বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্পের চিত্রপটে কিছু নাম আছে, সেগুলো কেবল একটি ব্র্যান্ড নয়, সময়ের সাথে গড়ে ওঠা এক জীবনযাপন, এক রুচি, এক আত্মপরিচয়ের আরেক নাম। সাম্প্রতিক সময়ে সেই নামগুলোর অগ্রভাগে অনিবার্যভাবে উচ্চারিত হয় টুয়েলভ ক্লোথিং-এর নাম। শহরের ব্যস্ত মোড়ে, আলোকোজ্জ্বল শোরুম কিংবা উৎসবের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রঙিন পাতায় টুয়েলভ যেন আজকের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হৃদস্পন্দনের সাথে যুক্ত এক অবিচ্ছেদ্য উপস্থিতির পরিচায়ক। এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তাদের নতুন কালেকশন সেই উপস্থিতিকে আরও গভীর, আরও নান্দনিক মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।
ঈদ মানেই তো ফিরে যাওয়া নিজের কাছে, প্রিয়জনের কাছে, শৈশবের কাছে। দীর্ঘ এক মাসের সংযমের পর যখন রমজানের বিদায়ের আকাশে উঁকি দেয় পবিত্র শাওয়ালের চাঁদ, তখন বাঙালির প্রতিটি ঘরে ঘরে ওঠে সাজ সাজ রব। নতুন পোশাকের গন্ধে ভরে ওঠে আলমারি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার এক নীরব উল্লাস। টুয়েলভ-এর এবারের ঈদ কালেকশন সেই আবিষ্কারের গল্পই বলে। তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘থ্রেডস অব সেলিব্রেশন’। আত্মবিশ্বাসী, স্বতন্ত্র এবং আধুনিক এক বাঙালির ফ্যাশন রুচিতে যা রচনা করে ভিন্ন এক গল্প।
এই কালেকশনের মূল ভাবনা ঘুরে ফিরে এসেছে ঐতিহ্য ও সমসাময়িকতার মেলবন্ধনকে কেন্দ্র করে। পুরনো দিনের কারুকাজ, নকশা আর রঙের আবহকে আধুনিক কাট, সিলুয়েট ও টেক্সচারের সাথে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যেন প্রতিটি পোশাক নিজেই হয়ে উঠেছে একেকটি জীবন্ত ক্যানভাস। এখানে উৎসব মানে কেবল চাকচিক্য নয়, আছে এক গভীর শিকড়ের টান, আছে বাঙালিয়ানার স্বতন্ত্র সুর।
নারীদের জন্য এবারের আয়োজন বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। সিল্ক, মসলিন, লিনেন, কটন কিংবা ভিসকোস, বিভিন্ন ধরনের কাপড়ে ফুটে উঠেছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। কোথাও মৃদু প্যাস্টেল, কোথাও উজ্জ্বল কোরাল বা এমরাল্ড রঙের ব্যবহারে আছে ঋতুর উচ্ছ্বাস, আবার আছে সংযমের সৌন্দর্য। লম্বা কুর্তা, ফ্লোরি গাউন, সোজা কাটের থ্রি-পিস কিংবা এমব্রয়ডারির মৃদু ছোঁয়া, সব মিলিয়ে এমন এক বৈচিত্র্য, যেখানে প্রতিটি নারী নিজের মনের সাথে মিলে যায় এমন একটি রূপ খুঁজে নিতে পারেন।
এবারের কালেকশনে বিশেষভাবে লক্ষণীয় সূচিশিল্পের ব্যবহার। সূক্ষ্ম থ্রেডওয়ার্ক, জরি, সিকুইন কিংবা টোন-অন-টোন এমব্রয়ডারি, সবই করা হয়েছে পরিমিতির বোধ নিয়ে। অতিরিক্ত অলংকরণ নয় বরং পরিশীলিত আভিজাত্যই এখানে মুখ্য। পোশাক যেন পরিধানকারীকে ছাপিয়ে না যায়, বরং তার ব্যক্তিত্বকে আলোকিত করে তোলে— এই দর্শন যেন স্পষ্ট প্রতিটি নকশায়।
পুরুষদের ঈদ আয়োজনেও টুয়েলভ রেখেছে বিশেষ মনোযোগ। পাঞ্জাবি বরাবরই ঈদের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। কিন্তু সেই পাঞ্জাবিকে কীভাবে প্রতিবার নতুন করে উপস্থাপন করা যায়, সেটিই যেন টুয়েলভ-এর ডিজাইনারদের সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ। এবারের কালেকশনে দেখা যায় ক্লাসিক সাদা, অফ-হোয়াইট কিংবা প্যাস্টেল শেডের পাশাপাশি গাঢ় নীল, মেরুন ও অলিভ রঙের ব্যবহার। সোজা কাট, মিনিমাল কলার ডিটেইলস, মৃদু এমব্রয়ডারি কিংবা টেক্সচার্ড ফ্যাব্রিক, সব মিলিয়ে এমন এক আভিজাত্য, যা একই সাথে ঐতিহ্যমণ্ডিত ও আধুনিক।
কিশোর ও তরুণদের জন্যও রয়েছে আলাদা ভাবনা। ট্রেন্ডি কাট, টেইলরিং-এর সুযোগ, আরামদায়ক ফ্যাব্রিক তৈরি করেছে এমন পোশাকী আমেজ, যা ঈদের নামাজ থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা কিংবা রাতে দাওয়াত, সব জায়গাতেই মানানসই। এই প্রজন্ম ফ্যাশনে চায় নিজস্বতা, চায় স্বাচ্ছন্দ্য। টুয়েলভ সেই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে এমন ডিজাইন উপস্থাপন করেছে, যা আত্মপ্রকাশের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।
শিশুদের পোশাকে আছে আলাদা মাধুর্য। ছোট্ট পাঞ্জাবি, ফ্রক বা সেট, সবকিছুতেই রঙের উচ্ছ্বাস, নরম কাপড়ের ব্যবহার এবং আরামের প্রতি যত্ন। ঈদের সকালে যখন পরিবারের সবাই একসাথে ছবি তোলে, তখন এই ছোটদের পোশাকই যেন ছবির প্রাণ হয়ে ওঠে।
টুয়েলভ-এর এবারের কালেকশন কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের কথা বলে না, এটি বলে অভিজ্ঞতার কথা। শোরুমে প্রবেশের মুহূর্ত থেকে শুরু করে পোশাক বেছে নেওয়া, ট্রায়াল রুমের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবির সাথে কথা বলা, সবকিছু মিলিয়ে এক সম্পূর্ণ উৎসব-অভিজ্ঞতা। ব্র্যান্ডটি জানে, আজকের ভোক্তা কেবল একটি পোশাক কেনেন না, তিনি কিনে নেন একটি অনুভূতি, একটি মুহূর্ত, একটি স্মৃতি।
ঈদ মানেই তো পরিবার। মা, বাবা, ভাইবোন, সবার জন্য একসাথে পোশাক কেনার আনন্দ। টুয়েলভ-এর কালেকশনে সেই পারিবারিক বন্ধনের ছাপ স্পষ্ট। নারী, পুরুষ ও শিশু সবাইকে মাথায় রেখে পরিকল্পিত এই আয়োজন যেন একটি পরিবারের সামগ্রিক গল্প বলে। একই রঙের ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন, কিংবা একটি থিমকে কেন্দ্র করে সাজানো নানা ভ্যারিয়েশন, সবই উৎসবের দিনে মিলেমিশে এক হয়ে যাওয়ার অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলে।
