বর্জ্য অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমল ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ ‘প্রাণ-আরএফএল’।
গতকাল বুধবার বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বলে প্রাণ-আরএফএলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল এবং আমল ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইশরাত করিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব করপোরেট ব্র্যান্ড নুরুল আফসারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ‘বর্জ্য অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে একটি সবুজ আগামী’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির লক্ষ্য একটি বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, যার মাধ্যমে আরও টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি বা ইপিআরের অংশ হিসেবে আমরা এ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছি। এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা আমল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করব।’
আমল ফাউন্ডেশনের ইশরাত করিম বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই সমঝোতা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। আমরা প্রাথমিকভাবে স্বল্প পরিসরে কাজ করছি। ভবিষ্যতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা আরও বড় পরিসরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সাথে কাজ করতে পারব।’
তিনি জানান, দুই বছরব্যাপী এই প্রকল্পে আমল ফাউন্ডেশন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় জরিপ পরিচালনা, বর্জ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠান টেকনো ড্রাগস লিমিটেড ৫০ কোটি টাকার একটি কনভার্টেবল ও রিডিমেবল বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৪ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির ১৯৬তম বোর্ড সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। প্রস্তাবিত এই বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়াটি এখন কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই বন্ড ইস্যু কার্যক্রমের প্রধান মধ্যস্থতাকারী বা অ্যারেঞ্জার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে টেকনো ড্রাগস ও এমটিবি ক্যাপিটালের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই বন্ডের মাধ্যমে টেকনো ড্রাগস বাজার থেকে মোট ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বন্ডটির কাঠামোর একটি বিশেষ দিক হলো এর ৭৫ শতাংশ অংশ শেয়ারে রূপান্তরযোগ্য বা কনভার্টেবল এবং বাকি ২৫ শতাংশ অংশ রিডিমেবল বা পরিশোধযোগ্য হবে। ৫ বছর মেয়াদি এই বন্ডের মুনাফার হার বা কুপন রেট হবে ফ্লোটিং বা পরিবর্তনশীল। মূলত ৫ বছরের সরকারি ট্রেজারি বন্ডের বিদ্যমান হারের সাথে একটি নির্দিষ্ট মার্জিন যোগ করে এই কুপন রেট নির্ধারণ করা হবে। এটি একটি কুপন-পেয়িং বন্ড হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত বিরতিতে মুনাফা লাভের সুযোগ পাবেন।
বন্ড ইস্যু থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি সুসংহত করতে এবং বিশেষ করে বিদ্যমান ঋণ পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করা হবে। উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণ বা অন্যান্য দায় কমিয়ে কোম্পানির ঋণের বোঝা লাঘব করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। টেকনো ড্রাগসের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে যে, ঋণ পুনর্গঠনের এই কৌশলটি দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আর্থিক খরচ কমিয়ে আনবে এবং সামগ্রিক নিট মুনাফা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মূলত প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই নতুন অর্থায়ন পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড ২০২৪ সালে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানির ব্যবসায়িক সাফল্য বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, টেকনো ড্রাগস ৩৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় করেছে এবং এই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। এই ইতিবাচক আর্থিক অর্জনের প্রেক্ষিতে কোম্পানিটি ওই বছরের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশও ঘোষণা করেছে। ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক অর্থায়ন কৌশলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালক পর্ষদের ৪০৮তম সভা সম্প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ের পর্ষদ সভাকক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ ইউনুছ। মূলত ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ২০২৬ সালের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যেই এই নিয়মিত সভার আয়োজন করা হয়।
এই বোর্ড সভার অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগের নতুন প্রস্তাবসমূহ পর্যালোচনা করা। সভায় উপস্থিত পর্ষদ সদস্যরা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বেশ কিছু লাভজনক বিনিয়োগ প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, অনুমোদিত এই বিনিয়োগগুলো ব্যাংকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
