ক্যাশলেস ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজতর, আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি চালু করল ‘বাংলা কিউআর কোড’ সার্ভিস। এর ফলে ‘এমবিএল রেইনবো’ অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকরা নিত্যদিনের কেনাকাটা ও অন্যান্য লেনদেন আগের চেয়ে আরও সহজে করতে পারবেন। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী এই সার্ভিস উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ আদিল রায়হান, শামীম আহম্মদ, মু. মাহমুদ আলম চৌধুরী ও অসীম কুমার সাহা, সিএফও তাপস চন্দ্র পাল, পিএইচডি, এসইভিপি মোহাম্মদ ইকবাল রেজওয়ান, কোম্পানি সেক্রেটারি ও হেড অব এইচআর আবু আস্গার জি. হারুনী, কার্ড ডিভিশন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ইনোভেশন ডিভিশনের হেড মোস্তাফিজুর রহমানসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তারা।
নতুন এ সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকরা কোনো কার্ড বা চেকবই ছাড়াই ‘বাংলা কিউআর’ সংযোজিত যেকোনো আউটলেটে কেনাকাটা করতে পারবেন। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ‘এমবিএল রেইনবো’ অ্যাপ ব্যবহার করে গ্রাহকরা চলতি হিসাব বা সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন। ‘বাংলা কিউআর’ সার্ভিস একদম ফ্রি এবং প্রতিটি লেনদেনে এসএমএস পাঠানো হবে, ফলে এই সার্ভিস সবচেয়ে নিরাপদ। গ্রাহকরা দৈনিক ২০ হাজার ও মাসে এক লাখ টাকা পর্যন্ত এই সার্ভিসের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন।
কক্সবাজারের সমুদ্রতীরবর্তী হোটেল সি প্যালেসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন ২০২৬। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বা স্লোগান ছিল ‘সাহসী লড়াইয়ে, লক্ষ্য ছাড়িয়ে’। প্রায় ১,৬০০ সদস্যের প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. গোলাম কিবরিয়াসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী বিগত বছরের ব্যবসায়িক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৫ সালটি সকলের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানের সকল সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার ফলেই বছরটি সাফল্যের সঙ্গে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অতীতের মতো নতুন বছরেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে এবং কোম্পানি তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে।
ব্যবসায়িক আলোচনার পাশাপাশি এই সম্মেলনে স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড তাদের স্বনামধন্য ব্র্যান্ডগুলোর অধীনে একাধিক উদ্ভাবনী পণ্য বাজারে লঞ্চ করেছে। ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড মেরিল, মিল্ক সোপ বার ও ভিটামিন-সি সোপ বারের সাফল্যের পর এবার বাজারে এনেছে মেরিল সিরাম সোপ বার এবং মেরিল ময়েশ্চারাইজিং শাওয়ার জেলের একটি আকর্ষণীয় রেঞ্জ। ওরাল কেয়ার ব্র্যান্ড হোয়াইট প্লাস বাজারে নিয়ে এসেছে ১০ শতাংশ বেকিং সোডা টুথপেস্ট, যা দাঁত সাদা করার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারের সাধারণ ইনস্ট্যান্ট ড্রিংকগুলোতে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার লক্ষ্য করে স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের জন্য জিরোক্যাল ব্র্যান্ডের অধীনে কম চিনির পাউডার ফর্মের ইনস্ট্যান্ট ড্রিংক বাজারে আনা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক রূপচর্চায় সিরামের গুরুত্ব বিবেচনায় রিভাইভ ব্র্যান্ড সাশ্রয়ী মূল্যে ‘গ্লাস স্কিন সিরাম রেঞ্জ’ লঞ্চ করেছে।
স্কয়ারের ন্যাচারাল ওয়েলনেস ব্র্যান্ড ‘মায়া’র পণ্যের সম্ভারেও এসেছে নতুনত্ব। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও অর্গানিক উপাদান ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত মায়ার নতুন পণ্যের মধ্যে রয়েছে রিয়েল পার্সিয়ান স্যাফরন ও দামাস্কাস রোজ দিয়ে তৈরি টোনার, ফেস জেল ও ফেসওয়াশ। এছাড়া বাজারে প্রচলিত কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার সিরামের বিকল্প হিসেবে এবং দীর্ঘমেয়াদি উপকারের কথা বিবেচনা করে চুলের বৃদ্ধির জন্য হারবাল অ্যাকটিভ সমৃদ্ধ একটি ইনোভেটিভ অল-ন্যাচারাল হেয়ার গ্রোথ স্ক্যাল্প সিরামও উন্মোচন করা হয়েছে।
