বাংলাদেশ মনোস্পুল পেপার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড সম্প্রতি হাইব্রিড সিস্টেমে সপ্তম বিশেষ সাধারণ সভা করেছে। এতে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বহুমুখীকরণের মাধ্যমে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানিটি জানায়, কাগজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মুদ্রণ ব্যবসার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, রিয়েল এস্টেট, টেন্ডার ও সরবরাহ ব্যবসা, আমদানি-রপ্তানি এবং প্রযুক্তি খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হবে। বিপুল সংখ্যক শেয়ার হোল্ডারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। বিজ্ঞপ্তি
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে ‘হিলিং কল’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। এখন থেকে গার্ডিয়ানের কল সেন্টার ১৬৬২২-তে ফোন করে ৮ চাপলে মানসিক সহায়তা হেল্পলাইন ‘কান পেতে রই’ এবং ‘দ্যা পার্পললাইন’-এর পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারবেন সেবাগ্রহীতারা। প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত এই সেবা পাওয়া যাবে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও ব্যক্তিগত নানা বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ ও সহায়তা নেওয়া যাবে।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য এখনও অনেকের কাছে একটি ট্যাবু ও সংবেদনশীল বিষয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। সামাজিক নেতিবাচক ধারণা ও অন্যের সমালোচনার শিকার হওয়ার ভয়ে অনেকেই নিজের সমস্যার কথা বলতে বা প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে সংকোচ বোধ করেন।
‘হিলিং কল’-এর মাধ্যমে এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তার সময়ে নির্ভয়ে নিজের মনের কথা জানানো যায়। অনেকেরই হয়তো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার মতো কেউ নেই। তাঁদের জন্য ‘হিলিং কল’ হতে পারে প্রয়োজনের সময়ে সহায়তা পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য ও সহজ মাধ্যম।
আর্থিক সুরক্ষার পাশাপাশি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখে গার্ডিয়ান। এরই অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে ‘হিলিং কল’। আরও বেশি মানুষের কাছে সহজে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কল সেন্টার, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মতো নিজেদের প্ল্যাটফর্মগুলো কাজে লাগাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
‘কান পেতে রই’ ও ‘দ্যা পার্পললাইন’-এর সঙ্গে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পরিধি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে গার্ডিয়ানের। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা পৌঁছে দিতে চায় গার্ডিয়ান।
আকর্ষণীয় ডিজাইন, শক্তিশালী ব্যাটারি ও টেকসই গঠনের পাশাপাশি ভিভো ওয়াই৩২ কেনার অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করতে থাকছে বিশেষ প্রি-অর্ডার সুবিধা। বাংলাদেশে ৭ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ক্রেতারা ফোনটি অগ্রিম বুকিং দিয়ে এই সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারবেন।
কেনাকাটা আরও সহজ করতে প্রি-অর্ডার চলাকালে হায়ার পারচেজ সুবিধা দিচ্ছে ভিভো। আর্থিক যাচাই ও প্রযোজ্য শর্তসাপেক্ষে ক্রেতারা ন্যূনতম ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে সর্বোচ্চ ৯ মাসের কিস্তিতে ফোনটি কিনতে পারবেন।
প্রি-অর্ডার করা ক্রেতারা লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে জিতে নিতে পারবেন রিরো প্যাড, ডব্লিউ২০ স্মার্টওয়াচ, এস৯০ পাওয়ার ব্যাংক অথবা চার বছরের ব্যাটারি ওয়ারেন্টি। পাশাপাশি, নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী প্রত্যেক ক্রেতা নিশ্চিত উপহার হিসেবে পাবেন সিলভার মেম্বারশিপ।
ভিভো ওয়াই৩২-এর অন্যতম আকর্ষণ এর শক্তিশালী ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্লুভোল্ট ব্যাটারি, যা সারাদিন নির্ভরযোগ্যভাবে ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেয়। ব্যবসায়িক কাজ, অফিসের মিটিং, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ কিংবা চলার পথে কাজের জন্যও ফোনটি দীর্ঘ সময় ব্যবহারের উপযোগী।
ফোনটিতে রয়েছে এমন ব্যাটারি প্রযুক্তি, যা ছয় বছর পর্যন্ত ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে এবং ১,৫০০ বার চার্জ দেওয়ার পরও ব্যাটারির অন্তত ৮০ শতাংশ সক্ষমতা বজায় রাখে। দ্রুত চার্জের জন্য রয়েছে ৪৪ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। এমনকি ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও ফোনটি দিয়ে টানা ১৪ ঘণ্টা নেভিগেশন, ২০ ঘণ্টা শর্টস ভিডিও দেখা এবং ৩৬ ঘণ্টা কথা বলা সম্ভব।
নকশাতেও রয়েছে বাংলাদেশের প্রাণবন্ত পরিবেশের ছাপ। টুইলাইট রেড রঙে ফুটে উঠেছে ঢাকার প্রাণবন্ত নগরজীবনের উষ্ণ ও উদ্যমী রঙ, আর সানসেট অরেঞ্জ অনুপ্রাণিত কক্সবাজারের উপকূলীয় সূর্যাস্তের উজ্জ্বল রঙে। এর সঙ্গে রয়েছে ধাতব ক্যামেরা নকশা ও ডায়নামিক লাইট।
দৈনন্দিন ব্যবহারে বাড়তি সুরক্ষার জন্য ফোনটিতে রয়েছে আইপি৬৮ ও আইপি৬৯ ধুলা ও পানি প্রতিরোধী সক্ষমতা এবং অ্যান্টি-ড্রপ আর্মার নকশা। ফোনটি সর্বোচ্চ ৩ মিটার পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত ডুবে থাকলেও টিকে থাকতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও টেকসই গঠনের সমন্বয়ে ভিভো ওয়াই৩২ হতে পারে দৈনন্দিন কাজ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। এর ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্লুভোল্ট ব্যাটারি এবং সহজে কেনার সুবিধা ফোনটিকে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আরও উপযোগী করে তুলেছে।