ফ্যাশনের ভাষা বদলেছে। গ্লোবাল ট্রেন্ড, ডিজিটাল প্রভাব, সোশ্যাল মিডিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল রুচি— সবকিছুর মধ্যেও টুয়েলভ নিজের স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। তারা জানে, আন্তর্জাতিক প্রভাব গ্রহণ করা যায়, কিন্তু শিকড় ভুলে গেলে চলে না। তাই তাদের কালেকশনে যেমন আছে আধুনিক সিলুয়েট, তেমনি আছে দেশীয় নকশার অনুপ্রেরণা। এই সমন্বয়ই তাদের আলাদা করে।
ঈদের পোশাক অনেক সময়ই হয়ে ওঠে বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত কেনাকাটা। সেই প্রতীক্ষার মর্যাদা রাখতে টুয়েলভ গুরুত্ব দিয়েছে কাপড়ের গুণগত মান, ফিনিশিং এবং পরার আরামের ওপর। গরমের এই সময়ে হালকা ও স্বস্তিদায়ক ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে দিনের ব্যস্ততা কিংবা ভ্রমণেও স্বস্তি বজায় থাকে। ফ্যাশন যেন কখনোই অস্বস্তির কারণ না হয়, এই বার্তাই যেন লুকিয়ে আছে প্রতিটি সেলাইয়ে।
এই কালেকশন যেন রঙের এক কবিতা। কোথাও সূর্যাস্তের কোমল কমলা, কোথাও ভোরের আকাশী, কোথাও সবুজের প্রশান্তি। প্রতিটি রঙ যেন একেকটি অনুভূতি, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার মিলন। ঈদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা মুহূর্তে এই রঙগুলোই হয়ে উঠবে স্মৃতির পটভূমি।
ফ্যাশন আবহে বলতে গেলে টুয়েলভ এবারের ঈদে কেবল একটি কালেকশন উপস্থাপন করেনি, তারা নির্মাণ করেছে এক আবহ। যেখানে ঐতিহ্য আধুনিকতার সাথে হাত মিলিয়েছে, যেখানে আভিজাত্য ও সরলতা পাশাপাশি হেঁটেছে, যেখানে ব্যক্তিত্ব ও পারিবারিক বন্ধন এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে।
ঈদুল ফিতর আমাদের মনে করিয়ে দেয় কৃতজ্ঞতার কথা, সংযমের কথা, ভাগ করে নেওয়ার আনন্দের কথা। সেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ যদি হয় একটি সুন্দর, আরামদায়ক, রুচিশীল পোশাকের মাধ্যমে, তবে তার গুরুত্বও কম নয়। টুয়েলভ-এর এবারের আয়োজন সেই আনন্দকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলতে চায়।
পোশাক কেবল কাপড় নয়, এটি আত্মপ্রকাশের এক ভাষা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যখন কেউ নিজের চোখে নিজের প্রতিফলন দেখে মৃদু হাসেন, তখন সেই হাসির অংশ হয়ে যায় পোশাকটিও। টুয়েলভ-এর ঈদ কালেকশন সেই হাসিরই অংশ হতে চায় উজ্জ্বল আলোকে, আত্মবিশ্বাসী রূপে এবং স্মরণীয় সুষমায়।
এই ঈদে, নতুন চাঁদের আলোয়, যখন শহর জেগে উঠবে উৎসবের রঙে, তখন টুয়েলভ-এর নকশাগুলোও হয়তো ছড়িয়ে পড়বে ঘরে ঘরে। প্রাঞ্জল শান্ত সাদা, মিলনের উষ্ণ রঙ, আর ভালোবাসার অনন্ত আভায় টুয়েলভ প্রকাশ করেছে তাদের এবারের ঈদ ফ্যাশন। ফ্যাশনের ভাষায় এটিই তো ঈদের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ‘হেলিকপ্টার অফার’ চালু করেছে দেশের অন্যতম মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’। কেনাকাটার পর নির্দিষ্ট মার্চেন্টে পেমেন্ট করলেই মিলছে হেলিকপ্টার ভ্রমণের সুযোগ এবং আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক সুবিধা।
এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে গ্রাহকদের জুতা, পোশাক, অনলাইন শপিং, ইলেকট্রনিক্স, সুপারস্টোর ও রেস্টুরেন্টসহ নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির মার্চেন্টে নগদ অ্যাপ বা ইউএসএসডি কোড (*১৬৭#) ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে হবে। মার্চেন্ট ক্যাটাগরি অনুযায়ী সর্বোচ্চ পেমেন্টের ভিত্তিতে পয়েন্ট তালিকা থেকে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। পুরো ক্যাম্পেইন চলাকালে একজন গ্রাহক একবারই এই অফারের জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
মূল পুরস্কারের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মার্চেন্ট পেমেন্টে দুই হাজার টাকারও বেশি ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন। জুতার অংশীদার ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে এপেক্স, বাটা, বে এম্পোরিয়াম ও ওরিয়ন। পোশাকের ক্ষেত্রে রয়েছে ইনফিনিটি মেগা মল, লুবনান, রিচম্যান, রাইজ, জেন্টল পার্ক, টুয়েলভ ক্লোথিং, আর্টিসান আউটফিটার্স, সারা লাইফস্টাইল, র নেশন, মেনস ওয়ার্ল্ড, বি-টু, স্বদেশ পল্লী, তাহুর ও অঞ্জন’স। অনলাইন মার্চেন্ট হিসেবে দারাজ, ফুডি, অথবা ডটকমসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ ক্যাম্পেইন পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত চলবে।
নগদের চিফ মার্কেটিং অফিসার মো. ইমরান হায়দার বলেন, হেলিকপ্টার ভ্রমণ অনেকের কাছেই বিশেষ অভিজ্ঞতা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য আনন্দের একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই হাজার টাকার বেশি ক্যাশব্যাক সুবিধাও থাকছে।
অফারে অংশ নিতে গ্রাহকের নগদ অ্যাকাউন্ট সচল ও পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইলভুক্ত হতে হবে। বিজয়ীদের নগদের অফিসিয়াল কাস্টমার সার্ভিস নম্বর ১৬১৬৭ বা ০৯৬০৯৬১৬১৬৭ থেকে জানানো হবে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের পিন বা ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।
বিশ্বখ্যাত ইউরোমানি ট্রেড ফাইন্যান্স জরিপে বাংলাদেশে টানা অষ্টমবারের মতো শীর্ষ ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড এইচএসবিসি বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ব্যাংকটি বিশ্বব্যাপী টানা নবম বছর এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সপ্তমবারের মতো প্রথম স্থান ধরে রেখেছে।
