রাজশাহীর নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাথে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্য টোটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সলিউশন "সাউথইস্টএডুফিন" নিশ্চিত করা। এটি একটি উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, যা একটি উদ্ভাবনী ও দক্ষ পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে টিউশন ফি সংগ্রহ এবং স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও সহজতর ও গতিশীল করবে। এই সহযোগিতার ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—উভয় পক্ষই বিশেষ আর্থিক সুবিধা ও নিরাপত্তা ভোগ করতে পারবেন।
উক্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো. খালিদ মাহমুদ খান এবং নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ডঃ এম সায়েদুর রহমান উপস্থিত থেকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আবিদুর রহমান চৌধুরী ও মো. মাহবুব আলম এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহাম্মদ রাশেদুল আমীনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফি ব্যবস্থাপনা, উপস্থিতি ট্র্যাকিং এবং ফলাফল বা গ্রেড ব্যবস্থাপনার মতো সমন্বিত সুবিধা লাভ করবে।
শিক্ষার্থীরা এখন থেকে অত্যন্ত সহজে ব্যাংকের শাখা, উপশাখা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কিংবা মোবাইল অ্যাপস ও এমএফএসের মাধ্যমে তাদের টিউশন ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন। এছাড়া ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিং উদ্যোগ "তারকা" এর আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সঞ্চয়ী হিসাবের সুবিধা প্রদান করা হবে। যেখানে স্বল্প জমার শর্ত ও আকর্ষণীয় সুদের হারের পাশাপাশি কোনো প্রকার রক্ষণাবেক্ষণ ফি দিতে হবে না, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা ও সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি এই উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের কাছে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেমের মাধ্যমে দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নকে আরও শক্তিশালী করতে এবং গ্রাহক অনবোর্ডিং প্রক্রিয়াকে সহজতর করার লক্ষ্যে এক কৌশলগত অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং প্রজেক্ট টুমরো সফটওয়্যার লিমিটেড। গত সোমবার রাজধানীর কমিউনিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ লক্ষ্যে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো উদ্ভাবনী আর্থিক পরামর্শ এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজলভ্য ও গতিশীল করে তোলা।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রজেক্ট টুমরো সফটওয়্যার লিমিটেড কমিউনিটি ব্যাংকের কৌশলগত আর্থিক পরামর্শক ও ডিজিটাল সল্যুশন পার্টনার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। এর ফলে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গ্রাহক সেবার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের বর্তমান কাঠামোটি আরও টেকসই হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়ন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও বিনিময় করেন কমিউনিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কিমিয়া সাআদত এবং প্রজেক্ট টুমরো সফটওয়্যার লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসকেএম শরিফুল আলম, পিএমপি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যাংকের চিফ অপারেটিং অফিসার সামসুল হক সুফিয়ানী, সিআইটিও ও হেড অব ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস মো. তানজিম মোর্শেদ ভূঁইয়া, হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং ও হেড অব বিজনেস (ব্রাঞ্চ) ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং হেড অব অপারেশনস শরফুদ্দিন মোঃ রেদওয়ান পাটওয়ারীসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এই অংশীদারিত্ব আগামীতে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও আর্থিক খাতের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলের নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে আইডিপিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। গত ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির ফ্ল্যাগশিপ নারী ক্ষমতায়ন প্ল্যাটফর্ম ‘আইডিপিসি জয়ী’-এর অধীনে এই সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ব্যবসাগুলোকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের মাঝে নতুন গতি সঞ্চার করা।
‘অ্যাকসেস টু ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণে মূলত আর্থিক সাক্ষরতা এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের বিষয়ে প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ লাভ করেন। আইডিপিসির অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষক এবং বহিরাগত বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই সেশনগুলো অংশগ্রহণকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের এক সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে।