বাংলাদেশের বিনোদনশিল্পের বিকাশ, ওটিটি (ওভার-দ্য-টপ) ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নির্মিত অসাধারণ সব কনটেন্ট, শিল্পী ও নির্মাতাদের স্বীকৃতি দিতে যৌথভাবে পঞ্চমবারের মতো আয়োজন করা হয় ‘ব্লেন্ডার’স চয়েস–দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’। ইস্পাহানি গ্রুপ ও দ্য ডেইলি স্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর জনপ্রিয়, সমালোচক, সংগীত এবং ব্যক্তিগত কনটেন্ট—এই বিভাগগুলোতে মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের সম্মাননা জানানো হয়। নুহাশ হুমায়ূনের ‘দুই ষ’ ছিল এবারের আসরের অন্যতম আলোচিত কাজ। এটি সেরা পরিচালকসহ সমালোচক বিভাগে মোট আটটি পুরস্কার অর্জন করে। ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’ সেরা নাটক/সিরিজ এবং ‘ঘুমপরী’ সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নেয়। জনপ্রিয় বিভাগে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রী নির্বাচিত হন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। অন্যদিকে, সমালোচক বিভাগে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন মোশাররফ করিম ও তমা মির্জা।
বর্ণাঢ্য আয়োজন
দেশের ডিজিটাল বিনোদনজগতের অসামান্য সাফল্য ও সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের আয়োজনটি আরও একবার দর্শক ও নির্মাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাংলা কনটেন্টের প্রসার এবং নির্মাতাদের সাহসী, উদ্ভাবনী ও অর্থবহ গল্প তুলে ধরতে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
পঞ্চম বছরে পদার্পণ করা ‘ব্লেন্ডার’স চয়েস–দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীলতা ও উৎকর্ষের স্বীকৃতি প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এবারের আয়োজন বাংলাদেশের ডিজিটাল গল্প বলার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে এর অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি এবং দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী দিলারা জামান, অভিনেতা তারিক আনাম খান, লেখক ইমদাদুল হক মিলনসহ আরও অনেকে। তাঁরা বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের বিনোদনশিল্প ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের রেড কার্পেট পর্ব উপস্থাপনা করেন প্রিয়ন্তী উর্বী ও প্রান্তর দস্তিদার। মূল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন আফসান আরা বিন্দু ও রাফসান সাবাব।
সন্ধ্যাজুড়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। উদ্বোধনী পরিবেশনায় অংশ নেন সারিকা সাবাহ ও আলিফিয়া স্কোয়াড। এরপর সুনেহরা কামাল, ইরফান সাজ্জাদ ও মেহজাবীন চৌধুরীর পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। সবশেষে বাংলা সিম্ফনির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক আয়োজন পূর্ণতা পায়।
জনপ্রিয়, সমালোচক, সংগীত ও ব্যক্তিগত কনটেন্ট বিভাগ এবং পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডসহ মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের ডিজিটাল বিনোদনজগতের গল্প, সৃজনশীলতা ও প্রতিভাকে উদ্যাপন করে।
বাংলাদেশের শিশুদের জন্য অনুদান পাঠানো আরও সহজ করতে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশের সঙ্গে চুক্তি করেছে ইউনিসেফ। এই চুক্তির ফলে শিশুদের সহায়তায় ইউনিসেফের তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ আরও ত্বরান্বিত হবে এবং আরও অনেক বেশি মানুষ খুব সহজেই বিকাশের মাধ্যমে তাদের সাহায্য পাঠাতে পারবেন।
ইউনিসেফের প্রাইভেট ফান্ডরাইজিং অ্যান্ড পার্টনারশিপের গ্লোবাল ডিরেক্টর কারলা হাদ্দাদ মারদিনি বলেন, “জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিকাশ-এর সাথে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইউনিসেফ সারা বাংলাদেশের মানুষ ও কমিউনিটির সাথে খুব সহজে, নিরাপদে ও সরাসরি যুক্ত হয়ে শিশুদের কল্যাণে কাজ করতে পারবে।”
তিনি বলেন, “শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য নিশ্চিত করার ও তহবিল সংগ্রহের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইউনিসেফ যে কাজ করে যাচ্ছে, তার ধারাবাহিকতায় এই যৌথ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। শিশুরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। শিশুদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, শিক্ষা ও বিকশিত হওয়ার জন্য যেসব সেবা প্রয়োজন, এই উদ্যোগের ফলে তা আমরা আরো বেশি শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবো। যে কোনো সহায়তা তা পরিমাণে যা-ই হোক না কেন, সেটা একটি শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে এবং তার সুন্দর ভবিষ্যতের পথ খুলে দিতে পারে।”
এই চুক্তির মাধ্যমে বিকাশের গ্রাহকরা এখন সহজেই বিকাশ অ্যাপে লগইন করে ‘ডোনেশন’ অপশন থেকে ইউনিসেফ বেছে নিয়ে সরাসরি অনুদান দিতে পারবেন। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিকাশের বিস্তৃত অফলাইন মার্চেন্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও সহায়তা পাঠানো যাবে। এর মধ্য দিয়ে শিশুদের জীবনমানের উন্নয়নে ইউনিসেফের মিশনের সঙ্গে আরও বিপুল সংখ্যক মানুষের সম্পৃক্ততা তৈরি হবে।
বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল কাদীর বলেন, “সমাজের এগিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে বিকাশ কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রথম ডিজিটাল ডোনেশন প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার মাধ্যমে বিকাশ গ্রাহকদের পছন্দসই জায়গায় নিশ্চিন্তে অনুদান পাঠানোর সুযোগ করে দিয়েছে। ইউনিসেফের সাথে আমাদের এই যৌথ উদ্যোগ শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”