এই স্বীকৃতি গ্রাহকসেবা, পণ্য বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ফল বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
ইউরোমানি পরিচালিত এ জরিপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর সক্ষমতার ভিত্তিতে তৈরি বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য র্যাংকিং হিসেবে বিবেচিত। জরিপে ৯৬টি দেশের ১২ হাজার ৭০০ ট্রেড ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ ও করপোরেট ট্রেজারারের মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ফলাফলে এইচএসবিসি ১৮টি অপারেটিং মার্কেটের মধ্যে ১৬টিতে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি বৈশ্বিক বাণিজ্য অর্থায়নে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, গভীর অভিজ্ঞতা এবং উদ্ভাবনী সমাধানের মাধ্যমে জটিল বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি এ সাফল্যের ভিত্তি বলে জানানো হয়েছে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অষ্টমবার এবং বিশ্বব্যাপী নবমবারের মতো শীর্ষ ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া গর্বের বিষয়। গ্রাহকদের বাণিজ্যের গুরুত্ব ও জটিলতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় এই অর্জন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি গ্রাহকদের আস্থা ও কর্মীদের নিষ্ঠার প্রতিফলন।
ব্যাংকের গ্লোবাল ট্রেড সলিউশনস প্রধান আহমদ রাবিউল হাসান বলেন, এই স্বীকৃতি সহকর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফল। গ্রাহকদের অব্যাহত আস্থা ও অংশীদারত্বই এ সাফল্যের মূল ভিত্তি। তিনি জানান, বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সমাধানে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে।
এইচএসবিসি জানিয়েছে, তাদের বৈশ্বিক উপস্থিতি, উন্নত ডিজিটাল সক্ষমতা ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে। এ অর্জন নিরাপদ ও সহজ ব্যাংকিং সেবা প্রদানের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
রমজানের মাত্র তৃতীয় দিন। এর মধ্যেই সাদিয়া বুঝতে পারলেন, পবিত্র এই মাসে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা কতটা দ্রুত বেড়ে যায়।
রমজানের ঠিক আগে কেনা সয়াবিন তেল অর্ধেক হয়ে এসেছে, ডিশওয়াশিং লিকুইড শেষ হওয়ার পথে। ইফতারের জন্য মেহমান আসার কারণে ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, লন্ড্রি আর রান্নাবান্নার চাপ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলস্বরূপ, দরকার হচ্ছে বারবার বাজার করার। ঢাকার অধিকাংশ কর্মজীবী দম্পতির মতো সাদিয়া ও তার স্বামীরও দিনের বড় একটা সময় অফিসে কাটে। বড় কোনো কেনাকাটার জন্য তারা সাধারণত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর বড় ক্যাম্পেইন বা বিশেষ ছাড়ের দিনের অপেক্ষায় থাকেন। ইলেকট্রনিক্স, ঘর সাজানোর সরঞ্জাম কিংবা নতুন পোশাকের ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনা কাজ করলেও সাদিয়ার উপলব্ধি হলো- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রয়োজন কোনো বিশেষ ক্যালেন্ডার মেনে আসে না।
সাদিয়া বলেন, “বিলাসবহুল কেনাকাটার জন্য আমরা বড় ছাড়ের দিনের অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু তেল বা ডিটারজেন্ট সপ্তাহের মাঝপথে শেষ হয়ে গেলে তা তো আর ফেলে রাখা যায় না।”
ঠিক এই জায়গাতেই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটা মানেই ছিল বড় কোনো উৎসব বা বিশেষ দিনের ‘মেগা ক্যাম্পেইন’, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশাল ছাড় দেওয়া হতো। এখনো বড় কেনাকাটার জন্য এই ধরনের ক্যাম্পেইনগুলো অত্যন্ত কার্যকর।
তবে ঘরের দৈনন্দিন খরচের হিসাবটা ভিন্ন। গ্রোসারি, ব্যক্তিগত পরিচর্যা কিংবা ঘর পরিষ্কার করার পণ্যগুলো সারা বছর নিয়মিত কিনতে হয়। মাস শেষে যোগ করলে দেখা যায়, এই ছোট ছোট কেনাকাটার মোট খরচ মাঝেসাঝে কেনা বড় কোনো গ্যাজেটের চেয়েও অনেক বেশি। এই চাহিদাকে মাথায় রেখে দারাজ তাদের ‘চয়েস’ চ্যানেলকে নতুনভাবে সাজিয়েছে ‘এভরিডে লো প্রাইস’ (ইডিএলপি) মডেলে। এখানে ছাড়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন বা ফ্ল্যাশ সেলের অপেক্ষা করতে হয় না। বরং সারা মাস এবং সারা বছর জুড়েই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম একটি সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখা হয়।
এই পদ্ধতি মেগা ক্যাম্পেইনের আকর্ষণকে কমিয়ে দেয় না, বরং তাকে পূর্ণতা দেয়। বড় ক্যাম্পেইনগুলো যখন বড় কেনাকাটার সুযোগ করে দিচ্ছে, তখন ‘এভরিডে লো প্রাইস’ মডেল নিশ্চিত করছে যেন সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য কোনো বিশেষ অফারের অপেক্ষায় না থাকে।
সাদিয়ার মতো ক্রেতাদের জন্য এই দ্বিস্তরবিশিষ্ট কেনাকাটার কৌশল বেশ সুবিধাজনক। এতে ক্যাম্পেইনগুলো হয়ে ওঠে বড় আপগ্রেডের সুযোগ, আর দৈনন্দিন বাজার হয়ে ওঠে নিরবচ্ছিন্ন। কোনো কাউন্টডাউন টাইমার কিংবা হুট করে দাম বাড়া-কমার চিন্তা ছাড়াই এখন ঘরের বাজার করা সম্ভব।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে যেকোনো পরিবারের জন্য বাজেটের নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন প্রতিদিন পণ্যের দাম উঠানামা করে, তখন মাসের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে স্থিতিশীল দাম ক্রেতাকে দেয় মানসিক প্রশান্তি ও খরচের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।
