এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড-এর সৌজন্যে এবং ওয়ালটন গ্রুপের সঞ্চালনায় রাজধানীর লে মেরিডিয়ান হোটেলে গত ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ১৪তম কমিউনিকেশন সামিট। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের এই ফ্ল্যাগশিপ আয়োজনটিতে অংশ নেন দেশের মার্কেটিং, অ্যাডভার্টাইজিং, ব্র্যান্ডিং, মিডিয়া, পাবলিক রিলেশনস এবং ক্রিয়েটিভ কমিউনিকেশন খাতের শীর্ষ পেশাজীবীরা। আয়োজনটির এই বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— “কেয়স, কালচার অ্যান্ড ক্রিয়েটিভিটি: রিইমাজিনিং দ্য কমিউনিকেশন ক্যানভাস।”
সামিটের আলোচনায় বক্তারা জানান, যোগাযোগ শিল্প এখন দ্রুত বদলে যাওয়া বাস্তবতার মুখোমুখি। ডিজিটাল পরিবর্তন, নতুন ধরণের দর্শক আচরণ আর সাংস্কৃতিক পরিবর্তন—সবকিছু মিলেই ব্র্যান্ডের বার্তা পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই গল্প বলার নতুন পথ, দর্শকের সঙ্গে আরও অর্থবহ সম্পর্ক এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর—এসব নিয়ে সামিটে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বক্তারা আরও বলেন, মানুষের জীবন ও সংস্কৃতিকে বোঝাই এখন কার্যকর যোগাযোগের মূল ভিত্তি।
অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী সম্পাদক সাজিদ মাহবুব বলেন, “আজ যোগাযোগের দুনিয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত বদলে যাচ্ছে। চারপাশের অনিশ্চয়তা আর তথ্যের ভিড়ে পথ খুঁজে নিতে সৃজনশীলতাই এখন আমাদের সবচেয়ে শক্ত ভরসা। এই সামিট মনে করিয়ে দেয়—সংস্কৃতি, মানবিকতা এবং সৃজনশীল চিন্তা মিলেই তৈরি হয় এমন ব্র্যান্ড–গল্প, যা দর্শকের কাছে সত্যিকারের সংযোগ তৈরি করে এবং ব্যবসাকেও এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।”
দিনব্যাপী আয়োজনে ৩টি কিনোট সেশন, ৪টি প্যানেল ডিসকাশন ও ২টি কেস স্টাডির সমন্বয়ে ব্র্যান্ড–কমিউনিকেশন শিল্পের চলমান প্রবণতা, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ এবং পরিবর্তনশীল বাস্তবতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
কি–নোট সেশনগুলোতে বক্তারা তুলে ধরেন—ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সৃজনশীল ভাবনার কার্যকর প্রয়োগ, ডিজিটাল যুগে ব্র্যান্ডের আত্মতুষ্টি থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকি—যার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে “জোহরান মামদানি” ক্যাম্পেইনের বিশ্লেষণ—এবং ব্র্যান্ডের তথ্যজট ভেদ করে স্পষ্ট, গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী বার্তা তৈরির প্রয়োজনীয় কাঠামো। কি–নোট বক্তারা ছিলেন— তানজীন আলম, কান্ট্রি হেড, বাংলাদেশ অ্যান্ড এসইএ, এমামী লিমিটেড; অরূপ ইরফান স্যানাল, হেড অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস্ট, মাইটি:; এবং তৌফিক মাহমুদ, এক্সিকিউটিভ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, মিডিয়াকম লিমিটেড।
নিজের কি–নোটে তানজীন আলম তুলে ধরেন—সত্যিকারের সৃজনশীলতা তখনই ফল দেয়, যখন তা বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধান করে। তিনি বলেন, “মানুষের অভ্যাস বদলাতে হলে আগে বুঝতে হবে কেন বদলানো দরকার।” তাই ব্র্যান্ডের উচিত প্রচলিত ভাবনার বাইরে গিয়ে আরও ধারালো, অন্তর্দৃষ্টি–নির্ভর কৌশল তৈরি করা। তাঁর মতে, একেক সময় পাঁচ সেকেন্ডের ঝলক, এক টুকরো বুদ্ধিদীপ্ত বাঁক বা শক্ত সাংস্কৃতিক সংকেত—অতি প্রযোজনা ছাড়াই দর্শকের মনোযোগ কাড়তে পারে।
প্যানেল আলোচনাগুলোতে উঠে আসে—পিচ–নির্ভর সম্পর্কের সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে ক্লায়েন্ট–এজেন্সির পার্টনারশিপভিত্তিক কাজের পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা। আলোচনা হয় কনটেন্টের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সৃজনশীলতার গভীরতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যত–মনস্ক, উদ্দেশ্য–নির্ভর মার্কেটিং নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নিয়ে। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদে ব্র্যান্ডের ভ্যালু তৈরি করতে অর্থ, অনুভূতি ও সংস্কৃতিভিত্তিক কৌশলের গুরুত্বও বিশেষভাবে জায়গা পায়। এছাড়াও, কেস স্টাডি সেশনগুলোতে বিশ্লেষণ করা হয়—ব্র্যান্ডকে এখন কোন সাংস্কৃতিক ও আচরণগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হচ্ছে এবং তার প্রভাব কোথায় পড়ছে।
