দেশের সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটনের পণ্য কিনে ‘ননস্টপ মিলিয়নিয়ার’ হওয়ার কাতারে এবার যুক্ত হলেন রাজধানী ডেমরার হালিমা আক্তার দিপু। সারা দেশে চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২০-এর আওতায় কিস্তি সুবিধায় ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা। হয়েছেন ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের ৩৮তম মিলিয়নিয়ার। ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হালিমা আক্তার।
গত সোমবার রাজধানী ডেমরায় এমএস টাওয়ারে ওয়ালটন প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হালিমা আক্তারের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আমিন খান।
আসন্ন ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী চলছে ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২০। এর আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম ও অনলাইন সেলস প্ল্যাটফর্ম ‘ই-প্লাজা’ থেকে ফ্রিজ, এসি, টিভি, ওয়াশিং মেশিন বা ফ্যান ক্রয়ে ক্রেতাদের ‘ননস্টপ মিলিয়নিয়ার’ হওয়ার সুবিধা দিচ্ছে ওয়ালটন। এ ছাড়াও রয়েছে কোটি কোটি টাকার নিশ্চিত উপহার।
চলমান ক্যাম্পেইনের আওতায় গত ১৮ মে ডেমরার এমএস টাওয়ার ওয়ালটন প্লাজা থেকে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ডাউনপেমেন্ট দিয়ে কিস্তি সুবিধায় ৩১২ লিটারের একটি ফ্রিজ কেনেন হালিমা আক্তার। ফ্রিজটি কেনার পর তার নাম, মোবাইল নম্বর এবং ক্রয়কৃত ফ্রিজের মডেল নম্বর ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তার মোবাইলে ওয়ালটনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়ার একটি মেসেজ যায়।
হালিমা আক্তারের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর গজারিয়ায়। ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কর্মরত তিনি। ৪ সদস্যের বাসায় নিজেদের ব্যবহারের জন্য ওয়ালটনের ফ্রিজটি কেনেন তিনি।
পুরস্কার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে হালিমা আক্তার বলেন, ওয়ালটন ফ্রিজের গুণগতমান যেমন ভালো, তেমনি দামও সাধ্যের মধ্যে। তাই বাসার জন্য ওয়ালটন ফ্রিজ কিনি। কিন্তু ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে যে ১০ লাখ টাকা পাব তা কখনো ভাবিনি। ওয়ালটনের কাছ থেকে পাওয়া এ টাকা দিয়ে ব্যবসা করব। ওয়ালটনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
চিত্রনায়ক আমিন খান বলেন, বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক্স পণ্য দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে ওয়ালটন। ওয়ালটন শুধু ব্যবসাই করছে না, তারা মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও কাজ করছে। আমাদের দেশেই এখন আন্তর্জাতিকমানের পণ্য তৈরি হচ্ছে। তাই আমাদের উচিত কষ্টার্জিত টাকায় বিদেশি পণ্য না কেনা।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেমরা থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন্স) সুব্রত পোদ্দার, সাব-ইন্সপেক্টর মো. মাজহার, ওয়ালটনের চিফ ডিভিশনাল অফিসার ইমরোজ হায়দার খান, ডিভিশনাল ক্রেডিট ম্যানেজার জাকির হোসেন, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার আবু নাসের প্রধান, রিজিওনাল ক্রেডিট ম্যানেজার মিজানুর রহমান, ওয়ালটন ফ্রিজের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান ও ওয়ালটন প্লাজা ম্যানেজার মেহেদি হাসান।
টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ডে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ড্যাফোডিল বাংলাদেশে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক তালিকায় প্রতিষ্ঠানটি ৩৫১ থেকে ৪০০ ব্যান্ডের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এবারের র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ স্কোরের মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৩৮ দশমিক ২২ নম্বর পেয়েছে। মূলত পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই সূচকগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার মান, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার গুণগত মান, শিল্পখাতের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নিবিড় সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি। ড্যাফোডিল প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এই সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক মান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার আরও জোরদার করেছে। বিশ্বমানের মানদণ্ড অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষার সুযোগ তৈরির নিরলস প্রচেষ্টা এই র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আন্তর্জাতিক সংযোগ এবং উন্নত গবেষণার সুযোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাঙ্কিংয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই অবস্থান প্রতিষ্ঠানটির মানসম্মত শিক্ষা এবং বৈশ্বিক জ্ঞান বিনিময়ের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিষ্ঠানটির বলিষ্ঠ পদক্ষেপকে তুলে ধরে। উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রসারেও ড্যাফোডিল অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই অনন্য অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। এটি কেবল ড্যাফোডিলের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা খাতের ভাবমূর্তিও বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করেছে। ভবিষ্যতেও বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এবং আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ সম্প্রতি ‘এআই অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি ইন ইন্ডাস্ট্রি: হোয়াই অ্যাডভান্সড স্কিলস ম্যাটার’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুর এলাহী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে শিল্পক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান।
সেমিনারে প্যানেল বক্তা হিসেবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন। আলোচকদের মধ্যে ছিলেন ‘নোঅটোমেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ড. জুনায়েদ কাজী, এসিআই এআই বিজনেসের ডিরেক্টর ও সিওও মোহাম্মদ অলি আহাদ এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের তথ্য নিরাপত্তা প্রধান মুহম্মদ শওকত আলী ও বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদ ওয়াসিফ রেজা এবং সিএসই বিভাগের চেয়ারপারসন ড. মাহীন ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা আধুনিক বিশ্বে সাইবার নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন যে, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে কেবল নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা ‘টুলস’-এর ওপর নির্ভরশীল হওয়া চলবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য কম্পিউটার সায়েন্সের মৌলিক কারিগরি জ্ঞানের ভিত্তি মজবুত করা অপরিহার্য। সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য নিয়মিত নিজেকে আপগ্রেড করার কোনো বিকল্প নেই বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তুলতে অ্যাকাডেমিক পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সেমিনারে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড মেশিন লার্নিং’ এবং ‘সাইবার সিকিউরিটি’-তে মাস্টার্স কোর্সের গুরুত্ব ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর উপযোগিতা তুলে ধরা হয়। সেমিনারের শেষ অংশে সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ক্যারিয়ার ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজে পান।
ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)-এর চারুকলা অনুষদ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনী ‘প্রস্তরযুগের নয়াজলসা ২০২৬’। ধানমন্ডির ১২/এ সড়ক সংলগ্ন লেকপাড়ে এক ঝকঝকে সকালে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সূচনা হয়। শিল্প, সংস্কৃতি ও স্মৃতিচারণে ভরপুর এই অনুষ্ঠানে প্রথম থেকে ৫৮তম আবর্তনের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো লেকপাড়কে একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত করে। দীর্ঘ সময় পর সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে পেয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে ইউডার রেজিস্ট্রার ড. ইফাত কায়েস চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এমন বৃহৎ আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক শিল্পী ড. রশীদ আমিন ইউডা চারুকলার প্রতিষ্ঠাকালীন দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, চায়ের দোকানে বসে এক সময় এই বিভাগ চালুর পরিকল্পনা হয়েছিল এবং দেশে এমএফএ পড়ার সীমিত সুযোগ থাকায় প্রথম ব্যাচ থেকেই ব্যাপক সাড়া মিলেছিল। বর্তমানে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাফল্য দেখে তিনি অত্যন্ত গর্বিত বলে জানান।
