বাংলাদেশে অটোমোবাইল সেক্টরের স্বনামধন্য, সুপ্রতিষ্ঠিত ও শীর্ষস্থানীয় গাড়ি আমদানিকারক, প্রস্তুতকারী, সংযোজনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান উত্তরা মোটর্স বাংলাদেশে এসএমএল ইসুজু কমার্শিয়াল গাড়ির একমাত্র পরিবেশক। দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশব্যাপী ১৫টি শাখা অফিস ও ২২টি ডিলারের মাধ্যমে এসএমএল ইসুজু কমার্শিয়াল গাড়ি বাজারজাতকরণ ও বিক্রয়োত্তর সেবাপ্রদান নিশ্চিত ও সহজলভ্য করে আসছে। সম্প্রতি এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুইগড়, কাজীপাড়া কড়ইতলা বাস স্ট্যান্ডে মোটরগাড়ি নামে উত্তরা মোটর্সের এসএমএল ইসুজু কমার্শিয়াল গাড়ির ডিলার শো-রুম উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরা মোটর্সের এসএমএল ইসুজুর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফসহ (অব.) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ডিলার তানভীর হোসেন ও ব্যবসায়ীরা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ আরও অনেকেই। এখানে এসএমএল ইসুজুর প্রেস্টিজ জিএস পিকআপ, ডব্লিউটি-৪৯ ট্রাক, সুপার-১৪ ট্রাক, সুপার-১৭ ট্রাক ও সম্রাট জিএস টিপার আকর্ষণীয় মূল্যে ও সহজশর্তে কিস্তির মাধ্যমে পাওয়া যাবে। বিজ্ঞপ্তি
‘ডিপোজিট ও রিকভারি ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর আওতায় চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মাত্র ৩৮ কর্মদিবসে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি গৌরবের সঙ্গে অর্জন করেছে মোট ১,৬৭৮.৪৮ কোটি টাকার নতুন আমানত। এর মধ্যে রিটেইল ডিপোজিটের পরিমাণ ১,০৮৭.৫৮ কোটি টাকা, কর্পোরেট ডিপোজিট ৪৮৬.৪৬ কোটি টাকা এবং এসএমই ডিপোজিট ১০৪.৪৪ কোটি টাকা।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রায় ৬৬৫ কোটি টাকার ক্যাশ রিকভারি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
চেয়ারম্যান ডা. আরিফুর রহমান বলেন: “এই অর্জন আমাদের গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। দায়িত্বশীল ব্যাংকিং, গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।’
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনজুর মফিজ বলেন: “মাত্র ৩৮ দিনে এ অসাধারণ সাফল্য আমাদের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও টিমওয়ার্কের ফল। আমরা আরও উন্নত ডিজিটাল সেবা দিয়ে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখব এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করব।”
প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আস্থা এবং আধুনিক ব্যাংকিং সেবার সমন্বয়ে ভবিষ্যতেও প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রাখতে ব্যাংকের সকল পর্যায়ের কর্মীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবে।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র (ইউআইইউ) সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রোবোটিক্স (সিএআইআর) দ্বারা পরিচালিত ইউআইইউ মার্স রোভার টিম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য মার্স সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি) ২০২৬ প্রতিযোগীতায় বিশ্বে ৩য় এবং এশিয়ায় ১ম স্থান অর্জন করেছে। এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক মাইলফলক। একই সঙ্গে, এশিয়ার ২০ বছরের রোভার প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এটি একটি অনন্য অর্জন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিযোগিতাটি গত ২৭-৩০ মে ২০২৬ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা স্টেটের হ্যাঙ্কসভিলে অবস্থিত মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশনে (এমডিআরএস) অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে অসাধারণ দক্ষতা ও ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করে ‘ইউআইইউ মার্স রোভার টিম’ ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার এশিয়ার ১ম দল হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
চার দিনব্যাপী চূড়ান্ত রাউন্ডে, নিজেদের তৈরি সক্ষমতা এবং পরিচালন দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, চরম পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা এবং ইকুইপমেন্ট সার্ভিসিং এই চারটি মিশন সফলতার সঙ্গে অতিক্রম করতে হয়েছে। ইউআইইউ মার্স রোভার সফলভাবে চারটি মিশনই সম্পন্ন করেছে এবং গর্বের সাথে দেশের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে, ইউআইইউ মার্স রোভার টিম মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ (ইউআরসি) ২০২৬ প্রতিযোগীতায় সর্বমোট ৪০৪.৪৪ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বের শীর্ষ রোভার দলগুলোর মধ্যে ৩য় এবং এশীয়া দলগুলোর মধ্যে ১ম স্থান অর্জন করে। এছাড়াও প্রতিযোগিতার পোডিয়ামে স্থান পাওয়ার পাশাপাশি দলটি 'বেস্ট অটোনামাস সিস্টেম’ স্বীকৃতি লাভ করেছে। চূড়ান্ত ফলাফলে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অফ এস অ্যান্ড টি মার্স রোভার ডিজাইন টিম ৪৬৯.৫৭ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ নোভা রোভার ৪১২.৪১ পয়েন্ট পেয়ে ২য় স্থান এবং বাংলাদেশের ইউআইইউ মার্স রোভার টিম ৪০০.৪৪ পয়েন্ট পেয়ে ৩য় হওয়ার গৌরব অর্জন করে ।