সম্মেলনের অন্যতম বড় চমক ছিল মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং দেশের শীর্ষ চিত্রনায়ক শাকিব খানের উপস্থিতি। তিনি তার বক্তব্যে সাহস, অধ্যবসায় ও লক্ষ্যভিত্তিক মানসিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা সেলস টিমের সদস্যদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে। দিনব্যাপী বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাঝে নানা উৎসাহমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী বছরের সেরা বিক্রয়কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তাদের কাজের স্বীকৃতি জানান এবং নৈশভোজের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি), ঢাকায় ক্লাউড নেটিভ বাংলাদেশ দেশের প্রথম পূর্ণ দিবসের ইন-পারসন ক্লাউড-নেটিভ টেকনোলজি কনফারেন্স সফলভাবে আয়োজন করেছে। ক্লাউড নেটিভ কম্পিউটিং ফাউন্ডেশনের সাপোর্টে আয়োজিত এই ইভেন্টে ৩০০+ ক্লাউড-নেটিভ প্র্যাকটিশনার, ডেভঅপস ইঞ্জিনিয়ার, সাইট রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট এবং স্টুডেন্টরা একসাথে শেখা, অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং নেটওয়ার্কিং উদযাপন করেছেন।
ক্লাউড নেটিভ কমিউনিটি অ্যান্ড আউটরিচ ম্যানেজার অড্রা মন্টেনিগ্রো ওপেনিং কীনোট দিয়ে ইভেন্টের শুরু করেন। এরপর ক্লাউড নেটিভ কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর মোঃ আরিফ হোসেন এবং জয়নুল আবেদিন মিয়া ওপেন-সোর্স কন্ট্রিবিউশন এবং কমিউনিটি পার্টিসিপেশন নিয়ে আলোচনা করেন। ইভেন্টটি হোস্ট করেন জাসিম আলম, ক্লাউড নেটিভ বাংলাদেশের কো-অর্গানাইজার।
Cloud Native Bangladesh–এর সংগঠক ও CNCF Ambassador মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের বিভিন্ন একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড-নেটিভ শিক্ষা বিস্তারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক ওপেন-সোর্স সমাধানে অবদান রাখতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আমরা আরও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মিটআপ আয়োজন করছি। আমাদের কমিউনিটি পার্টনারদের সাথে একসাথে কাজ করে আমরা ক্লাউড, এআই এবং সাইবারসিকিউরিটি ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল জাতি গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।”
প্রোগ্রামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল প্যানেল ডিসকাশন "বাংলাদেশে ক্লাউড-নেটিভ: অ্যাডাপশন বনাম রিয়েল ইমপ্যাক্ট", যা মডারেট করেন আমির হোসেন (হেড অফ টেক অপারেশনস, বিএজেআইটি)। প্যানেল সদস্য হিসাবে ছিলেন সুমন আহমেদ সাবির (হেড অফ টেকনোলজি, ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড), শাহজাদা রেদওয়ান (ডিরেক্টর, ফিল্ড নেশন), মাশিউর রহমান (সিনিয়র সল্যুশন ইঞ্জিনিয়ার, এফ ফাইভ) এবং তামাল সাহা (ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, এপস কোড)। তারা ক্লাউড-নেটিভ টেকনোলজি অ্যাডপশনের চ্যালেঞ্জ এবং বিজনেস ইমপ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা করেন।
টেকনিক্যাল সেশনে ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্টরা উপস্থিত ছিলেন - ডঃ কাশিফ নিয়াজাম খান (ওপেন-সোর্স আর্কিটেক্ট, এরিকসন), আমিনুল ইসলাম তারেক (সিনিয়র সল্যুশন ইঞ্জিনিয়ার, এফ ফাইভ) এবং কাজি আশিকুর রহমান (ডেভসেকঅপস ইঞ্জিনিয়ার, ক্যান্টালুপ)। তারা আর্কিটেকচার, সিকিউরিটি এবং স্কেলেবিলিটি নিয়ে কথা বলেন ।
উইমেন ইন টেক সেশনর সময় নৌরিন হক রিদি (সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার, ফিল্ড নেশন) কমিউনিটিতে ডাইভার্সিটি এবং ইনক্লুশনের গুরুত্ব তুলে ধরে। পাশাপাশি শামীম আহমেদ (পিকো ক্লাউড) এবং সাফিন আহমেদ (ফিল্ড নেশন) নতুন ইমার্জিং ইউজ কেসগুলো শেয়ার করেন।
ওয়ার্কশপ সেশনে "গিটঅপস দিয়ে সিকিউর সফটওয়্যার ডেলিভারি" হ্যান্ডস-অন সেশন পরিচালনা করেন মোঃ আমদাদুল বারি (ব্র্যাকআইটি) এবং মোঃ নাসির উদ্দিন (টেকনোনেক্সট)।
কনফারেন্সটি অর্গানাইজ করতে সহযোগিতা করেছেন মোঃ শাহরিয়ার আল মুস্তাকিম মিতুল, মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, আবদুল্লাহ আল রেজা এবং মোঃ আল আমিন তালুকদার। প্রোগ্রামটিতে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে ছিল এফ ফাইভ, ফিল্ড নেশন, পিকো ক্লাউড; গোল্ড স্পন্সর এনশিওর সাপোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড; সিলভার স্পন্সর গোটিপাথ; কমিউনিটি পার্টনার টিম ফিনিক্স; এবং কানেক্টিভিটি পার্টনার ফেলিসিটি আইডিসি।
ক্লাউড নেটিভ বাংলাদেশ সম্পর্কে: ক্লাউড নেটিভ বাংলাদেশ, ক্লাউড নেটিভ কম্পিউটিং ফাউন্ডেশনের একটি অফিসিয়াল কমিউনিটি চ্যাপ্টার যা দেশের ডেভেলপার, ইঞ্জিনিয়ার এবং টেক প্রফেশনালদের ক্লাউড-নেটিভ টেকনোলজি, ওপেন-সোর্স অ্যাডপশন এবং মডার্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেখা, শেয়ার করা এবং কোলাবরেট করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
