চীনা প্রতিষ্ঠান স্যানশিন এক্সেসরিজ এমএফসি বিডি লিমিটেড চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে স্থাপিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগে একটি ইন্টারলাইনিং এবং গার্মেন্টস এক্সেসরিজ কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. আশরাফুল কবীর এবং স্যানশিন এক্সেসরিজ এমএফসি বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিজ. লি লি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিদেশি মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারলাইনিং, লেইছ, টিসি পকেটিং-প্রিন্টিং, গ্র্যানিউল এবং হট মেল্ট এডহেসিভ পাউডার উৎপাদন করবে। কোম্পানিটিতে ২৩৪৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান স্যানশিন এক্সেসরিজ এমএফসি বিডি লিমিটেডকে বিনিয়োগের জন্য বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্বাচন করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুততার সঙ্গে তাদের কারখানা নির্মাণপূর্বক বাণিজ্যিক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সদস্য (প্রকৌশল) মোহাম্মদ ফারুক আলম, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশীদ আলম, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক এবং নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ এস এম আনোয়ার পারভেজসহ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে ও বিদেশে নিজেদের সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এমন ছয়জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী নিয়ে ‘আইএসডি অ্যালামনাই এন্টারপ্রেনারিয়াল সামিট ২০২৬’ আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি)।
‘ফ্রম আইএসডি টু ইন্ডাস্ট্রি: লেসনস ফ্রম দ্য এন্টারপ্রেনারিয়াল ফ্রন্টলাইন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে ব্যবসা গড়ে তোলার বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্প্রতি আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইএসডির করপোরেট রিলেশনস রিপ্রেজেন্টেটিভ ফারেস্তা আলী মালিক।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ছিলেন স্টার্জন ক্যাপিটালের ভেঞ্চার পার্টনার ও রাহিমোটো এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী ওয়াইজ রহিম; আমলিন স্কিন ও ইনডারফুলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নামিত কবির; আমলিন স্কিন ও ল্যাটিটিউড টুয়েন্টিথ্রি ইনকরপোরেটেড-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মেহরান কবির; বেয়ার অ্যান্ড ব্লুম বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা আলিশা লাবিবা রহমান; এমেরাল্ড ইভেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মারিহা কাদের চৌধুরী; এবং আর্ডামান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার নাফিস জলিল।
আলোচনায় উঠে আসে কীভাবে মানুষের ছোটবেলার আগ্রহ পরবর্তীতে তাদের ক্যারিয়ারের বিকাশে ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে মারিহা কাদের চৌধুরী বলেন, “এই আইএসডি থেকেই আমার যাত্রা শুরু। স্কুলে পড়ার সময় আমি স্টুডেন্ট কাউন্সিল থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতাম। তখন জানতাম না যে একদিন এটাই আমার পেশা হবে। আমার মতে, পছন্দের কাজ খুঁজে পেলে তাকে ক্যারিয়ারে রূপ দেওয়া সহজ।”
পেশার ক্ষেত্রে কাজের প্রতি ভালোবাসার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন মেহরান কবির। তিনি বলেন, “আমি শুরুতেই বুঝে গিয়েছিলাম যে কাজে আমার আগ্রহ ও উদ্যম নেই, তা আমি করতে পারব না। নিজের কাজের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে, সে কাজে সফল হওয়া অসম্ভব।”
ব্যর্থতা এবং মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে কথা বলেন ওয়াইজ রহিম। তিনি বলেন, “পছন্দের কাজের সাথে একজন মানুষের পরিচয় মিশে থাকে। সেই ব্যবসা সফল না হলে মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তবে, সেই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়া জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।”
আলোচনায় ব্যবসা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কিং, টেকসই পণ্য তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “চিন্তার বিকল্প হিসেবে নয় বরং এআই মানুষের কাজকে সহজ করার একটি মাধ্যম হিসেবে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।”
অনুষ্ঠানটির বিষয়ে আইএসডি’র ডিরেক্টর স্টিভ ক্যাল্যান্ড-স্কোবল বলেন, “আমাদের ৭০০ এর বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিশ্বের ১৫টি দেশে ছড়িয়ে আছেন। তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা আমাদের স্কুলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।”
সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করার উদ্দেশ্যে আইএসডি আগামীতেও এ ধরণের আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী পরিচালিত ‘৫৬ হাজার স্কয়ার মাইল জুড়ে’ শীর্ষক মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগের ভোলা জেলার কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিন ৪ মে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার মনিরাম বাজার সংলগ্ন হাফিজ ইব্রাহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই স্বাস্থ্য ক্যাম্পে দিনব্যাপী প্রায় ২৬০০ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
ক্যাম্পটি পরিদর্শন করেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম। পরিদর্শনকালে তিনি অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগের জন্য স্কয়ার গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই কর্মসূচির আওতায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সাধারণ রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে ১৩টি জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।
আগামী ৫ মে ভোলার বাংলাবাজারের হালিমা খাতুন মহিলা ডিগ্রি কলেজে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পরবর্তী ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির সমাপনী দিন অর্থাৎ ৬ মে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ বাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরাসরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে মূল দর্শন নিয়ে স্যামসন এইচ চৌধুরী স্কয়ার গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেই এই বিশেষ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান ‘রিয়া’-এর মাধ্যমে পাঠানো রেমিটেন্স বিকাশ-এ নিলেই মিলছে ২০০ টাকা ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক। সরকারি ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা বাদে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা সরাসরি বিকাশ অ্যাকাউন্টে নিয়ে প্রবাসীর স্বজনেরা এই সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন। অফার চলাকালীন একবারই এই ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে।
ব্যাংকিং চ্যানেল হয়ে বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠানোকে আরও উদ্বুদ্ধ করতেই রিয়া মানি ট্রান্সফার ও বিকাশ এই যৌথ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে। ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়েছে ১ মে এবং চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। রিয়া মানি ট্রান্সফার ও এর অ্যাপের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া সহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে প্রবাসীরা দেশে থাকা স্বজনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যতবার প্রয়োজন ততবার রেমিটেন্স পাঠাতে পারছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রবাসীরা বিকাশ-এ প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে পারছেন।
রিয়া মানি ট্রান্সফার থেকে বৈধপথে পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর হাজারে ২৫ টাকা সরকারি প্রণোদনাসহ পুরো টাকা ব্যাংকিং চ্যানেল হয়ে মুহূর্তেই নিজেদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাচ্ছেন দেশে থাকা প্রবাসীর স্বজনেরা। পাশাপাশি, রিয়া মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে তাৎক্ষণিক রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেয়া যাচ্ছে সেরা এক্সচেঞ্জ রেটে। এসব সুবিধার কারণে রিয়া মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে বিকাশে রেমিটেন্স পাঠানোর এই সেবা দ্রুতই প্রবাসী ও তার স্বজনদের কাছে নির্ভরতা ও আস্থা অর্জন করেছে।
