সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র যেসব শিক্ষার্থী ও নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই)। একই সঙ্গে আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে সংগঠনটি। হতাহতের প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘদেয়াদি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাসহ গুরুতর আহতদের চিকিৎসার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্যও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে। গতকাল এমসিসিআই থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, দেশব্যাপী চলমান আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে এমসিসিআই গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে (বিদেশি বিনিয়োগসহ) মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। অনতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। আমরা সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কর্মবিরতি পালন করছেন। আমরা আশা করছি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন এবং খুব দ্রুতই এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। সব রাজনৈতিক দলসহ দেশের জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য আমরা উদাত্ত অনুরোধ ও আহ্বান জানাচ্ছি; যেন দ্রুতই আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারি।
দেশে খুব শিগগিরই একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আশা করছি যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব দ্রুতই তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে এবং সব গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক পুনর্গঠনপূর্বক দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্ব দেবে। দায়িত্বশীল ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে এমসিসিআই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধপরিকর। বিজ্ঞপ্তি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পরিষদের এক সভা বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম জুবায়দুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন।
সভায় এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, এফসিএ, এফসিএস, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন এবং কোম্পানি সেক্রেটারি মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক বিপণন প্রতিষ্ঠান টপ টেন গ্রুপ ৩৫ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে সম্প্রতি টপ টেন গ্রুপের বিভিন্ন শাখায় আনন্দঘন পরিবেশে দোয়া মাহফিল ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টপ টেন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুল ইসলাম, প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা (অব.) মেজর মুস্তাফিজুর রহমান, জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুর রহমান, জেনারেল ম্যানেজার মাসুদ খানসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছরের পথচলায় টপ টেন গ্রুপ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে পণ্যের গুণগত মানের ওপর।
এর ফলেই প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আরও বলেন, এই ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে একটি মাত্র শোরুম দিয়ে যাত্রা শুরু করা টপ টেন গ্রুপ আজ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৫০টিরও বেশি শোরুমে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে।
কর্মকর্তারা ভবিষ্যতেও গ্রাহকসেবার মান বজায় রেখে টপ টেন গ্রুপকে আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও আনন্দময় করতে এবং বিশেষ ডাইনিং সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঝিল ম্যায়েস্ট্রিয়া রেস্টুরেন্টের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। গত মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকার উত্তরার ঝিল ম্যায়েস্ট্রিয়া রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তির পথচলা শুরু হয়। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে উভয় প্রতিষ্ঠান একে অপরের সেবা ও সুযোগ-সুবিধা বিনিময় করার মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কিমিয়া সাআদত। অন্যদিকে ঝিল ম্যায়েস্ট্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ঝিল ম্যায়েস্ট্রিয়ার পরিচালক ফরহাদ হোসেন এবং কমিউনিটি ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্যতম। বক্তারা এই উদ্যোগকে গ্রাহক সন্তুষ্টির পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং আগামীতে এর পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নতুন এই চুক্তির আওতায় কমিউনিটি ব্যাংকের সকল অ্যাকাউন্ট হোল্ডার, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডধারী গ্রাহক এবং ব্যাংকটির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্টেকহোল্ডাররা সারা বছর ঝিল ম্যায়েস্ট্রিয়া রেস্টুরেন্টে বিশেষ ডাইনিং সুবিধা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ এই অফারের আওতায় গ্রাহকরা ৫,০০০ টাকার খাবার অর্ডার করলেই ২,০১৯ টাকা পর্যন্ত বিশাল অংকের ছাড় বা ডিসকাউন্ট পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আধুনিক রুচির ভোজনরসিকদের কাছে এই অফারটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।
কমিউনিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা সবসময় তাদের গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিভিন্ন বাড়তি সুবিধা দিতে সচেষ্ট থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের জনপ্রিয় ও মানসম্মত রেস্টুরেন্টগুলোর সঙ্গে এ ধরনের অংশীদারিত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। গ্রাহক সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামীতেও আরও অনেক সৃজনশীল ও জনবান্ধব সেবার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। মূলত গ্রাহকদের একটি পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা প্রদান করাই এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।