প্রথম প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, সমৃদ্ধ ক্লায়েন্ট–এজেন্সি সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মান এবং যৌথ দায়িত্ববোধের মাধ্যমে। ন্যায্য প্রক্রিয়া—যেমন যথাযথ পিচ–ফি ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি—দুই পক্ষকেই আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। আলোচকরা উল্লেখ করেন, এজেন্সির বহুমুখী শিল্প–অভিজ্ঞতা থাকে, আর ক্লায়েন্ট যোগ করে ডেটা ও প্রেক্ষাপট; এই সমন্বয়ই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে সবচেয়ে জরুরি। প্যানেলের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাস তৈরি হয় যখন উভয় পক্ষ গবেষণা, মূল্যায়ন এবং সমস্যা সমাধানে প্রকৃত অংশীদারের মতো একসঙ্গে কাজ করে।
সামিটের অন্যান্য সেশনে বক্তা হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন— আফজাল মাহবুব, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, গ্রে গ্রুপ; অজয় কুমার কুন্ডু, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, মিডিয়াকম লিমিটেড; সারাহ আলী, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, এফসিবি বিটপি; শারজিল করিম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইন্টারস্পিড অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেড; ইশতিয়াক শহরিয়ার, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড হেড অব ডিপার্টমেন্ট, ডিজিটাল অ্যাসেটস অ্যান্ড কমিউনিকেশনস, বিকাশ লিমিটেড; দ্রাবীর আলম, চিফ অপারেটিং অফিসার অ্যান্ড ডিরেক্টর, এক্স সলিউশনস লিমিটেড; তানভীর হোসাইন, এক্সিকিউটিভ ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড; লুতফি চৌধুরী, কো–ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, অ্যাডফিনিক্স লিমিটেড এবং প্রমুখ।
এসএমসি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড-এর সৌজন্যে এবং ওয়ালটন গ্রুপের সঞ্চালনায় কমিউনিকেশন সামিট ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। সহযোগিতায় — কানস লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ক্রিয়েটিভিটি। স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার — ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভার্টাইজিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন, বিবিএফ সিএমও ক্লাব; নলেজ পার্টনার — মার্কেটিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ; হসপিটালিটি পার্টনার — লে মেরিডিয়ান ঢাকা ; অফিশিয়াল ক্যারিয়ার পার্টনার — টার্কিশ এয়ারলাইন্স; পিআর পার্টনার — ব্যাকপেজ পিআর। কমিউনিকেশন সামিট ২০২৫ বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের একটি উদ্যোগ।
কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বের সরাসরি ও অর্থবহ যোগাযোগ আরও জোরদার করতে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি) চালু করেছে একটি নতুন উদ্যোগ- ‘সিইও কানেক্ট’।
ব্যাংকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা আন্তরিক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
সিইও কানেক্টের প্রথম আলাপচারিতা পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২০ জানুয়ারি এমটিবি সেন্টারের বোর্ড রুমে। এতে ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ ও স্তর থেকে নির্বাচিত ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। কোনো উপস্থাপনা বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই এই সেশনটি সাজানো হয় খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে—যেখানে কর্মীদের অভিজ্ঞতা, ভাবনা, অনুপ্রেরণা ও মতামত গুরুত্ব পায়।
এ উদ্যোগ সম্পর্কে এমটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মিউচুয়াল’ মানে শুধু গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, বরং সহকর্মীদের মধ্যকার পারস্পরিক সংযোগ ও বোঝাপড়া। ছোট পরিসরে আন্তরিক আলোচনাই প্রকৃত সংযোগ তৈরি করে—আর সেই লক্ষ্যেই সিইও কানেক্ট। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এমটিবি তার মানবকেন্দ্রিক সংস্কৃতি, উন্মুক্ত যোগাযোগ এবং অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করল।
ঝুঁকিতে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ড। এ বছর সেই তহবিলের দশ বছর পূর্তি হলো। এই মাইলফলক উপলক্ষে বাংলাদেশে ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিয়োজিত পেশাজীবীদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা আয়োজন করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
এসব কর্মশালার লক্ষ্য ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে শক্তিশালী একটি যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
এ উদ্যোগের ফলে দেশের ভেতরে ও বাইরের ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের যুক্ত করা হবে এবং তাদের মধ্যকার সমন্বয় আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ঐতিহ্য উদ্যোগের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হতেও সহায়তা করবে এসব কর্মশালা।
এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ড ঐতিহ্য সুরক্ষার পাশাপাশি মানবসম্পদে বিনিয়োগে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বাংলাদেশ জুড়ে নতুন পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে আমরা ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে, নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং তাদের সাংস্কৃতিক সুরক্ষার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করছি।’
এ ছাড়া নেপালে পুনর্জীবিত করা হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় কুসুন্ডা ভাষা ও নারীদের হাতে আঁকা মৈথিল দেয়ালচিত্র। সংরক্ষণ করা হচ্ছে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলের প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ। একই সঙ্গে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা আদিবাসী খাদ্য সংস্কৃতি।
এই কমিউনিটি-কেন্দ্রিক উদ্যোগগুলো হয়ে উঠছে পুনরুদ্ধার, সহনশীলতা ও নবজাগরণের শক্তি। মানুষকে সাহায্য করছে পুনরায় তাদের সংস্কৃতি বিষয়ক জ্ঞান তৈরিতে। গড়ে তুলছে পরিচয় ও নিজস্বতার বোধে গড়া ভবিষ্যৎ।
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ২ হাজার ৪৯৬ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত হলো ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) ২৬তম সমাবর্তন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২ হাজার ১৪০ জন স্নাতক ও ৩৫৬ জন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের। কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জনকারী পাঁচ স্নাতককে দেওয়া হয় আচার্য স্বর্ণপদক বা চ্যান্সেলর্স গোল্ড মেডাল। শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সমান কৃতিত্বের জন্য ‘অল-রাউন্ডার’ স্বর্ণপদক পান এক স্নাতক।
রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে সনদ প্রদান করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন, আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দিদার এ হোসেইন; অ্যাডুকেশন, সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের (ইএসটিসিডিটি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া খান; উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম; উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. ড্যানিয়েল ডব্লিও লুন্ড; এবং বিশ্ববিদ্যালযের ছয় অনুষদের ডিনরা। সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইউবির রেজিস্ট্রার আসিফ পারভেজ।
আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রত্যেক স্নাতককে একটি করে ৫০০ টাকার ‘বুক ভাউচার’ উপহার দেওয়া হয়। এ ভাউচার দিয়ে স্নাতকরা অমর একুশে বইমেলায় ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) এবং পাঠক সমাবেশের স্টল থেকে ৫০০ টাকার বই বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন।
বাণিজ্য মেলায় লেনদেন সহজ করছে মাইপ্রাইম। প্রাইম ব্যাংকের ডিজিটাল ফিনটেক অ্যাপ ‘মাইপ্রাইম’ দর্শনার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। মেলায় প্রবেশের শুরুতেই টিকিট কাটার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেককে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে এ ভিড় আরও বেড়ে যায়।
তবে মাইপ্রাইম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এ চিত্র একেবারেই ভিন্ন। তারা ঘরে বসেই মাইপ্রাইম অ্যাপ থেকে বাণিজ্য মেলার টিকিট কিনতে পারছেন। শুধু তাই নয়, এ ডিজিটাল টিকিটের সঙ্গে থাকছে ২০ শতাংশ ক্যাশব্যাক সুবিধা। এ ছাড়া মাইপ্রাইম অ্যাপ থেকে মোবাইল রিচার্জও করা যাচ্ছে। মেলায় কেনাকাটার বিল সরাসরি মাইপ্রাইম অ্যাপে পেমেন্ট করা যাচ্ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া অনেক উদ্যোক্তা ও বিক্রেতার কাছেও মাইপ্রাইম একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের ফলে তাদের খুচরা টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা কমেছে এবং হিসাব রাখা সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশি টেক জায়ান্ট ওয়ালটনের তৈরি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট ওয়ালপ্যাড এবং দেশের সর্বাধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শিখোর যৌথ উদ্যোগে এসেছে লার্নিং-কেন্দ্রিক নতুন ট্যাবলেট ‘এডুট্যাব’। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা পদ্ধতি আরও স্মার্ট করে তুলতে পার্সোনালাইজড ও এক্সক্লুসিভ এই ট্যাবটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে দেশসেরা শিক্ষকদের সঙ্গে পড়াশোনার সব আধুনিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। বাসায় ব্যবহারযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই প্রযুক্তিপণ্যটি এখন সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, ওয়ালটনের তৈরি এই ডিজিটাল ডিভাইস পড়াশোনার কৌশলকে আরও সহজ ও শক্তিশালী করবে। এডুট্যাব স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেটের মতো কাজ করে যেখানে অ্যাপ স্টোরে সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস থাকে। শিখোর প্ল্যাটফর্মের সাথে সরাসরি যুক্ত এই ট্যাবটি তৈরি হয়েছে আমাদের দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রকৃত চাহিদার কথা মাথায় রেখে।
অ্যান্ড্রয়েড ১৬ পরিচালিত এই ট্যাবে রয়েছে হেলিও জি৯৯ অক্টা-কোর প্রসেসর। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ৮০০ বাই ১৩৪০ রেজুলেশনের ৮.৬৮ ইঞ্চির আইপিএস ডিসপ্লে। ৪ জিবি র্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ থাকায় প্রয়োজনীয় অ্যাপ ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট সংরক্ষণ করা যাবে সহজেই। ৬ হাজার এমএইচ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থাকায় দীর্ঘ সময় পাওয়ার ব্যাকআপ মিলবে। ফোরজি সাপোর্টেড নেটওয়ার্ক কিংবা দ্রুতগতির ওয়াই-ফাই সুবিধায় ইন্টারনেট ব্রাউজিং হবে স্মুথ। কানেকশন হিসেবে আছে ইউএসবি ২.০ (টাইপ সি) পোর্ট। অনলাইন ক্লাসের সুবিধার্থে এডুট্যাবে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল রিয়ার এবং ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা।
ওয়ালটন কম্পিউটার প্রোডাক্টের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) তৌহিদুর রহমান রাদ জানান, শিশুসহ সব বয়সের শিক্ষার্থীদের জন্য এডুট্যাব সত্যিই একটি সাহায্যকারী ডিভাইস। লাইভ ক্লাস, গাইডেড প্র্যাকটিস, অ্যানিমেটেড লেসন এবং এআই (AI) চালিত স্মার্ট সাপোর্ট একই ডিভাইসের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় পাঠ্যক্রমের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়া নির্দিষ্ট একাডেমিক চাপ, ব্যবহারের ধরন এবং সীমাবদ্ধতাগুলি বছরের পর বছর পর্যবেক্ষণের পর বিশেষভাবে তৈরি হয়েছে এই ডিভাইস।
একই ডিভাইসে যখন সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং টিচিং প্র্যাকটিস একই সুতোয় গাঁথা থাকে তখন ডিজিটাল লার্নিং উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি লাভ করে। বিশ্বের বহু দেশে ইতোমধ্যেই এ ধরনের ডিভাইসের মাধ্যমে পড়াশোনা পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তাও অর্জন করেছে।
এডুট্যাব কিনতে ভিজিট করতে পারেন শিখোর ওয়েবসাইটে বা নিচের লিংক থেকে https://shikho.io/Edutab। ১৬৭৮০-তে কল করলেই জানা যাবে বিস্তারিত।
টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেড (টিবিএল, একটি টয়োটা টুশো এশিয়া প্যাসিফিক এবং টয়োটা টুশো জাপানের ১০০% বিনিয়োগ)-এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে অটোমোটিভ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি, টেকসই মোটরগাড়ির ভবিষ্যৎ ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতির ওপর জোর দিয়ে এই খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের বিষয়ে মতবিনিময় করেছে। টিবিএল উদ্ভাবন, দক্ষতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিকশিত গতিশীলতায় অবদান রাখার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।
বিডা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা জোরদার এবং পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি প্রচারকারী টেকসই বিনিয়োগের জন্য তাদের ক্রমবর্ধমান সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে ভিসা ডাইরেক্ট ফর অ্যাকাউন্ট (ভিডিএ) চালু করেছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। এটি প্রায় রিয়েল-টাইম বহির্গামী রেমিট্যান্সের জন্য একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী ডিজিটাল পেমেন্ট সলিউশন। অর্থ চলাচলে বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় ভিসার সঙ্গে অংশীদারিত্বে চালু করা এই পরিষেবাটি গ্রাহকদের বাংলাদেশ ব্যাংক- অনুমোদিত সব উদ্দেশে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (পি২পি) এবং গ্রাহক-থেকে-ব্যবসায় (সি২বি) লেনদেনসহ বিদেশে অর্থ পাঠাতে সক্ষম।
এই পরিষেবাটি বাণিজ্যিকভাবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চালু হয়েছিল এবং মেঘনা ব্যাংক বর্তমানে যোগ্য বহির্গামী রেমিট্যান্স সহজতর করার জন্য এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছে।
এই মাইলফলকটি উপলক্ষে গত সোমবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এবং ভিসা- বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেঘনা ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং ব্যাংকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, ভিসা ডাইরেক্ট ফর অ্যাকাউন্ট চালু করা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং প্রযুক্তি-চালিত আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট সমাধান প্রচারের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই ধরনের উদ্ভাবন দক্ষতা বৃদ্ধি করবে, লেনদেনের খরচ কমানো এবং দেশের ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সমর্থন করা।
ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ বলেন, ভিসা মেঘনা ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে ভিসা ডাইরেক্ট ফর অ্যাকাউন্ট চালু করতে পেরে গর্বিত, যা বাংলাদেশে প্রথম। এই উদ্ভাবনী পরিষেবা গ্রাহকদের দ্রুত, নিরাপদে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে বিদেশে অর্থ প্রেরণে সহায়তা করবে, যা দেশের নির্বিঘ্ন ডিজিটাল পেমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে।
ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) চতুর্থ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক একটি বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত কার্নেগি মেলন রোবোটিকস অ্যাকাডেমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এ কর্মসূচিটি বাংলাদেশের স্কুল পর্যায়ের অন্যতম আধুনিক রোবোটিকস উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তার পাশাপাশি তাদের এআই, অটোমেশন ও রোবোটিকসের দ্রুত পরিবর্তনশীল খাতের জন্য প্রস্তুত করবে।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এই শিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতি শনিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৯০ মিনিটের ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। টানা তৃতীয়বারের মত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে আইএসডি, যা রোবোটিকস ও এআই শিক্ষায় বিদ্যালয়টির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য বহু-বছরব্যাপী পরিকল্পত একটি অ্যাকাডেমিক যাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে তারা প্রাথমিক কোডিং ও লজিক্যাল থিংকিং থেকে শুরু পর্যায়ক্রমে বুদ্ধিমান স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ডিজাইন ও নির্মাণের দক্ষতা অর্জন করবে। কর্মসূচিতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাও যুক্ত থাকবে।
কর্মসূচিটি সম্পর্কে আইএসডির পরিচালক স্টিভ কল্যান্ড-স্কোবল বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজাইন থিংকিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রোবোটিকস ও এআই শেখার শুরুটা যদি ছোটবেলা থেকেই করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।’
কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইএসডির দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থী রানিয়া আহমেদ বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণ আমাদের নতুন আঙ্গীকে চিন্তা করা শিখিয়েছে। আমরা রোবট কোডিং শিখেছি। তাছাড়া, সমস্যা সমাধান ও দলগতভাবে কাজ করার কৌশলও শিখেছি।’
এছাড়া, অষ্টম থেকে দশম গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ হাজার টাকা ফিতে অ্যাডভান্সড ইন্টারমিডিয়েট ভিইএক্স এক্সপি প্রোগ্রাম চালু থাকবে। এই প্রোগ্রামে তারা স্বয়ংক্রিয় রোবট তৈরি করবে এবং রিয়েল-টাইম ডেটা ও ফিডব্যাক সিস্টেম প্রয়োগ করবে। একাদশ ও দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা ২৫ হাজার টাকা ফিতে অ্যাডভান্সড লেভেলের ভিইএক্স ভি৫ ও আরইভি রোবোটিক্স প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবে। এখানে তারা পেশাদার মানের রোবোটিক্স ও ইলেকট্রনিক্সের পাশাপাশি অ্যাডাপটিভ কন্ট্রোল ও ডেটা-নির্ভর বিহেভিয়রের মতো এআই সম্পর্কে জানতে পারবে।
কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করলে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী কার্নেগি মেলন রোবোটিকস অ্যাকাডেমি (সিএমআরএ) থেকে সনদপত্র পাবে।
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শেখ রকিবুল করিম, এফসিএ। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চূড়ান্ত অনুমোদন লাভের পর গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গার্ডিয়ান লাইফের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহককেন্দ্রিক কৌশল প্রণয়নে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পরিচালনা পর্ষদ তার ওপর এই নতুন দায়িত্ব অর্পণ করেছে।
শেখ রকিবুল করিম ২০১৯ সালে প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডে যোগদান করেছিলেন। যোগদানের পর থেকে তিনি ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার কর্মকালীন সময়ে গার্ডিয়ানের করপোরেট গভর্নেন্স এবং কমপ্লায়েন্স কাঠামো আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং গ্রাহক সেবাকে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে গার্ডিয়ান লাইফের গ্রাহকসংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকাস্যুরেন্স, ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্স এবং মাইক্রোইন্স্যুরেন্সের মতো উদীয়মান খাতগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি একটি শক্ত ও নির্ভরযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
গার্ডিয়ান লাইফে যোগদানের আগে শেখ রকিবুল করিম কেপিএমজি বাংলাদেশের অডিট অ্যান্ড অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস বিভাগে পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন এবং বাংলালিংকেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ফেলো সদস্য। করপোরেট জগতে তিনি তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের জন্য বিশেষভাবে সুপরিচিত।
গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড কর্তৃপক্ষ মনে করে, শেখ রকিবুল করিমের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিমা খাতে উদ্ভাবন আরও জোরদার হবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সম্প্রসারণ ঘটবে। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক এবং সকল অংশীজনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসির ‘বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন ২০২৬’ গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ব্যাংকের মুনাফা এবং মৌলিক বিষয়গুলিকে আরও বেশী শক্তিশালী করার জন্য নীতিগত ও কৌশলগত দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
এ সময় ব্যাংকের পরিচালক এস. এম. শফিকুল হক এবং স্বতন্ত্র পরিচালক এ কে এম শহীদুল হক উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর হোসেন ২০২৫ সালের ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যবসায়িক উন্নয়ন, আমানত প্রবৃদ্ধি, মূলধন পর্যাপ্ততা, নিয়ন্ত্রিত খেলাপি ঋণ, শক্তিশালী করপোরেট গভর্ন্যান্স ও মজবুত আর্থিক ভিত্তি, বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতা এবং নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সিটিজেন্স ব্যাংক ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাফল্য অর্জন করে, পরিচালন মুনাফা ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে আমানত ৩০ শতাংশ এবং ঋণ ও অগ্রিম ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং খেলাপি ঋণের হার (এনপিএল) মাত্র ০.২০ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকে। এ ছাড়া জনাব আলমগীর ২০২৬ সালের জন্য কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন, যেখানে ব্যবসা সম্প্রসারণ, কার্যক্রমগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ব্যাংকিং কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিতকরণ, ব্যবসায়িক নেটওর্য়াক সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনী ও গ্রাহকবান্ধব সেবার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. আবদুল লতিফসহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান এবং শাখাব্যবস্থাপকরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশে বিদেশে চিকিৎসা আরও সহজ ও সুলভ হবে। মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সানওয়ে হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য জেজি হেলথকেয়ারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মাধ্যমে জেজি হেলথকেয়ার বাংলাদেশে সানওয়ের অফিসিয়াল প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