উক্ত প্রশিক্ষণ সেশনগুলোতে এই দুই অঞ্চলের নতুন ও অভিজ্ঞ উভয় পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মতবিনিময়, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ থাকায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। আইডিপিসি জয়ী মূলত দেশব্যাপী নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ, সক্ষমতা উন্নয়ন ও মেন্টরশিপের মাধ্যমে একটি টেকসই উদ্যোক্তা সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
আইডিপিসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ শামস এই আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, অর্থায়নের সুযোগের পাশাপাশি জ্ঞান ও দক্ষতার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ‘জয়ী’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা নারী উদ্যোক্তাদের শুধু আর্থিক সমাধানই নয়, বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক পরিবেশে টেকসইভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
আঞ্চলিক এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগের মাধ্যমে আইডিপিসি ফাইন্যান্স পিএলসি মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলের নারী নেতৃত্বাধীন ব্যবসাগুলোকে এগিয়ে নিতে নিরলস কাজ করছে। বছরব্যাপী ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত এই কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবসায়িক বিকাশ নিশ্চিত হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের জনপ্রিয় ইলেকট্রিক বাইক ব্র্যান্ড তাকিওন (TAKYON) ই-বাইক সিরিজে বিশেষ ‘সুপার সেভার কার্নিভাল অফার-২০২৬’ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অফারটি আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় তাকিওন ই-বাইকের নতুন মডেলগুলোতে ৯,৬০০ টাকা পর্যন্ত আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য থাকছে সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার অনন্য সুযোগ। অফার চলাকালীন ওয়ালটন প্লাজা থেকে যেকোনো মডেলের তাকিওন ই-বাইক ক্রয়কারী গ্রাহকরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মাসিক লটারিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন, যেখান থেকে প্রতি মাসে একজন ভাগ্যবান বিজয়ী আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের খেলা স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করার টিকিট অথবা টিকিটের সমমূল্যের নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে পাবেন।
বিশেষ এই অফারের আওতায় ‘তাকিওন ফিউশন ২৫আরএস’ মডেলটি ৯,৬০০ টাকা ডিসকাউন্টে মাত্র ১,৩৯,৯৫০ টাকায় এবং ‘তাকিওন ফিউশন ২৫টিআর’ মডেলটি ৮,৫১০ টাকা ডিসকাউন্টে মাত্র ১,৪৬,৯৯০ টাকায় কেনার সুযোগ থাকছে। এছাড়া তাকিওন ১.০০ এবং ফিউশন ২৫এফজেড মডেলগুলোতেও বিশেষ মূল্যছাড় প্রদান করা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে তৈরি এই ই-বাইকগুলোতে ডিসি ব্রাশলেস মোটর এবং উন্নত গ্রাফিন বা লেড অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা একবার চার্জে দীর্ঘ পথ অতিক্রম নিশ্চিত করে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই বাহনটি শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলেই যাতায়াতের জন্য স্মার্ট বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
আয়োজনটি সম্পর্কে ওয়ালটন কম্পিউটারের চিফ বিজনেস অফিসার তৌহিদুর রহমান রাদ বলেন, ‘সুপার সেভার কার্নিভাল অফারের বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা ওয়ালটন ই-বাইক ক্রেতাদের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয় করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। গ্রাহকরা যাতে সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের স্মার্ট বাহন বেছে নিতে পারেন, সেজন্য দেয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়। পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অফিশিয়াল রিজিওনাল স্পন্সর হিসেবে ক্রেতাদের জন্য এই বিশেষ ব্যতিক্রমী পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে এসেছে ওয়ালটন। আশা করছি আমাদের এই আয়োজন ক্রেতা-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে।’ তাকিওন সিরিজের সব মডেল বর্তমানে দেশজুড়ে ওয়ালটন প্লাজাগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রতিটি বাইকের সাথে নির্দিষ্ট ওয়ারেন্টিসহ ওয়ালটনের দেশব্যাপী বিস্তৃত আফটার সেলস সার্ভিস নেটওয়ার্কের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ইল্লিয়ীন তাদের চট্টগ্রাম হালিশহর ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করেছে। তিন দিনব্যাপী “গ্র্যান্ড ওপেনিং” আয়োজনের মাধ্যমে এই স্টোরটি চালু করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই গ্র্যান্ড ওপেনিং ইভেন্টটি বন্দরনগরীর ফ্যাশনপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি, ক্রেতা, জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার এবং ইল্লিয়ীনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সুবিশাল এই ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে ব্র্যান্ডটির মেন্সওয়্যার, উইমেন্সওয়্যার, কিডস্ওয়্যার, ফুটওয়্যার, ফ্র্যাগরান্স ও অ্যাকসেসরিজ।
গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষে এই তিন দিনজুড়ে স্টোরে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ সারপ্রাইজের আয়োজন করে ইল্লিয়ীন। এই আয়োজনে অংশ নেওয়া অতিথিরা ব্র্যান্ডটির মান ও আধুনিক ডিজাইনের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, ইল্লিয়ীনের কালেকশন এবং স্টোরের পরিবেশ কেনাকাটায় এক নতুন লাক্সারি অভিজ্ঞতা দেয়।
অনুষ্ঠানের প্রাণবন্ত পরিবেশে ক্রেতারাও মুগ্ধ হন। তাদের মতে, হালিশহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ইল্লিয়ীনের মতো আন্তর্জাতিক মানের একটি ব্র্যান্ডের স্টোর থাকায় আধুনিক ফ্যাশন কেনাকাটা এখন আরও সহজ ও উপভোগ্য হবে।
ব্র্যান্ডের সেলস অপারেশনস ম্যানেজার আবু আদম বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষকে হালিশহরের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। মান বজায় রেখে ক্রেতাদের জন্য একটি পরিপূর্ণ লাক্সারি অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে গ্রাহকদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বাজার সম্প্রসারণে নতুন নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সেবার সাথে ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক সমন্বয় ও অংশীদারিত্ব ডিজিটাল কমার্স ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং ভিনি কসমেটিকস (বিডি) লিমিটেডের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে কমিউনিটি ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডধারী গ্রাহক, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা ভিনি কসমেটিকসের নির্ধারিত পণ্য কেনাকাটায় আকর্ষণীয় ডিজিটাল ছাড় উপভোগ করবেন। ভিনির অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম VIFUMECLUB.COM-এর মাধ্যমে এই বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে। এটি মূলত গ্রাহকদের উন্নত সেবা প্রদানের পাশাপাশি ব্যাংকের ডিজিটাল কোলাবোরেশন বা অংশীদারিত্বের প্রচেষ্টাকে আরও সুসংহত করবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন।
গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের বাইরেও এই কোলাবোরেশন কমিউনিটি ব্যাংকের ‘এসএমই ৩৬০’ (SME 360) ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরাসরি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করবে। যোগ্য এসএমই উদ্যোক্তারা ভিনির বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পণ্য সরবরাহ ও বাজার সংযোগের বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ হবে এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ও ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি বা দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি পাবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কিমিওয়া সাআদাত এবং ভিনি কসমেটিকস (বিডি) লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ ও নেপাল) আহসান পারভেজ খুন্দকার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অংশীদারিত্বের বিষয়ে কিমিওয়া সাআদাত বলেন, “এই অংশীদারিত্ব এসএমই থ্রি-সিক্সটি ভিশন-এর বাস্তব প্রতিফলন, যেখানে একদিকে গ্রাহকেরা পাবেন ডিজিটাল সুবিধা, অন্যদিকে এসএমই উদ্যোক্তারা পাবেন বাস্তবভিত্তিক বাজার ও ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার সুযোগ।” অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংকের হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং হেড অব কার্ডস জহির আহমেদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সামাজিক পরিবর্তন এবং গ্রামীণ অগ্রগতির চিত্রগুলোকে সাধারণ নাগরিকদের লেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি বা জাইকা। এর মাধ্যমে উন্নয়নের গল্পগুলো কেবল নথিবদ্ধই হচ্ছে না, বরং আলোকচিত্রীদের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে দেশের সমৃদ্ধির এক নতুন রূপ ফুটে উঠেছে। এই উন্নয়ন অভিযাত্রার সেরা মুহূর্তগুলো নির্বাচনের লক্ষে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ ও বিজয়ীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে জাইকা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই আয়োজনের বিস্তারিত তথ্য ও বিজয়ীদের নাম জনসমক্ষে প্রচার করা হয়েছে।
জাইকা বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত এই জাতীয় পর্যায়ের আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার মূল শিরোনাম ছিল “মাই বাংলাদেশ মাই ডেভেলপমেন্ট”। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আলোকচিত্রপ্রেমীদের তোলা ছবিগুলো থেকে বাছাইকৃত সেরা ২১টি ছবি নিয়ে জাইকা একটি কিউরেটেড অনলাইন আলোকচিত্র প্রদর্শনী উন্মোচন করেছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এই অনলাইন প্রদর্শনীর মাধ্যমে জাইকা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যেখানে বাংলাদেশি জনগণের দৃষ্টিতে দেশের উন্নয়নের ছোট ও বড় গল্পগুলো নথিভুক্ত করার পাশাপাশি তা বিশ্বদরবারেও তুলে ধরা হয়েছে।