দারাজের এই মডেলে ক্রেতাদের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি কিছু সুবিধাও। যেমন- একসাথে ৩টি পণ্য কিনলে থাকছে ফ্রি ডেলিভারি। আবার ৫টি বা তার বেশি পণ্য কিনলে পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ উপহার সাথে ফ্রি ডেলিভারি। এছাড়া নির্দিষ্ট অংকের কেনাকাটা করলে রয়েছে অতিরিক্ত ভাউচার ব্যবহারের সুযোগ। এর ফলে ক্রেতারা বিচ্ছিন্নভাবে অল্প অল্প কেনাকাটা না করে একসাথে পুরো সপ্তাহের বাজার করতে উৎসাহিত হচ্ছেন, যা একদিকে ডেলিভারি খরচ কমায়, অন্যদিকে সাশ্রয়ও বাড়ায়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দ্রুত ডেলিভারির নিশ্চয়তা। এই মডেলের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পণ্য সরাসরি দারাজের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো হয়। ফলে ডেলিভারি হয় দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পণ্য হাতে পাওয়াটা দামের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
আসলে রমজান এই চাহিদাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। বাড়তি রান্না ও মেহমানদারির কারণে খরচের গতি বেড়ে যায়। তবে রমজান শেষ হলেও সস্তায় মানসম্মত পণ্যের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয় না।
বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজার যত পরিপক্ব হচ্ছে, প্ল্যাটফর্মগুলো ততই ক্রেতাদের অভ্যাসের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। একদিকে রয়েছে মেগা ক্যাম্পেইনের উৎসবমুখর কেনাকাটা, অন্যদিকে ‘এভরিডে লো প্রাইস’ এর মাধ্যমে গড়ে উঠছে নিয়মিত কেনাকাটার নির্ভরতা।
সাদিয়া এখন তার ঘরের কেনাকাটার জন্য একটি সাধারণ নিয়ম ঠিক করে নিয়েছেন। তার মতে, বড় কেনাকাটার জন্য বড় ক্যাম্পেইনই সেরা, কিন্তু রান্নাঘরের বাজারের জন্য এমন এক জায়গা চাই যেখানে দামের সাথে কোনো কাউন্টডাউন টাইমার ঝুলবে না।
পবিত্র রমজান বা সারা বছরের পারিবারিক বাজেট নিয়ে যারা নতুনভাবে ভাবছেন, তাদের জন্য দারাজের এই ‘এভরিডে লো প্রাইস’ একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। দারাজ অ্যাপের ‘চয়েস’ সেকশনে গেলেই ক্রেতারা তাদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো এক জায়গায় সাশ্রয়ী দামে খুঁজে পাবেন।
এখন আর পরবর্তী বড় কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই। আগামী সপ্তাহের বাজারের তালিকা নিয়ে আজই দেখে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো। তিনটি বা তার বেশি পণ্যের বান্ডেল তৈরি করে ফ্রি ডেলিভারিসহ সাশ্রয় নিশ্চিত করা এখন স্রেফ কয়েক ক্লিকের ব্যাপার।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং রিয়া মানি ট্রান্সফারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যাশ রেমিট্যান্স উৎসবে’ প্রথম মোটরসাইকেলটি জিতে নিয়েছেন মুন্সিগঞ্জের গ্রাহক শাবনূর খাতুন। ব্রুনাই প্রবাসী মোহাম্মদ আতিকের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে নিমতলা শাখার এই গ্রাহক বিশেষ এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
আজ রবিবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে এক ডিজিটাল র্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে এই বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয় বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক খান। ড্র অনুষ্ঠানে আরও অংশগ্রহণ করেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাসুদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম ও মো. মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। এছাড়াও রিয়া মানি ট্রান্সফার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম তালুকদারসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উৎসবে রিয়া মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে ক্যাশ রেমিট্যান্স পাঠালে প্রতি ব্যাংকিং কার্যদিবসে একটি করে মোট ২০টি মোটরসাইকেল উপহার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রেমিট্যান্স গ্রাহকদের জন্য নিশ্চিত উপহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ১৮ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এই বিশেষ অফারটি চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশে উদ্ভাবনী অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে 'স্টার্টআপ ফাইন্যান্সিং ইনিশিয়েটিভ'-এর আওতায় বিশেষ অবদান রেখেছে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিকে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছে।
রোববার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা বিকাশ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডি বিভাগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কিমিয়া সাআদাত সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিকট পে-অর্ডার হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমইএসপিডি-র পরিচালক নওশাদ মোস্তফা এই অর্থ গ্রহণ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম কাদির, এসএমই বিভাগের প্রধান হোসেন-আল-সাফির চৌধুরী, কৃষি বিভাগের প্রধান শরীফ হাসান মামুনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ব্যাংকের এই বিনিয়োগ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের মাঝে শরিয়াহ ভিত্তিক সঞ্চয় পদ্ধতির ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ঢাকা ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদী ‘সাপ্তাহিক’ ইসলামিক ডিপিএস সেবা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জমা করার সুযোগ পাবেন। ৬ অথবা ১২ মাস মেয়াদী এই সঞ্চয় পদ্ধতিটি সরাসরি ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।