ইউআরসি আয়োজনের ব্যাপকতা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রকৃতি বিবেচনা করলে এই অর্জন আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জ ২০২৬ প্রতিযোগীতায় প্রাথমিকভাবে সারা বিশ্ব থেকে মোট ১১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় দল অংশগ্রহণ করে। একটি কঠোর ও কয়েকটি পর্যায়ের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ’তে অবস্থিত মার্স ডেজার্ট রিসার্চ স্টেশন (এমডিআরএস)-এ চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য মাত্র ৩৮টি দলকে নির্বাচিত করা হয়। ইউআইইউ মার্স রোভার টিম শুধু বিশ্বের সেরা দলগুলোর মধ্যে যোগ্যতা অর্জনই করেনি, বরং শেষ পর্যন্ত বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের শক্ত স্থান নিশ্চিত করেছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, জাপান, মেক্সিকো এবং তুরস্ক থেকে মোট ৩৮টি দল গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ গ্রহণ করে।
এই অর্জন বাংলাদেশ এবং এশিয়া উভয়ের জন্যই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অন-সাইট ইউনিভার্সিটি রোভার চ্যালেঞ্জের ২০ বছরের ইতিহাসে ইউআইইউ মার্স রোভার টিম প্রথম এশীয় দল হিসেবে বিশ^মঞ্চে মর্যাদাপূর্ণ পোডিয়ামে স্থান করে নিয়েছে, যা একটি দীর্ঘদিনের বাধা ভাঙ্গাসহ এই অঞ্চলে রোবোটিক্স ও মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদন্ড স্থাপন করেছে। ইউআইইউ মার্স রোভার টিমের পরামর্শক হিসাবে ছিলেন ইউআইইউ স্কুল অফ সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’র ডিন প্রফেসর ড. হাসান সারওয়ার এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. সুমন আহমেদ। টিমের মেন্টর হিসাবে ছিলেন ইউআইইউ কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: আবিদ হোসাইন।
ইউআইইউ মার্স রোভার টিমের এই সাফল্য এর শিক্ষার্থী, পরামর্শদাতা, ফ্যাকাল্টি মেম্বর এবং সমর্থকদের সমর্থন, নিষ্ঠা, উদ্ভাবন এবং অধ্যবসায়ের প্রতিফলন। রোবোটিক্স, স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমবেডেড সিস্টেম এবং মেকানিক্যাল ডিজাইনে উন্নত গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে দলটি বিশ্ব মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।
নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের ১০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদনের লক্ষ্যে রাজধানীর মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ে ১০৪ কিলোওয়াট সক্ষমতা সম্পন্ন অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় ও টেকসই উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মেটলাইফ। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগ তাদের সে প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করেছে। ৭৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে বীমা সেবা দিয়ে আসছে মেটলাইফ। প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের মাধ্যমে কাজের পরিবেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছে।
মেটলাইফের সোলার প্যানেল স্থাপন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক্ষেত্রে, বাণিজ্যিক পরিসরে ছাদের ওপরে বসানো সোলার প্যানেল নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ বিষয়ে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, “দেশে ব্যবসা পরিচালনায় এবং সেবাদানের ক্ষেত্রে টেকসই উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করি। আমাদের প্রধান কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আমরা প্রমাণ করেছি যে প্রগতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ একই সাথে বজায় রাখা সম্ভব। দেশের এক নম্বর জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করা এবং আমাদের গ্রাহক, কর্মী ও সমাজের জন্য একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব।”
জাতীয় গ্রিড সংযোগের কঠোর মানদণ্ড ও নিয়মাবলী অনুসরণ করে এই প্রকল্পের কারিগরি বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে সেনা কল্যাণ সংস্থার বিজনেস ডিভিশন-৪।
৫৩৬ জন প্রশিক্ষিত নার্সিং শিক্ষক এবং একটি অনুসরণযোগ্য মডেল গড়ে তুলে শেষ হলো জাইকা’র সিবিএনএস-২ প্রকল্প