শহরের আধুনিক উদ্ভাবন থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদের রূপান্তরের চিত্রগুলো এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে, যা মূলত দেশের মানুষের অদম্য শক্তি ও মনোবলকে প্রতিফলিত করে। জাইকা প্রতিটি আলোকচিত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেশের অগ্রগতিকে অর্থবহভাবে ফুটিয়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বিজয়ীদের সম্মাননা জানাতে জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতার স্বীকৃতি স্বরূপ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। দেশজুড়ে চলমান উন্নয়ন ও সম্ভাবনার এই দৃশ্যযাত্রা এখন সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আগ্রহীরা “মাই বাংলাদেশ মাই ডেভেলপমেন্ট” শীর্ষক এই অনলাইন প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতির সামগ্রিক চিত্র অবলোকন করতে পারবেন।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান পানীয় এবং ভোগ্যপণ্যের বাজারে মানসম্মত পণ্যের চাহিদা পূরণে শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলো প্রতিনিয়ত তাদের পণ্যের তালিকায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসছে। বিশেষ করে কফি প্রেমীদের জন্য প্রিমিয়াম স্বাদ এবং সাশ্রয়ী মূল্যের সমন্বয় ঘটাতে নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) তাদের পণ্যের বহরে নতুন একটি ব্র্যান্ড যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে এই নতুন ব্র্যান্ডটির বাজারজাতকরণ ও বিপণন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)-এর অঙ্গসংগঠন তানভীর ফুড লিমিটেড দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে “ফ্রেশ কফি” নিয়ে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি স্বনামধন্য হোটেলে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ব্র্যান্ডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এমজিআই ডিরেক্টর তাহমিনা মোস্তফা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন এই কফি ভ্যারিয়েন্টগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বাণিজ্যিক পথচলার সূচনা হয়।
গ্রাহকদের বিভিন্ন মুখী রুচি ও স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে দুটি ভিন্ন সংস্করণে এই পণ্যটি বাজারে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে কফি, ক্রিমার ও চিনির নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরি “ফ্রেশ কফি ৩-ইন-১” এবং স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য “ফ্রেশ কফি ক্যাপাচিনো (সুগার ফ্রি)”। প্রতিটি স্যাশে-এর মূল্য যথাক্রমে “১০ এবং ১৫ টাকা” নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে একটি উন্নত কফি পানের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে বলে প্রতিষ্ঠানটি আশা প্রকাশ করেছে।
উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমজিআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সিএও মো. রহমতুল্লাহ খন্দকার, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ এবং সিএইচআরও আতিক উজ জামান খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সাপ্লাই চেইন, ব্র্যান্ড এবং ফ্যাক্টরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এই নতুন ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাজারজাতকরণ কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। এমজিআই মনে করে যে, গুণগত মান এবং স্বাদের আভিজাত্য বজায় রাখার মাধ্যমে এই নতুন পণ্যটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের কফি প্রেমীদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশে পানিতে ডুবে প্রাণহানির বিষয়টি বর্তমানে একটি নীরব অথচ ভয়াবহ জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে শিশুসহ প্রতি বছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে সন্ধ্যায় কক্সবাজারের একটি অভিজাত রিসোর্টে এই মহতী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও উদ্বোধন করা হয়।
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) কর্তৃক পরিচালিত ‘সীসেফ লাইফগার্ড’ কর্মসূচিতে এই আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। উল্লেখ্য যে, ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার সৈকতে নিয়মিত টহল ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আসছে এই সংস্থাটি, যার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১,০৫২ জনের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এনসিসি ব্যাংকের এই অংশগ্রহণ মূলত জননিরাপত্তা ও সামাজিক কল্যাণে প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গীকারের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি কক্সবাজারের সি পার্ল বিচ রিসোর্টে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খোরশেদ আলম এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ যথাক্রমে মো. জাকির আনাম, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া