চুক্তির ফলে বাংলাদেশি রোগীরা জেজি হেলথকেয়ারের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং ও হাসপাতাল ভর্তি সহায়তা পাবেন। ভিসা, বিমান টিকিট ও আবাসন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টেক হলিডেজ লিমিটেড। এতে রোগীদের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের ঝামেলা দূর হবে এবং বিশেষ ডিসকাউন্টে ওয়ান-স্টপ সেবা মিলবে।
জেজি হেলথকেয়ার ও স্টেক গ্রুপের সিইও তারেক আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিদেশে চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করবে। আমরা সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সানওয়ের আন্তর্জাতিক প্রকল্প প্রধান লিম ওয়েই ই বলেন, ‘বাংলাদেশে জেজি হেলথকেয়ারকে আমাদের অফিসিয়াল প্রতিনিধি হিসেবে পেয়ে আমরা আনন্দিত। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে রোগীরা বিশ্বমানের চিকিৎসা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন।’
মালয়েশিয়ার সানওয়ে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সেবাপ্রদান করছে এবং বাংলাদেশি রোগীদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
প্রতিষ্ঠার ১২তম বর্ষপূর্তিতে ৭৫ লাখ গ্রাহককে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় এনে ব্যাংকিংসেবায় এক অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিং।
এ উপলক্ষে নানা আয়োজনে এজেন্ট ব্যাংকিংসেবার ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করল ব্যাংক এশিয়া পিএলসি। গত শনিবার রাজধানীর পল্টনস্থ ব্যাংকের করপোরেট অফিস- র্যাংগস টাওয়ারে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল কেক কাটা, নতুন সেবা ও ক্যাম্পেইন উদ্বোধন এবং সেরা এজেন্ট ও কর্মীদের সম্মাননা প্রদান।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়ে কেক কাটেন। এ সময় ‘ক্যাশ বাই কোড’ সেবা এবং ‘রেমিট্যান্স সুরক্ষা’ নামে আর্থিক সাক্ষরতা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয় এবং সেরা পারফরমার এজেন্ট ও কর্মীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান জাকিয়া রউফ চৌধুরী, পরিচালক রোমানা রউফ চৌধুরী, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আতাউর রহমান, এনডিসি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হোসেন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাব্বির হোসেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান (এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যান্ড চিফ ক্রেডিট অফিসার), আরিকুল আরেফিন ও সৈয়দ জুলকার নাইনসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এজেন্টরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এজেন্ট মিট, ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দেশব্যাপী এজেন্ট পয়েন্টে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় গ্রাহক সম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ব্যাংক এশিয়া ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার ভবানীপুরে এজেন্ট আউটলেট চালুর মাধ্যমে দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এই সেবার আওতায় ৭৫ লাখ গ্রাহক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৯২ শতাংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং ৬৪ শতাংশ নারী, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগ সেবা আরও সহজ ও ডিজিটাল করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও রূপালী ব্যাংকের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এবং বিডার নির্বাহী সদস্য এয়ার কমোডর (অব.) মো. শাহারুল হুদা নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ চুক্তির আওতায় অনলাইনে ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে এবং সার্ভার-টু-সার্ভার সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বিডা ও রূপালী ব্যাংকের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে উভয় প্রতিষ্ঠান অনলাইনে প্রাসঙ্গিক তথ্য বিনিময় করবে।
অনুষ্ঠানে রূপালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন, উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ও মো. আবদুল মান্নান মিয়া এবং বিডার মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রায়, পরিচালক সুনীল কুমার অধিকারীসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।