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সহায়তায় ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব নার্সিং সার্ভিসেস ফেইজ-২ (সিবিএনএস-২)’ প্রকল্পের সমাপনী স্টেকহোল্ডার কর্মশালা আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিআইআরডিএপি’র এটিএম শামসুল হক অডিটোরিয়ামে ওয়ার্কশপটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্চ ২০২২ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত – চার বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায়, বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ওয়ার্কশপে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর (ডিজিএনএম), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি), বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ), সরকারি নার্সিং কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেসময়, সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জনগুলো তুলে ধরা হয় এবং প্রকল্প-পরবর্তী সময়ে এসব কার্যক্রমগুলো টেকসইভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া, প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি ‘সিবিএনএস মডেল’ উপস্থাপন করা হয়, যা নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার ধারাবাহিক উন্নয়নে একটি কার্যকর কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মডেলটিতে ক্যাসকেড প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা, নার্সিং কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই মডেলটি ভবিষ্যতে দেশের নার্সিং খাতের উন্নয়নে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিবিএনএস-২ প্রকল্পে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে; ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা উন্নয়ন, ৬৪ জন মাস্টার ট্রেইনার ও ৪৭২ জন ক্লিনিক্যাল নার্স শিক্ষক তৈরি, শিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচি, নার্সিং ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, প্রকলের আওতায় চারটি নার্সিং কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও আটটি সরকারি নার্সিং কলেজ ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদারে কাজ হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জাইকা’র সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ মরিকাওয়া ইয়ুকো বলেন, “আজকের ওয়ার্কশপের উদ্দেশ্য কেবল এই প্রকল্পের অর্জনগুলো তুলে ধরা নয় বরং ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া ও বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়ন করা যায় এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টরা কেমন ভূমিকা রাখতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। সিবিএনএস-২ সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ায়, ব্যক্তিগতভাবে এর ভবিষ্যত সাফল্য নিয়েও আমি আশাবাদী।”
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল নার্সিং চর্চার উন্নয়ন দেখে আমি ভীষণ আনন্দিত। সিবিএনএস-২ প্রকল্পের অর্জনগুলো দেশের নার্সিং কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় বাস্তবায়ন করা হলে তা বৃহত্তর কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আমার বিশ্বাস।”
আলোচনাকালে, অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের দক্ষতা কাজে লাগানো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা ও কার্যক্রমগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারের ক্ষেত্রে মতামত জানান। সেসময় নার্সিং খাতের উন্নয়নে সরকারি সংস্থা, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সিবিএনএস মডেল ও সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে দেশে নার্সিং শিক্ষা ও ক্লিনিক্যাল সেবার মানোন্নয়ন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মাধ্যমে ওয়ার্কশপ সমাপ্ত হয়।
কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) সহজ শর্তে ঋণ দিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পুন: অর্থায়ন বিষয়ক দুটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি।
এই চুক্তির মাধ্যমে সিএমএসএমই উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হারে মুনাফায় ঋণ সুবিধা পাবেন। চুক্তি অনুযায়ী ৩ হাজার কোটি টাকার ক্লাস্টার ফাইন্যান্স পুন: অর্থায়ন স্কিমের আওতায় বিভিন্ন শিল্প ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও চলতি মূলধন দেবে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। আরেকটি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সিএমএসএমই উন্নয়নে আর্থিক খাত তহবিলে (এফএসএফডিএমএসএমই) অংশ নেবে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। এই ঋণের মুনাফা হারও ৭ শতাংশ।
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক মোর্শেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এসময় বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও কে. এম. আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার।
ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-এর প্রধান কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং কালজয়ী ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষে এক বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শোকের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিবির পরিচালনা পর্ষদের মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু আহমেদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. নুরুল হুদা। শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং মোনাজাতের মাধ্যমে মরহুম নেতার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আইসিবির অঙ্গসংস্থানসমূহের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা (সিইও) বিশেষ গুরুত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপকগণসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। সমবেত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশের উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান এবং তাঁর আদর্শিক দূরদর্শিতার কথা স্মরণ করেন। দোয়া মাহফিলে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়, যেখানে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি প্রার্থনা করা হয়।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই আধুনিক বাংলাদেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, যার অন্যতম একটি হলো আইসিবি। তাঁর প্রবর্তিত উন্নয়ন দর্শনকে পাথেয় করে দেশের বিনিয়োগ খাতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। পরিশেষে, এই দোয়া মাহফিলটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার আত্মার পরম শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
এমটিবি ফাউন্ডেশন সম্প্রতি তাদের অন্যতম প্রধান শিক্ষামূলক উদ্যোগ ‘এমটিবি ইউসেপ স্কিলস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’-এর প্রথম ব্যাচের সফল গ্র্যাজুয়েশন এবং সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ন্যাশনাল স্কিলস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (NSDA) কর্তৃক অনুমোদিত ও বাজারের চাহিদাসম্পন্ন ৬ মাস মেয়াদী এই প্রশিক্ষণ কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে এই সনদ তুলে দেওয়া হয়।
এই আয়োজনটি ‘এমটিবি ইউসেপ স্কিলস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’-এর অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মোট ১,২০০ তরুণ-তরুণীকে পাঁচটি বিশেষায়িত ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা। অনুষ্ঠানে কোর্সটি সফলভাবে বাস্তবায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা প্রশিক্ষকদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এই কর্মসূচির অধীনে প্রশিক্ষণার্থীরা পাঁচটি বিশেষায়িত ট্রেডে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এগুলো হলো: বিউটিফিকেশন, টেইলরিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, বেকারি অ্যান্ড পেস্ট্রি প্রোডাকশন, গ্রাফিক ডিজাইন এবং ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশন অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স। এই কোর্সগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের শিল্প-সংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা ও উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করা।
‘এমটিবি ইউসেপ স্কিলস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’-এর প্রথম ব্যাচের এই সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রেইস উদ্দীন আহ্মাদ, এমটিবি ময়মনসিংহ শাখার ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম এবং এমটিবি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামিয়া চৌধুরী ও অ্যাসোসিয়েট গোলাম রব্বানী ও নাজমুস সাকিব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ইউসেপ (UCEP) বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক পার্টনারশিপ ম্যানেজমেন্টের পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান এবং রিজিওনাল ম্যানেজার মো. হুমায়ুন কবির।
দেশের ইংরেজি অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্যা বিজনেস ডেইলি সফলভাবে দ্বিতীয় বছর সম্পন্ন করে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীতে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান সাংবাদিক, কলাকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা, বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন।
