সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪

৭৫ হাজার বছর আগের নারীর মুখাবয়ব পুনর্নির্মাণ 

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৫ মে, ২০২৪ ১৩:৩৪

৭৫ হাজার বছর আগে এই পৃথিবীতে বসবাস করা মানুষদের চেহারা কেমন ছিল? সে চেহারা কি আমাদেরই মতো নাকি আরও ভিন্ন ধরনের? এসব প্রশ্ন সবসময়েই অতীত নিয়ে ভাবতে বসা মানুষদের ভাবায়। নৃতত্ত্বের গবেষক ও ইতিহাসবিদদের কাছে সুদূর অতীতের এই মানবগোষ্ঠী রীতিমতো আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সব সময়। তবে চাইলেই কি আর অতীতে ফেরা সম্ভব? ক্যামেরাও আবিষ্কার হয়েছে দুইশ বছর আগে, ফলে আগের মানুষের চেহারা ছবি একেবারেই অচেনা। তবে গবেষণাগারে নিরন্তর চেষ্টায় নিয়ানডারথাল যুগের এক প্রাগৈতিহাসিক নারীর মুখাবয়ব তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আর তা সম্ভব হওয়ার কারণ ওই নারীর মাথার খুলিটি খুঁজে পেয়েছিলেন একদল গবেষক। এই নারীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘শানিদার জেড’।

এরপর প্রাগৈতিহাসিককালের সেই নারী জীবিত থাকতে দেখতে কেমন ছিলেন, সেই চেহারার একটি দারুণ পুনর্নির্মাণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। খবর বিবিসির।

গবেষকরা জানান, এ মুখমণ্ডলটা তৈরি করা হয়েছে চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়া ভাঙাচোরা একটি নিয়ানডারথাল খুলি থেকে। খুলিটি এত প্রাচীন যে উদ্ধার করার সময় এর হাড় এতই নরম হয়ে গিয়েছিল যাকে ‘চায়ে ডোবানে বিস্কুটের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।

বিবিসি জানায়, খুলির ভাঙা অংশগুলোকে পুনরায় জোড়া দেওয়ার আগে সেগুলোকে কঠিন রূপ দিতে হয়েছিল গবেষকদের। তারপর বিশেষজ্ঞ প্যালিওআর্টিস্টরা সেই খুলির ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করেন। যেসব শিল্পী প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর বৈজ্ঞানিক প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন, তাদের প্যালিওআর্টিস্ট বলা হয়।

নেটফ্লিক্সের জন্য বিবিসি স্টুডিওর তৈরি করা ডকুমেন্টারি ‘সিক্রেটস অব দ্য নিয়ানডারথাল’-এ মুখাবয়বটি দেখানো হয়েছে। ডকুমেন্টারিটিতে ৪০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মানুষের বিবর্তনীয় সঙ্গী নিয়ানডারথাল নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

নতুন এ ভাস্কর্যসদৃশ মুখাবয়বের ফলে নিয়ানডারথালের মুখ দেখতে কেমন ছিল তা বাস্তবেই প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হলো।

প্রকল্পটির একজন প্যালিঅ্যানথ্রোপলিজস্ট ও ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের শিক্ষক ড. এমা পমরয় বলেন, ‘আমি মনে করি, তার [নিয়ানডারথাল নারী] মাধ্যমে আমরা তাদেরকে বোঝার এক নতুন সংযোগ পেলাম।’

ইরাকি কুর্দিস্তানের শানিদার গুহায় এ নিয়ানডারথালের খুলিটি পাওয়া গিয়েছিল। ১৯৫০-এর দশকে ওই গুহা থেকে অন্তত ১০টি নিয়ানডারথাল নারী, পুরুষ ও শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

২০১৫ সালে কুর্দিশ কর্তৃপক্ষ একটি ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক গোষ্ঠীকে পুনরায় আমন্ত্রণ জানায়। তখনই ওই নারীর কঙ্কালটি খুঁজে পান তারা। সেটির নাম দেওয়া হয় শানিদার জেড।

গবেষকরা জানান, কঙ্কালটির মেরুদণ্ড, কাঁধ, বাহু ও হাতসহ ঊর্ধ্বাঙ্গের বেশিরভাগ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। মাথার খুলিটির বেশিরভাগ অংশও পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেটা খুলির আকৃতিতে নয়। খুলিটি চ্যাপ্টা হয়ে দুই সেন্টিমিটার পুরু একটি পরতে রূপান্তরিত হয়েছিল।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, দূর অতীতের কোনো এক সময় গুহার কোনো পাথর মাথায় পড়ে দুর্ঘটনায় নিহত হন ওই নারী। সে জন্য তার খুলির এমন পরিণতি।

শানিদারের নতুন অনুসন্ধানের নেতৃত্ব দেওয়া ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রিম বার্কারের ভাষায়, ‘ওই খুলিটা মূলত একটা পিজ্জার মতো চ্যাপ্টা ছিল।’