সিআইপিআরবি-র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী এবং মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের পরিচালক কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার (অব.) সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন তাঁর বক্তব্যে এই উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যু একটি নীরব কিন্তু ভয়াবহ সংকট; প্রতিটি মৃত্যু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এনসিসি ব্যাংক মনে করে, প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন কেবল আর্থিক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং সমাজ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই এর সার্থকতা। সীসেফ লাইফগার্ড এর উদ্যোগে আমাদের সহায়তা জননিরাপত্তা ও সামাজিক কল্যাণে ব্যাংকের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”
সিআইপিআরবি-র পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী এই অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেন, “এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সীসেফ লাইফগার্ড প্রকল্প কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে জীবন রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম টেকসই করতে কর্পোরেট খাতের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। এনসিসি ব্যাংকের অগ্রণী ভূমিকা এবং সহায়তা আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়াবে এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” এই সহায়তার ফলে সৈকতে লাইফগার্ডদের টহল সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটকদের জন্য সমুদ্রস্নান আরও নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ সবজি রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়াতে একটি বিশেষ উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজারের উপযোগী মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে এই উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বের বিষয়টি সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) ঢাকার আইএফআইসি টাওয়ারে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির পক্ষে ব্যাংকের সম্মানিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফা এবং সুইসকন্টাক্টের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব হেলাল হুসাইন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ এবং বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিড ফিন্যান্সিয়াল পার্টনার হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংক এই প্রকল্পের অধীনে কৃষি ও এসএমই খাতে টেকসই অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এর পাশাপাশি একটি “ঝুঁকি-হ্রাসকৃত ঋণ পোর্টফোলিও” গঠনের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা ও ঋণ প্রাপ্তি সহজতর করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ২৭ মাস মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এক হাজার ক্ষুদ্র কৃষককে গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP), জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের মতো অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
উন্নত পোস্ট-হারভেস্ট ব্যবস্থাপনা এবং অবশিষ্ট অংশ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখাই এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এছাড়া পণ্যের ট্রেসেবিলিটি বা উৎস নিশ্চিত করার লক্ষে ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এই উদ্যোগে কৃষি খাতে নারীর ভূমিকা ও ক্ষমতায়নকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির প্রতিটি ধাপে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেখানে “কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে” বলে জানানো হয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের কৃষি পণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংক পিএলসি তাদের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং আর্থিক শৃঙ্খলা সুসংহত করার লক্ষে বিশেষ প্রশাসনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষে ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর ৮৭৫তম বোর্ড সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মুহঃ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ পরিচালকবৃন্দ এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা। সভায় পরিচালক হিসেবে বদরে মুনির ফেরদৌস, ড. মোঃ আব্দুস সবূর, আব্দুল মজিদ শেখ, আব্দুল আউয়াল সরকার, ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, মোঃ আহসান কবীর, মোঃ ওবায়দুল হক এবং অধ্যাপক ড. এ. এ. মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মজিবর রহমানসহ উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আব্দুর রহমান ও মোঃ ফয়েজ আলম সভায় উপস্থিত থেকে গুরুত্বারোপকৃত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন।