২০২৪ সালের ১ জুন যাত্রা শুরু করা দ্যা বিজনেস ডেইলি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবসা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, কর্পোরেট এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে পাঠকদের আস্থা অর্জন করেছে। গত দুই বছরের পথচলায় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে তার কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দ্যা বিজনেস ডেইলির প্রকাশক মোঃ দেলোয়ার হোসেন । তিনি বলেন, “দুই বছর শেষ করে তৃতীয় বছরে পদার্পণের এই যাত্রা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন—পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী ও অংশীদার—সবার প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতেও তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা একটি শক্তিশালী সমাজ ও অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলে। ২০২৬ সালের মধ্যে নতুন নতুন কর্মসূচি, উদ্ভাবনী কনটেন্ট এবং ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে গণমাধ্যমে নতুনত্ব আনার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে চাই।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা দ্যা বিজনেস ডেইলির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম খাতে এর ইতিবাচক অবদান আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দ্যা বিজনেস ডেইলি কর্তৃপক্ষ জানায়, পাঠকদের আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
“নির্ভুল খবর, নিরপেক্ষ দৃষ্টি”—এই স্লোগানকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি আগামী দিনে আরও আধুনিক, দায়িত্বশীল ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চায়।
ব্যবসায়িক কমপ্লায়েন্স ও অনবোর্ডিং প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও নির্ভুল করতে বৈশ্বিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডান অ্যান্ড ব্রান্ডস্ট্রিট এবং এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যান্থ্রোপিক একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ডান অ্যান্ড ব্রান্ডস্ট্রিট-এর বিশাল ব্যবসায়িক ডাটাবেস ‘কমার্সিয়াল গ্রাফ’ সরাসরি অ্যান্থ্রোপিকের শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা ‘ক্লড’-এর সাথে যুক্ত করা হবে। এই সমন্বিত উদ্যোগটি মূলত বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের কমপ্লায়েন্স এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রচলিত ব্যবস্থায় করপোরেট অনবোর্ডিং বা নতুন ক্লায়েন্ট যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ও ম্যানুয়াল বা কায়িক শ্রমের প্রয়োজন হতো। নতুন এই এআই-নির্ভর প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত খাতের সংস্থাগুলো একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘নো ইউর কাস্টমার’ (KYC) এবং ‘নো ইউর বিজনেস’ (KYB) কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। এতে করে ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা সামগ্রিক ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এই উদ্যোগের গুরুত্ব সম্পর্কে ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট সাউথ এশিয়া, মিডল ইস্ট অ্যান্ড আফ্রিকার গ্রুপ ডিরেক্টর (প্রোডাক্টস) নওমান লাখানি বলেন যে, নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক তথ্যের সঙ্গে এআই-কে যুক্ত করাই এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য। যখন যাচাইকৃত তথ্য সরাসরি প্রতিষ্ঠানের কার্যপ্রবাহে বা ওয়ার্কফ্লোতে যুক্ত হয়, তখন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আরও শক্তিশালী গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করতে পারে। এর ফলে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উচ্চতর স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা বজায় রাখা সম্ভব হবে, যা আধুনিক ব্যবসায়িক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির ফলে এআই-নির্ভর এই কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। দেশের পরিবর্তনশীল কমপ্লায়েন্স কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থা বাড়াতে এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে তারা আরও নির্ভুলভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারবে এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আরও বেশি সক্ষম হবে।
এই উন্নত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ‘ডি-ইউ-এন-এস® নম্বর’ (D-U-N-S® Number)। এই নম্বরটি বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি একক ও সুনির্দিষ্ট পরিচয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করতে সহায়তা করে। বিশ্লেষকদের মতে, ডান অ্যান্ড ব্রান্ডস্ট্রিট ও অ্যান্থ্রোপিকের এই যৌথ প্রয়াস এন্টারপ্রাইজ পরিচালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কর্মপ্রবাহের দিকে বৈশ্বিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে তথ্য ও বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত হয়ে উঠছে।
রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ের সাঁতারকুলে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটাল বর্তমানে চলমান হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশুদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে সেখানে ভর্তি হওয়া ১৬ জন হাম আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ১৪ জনই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এই সংকটময় সময়ে শিশুদের দ্রুত আরোগ্য ও উন্নত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক সব চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল নিয়োগ করেছে।