চারুকলা অনুষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আলাউদ্দিন আহমেদ তাঁর প্রিয় শিক্ষার্থীদের সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁদের কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, অনুষদের ডিন ও একুশে পদক বিজয়ী শিল্পী শাহজাহান আহমেদ বিকাশ তাঁর বক্তব্যে বিভাগীয় চ্যালেঞ্জসমূহ এবং বর্তমানের অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হওয়া এই বিভাগটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শক্তিশালী পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পুরো দিনের সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও জমজমাট। আহসানুর জামান তিনু ও মোরসালীনা অনিকার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় ম্যাক সোহানের বাঁশির সুর, জাকিয়া সুলতানা ও আব্দুল্লাহ আল ফারুকের আবৃত্তি এবং শেখ শায়লা ও সমীরণ সরকারের গান। পিংকি ও মন্জরী মাধুরীমার নৃত্য এবং রূপের পুথিঁ পাঠ দর্শকদের মুগ্ধ করে। এ ছাড়াও একটি বিশেষ ফ্যাশন শো এবং পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার গানের সাথে আকাশ ও অনুরাধার আকর্ষণীয় ছায়াছন্দ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের আকর্ষণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে হাসিনুল আলম সুজন জানান, ‘প্রস্তরযুগের নয়াজলসা’ কেবল একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পেশাদার ও আত্মিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। বিভিন্ন আবর্তনের শিক্ষার্থীদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টাকে সবাই সাধুবাদ জানিয়েছেন। দিনভর আড্ডা, হাসি আর স্মৃতি রোমন্থনের মধ্য দিয়ে এই সফল আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সম্মিলিত কাজের প্রেরণা জোগাবে।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের বৃহৎ প্রদর্শনী ‘বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬’ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের দ্রুত বিকাশমান পোশাক শিল্পের জন্য এই আয়োজনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই মেলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
বিকেএমইএ এবং ইনফোরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি কো. লিমিটেড যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। আগামী ২৯ এপ্রিল সকাল ১০টায় আইসিসিবিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বিটিকেজির কনভেনার ফজলে শামীম এহসানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬-এ বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারেরও বেশি প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো রয়েছে। আইসিসিবির আটটি প্রদর্শনী হল জুড়ে প্রায় এক হাজার ৮০০টি বুথ নিয়ে ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকা ব্যাপী এই বিশাল আয়োজনটি বিস্তৃত থাকবে। এই বৃহৎ পরিসরের আয়োজনটি মূলত বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের প্রতি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন।
মেলার মূল আকর্ষণের পাশাপাশি শিল্প সংশ্লিষ্টদের জ্ঞান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী চলাকালীন বিকেএমইএ, বিইউটেক্স এবং টেক্সটাইল ট্যুডে যৌথভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করবে। যেখানে পোশাক শিল্পের বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, আধুনিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এসব আলোচনার মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক বাজারের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার দিকনির্দেশনা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তা, টেকনিশিয়ান এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এই এক্সপো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এক অনন্য সুযোগ করে দেবে। আয়োজকরা প্রত্যাশা করছেন, এই মেলা কেবল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করবে না, বরং বাংলাদেশের পোশাক খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
১৯তম ঢাকা মোটর শো-তে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ‘আয়ন’ (AION) উন্মোচন করেছে বাংলাদেশে জিএসি মোটরসের (GAC Motors) একমাত্র পরিবেশক ডি এইচ এস মোটরস লিমিটেড। থাইল্যান্ড ও চীনের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বিক্রির দিক থেকে নিয়মিত শীর্ষ তিনে থাকা এই ব্র্যান্ডটি টানা তিন বছর চীনের ‘ভেহিকেল কোয়ালিটি’ র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছে। বাংলাদেশে এই পরিবেশবান্ধব ব্র্যান্ডটির প্রবর্তন দেশের অটোমোবাইল শিল্পের আধুনিকায়ন এবং বিদ্যুতায়নের পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে আয়নের দুটি বিলাসবহুল ইভি মডেল ‘আয়ন ওয়াই’ (AION Y) এবং ‘আয়ন ভি’ (AION V) দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। প্রশস্ত ইন্টেরিয়র, আধুনিক ফিচার এবং আভিজাত্যের সমন্বয়ে তৈরি এই গাড়িগুলো দীর্ঘ পথ চলার নিশ্চয়তা দেয়। কারিগরি তথ্যানুযায়ী, আয়ন ওয়াই একবার পূর্ণ চার্জে ৪৩০ কিলোমিটার এবং আয়ন ভি ৪৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে সক্ষম। উন্নত প্রযুক্তির এই ইলেকট্রিক গাড়িগুলো মেলায় আগত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মোটর শো উপলক্ষে এই নতুন মডেল দুটির ওপর বিশেষ প্রারম্ভিক অফার ঘোষণা করেছে ডি এইচ এস মোটরস। বর্তমানে আয়ন ওয়াই ৫০ লাখ টাকায় এবং আয়ন ভি ৬২ লাখ টাকায় কেনার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ডি এইচ এস মোটরস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই তারা এই শক্তিশালী ইলেকট্রিক ব্র্যান্ডটি দেশের বাজারে নিয়ে এসেছে।