ইউনিসেফের প্রাইভেট ফান্ডরাইজিং অ্যান্ড পার্টনারশিপের বৈশ্বিক পরিচালক কারলা হাদ্দাদ মারদিনি এবং বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীরের উপস্থিতিতে এই চুক্তি সই হয়।
এই চুক্তির আওতায় বিকাশ অ্যাপের ডোনেশন সেকশনে স্থায়ীভাবে ইউনিসেফের উপস্থিতি থাকবে। এর মধ্য দিয়ে অনুদান পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সচেতনতা ও তহবিল সংগ্রহের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
এই উদ্যোগের আওতায় যে তহবিল সংগৃহীত হবে, তার পুরোটা বাংলাদেশে শিশুদের সহায়তায় ইউনিসেফের নেওয়া কর্মসূচিগুলোতে ব্যয় করা হবে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে সহায়তা প্রদান, সহিংসতা ও শোষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদান। বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো প্রতিটি অনুদানের অর্থ সরাসরি সেই সব উদ্যোগে সহায়তা দেবে, যা শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা, স্বাস্থ্যকর জীবন এবং আশাবাদী হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে।
প্রায়োরিটি ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে প্ল্যান মেডি ট্রিপ লিমিটেডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি।
সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত প্রাইম ভিউতে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তির আওতায় প্রাইম ব্যাংকের প্রায়োরিটি ব্যাংকিং গ্রাহকরা প্ল্যান মেডি ট্রিপ লিমিটেডের বিভিন্ন সেবায় আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট ও ইএমআই সুবিধা উপভোগ করবেন। এর মাধ্যমে প্রায়োরিটি ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা ও সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র এসভিপি ও অ্যাক্টিং হেড অব প্রায়োরিটি ব্যাংকিং নাহরীন কাইয়ুম এবং প্ল্যান মেডি ট্রিপ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফ্লোরা নাজনীন নীলা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি’র হেড অব কাস্টমার প্রপোজিশনস হোসাইন মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং প্ল্যান মেডি ট্রিপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈকত ভদ্র।
শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ, আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশে নতুন ডিও স্কুটার এনেছে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড। ‘স্মার্ট ভাইব, ইজি রাইড’ স্লোগানে ১১০ সিসির Automatic gear সমৃদ্ধ এই স্কুটারটি রাজধানীতে বর্ণাঢ্য এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে।
নতুন ডিওতে রয়েছে ১১০ সিসির PGM-FI ইঞ্জিন, যা ৮,০০০ আরপিএমে ১০.৮২ পিএস শক্তি এবং ৫,৫০০ আরপিএমে ৯.০৩ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। এতে Automatic gear থাকায় গিয়ার পরিবর্তনের ঝামেলা ছাড়াই চালানো যায় স্কুটারটি।
স্কুটারটিতে রয়েছে আইডলিং স্টপ সিস্টেম (ISS) ও ACG সাইলেন্ট স্টার্টার। ফলে যানজটে থামা ও আবার চলার সময় সুবিধা পাওয়া যাবে এবং ইঞ্জিন পুনরায় চালুর সময় শব্দও কম হবে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে Combi Brake System (CBS) এবং Side Stand Engine Cut-Off System।
নতুন ডিও প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু মরিসাওয়া বলেন, “আজ আমরা বাংলাদেশে দুই চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছি। তরুণদের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ—এমনকি প্রথমবারের মতো যারা মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালাচ্ছেন, তারাও এখন এমন পরিবহন খুঁজছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে যায়। শহরের জন্য আমাদের এই নতুন স্মার্ট পরিবহন সমাধান সহজে চালানো, প্রতিটি যাত্রায় আত্মবিশ্বাস, শহুরে জীবনের প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং এখন আরও বেশি নিরাপত্তার মাধ্যমে মানুষের চলাচলকে সহজ করবে। বাংলাদেশে স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে হোন্ডার মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিও সরবরাহ করতে পেরে আমরা গর্বিত।”
শহরের যানজটে সহজে চলাচলের কথা বিবেচনা করে স্কুটারটির আসন উচ্চতা ৭৬৫ মিলিমিটার, প্রশস্ত ৬৮০ মিলিমিটার এবং স্কুটির ওজন ১০১.৫ কেজি। এতে Telescopic front suspension ও Unit swing rear suspension রয়েছে।
দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার জন্য আসন এর নিচে রয়েছে ১৮ লিটারের জ্বালানি স্টোরেজ, Open glovebox ও floorboard space। মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস চার্জের জন্য রয়েছে ১৫ ওয়াটের Type-C চারজিংপোর্ট। সিট না খুলেই জ্বালানি নেওয়ার সুবিধার জন্য রয়েছে External fuel lid। নতুন ডিজাইনের সঙ্গে রয়েছে DRL হেডল্যাম্প।
বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মুহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেন, “নতুন ডিওতে সহজ নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় সুবিধা ও স্টাইল—সবকিছুর সমন্বয় করা হয়েছে। Automatic gear, low seat height, light weight এবং compact design এর কারণে শহরের যানজটে এটি সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অন্যদিকে PGM-FI প্রযুক্তি ও Idling Stop System (ISS) জ্বালানি ও খরচ সাশ্রয়ে সহায়তা করে। প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য ডিও একটি স্মার্ট ও আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা দেবে”।