সভায় পর্ষদের সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ ও জনাব ফকির আখতারুজ্জামান সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও পরিচালকবৃন্দের মধ্যে জনাব মো: সানাউল্লাহ সাহিদ, জনাব হারুন মিয়া, জনাব আব্দুল বারেক, জনাব আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা এবং জনাব খন্দকার শাকিব আহমেদ সভায় উপস্থিত থেকে তাঁদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। নীতিনির্ধারণী এই প্রক্রিয়ায় পরিচালকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমন্ত্রিত অন্যান্য পরিচালকদের মধ্যে সভায় অংশ নেন ইঞ্জি. মো: তৌহীদুর রহমান, জনাব মো: মশিউর রহমান চমক, জনাব ফকির মাসরিকুজ্জামান ও জনাব ফকির মনিরুজ্জামান। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন জনাব আবদুল হাকিম এবং স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব মো: রিয়াজুল করিম। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ব্যাংকিং কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র তুলে ধরতে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ এবং কোম্পানি সচিব জনাব মো: আবুল বাশার।
পরিশেষে সভায় ব্যাংকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা এবং আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের মূলনীতি অনুসরণ করে কীভাবে গ্রাহক সেবার মান আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করা যায়, সে বিষয়েও পর্ষদ সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। একটি ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে ৪০৮তম এই পর্ষদ সভার সফল সমাপ্তি ঘটে।
এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি-এর খুলনা জোনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘টাউন হল মিটিং-২০২৬’ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত শনিবার (১৬ মে) যশোরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় খুলনা অঞ্চলের সকল শাখা ও উপশাখার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষে এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের খুলনা ও বরিশাল জোনের প্রধান কৃষিবিদ মো. আব্দুল হালিম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান যে, ব্যাংকের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হয়েছে। আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা এবং ব্যাংকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা প্রতিটি কর্মীর পেশাগত দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। একটি টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরণের অনিয়ম পরিহার করে নৈতিক ব্যাংকিং চর্চার আহ্বান জানান তিনি।
চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংক বর্তমানে বিভিন্ন সূচকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অপারেটিং ইনকাম ও প্রফিটসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচকে ব্যাংকটি নিয়মিত ইতিবাচক অগ্রগতি বজায় রাখছে। তবে আগামীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায় তদারকি জোরদার করা এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের যুগে নতুন ‘ই-লোন’ এবং রেমিট্যান্স সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করার নির্দেশ দেন।
সভার বিশেষ অতিথি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খান খুলনা অঞ্চলের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন যাতে তাঁরা বিনা সুদ ও স্বল্প সুদের আমানত সংগ্রহের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও রিটেইল আমানতের ভিত্তি শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যাংকের তহবিল কাঠামো আরও সুসংহত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষে খেলাপি ঋণ আদায়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা পুনরায় মনে করিয়ে দেন তিনি।
পরিশেষে, এনআরবিসি ব্যাংককে দেশের অন্যতম শীর্ষ টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে কার্যকর কৌশল বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুণগত অবদান রাখাই হবে এই ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। যশোরের এই সম্মেলনে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একটি উন্নত ও স্বচ্ছ ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেনকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর’ এবং এনপিএসবি নেটওয়ার্কে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে পাঠাও পে। আজ ১৭ মে ২০২৬ তারিখে এই নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়। এর ফলে এখন থেকে রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বাজার ও শপিংয়ের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন কিউআর কোড ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে পাঠাও পে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে যেকোনো ব্যাংক বা পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের কিউআর কোড স্ক্যান করে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন। ইতোমধ্যে ফেয়ার ইলেকট্রনিক্স, সিক্রেট রেসিপি, প্রাভা হেলথ, ম্যাডশেফ, চিজ, পাগলা বাবুর্চি এবং লোটোর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও আউটলেটগুলোতে পাঠাও পে-এর মাধ্যমে কিউআর পেমেন্ট শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, পাঠাও-এর বিশাল রাইড ইকোসিস্টেম অর্থাৎ বাইক, কার এবং সিএনজি চালকদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ যাত্রীদের লেনদেনের অভিজ্ঞতাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।