আয়ন ব্র্যান্ডের ইভি ছাড়াও মেলায় জিএসি মোটরসের জনপ্রিয় ‘এমজু’ (EMZOOM), ‘এমকু’ (EMKOO) এবং অতি বিলাসবহুল এমপিভি ‘ই৯’ (E9) প্রদর্শিত হয়েছে। তরুণ গ্রাহকদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে আকর্ষণীয় ডিজাইনের এমজু এবং এমকু মডেল দুটির দাম মেলা উপলক্ষে যথাক্রমে ৪০ লাখ ও ৪৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের মোটর শো-তে প্রথম উন্মোচিত হওয়া এবং আরাম ও আভিজাত্যের জন্য সমাদৃত ই৯ গাড়িটি বর্তমানে ১ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা মোটর শো-তে ডি এইচ এস মোটরসের এই আয়োজন বাংলাদেশের অটোমোবাইল সেক্টরে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আধুনিক এসইউভি থেকে শুরু করে বিলাসবহুল এমপিভি এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি—সব মিলিয়ে জিএসি এবং আয়নের এই নতুন লাইনআপ গ্রাহকদের মাঝে ব্র্যান্ড দুটির অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা লাভের সুযোগ পেয়েছে।
ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে নরসিংদীতে দিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ’ বিষয়ক একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ এপ্রিল নরসিংদীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আয়োজনে লিড ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার এবং আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণকে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনাই ছিল এই সেমিনারের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জনাব আরিফ হোসেন খান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক জনাব আ.ন.ম. মঈনুল কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মির্জা আজহার আহমদ। সেমিনারে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, গ্রাহক, বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক এবং এমএফএস প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি, তথ্যসমৃদ্ধ উপস্থাপনা এবং উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে ‘বাংলা কিউআর’ সহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সুবিধাসমূহ জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। বক্তারা নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের নিরাপত্তা ও দ্রুততার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ব্যাখ্যা করেন। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ এবং কিউআর পেমেন্টে বিশেষ ছাড় প্রদানের মাধ্যমে জনগণকে এই নতুন ব্যবস্থায় উৎসাহিত করা হয়।
এই উদ্যোগটি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে এবং একটি দক্ষ ডিজিটাল অর্থনীতি বিনির্মাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। লিড ব্যাংক হিসেবে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি’র এই সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আয়োজনটি সফলভাবে পরিচালনা করা ক্যাশলেস স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের সৃজনশীল ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢাকার সাঁতারকুলে সান ভ্যালি আবাসনের নাটমেগ ফিল্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ‘অ্যাক্সেনটেক প্রেজেন্টস এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) এবং নাটমেগের যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি দেশের কর্পোরেট ফুটবলের অন্যতম বড় আসর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্পোরেট জগতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর উপস্থিতিতে এক অনন্য ফুটবল উন্মাদনা তৈরি হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম।
অনুষ্ঠানে সিঙ্গার বাংলাদেশের এমডি ও সিইও এম এইচ এম ফাইরোজ, এসটিএস ক্যাপিটালের সিইও মানাস সিং, এ অ্যান্ড ই-র গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ক্রিস অল্ট, অ্যাক্সেনটেকের এমডি ও সিইও মো. আদিল হোসেন এবং এফআইসিসিআই-এর নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে কর্পোরেট পর্যায়ে ফুটবল প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দলগত কাজ, নেতৃত্ব এবং কর্পোরেট সংহতি বৃদ্ধির সুফল তুলে ধরেন। দেশের ক্রমবর্ধমান ফুটবল সংস্কৃতিতে এই টুর্নামেন্টটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এবারের আসরে দেশের ২০টি শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফুডপান্ডা বাংলাদেশ ৪-০ গোলে সিঙ্গার বাংলাদেশকে পরাজিত করে দাপুটে শুভসূচনা করেছে। দিনের অন্যান্য খেলায় আমেরিকান অ্যান্ড এফার্ড বাংলাদেশ ২-১ গোলে এসটিএস গ্রুপকে হারায় এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৩-০ গোলের জয় পায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বিপক্ষে। এছাড়া অন্য একটি ম্যাচে রবি আজিয়াটা পিএলসি ২-০ গোলে নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি-কে পরাজিত করে মাঠের উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