এদিকে, রেমিটেন্সের টাকা এখন আরও কম খরচে ক্যাশ আউটের সুযোগ নিতে পারছেন দেশে থাকা প্রবাসীর স্বজনেরা। দেশজুড়ে ১৯টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রায় ২ হাজার ৫০০ এটিএম বুথ থেকে বিকাশ অ্যাপ দিয়ে বা *২৪৭# ডায়াল করে হাজারে মাত্র ৭টাকা চার্জে ক্যাশ আউট করতে পারছেন প্রবাসীর স্বজনরা। এছাড়া, ক্যাশ আউট না করেও প্রবাসীর প্রিয়জনরা বিকাশ-এর মাধ্যমেই বিভিন্ন পণ্য ও সেবার পেমেন্ট, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির মতো ইউটিলিটি সেবার বিল পরিশোধ, টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সেবার ফি পরিশোধ, ব্যাংকে সেভিংস খোলা, যাত্রার টিকেট-টোল, অনুদান প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে পারছেন ঘরে বসেই।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রেমিট্যান্স উৎসবের প্রথম দিনেই দুই সৌভাগ্যবান গ্রাহক আকর্ষণীয় গিয়ার বাই-সাইকেল উপহার হিসেবে পেয়েছেন। বিজয়ীদের মধ্যে একজন হলেন টাঙ্গাইলের গোড়াই উপ-শাখার গ্রাহক হামিদা বেগম এবং অন্যজন রাজধানীর গুলশান কর্পোরেট শাখার গ্রাহক অনুপ কুমার। ব্রুনাই দারুসসালাম প্রবাসী জাহিদ শিকদার এবং মার্কিন নাগরিক সারাহ সাবরিনার পাঠানো প্রবাসী আয়ের বিপরীতে তাঁরা এই বিশেষ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। গত সোমবার ৪ মে ২০২৬ তারিখে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে এক ডিজিটাল র্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে এই বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আলতাফ হোসেন। এছাড়াও ড্র অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আবুল হাসান, ফরেন রেমিট্যান্স সার্ভিসেস ডিভিশনের প্রধান মো. মোতাহার হোসেন মোল্লা, ওভারসিজ ব্যাংকিং ডিভিশনের প্রধান মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধিবৃন্দ।
এই বিশেষ প্রচারণার আওতায় ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে নগদ রেমিট্যান্স গ্রহণকারীদের মধ্য থেকে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রতিটি কার্যদিবসে দুইজন করে মোট ৩৪ জন গ্রাহককে গিয়ার বাই-সাইকেল প্রদান করা হচ্ছে। উপহারের এই তালিকায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী প্রত্যেক গ্রাহক নিশ্চিত উপহার হিসেবে একটি করে দেয়াল ঘড়ি পাচ্ছেন। আগামী ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য এই বিশেষ সুবিধাটি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো তাদের নতুন হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য নিয়ে এসেছে। এ উপলক্ষে ‘শাওমি স্মার্ট লিভিং ফর এভরিওয়ান’ থিমে আজ (০৪ মে) ঢাকার বনানীতে অবস্থিত শেরাটনে জমকালো এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ডটি স্মার্টফোনের নেতৃস্থানীয় জায়গা থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট লাইফস্টাইল ইকোসিস্টেম নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরলো।
স্মার্টফোন ও এআইওটি (এআই অব থিংস) উদ্ভাবনের জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত শাওমি বাংলাদেশের হোম ও লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। যেন স্মার্ট ও কানেক্টেড লাইফস্টাইলের বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণ করা যায়। চীনা গ্লোবাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে শাওমি বর্তমানে ১ নম্বরে রয়েছে এবং ১০০ কোটিরও (১ বিলিয়ন) বেশি কানেক্টেড ডিভাইস নিয়ে বিশ্বজুড়ে কনজ্যুমার এআইওটি মার্কেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এছাড়াও, স্মার্টফোন খাতে শাওমি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ব্র্যান্ড এবং ২০২৫ সালে শাওমি টিভি বৈশ্বিক শিপমেন্টে শীর্ষ ৫-এ অবস্থান করেছে। এর মধ্য দিয়ে ব্র্যান্ড ও স্মার্ট ইকোসিস্টেমের প্রতি ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন বোঝা যায়।
বৈশ্বিক এই লক্ষ্যকে স্থানীয়ভাবে কাজে লাগানোর অংশ হিসেবে, শাওমি এখন স্মার্ট হোম কেয়ার সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে। ব্র্যান্ডটি মিজিয়া ফ্রন্ট লোড ওয়াশার ড্রায়ার ১০.৫ কেজি নিয়ে এসেছে, যার দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৭৪,৯৯৯ টাকা। ব্যস্ত পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই অ্যাপ্লায়েন্সের মাধ্যমে মাত্র ৫৯ মিনিটেই কাপড় ধোয়া ও শুকানোর সুবিধা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের জন্য আদর্শ সমাধান এটি।
ক্রেতাদের জন্য শাওমি টিভি এস মিনি এলইডি সিরিজে কিউডি-মিনি এলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ব্যবহারকারীদের জন্য সিনেমাটিক এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করতে রয়েছে ১২০০ নিটস ব্রাইটনেস, ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট, ডলবি ভিশন ও ডলবি অ্যাটমোস। এর ৯৮” ভ্যারিয়েন্টের দাম মাত্র ৪,৯৯,৯৯৯ টাকা, ৮৫” মাত্র ২,৪৫,৯৯৯ টাকা, ৭৫” মাত্র ১,৭৯,৯৯৯ টাকা, ৬৫” মাত্র ১,৩৯,৯৯৯ টাকা এবং ৫৫” মাত্র ১,০৩,৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একইসাথে, বিনোদন খাতে আধুনিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬ নিয়ে এসেছে ব্র্যান্ডটি। শাওমি টিভি এ প্রো সিরিজ ২০২৬-এ ৪কে ইউএইচডি ডিসপ্লে, প্রাণবন্ত ভিজ্যুয়াল ও স্মার্ট বিনোদনের জন্য গুগল টিভি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ৭৫” ভ্যারিয়েন্টের দাম মাত্র ১,৫৩,৯৯৯ টাকা, ৬৫” মাত্র ১১৪,৯৯৯ টাকা, ৫৫” মাত্র ৮৪,৯৯৯ টাকা এবং ৪৩” মাত্র ৫২,৯৯৯ টাকা।