এই সময়োপযোগী উদ্যোগ সম্পর্কে পাঠাও-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার সহজ ও স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন। বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁরা লক্ষ লক্ষ গ্রাহক ও মার্চেন্টের মধ্যে একটি নিবিড় সেতুবন্ধন তৈরি করছেন। এর ফলে পেমেন্ট পদ্ধতি আরও সহজতর হবে এবং একটি স্মার্ট ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে অনলাইন কেনাকাটা এবং কুরিয়ার সার্ভিসের বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআর সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা পাঠাও বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি কেবল একটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রাখছে। বর্তমানে পাঠাও-এর ১৫ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী এবং ৪ লক্ষাধিক হিরো ও ডেলিভারি এজেন্ট রয়েছে। এছাড়াও ২ লক্ষ মার্চেন্ট এবং ১৫ হাজার রেস্টুরেন্ট এই প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত আছে। সামগ্রিকভাবে ৬ লক্ষাধিক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে পাঠাও দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাত্রার একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে।
দেশের বাজারে কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স পণ্যের প্রাপ্যতা আরও সহজ এবং বিস্তৃত করতে একজোট হয়েছে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি ব্র্যান্ড স্যামসাং বাংলাদেশ এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান এসকোয়্যার ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড। রোববার (১৭ মে, ২০২৬) রাজধানীর এসকোয়্যার টাওয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে সারা দেশের গ্রাহকরা এসকোয়্যার ইলেকট্রনিক্স-এর সুপরিসর শোরুম নেটওয়ার্ক থেকেই স্যামসাংয়ের মানসম্মত ও আধুনিক পণ্যগুলো সরাসরি ক্রয় করার সুযোগ পাবেন।
অংশীদারিত্ব ঘোষণা অনুষ্ঠানে স্যামসাং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাং মিন জাং এবং কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ডিরেক্টর শাহরিয়ার বিন লুৎফরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে এসকোয়্যার ইলেকট্রনিক্স-এর প্রতিনিধিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরিফুর রহমান এবং ডিরেক্টর আজমান আরিফ রহমানসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ নির্বাহীরা। উভয় পক্ষই এই নতুন পথচলাকে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এই সমন্বিত উদ্যোগের আওতায় স্যামসাংয়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন এবং মাইক্রোওয়েভ ওভেনের মতো গৃহস্থালি পণ্যগুলো এখন স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য হবে। স্যামসাংয়ের বিশ্বমানের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং এসকোয়্যার ইলেকট্রনিক্সের দীর্ঘদিনের রিটেইল অভিজ্ঞতা ও আস্থার সমন্বয় গ্রাহকদের জন্য একটি প্রিমিয়াম কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। মূলত বিশ্বমানের প্রযুক্তিকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই দুই বড় প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সহযোগিতার এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে।
স্যামসাং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাং মিন জাং তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই অংশীদারিত্ব তাঁদের গ্রাহক-কেন্দ্রিক সেবার প্রতিশ্রুতিরই একটি প্রতিফলন এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে। এসকোয়্যার ইলেকট্রনিক্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আরিফুর রহমানও এই উদ্যোগ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, স্যামসাংয়ের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সাথে যুক্ত হতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত গর্বিত। তিনি মনে করেন, এই চুক্তির ফলে গ্রাহকদের জন্য আধুনিক সব প্রযুক্তির নাগাল পাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
গ্রাহকদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে আরও নির্বিঘ্ন ও আকর্ষণীয় করতে এই চুক্তির আওতায় বেশ কিছু বিশেষ সেবার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এসকোয়্যার ইলেকট্রনিক্স থেকে স্যামসাং পণ্য ক্রয় করলে গ্রাহকরা বিনামূল্যে হোম ডেলিভারি, দক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা প্রফেশনাল ইনস্টলেশন এবং শক্তিশালী ডেডিকেটেড ইন-হাউস সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারবেন। এই সব সুযোগ-সুবিধা একদিকে যেমন গ্রাহকদের আস্থা বাড়াবে, অন্যদিকে দেশের কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স বাজারে এক নতুন প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নত সেবার ধারা প্রবর্তন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে ‘সবার জন্য বিশ্বকাপ’ শীর্ষক একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করেছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে এই ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। মূলত