বিবিসির ওই ডক্যুমেন্টারিতে বলা হয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে খুলিটির অংশগুলো যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হয়। তারপর সেগুলোকে মাটি-পাথরের মিশ্রণ থেকে আলাদা করা হয়। এরপরের কাজ ছিল ওই টুকরোগুলোকে একত্রিত করা। অনেকটা ধাঁধা সমাধান করার মতো করেই একজন প্রত্নতত্ত্ববিদকে কাজটি করতে হয়েছিল। তাতে সময় লেগ যায় প্রায় বছরখানেক। পুনরায় রূপ দেওয়া খুলিটি তারপর স্ক্যান করেন বিশেষজ্ঞরা। সেটাকে ত্রিমাত্রিকভাবে ছাপিয়ে তা দেওয়া হয় ডাচ শিল্পী আদ্রি ও আলফঁস কেনিসকে। এই দুই শিল্পী প্রাচীন মানুষের হাড় ও ফসিলের অবশিষ্টাংশ থেকে তাদের শরীরের বৈজ্ঞানিক প্রতিকৃতি আঁকার দক্ষতার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত। তবে তাদের তৈরি এ মুখাবয়বটি যতই কৌতূহল জাগানিয়া হোক না কেন, প্রকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য কেবল মূল কঙ্কালটারই রয়েছে।

গবেষকরা একদম নিশ্চিত যে, ‘কঙ্কালটা নারীরই’।

তারা জানান, পেলভিক হাড়গুলো থাকলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া আরও সহজ হতো, কিন্তু কঙ্কালটির সঙ্গে সেগুলো পাওয়া যায়নি। তার বদলে গবেষকেরা নিয়ানডারথাল কঙ্কালটির দাঁতের এনামেলে অধিক পরিমাণে পাওয়া এক ধরনের প্রোটিনের মাধ্যমে এটির লিঙ্গ নির্ধারণ করেছেন। এ প্রোটিন নারী জেনেটিক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গবেষকদের ধারণা, মধ্য চল্লিশেই প্রাণ হারিয়েছিলেন ওই নিয়ানডারথাল নারী। আর এটাও বোঝা গেছে তার দাঁতের ক্ষয় দেখে। ড. পমরয় বলেন, ‘আমরা তার দুর্বল দাঁতের আরও কিছু ইঙ্গিতও খুঁজে পেয়েছি। কিছু ক্ষত, মাড়ির কিছু রোগও ছিল। তাই জীবনের ওই পর্যায়ে তার স্বাভাবিক আয়ুও শেষের দিকে ছিল বলে মনে হয়।’


মায়ের কোলে চড়েই জীবনযুদ্ধে জয়ের স্বপ্ন দেখে মীম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জন্ম থেকেই হাঁটতে পারেন না মীম। হাতে সমস্যা থাকার কারণে ধীরে ধীরে লিখতে হয়। মায়ের কোলে চড়েই শিক্ষাজীবনের দুই-তৃতীয়াংশ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাতেও ভালো ফলাফলের আশা।

মীমের পুরো নাম মাহফুজা আক্তার মীম। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশায়। দুই ভাই-বোনের সংসারে বড় মেয়ে মীম। বাবা মঞ্জু হোসেন পেশায় ফার্নিচার মিস্ত্রি। মায়ের নাম সাহেরা বেগম। গতকাল শুক্রবার গুচ্ছভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় মায়ের কোলে উঠে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন মীম। বাহাদুরপুর পণ্ডিত কাজী আবুল হোসেন কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

মায়ের অক্লান্ত শ্রম আর মেয়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে হার মেনেছে হাজারও প্রতিবন্ধকতা। ছোটবেলায় স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে শিকার হতে হয়েছে নানা বাধার। এর পরও নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখে স্কুল-কলেজ জয় করে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়ার অপেক্ষা।

পরীক্ষা শেষে কথা হয় মীমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ পরীক্ষা ভালো হয়েছে। জন্মগতভাবে আমার শারীরিক কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আমার লেখাপড়ার পুরো যাত্রাতেই আম্মু পাশে আছেন। আমার এ পর্যন্ত শিক্ষাজীবন আম্মুর কোলে বসেই। ছোটবেলায় আমি যখন স্কুলে ভর্তি হতে যাই, সাধারণ বাচ্চাদের মতো আমাকে ভর্তি নিতে চায়নি। আম্মুর অনুরোধে শিক্ষকরা আমাকে ভর্তি নেন। পরবর্তী সময় বার্ষিক পরীক্ষায় যখন আমি ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করি তখন শিক্ষকরা আমাকে নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর থেকে নিজের চেষ্টায় ভালো ফলাফল ধরে রেখেছি। আজ জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দিয়েছি।’

নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে মীম বলেন, ‘মার স্বপ্নই আমার স্বপ্ন।’

মীমের মা সাহেরা বেগম বলেন, ‘শিক্ষা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমার মেয়ে যদি শিক্ষিত হয়, আমি মারা গেলে মেয়ে তার বাবার বোঝা হবে না। সেজন্য আমি শত কষ্টেও তাকে এতদূর এনেছি।’

সাহেরা বেগম আরও বলেন, ‘মেয়ের জন্মের পর থেকেই ওর বাবা আমাকে সহায়তা করেছে। আমার আরেকটা ছোট ছেলে রয়েছে। তবে আমার স্বপ্ন আমার বড় মেয়ে মীমকে ঘিরেই। আমি চাই আমার মেয়ে একটা সরকারি চাকরি করুক, সমাজের বোঝা না হোক।’