দেশের প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই সাপ্তাহিক সঞ্চয় প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক পেশাজীবীরা অল্প অল্প করে অর্থ জমিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, কৃষি বা ব্যবসার উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আইডিপিসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস সেবার মাধ্যমে বিকাশের এই ডিজিটাল সঞ্চয় কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক এই সেবায় যুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে সিটি ব্যাংকের পর এবার ঢাকা ব্যাংকও তাদের ইসলামিক ডিপিএস সেবাটি বিকাশের প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এলো।
নতুন এই সঞ্চয় হিসাব খোলার প্রক্রিয়াটিও বেশ সহজ ও গ্রাহকবান্ধব। বিকাশ অ্যাপের হোম স্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ আইকনে প্রবেশ করে ‘নতুন সেভিংস খুলুন’ অপশনে ট্যাপ করতে হবে। এরপর সেভিংসের ধরন হিসেবে ‘ইসলামিক সেভিংস’ নির্বাচন করে সাপ্তাহিক কিস্তি এবং ৬ বা ১২ মাসের মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে। কিস্তির পরিমাণ ২৫০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে পছন্দ করার পর ব্যাংকের তালিকা থেকে ঢাকা ব্যাংক নির্বাচন করে নমিনির তথ্য প্রদান করতে হবে। সবশেষে সেভিংসের নিয়ম ও শর্তাবলী গুরুত্বের সাথে পড়ে সম্মতি দিয়ে পিন নাম্বার প্রদান করে স্ক্রিনের নিচের অংশ ট্যাপ করে ধরে রাখলেই আবেদনের কাজ সম্পন্ন হবে।
সফলভাবে হিসাব খোলার পর বিকাশ ও ব্যাংক থেকে গ্রাহককে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে। বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির টাকা কেটে নেওয়া হবে। মেয়াদের শেষে মুনাফাসহ সম্পূর্ণ টাকা গ্রাহকের বিকাশ অ্যাপেই চলে আসবে, যা কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই ক্যাশ আউট করা সম্ভব। এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে মেয়াদের আগেও ডিপিএসটি বন্ধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিকাশের এই ডিজিটাল সঞ্চয় সেবায় নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ৩০ শতাংশ। এছাড়া সঞ্চয়কারীদের ৮০ শতাংশই ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের বাইরে বসবাস করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রায় ৫৫ শতাংশ গ্রাহক প্রচলিত ব্যাংকিং সময়ের বাইরে ডিপিএস খুলেছেন, যা এই ডিজিটাল সেবার গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে। জরীপ অনুসারে, যাদের ডিপিএস-এর মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, তাদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ গ্রাহক আবারও এই প্রক্রিয়ায় সঞ্চয় করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দ, ভালোবাসা এবং ঐতিহ্যের গল্পকে আরও রঙিন ও উৎসবমুখর করে তুলতে দেশের অন্যতম ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘ভারগো’ নিয়ে এসেছে তাদের বিশেষ ‘ঈদ কালেকশন ২০২৬’। এবারের সংগ্রহের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে কাজ করেছে উৎসবের প্রাণ এবং সমসাময়িক ফ্যাশনের চমৎকার মেলবন্ধন। ভারগোর প্রতিটি ডিজাইনে নান্দনিকতার পাশাপাশি প্রিমিয়াম মানের ফেব্রিক এবং আধুনিক সিলুয়েটের ব্যবহারের মাধ্যমে আরাম ও স্টাইলের এক নিখুঁত ভারসাম্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্র্যান্ডটির মতে, ফ্যাশন মানে কেবল চলমান ট্রেন্ড অনুসরণ নয়, বরং এটি নিজের শেকড়, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিত্ব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম।
নারীদের জন্য ভারগোর এবারের ঈদ সম্ভারে রয়েছে আভিজাত্যের বৈচিত্র্য। জর্জেট ফেব্রিকের তৈরি নান্দনিক কারচুপি ও এমব্রয়ডারি ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ, টু-পিস সেট এবং আধুনিক কর্ড সেট এবারের কালেকশনের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা ডিজিটাল প্রিন্টেড কামিজ, ভিসকস ফেব্রিকের পোশাক, কুর্তি, টপস ও টিউনিকের বিশাল সংগ্রহ রাখা হয়েছে। ঈদ উৎসবের ভিড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা নিশ্চিত করতে ক্যাজুয়াল টপস এবং ওমেন্স রিলাক্স প্যান্টের নতুন সব ডিজাইন যুক্ত করেছে ব্র্যান্ডটি।
পুরুষদের ঈদ ফ্যাশনে ভারগো নিয়ে এসেছে আভিজাত্য ও আভিজাত্যের সংমিশ্রণ। কটন ও পরিবেশবান্ধব ব্যাম্বু ফেব্রিকের তৈরি ইউনিক এমব্রয়ডারি ডিজাইনের প্রিমিয়াম ও ক্যাজুয়াল পাঞ্জাবি, কাবলি সেট এবং রুচিশীল কোটির কালেকশন রাখা হয়েছে এই সংগ্রহে। ঈদ পরবর্তী সময়েও ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে ১০০% কটন ফেব্রিকের তৈরি ক্যাজুয়াল ও ফরমাল শার্ট, পোলো শার্ট এবং টি-শার্টের বিশাল সম্ভার রয়েছে। আরামদায়ক মুভমেন্টের কথা মাথায় রেখে ডেনিম, চিনোস ও রিলাক্স প্যান্টের নানা রঙের অপশন এবারের ঈদ আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