দেশের প্রতিটি ঘরে বিশ্বকাপের উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের উন্নত প্রযুক্তির টেলিভিশন দেখার অভিজ্ঞতা দিতেই এই বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিঙ্গার ও বেকো ব্র্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে সাজানো এই ক্যাম্পেইনটি দেশব্যাপী ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে নতুন এক গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বিশেষ অফারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ১,০০০ জন গ্রাহকের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টেলিভিশন পাওয়ার সুযোগ। ক্যাম্পেইন চলাকালীন দেশব্যাপী সিঙ্গারের যেকোনো শোরুম অথবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম singerbd.com থেকে সিঙ্গার বা বেকো ব্র্যান্ডের টেলিভিশন ক্রয় করে গ্রাহকরা এই লটারিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। বিজয়ীদের জন্য থাকছে সমমানের নতুন একটি টিভি জিতে নেওয়ার অভাবনীয় সুযোগ। এছাড়া নির্দিষ্ট মডেলের টেলিভিশন ক্রয়ের ক্ষেত্রে উপহার হিসেবে রাখা হয়েছে ক্যাম্পেইনের লোগো সম্বলিত বিশেষ টি-শার্ট এবং ফুটবল, যা তরুণ ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করছে।
গ্রাহকদের জন্য বিশ্বকাপের আনন্দকে আরও সহজলভ্য করতে সিঙ্গার বাংলাদেশ আকর্ষণীয় এক্সচেঞ্জ সুবিধা এবং বিশেষ মূল্যছাড়ের ঘোষণাও দিয়েছে। এর মাধ্যমে পুরোনো টেলিভিশন বদলে নতুন প্রযুক্তির টিভি সংগ্রহের সুযোগ পাবেন সাধারণ মানুষ। কোম্পানির নীতিনির্ধারকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দর্শকদের একটি ভালো ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা জরুরি। সেই প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই উন্নত মানের ডিসপ্লে ও ইমার্সিভ ভিউয়িং ফিচারের টেলিভিশনগুলোতে এই বিশেষ ছাড় প্রদান করা হচ্ছে। দেশব্যাপী সিঙ্গারের সকল শাখায় একযোগে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এম. এইচ. এম. ফাইরোজ তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের মানুষের ফুটবল প্রেমের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি লাখো মানুষের এক অনন্য আবেগ। বিশ্বকাপের সময় পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে খেলা দেখার যে আনন্দ তৈরি হয়, তাকে আরও সজীব ও রঙিন করে তোলাই সিঙ্গারের লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, ‘সবার জন্য বিশ্বকাপ’ ক্যাম্পেইনটি কেবল পণ্য বিক্রির মাধ্যম নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের উৎসবের অংশীদার হওয়ার একটি প্রয়াস।
সিঙ্গার বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসরের সাথে দেশীয় গ্রাহকদের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হবে। করপোরেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়োপযোগী এই বিপণন কৌশল একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে, অন্যদিকে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত বিনোদনের সুযোগ করে দেবে। ফুটবল উন্মাদনা চলাকালীন সিঙ্গারের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন ডিজিটাল এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশী কর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে মালয়েশিয়া। এর প্রধান কারণ হলো দেশটির উন্নত বেতন কাঠামো এবং জীবনযাপনের অনুকূল পরিবেশ। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় একজন বিদেশি কর্মীর ন্যূনতম মূল বেতন বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা, যা অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বড় আকর্ষণ। কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তার মান অত্যন্ত উন্নত হওয়ায় এ দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের বড় একটি অংশ এই শ্রমবাজার থেকে আসে। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, একটি স্বার্থান্বেষী অসাধু চক্র এবং চিহ্নিত মানব পাচারকারী গোষ্ঠী এই সম্ভাবনাময় বাজারটি নস্যাৎ করতে বর্তমানে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং ব্যবসায়ীদের মতে, এই পাচারকারী চক্রটি পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক মহল এবং সরকারের কাছে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বৈধ রিক্রুটিং প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা, যাতে তারা নিজেদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। যেহেতু বৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ সচল থাকলে পাচারকারীদের ব্যবসা মন্দা থাকে, তাই তারা নানা কৌশল অবলম্বন করে এই বাজারটি বন্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার কর্মীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
পাচারকারী চক্রের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো টুরিস্ট ভিসার আড়ালে সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাচার করা। তারা সহজ-সরল কর্মীদের প্রলোভন দেখায় যে টুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া গিয়ে পরবর্তীতে সহজেই বৈধ হওয়া সম্ভব। এই মিথ্যা আশ্বাসের ফাঁদে পা দিয়ে অসংখ্য মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যখন এই অবৈধ অভিবাসীরা আইনি জটিলতায় পড়ে, তখন ষড়যন্ত্রকারীরা সচেতনভাবেই সেই দায়ভার বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সরকারের ওপর চাপিয়ে দেয়। এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