দেশের গৃহঋণ প্রদানকারী স্পেশালিস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি সম্প্রতি বগুড়া শহরে তাদের নতুন শাখার উদ্বোধন করেছে। ডিবিএইচ-এর ১৭তম শাখাটি শহরের কেন্দ্রস্থলে রংপুর রোডের বিটু টাওয়ারে অবস্থিত। ডিবিএইচ-এর এই শাখার মাধ্যমে বগুড়া শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহের গ্রাহকদের হোম লোন ও ফিক্সড ডিপোজিট সেবা প্রদান করা হবে।
ডিবিএইচ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব নাসিমুল বাতেন বগুড়ার শীর্ষস্থানীয় আবাসন নির্মান প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানদের উপস্থিতিতে শাখাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ডিবিএইচ-এর বগুড়া শাখা এই অঞ্চলে আবাসন খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এবং পাশাপাশি কোম্পানির ব্যবসায় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। এসময় ডিবিএইচ-এর অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি, যা পূর্বে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল, তার শক্তিশালী আর্থিক সক্ষমতার জন্য টানা ২০ বছর ধরে সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিং ‘ট্রিপল এ’ অর্জন করেছে। কোম্পানিটি প্রচলিত গৃহঋণ এবং শরীয়াহসম্মত ইসলামিক হাউজিং ফাইন্যান্স উভয় স্কিমেই অর্থায়ন করে থাকে।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (AML) ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (CFT) কার্যক্রম আরও জোরদার করতে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি’র উদ্যোগে দিনব্যাপী ব্যামেলকো (BAMLCO) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত লার্নিং অ্যান্ড ট্যালেন্ট ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (LTDC)-এ এই সম্মেলন আয়োজিত হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ডাঃ আরিফুর রহমান, চেয়ারম্যান, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক এবং উপ-প্রধান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক এম. নুরুল আলম, সিজিআইএ, এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ মনজুর মফিজ। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ নকীবুল ইসলাম, এসইভিপি ও ক্যামেলকো (ভারপ্রাপ্ত)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মফিজুর রহমান খান চৌধুরী বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী, ঝুঁকিভিত্তিক ও টেকসই কমপ্লায়েন্স কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি নিয়মিত সক্ষমতা উন্নয়ন, কার্যকর লেনদেন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং সন্দেহজনক লেনদেন যথাসময়ে সনাক্তকরণ, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন দাখিলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান ডাঃ আরিফুর রহমান বলেন, “ব্যাংকিং খাতে আস্থা ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো কমপ্লায়েন্স। সঠিক জ্ঞান ও কার্যকর টুলসের মাধ্যমে আমাদের কর্মকর্তাদের সক্ষম করে তোলার মধ্য দিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক সততা ও স্বচ্ছতার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। অভ্যন্তরীণ খরচকে বহুলাংশে বাড়িয়ে অতীতে সংঘটিত মানি লন্ডারিং কার্যক্রম আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। এর ফলশ্রুতিতে আমাদের কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি এতটাই শক্তিশালী হয়েছে যে নির্দিষ্ট অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রেও আমি নিজে ইডিডি কল পাই—যা আমাদের দায়িত্বশীলতার স্পষ্ট প্রমাণ।”
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ মনজুর মফিজ বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ-এর নীতিগত দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
দিনব্যাপী এই সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এস এম ওয়ালি উল মোর্শেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান; মোহাম্মদ আল-আমীন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ক্রেডিট অফিসার; সাদিয়া এম হান্নান, ক্যামস,ডেপুটি ক্যামেলকো (ভারপ্রাপ্ত), শাখা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সহ প্রায় ১৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে বিএফআইইউ-এর রিসোর্স পারসন সাদরিল আহমেদ, অতিরিক্ত পরিচালক এবং মোঃ জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম পরিচালক দেশীয় আইন, ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং, কেওয়াইসি ও ইডিডি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, নিয়ন্ত্রক রিপোর্টিং প্রক্রিয়া এবং ট্রেড-ভিত্তিক ও ক্রেডিট-সমর্থিত মানি লন্ডারিং ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের সরাসরি ও অর্থবহ যোগাযোগ আরও জোরদার করতে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) চালু করেছে একটি নতুন উদ্যোগ- ‘সিইও কানেক্ট’।
ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা আন্তরিক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
সিইও কানেক্টের প্রথম আলাপচারিতা পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২০ জানুয়ারি এমটিবি সেন্টারের বোর্ড রুমে। এতে ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ ও স্তর থেকে নির্বাচিত ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। কোনো উপস্থাপনা বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই এই সেশনটি সাজানো হয় খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে—যেখানে কর্মীদের অভিজ্ঞতা, ভাবনা, অনুপ্রেরণা ও মতামত গুরুত্ব পায়।
এ উদ্যোগ সম্পর্কে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মিউচুয়াল’ মানে শুধু গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, বরং সহকর্মীদের মধ্যকার পারস্পরিক সংযোগ ও বোঝাপড়া। ছোট পরিসরে আন্তরিক আলোচনাই প্রকৃত সংযোগ তৈরি করে—আর সেই লক্ষ্যেই সিইও কানেক্ট। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমটিবি তার মানবকেন্দ্রিক সংস্কৃতি, উন্মুক্ত যোগাযোগ এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করল।
ঝুঁকিতে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ড। এ বছর সেই তহবিলের দশ বছর পূর্তি হলো। এই মাইলফলক উপলক্ষে বাংলাদেশে ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিয়োজিত পেশাজীবীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা আয়োজন করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
এসব কর্মশালার লক্ষ্য ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে শক্তিশালী একটি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
এ উদ্যোগের ফলে দেশের ভেতরে ও বাইরের ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের যুক্ত করা হবে এবং তাদের মধ্যকার সমন্বয় আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ঐতিহ্য উদ্যোগের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতেও সহায়তা করবে এসব কর্মশালা।
এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ড ঐতিহ্য সুরক্ষার পাশাপাশি মানবসম্পদে বিনিয়োগে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাংলাদেশ জুড়ে নতুন পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে আমরা ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে, নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং তাদের সাংস্কৃতিক সুরক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করছি।’
এ ছাড়া নেপালে পুনর্জীবিত করা হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় কুসুন্ডা ভাষা ও নারীদের হাতে আঁকা মৈথিল দেয়ালচিত্র। সংরক্ষণ করা হচ্ছে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলের প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ। একই সঙ্গে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা আদিবাসী খাদ্য সংস্কৃতি।
এই কমিউনিটি-কেন্দ্রিক উদ্যোগগুলো হয়ে উঠছে পুনরুদ্ধার, সহনশীলতা ও নবজাগরণের শক্তি। মানুষকে সাহায্য করছে পুনরায় তাদের সংস্কৃতি বিষয়ক জ্ঞান তৈরিতে। গড়ে তুলছে পরিচয় ও নিজস্বতার বোধে গড়া ভবিষ্যৎ।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ২ হাজার ৪৯৬ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হলো ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ২৬তম সমাবর্তন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২ হাজার ১৪০ জন স্নাতক ও ৩৫৬ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের। কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী পাঁচ স্নাতককে দেওয়া হয় আচার্য স্বর্ণপদক বা চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডাল। শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সমান কৃতিত্বের জন্য ‘অল-রাউন্ডার’ স্বর্ণপদক পান এক স্নাতক।
রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে সনদ প্রদান করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন, আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন; অ্যাডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের (ইএসটিসিডিটি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া খান; উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম; উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিও লুন্ড; এবং বিশ্ববিদ্যালযের ছয় অনুষদের ডিনরা। সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইউবির রেজিস্ট্রার আসিফ পারভেজ।
আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রত্যেক স্নাতককে একটি করে ৫০০ টাকার ‘বুক ভাউচার’ উপহার দেওয়া হয়। এ ভাউচার দিয়ে স্নাতকরা অমর একুশে বইমেলায় ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) এবং পাঠক সমাবেশের স্টল থেকে ৫০০ টাকার বই বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন।
বাণিজ্য মেলায় লেনদেন সহজ করছে মাইপ্রাইম। প্রাইম ব্যাংকের ডিজিটাল ফিনটেক অ্যাপ ‘মাইপ্রাইম’ দর্শনার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। মেলায় প্রবেশের শুরুতেই টিকিট কাটার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেককে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এ ভিড় আরও বেড়ে যায়।
তবে মাইপ্রাইম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এ চিত্র একেবারেই ভিন্ন। তারা ঘরে বসেই মাইপ্রাইম অ্যাপ থেকে বাণিজ্য মেলার টিকিট কিনতে পারছেন। শুধু তাই নয়, এ ডিজিটাল টিকিটের সঙ্গে থাকছে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক সুবিধা। এ ছাড়া মাইপ্রাইম অ্যাপ থেকে মোবাইল রিচার্জও করা যাচ্ছে। মেলায় কেনাকাটার বিল সরাসরি মাইপ্রাইম অ্যাপে পেমেন্ট করা যাচ্ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া অনেক উদ্যোক্তা ও বিক্রেতার কাছেও মাইপ্রাইম একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের ফলে তাদের খুচরা টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা কমেছে এবং হিসাব রাখা সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশি টেক জায়ান্ট ওয়ালটনের তৈরি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট ওয়ালপ্যাড এবং দেশের সর্বাধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শিখোর যৌথ উদ্যোগে এসেছে লার্নিং-কেন্দ্রিক নতুন ট্যাবলেট ‘এডুট্যাব’। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা পদ্ধতি আরও স্মার্ট করে তুলতে পার্সোনালাইজড ও এক্সক্লুসিভ এই ট্যাবটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে দেশসেরা শিক্ষকদের সঙ্গে পড়াশোনার সব আধুনিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। বাসায় ব্যবহারযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই প্রযুক্তিপণ্যটি এখন সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, ওয়ালটনের তৈরি এই ডিজিটাল ডিভাইস পড়াশোনার কৌশলকে আরও সহজ ও শক্তিশালী করবে। এডুট্যাব স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটের মতো কাজ করে যেখানে অ্যাপ স্টোরে সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস থাকে। শিখোর প্ল্যাটফর্মের সাথে সরাসরি যুক্ত এই ট্যাবটি তৈরি হয়েছে আমাদের দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রকৃত চাহিদার কথা মাথায় রেখে।
অ্যান্ড্রয়েড ১৬ পরিচালিত এই ট্যাবে রয়েছে হেলিও জি৯৯ অক্টা-কোর প্রসেসর। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ৮০০ বাই ১৩৪০ রেজুলেশনের ৮.৬৮ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে। ৪ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ থাকায় প্রয়োজনীয় অ্যাপ ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট সংরক্ষণ করা যাবে সহজেই। ৬ হাজার এমএইচ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থাকায় দীর্ঘ সময় পাওয়ার ব্যাকআপ মিলবে। ফোরজি সাপোর্টেড নেটওয়ার্ক কিংবা দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সুবিধায় ইন্টারনেট ব্রাউজিং হবে স্মুথ। কানেকশন হিসেবে আছে ইউএসবি ২.০ (টাইপ সি) পোর্ট। অনলাইন ক্লাসের সুবিধার্থে এডুট্যাবে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল রিয়ার এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা।