শিশুদের ঈদের আনন্দকে শতভাগ পূর্ণতা দিতে ভারগো সাজিয়েছে তাদের সমৃদ্ধ কিডস জোন। ছোটদের জন্য আকর্ষণীয় ডিজাইনের পাঞ্জাবি, ফ্রক, সালোয়ার কামিজ ও পাজামাসহ আরামদায়ক সব পোশাক রাখা হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতকদের জন্য ‘স্পেশাল নিউ-বর্ন কালেকশন’ এবারের আয়োজনে নতুনত্ব নিয়ে এসেছে। ভারগোর এই বিস্তৃত ঈদ কালেকশন রাজধানী ঢাকার উত্তরা, মোহাম্মদপুর, বসুন্ধরা সিটিসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও দেশের সকল প্রধান জেলা শহরের আউটলেটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও যারা ঘরে বসে কেনাকাটা করতে আগ্রহী, তাদের জন্য Virgobd.com ওয়েবসাইট এবং ব্র্যান্ডটির অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম পেজের মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডারের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে গুণগত মান এবং শৈল্পিক ডিজাইনের মাধ্যমে ভারগো এবারও ঈদ ফ্যাশনে গ্রাহকদের বিশেষ পছন্দ হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান উইকন প্রোপার্টিস লিমিটেড এবং প্রাইম ব্যাংক পিএলসি.-এর মধ্যে সম্প্রতি একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গুলশানে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
এই চুক্তির আওতায় প্রাইম ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে উইকন প্রোপার্টিস-এর ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে হোম লোন গ্রাহকরা বিশেষ ছাড় ও নানা সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন, যা গ্রাহকদের নিজেদের স্থায়ী ঠিকানার জন্য দেশের প্রিমিয়াম রিয়েল এস্টেট প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগকে আরও সহজতর করবে। অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন মামুর আহমেদ এবং উইকন প্রোপার্টিস-এর চিফ বিজনেস অফিসার রেজাউল হক লিমন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর ইভিপি ও হেড অব কার্ডস অ্যান্ড রিটেইল অ্যাসেটস জোয়ার্দ্দার তানভীর ফয়সাল, উইকন প্রোপার্টিস-এর গ্রুপ চিফ অফারেটিং অফিসার মেজর মো. আমিনুল হক এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর দেওয়ান রাশিদুল হাসানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের লাইফস্টাইল ভিত্তিক মানসম্পন্ন সেবা ও আর্থিক সমাধান প্রদানের মাধ্যমে তাদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অনলাইন ফুড ও গ্রোসারি ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশ টানা চতুর্থবারের মতো তাদের জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ আয়োজন ‘গ্র্যান্ড ইফতার বাজার’ শুরু করেছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বনানীর সোয়াট ফিল্ডে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বারীন রেজা এবং জুবায়ের বি এ সিদ্দিকী।
উৎসবমুখর পরিবেশে পুরান ও নতুন ঢাকার বিখ্যাত সব ইফতার সামগ্রী একই স্থানে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের আয়োজনে বিউটি লাচ্ছি ও ফালুদা, হাজী বিরিয়ানি, মুসলিম সুইটস, মাস্টারশেফ সুবরাত আলীসহ নামকরা সব রেস্টুরেন্ট অংশগ্রহণ করেছে। গ্রাহকরা সরাসরি বনানীর ভেন্যুতে বসে ইফতার করার পাশাপাশি ফুডপ্যান্ডা অ্যাপের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি বা পিকআপের সুবিধাও গ্রহণ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আম্বারীন রেজা বলেন, “বাংলাদেশে বড় হওয়ার সুবাদে রমজান আমার কাছে সব সময়ই একটা উৎসব। ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে ইফতার তৈরিতে সাহায্য করা, আর বাবার সঙ্গে দোকান থেকে প্রিয় জিলাপি, হালিম, ঘুগনি আর রোল কিনে আনার কথা এখনও খুব করে মনে পড়ে। এই সাধারণ পারিবারিক রীতিগুলোই রমজান মাসটিকে আমার কাছে বিশেষ করে তুলত। সময়ের সঙ্গে ঢাকার জীবনযাত্রা বদলেছে। ব্যস্ত সড়ক, দীর্ঘ যানজট আর ব্যস্ত নাগরিক জীবনের বাস্তবতায় প্রতিদিন বিভিন্ন জনপ্রিয় জায়গায় গিয়ে ইফতার কেনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আবার পরিবারের সঙ্গে সেই আগের মতো ইফতার প্রস্তুতির সময়ও অনেকের হাতে থাকে না। এই প্রেক্ষাপটে গ্র্যান্ড ইফতার বাজারের চতুর্থ আয়োজন শুরু করছি আমরা। গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আমরা জনপ্রিয় সব রেস্টুরেন্টকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছি। আমাদের এ আয়োজনে ডাইন ইন, পিকআপ এবং ঘরে বসে অর্ডার করার ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা চাই আমাদের গ্রাহকদের ইফতারের আয়োজন হোক সহজ, আনন্দময় ও তৃপ্তিদায়ক। আমাদের এই আয়োজন গ্রাহকদের ভালো লাগবে এবং সবার রমজান বরকতময় হবে এটাই প্রত্যাশা।”
একই প্রসঙ্গে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুবায়ের বি এ সিদ্দিকী বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ইফতার মানেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ আর সবার সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ।। ইফতার আমাদের জীবনের নানা প্রাপ্তির কথাও মনে করিয়ে দেয়। গত কয়েক বছরে গ্র্যান্ড ইফতার বাজার অভিন্ন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এক জায়গায় মিলিত হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। চতুর্থ বছরেও আমাদের চেষ্টা থাকবে বিশেষ এই মাসে যাতে আমাদের ঐতিহ্য আর সামাজিক বন্ধন আরও মজবুত হয়।” এবারের আয়োজনে পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে সিটি ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং সহযোগী পার্টনার হিসেবে কোকাকোলা, ডেটল ও হারপিকসহ আরও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। বনানীর সোয়াট ফিল্ডের এই ইফতার বাজারটি পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিন পর্যন্ত নিয়মিত চলবে।
ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেড-এর আসন্ন নির্বাহী কমিটি নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ব্যাংকার্স ঐক্য পরিষদ প্যানেলের পরিচিতি সভা ও ইফতার মাহফিল আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩:৩০ মিনিটে রাওয়া কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ রাশেদ আকতার, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী সুবীর কুমার কুন্ডু, সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ মোফাজ্জল মামুন খান ও শফিকুল ইসলাম ফকির পিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রশীদ-উন-নবী সহ বিভিন্ন পদপ্রার্থীরা উপস্থিত থেকে ক্লাব সদস্যদের সামনে নিজেদের পরিচয় ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তাঁরা ক্লাবের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সদস্যকল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (AMD), উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (DMD) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের চারজন বিশ্ববরেণ্য ক্রিকেটার— গাজী আশরাফ হোসেন লীপু, হাবিবুল বাশার সুমন, খালেদ মাসুদ পাইলট ও হাসিবুল হোসেন শান্ত। তাঁরা ভবিষ্যতেও ব্যাংকার্স ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ব্যাংকারদের ক্রীড়া কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিভিন্ন ব্যাংকে কর্মরত সম্মানিত ক্লাব সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
প্যানেলের পক্ষ থেকে ক্লাবের ঐক্য সুদৃঢ়করণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সদস্যদের জন্য আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশে নারী অধিকার রক্ষা এবং নারীর নেতৃত্ব বিকাশে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। ‘রিনিউড ওমেনস ভয়েস অ্যান্ড লিডারশিপ’ (আরডাব্লিউভিএল) প্রকল্পের অধীনে আজ বৃহস্পতিবার দেশের ২২টি গুরুত্বপূর্ণ নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠনের (ডাব্লিউআরওএস) সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সংস্থাটি। রাজধানীর একটি অভিজাত মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রায় তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। মূলত প্রথম পর্যায়ের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই নবায়িত উদ্যোগটি এখন থেকে আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশব্যাপী কাজ করবে।
এই বিশেষ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী আলোচনায় নারী নেতৃত্বাধীন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে জেন্ডার সমতা আনয়ন এবং নারীর সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের নারী আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার অজিত সিং তাঁর মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নারীর নেতৃত্ব ও অন্তর্ভুক্তি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিনিউড ওমেনস ভয়েস অ্যান্ড লিডারশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূলের ২২টি সংগঠনের সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক এই যাত্রায় কানাডা সরকার অংশীদার হতে পেরে গর্বিত। হাই কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্ম-উন্নয়ন প্রচেষ্টা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বরকে জোরালো করতে এই ধরনের উদ্যোগ সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
স্বাগত বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম প্রকল্পটি পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। আজকের এই চুক্তির মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে ২২টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং তাঁরা এই অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশের নারী অধিকার আন্দোলনের জন্য এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। বক্তারা পরিশেষে উল্লেখ করেন যে, নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার রক্ষা কেবল কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের কাজ নয়, বরং এর জন্য সরকার, এনজিও এবং তৃণমূল সংগঠনগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। আরডাব্লিউভিএল প্রকল্পটি সেই দীর্ঘস্থায়ী সমন্বয় ও লক্ষ্য অর্জনে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর নির্বাহী কমিটির ৯১৩তম সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ের পর্ষদ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান জনাব মো. সানাউল্লাহ সাহিদ। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ব্যাংকের বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বিভিন্ন কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে মূলত দেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থায়ন এবং সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা নিয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা শরিয়াহ নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে বিনিয়োগের মান উন্নয়ন এবং গ্রাহক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় জানানো হয় যে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাংকটির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।