দেশের স্বার্থে এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। রিক্রুটিং খাতের অভিজ্ঞ মহলের দাবি, ভবিষ্যতে মালয়েশিয়ায় কর্মীদের বৈধকরণের ক্ষেত্রে যেন কেবল তাদেরই সুযোগ দেওয়া হয়, যারা বিএমইটি (BMET) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধ পন্থায় সেখানে গেছেন। যারা কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র বা স্মার্ট কার্ড ছাড়া টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে আইন অমান্য করছে, তাদের ক্ষেত্রে দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার আইনি সহযোগিতা প্রদান করা উচিত নয়। এমন কঠোর নীতি গ্রহণ করলে অবৈধ অভিবাসন কমে আসার পাশাপাশি মানব পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
পরিশেষে বলা যায়, মালয়েশিয়া শ্রমবাজার কেবল একটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্র নয়, এটি এদেশের হাজারো পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার। তাই এই বাজারকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে কোনো প্রকার অপপ্রচারে কান না দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই শ্রমবাজারকে সচল ও নিরাপদ রাখতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমেই কেবল এই সম্ভাবনাময় খাতের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বিজিডি ই-গভ সার্ট আয়োজিত “জাতীয় সাইবার ড্রিল ২০২৬”-এ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইবার বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি’র দল “CyberSavvy”।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা যাচাই করা হয়। সারাদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার শেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত স্কোরবোর্ড অনুযায়ী “CyberSavvy” দলটি ৫৭৫০ স্কোর অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করে।
দলের সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা, দ্রুত সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং সমন্বিত টিমওয়ার্ক এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিযোগিতায় সাইবার আক্রমণ শনাক্তকরণ, ইনসিডেন্ট রেসপন্স, ডিজিটাল ফরেনসিকস এবং সিকিউরিটি অ্যানালাইসিসভিত্তিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চূড়ান্ত স্কোরবোর্ড অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি’র “DBBL Cyber Squad” এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের “CBBL Warrior” দল।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এই অর্জন দেশের ব্যাংকিং খাতে সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে দক্ষ মানবসম্পদ, কার্যকর নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের সাইবার সক্ষমতা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে।
টিমটির নেতৃত্বে ছিলেন মো. আশিকুর রহমান। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— মো. মুশফিক উল আনাম, মো. নাহিদ ইসলাম চৌধুরী, মো. শাহীন কাদির এবং স্বরূপ সাহা।
প্রথম স্থান অর্জনের পর টিম লিডার মো. আশিকুর রহমান অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,“দেশের সেরা সাইবার টিমগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করা সত্যিই গর্বের ও আনন্দের। আমাদের পুরো টিম অত্যন্ত আন্তরিকতা, ধৈর্য ও টিমওয়ার্কের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে।”
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান কার— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,“আমাদের সম্মানিত CISO স্যার মো: সানোয়ার হোসেন-কে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সবসময় তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দিকনির্দেশনা এবং নিয়মিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুরো আইটি সিকিউরিটি টিমকে আপডেট ও অনুপ্রাণিত রাখেন। তার নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণাই আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।”
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের পেকুয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের যুবক হাবিবুর রহমান মার্সেল ব্র্যান্ডের একটি ফ্রিজ কিনে নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। দেশজুড়ে চলমান ‘মার্সেল ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪’-এর আওতায় তিনি নগদ ১০ লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছেন। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে একটি সাধারণ কেনাকাটার মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লাভ করেন তিনি। ১০ লাখ টাকা প্রাপ্তির এই সংবাদে মির্জাপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং বিজয়ী হাবিবুর এখন খুশিতে আত্মহারা।