নতুন ডিওর সঙ্গে দুই বছর অথবা ২০ হাজার কিলোমিটার, যেটি আগে হবে, সেই মেয়াদের ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি ফ্রি সার্ভিস এবং দুটি পেইড সার্ভিস। Mat Marvel Blue Metallic, Mat Axis Gray Metallic ও Imperial Red Metallic—এই তিনটি রঙে পাওয়া যাবে নতুন ডিও। আজ ৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সারা দেশে হোন্ডার অনুমোদিত এক্সক্লুসিভ ডিলার শোরুমগুলোতে স্কুটারটি পাওয়া যাবে। বাংলাদেশে নতুন হোন্ডা ডিও স্কুটারের বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ষষ্ঠ সংস্করণ। বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ব্যাংকিং ও ফিনটেক খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন। সম্মেলনে বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতের রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং এ খাতের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিকাশে বিদ্যমান সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়েও মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা এবং নীতিবিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে দেশের ফিনটেক খাতকে এগিয়ে নেওয়াই এই সামিটের লক্ষ্য। এ বছরের আলোচনায় উঠে আসে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা। অধিকতর মানুষকে আর্থিক সেবার আওতায় আনা, গ্রাহকের আস্থা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করার মতো বিষয় গুলোও আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
আয়োজনটির স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও এক্সিকিউটিভ এডিটর সাজিদ মাহবুব বলেন, “বাংলাদেশের ফিনটেক খাতের আগামী দিনের অগ্রগতি নির্ভর করবে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমরা কতটা স্থায়ী আর্থিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারি, তার ওপর। উদ্ভাবনের মাধ্যমে আর্থিক সেবাকে মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে এসব সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতের আর্থিক সেবার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মান গড়ে তুলতে হবে।”
দুটি কিনোট সেশন, তিনটি প্যানেল ডিসকাশন, একটি এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ, একটি ইনসাইট সেশন এবং একটি কেইস স্টাডির সমন্বয়ে এ বছরের সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় আঞ্চলিক ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়।
সামিটের কিনোট সেশনগুলোতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নওশাদ হুসেইন, চিফ ব্যাংকিং অ্যান্ড নেটওয়ার্ক অফিসার, ট্রান্সফাই গ্লোবাল; ফর্মার গ্রুপ চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার, লাইটনেট গ্রুপ; ফর্মার মেম্বার অব দ্য বোর্ড অব ডিরেক্টরস, ইনসেপশন টেকনোলজি কো. লিমিটেড; ফর্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব গ্লোবাল রিটেইল পেমেন্টস, সিআইএমবি গ্রুপ; খুয়ান ইউ লি, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, রিজিওনাল হেড অব প্রোডাক্ট, জিএক্সব্যাংক, জিএক্সএস ব্যাংক অ্যান্ড গ্র্যাব; ফর্মার সিনিয়র প্রোডাক্ট লিডার, গ্লোবাল পেমেন্টস ফর আলিবাবা, অ্যান্ট গ্রুপ।
নওশাদ হুসেইনের কিনোট সেশনে আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন ও পারস্পরিক সংযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। খুয়ান ইউ লির কিনোট সেশনে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ব্যাংককে শূন্য থেকে দশ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
এক্সপার্ট ডিপ ডাইভ সেশনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গাজী ইয়ার মোহাম্মদ, কো-ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, কিউব মানি; কো-ফাউন্ডার, ডানা ফিনটেক; ফর্মার ইভিপি, হেড অব ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড। তিনি স্বয়ংক্রিয় কাজের ব্যবস্থা থেকে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের গুরুত্ব এবং আর্থিক সেবায় এর প্রভাবও তুলে ধরেন।
এছাড়াও সামিটের অন্যান্য সেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ, নগদবিহীন লেনদেন এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবার মধ্যে সংযোগের মাধ্যমে আরও দশ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ আর্থিক অবকাঠামো, নতুন সেবা পরীক্ষার সুযোগ, এআই ব্যবহারে তদারকি এবং তথ্য ও গ্রাহক সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
এই আলোচনাগুলোতে উপস্থিত ছিলেন, ওসমান এরশাদ ফায়েজ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি; মোহাম্মদ আলী, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, পুবালি ব্যাংক পিএলসি; সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি; ফারজানা চৌধুরী, চার্টার্ড ইনস্যুরার, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি; আলী রেজা ইফতেখার, অ্যাডভাইজর, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি; ফর্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি; শ্যামল বি. দাস, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও, ইউসিবি ফিনটেক কোম্পানি লিমিটেড- উপায়; জাকিয়া সুলতানা লাবণী, কান্ট্রি ম্যানেজার, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশ; ইউসুপ ফারুক, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, র্যাপটাস; ফর্মার ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মাইক্রোসফট- বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল; প্রফেসর ইমরান রহমান, ডিন অব বিজনেস অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভাইজর, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ; বোর্ড মেম্বার, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি; ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর অ্যান্ড ভাইস চেয়ারম্যান, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি; এবং অন্যান্য বক্তারা। তাঁরা ব্যাংকিং, পেমেন্টস, বীমা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে দেশের আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