এছাড়াও, ব্র্যান্ডটি বেশকিছু লাইফস্টাইল-ভিত্তিক পণ্য নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এয়ার ফ্রায়ার ৬.৫ ও ৬ লিটার, স্মার্ট এয়ার পিউরিফায়ার ৪ কম্প্যাক্ট ও লাইট, শাওমি স্মার্ট ক্যামেরা সি২০১ ও সি৩০১, আউটডোর স্মার্ট ক্যামেরা এবং শাওমি স্মার্ট ট্যাগ। পণ্যগুলো নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিদিনের সুবিধাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতে শাওমির শক্তিশালী বৈশ্বিক অবস্থান রয়েছে। আমরা সেই একই মানের উদ্ভাবন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে আসছি। আজকের ক্রেতারা কেবল আলাদা আলাদা গ্যাজেট নয়, বরং এমন প্রযুক্তি চান যা তাদের প্রতিদিনের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে। আমাদের ‘হিউম্যান × হোম × কার’ ভিশনের মাধ্যমে আমরা একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছি, যেন আমরা ‘গ্লোবাল হার্ডকোর টেক পার্টনার’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। মিনি এলইডি টিভি থেকে শুরু করে স্মার্ট লন্ড্রি ও ট্র্যাকিং সল্যুশন, সবকিছুতেই আমরা ক্রেতাদের জন্য স্মার্ট লিভিংকে আরও সহজ ও সাবলীল করতে চাই।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পণ্য প্রদর্শনী, মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশন ও পণ্য সম্পর্কে সরাসরি জানাশোনার গ্রহণের ব্যবস্থা ছিল। হোম অ্যাপ্লায়েন্স সেগমেন্টে আসার মধ্য দিয়ে শাওমি বাংলাদেশ একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট লিভিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিই পুনর্ব্যক্ত করলো, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্য ও সর্বোচ্চ মানের পণ্য নিশ্চিত করা হবে।
ন্যাশনাল ফাইন্যান্স পিএলসি’র পরিচালনা পর্ষদে রিজওয়ান মান্নান ও মাইশা ফারিজমা খান নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
রিজওয়ান মান্নান বর্তমানে ওএমসি স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ওএমসি গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা দক্ষতার পাশাপাশি কর্পোরেট গভর্ন্যান্সে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হIল থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনাকরেছেন।
মাইশা ফারিজমা খান অনন্ত কোম্পানিজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও পোশাক খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম, কর্পোরেট কমিউনিকেশন ও গভর্ন্যান্সে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কমিউনিকেশনসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই দুই পরিচালকের অভিজ্ঞতা পর্ষদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।
পায়োনীয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) গত ৪ মে সোমবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কোম্পানির ব্যবসায়িক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আর্থিক ফলাফলের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৩৮৭.৬২ কোটি টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে এবং কর পরিশোধের পর ৪৪.৬৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার বণ্টনের প্রস্তাবসহ অন্যান্য আলোচ্যসূচি অনুমোদিত হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত থাকা শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির এই সামগ্রিক আর্থিক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনলাইন এই সভায় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এম আনিস উদ দৌলা, সাঞ্চিয়া চৌধুরী, মুনিজে মঞ্জুর, সিলভানা সিকদার, মুনসুরা রহমতউল্লাহ, শাহানা রহমতউল্লাহ, আনিকা চৌধুরী, এম এ মাজেদ, পারভীন আক্তার, রোজিনা আফরোজ, শফিকুল ইসলাম খান এবং শেখ মোহাম্মদ সেলিমউল্লাহ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শাহরিয়ার আহসান ও কোম্পানি সচিব ইমরান হাসানসহ সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে জাকির আহমেদ খান সকল শেয়ারহোল্ডারকে তাঁদের অকুন্ঠ সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও শ্রমের প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনগুলোতেও এই কর্মস্পৃহা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ প্রাইম একাডেমিয়ার আওতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স) এবং ইউনিভার্সিটির ‘ক্যারিয়ার ক্লাব’-এর