হাম রোগীদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ইউনিট এবং জরুরি ট্রায়াজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ জোন নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে অন্য সাধারণ রোগীরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে না পড়ে। রোগীদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ পথ নির্ধারণ এবং নিয়মিত বিরতিতে পুরো হাসপাতাল চত্বর জীবাণুমুক্ত করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ চিকিৎসা পরিবেশ বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য হাসপাতালটিতে ‘ওয়ান-টু-ওয়ান নার্সিং সাপোর্ট’ এবং যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষায়িত এই সেবার পাশাপাশি জরুরি জীবনদায়ী চিকিৎসা, ভেন্টিলেশন সাপোর্ট এবং সার্বিক চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে অনেক পরিবারের জন্য এই ব্যয়বহুল ও জটিল চিকিৎসা গ্রহণ করা সহজতর হবে এবং মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের মেডিকেল সার্ভিসেস ডিরেক্টর ডা. আজহারুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, বর্তমান হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। কার্যকর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, সাশ্রয়ী চিকিৎসা এবং দ্রুত জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। প্রতিটি শিশুর সময়মতো মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাকে তিনি একটি সম্মিলিত সামাজিক ও যৌথ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এনআরবিসি ব্যাংকে সদ্য যোগদানকৃত ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসারদের (এমটিও) জন্য আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন কর্মকর্তাদের পেশাগত জীবনের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্র (এইচআরটিডিসি) এই বিস্তারিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি সফলভাবে পরিচালনা করে।
সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের টেকসই সাফল্যের জন্য কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানই যথেষ্ট নয়, বরং নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও প্রযুক্তিবান্ধব হয়ে গড়ে উঠতে হবে। তিনি নতুন এমটিওদের উদ্দেশে সততা, উন্নত গ্রাহকসেবার মানসিকতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান। ব্যাংক খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনআরবিসি ব্যাংক সবসময়ই দক্ষ ও সৎ ব্যাংকার তৈরিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, দক্ষ জনশক্তিই যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তির অপরিহার্যতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহারে পারদর্শী জনবলই আগামীর ব্যাংকিং খাতের নেতৃত্ব দেবে। কর্মকর্তাদের পেশাগত মানোন্নয়নে ব্যাংক নিয়মিত বহুমুখী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া নবীন ব্যাংকারদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তিন সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আধুনিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকিং পরিচালনা পদ্ধতি, গ্রাহকসেবার উন্নত কৌশল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নীতিমালার সঠিক পরিপালন বা কমপ্লায়েন্সের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া করপোরেট সংস্কৃতি ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়েও কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল নবীন কর্মকর্তাদের ব্যাংকিং জগতের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান ফাহমিদা চৌধুরীসহ ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিকে তাদের ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। এনআরবিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি হওয়া নতুন কর্মকর্তারা গ্রাহকদের আরও মানসম্মত ও আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষিত এই জনবলের মাধ্যমেই ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমির (আইবিটিআরএ) উদ্যোগে সম্প্রতি ‘পলিসি কমপ্লায়েন্স’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আলতাফ হুসাইন। ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কর্মশালায় ব্যাংকিং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিয়মনিষ্ঠা বজায় রাখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আলতাফ হুসাইন ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রাহকের বিশ্বাস ও আমানত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী রাখতে এবং আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিতে পলিসি কমপ্লায়েন্স বা নীতিমালা পরিপালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। যেকোনো বিনিয়োগ বা ঋণের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই যথাযথ যাচাই-বাছাই ও নিয়ম অনুসরণ করা কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন যে, নতুন কোনো বিনিয়োগ যেন কোনোভাবেই খেলাপিতে পরিণত না হয়, সেদিকে কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। এজন্য বিনিয়োগের প্রাথমিক পর্যায়েই কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া বর্তমানে যেসব বিনিয়োগ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তা দ্রুত পুনরুদ্ধারে কর্মকর্তাদের আরও বেশি কৌশলগত ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খেলাপি বিনিয়োগের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনাই এখন ব্যাংকের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম। কর্মশালার বিভিন্ন সেশনে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফরিদ উদ্দিন ও মাহমুদ হোসাইন খান বিস্তারিত আলোচনা করেন। আইবিটিআরএ-এর ডাইরেক্টর জেনারেল এএসএম রেজাউল করিমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নীতিমালার আধুনিক পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে অবহিত করা এবং সে অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা সাজানো। প্রশিক্ষণার্থীরা এই সেশনগুলো থেকে বিনিয়োগ মূল্যায়ন এবং নিয়মমাফিক ব্যাংকিং পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করেন। যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা গ্রাহক সন্তুষ্টি ও ব্যাংকের সুনাম বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি এবং জনপ্রিয় হ্যান্ডক্রাফটেড ডেজার্ট ব্র্যান্ড ‘কাভাজো’র মধ্যে একটি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রিমিয়াম ব্যাংকিং গ্রাহক এবং নির্বাচিত ক্রেডিট কার্ডহোল্ডাররা কাভাজোর আউটলেটগুলোতে একচেটিয়া লাইফস্টাইল সুবিধা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বিশেষ আনন্দ যোগ করতে এবং ব্যাংকিং সেবার বাইরেও বাড়তি গুরুত্ব দিতেই এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
চুক্তির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রিমিয়াম ব্যাংকিং গ্রাহকরা তাঁদের জন্মদিনে শুভেচ্ছাস্মারক হিসেবে কাভাজোর পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় কেক উপহার পাবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট ক্রেডিট কার্ডধারী এবং প্রিমিয়াম ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য কাভাজোর সব আউটলেটে বিশেষ মূল্যছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তারা কাভাজোর যে কোনো হ্যান্ডক্রাফটেড ডেজার্ট বা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে মোট বিলের ওপর সরাসরি ১০ শতাংশ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন, যা বছরজুড়েই কার্যকর থাকবে।
সম্প্রতি রাজধানীর ব্র্যাক ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি এই চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হেড অব তারা, আগামী অ্যান্ড প্রিমিয়াম ব্যাংকিং সেগমেন্টস মেহরুবা রেজা, প্রিমিয়াম ব্যাংকিং বিজনেস অ্যাকুইজিশন প্রধান সৈয়দ মাহীন জুবায়েদ এবং হেড অব প্রপোজিশন আরমীন আহমেদ। কাভাজোর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এক্সিকিউটিভ শেফ জারিন তাসনিম ওমর এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রাশেদ-উল ইসলামসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মো. মাহীয়ুল ইসলাম তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ব্র্যাক ব্যাংক কেবল ব্যাংকিং সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গ্রাহকদের জন্য অর্থবহ এবং আধুনিক লাইফস্টাইল সুবিধা নিশ্চিত করতেও তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। কাভাজোর মতো স্বনামধন্য ব্র্যান্ডের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব গ্রাহকদের অভিজ্ঞতায় নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করবে এবং তাঁদের সাথে ব্যাংকের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
গ্রাহকদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ব্যাংক নিয়মিতভাবে বিভিন্ন লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের সঙ্গে ভ্যালু-অ্যাডেড সার্ভিস ও অংশীদারত্বের পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে। এই নতুন উদ্যোগটি গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে ব্যাংকটির ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি বড় প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এমন আরও জীবনমুখী ও সুবিধাজনক অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রাহকদের জীবনকে আরও সহজ এবং আনন্দময় করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।