মাস্টারকার্ডের সৌজন্যে, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সঞ্চালনায় এবং উপায়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফিনটেক সামিটের ৬ষ্ঠ সংস্করণটি বাংলাদেশ ফিনটেক ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম। সাপোর্টেড বাই - ব্রেইন স্টেশন ২৩; ইনোভেশন পার্টনার - বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ; অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার - টার্কিশ এয়ারলাইন্স; হসপিটালিটি পার্টনার - র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল, ঢাকা; এবং পিআর পার্টনার - ব্যাকপেজ পিআর।
আইএফআইসি গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গৌরবময় পথচলার ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষে ‘অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর’ প্রতিপাদ্যে ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার রাজধানীর আইএফআইসি টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটা ও গ্রুপ ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব মো. মেহমুদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব মো: এবতাদুল ইসলাম; অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব কাজী মো: মাহবুব কাশেম, এফসিএ; নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক জনাব মো: গোলাম মোস্তফা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব মো. মেহমুদ হোসেন বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে আইএফআইসি'র ৫০ বছরের পথচলা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে এই অর্জনকে ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সময়ের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বদলেছে গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রত্যাশা। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইএফআইসি ব্যাংকের চলমান সংস্কার ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ব্যাংকের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে অচিরেই আইএফআইসি ব্যাংক আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল একটি ব্যাংক হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফা বলেন, “গ্রাহকদের অবিচল বিশ্বাস ও ভালোবাসাই আইএফআইসি'র পাঁচ দশকের পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন। পঞ্চাশ বছর শুধু সময়ের হিসাব নয়, এটি অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা, সম্পর্ক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প। এই পথচলার সার্থকতা মানুষের জীবনে ইতিবাচক অবদান রাখা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নির্ভরতার সম্পর্ক গড়ে তোলার মধ্যে। আমরা এমন এক আইএফআইসি রেখে যেতে চাই, যা আগামী পঞ্চাশ বছরেও মানুষের বিশ্বাস ও নির্ভরতার ঠিকানা হয়ে থাকবে"।
এছাড়া, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব মো: এবতাদুল ইসলাম, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব কাজী মো: মাহবুব কাশেম, এফসিএ এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক জনাব মো: গোলাম মোস্তফা। তাঁরা পৃথক বক্তব্যে ব্যাংকটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, দেশব্যাপী আইএফআইসি ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি, দিনব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে ব্যাংকটির অর্ধশতাব্দীর পথচলার এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপন করা হয়।
১৯৭৬ সালের ৮ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা আইএফআইসি দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ব্যাংকিং সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ মালিকানাধীন ব্যাংকটি সারা দেশে ১,৪০০-এর বেশি শাখা ও উপশাখার বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২৫ লাখেরও বেশি গ্রাহককে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। একই সঙ্গে ৫৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি আমানত নিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি। শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আধুনিক, সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রেখে চলেছে আইএফআইসি ব্যাংক।
শিল্পখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথে এক নতুন মাইল ফলক ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে টেক জায়ান্ট ওয়ালটন। সূর্যের আলো বা সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শতভাগ পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চয়, জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত দৈনন্দিন ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য পরিচালনায় এক সমন্বিত ‘সোলার ইকো-সিস্টেম‘ প্রযুক্তি ব্যবস্থা উন্মোচন করেছে ওয়ালটন।
এই সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় নিজস্ব কারখানায় রূফটপ, ফ্লোটিং বা ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুত উৎপাদন করছে ওয়ালটন। যা দেশের বড় এক জেলা শহরের মোট বিদ্যুত চাহিদার সমান। ওয়ালটনের উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের বড় অংশ নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহারের মাধ্যমে কারখনার জ্বালানি সাশ্রয় করার পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডেও বছরে গড়ে প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট-ঘন্টা সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় ওয়ালটন শুধু শতভাগ পরিববেশবান্ধব সৌরবিদ্যুত উৎপাদনই করছে না; বাসাবাড়ির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, খাদ্য সংরক্ষণ, বিনোদন, রান্নাবান্না, আলোকসজ্জ্বা, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজে জ্বালানি সাশ্রয়ী সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারিসহ সৌরশক্তি নির্ভর পণ্যও উৎপাদন করছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর, ২০২৬) রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে এক জমকালো আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’ এর উন্মোচন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ।
সেসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি‘র চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলমম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি এবং তাহমিনা আফরোজ তান্না। উদ্বোধনের পরে ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের সৌরবিদ্যুত উৎপাদন প্যানেল, সোলার পাওয়ার ক্যাবলস, স্টোরেজ ইনভার্টার ব্যাটারি, সোলার হাই-ব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভিসহ সৌরবিদ্যুত চালিত ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, ওভেন, রাইস কুকার, বিএলডিসি ফ্যান, সোলার বেজড প্যাডেস্টাল ও টেবিল ফ্যান, বাল্ব, স্ট্রিট লাইটসহ ইত্যাদি পণ্যের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয় সম্পর্কে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর এয়ার কন্ডিশনার, রেফ্রিজারেটর ও স্মার্ট টেলিভিশনে সৌরবিদ্যুৎ ও প্রচলিত গ্রিড বিদ্যুতের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করায় ওয়ালটনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সোলার পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ। সোলারের মাধ্যমে ওয়ালটন যেটা করছে, সেটা সারা বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে। সোলারের মাধ্যমে আগামি এক দুই বছরে দেশে বড় অংকের বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এরফলে কম খরচে জনগণের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি কমবে। ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। পর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। সোলারের মাধ্যমে শুধু বাতি নয়, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন থেকে শুরু করে সব ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবহার করা যাবে। আমরা আশা করছি দেশের সব মানুষ সৌরশক্তি ব্যবহারের বিষয়ে এগিয়ে আসবেন।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, কার্বন নিঃস্বরণ হ্রাস এবং সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুত উৎপাদন, সঞ্চয় ও জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের পাশাপাশি গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে সৌরশক্তি নির্ভর অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন সক্ষমতার এক সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবস্থা। সোলার ইকোসিস্টেম আমাদের ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও মৌলভিত্তি আরও শক্তিশালী করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টিই আমাদের লক্ষ্য।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহারের সমন্বিত প্রযুক্তিব্যবস্থা হলো ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম। আমাদের লক্ষ্য শুধু ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নয়; বরং বাংলাদেশেই প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্ববাজারে দেশের সক্ষমতা তুলে ধরা।
ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টমে আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর শতভাগ পরিবেশান্ধব প্রযুক্তিপণ্য পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে ওয়ালটন বাংলাদেশের হাই-টেক শিল্পখাতের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, অগ্রগতি ও সক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় হাইব্রিড প্রযুক্তিতে চলবে এসি, ফ্রিজ ও টিভি। পর্যাপ্ত সূর্যালোক থাকলে ব্যাটারি ছাড়াই সরাসরি সৌরবিদ্যুতে চলবে হাইব্রিড প্রযুক্তি নির্ভর ওয়ালটনের সোলার ফ্রিজ, এসি ও স্মার্ট টিভি। সৌরবিদ্যুতের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিড থেকে ঘাটতি বিদ্যুৎ গ্রহণের মাধ্যমে চালু থাকবে হাইব্রিড ফ্রিজ, এসি ও টিভি। ফলে সৌরবিদ্যুতের প্রাপ্যতা অনুযায়ী গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব।
এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা ইএসএস প্রযুক্তির সমন্বয়ে ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুত নির্ভর নতুন মডেলের ওয়াশিং মেশিন, কুকার ও ওভেন যুক্ত করা হয়েছে। দিনের বেলায় সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা যায়। এই ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কুকার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার এবং বিএলডিসি ফ্যানের মতো পণ্যও পরিচালনা করা যাবে।
ওয়ালটনের ইনভার্টার ব্যাটারিত সোলার চার্জার ও এসি চার্জার সমন্বিত থাকায় সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিড—উভয় উৎস থেকে ব্যাটারি চার্জ করা যায়।
ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নতুন মডেলের তাকিওন ই-বাইকে সংযুক্ত করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই সিস্টেম স্মার্ট, পরিবেশবান্ধব ও বহুমুখী এনার্জি সল্যুশন সমৃদ্ধ ব্যাটারি। এই প্রযুক্তির ব্যাটারি ই-বাইককে একটি মোবাইল এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমে রূপান্তর করে, যা পরিবহন, সৌরশক্তি সংরক্ষণ ও জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা একসঙ্গে প্রদান করে।