টুর্নামেন্টটিতে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে পাশে রয়েছে টেক জায়ান্ট অ্যাক্সেনটেক। এছাড়াও সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সিঙ্গার-বেকো, বেভারেজ পার্টনার হিসেবে স্প্রাইট মিন্ট, পিআর পার্টনার ব্যাকপেজ পিআর এবং এয়ারলাইন পার্টনার হিসেবে নভোএয়ার এই আয়োজনের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই দীর্ঘ ক্রীড়া আসরে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত ১৬টি ম্যাচ দিনে মোট ৫০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টটি গ্রুপ পর্ব ও নকআউট ফরম্যাটে সাজানো হয়েছে, যেখানে কাপ ও প্লেট—উভয় সেগমেন্টে দলগুলো শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে লড়বে।
সাধারণ দর্শকদের জন্য টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নাটমেগ ঢাকা এবং এফআইসিসিআই-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ম্যাচগুলো সরাসরি দেখা যাবে, যার ফলে অনলাইন দর্শকরাও এই ফুটবল উন্মাদনায় শামিল হতে পারছেন। উদ্বোধনী দিনের ব্যাপক সাফল্য এবং অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্দীপনা দেখে আয়োজকরা আশা করছেন যে, এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ কর্পোরেট সংহতি ও সুস্থ বিনোদনের একটি অনন্য সফল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।
জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো দেশের বিনোদন জগতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০২৫’। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই উৎসবটি ছিল পুরস্কারের ২৭তম আসর। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং সংগীত অঙ্গনের একঝাঁক তারকার উপস্থিতিতে এই সন্ধ্যাটি বিনোদনপ্রেমীদের জন্য এক রঙিন উৎসবে পরিণত হয়। মেরিল এবং জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর এই যৌথ উদ্যোগ গত আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অনুষ্ঠানে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মালিক মোহাম্মদ সাঈদ তাঁর বক্তব্যে দেশীয় সংস্কৃতির সৃজনশীল মানুষদের সম্মান জানানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই আয়োজনটি স্রেফ পুরস্কার প্রদান নয়, বরং শিল্পীদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে শিল্পকলা ও বিনোদন অঙ্গনের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করা। দর্শকদের ভোটে এবং বিচারকদের মূল্যায়নে এ বছর জনপ্রিয় ও সমালোচক বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিল্পী মনোনয়ন পেয়েছিলেন। দেশের শিল্প ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে মেরিল ও প্রথম আলোর এই দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করেন উপস্থিত অতিথিরা।
এবারের আসরে জনপ্রিয় ক্যাটাগরিতে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন আফরান নিশো এবং সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন তমা মির্জা। পাশাপাশি সেরা নবীন অভিনয়শিল্পী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন শাম্মি ইসলাম নীলা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনপ্রিয় তারকা জুটি আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁদের বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা পুরো আসরে নতুন মাত্রা যোগ করে। শিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত দর্শক ও শুভানুধ্যায়ীদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
সন্ধ্যার সবচেয়ে আবেগঘন ও মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্ত ছিল আজীবন সম্মাননা প্রদান পর্ব। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের বরেণ্য অভিনেতা এম. এ. আলমগীরকে এ বছর আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী এবং প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। এছাড়া সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীতশিল্পী মাহফুজ আনাম জেমসকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। বরেণ্য এই শিল্পীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন উপস্থিত সকলে।
পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জনপ্রিয় তারকাদের চোখধাঁধানো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নাচে-গানে ভরপুর এই অনুষ্ঠানটি আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য ছিল এক মনোজ্ঞ আয়োজন। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে দেশের বিনোদন অঙ্গনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ আসর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সৃজনশীল মানুষদের এই স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেশীয় বিনোদন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং নতুন প্রতিভাদের অনুপ্রাণিত করতে অনন্য ভূমিকা রাখছে।
গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে চলতি বছর দেশব্যাপী দেড়-শতাধিক এটিএম বুথ স্থাপন করছে আইএফআইসি ব্যাংক। বছরজুড়ে গৃহীত এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর আইএফআইসি টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব মো. মেহমুদ হোসেন ভার্চুয়ালি একযোগে ৮টি নতুন এটিএম বুথ উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার এটিএম বুথগুলোতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয়। গ্রাহক পরিষেবা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আইএফআইসি ব্যাংক এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সারাদেশে ১৪০০-এর অধিক শাখা ও উপশাখা নিয়ে আইএফআইসি ব্যাংক দেশের বৃহত্তম ব্যাংকিং নেটওয়ার্কগুলোর একটি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।
জনতা ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স সংগ্রহে দেশ সেরা ১০ ব্যাংকের স্বীকৃতি পেয়ে টপ টেন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। সম্প্রতি রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর এনআরবি’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক । সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এম. এস. সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন । জনতা ব্যাংকের পক্ষে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন ব্যাংকের ফরেন রেমিট্যান্স ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাব্যবস্থাপক ছাবিকুন নাহার ।
সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি তাদের ভিসা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য ‘গুগল পে’ (Google Pay) সেবা চালু করেছে। এর ফলে গ্রাহকরা এখন থেকে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে দ্রুত, নিরাপদ ও কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট করতে পারবেন।
এই সেবার মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংকের ভিসা কার্ড ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের কার্ড গুগল ওয়ালেটে সংযুক্ত করতে পারবেন এবং বিশ্বব্যাপী মার্চেন্ট পয়েন্টে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। এর ফলে ফিজিক্যাল বা প্লাস্টিক কার্ড বহনের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে এবং দৈনন্দিন লেনদেনে সহজতা, নমনীয়তা ও নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা বাড়বে—যা পিওএস (POS) মেশিন ও অনলাইন উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
‘গুগল পে’ উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি যেমন এনক্রিপশন ও টোকেনাইজেশন ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে গ্রাহকের প্রকৃত কার্ডের তথ্য মার্চেন্টদের কাছে প্রকাশ পায় না। ফলে প্রতিটি লেনদেন হয় অধিক সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য। এই উদ্যোগ সাউথইস্ট ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ।
সেবাটির উদ্বোধন উপলক্ষে সাউথইস্ট ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় বিভিন্ন অফার ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সাইন-আপ রিওয়ার্ড’, ‘গুগল পে’-তে প্রথম লেনদেনে ১০% ক্যাশব্যাক এবং ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন’ ক্যাম্পেইন।
সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুগল পে’ সেবার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালিদ মাহমুদ খান এবং ভিসার কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবিদুর রহমান চৌধুরী ও মো. মাহবুব আলমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬ সালে ভর্তি হওয়া ষষ্ঠ শ্রেণি (স্কুল ও মাদ্রাসা) এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর নম্বরে উপবৃত্তির টাকা পেতে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আগেও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে নগদ।
নতুন শিক্ষার্থীদের তথ্য নিবন্ধনের জন্য এই লিংকে গিয়ে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর মেন্যুতে গিয়ে ‘প্রাথমিক নির্বাচন’ অপশনে চাপ দিয়ে ‘নতুন শিক্ষার্থী এন্ট্রি’ অপশনে চাপ দিতে হবে। এরপর এন্ট্রি ফরমে শিক্ষার্থীর তথ্য, ঠিকানা ও আর্থসামাজিক তথ্য এন্ট্রি করে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে তা সংরক্ষণ করতে হবে। আগামী ৭ মে পর্যন্ত এই নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান থাকবে।