অনুষ্ঠিত এই বোর্ড সভায় ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভার মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে শ্রেণীকৃত খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায় এবং এ বিষয়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একইসাথে ব্যাংকের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে নীতিনির্ধারণী দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয় যা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত ও বেগবান করবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে সম্মানিত গ্রাহকদের লাইফস্টাইল চাহিদা পূরণ এবং ব্যাংকিং সেবার মানকে আরও উন্নত করার লক্ষে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে উৎসবের মাসগুলোতে গ্রাহকদের প্রিমিয়াম সেবার অভিজ্ঞতা প্রদান করা ব্যাংকটির একটি অন্যতম লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর একটি অভিজাত পাঁচতারা হোটেলের সাথে একটি কৌশলগত ব্র্যান্ডিং চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে ব্যাংক এশিয়ার পক্ষ থেকে এই বিশেষ অংশীদারিত্বের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-র ক্রেডিট কার্ডহোল্ডাররা পুরো পবিত্র রমজান মাস জুড়ে দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা-তে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। অংশীদারিত্বের শর্তানুযায়ী, কার্ডহোল্ডাররা সেখানে “বিশেষ বুফে ইফতার অফার, টেক অ্যাওয়ে ইফতারে আকর্ষণীয় ছাড়” সহ আরও নানাবিধ অতিরিক্ত সুবিধা লাভ করবেন। মূলত গ্রাহকদের রমজানের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় ও সাশ্রয়ী করতেই এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা-তে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা-এর সেলস এন্ড মার্কেটিং ডিরেক্টর জনাব মামুনুর রহমান সুমন এবং ব্যাংক এশিয়ার হেড অফ কার্ডস, এডিসি এন্ড ইন্টারনেট ব্যাংকিং জনাব জিশান আহাম্মদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মনে করে যে, এই পার্টনারশিপ গ্রাহকদের জন্য “প্রিমিয়াম অফার সহ উন্নত সেবা প্রদানে ব্যাংকের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন” হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে গ্রাহক সেবার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আধুনিকায়ন এবং যথাযথ প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে কস্ট অ্যাকাউন্টিং ও অডিট ব্যবস্থার কার্যকর প্রসারের মাধ্যমে সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কারিগরি সমন্বয় ও নীতিনির্ধারণী আলোচনা ত্বরান্বিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ তারিখে বিকেলে ঢাকার ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) কার্যালয়ে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আইসিএমএবি-র প্রেসিডেন্ট মো: কাউসার আলম, এফসিএমএ-র নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এফআরসি চেয়ারম্যান ড. মো: সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মিলিত হন। বৈঠকে আইসিএমএবি-র পক্ষ থেকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. এম. জহির উদ্দিন হায়দার, এফসিএমএ; সেক্রেটারি মঞ্জুর মো: সাইফুল আজম, এফসিএমএ; ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: মুশফিকুর রহমান, এফসিএমএ এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো: মাহবুব-উল-আলম, এফসিএমএ। সভায় প্রধানত এফআরসি-র তত্ত্বাবধানে কস্ট অ্যাকাউন্টিং ও কস্ট অডিট স্ট্যান্ডার্ডস চূড়ান্তকরণের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কমিটি পর্যায়ের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করেন।
আর্থিক সংস্কার ও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আইসিএমএবি-র প্রেসিডেন্ট মো: কাউসার আলম, এফসিএমএ বলেন, “এই মানদণ্ডগুলো সুসংগঠিত কর্পোরেট ও অর্থনৈতিক শাসন-ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, কস্ট অ্যাকাউন্টিং ও অডিট ব্যবস্থা মেনে চলতে এবং এর স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বৃদ্ধিতে এগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।” আলোচনার একপর্যায়ে পাবলিক ইন্টারেস্ট এন্টিটিজ বা পিআইই-সম্পর্কিত আর্থিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় এবং এই বিষয়ে এফআরসি-কে সবরকম পেশাগত ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেয় আইসিএমএবি।
উভয় প্রতিষ্ঠানই মনে করে যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য একটি শক্তিশালী শাসন-ব্যবস্থা অপরিহার্য। শিল্পখাতে কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক জবাবদিহিতা জোরালো করতে কস্ট অডিট যে কার্যকর ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে প্রতিনিধিদল বিস্তারিত আলোকপাত করেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশে আর্থিক প্রতিবেদনের মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করা, নীতিমালার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং শাসন-ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।