এছাড়া সোলার ইকোসিস্টের সমন্বিত ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের নিরাপদ ও স্বাভাবিক সঞ্চালনের বিষয়টি মাথায় রেখে ওয়ালটন এনেছে ফটোভোলটাইক বা সোলার ক্যাবল। UV রশ্মি, আর্দ্রতা ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী ওয়ালটন সোলার ক্যাবলসে নমনীয় টিনড কপার কন্ডাক্টর এবং বিশেষ ইনসুলেশন ব্যবহৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে 'স্বাস্থ্য সেবায় ক্যাশলেস পেমেন্ট' শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোঃ জহির হোসেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আলতাফ হুসাইন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এ.এন.এম. মঈনুল কবির, অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারভেজ আনজাম মুনীর ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন এবং ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কে.এম. মুনিরুল আলম আল-মামুন। এসময় ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মোঃ মাকসুদুর রহমান, আবু সাঈদ মো. ইদ্রিস ও মো. জাকির হোসাইনসহ ইসলামী ব্যাংক ও ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে লেনদেন উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ জহির হোসেন বলেন, ক্যাশলেস বাংলাদেশ এবং ডিজিটাল লেনদেন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং এটি আধুনিক ও দক্ষ অর্থনীতি গঠনের মূল ভিত্তি। বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগোপযোগী উদ্যোগ বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থ বহনের ঝামেলা ও ভোগান্তি কমছে। কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর ফলে কাউন্টারে লেনদেন আরও দ্রুত, সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করায় প্রতিটি হিসাবের নির্ভরযোগ্য রেকর্ড থাকে, যা আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে। ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ ও সবার জন্য সহজলভ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব।
আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এর উদ্যোগে সম্প্রতি ‘আইডিএলসি ক্যাপিটাল মার্কেট কনক্লেভ ২০২৬’ শীর্ষক এক আলোচনার আয়োজন করা হয়। রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে এ শনিবার (অক্টোবর ১০) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ এবং টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রসঙ্গে এই খাতের বিশেষজ্ঞরা মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিসর বৃদ্ধি করা এবং আরো উন্নত ভারসাম্যপূর্ণ একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে করনীয় নিয়ে আর্থিক খাতের সম্মানিত নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক, ব্যাংক সহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজারের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি, করপোরেট সুশাসন, ও ব্যবসায়িক সাফল্যের ধারাবাহিক রেকর্ড রয়েছে – এমন বড় প্রতিষ্ঠান এবং স্বনামধন্য ব্র্যান্ডগুলোর পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ বাড়িয়ে একে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) ও সরাসরি তালিকাভুক্তি (ডিরেক্ট লিস্টিং)-এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা, বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদারের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ইমাম আবু সাঈদ, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম জামাল উদ্দিন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, বিএসইসি কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
স্বাগত বক্তব্যে আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম জামাল উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি যত এগিয়ে যাচ্ছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নের চাহিদাও তত বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে অর্থায়নের বিকল্প উৎসের গুরুত্বও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় একটি শক্তিশালী ও কার্যকর পুঁজিবাজার গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ব্যাংক খাত সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি করপোরেট অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা গেলে ব্যাংক খাতের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থায়নের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে”।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, “আমরা চাই, কোম্পানিগুলো বাধ্যবাধকতা ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে পুঁজিবাজারে আসুক এবং এর সুফল ভোগ করুক। আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু দেশি-বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। শেয়ারবাজারে আসার বিষয়টি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা উচিত”।
আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসির চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার বলেন, “ব্যক্তিপর্যায়ে সঞ্চয় করেন, কিন্তু পুঁজিবাজার সম্পর্কে ধারণা ও বিশ্বাস কম – বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ ধরণের সঞ্চয়কারীরা মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর নির্ভর করেন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে ভালো চর্চা গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশে তারা ফিক্সড ডিপোজিটের দিকে ঝোঁকেন, কিন্তু এখন সেখানেও মুনাফার হার এক অঙ্কের ঘরে নেমে এসেছে। এই শ্রেণীর সঞ্চয়কারীদের জন্য আমাদের শেয়ারবাজার খাতটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শেয়ারবাজারে সব বিনিয়োগকারীই যে ঝুঁকি নিতে চান, তা কিন্তু নয়। অনেক মানুষই নিরাপদ মুনাফা চান, যা ব্যাংকের স্থায়ী আমানতের সুদের হারের চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে। শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।“