নগদে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে পিতা/মাতার মধ্যে যাঁকে অভিভাবক হিসেবে নির্বাচন করা হবে, তাঁর এনআইডি দিয়ে সংশ্লিষ্ট সিম রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টধারীর নাম হিসেবে শিক্ষার্থীর পিতা/মাতার নাম থাকবে।
এ বিষয়ে নগদের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও উপবৃত্তির টাকা অত্যন্ত সফলভাবে বিতরণ করে আসছে নগদ। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তির টাকা গ্রহণেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে থাকবে নগদ।’
তিনি বলেন, সহজে সবখানে সেবা পাওয়ায় নগদ এখন মানুষের কাছে একটি আস্থার নাম।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সরকার ৯ হাজার কোটি টাকার সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নগদের মাধ্যমে বিতরণ করে। চলতি অর্থবছরে এই অঙ্ক আরও অনেক বড় হবে। সহজে যেকোনো জায়গায় নগদের ক্যাশ আউট করার সুবিধা ও সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জের জন্য শুরু থেকেই ভাতাভোগীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে নগদ।
প্রথাগত ব্যাংকিং পদ্ধতির ঝামেলা এড়িয়ে ঘরে বসেই সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। দেশের শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডিপিএস খোলার হার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি গ্রাহক বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস বা সঞ্চয় হিসাব খুলেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সঞ্চয়কারীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশই নারী।
সঞ্চয়কারীদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিকাশ জানিয়েছে, ডিপিএস খোলা মোট গ্রাহকদের ৪৮ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অর্থাৎ, তরুণ প্রজন্ম তাদের সীমিত আয় থেকে সঞ্চয় করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতিকে বেছে নিচ্ছে। মূলত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ব্যবসার মূলধন সংগ্রহ, গৃহস্থালি পণ্য কেনা, শিক্ষা বা ভ্রমণের মতো বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে গ্রাহকেরা এই অর্থ সঞ্চয় করছেন। এমনকি ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যেও অনেকে টাকা জমাচ্ছেন।
২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাধ্যমে এই সেবা শুরু হলেও বর্তমানে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংক। গ্রাহকেরা সাধারণ সুদভিত্তিক ডিপিএসের পাশাপাশি সিটি ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ইসলামি শরিয়াহ্ মোতাবেক ‘ইসলামিক ডিপিএস’ খোলার সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে সঞ্চয়ের মেয়াদ ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সুদের হার বা মুনাফা সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে পৌনে ১০ শতাংশ পর্যন্ত মিলছে।
বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমানে সাপ্তাহিক ও মাসিক—উভয় পদ্ধতিতে সঞ্চয় করা যায়। সাপ্তাহিক ডিপিএসে প্রতি সপ্তাহে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা করা সম্ভব, যার মেয়াদ ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত। অন্যদিকে, মাসিক ডিপিএসে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমানোর সুযোগ রয়েছে, যার মেয়াদ ৬ মাস থেকে ৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
ডিপিএস খোলার প্রক্রিয়া:
বিকাশ অ্যাপের ‘সঞ্চয়’ বা ‘সেভিংস’ অপশন থেকে সহজেই এই হিসাব খোলা যায়। প্রথমেই গ্রাহককে সাধারণ ডিপিএস নাকি ইসলামিক ডিপিএস খুলবেন, তা বাছাই করতে হয়। এরপর সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তি, সময়সীমা এবং পছন্দের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হয়। শেষে নমিনির ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রদান করলেই হিসাবটি চূড়ান্ত হয়ে যায়। সফলভাবে হিসাব খোলা হলে গ্রাহকের মোবাইলে নিশ্চিতকরণ বার্তা বা এসএমএস পাঠানো হয়।
এই পদ্ধতিতে সঞ্চয় করার জন্য কোনো নথিপত্র নিয়ে সশরীরে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া সঞ্চয়ের বিবরণী অ্যাপ থেকেই দেখা যায় এবং এই ডিপিএস থেকে সরকার নির্ধারিত করছাড় সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে নিয়ম অনুযায়ী, হিসাবটি চালুর পর প্রথম ৩ মাস পূর্ণ হওয়ার আগে তা বাতিল করা যায় না। ৩ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর গ্রাহক চাইলে যেকোনো সময় হিসাব বন্ধের আবেদন করতে পারেন।