প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে সুলতান মেলায় ষাঁড়ের লড়াই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি 

প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে নড়াইলে সুলতান মেলায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার শহরের কুড়ির ডোব মাঠে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৯৯তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সুলতান মেলায় কিউট গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসবের অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী এ ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন ও এস. এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২৬টি ষাঁড় অংশ নেয়। লড়াইয়ে অংশ নেওয়া প্রতিটি ষাঁড়ই ছিল সুঠাম দেহের ও বাহারি রঙের। লড়াই দেখতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা বয়সি হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মাঠটি।

যশোরের অভয়নগর থেকে আসা সূর্য কুমার বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে প্রতি বছর সুলতান মেলায় ষাঁড়ের লড়াই দেখতে আসি। ষাঁড়ের লড়াই দেখতে আমার খুবই ভালো লাগে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে এসেছি।’ সমীরণ বিশ্বাস বলেন, ‘ষাঁড়ের লড়াই আগে অনেক জায়গায় হতো, এখন হয় না। এই সুলতান মেলায় প্রতি বছর হয়। তাই অনেক মানুষ এসেছি, ষাঁড়ের লড়াই দেখছি, খুব ভালো লাগছে।’ এদিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে হারিয়ে যাওয়া বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া উৎসবের নবজাগরণের উদ্দেশ্য সুলতান মেলায় এসব খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। সুলতান মেলার ‘কিউট গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব’ উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মন্নু বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির হারিয়ে যাওয়া যে ক্রীড়া উৎসব রয়েছে সেগুলোর নবজাগরণ সৃষ্টি করা। নতুন প্রজন্মকে আমাদের ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত করা। তারা মাদক থেকে সরে এসে খেলাধুলা এবং লেখাপড়ার ভেতরে আসুক এবং নিজেরা আলোকিত মানুষ হিসেবে তৈরি হোক সেই প্রত্যাশায়ই এই প্রচেষ্টা।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল নড়াইলের সুলতান মঞ্চে ১৫ দিনব্যাপী সুলতান মেলা মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী। মেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কুড়ির ডোব মাঠে কিউট গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব শিরোনামে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয়। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল এ মেলা শেষ হবে।


এ বছর কেন এত গরম

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৩ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৫৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রতি বছর এপ্রিলে তাপমাত্রা বেশিই থাকে। তবে এবারের গরম ভেঙেছে অতীতের সব রেকর্ড। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি তাপমাত্রার স্কেল ছাড়িয়েছে সৌদি আরবকেও।

গরমের এমন পরিবর্তন কিন্তু এক দিনের ফল নয়। এর পেছনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা বিষয়। এমনিতে জলবায়ুর পরিবর্তনে কোনো দেশ এককভাবে দায়ী নয়। পৃথিবীর সব দেশেই প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ্যভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য দায়ী। যার ফলস্বরূপ দেখা দিয়েছে আবাহাওয়ার পরিবর্তন।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদের বলেন, গত বছর বাতাসে আর্দ্রতা কম ছিল। এবার আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে মানুষের শরীর ঘামছে, অস্বস্তি বেশি হচ্ছে। এই সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। এবার বৃষ্টিপাত কম। কালবৈশাখী ও বৃষ্টি না থাকায় এবার গরমের তীব্রতা বেশি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলছেন, গরমের সঙ্গে এপ্রিলে সাধারণত বজ্রঝড়ও হয়ে থাকে। এ বছর বজ্রঝড় না হওয়ায় বৃষ্টি হচ্ছে না। পশ্চিমা ঝঞ্ঝার কারণে যে বজ্রঝড় হয়, সেটা ভূমধ্যসাগর থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তানের ওপর দিয়ে এসে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্পের সঙ্গে মিশে বজ্রঝড় সৃষ্টি করে। জলীয়বাষ্প পুঞ্জীভূত হয়ে বৃষ্টি হওয়ার কথা। সেটি পুঞ্জীভূত না হয়ে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। এ কারণেই গরম বেশি পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন ফাতিমা আক্তারের পর্যবেক্ষণ, সারা বছরের বৃষ্টিপাতের ১০ শতাংশ বৃষ্টি হয় গ্রীষ্মে। এবার এখনও সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। জলবায়ুর পরিবর্তন তো আছেই। মনুষ্যসৃষ্ট কারণ যেমন- গাছপালা কেটে ফেলা, গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাশয় ভরাটের কারণেই দিন দিন তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক নজরুল ইসলাম গরম বৃদ্ধিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অংশ হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এতটা নগরায়ন হয়নি, যার প্রভাবে পরিবেশ এত গরম হয়ে উঠবে। বরং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফল ভোগ করছে বাংলাদেশের মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একদিকে শীতের প্রকোপ বাড়ছে, অন্যদিকে গ্রীষ্মের দাবদাহও অনুভূত হচ্ছে। সারা বিশ্বেই কার্বন নিঃসরণের জন্য এখন তাপমাত্রা বাড়ছে। নগরায়ন, শিল্পায়ন, ইটভাটা, যানবাহনের ব্যবহার বেশি- এগুলো তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ বলছে, শেষ তিন দশকে বাংলাদেশের আবহাওয়া আগের তুলনায় উষ্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিপাত ও শীতের দিন কমছে, বছরের বড় অংশজুড়ে গরমের বিস্তার বাড়ছে। গড় তাপমাত্রা বেড়ে এপ্রিল মাস আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি গরমের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। গত বছর অবশ্য পুরো পৃথিবীরই সবচেয়ে উষ্ণতম বছর ছিল। এ বছরও আরও বেশি গরমের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হতে পারে বলে সতর্ক করছেন আবহাওয়াবিদরা।