সভায় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান জনাব খন্দকার শাকিব আহমেদ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া পর্ষদ পরিচালক ও কমিটির সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ, জনাব আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা, প্রকৌশলী জনাব মো. তৌহীদুর রহমান, জনাব ফকির আখতারুজ্জামান এবং জনাব আবদুল হাকিম সভায় উপস্থিত থেকে তাঁদের সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন। শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি সভার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক নির্দেশনার জন্য সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ। পর্ষদ সচিবালয়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব এ এইচ এম আশরাফ উদ্দিন। সভায় ব্যাংকের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও শক্তিশালী করা এবং আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সভার সিদ্ধান্তগুলো ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যবসায়িক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাকে আরও আনন্দময় এবং সাশ্রয়ী করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পুরো রমজান মাসজুড়ে দেশের নামী সুপারস্টোরগুলোতে বিকাশ পেমেন্টে কেনাকাটা করে গ্রাহকরা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক সুবিধা ভোগ করতে পারছেন। গ্রোসারি বা কাঁচাবাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন নামী ফ্যাশন ব্র্যান্ড, বেকারি, ইফতার বাজার, ইলেকট্রনিক্স এবং রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই আকর্ষণীয় অফারগুলো চালু করা হয়েছে। মূলত ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করা এবং উৎসবের মৌসুমে গ্রাহকদের আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।
সুপারস্টোরে কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বড় ডিসকাউন্ট সুবিধা। আগোরা, ইউনিমার্ট, মিনা বাজার, প্রিন্স বাজার এবং হোলসেল ক্লাবের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় চেইন শপগুলোতে এই অফারটি পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপে ‘D2’ কুপন কোড ব্যবহার করে ন্যূনতম ১,৫০০ টাকার কেনাকাটা করলেই এই ছাড়ের সুযোগ পাবেন। অফার চলাকালীন একজন গ্রাহক দিনে একবার ১০০ টাকা করে মোট পাঁচবার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পেতে পারেন। তবে প্রতিবার পেমেন্টের আগে কুপনটি পুনরায় যোগ করে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ক্রেতারা তাঁদের মাসিক বাজারের খরচে বড় একটি অংশ সাশ্রয় করতে পারবেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ সুপারস্টোর স্বপ্ন (Shwapno) এবং ডেইলি শপিং-এর গ্রাহকদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা। এই দুই প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় গ্রোসারি কেনাকাটায় গ্রাহকরা ‘D3’ কোড ব্যবহার করে মোট ৩০০ টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট উপভোগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের ন্যূনতম পরিমাণ হতে হবে ৮০০ টাকা। ক্যাম্পেইন চলাকালীন একজন গ্রাহক দিনে একবার ১০০ টাকা এবং সব মিলিয়ে তিনবার এই সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে মোট ৩০০ টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন। বড় পরিসরের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার চেইন শপগুলোতেও বিকাশের এই পদচারণা সাধারণ মানুষের বাজার করার অভিজ্ঞতাকে সহজতর করছে।
বর্তমান সময়ের ক্রমবর্ধমান অনলাইন কেনাকাটার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতেও ক্যাশব্যাক অফার দিচ্ছে বিকাশ। চালডাল, মিনা বাজার অনলাইন এবং প্যারাগনের মতো অনলাইন গ্রোসারি শপ থেকে যেকোনো অর্ডারে বিকাশ পেমেন্ট করলে গ্রাহকরা ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাবেন। ১,২০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের অর্ডারে ৫ শতাংশ হারে এই ক্যাশব্যাক প্রদান করা হচ্ছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা এবং পুরো অফার চলাকালীন দুইবারে মোট ২০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক পাওয়া যাবে। এই ডিজিটাল সেবার ফলে বাজারে যাওয়ার ভিড় এড়িয়ে ঘরে বসেই সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে বিকাশের এই বহুমুখী ক্যাম্পেইনটি আগামী ২১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। গ্রোসারি পণ্যের বাইরেও লাইফস্টাইল, ভ্রমণ এবং খাদ্য খাতেও বিকাশের আরও অনেক আকর্ষণীয় অফার রয়েছে যা গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিয়মিত জানতে পারছেন। নিরাপদ ও দ্রুততর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে বিকাশের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা গ্রাহক মহলে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। নতুন এই ক্যাম্পেইনটি বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য রমজানের বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।