দেশের অন্যতম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি. তাদের কর্মীদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের মানোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তার সকল স্থায়ী কর্মী ও তাঁদের নির্ভরশীলদের জন্য ব্যাপক বীমা সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় বীমা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মিডল্যান্ড ব্যাংকের প্রায় ৬০০ জন স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি দুর্ঘটনা, শারীরিক অক্ষমতা এবং মৃত্যুঝুঁকির বিপরীতে আর্থিক সুরক্ষা পাবেন। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও ইন-পেশেন্ট, আউট-পেশেন্ট এবং মাতৃত্বকালীন উন্নত বীমা সুবিধার আওতায় আসবেন, যা তাঁদের পারিবারিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি অভিজাত ভেন্যুতে আয়োজিত এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মিডল্যান্ড ব্যাংকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. আহসান-উজ-জামান এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আলা আহমদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। মূলত কর্মীদের জন্য এমন বীমা সুবিধা একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাবোধ ও আনুগত্য গড়ে তুলতে অত্যন্ত সহায়ক। মেটলাইফ বাংলাদেশের পরিচালিত ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি’র তথ্য অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি খাতের অধিকাংশ কর্মী মনে করেন যে আর্থিক উদ্বেগ তাঁদের কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় মিডল্যান্ড ব্যাংকের এই উদ্যোগ কর্মীদের মানসিক প্রশান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে এক বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মিডল্যান্ড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মেটলাইফকে তাদের বীমা সহযোগী হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে মেটলাইফের দাবি নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক সাফল্য, প্রয়োজনভিত্তিক কাস্টমাইজড সমাধান এবং আধুনিক ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের সুবিধা গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশলেস হাসপাতালে ভর্তি এবং দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানের সক্ষমতা জরুরি মুহূর্তে জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে। মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. আহসান-উজ-জামান বিশ্বাস করেন যে, এই গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স সুবিধা কেবল আর্থিক নিরাপত্তা দেবে না, বরং এটি সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসার পথ প্রশস্ত করে কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী জনাব আলা আহমদ বলেন যে, তাঁরা সবসময় কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক কাজের পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর। মিডল্যান্ড ব্যাংকের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব সেই অভিন্ন লক্ষ্যেরই প্রতিফলন, যেখানে কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সাল থেকে মিডল্যান্ড ব্যাংক দেশজুড়ে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে এবং অন্যদিকে মেটলাইফ বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ব্যক্তিগত গ্রাহক ও ৯০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানকে বীমা সুরক্ষা প্রদান করছে, যা তাঁদের শক্তিশালী অবস্থানেরই প্রমাণ দেয়।
উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মিডল্যান্ড ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. জাহিদ হোসেন, সিটিও জনাব নজমুল হুদা সরকার এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রধানসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মেটলাইফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা জনাব আলা উদ্দিন ও চিফ কর্পোরেট বিজনেস অফিসার জনাব মোহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের করপোরেট সংস্কৃতিতে স্বাস্থ্য ও জীবন বীমার গুরুত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো, যা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) ও ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড, ব্রাঞ্চ-১ (মেডিক্স)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) ইউল্যাব ক্যাম্পাসে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউল্যাবের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য এবং তাদের বাবা, মা, স্ত্রী, স্বামী এবং সন্তানদের মেডিক্সের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
সমঝোতা স্মারকে মেডিক্স-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন সেন্টার অপারেশনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. হোসেন ইমাম এবং ইউল্যাবের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য, পিএইচডি, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার।
অনুষ্ঠানে মেডিক্স-এর পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল সার্ভিসেস ম্যানেজার ডা. মো. নজমুল হাসান এবং করপোরেট মার্কেটিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. বাপ্পী শাহরিয়ার এবং ইউল্যাবের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল ইসলাম (অব.), ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব কমিউনিকেশন আসিফুর রহমান খান এবং ডেপুটি ডিরেক্টর (এসএও) মো. মাহমুদ হোসেন।
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি এবং শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেট (চট্টগ্রামে অবস্থিত প্রিমিয়ার রিটেইল ডেস্টিনিশন) এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ আইএফআইসি ব্যাংক ও শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেট এর কর্মকর্তারা এর উপস্থিতিতে শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেট এর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এই চুক্তির আওতায় এখন থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের সকল গ্রাহক নানান ধরনের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।
আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার চিফ ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল মুমিন এবং শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেট এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিল্টন দে। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংক এর খাতুনগঞ্জ শাখার, শাখা ব্যবস্থাপক শেখ সামসুদ্দিন বায়েজীদ, আগ্রাবাদ শাখার হেড অব ক্রেডিট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শাহাদাত কবির এবং শপিং ব্যাগ সুপার মার্কেট এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. জাফর উল্লাহ।
এছাড়াও উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, এখন থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের গ্রাহকরা শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেট এ ৩% বিশেষ ছাড়, শেফস টার্মিনাল ফুড কোর্ট এ ১০% ছাড়, কিডস প্লে ল্যান্ড এর প্রবেশ টিকিটে ৩০% ছাড়, ফ্রি হোম ডেলিভারি সার্ভিস, প্রমোশন ও ইভেন্টে আর্লি এক্সেস, এক্সক্লুসিভ কাস্টমার প্রিভিলেজ এক্সপেরিয়েন্স উপভোগ করতে পারবেন।
দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক ব্যাংক উত্তরা ব্যাংক পিএলসি গ্রাহকদের জন্য আধুনিক ও উন্নত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে ‘টাকা-পে’ (TakaPay) ডেবিট কার্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ, সোমবার, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সর্বাধুনিক এনএফসি (NFC) প্রযুক্তি সম্পন্ন এই কার্ডটির শুভ উদ্বোধন করেন উত্তরা ব্যাংক পিএলসি-এর মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জনাব মো: আবুল হাশেম। বিশ্বমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তৈরি করা এই কার্ডটি ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্বোধনকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান যে, গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে উত্তরা ব্যাংক সবসময়ই আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
নতুন এই টাকা-পে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকরা দেশের অভ্যন্তরে যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে সহজেই নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শপিং মলগুলোতে থাকা পয়েন্ট অব সেল বা পওস (POS) মেশিনের মাধ্যমে কেনাকাটা করার সুবিধাও এই কার্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে এনএফসি প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট বা স্পর্শহীন লেনদেন আরও নিরাপদ ও দ্রুততর হবে। সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেনকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে এই উদ্যোগটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
জাঁকজমকপূর্ণ এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাকসুদুল হাসান এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ জনাব মো: রেজাউল করিম ও জনাব খন্দকার আলী সামনুন। এছাড়াও ব্যাংকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নতুন এই সেবার শুভ সূচনা উদযাপন করেন। উত্তরা ব্যাংক পিএলসি তাঁদের কার্ড সেবার মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে আগামীতেও এ ধরণের যুগোপযোগী পণ্য নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। মূলত গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই নতুন কার্ডের প্রধান লক্ষ্য।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (HEAT) প্রকল্পের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি ২০২৬) HEAT প্রকল্প কার্যালয়ে এই আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সম্মেলন, সেমিনার এবং কর্মশালাগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পেশাদারিত্বের সাথে আয়োজনের লক্ষ্যে দেশীয় শীর্ষস্থানীয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘এক্সট্রিম এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট সল্যুশন লিমিটেড’ (ইথ্রি সল্যুশন)-এর সাথে এই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি HEAT প্রকল্পের সকল ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কারিগরি ও পরিচালনাগত দায়িত্ব পালন করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে HEAT প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এই উদ্যোগের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে HEAT প্রকল্প। এই দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে নিয়মিত কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার আয়োজন করা অপরিহার্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এক্সট্রিম এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট সল্যুশন লিমিটেডের মতো একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সাথে এই চুক্তি প্রকল্পের সকল ইভেন্ট কার্যক্রম যথাসময়ে ও সর্বোচ্চ মানের সাথে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে। পেশাদার ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার সঠিক প্রয়োগ প্রকল্পের প্রচার ও প্রসারেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, ইথ্রি সল্যুশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রেজাউল করিম ভুইয়া এই বিশাল দায়িত্ব প্রদানের জন্য HEAT প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, সরকারি ও আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সাথে যুক্ত হতে পারা তাঁদের প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি। ইথ্রি সল্যুশন তাঁদের পূর্বের অভিজ্ঞতা ও দক্ষ জনবল কাজে লাগিয়ে চুক্তির আওতায় অর্পিত সকল দায়িত্ব সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সফলভাবে সম্পন্ন করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের এই অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে পেরে তিনি গর্ববোধ করেন এবং দীর্ঘমেয়াদী এই সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ বিদেশের অতিথিদের সামনে প্রকল্পটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফুটে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং এতে উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। HEAT প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক খুরশিদ আলম এবং ইথ্রি সল্যুশনের পরিচালক জনাব মধুসূদন সাহা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই চুক্তিতে সক্ষী হিসেবে ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে HEAT প্রকল্পের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ অনুষ্ঠান আয়োজনের সক্ষমতা আরও কয়েকগুণ জোরদার হবে। এটি কেবল প্রকল্পের সাংগঠনিক দক্ষতাই বাড়াবে না, বরং বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের বর্তমান সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ায় এক শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। পরিশেষে, এই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে উচ্চশিক্ষার প্রসার ও গুণগত মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি সহজতর হবে।