সহযোগিতায় “ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন: এনগেজিং অ্যান্ড ইনস্পায়ারিং ইয়ুথ ইন ব্যাংকিং” শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ ইনফরমেশন অফিসার সৈয়দ সাজ্জাদ হায়দার চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে তরুণদের ক্যারিয়ার গঠন, গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব লায়্যাবিলিটি অ্যান্ড উইমেন ব্যাংকিং শায়লা আবেদীন নৈতিক নেতৃত্ব, পরিস্থিতি বুঝে সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে নারীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড স্কুল ব্যাংকিং এম এম মাহবুব হাসান তরুণদের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা ও অর্থ ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি প্রাইম ব্যাংকের গত ৩১ বছরের পথচলায় অর্জিত সাফল্য ও উদ্ভাবনী উদ্যোগসমূহ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জুলহাস উদ্দিন, যিনি ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন বুটেক্সের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমান।
এই সেমিনারের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক প্রাইমএকাডেমিয়ার মাধ্যমে তরুণদের আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে একাডেমিয়া ও বাস্তবমুখী ব্যাংকিং সেবার মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি এবং বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ার-এর মধ্যে সম্প্রতি একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্ড বিজনেস ডিভিশনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির ফলে পূবালী ব্যাংকের গ্রাহকরা আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও ছাড় পাবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংকের কার্ড বিজনেস প্রধান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক এনএম ফিরোজ কামাল এবং নভোএয়ার-এর মার্কেটিং ও সেলস ডিরেক্টর সোহেল মজিদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং কার্ড মার্কেটিং প্রধান ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুল্লাহ খানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এই সমঝোতার আওতায় পূবালী ব্যাংকের কার্ডধারীদের জন্য টিকিট ক্রয়ে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পূবালী মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা নভোএয়ার-এর মোবাইল অ্যাপ এবং সেলস কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ বিশেষ ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি পূবালী ব্যাংকের অন্যান্য সকল কার্ডধারীদের জন্য থাকছে ১০ শতাংশ মূলছাড়ের সুবিধা।
এনসিসি ব্যাংক সম্প্রতি প্রধান কার্যালয়ের নারী কর্মীদের জন্য ‘মাইন্ড ম্যাটারস: ওয়ার্কপ্লেস মেন্টাল হেলথ টক ফর উইমেন’ শীর্ষক একটি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করেছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. নাসিম জাহান। তিনি কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক যেমন—মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, আবেগীয় স্থিতিস্থাপকতা এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদান করেন।
এছাড়া, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ডিএএসএস (ডিপ্রেশন অ্যাংজাইটি স্ট্রেস স্কেল) এবং পিএইচকিউ (পেশেন্ট হেলথ কোয়েশ্চেনিয়ার) এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন টুলসের সঙ্গে পরিচিত করা হয়। এসব টুলস অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হতে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে। এনসিসি ব্যাংকের ইভিপি ও হেড অব সাসটেইনেবল অ্যান্ড উইমেন্স ব্যাংকিং নিঘাত মমতাজ এই কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন।
ব্যাংকের ১৪২ জন নারী কর্মকর্তা সরাসরি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন শাখার নারী কর্মকর্তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এতে যুক্ত হন। বর্তমানে পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাংকের এ ধরনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণকারীরা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) পদে যোগ দিয়েছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এর আগে তিনি দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসবিএসি ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ১৯৯৪ সালে আইএফআইসি ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে ব্যাংকিং ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং সেখানে আট বছরের বেশি কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি সাউথইস্ট ব্যাংকে যোগ দেন। এখানে ২০ বছর কর্মরত ছিলেন। এ সময় প্রিন্সিপাল ও ধানমণ্ডি শাখার ব্যবস্থাপক এবং ফরেন ট্রেড সার্ভিসেস ডিভিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংকে ডিএমডি পদে যোগ দেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দীর্ঘ ৩২ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী পরিকল্পনা প্রণয়ন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্পদের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান উল্লেখযোগ্য। ব্যাংকিং খাতে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং একাধিকবার সেরা ব্যবস্থাপকের সম্মাননা পেয়েছেন।
ব্যাংকিং খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের লক্ষ্যে সিটি ব্যাংক এবং হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড বাংলাদেশ (এইচএসবিসি) একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর সিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অধীনে সিটি ব্যাংক এইচএসবিসি ব্যাংককে তাদের এমপ্লয়ি ব্যাংকিং সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।
সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসেন খালেদের উপস্থিতিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব উর রহমান। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি সইকালে সিটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিএফও মো. মাহবুবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ইকোনমিস্ট আশানুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান অরূপ হায়দার এবং এমপ্লয়ি ব্যাংকিং প্রধান হাসান উদ্দিন আহমেদ। এক বিজ্ঞপ্তি সূত্রে এই কৌশলগত চুক্তির তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। উভয় ব্যাংক মনে করছে, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে ‘কমিউনিটি এডুসুইট ৩৬০’—একটি আধুনিক, উদ্ভাবনী ও সমন্বিত স্কুল ব্যাংকিং সমাধান; যা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক, প্রশাসনিক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরে এই সেবাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র চেয়ারম্যান জনাব মো. আলী হোসেন ফকির।
শিক্ষা খাতে উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কমিউনিটি ব্যাংক তৈরি করেছে ‘কমিউনিটি এডুসুইট ৩৬০’—একটি পূর্ণাঙ্গ এন্ড-টু-এন্ড ব্যাংকিং ও সেবা প্ল্যাটফর্ম। এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থী কল্যাণের বিভিন্ন চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে। সমন্বিত এই সেবা প্যাকেজ প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের আর্থিক সচেতনতা উন্নয়ন, অভিভাবকদের জন্য সহজ সেবা নিশ্চিতকরণ এবং পুরো স্কুল ইকোসিস্টেমে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন; তাঁদের মধ্যে ছিলেন—জনাব এ. কে. এম. আওলাদ হোসেন, অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিন), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মো. আকরাম হোসেন, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি (ফিন্যান্স), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মো. শিবগাত উল্লাহ, বিপিএম (সেবা), পিপিএম, অ্যাডিশনাল আইজি (ডেভেলপমেন্ট), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব সরদার নূরুল আমিন, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কাজী মো. ফজলুল করিম, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল আইজি অ্যান্ড রেক্টর, পুলিশ স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কামরুল আহসান, ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব মুনতাসিরুল ইসলাম, পিপিএম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (হাইওয়ে পুলিশ), বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব আহমেদ মুঈদ, বিপিএম (সেবা), অ্যাডিশনাল ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পুলিশ; জনাব কামরুল হাসান তালুকদার, ইন্সপেক্টর, বাংলাদেশ পুলিশ; ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব সৈয়দ রফিকুল হক, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন এফসিএ, স্বতন্ত্র পরিচালক; জনাব কিমিয়া সাআদাত, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং কোম্পানি সচিব জনাব সাইফুল আলম এফসিএসসহ অন্যরা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা যারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।