ওয়ালটন কম্পিউটার প্রোডাক্টের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) তৌহিদুর রহমান রাদ জানান, শিশুসহ সব বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য এডুট্যাব সত্যিই একটি সাহায্যকারী ডিভাইস। লাইভ ক্লাস, গাইডেড প্র্যাকটিস, অ্যানিমেটেড লেসন এবং এআই (AI) চালিত স্মার্ট সাপোর্ট একই ডিভাইসের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় পাঠ্যক্রমের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়া নির্দিষ্ট একাডেমিক চাপ, ব্যবহারের ধরন এবং সীমাবদ্ধতাগুলি বছরের পর বছর পর্যবেক্ষণের পর বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে এই ডিভাইস।
একই ডিভাইসে যখন সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং টিচিং প্র্যাকটিস একই সুতোয় গাঁথা থাকে তখন ডিজিটাল লার্নিং উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি লাভ করে। বিশ্বের বহু দেশে ইতোমধ্যেই এ ধরনের ডিভাইসের মাধ্যমে পড়াশোনা পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে।
এডুট্যাব কিনতে ভিজিট করতে পারেন শিখোর ওয়েবসাইটে বা নিচের লিংক থেকে https://shikho.io/Edutab। ১৬৭৮০-তে কল করলেই জানা যাবে বিস্তারিত।
টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেড (টিবিএল, একটি টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিক এবং টয়োটা টুশো জাপানের ১০০% বিনিয়োগ)-এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে অটোমোটিভ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি, টেকসই মোটরগাড়ির ভবিষ্যৎ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতির ওপর জোর দিয়ে এই খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়ে মতবিনিময় করেছে। টিবিএল উদ্ভাবন, দক্ষতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিকশিত গতিশীলতায় অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।
বিডা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা জোরদার এবং পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি প্রচারকারী টেকসই বিনিয়োগের জন্য তাদের ক্রমবর্ধমান সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ভিসা ডাইরেক্ট ফর অ্যাকাউন্ট (ভিডিএ) চালু করেছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। এটি প্রায় রিয়েল-টাইম বহির্গামী রেমিট্যান্সের জন্য একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী ডিজিটাল পেমেন্ট সলিউশন। অর্থ চলাচলে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় ভিসার সঙ্গে অংশীদারিত্বে চালু করা এই পরিষেবাটি গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংক- অনুমোদিত সব উদ্দেশে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (পি২পি) এবং গ্রাহক-থেকে-ব্যবসায় (সি২বি) লেনদেনসহ বিদেশে অর্থ পাঠাতে সক্ষম।
এই পরিষেবাটি বাণিজ্যিকভাবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়েছিল এবং মেঘনা ব্যাংক বর্তমানে যোগ্য বহির্গামী রেমিট্যান্স সহজতর করার জন্য এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছে।
এই মাইলফলকটি উপলক্ষে গত সোমবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এবং ভিসা- বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেঘনা ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং ব্যাংকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ভিসা ডাইরেক্ট ফর অ্যাকাউন্ট চালু করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তি-চালিত আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট সমাধান প্রচারের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই ধরনের উদ্ভাবন দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, লেনদেনের খরচ কমানো এবং দেশের ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সমর্থন করা।
ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, ভিসা মেঘনা ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে ভিসা ডাইরেক্ট ফর অ্যাকাউন্ট চালু করতে পেরে গর্বিত, যা বাংলাদেশে প্রথম। এই উদ্ভাবনী পরিষেবা গ্রাহকদের দ্রুত, নিরাপদে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বিদেশে অর্থ প্রেরণে সহায়তা করবে, যা দেশের নির্বিঘ্ন ডিজিটাল পেমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে।
ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) চতুর্থ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক একটি বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত কার্নেগি মেলন রোবোটিকস অ্যাকাডেমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এ কর্মসূচিটি বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ের অন্যতম আধুনিক রোবোটিকস উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তার পাশাপাশি তাদের এআই, অটোমেশন ও রোবোটিকসের দ্রুত পরিবর্তনশীল খাতের জন্য প্রস্তুত করবে।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এই শিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতি শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৯০ মিনিটের ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। টানা তৃতীয়বারের মত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে আইএসডি, যা রোবোটিকস ও এআই শিক্ষায় বিদ্যালয়টির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বহু-বছরব্যাপী পরিকল্পত একটি অ্যাকাডেমিক যাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে তারা প্রাথমিক কোডিং ও লজিক্যাল থিংকিং থেকে শুরু পর্যায়ক্রমে বুদ্ধিমান স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ডিজাইন ও নির্মাণের দক্ষতা অর্জন করবে। কর্মসূচিতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাও যুক্ত থাকবে।
কর্মসূচিটি সম্পর্কে আইএসডির পরিচালক স্টিভ কল্যান্ড-স্কোবল বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজাইন থিংকিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রোবোটিকস ও এআই শেখার শুরুটা যদি ছোটবেলা থেকেই করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।’
কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইএসডির দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থী রানিয়া আহমেদ বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ আমাদের নতুন আঙ্গীকে চিন্তা করা শিখিয়েছে। আমরা রোবট কোডিং শিখেছি। তাছাড়া, সমস্যা সমাধান ও দলগতভাবে কাজ করার কৌশলও শিখেছি।’
এছাড়া, অষ্টম থেকে দশম গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার টাকা ফিতে অ্যাডভান্সড ইন্টারমিডিয়েট ভিইএক্স এক্সপি প্রোগ্রাম চালু থাকবে। এই প্রোগ্রামে তারা স্বয়ংক্রিয় রোবট তৈরি করবে এবং রিয়েল-টাইম ডেটা ও ফিডব্যাক সিস্টেম প্রয়োগ করবে। একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা ২৫ হাজার টাকা ফিতে অ্যাডভান্সড লেভেলের ভিইএক্স ভি৫ ও আরইভি রোবোটিক্স প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবে। এখানে তারা পেশাদার মানের রোবোটিক্স ও ইলেকট্রনিক্সের পাশাপাশি অ্যাডাপটিভ কন্ট্রোল ও ডেটা-নির্ভর বিহেভিয়রের মতো এআই সম্পর্কে জানতে পারবে।
কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করলে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী কার্নেগি মেলন রোবোটিকস অ্যাকাডেমি (সিএমআরএ) থেকে সনদপত্র পাবে।
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চূড়ান্ত অনুমোদন লাভের পর গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গার্ডিয়ান লাইফের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক কৌশল প্রণয়নে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিচালনা পর্ষদ তার ওপর এই নতুন দায়িত্ব অর্পণ করেছে।
শেখ রকিবুল করিম ২০১৯ সালে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে যোগদান করেছিলেন। যোগদানের পর থেকে তিনি ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার কর্মকালীন সময়ে গার্ডিয়ানের করপোরেট গভর্নেন্স এবং কমপ্লায়েন্স কাঠামো আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং গ্রাহক সেবাকে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে গার্ডিয়ান লাইফের গ্রাহকসংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকাস্যুরেন্স, ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্স এবং মাইক্রোইন্স্যুরেন্সের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি একটি শক্ত ও নির্ভরযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
গার্ডিয়ান লাইফে যোগদানের আগে শেখ রকিবুল করিম কেপিএমজি বাংলাদেশের অডিট অ্যান্ড অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস বিভাগে পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন এবং বাংলালিংকেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ফেলো সদস্য। করপোরেট জগতে তিনি তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের জন্য বিশেষভাবে সুপরিচিত।
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড কর্তৃপক্ষ মনে করে, শেখ রকিবুল করিমের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিমা খাতে উদ্ভাবন আরও জোরদার হবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সম্প্রসারণ ঘটবে। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক এবং সকল অংশীজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।