ওয়াহিদুজ্জামান (তমাল)-এর নিকট হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে পার্কটির আধুনিকায়ন ও সার্বিক তদারকির ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
উক্ত চুক্তি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর, এমপি। এছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (DNCC) প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন) উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এই অংশীদারিত্বের ফলে পার্কটির পরিবেশগত সুরক্ষা এবং ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মান উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
সমঝোতা স্মারক গ্রহণের পর গুলশান ইয়ুথ ক্লাব লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ডা. তমাল রাজউকের চেয়ারম্যানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনাকীর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার গুরুদায়িত্ব তাঁর ক্লাবের ওপর অর্পণ করার জন্য তিনি রাজউক কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের এই সমন্বিত প্রয়াস পার্কটির সেবার মান বৃদ্ধিতে এবং নাগরিকদের সুস্থ বিনোদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে পার্কটির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য বর্ধনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করবে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব।