বর্জ্য অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমল ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ ‘প্রাণ-আরএফএল’।
গতকাল বুধবার বাড্ডায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বলে প্রাণ-আরএফএলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল এবং আমল ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইশরাত করিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব করপোরেট ব্র্যান্ড নুরুল আফসারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ‘বর্জ্য অপসারণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে একটি সবুজ আগামী’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির লক্ষ্য একটি বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা, যার মাধ্যমে আরও টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি বা ইপিআরের অংশ হিসেবে আমরা এ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছি। এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা আমল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করব।’
আমল ফাউন্ডেশনের ইশরাত করিম বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই সমঝোতা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। আমরা প্রাথমিকভাবে স্বল্প পরিসরে কাজ করছি। ভবিষ্যতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা আরও বড় পরিসরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সাথে কাজ করতে পারব।’
তিনি জানান, দুই বছরব্যাপী এই প্রকল্পে আমল ফাউন্ডেশন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় জরিপ পরিচালনা, বর্জ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশ রিটেইল ফোরাম ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে ‘বাংলাদেশ রিটেইল কংগ্রেস ২০২৬’-এর ৮ম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের কংগ্রেসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “ট্রান্সফর্মিং রিটেইল থ্রু নলেজ” বা “জ্ঞানের মাধ্যমে খুচরা বিক্রয় খাতের রূপান্তর।” স্বপ্নের পরিবেশনায় এবং সিঙ্গার ও বাটার সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সম্মেলনে সহযোগিতা করেছে কনকা ও গ্রি (ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেড)।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইলার, ব্র্যান্ড নেতৃত্ব, সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ এবং বিপণন পেশাজীবীরা অংশ নেন। সম্মেলনে ৩টি কি-নোট সেশন, ৩টি প্যানেল আলোচনা এবং ২টি ইনসাইট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের রিটেইল খাতের পরিবর্তনশীল বাস্তবতা, ডাটা-নির্ভর কৌশল, গ্রাহক আচরণ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।
আয়োজনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সাজিদ মাহবুব বলেন, “বর্তমান সময়ে রিটেইল খাতকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে জ্ঞানকে কার্যকর কাজে রূপান্তরের সক্ষমতা। পরিবর্তিত গ্রাহক চাহিদা বোঝা এবং দ্রুত অভিযোজনই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের রিটেইল খাত যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
কি-নোট সেশনে বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল ডিসট্রিবিউশন কোম্পানি বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আশরাফ বিন তাজ, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের কাস্টমার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট (সিবিডি) হেড শাদমান সাদিকিন এবং ওমনি স্ট্র্যাটেজির সিইও সামি আশরাফ। তাঁদের আলোচনায় ডিস্ট্রিবিউশন দক্ষতা, উদ্দেশ্যনির্ভর ব্যবসায়িক কৌশল এবং ভোক্তাদের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রযুক্তিনির্ভর রিটেইল ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ফুটে ওঠে।
কংগ্রেসে বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাটা বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফারিয়া ইয়াসমিন, সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের এমডি ও সিইও এমএইচএম ফাইরোজ, গ্রামীণ ডানোন ফুডস লিমিটেডের এমডি দীপেশ নাগ, বিজিএমইএ-এর পরিচালক ফাহিমা আখতার ও শাহ রায়ীদ চৌধুরীসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞবৃন্দ। প্যানেল আলোচনাগুলোতে রিটেইল খাতের ভবিষ্যৎ ধারা, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ও মুনাফার ভারসাম্য এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে ডাটা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সম্মেলনের শেষভাগে অংশগ্রহণকারীরা একটি টেকসই ও ভবিষ্যৎমুখী রিটেইল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই আয়োজনের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল বিজিএমইএ, নলেজ পার্টনার মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ, অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার টার্কিশ এয়ারলাইন্স এবং পিআর পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল ব্যাকপেজ পিআর।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে তেলচালিত যানবাহনের ব্যয় ও ভোগান্তি যখন সাধারণ মানুষকে নাজেহাল করছে, তখন গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান নিয়ে ওয়ালটন তাকিওন ইলেকট্রিক বাইক শুরু করেছে ‘সুপার সেভার কার্নিভাল’। এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় তাকিওন ইলেকট্রিক বাইকে সর্বোচ্চ ৯,৬০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভাগ্যবান একাধিক গ্রাহকের জন্য থাকছে সরাসরি মাঠে বসে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের খেলা দেখার রোমাঞ্চকর সুযোগ।
ক্যাম্পেইনটি প্রচারের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি দেশের ৬৪টি জেলার ৭০টিরও বেশি স্থানে একযোগে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইলেকট্রিক বাইক ব্যবহারের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ‘সুপার সেভার কার্নিভাল’-এর অফারগুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে তাকিওন ইলেকট্রিক বাইকের ‘ফ্রি সার্ভিস ক্যাম্পেইন’ ও ‘টেস্ট রাইড’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যেখানে তাকিওন ব্যবহারকারীরা আকর্ষণীয় ছাড়ে পার্টস কেনার সুবিধার পাশাপাশি বিনামূল্যে বাইক সার্ভিসিং করিয়ে নিতে পারছেন। এছাড়া আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য রয়েছে সরাসরি বাইক দেখা ও চালিয়ে দেখার (টেস্ট রাইড) সুযোগ।
তাকিওন ইলেকট্রিক বাইক বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ই-বাইক ব্র্যান্ড। দেশের রাস্তা ও পরিবেশের উপযোগী করে তৈরি এই বাইক আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা ও দ্রুত সেবার কারণে গ্রাহক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে তাকিওন ব্র্যান্ডের ৯টি ভিন্ন মডেলে আকর্ষণীয় সব কালার ভ্যারিয়েন্ট বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
এই ইলেকট্রিক বাইক অত্যন্ত সাশ্রয়ী; মডেলভেদে প্রতি কিলোমিটারে যাতায়াত খরচ মাত্র ১০ থেকে ২০ পয়সা। এতে রয়েছে ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জ, উন্নত গ্রাফিন ব্যাটারি, শক্তিশালী সাসপেনশন, রিমোট কি, ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড এবং স্পিড মোডসহ আধুনিক সব ফিচার। তাকিওন ই-বাইকে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অনায়াসেই যাতায়াত করতে পারেন।
উল্লেখ্য, দেশের প্রথম বিআরটিএ অনুমোদিত তাকিওন ইলেকট্রিক বাইক বর্তমানে ৭৮,৭৫০ টাকা থেকে ১,৮৩,০০০ টাকা মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহকরা দেশের প্রতিটি প্রান্তে থাকা ওয়ালটনের অফিসিয়াল শোরুম বা তাকিওন এক্সক্লুসিভ ডিলার আউটলেট থেকে নগদ অথবা সহজ কিস্তিতে এই বাইক ক্রয় করতে পারবেন।
ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেড (বিএএসএল)-এর ১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বিজয় সরণিস্থ ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-এর বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান জনাব রোমানা রউফ চৌধুরী।
সভায় কোম্পানির পরিচালক অধ্যাপক এম শাহজাহান মিনা, জনাব সোহেল আর কে হোসেন, জনাব এ এন এম মাহফুজ এবং জনাব মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল এফসিএ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মি. সুমন দাস, কোম্পানি সচিব জনাব মো. আনিসুল আলম সরকার এবং হেড অব ফিন্যান্স জনাব মো. নাহিদ রেজা উক্ত সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় কোম্পানির ব্যবসায়িক অগ্রগতি পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
রমজান মাসজুড়ে বিকাশ-এ রেমিট্যান্স গ্রহণ করে এক লাখ টাকা সহ বিভিন্ন অঙ্কের কুপন জিতেছেন প্রবাসীদের ২১ জন স্বজন। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে দেশে থাকা প্রিয়জনের কাছে সবচেয়ে সহজে, বৈধপথে, নিরাপদে তাৎক্ষণিক রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে বিকাশ। বিজয়ীদের কুপনগুলো সরাসরি তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই ক্যাম্পেইনে মাসিক সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী মো. নয়ন মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ টাকার মেগা কুপন।
পাশাপাশি, প্রতি সপ্তাহে পাঁচজন বিজয়ী পেয়েছেন ২৫ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস কুপন। এছাড়াও, প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার টাকা রেমিটেন্স গ্রহণ করলেই গ্রাহকরা পেয়েছেন ৩০০ টাকার ডিসকাউন্ট কুপন।
বর্তমানে, ১৭০টিরও বেশি দেশ থেকে ১৩৫টি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটর (এমটিও) এর মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে থাকা স্বজনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যতবার প্রয়োজন ততবার রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন। সেই রেমিট্যান্স ২৭টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে সেটেলমেন্ট হয়ে প্রতি হাজারে ২৫ টাকা সরকারি প্রণোদনাসহ নিমেষেই পৌঁছে যাচ্ছে দেশে থাকা প্রিয়জনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই বিকাশ অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিক, সহজ, যেকোনো অঙ্কের রেমিট্যান্স পাঠানো, রেমিট্যান্স স্টেটমেন্ট তোলার সুযোগ সহ নানা সুবিধার কারণে বিকাশ অ্যাকাউন্টে রেমিট্যান্স পাঠানোর সেবা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছে।
বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রায়শই এ ধরনের আকর্ষণীয় অফার নিয়ে আসে বিকাশ।
‘অ্যাক্সেনটেক প্রেজেন্টস এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া শেষ। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস’ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)-এর ব্যানারে, নাটমেগের আয়োজনে কর্পোরেট এই খেলার আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এফআইসিসিআই বর্তমানে বাংলাদেশের ঝ্যবসায়িক উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণী বিষয়ক সহায়তা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে একই ছাতার নিচে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।
২০২৫ সালের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায়, এবারের বিশাল পরিসরের এই আসরে অংশ নিচ্ছে ২০টি শীর্ষ মানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে কর্পোরেট সম্পর্ক, দলগত কাজ এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান ফুটবল সংস্কৃতিকেও সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে এফআইসিসিআই তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসার বাইরেও পারস্পরিক সংযোগ ও সম্পর্ক জোরদার করছে।
গুলশানে এফআইসিসিআই সেক্রেটারিয়েটে ক্যাপ্টেন ও ম্যানেজারদের একটি সভার মাধ্যমে সফলভাবে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের অধিনায়ক, ম্যানেজার, স্পন্সর, আয়োজক এবং শীর্ষ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অফিসিয়াল গ্রুপ ড্র ও ফিক্সচার চূড়ান্তকরণ, যেখানে দলগুলো তাদের নির্ধারিত গ্রুপ সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়াও টুর্নামেন্টের নিয়মাবলী, ম্যাচ ফরমাট এবং প্রতিযোগিতার কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফআইসিসিআই-এর নির্বাহী পরিচালক এবং অভিজ্ঞ বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নীতি বিশ্লেষক টি.আই.এম, নুরুল কবির: নাটমেগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আলম; রবি আজিয়াটা পিএলসি-এর পরিচালক (ফাইনান্স) এবং রবি রিক্রিয়েশন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মইন উদ্দিন রিয়াদ; সিঙ্গার বেকোর ব্যবস্থাপক নাজমুস সাকিব; ব্যাকপেজ পিয়ার-এর পরিচালক সাব্বিরে ফেরদৌস, এবং কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ট্রেড মার্কেটিং স্পেশালিস্ট মেজবাহ উল ইসলাম।
এবারের টুর্নামেন্টে মোট ৫০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচগুলো টানা ১৬টি ম্যাচ ডে জুড়ে ২৪ এপ্রিল থেকে ১৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত নাটমেগ ফিল্ড, মাদানী অ্যাভিনিউ, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে গ্রুপ পর্ব দিয়ে শুরু হয়ে পরে নকআউট পর্বে গড়াবে এই প্রতিযোগিতা। এতে কাপ এবং প্লেট, দুই ধরনের সেগমেন্ট থাকছে, যাতে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ও উত্তেজনা দুইই আরও বেড়ে যাবে।
এই টুর্নামেন্টে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে আঅ্যাক্সেনটেক, কো-স্পন্সর সিঙ্গার-থেকো, বেভারেজ পার্টনার স্প্রাইট মিন্ট এবং পিআর পার্টনার হিসেবে রয়েছে ব্যাকপেজ পিআর। প্রতিটি মরচ নাটমেগ ঢাকা এবং এফআইসিসিআই ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে করে টুর্নামেন্ট চলাকালীন দর্শকরা প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে পারেন।
সাউথইস্ট ব্যাংক গ্রিন স্কুলে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সব শ্রেণীর শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে। মেলায় খাবারের স্টল, খেলাধুলার আয়োজন এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রদর্শনী ছিল উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান এমএ কাশেম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খালিদ মাহমুদ খান। এছাড়া বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার বদরুল হাসানসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চেয়ারম্যান এমএ কাশেম তার বক্তব্যে স্কুলের অগ্রগতি ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্কুলের প্রিন্সিপাল সৈয়দা নাসরিন আক্তার অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান।
জুন ২০২৬ পর্যন্ত ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্টসহ মোট ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে টফি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। এই সূচিতে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিনটি সিরিজ।
এই তিনটি সিরিজের প্রতিটি ম্যাচের টানটান উত্তেজনাময় মুহূর্তগুলো দর্শকেরা যেন নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে এই সিরিজগুলোর প্রতিটি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’। ফলে দর্শকেরা যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সবগুলো ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।
১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি একদিনের ম্যাচ ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজটি চলবে ২ মে পর্যন্ত।
এরপর ৮ ও ১৬ মে অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্ট ম্যাচ। সবশেষে ৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি একদিনের ম্যাচ ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে দর্শকেরা মোট ১৪টি ম্যাচ দেখতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি একদিনের ম্যাচ, ৬টি টি-টোয়েন্টি এবং ২টি টেস্ট। সবগুলো ম্যাচই টফিতে সরাসরি দেখা যাবে।
এ প্রসঙ্গে টফির ডেপুটি ডিরেক্টর মোদাসসের আহমেদ বলেন, ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গভীরে মিশে আছে। বড় ম্যাচ ঘিরে মানুষ আলাদা করে পরিকল্পনা করে, আর আড্ডা কিংবা কথোপকথনের বড় অংশজুড়েই থাকে ক্রিকেট। সামনে বাংলাদেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচ রয়েছে। তাই আমরা চাই, ভক্তরা যেখানেই থাকুন, প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। চলার পথে মোবাইল বা অন্য যেকোনো ডিভাইসে তারা যেন বাংলাদেশের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারেন, এবং একটা বল বা মুহূর্তও যেন মিস না হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য বিনোদনকে দর্শকের কাছে আরও সহজলভ্য করে তোলা। এই ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে দর্শকদের সঙ্গে এসব মুহূর্ত ভাগ করে নিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আসন্ন এই তিনটি সিরিজ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচই এখন আলাদা গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এর ফলাফল সরাসরি র্যাঙ্কিং ও যোগ্যতা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। একদিনের ম্যাচগুলো ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার দৌড়ে টিকে থাকার ক্ষেত্রে নির্ধারক ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে আরও ভালো অবস্থান অর্জনের সুযোগ তৈরি করবে। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো দলের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লাইভ স্পোর্টস, বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট এবং জনপ্রিয় বিভিন্ন সিনেমা ও সিরিজের হাত ধরে ডিজিটাল বিনোদনের জগতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে ‘টফি’। সরাসরি খেলা দেখার সুযোগের পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে অসংখ্য টিভি চ্যানেল ও অন-ডিমান্ড কনটেন্টের বিশাল সংগ্রহ। দেশের দর্শকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে, টফি এখন একই ছাদের নিচে সরাসরি খেলাধুলা ও দৈনন্দিন বিনোদনের এক দারুণ সমন্বয় নিয়ে এসেছে।
জনতা ব্যাংক পিএলসির ৮৮১তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মুহ. ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পর্ষদের পরিচালক বদরে মুনির ফেরদৌস, ড. মো. আব্দুস সবুর, আব্দুল মজিদ শেখ, আব্দুল আউয়াল সরকার, ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন, মো. আহসান কবীর ও অধ্যাপক ড. এএ মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আব্দুর রহমান ও মো. ফয়েজ আলম সভায় অংশ নেন।
সভায় ব্যাংকের শ্রেণীকৃত খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রমসহ সার্বিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি দেশের স্বনামধন্য ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড শাহরুখ আমিনের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে নীরা গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এ উপলক্ষে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে প্রাইম অ্যাসপায়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্পর্কিত এক চুক্তি স্বাক্ষর করে উভয় প্রতিষ্ঠান।
এই চুক্তির আওতায় প্রাইম ব্যাংকের নীরা গ্রাহকরা শাহরুখ আমিন থেকে কেনাকাটায় সর্বোচ্চ ১৫% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন, যা তাদের লাইফস্টাইল অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর এসইভিপি ও হেড অব লাইয়াবিলিটি অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট শায়লা আবেদীন এবং শাহরুখ আমিনের স্বত্বাধিকারী শাহরুখ আমিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর হেড অব কাস্টমার প্রপোজিশন হোসাইন মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের লাইফস্টাইল ভিত্তিক মানসম্পন্ন সেবা ও আর্থিক সমাধান প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা গ্রাহকদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