সম্প্রতি মির্জাপুরের তক্তারচালা বাজারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে হাবিবুরের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এই চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান এবং অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। অনুষ্ঠানে মার্সেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেড অব বিজনেস হোসেন মো. রুহিন সাব্বির, ডেপুটি হেড অব বিজনেস মতিউর রহমান এবং অ্যাডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া মার্সেলের স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটর শোরুম ‘হোম ইলেকট্রনিক্স’-এর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনিও এই আনন্দঘন আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
মার্সেল কর্তৃপক্ষ জানায় যে, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তারা ক্রেতাদের জন্য এই বিশেষ ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে। এই অফারের আওতায় মার্সেল ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন কিংবা সিলিং ফ্যান কিনলে গ্রাহকরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জেতার সুযোগ পাচ্ছেন। বড় পুরস্কার ছাড়াও ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ৫০ হাজার টাকার ক্যাশ ভাউচার, আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক এবং অসংখ্য ব্যবহারিক উপহার। ঈদুল আযহা পর্যন্ত দেশব্যাপী মার্সেলের সকল শোরুমে এই ক্যাম্পেইনটি চালু থাকবে, যার মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটায় বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ যোগ হচ্ছে।
বিশাল এই পুরস্কার পাওয়ার পর মো. হাবিবুর রহমান তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন যে, এটি তাঁর কাছে এক অবিশ্বাস্য প্রাপ্তি। তিনি জানান, কোনো পণ্য কিনলে লাখ লাখ টাকা পাওয়া যায় তা আগে কেবল নাটক-সিনেমার দৃশ্যপটেই দেখতেন, যা আজ তাঁর জীবনে সত্যি হয়েছে। মার্সেল থেকে পাওয়া এই অর্থ দিয়ে তিনি তাঁর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করবেন বলে জানান। অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান মার্সেল পণ্যের গুণগত মানের প্রশংসা করে সবাইকে দেশীয় ব্র্যান্ড ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ বলেন, মার্সেল কেবল ব্যবসায়িক লাভের কথা ভাবে না, বরং ক্রেতাদের সুবিধা ও মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক পিএলসি এবং স্বনামধন্য অটোমোবাইল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান র্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেড (এমজি) একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং তাঁদের গাড়ি কেনার স্বপ্নপূরণে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা। গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত র্যানকন ব্রিটিশ মোটরসের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সমঝোতাটি চূড়ান্ত করা হয়। এর ফলে ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি গ্রাহকরা এখন বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধাও ভোগ করতে পারবেন।
স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-র সম্মানিত গ্রাহকরা এখন থেকে এমজি (MG) ব্র্যান্ডের যেকোনো মডেলের গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে র্যানকন ব্রিটিশ মোটরস থেকে বিশেষ মূল্যছাড় ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবেন। মূলত প্রিমিয়াম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে গ্রাহকদের বাড়তি ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ছাড়ের ফলে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য বিলাসবহুল ও নির্ভরযোগ্য এমজি গাড়ি কেনা আগের চেয়ে আরও সাশ্রয়ী ও সহজতর হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দলিলে সই করেন প্রাইম ব্যাংকের এসইভিপি ও হেড অব ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক মামুর আহমেদ এবং র্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রশিদ ভূইয়া। স্বাক্ষর শেষে তাঁরা দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার এই ব্যবসায়িক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। কর্মকর্তারা মনে করেন, এ ধরনের অংশীদারিত্ব কেবল ব্যবসায়িক প্রসারে নয়, বরং গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের ইভিপি ও হেড অব কনজ্যুমার অ্যাসেটস অ্যান্ড কার্ডস জোয়ার্দ্দার তানভীর ফয়সাল এবং র্যানকন ব্রিটিশ মোটরস লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হোসেন মাশনুর চৌধুরী অন্যতম। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে কেবল সঞ্চয় বা ঋণ সুবিধা নয়, বরং জীবনযাত্রার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সমাধান প্রত্যাশা করেন। সেই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েই এই অটোমোবাইল অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি দীর্ঘকাল ধরে গ্রাহকদের লাইফস্টাইল ভিত্তিক মানসম্পন্ন সেবা ও আধুনিক আর্থিক সমাধান প্রদানের মাধ্যমে আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। র্যানকন ব্রিটিশ মোটরসের সাথে এই নতুন সমন্বয় ব্যাংকটির সেই প্রতিশ্রুতি পালনেরই একটি অংশ। ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের উদ্ভাবনী এবং ভোক্তাবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে দেশের অটোমোবাইল বাজারে এমজি ব্র্যান্ডের প্রচার বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহক সম্পৃক্ততা আরও জোরালো হবে।