গাধার দুধ এত দামি!

নিজস্ব খামারে গাধার সঙ্গে ধিরেন সোলাঙ্কি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বছরের পর বছর ধরে গাধাকে অবজ্ঞাস্বরূপ ব্যবহার করে আসছে মানুষ। স্বীকৃতি ছাড়া কোনো কাজ করলেই আমরা বলি, ‘গাধার মতো খাটুনি’। তবে এবার সেসব বলার দিন হয়তো ফুরিয়ে এসেছে। গাধার দুধ এখন গরু কিংবা ছাগলের চেয়েও দামি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন সে কথাই বলছে। এতে বলা হচ্ছে, গরু কিংবা ছাগলের দুধের ৭০ গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে গাধার দুধ। গুজরাটে ধিরেন সোলাঙ্কি নামে এক ব্যক্তি তার খামার থেকে এ দামেই বিক্রি করছেন গাধার দুধ। প্রতি লিটার গাধার দুধের দাম ৫ হাজার রুপি (প্রায় ৭ হাজার টাকা)।

ধিরেন সোলাঙ্কি দীর্ঘদিন সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করেছেন। শেষমেশ তিনি বেছে নেন গাধা পালন। তার খামারে ৪২টি গাধা রয়েছে। পতন গ্রামের এ খামার থেকে ধিরেন সোলাঙ্কি মাসে আয় করেন ২-৩ কোটি রুপি। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য থেকে তার কাছে দুধের অর্ডার আসে। এ ব্যাপারে ধিরেন সোলাঙ্কি বলেন, ‘বেসরকারি চাকরি পেয়েছিলাম। তাতে পরিবার চালানো কষ্টকর ছিল। পরে গাধা পালন নিয়ে ভাবতে থাকি। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ৮ মাস আগে শুরু করি এই খামার। এতে আমার বিনিয়োগ হয়েছিল ২২ লাখ রুপি।

তবে বাজেভাবে শুরুটা হয়। প্রথম ৫ মাসে কোনো আয়ই হয়নি ধীরেনের। পরে বিভিন্ন রাজ্যে যোগাযোগ করে শুরু করেন দুধ বিক্রি। কর্ণাটক ও কেরালায় তিনি দুধ সরবরাহ করেন। বিভিন্ন কসমেটিকসের প্রতিষ্ঠানও এসব দুধের ক্রেতা। যেখানে দুধের দাম কেজিপ্রতি ৬৫ রুপি, সেখানে গাধার দুধের নাম ৭ হাজার রুপি। ফ্রিজারে রাখলে এই দুধ টাটকা থাকে। ব্যবসায়ীরা পরে এই দুধ থেকে পাউডার বানিয়ে প্রতি কেজি ১ লাখ রুপিতে বিক্রি করেন।

গাধার দুধের উপকারিতা কী

প্রাচীন যুগ থেকেই গাধার দুধ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রচলিত আছে, মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা এই দুধ দিয়ে গোসল করতেন। নাক দিয়ে রক্ত পড়া, লিভারের অসুখ, বিভিন্ন বিষক্রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জ্বরে এই দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিতেন গ্রিক চিকিৎসাবিদ হিপোক্রেটিস। তবে আজকের যুগে এসব উপকারিতা যেন সবাই ভুলতে বসেছে। সম্প্রতি আমেরিকার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে গরুর দুধের চেয়ে গাধার দুধ বেশি উপকারী। এ ছাড়া গরুর দুধে এলার্জি থাকলে গাধার দুধ সেরা বিকল্প।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা সারাতে সক্ষম এই গাধার দুধ। এই দুধে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ডায়বেটিসে বেশ উপকারী। অন্যান্য দুধে বিভিন্ন জীবাণু থাকার শঙ্কা রয়েছে; কিন্তু এই দুধে নেই।


দেশে উবারের যাত্রীরা যেসব জিনিস বেশি ফেলে যান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:৪২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শীর্ষস্থানীয় রাইডশেয়ারিং অ্যাপ উবারের ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ইনডেক্স’-এর ৮ম সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে আজ রোববার। এই সংস্করণে উবার ব্যবহারকারীরা কোন জিনিসগুলো গাড়িতে সবচেয়ে বেশি ফেলে রেখে গেছেন এবং দিনের কোন সময়ে; সপ্তাহের কোন দিনে; বছরের কোন সময়ে; ফেলে রেখে গেছেন তা জানা যায়। এসব তথ্যের একটি স্ন্যাপশট হলো এই ইনডেক্স।