"আজো এই গাঁও অঝোরে চাহিয়া ওই গাঁওটির পানে, নীরবে বসিয়া কোন্ কথা যেন কহিতেছে কানে কানে"—পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যের এই চিরন্তন বিরহী সুর যেন আরও একবার জীবন্ত হয়ে উঠল রাজধানীর মঞ্চে। আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস এবং পল্লিকবির ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মায়া বেঙ্গল ইন মোশন’-এর তৃতীয় আসর। এমডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের জনপ্রিয় প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যসেবা ব্র্যান্ড ‘মায়া’-র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল কবির অমর সৃষ্টির প্রতি এক শৈল্পিক শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বিশ্বের অসংখ্য ভাষায় অনূদিত ও সমাদৃত 'নকশী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। ১৯৫৯ সালে বুলবুল ললিতকলা একাডেমির হাত ধরে এই কাব্যটি প্রথমবার নৃত্যনাট্য হিসেবে মঞ্চে এসেছিল। দীর্ঘ কয়েক দশকের সেই ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুন আঙ্গিকে পৌঁছে দিতে এবারের আসরে লোকজ ঘরানার এই নৃত্যনাট্যটি নির্বাচন করা হয়। মঞ্চে রুপাই ও সাজুর সেই কালজয়ী প্রেম ও বিচ্ছেদের করুণ আখ্যান অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন দেশের প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী জুটি শামীম আরা নিপা এবং শিবলী মোহাম্মদ। তাঁদের সাথে ‘নৃত্যাঞ্চল’-এর একঝাঁক শিল্পীর ছন্দময় পদচারণা এবং আনিসুল ইসলাম হিরুর চমৎকার কিউরেশন পুরো পরিবেশনাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। সংগীত, নৃত্য এবং অভিনয়ের এক অসাধারণ মেলবন্ধনে গ্রাম বাংলার সরল সৌন্দর্য আর আবেগঘন পরিবেশ দর্শকদের মোহাবিষ্ট করে রাখে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীসহ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। স্বাগত বক্তব্যে এমডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক রুমানা চৌধুরী অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা তুলে ধরেন। স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, মায়া ব্র্যান্ড যেমন বিশ্বমানের প্রাকৃতিক পণ্য মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে দিচ্ছে, তেমনি দেশের শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও তাঁরা সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরণের প্ল্যাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে তাঁরা দেশীয় শিল্পীদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতির সাথে পুনরায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন।
সান কমিউনিকেশনস লিমিটেডের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং এসকে ইভেন্টস-এর দৃষ্টিনন্দন সজ্জায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এই আয়োজনের জনসংযোগ অংশীদার হিসেবে ছিল মিডিয়াকম লিমিটেড এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এজিস সিকিউরিটি ফোর্সেস। পুরো অনুষ্ঠানের ধারণকৃত চিত্র আগামী ২৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উপলক্ষে মাছরাঙা টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান হিসেবে সম্প্রচারিত হবে। পল্লিকবির জীবনবোধ আর শিল্পের এই রাজকীয় সংমিশ্রণ উপস্থিত দর্শকদের মাঝে এক দীর্ঘস্থায়ী আবেগের সৃষ্টি করেছে, যা বাংলা সংস্কৃতির জয়যাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা প্রধান চালিকাশক্তি। প্রবাসীদের এই ত্যাগ ও শ্রমকে সম্মান জানিয়ে নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো ‘কায়ান ওভারসীজ’।
কায়ান ওভারসীজ কেবল জনশক্তি রপ্তানি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও বেকারত্ব নিরসন করতে দেশবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে অঙ্গিকার তা শতভাগ বাস্তবায়নই এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ সুজন।
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কৌশল এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
'কায়ান ওভারসীজ’ বিশ্বাস করে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সরকারি নিয়ম মেনে বিদেশে কর্মী পাঠাতে পারলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
প্রতি বছর হাজারো বাংলাদেশি মুসলিম পবিত্র হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। সেখানে পৌঁছে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য নতুন সিম কার্ড কেনা এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিড়ম্বনা হজ্জযাত্রীদের জন্য বাড়তি চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই বাস্তবতা বিবেচনা করে দেশে প্রথমবারের মতো ফাইভ-জি (5G) হজ্জ রোমিং প্যাক চালু করেছে শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক। এখন থেকে ব্যবহারকারীরা বাংলাদেশি টাকায় নিজেদের মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করেই এই প্যাক কিনতে পারবেন। ফলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে আলাদা করে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে না এবং সৌদি আরবে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
মাত্র ৫৯৪ টাকা থেকে শুরু হওয়া বাংলালিংকের এই হজ্জ রোমিং প্যাকগুলো স্থানীয় সৌদি সিম কার্ডের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক। প্রিপেইড এবং পোস্টপেইড—উভয় ধরনের বাংলালিংক গ্রাহকরাই সৌদি আরব ভ্রমণের সময় এই সুবিধা নিতে পারবেন। এর ফলে ব্যবহারকারীরা আগে থেকেই সক্রিয় নেটওয়ার্ক নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
এ বিষয়ে বাংলালিংকের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজী মাহবুব হাসান বলেন, “হজ্জ একজন মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা। প্রতি বছর সৌদি আরবে পৌঁছে আমাদের দেশের হজ্জযাত্রীদের নতুন সিম কার্ড কেনার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়, যা তাঁদের জন্য ভোগান্তির। আমাদের এই রোমিং প্যাক সেই সমস্যার সমাধান দেবে। এতে করে তাঁরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর মুহূর্ত থেকেই প্রিয়জনদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন।”
হজ্জ রোমিং প্যাক ব্যবহারে নতুন নম্বর নেওয়ার ঝামেলা থাকছে না। গ্রাহকরা তাঁদের বর্তমান বাংলালিংক নম্বরটি ব্যবহার করেই দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন। এতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবাগুলোও স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। গ্রাহকরা ‘মাইবিএল’ (MyBL) অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে এই প্যাকগুলো কিনতে পারবেন।
বাংলালিংকের এই উদ্যোগ তাদের ‘পিপল-ফার্স্ট’ বা গ্রাহক-বান্ধব দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। বাংলালিংকের কাছে সংযোগ মানে কেবল প্রযুক্তিগত সেবা নয়; বরং এটি মানুষকে তাঁদের প্রিয়জনদের কাছাকাছি রাখার একটি মাধ্যম। নতুন ফাইভ-জি রোমিং প্যাকের মাধ্যমে হজ্জযাত্রীরা নিশ্চিন্তে তাঁদের আধ্যাত্মিক যাত্রায় মনোনিবেশ করার পাশাপাশি প্রিয়জনদের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারবেন।
বাংলাদেশ অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন (এএএবি) ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৫ এপ্রিল ঢাকার বনানী ক্লাবের ব্যাংকোয়েট হলে। এতে সংগঠনটির ৪২টি সদস্য এজেন্সির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এএএবি সভাপতি সানাউল আরেফিন। এতে নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিভিন্ন এজেন্সির শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মুনীর আহমেদ খান ও শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ইউসুফ হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সভা শুরু হয় সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। এরপর পূর্ববর্তী বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহসানুল আপন বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যেখানে গত মেয়াদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, কর্মশালা ও জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পখাতে সম্পৃক্ততা ও সক্ষমতা উন্নয়নে এএএবি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নীতিগত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অর্থপ্রদান সংক্রান্ত জটিলতা, ভ্যাট ও কর কাঠামোর জটিলতা, নীতিমালার স্বচ্ছতা এবং শিল্পখাতকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনার প্রয়োজনীয়তা সভায় গুরুত্ব পায়।
তিনি আরও বলেন, সরকারি অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে এমন নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে এএএবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে সহায়তা করবে এবং অন্যদিকে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিজ্ঞাপন খাতের ক্রমবর্ধমান অবদানকে স্বীকৃতি দেবে।
উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্য এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তারা নিজেদের ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতামত দেন।
এএএবি কোষাধ্যক্ষ সারা আলী নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। সদস্যরা ২০২৪ সালের নভেম্বরের এজিএমের কার্যবিবরণী, বার্ষিক প্রতিবেদন, কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদন ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, নিরীক্ষক নিয়োগ ও পারিশ্রমিক নির্ধারণ এবং ২০২৬ সালের বাজেট প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
বিশেষ পর্বে যুগ্ম সম্পাদক এম এ মারুফ নতুন সদস্যদের স্বাগত জানান এবং উপ-কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বিজ্ঞাপন শিল্পকে শক্তিশালী করতে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মুহাম্মদ রিসালাত সিদ্দিক ও মেহরুন নেসা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সহ-সভাপতি নাজিম ফারহান চৌধুরী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরবর্তীতে নৈশভোজ, সংগীত পরিবেশনা এবং সদস্যদের মধ্যে নেটওয়ার্কিংয়ের আয়োজন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।