দেশের অন্যতম ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক গ্রাহক তথ্যের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও সনদ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তথ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘আইএসও ২৭০০১:২০২২’ সনদ পেয়েছে, যা মূলত বিশ্বজুড়ে ‘ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস’ (আইএসএমএস)-এর জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত। এই অর্জনের মাধ্যমে বাংলালিংক পুনরায় প্রমাণ করল যে, তারা গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও কার্যকরী প্রক্রিয়াগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করছে। এই সনদ প্রাপ্তি ডিজিটাল সেবার ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
সনদ প্রদানের এই প্রক্রিয়ায় বাংলালিংকের সামগ্রিক নীতিমালা, পরিচালন পদ্ধতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির সিকিউরিটি গভর্নেন্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (রিস্ক ম্যানেজমেন্ট), অ্যাক্সেস কন্ট্রোল মেকানিজম এবং ভেন্ডর ম্যানেজমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়াও কোনো সংকটে ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার পরিকল্পনা এবং অপারেশনাল সিকিউরিটি কন্ট্রোল পর্যালোচনার মাধ্যমে বাংলালিংকের শক্তিশালী ও স্থিতিশীল নিরাপত্তা কাঠামোর সত্যতা পাওয়া গেছে। এই সাফল্য কেবল প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করে যাওয়া কর্মীদের পেশাদারিত্ব ও নিবেদনেরই একটি বড় প্রতিফলন।
বাংলালিংকের এই শক্তিশালী তথ্য নিরাপত্তা প্রোগ্রামটি মূলত তাদের অপারেশনস, রিস্ক ও গভর্নেন্স টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল। এই ধরণের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত করতে এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে অত্যন্ত সহায়ক। বাংলালিংকের চিফ টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফরমেশন অফিসার (সিটিআইও) হুসেইন তুর্কার এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ডিজিটাল সেবা এখন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই গ্রাহকরা যাতে নিশ্চিন্তে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলালিংকের সেবা গ্রহণ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে তাঁরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবেন। এই আইএসও সনদ মূলত গ্রাহক সুরক্ষায় তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলালিংক সকল অংশীদারদের জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি গ্রহণ করার পাশাপাশি কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করছে। ক্রমপরিবর্তনশীল সাইবার জগতের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে এবং ডিজিটাল স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপারেটরটি তাঁদের সাইবার সিকিউরিটি ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো আরও মজবুত করার কৌশল নিয়েছে। বাংলালিংক মনে করে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আধুনিক টেলিযোগাযোগ খাতের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।
দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, সাধারণ ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)। ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তারা সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থার বহুমুখী ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। এমআইওবি জানায়, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি স্মার্টফোন আমদানিতে যে শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা এই শিল্পে শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি সময়োপযোগী ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের ফলে বাজারে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অবৈধ ব্যবসা অনেকাংশেই কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ফোন শিল্পের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে বলা হয় যে, এনইআইআর কার্যকর হওয়ার ফলে অবৈধ উপায়ে দেশে আসা, নকল এবং চুরি হওয়া মোবাইল ফোন সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে ফোন ক্লোনিং, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা সরাসরি ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। এছাড়া এই ব্যবস্থার ফলে বাজারে একটি সুস্থ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে, যা বৈধ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি এটি দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিকেও আরও মজবুত করবে বলে শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে এবং এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার একটি বড় অংশই নারী শ্রমিক।