গত এক বছরে মে ও জুন মাসে বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি জিনিসপত্র ভুলে ফেলে গেছেন এবং বেশিরভাগ জিনিসপত্র ফেলে রেখে আসার ঘটনাটি ঘটেছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে। গত বছর বাংলাদেশজুড়ে যাত্রীদের ভুলে যাওয়া জিনিসের তালিকায় প্রথম দুটি স্থানে ছিল পোশাক ও ছাতা। তালিকায় এর পরেই ছিল ওয়ালেট, বালিশ এবং হেডফোন। বাংলাদেশিরা উবারে এরকম সাধারণ জিনিসপত্র যেমন ভুলে ফেলে রেখে গেছেন তেমনি স্পিকারের মতো অপ্রত্যাশিত জিনিসও ভুলে রেখে গেছেন।

উবার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড নাশিদ ফেরদৌস কামাল লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ইনডেক্স সম্পর্কে বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য উবারের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্রিপের সময় যাত্রীদের ফেলে যাওয়া জিনিস নিরাপদে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘হারানো জিনিস খুঁজে পেতে উবারের কিছু ইন-অ্যাপ অপশন আছে। এ ব্যাপারে যাত্রীদের জানানোর জন্য লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ইনডেক্স একটি চমৎকার শিক্ষণীয় উপায়। যাত্রীদের আমরা জানাতে চাই যে, রাইডের সময় তারা কিছু ভুলে ফেলে গেলে তাদের সাহায্য করার জন্য আমরা প্রস্তুত।’

ফেলে যাওয়া জিনিস উদ্ধার করবেন যেভাবে

১. ‘ইয়োর ট্রিপ’ অপশনে ট্যাপ করুন এবং যে ট্রিপে আপনার জিনিসটি হারিয়েছে তা সিলেক্ট করুন।

২. নিচে স্ক্রোল করে ‘ফাইন্ড লস্ট আইটেম’ অপশনে ট্যাপ করুন।

৩. ‘কন্ট্যাক্ট ড্রাইভার অ্যাবাউট আ লস্ট আইটেম’ অপশনে ট্যাপ করুন।

৪. স্ক্রোল করে নিচে নামুন এবং আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে এমন একটি ফোন নম্বর লিখুন। সাবমিট অপশনে ট্যাপ করুন।

৫. যদি নিজের ফোন হারিয়ে যায় তাহলে আপনার বন্ধুর ফোন নম্বর ব্যবহার করুন তবে এর জন্য আপনাকে কম্পিউটার বা কোনো ফোন থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে হবে।

৬. আপনার ফোন বেজে উঠবে এবং আপনার চালকের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে আপনাকে সরাসরি যুক্ত করে দেওয়া হবে।

৭. যদি চালক ফোন ধরেন এবং নিশ্চিত করেন যে আপনার জিনিসটি পাওয়া গেছে, সেটি ফিরিয়ে নিতে উভয়ের জন্য সুবিধাজনক একটি সময় ও স্থান নির্বাচন করুন।

৮. যদি চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, আপনার হারানো জিনিসটির বিস্তারিত বর্ণনা এবং আপনার সঙ্গে যোগাযোগের উপায় জানিয়ে চালককে একটি ভয়েসমেইল পাঠিয়ে রাখুন।

উবার ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড ইনডেক্স ২০২৪’ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের স্ল্যাপশট

উবার যাত্রীরা যেসব জিনিস সবচেয়ে বেশি ভুলে ফেলে রেখে গেছেন তা হলো পোশাক। এরপরই রয়েছে ছাতা, ওয়ালেট, নেক-পিলো, হেডফোন ও স্পিকার। যে শহরগুলোতে যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি জিনিস হারিয়েছেন তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এরপরের স্থানগুলো যথাক্রমে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল।

বছরের যে দিনগুলোতে যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক জিনিস ভুলে রেখে গেছেন তার মধ্যে রয়েছে ১৩ মে, ২০২৩। এ ছাড়া ৯ জুন এবং ১৬ জুন, ২০২৩ বেশি ভুল করেছেন যাত্রীরা।

সপ্তাহের যে তিন দিন সবচেয়ে বেশি জিনিস হারিয়েছে তা হলো সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। এ ছাড়া শনিবার ও রোববারও রয়েছে।

দিনের যে সময়ে যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি জিনিস ফেলে রেখে যান তার সময় হিসেবে রাত আটটা। এরপরই সন্ধ্যা ৭টা ও রাত ৯টায় বেশি জিনিস ফেলে রেখে গেছেন।


হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রান্ধুনীমুড়া মনিনাগ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মজুমদার বাড়ির পুরোনো কাচারি ঘর। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় একসময় সম্ভ্রান্ত পরিবারে আভিজাত্যের প্রতীক ছিল কাচারি ঘর। বাড়ির বাহির আঙিনায় অতিথি, মুসাফির, ছাত্র ও জায়গিরদের থাকার ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হতো এই কাচারি ঘর। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ও মক্তব হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক আলাপচারিতারও কেন্দ্র ছিল এই কাচারি ঘর।