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “অর্থায়নের তিনটি মূল উৎস বন্ড, ইক্যুইটি এবং ব্যাংকঋণ এর মধ্যে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় প্রায় ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল। ভারতে এই নির্ভরতার হার প্রায় ৫৩ শতাংশ, এবং উন্নত বাজারগুলোতে ব্যাংকনির্ভরতার হার কেবলমাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। একই সময়ে, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বাজারমূলধনও সবচেয়ে কম। আমরা বলছি না যে ব্যাংকনির্ভরতা খারাপ। ব্যাংক খাতের অর্থায়নের মাধ্যমেই আমাদের অর্থনীতির ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন, এমনকি জিডিপি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান এসেছে। তবে আমাদের একটি আরো নির্ভরযোগ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ আর্থিক কাঠামো গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা প্রয়োজন”।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমাদের বাজার মূলধন জিডিপির ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বা তারও কম। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা এটা জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছি। ফলে বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজসহ আমাদের বাজারের আকার বর্তমানের ৩০ বিলিয়ন ডলার (ইকুইটি) থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এটা অবশ্যই সম্ভব। তবে এর জন্য সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ, আস্থা ও বিশ্বাস প্রয়োজন।’
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের হেড অব ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং মো. রাশিদুজ্জামান এবং সৌদি-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (সাবিনকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মারুফুর রহমান মজুমদার মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।
আয়োজনের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল ‘রিথিংকিং দ্য ব্যালান্স শিট: ডাইভার্সিফাইং করপোরেট ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে তাদের অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা করতে পারে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে উপযুক্ত অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করতে পারে, তা নিয়ে প্যানেলে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার মূল্য বাড়াতে করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও কার্যকর আর্থিক কাঠামোর গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কনক্লেভটি শেষ হয়।
মেঘনা ব্যাংক পিএলসি মেঘনা-পে-এর মাধ্যমে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা চালু করেছে। সমন্বিত ডিজিটাল লেনদেন সুবিধা সম্প্রসারণ ও নগদবিহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ সেবা চালু করেছে ব্যাংকটি।
সম্প্রতি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবার উদ্বোধন করেন। এ সময় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ছাদেকুর রহমান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোতাজ্জুল করিম এন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এ সেবার মাধ্যমে মেঘনা ব্যাংকের গ্রাহকেরা মেঘনা-পে ব্যবহার করে যেকোনো পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এ জন্য মুঠোফোনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সরাসরি মূল্য পরিশোধ করা যাবে।
ব্যাংকটির দাবি, নতুন এ সেবার ফলে গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এ (বিইউপি) ‘সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও সামাজিক সংহতি: একটি উন্নত সমাজ বিনির্মাণ’ (এমপ্যাথি, টলারেন্স অ্যান্ড সোশ্যাল কোহিশন: বিল্ডিং আ বেটার সোসাইটি) শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল পৌনে দশটা থেকে দুপুর পৌনে একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির স্বাধীনতা মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিইউপির ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (এফএএসএস)-এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এই শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বর্তমান যুগে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মূল্যবোধ ও মনস্তত্ত্বে দৃশ্যমান রূপান্তর ঘটাচ্ছে। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি অন্যদিকে সমাজে অসহিষ্ণুতা ও মেরুকরণের মতো উদ্বেগজনক প্রবণতাও বৃদ্ধি করছে। এমন বাস্তবতায় দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তরুণদের মাঝে সহমর্মিতা, পারস্পরিক পরমতসহিষ্ণুতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের বিস্তার ঘটিয়ে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক বা প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মো. মাহবুব-উল আলম। এ ছাড়া প্যানেল আলোচক হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিয়া হক এবং বিইউপির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শাম্মী আক্তার। তাঁরা তরুণ শিক্ষার্থীদের মানসিক ইতিবাচকতা ও সহনশীল সমাজ গঠনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে অন্যান্যের মধ্যে বিইউপির ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সহনশীল, সংহত ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।