আকিজ রিসোর্সের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আকিজ আইবস লিমিটেড দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ‘কুরবানী রান’ শীর্ষক একটি বিশেষ গেমিং টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত আকিজ হাউজে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দেশীয় গেমিং শিল্পকে উৎসাহিত করা এবং তরুণদের জন্য সুস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গেমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইলিউশন আর্ক’-এর অধীনে এই প্রতিযোগিতাটি পরিচালিত হবে।
আগ্রহী গেমাররা ‘ইলিউশন আর্ক’ (https://illusionark.com) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে খুব সহজেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত চলমান এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী গেমারদের দক্ষতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। টুর্নামেন্ট শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ২৫ জন বিজয়ীকে বিশেষ সম্মাননা ও আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে। পুরস্কারের তালিকায় রয়েছে রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন এবং মাইক্রোয়েভ ওভেনসহ আধুনিক ও ব্যবহারিক বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আকিজ আইবস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জায়েদ বিন রশিদ এই উদ্যোগের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের তরুণদের মাদক, অনলাইন জুয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সুস্থ ও অর্থবহ বিকল্প বিনোদন মাধ্যম তৈরি করা জরুরি। ‘কুরবানী রান’ টুর্নামেন্টটি মূলত সেই লক্ষ্যেই সাজানো হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে এটি দেশীয় প্রেক্ষাপটে শুরু হলেও ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানের।
এই উদ্যোগটিকে আকিজ রিসোর্সের একটি ডিজিটাল কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রম হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বিদেশি গেমিং প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সংস্কৃতির ছোঁয়ায় তৈরি দেশীয় গেমের প্রচার ও প্রসার ঘটানোই এর অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরণের উদ্যোগ তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের গেমিং খাতের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক হবে এবং স্থানীয় গেম ডেভেলপারদের নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আকিজ রিসোর্সের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চিফ পিপল অফিসার মো. আফসার উদ্দিন, চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ তৌফিক হাসান এবং আকিজ বিল্ডিং সলিউশনস লিমিটেডের ক্লাস্টার সিইও আসাদুল হক সুফিয়ানী। এছাড়াও ‘কুরবানী রান’ গেমের প্রধান ডেভেলপার জুবায়ের আল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কারিগরি দলের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গেমটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একটি আধুনিক ও মেধাভিত্তিক ডিজিটাল সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
জমজমাট আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) পর্দা নামল ‘অ্যাক্সেনটেক প্রেজেন্টস এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর দ্বিতীয় আসরের। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)-র ব্যানারে নাটমেগ আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের কর্পোরেট ফুটবল অঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এবারের আসরে দেশের ২০টি শীর্ষস্থানীয় মাল্টিন্যাশনাল ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের লড়াই শেষে মোট ৫০টি রোমাঞ্চকর ম্যাচের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যা পেশাদার ফুটবল চর্চায় টিমওয়ার্ক এবং স্পোর্টসম্যানশিপের অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল বহুল প্রতীক্ষিত ‘কাপ ফাইনাল’, যেখানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে দুই দলের লড়াকু ফুটবল ও শক্তিশালী রক্ষণভাগের কল্যাণে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র থাকে। পরবর্তীতে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে টাইব্রেকারের সাহায্য নেওয়া হয়। স্নায়ুচাপের সেই লড়াইয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ডিএইচএল-কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রবি আজিয়াটা। ফাইনালে অসাধারণ অবদানের জন্য রবির খেলোয়াড় শাকিব ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। রবির এই জয় দলের সংহতি ও ফুটবলারদের দৃঢ় মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
এর আগে দিনের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় প্লেট ফাইনাল, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক নাটকীয় সাডেন-ডেথ টাইব্রেকারে শেভরন বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে। নির্ধারিত সময়ের খেলাটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়েছিল। টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন ডিএইচএল-এর শাহীনুর, যিনি ১০টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার লাভ করেন। একই দলের সৈকত তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হন। এছাড়া রবির গোলরক্ষক মুসাব্বির সেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি পান এবং পুরো টুর্নামেন্টে সুশৃঙ্খল ও আদর্শ স্পোর্টসম্যানশিপ প্রদর্শনের জন্য লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ ‘ফেয়ার প্লে ট্রফি’ অর্জন করে।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ফিকি-র পরিচালক এম এইচ এম ফাইরোজ, নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির এবং রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলমসহ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নাটমেগ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহবুব আলম এবং সিঙ্গার বাংলাদেশের মার্কেটিং ডিরেক্টর জুবায়েদ উল ইসলামও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। এই আয়োজনে টাইটেল স্পনসর হিসেবে ছিল অ্যাক্সেনটেক এবং কো-স্পনসর হিসেবে যুক্ত ছিল সিঙ্গার-বেকো। এছাড়াও স্প্রাইট মিন্ট, ব্যাকপেজ পিআর এবং নভোএয়ার এই আয়োজনে বিভিন্ন স্তরে সহযোগিতা প্রদান করে।
এই ফুটবল টুর্নামেন্টটি কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হিসেবেই নয়, বরং মাল্টিন্যাশনাল ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সৌহার্দ্য বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই প্রাণবন্ত আয়োজনটি প্রমাণ করেছে যে, কর্মক্ষেত্রের বাইরেও বাংলাদেশের কর্পোরেট কমিউনিটির মধ্যে সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। আয়োজকরা মনে করছেন, এ ধরণের উদ্যোগ পেশাদার জীবনযাত্রায় ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি দেশের ফুটবল উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে। একটি স্মরণীয় সমাপ্তির মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের এই আসর বিদায় নিলেও এটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে দীর্ঘকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশে বিদ্যমান ওয়াক্ফ এস্টেটগুলো সুচারুভাবে পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে সরকারের সহযোগিতা ও মোতাওয়াল্লীদের মধ্যকার ঐক্যের ওপর এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ওয়াক্ফ প্রশাসক (সচিব) সাফিজ উদ্দিন আহমেদের সাথে মোতাওয়াল্লী সমিতির এই সভায় মূলত ওয়াক্ফ সম্পত্তি রক্ষা এবং এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বর্তমান ও আগামীর চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমেই ধর্মীয় ও দাতব্য এই সম্পত্তিগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
মোতাওয়াল্লী সমিতির সভাপতি এবং হামদর্দ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ মোতাওয়াল্লী ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সমিতির মহাসচিব অধ্যক্ষ ড. আলমগীর কবীর পাটোয়ারী, সহ-সভাপতি ইয়ার মোহাম্মদ বেলাল এবং বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রবীণ ও নবীন মোতাওয়াল্লীরাও এই আলোচনায় অংশ নেন। সভায় উপস্থিত সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতাগুলো তুলে ধরে সেগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সভার আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়াক্ফ প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ মোতাওয়াল্লীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জাতীয় পর্যায়ের সকল প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ওয়াক্ফ প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং কোনো ক্ষেত্রে আইনি লঙ্ঘন বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি মোতাওয়াল্লীদেরকে নিজস্ব দায়িত্ব পালনে আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া ওয়াক্ফ আইনের মৌলিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ওয়াক্ফ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সুষ্পষ্ট ধারণার অভাব থাকায় প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। তিনি সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাধারণ পাবলিক প্রপার্টি এবং ওয়াক্ফ এস্টেট পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ পৃথক দুটি আইন বিদ্যমান। যেহেতু ওয়াক্ফ সম্পত্তি ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী ‘আল্লাহ’র সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচিত, সেহেতু এটি সরকার কর্তৃক প্রণীত বিশেষ বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইনগত পার্থক্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে অনেক বিবাদ এড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
মোতাওয়াল্লীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং অহেতুক হয়রানি রোধের বিষয়েও সভায় বিশেষ দাবি উত্থাপন করা হয়। ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন যে, আইন অনুযায়ী বেনিফিশিয়ারি বা সুবিধাভোগীরা ছাড়া অন্য কারও অভিযোগ গ্রহণযোগ্য না হলেও অনেক ক্ষেত্রে বহিরাগতরা ব্যক্তিস্বার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করছে। বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় এই অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করার ফলে সারাদেশে মোতাওয়াল্লীরা সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এই ধরণের হয়রানি ও বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে এবং বহিরাগতদের অপতৎপরতা রুখতে আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নিতে তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।