উপরে টিন বা ছনের ছাউনি দিয়ে ঘেরা এই ঘরটি বাড়ির অন্যসব কক্ষ থেকে আলাদা ছিল। বাইরের লোকজন যেন অন্দরমহলের নারীদের দেখতে না পান, সে জন্যই মূলত বাহির বাড়িতে স্থাপিত হতো এই কাচারি ঘর।

তবে কালের বিবর্তনে বাঙালি সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গের মতো হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর। নব্বই দশকেরও আগে প্রায় গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতেই ছিল কাচারি ঘর, যা এখন আর তেমন দেখা যায় না।

১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হাজীগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার অধিকাংশ গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারে আভিজাত্যের প্রতীক ছিল কাচারি ঘর।

হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক মুরাদ বলেন, চারদিকে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় গ্রাম বাংলার কাচারি ঘর এখন বিলুপ্ত প্রায়। পূর্বপুরুষরা কাছারি ঘরে সালিশ-বৈঠক, গল্প-আড্ডা, পথচারী ও মুসাফিরদের বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহার করতেন। এখন গ্রামের লোকসংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি শহরের মতো আধুনিক নকশার বাড়িঘর তৈরি হওয়ায় প্রয়োজন ফুরিয়েছে কাচারি ঘরের।

এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া মনিনাগ গ্রামের মজুমদার বাড়ির মো. মাহমুদ আহমেদ মিঠু দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মজুমদার বাড়ির পূর্ব-পুরুষের নানা স্মৃতি-বিজড়িত এ কাচারি ঘর সত্যিই প্রাচীন কালের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এই কাচারি ঘর।’


বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় বাংলাদেশের মেরিনা

মেরিনা তাবাশ্যুম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ এপ্রিল, ২০২৪ ১৯:০২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

টাইম ম্যাগাজিনের করা বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের মেরিনা তাবাশ্যুম। গতকাল বুধবার ২০২৪ সালের প্রভাবশালী এই ব্যক্তির নিয়ে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়।

মেরিনা তাবাশ্যুম পেশায় একজন স্থপতি। তালিকায় উদ্ভাবক শ্রেণিতে স্থান পেয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে একই তালিকা রয়েছেন রাশিয়ার ইউলিয়া নাভালনায়া, শান্তিতে নোবেলজয়ী ইরানের মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদী, পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কসহ পরিচিত অনেক মুখ। এমনকি ভারতের চলচ্চিত্র অভিনেত্রী আলিয়া ভাটও রয়েছেন এই তালিকায়।

মেরিনা তাবাশ্যুম সম্পর্কে টাইম লিখেছে, সাধারণত পুরস্কারজয়ী স্থপতিদের সঙ্গে পরোপকারের বিষয়টি তেমন উল্লেখ করা হয় না; কিন্তু মেরিনা তাবাশ্যুম সাধারণ নন। তিনি স্থাপত্যচর্চায় এমন একটি রীতি তৈরি করেছেন, যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পাশাপাশি আমাদের এই ধরিত্রী যে বিপদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা অগ্রাধিকার পায়।

টাইম আরও জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে মেরিনা তাবাশ্যুম এমন এক ঘরানার বাড়ি তৈরি করেছেন, যার নির্মাণ ব্যয় যেমন কম, তেমনি এই বাড়ি সহজে স্থানান্তরও করা যায়।

২০২১ সালে মানবিক ঘর তৈরির জন্য যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ সন পদক পান তিনি। ২০২০ সালে ব্রিটিশ সাময়িকী প্রসপেক্ট–এর ৫০ চিন্তাবিদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি। তিনি ১০ জনের মধ্যে তৃতীয় হন।

ঢাকার দক্ষিণখানে বায়তুর রউফ নামের একটি শৈল্পিক নকশার মসজিদের স্থপতি হিসেবে ২০১৮ সালে জামিল প্রাইজ পান তিনি। এর আগে একই নকশার জন্য ২০১৬ সালে পান সম্মানজনক আগা খান পুরস্কার। সুলতানি আমলের স্থাপত্যের আদলে নকশা করা এ মসজিদ ২০১২ সালে ঢাকায় নির্মিত হয়।

বিষয়:

মহাকাশে ঘটতে যাচ্ছে তারার বিস্ফোরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি কোনো একদিন পৃথিবী থেকে ৩ হাজার আলোকবর্ষ দূরে একটি বিশাল তারকা বিস্ফোরণ ঘটতে চলেছে। এ বিস্ফোরণে জ্বলে উঠবে রাতের আকাশ। অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জীবনে একবারই মহাকাশে এমন অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকার সুযোগ পাবেন। মহাকাশের করোনা বোরিয়ালিস নক্ষত্রমণ্ডল বা ‘নর্দান ক্রাউনে’র বাইনারি তারকা ব্যবস্থা খালি চোখে দেখতে সাধারণত খুবই ম্লান বা ছোট লাগে। তবে প্রতি ৮০ বছর বা এরকম সময়ের ব্যবধানে এ নক্ষত্রপুঞ্জের দুটি তারার মধ্যে স্থানচ্যুতি ঘটে। এ সময় বড় সংঘর্ষে জড়ায় তারা। সংঘটিত হয় বিশেষ ধরনের পারমাণবিক বিস্ফোরণ।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলছে, ওই বিস্ফোরণের ফলে যে আলোর দ্যুতি ছড়াবে, সেটি একটি নতুন তারার মতো দৃশ্যমান হবে। ধ্রুবতারার মতোই উজ্জ্বল এটি দেখে মনে হবে, আমাদের রাতের আকাশে এ তারা হঠাৎই কয়েক দিনের জন্য হাজির হয়েছে। এ নিয়ে অন্তত তিনবার এমন ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকবে মানবজাতি। প্রথমবার এমন ঘটনা আবিষ্কার করেন ১৮৬৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বহুশাস্ত্রবিদ জন বার্মিংহাম। এরপর একই ঘটনা আবার দেখা যায় ১৯৪৬ সালে।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিদ সুমার স্টারফিল্ড এ ঘটনার একটি যথাযথ নাম দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, নোভার (নবজ্যোতিষ্ক) এই ‘ফেটে পড়া’ দেখতে খুবই উৎসুক হয়ে আছেন তিনি। ১৯৬০-এর দশক থেকে এ জ্যোতির্বিদ ‘ব্লেইজ স্টার’নামে পরিচিত নক্ষত্রপুঞ্জ ‘টি করোনা বোরিয়ালিস’-এর ওপর মাঝে মধ্যেই কাজ করেছেন। আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে ঘটতে যাওয়া দুই তারকার ওই বিস্ফোরণ থেকে জ্যোতির্বিদরা কী তথ্য খুঁজে বের করবেন, সে বিষয়ে অনুমাননির্ভর একটি গবেষণা নিবন্ধ তৈরির কাজ শেষ করছেন স্টারফিল্ড।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিচিত ছায়াপথ মিল্কিওয়ে ও আশপাশের গ্যালাক্সিতে মাত্র ১০টির মতো ‘রিকারিং নোভা’ রয়েছে। সাধারণ নোভা বিস্ফোরিত হতে পারে প্রতি এক লাখ বছরে। তবে দুই তারার অদ্ভুত সম্পর্কের কারণে রিকারেন্ট নোভার বিস্ফোরণ কোনো একজন মানুষের জীবনে একাধিকবারও ঘটতে পারে।’

নোভা নিয়ে গবেষণা করেছেন জার্মান জ্যোতির্বিদ জোয়াচিম ক্রাউটার। অবসরে যাওয়া জার্মানির এই বিজ্ঞানী বলেন, টি করোনা বোরিয়ালিসের ওই বিস্ফোরণের দৃশ্যে নজর থাকবে অনেকের মতোই জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপেরও। এই জ্যোতির্বিদ বলেন, ‘বিরল ওই ঘটনা যখন ঘটবে, তখন সে দৃশ্য দেখতে টেলিস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন আপনার নেই। শুধু ঘর থেকে বাইরে যান ও করোনা বোরিয়ালিসের দিকে তাকিয়ে থাকুন, তাতেই দেখবেন অভাবনীয় সেই দৃশ্য।’


আগামী সোমবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৪ ২১:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী সোমবার পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে অর্থাৎ সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাবে চাঁদের ছায়ায়। তবে এই দৃশ্য দেখা যাবে না বাংলাদেশ থেকে। এমনটিই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমেদ চৌধুরী।

এই বিশেষ মুহূর্তেটি দেখা যাবে পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকেটি দেশ থেকে। পলিনেশিয়া, উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের ম্যাকারোনেশিয়া অঞ্চলে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার গ্রহণটি ফ্রান্স পলিনেশিয়ার তুয়ামোতু দ্বীপপুঞ্জের উত্তরপূর্ব অংশ হতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে শুরু হবে। সর্বোচ্চ গ্রহণ হবে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে মেক্সিকোর নাজাস পৌরসভার উত্তর-পশ্চিমাংশে। আয়ারল্যান্ডের ক্যাসলটাউন হতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৩৫ মিনিট ২০ সেকেন্ডে কেন্দ্রীয় গ্রহণ শেষ হবে।


মারা গেলেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:৪০
বাসস

১১৪ বছর বয়সে মারা গেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি ভেনিজুয়েলার হুয়ান ভিনসেন্ট পেরেজ মোরা। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেয় গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। সে সময়ে তার বয়স ছিল ১১২ বছর।

পেরেজের ছিল ১১টি সন্তান এবং ৪১ জন নাতি-নাতনি। এই ৪১ জনের আবার ১৮টি সন্তান রয়েছে। আর এই ১৮ জনের রয়েছে আরও ১২জন সন্তান।

পেরেজের ডাকনাম ছিল ‘টিও ভিনসেন্ট’। এল কোবরে শহরে ১৯০৯ সালের ২৭ মে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। দশ ভাই বোনের মধ্যে নবম ছিলেন পেরেজ। আখ ও কফি চাষাবাদ ছিল তার পেশা। জীবনের এক পর্যায়ে ওই শহরেই শেরিফের দায়িত্ব নেন এবং স্থানীয় জমি ও পারিবারিক বিবাদ মেটানোর কাজ করতেন।