তবে এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশের কিছু অসাধু ও অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবসায়ীর সহিংস আচরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমআইওবি। সংগঠনটি জানায়, দেশের প্রায় ১২ হাজার ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১ হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যবসায়ীর একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এবং আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা নেওয়ার পরেও বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। তাদের এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকানগুলো জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ তাঁর বক্তব্যে সাফ জানিয়ে দেন যে, এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল শিল্পের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতার জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, কিছু অসাধু লোকের ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সৃষ্ট এই অস্থিরতা কেবল জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ওপর নির্ভরশীল এই শিল্পে এমন বিশৃঙ্খলা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এমআইওবি এই সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারকে আইনানুগ উপায়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়। নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের অবদান রাখতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মূলত বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে সম্মেলনে অভিমত দেওয়া হয়।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমই ফাউন্ডেশন) চেয়ারপারসন হিসেবে যোগ দিয়েছেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তিনি এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। এর আগে, গত ১ জানুয়ারি তাকে নিয়োগ দিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন পুনরায় নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ওবায়দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরি শুরু করেন। চাকরিজীবনের দীর্ঘ সময়ে তিনি মাঠ প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
ওবায়দুর রহমান এসএমই ফাউন্ডেশনের নবম চেয়ারপারসন।
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)-এর কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে রোববার (৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘টুয়েলভ ক্লথিং প্রেজেন্টস বিইউএফটি ন্যাশনাল কালচারাল ফেস্ট ২০২৬’। দিনব্যাপী এ আয়োজন তারুণ্যের সৃজনশীলতা, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং ক্যাম্পাস সংস্কৃতিকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফেস্টের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইন্টার-ইউনিভার্সিটি কালচারাল কম্পিটিশন। এতে দেশের বাছাইকরা ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় সংগীত, নৃত্য, নাটক, চারুকলা, সৃজনশীল লেখা ও আবৃত্তিসহ ছয়টি বিভাগে মোট ১৮টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় সংগীত বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–বাংলাদেশ (এআইইউবি), নৃত্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নাটকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলায় শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়, সৃজনশীল লেখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবৃত্তিতে চ্যাম্পিয়ন হয় এআইইউবি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে সংগীত, নাটক, কবিতা, সৃজনশীল লেখা, চারুকলা ও হিপ-হপসহ নানা পরিবেশনা উপভোগ করেন দর্শকরা।
ফেস্টের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ফ্যাশন রানওয়ে শো, বিভিন্ন স্টল ও ফ্ল্যাশমব, যা বিইউএফটির ফ্যাশন ও সৃজনশীল পরিচয়কে তুলে ধরে। পাশাপাশি জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’-এর লাইভ পারফরম্যান্স দর্শকদের মাতিয়ে তোলে।
ফেস্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ফারুক হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিইউএফটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান এবং জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদ।
অনুষ্ঠানের স্পন্সর ছিল- সায়র রেস্টুরেন্ট, অ্যাসেনসিয়াল বাই সেল ও দোয়েল ওটিটি। পার্টনার হিসেবে ছিল- এমব্রেলা, স্টাইলওয়ে বিডি, ফোকাস ক্যাম ও প্রমিসেস মেডিকেল লিমিটেড।
বাটা বাংলাদেশ সম্প্রতি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত সিএসডি টাওয়ারে তাদের সর্ববৃহৎ ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টোর উদ্বোধন করেছে। এই নতুন সংযোজনটি বাটার রিটেইল যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং বাংলাদেশের বাজারে তাদের উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে উদ্বোধন করেন বাটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিস ফারিয়া ইয়াসমিন এবং সিএসডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোজাম্মেল হোসেন। অনুষ্ঠানে বাটা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন- রিটেইল ডিরেক্টর জনাব আরফানুল হক, হেড অব এইচআর জনাব মালিক কবির, হেড অব মার্কেটিং মিস নূসরাত হাসান এবং হেড অব ফ্র্যাঞ্চাইজি জনাব শাহজাহান সানি। এ ছাড়া সিএসডির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন- মেজর মীর ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ, হেড অব সেন্ট্রাল প্ল্যান অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট; লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আসিফ আবদুর রউফ, হেড অব শপস অপারেশন; অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. শাখাওয়াত হোসেন খান, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (মার্কেটিং ও কাস্টমার রিলেশনশিপ); এবং সিনিয়র ম্যানেজার, সিএসডি জনাব মো. শামসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাটা বাংলাদেশ ও সিএসডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
নতুন বাটা আউটলেটটির আয়তন প্রায় ১,৫০০ বর্গফুট। এটি সিএসডি টাওয়ারের ভেতরে অবস্থিত, যা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি রিটেইল বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি মান ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে এবং ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে। সিএসডির মূল লক্ষ্য হলো- নির্ভরযোগ্য ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে প্রতিরক্ষা কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। সিএসডি টাওয়ারে বাটার এই আউটলেটের মাধ্যমে নির্ধারিত সিএসডি গ্রাহকরা সহজে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক মানের জুতা কিনতে পারবেন।
এই পার্টনারশিপ বাটার রিটেইল সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে সমর্থন করে এবং জাতীয় সেবা ও কল্যাণে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাটার অঙ্গীকারের দৃঢ় প্রতিফলন।