গিনেসের ২০২২ সালের বিবৃতিতে তার সম্পর্কে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।


দিনে ১০ বার সাফ হচ্ছে মক্কার গ্রান্ড মসজিদ

মসজিদ আল-হারাম। ফাইল ছবি: এএফপি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে মক্কার গ্রান্ড মসজিদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখছে না সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ। প্রতি বছর এই সময়টায় সেখানে মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এ কারণে পবিত্র মসজিদটিকে জীবাণুমুক্ত রাখতে রোজ ১০ বার পরিষ্কার করা হচ্ছে। আর তাতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন চার হাজারের বেশি কর্মী।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, মসজিদ-আল-হারাম এবং মসজিদে নববীর পরিচর্যায় সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত সৌদি কর্তৃপক্ষ। মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণের তত্ত্বাবধান এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য কয়েক হাজার দক্ষ কর্মী নিযুক্ত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অতিরিক্ত মুসল্লিদের কথা মাথায় রেখে গ্র্যান্ড মসজিদে ২৫ হাজারের বেশি নতুন কার্পেট, ৫০টি অযুর স্থান এবং তিন হাজার টয়লেট প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ ছাড়া জমজমের পানির জন্য ১৫ হাজার পাত্র এবং ১৫০টি ঐতিহ্যবাহী ফোয়ারা মসজিদের প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে। গ্রান্ড মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া। চার হাজার কর্মীর মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ বার এই কাজটি করা হচ্ছে। সেখানে বাতাসকে সুবাসিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় তিন হাজার লিটার প্রিমিয়াম ফ্রেশনার।

বিষয়:

জাহাজে করে হিমালয়ের বরফগলা পানি মালদ্বীপে পাঠাল চীন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের বিভিন্ন হিমবাহ আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে গলছে। ছবি: সিনহুয়া
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মালদ্বীপে ১০ লাখ বোতলের বেশি হিমালয়ের বরফগলা পানি পাঠিয়েছে চীন। সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিতে হুমকির মুখে থাকা একটি দেশের জন্য বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতগুলোর এলাকার পক্ষ থেকে উপহার এটি। গত বৃহস্পতিবার মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ভারত মহাসাগরের ১৯২টি ছোট প্রবালদ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপ জলবায়ু সংকটে থাকা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। যেখানে লবণ ভূত্বকে প্রবেশ করে পানীয় জলকে দূষিত করছে। ফলে বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের মাধ্যমে লবণমুক্ত করে পানি পানের উপযোগী করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের হিমবাহ আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে গলছে। মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত জিজাং অঞ্চলের চেয়ারম্যান ইয়ান জিনহায়ের পক্ষ থেকে এ উপহার।

এসব তথ্য জানা যায় হংকং ফ্রি প্রেসের এক প্রতিবেদনে।

৯০টি কনটেইনারে ভরে এসব বোতল জাহাজে করে গত সপ্তাহে পৌঁছায় দেশটিতে। মালদ্বীপের বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ভারতবিরোধী অবস্থানে থেকে গত বছর ক্ষমতায় আসা চীনপন্থি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুইজ্জুর পান করার জন্য এই পানি পাঠানো হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে খবর বের হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

‘মালদ্বীপ সরকার পানির অভাব দেখা দিলে দ্বীপগুলোতে সহায়তা দেওয়ার জন্য এই পানি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ বলা হয় বিজ্ঞপ্তিটিতে।

জাতিসংঘের ইন্টার গভর্নমেন্টাল পেনেল অন ক্লাইমেট চেইঞ্জেস (আইপিসিসি) ২০০৭ সালে সতর্ক করে দেয় যে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৮ থেকে ৫৯ সেন্টিমিটার (৭.২ থেকে ২৩.২ ইঞ্চি) বাড়লে এই শতকের শেষ দিকে কার্যত বসবাস করার অনুপযোগী হয়ে পড়বে মালদ্বীপ।

মুইজ্জু উচ্চাভিলাষী ভূমি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা এবং উঁচু দ্বীপ নির্মাণের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, দ্বীপ দেশটির ৮০ শতাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক মিটারের (তিন ফুট) কম উচ্চতায় অবস্থিত।

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ইতোমধ্যে পান করার উপযোগী ভূগর্ভস্থ পানীয় জল শেষ হয়ে গেছে। স্থানীয় জনগণকে পানি সরবরাহ করার জন্য ব্যয়বহুল বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মালেতে জল বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ড প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানি সরবরাহ ব্যাহত করে। ভারত ও তার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন উভয়ই প্ল্যান্ট ঠিক না হওয়া পর্যন্ত জাহাজে করে পানীয় জল সরবরাহ করেছে।

সাদা বালুর সমুদ্রসৈকত এবং বিলাসবহুল পর্যটনের জন্য নাম আছে মালদ্বীপের। এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম আন্তর্জাতিক শিপিং রুটগুলো নিয়ন্ত্রণেও দেশটির জলভাগ জরুরি।

বিষয়:

banner close