শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ইসি আয়োজিত মক ভোটিং পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৫:২৯

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত মক ভোটিং পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় চারজন নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল হবে। তখন আপনারা তারিখগুলো জানতে পারবেন।’

মক ভোটিংটার মতো করে একটা ইলেকশন উপহার দিতে এবং এমন স্বচ্ছভাবে ভোট করতে চান বলে জানান সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। একইসঙ্গে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতি হবে এবং পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূল থাকবে বলেও জানান তিনি।

কবে নাগাদ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল দেওয়া হবে জানতে চাইলে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি।

তিনি বলেন, ‘তফসিল হলে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জানতে পারবেন।’

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জাতির কাছে একটা সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার ওয়াদা দিয়েছি। মক ভোটিংয়ের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হল, একটা আদর্শ পরিবেশে নির্বাচন দেওয়ার যে ওয়াদা দিয়েছি তা পরীক্ষা করে দেখা যে ভোট কেন্দ্রে কি ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার। ভোটার কি রকম হবে, প্রিজাইডিং অফিসাররা, পোলিং অফিসাররা কেমন করে বসবে, সাংবাদিকদের ভূমিকা কি হতে পারে। এসব যাবতীয় বিষয়াদি আমরা আজকে প্র্যাক্টিক্যালি দেখতে চেয়েছি মক ভোটিং অনুশীলনের মাধ্যমে। এখানে আপনারা দেখেছেন ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। তারপরে স্লিপটা নিয়ে দেখাচ্ছে। পলিং অফিসার ডাক দিচ্ছে। তারপরে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালট পেপার দিচ্ছে। এরপর প্রাইভেট রুমে ঢুকে ভোট দিয়ে বাক্সে ফেলছে। এই বিষয়গুলো অনেকেই জানে না।’

সিইসি বলেন, ‘আমাদের যারা নতুন ভোটার, প্রথমবারের মত ভোট দিবেন। তারা জীবনে এই ভোট দেখেনি। গত ১৫ বছরের মধ্যে যারা ভোটার হয়েছে, তারা দেখেনি। প্র্যাক্টিক্যাল অভিজ্ঞতা নাই। এইটার মাধ্যমে একদিকে একটা অভিজ্ঞতা সঞ্চার হচ্ছে। আর অন্যদিকে বাস্তবসম্মত ভোটের পরিবেশের একটা অভিজ্ঞতা নেওয়া যাচ্ছে। কারণ আমরা সাধারণত সকাল ৮ টা থেকে ভোট শুরু করি এবং চারটায় শেষ করি।’

গণভোট প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ‘আমাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও যুক্ত হয়েছে। আমাদেরকে এই গণভোট একসঙ্গে করতে হবে। এটার সঙ্গে আমাদের টাইম ম্যানেজমেন্টের একটা বিষয় আছে। ৪২ হাজার ৫০০-এর বেশি ভোট কেন্দ্র করেছি। এই আজকের এই মূল্যয়নের ভিত্তিতে আমরা ঠিক করব এই ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যাপ্ত কি-না। কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ালে হবে, নাকি ভোট কক্ষ বাড়ালে চলবে। একটা ভোট কক্ষ বাড়ানো মানে তিনজন লোক বাড়ে। ভোটের বাক্স বাড়ে, অনেক ধরনের ব্যবস্থাপনা অতিরিক্ত করতে হয়। অতিরিক্ত আয়োজন করতে হলে তা কেমন ধরনের আয়োজন হতে পারে এটার বাস্তব পরীক্ষা আজকে আমরা করছি। আমরা অনুমানের ভিত্তিতে নয় বাস্তবতার ভিত্তিতে অগ্রসর চাই। প্র্যাক্টিক্যালি দেখে এবং আজকে রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্ট করে তারপর আমরা পরবর্তী প্ল্যানিংটা করব। তা হলে আমরা একটা হিসাব করতে পারব যে, কতটি ভোট কেন্দ্র বাড়াতে হবে।’

সিইসি বলেন, ‘মোটামুটিভাবে আমাদের প্রস্তুতি আছে। কোন অসুবিধা হবে না। জাতিকে যে ওয়াদা দিয়েছি, সেটা আমরা রক্ষা করব। আমরা সব কিছু এভাবে উন্মুক্তভাবে করতে চাই। আজকের মক ভোটিংয়ের মতো করে আমরা একটা নির্বাচন উপহার দিতে চাই।’

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা গণভোট নিয়ে প্রচারণা এখনো সেভাবে শুরু করিনি। সরকার এবং ইসি মিলে গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। গণভোটের বিষয়গুলো আমাদের প্রচারণার বিশাল অংশজুড়ে থাকবে। প্রচারণাটা যখন শুরু হবে, তখন আপনারা বুঝতে পারবেন যে মানুষ জানল কি জানল না। মাত্র গণভোটের অধ্যাদেশটা হল। আইনটা হল। আইন হওয়া মানে গণভোট করতে ইসিকে অথরাইজ করা। আমরা সিরিয়াসলি কাজ শুরু করেছি। এখন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রচার প্রচারণা চালানোর জন্য। সঙ্গে আমরাও ব্যাপকভাবে প্রচারণা করব।’

তিনি বলেন, ‘গণভোটে অপশন থাকবে শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’। রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে এসেছে। সরকার আইন করেছে আর আমরা সে আইন অনুযায়ী হ্যাঁ বা না ভোট করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সিইসি বলেন, ‘আপনাদেরও একটা দায়িত্ব আছে। আপনারাও এই দেশের নাগরিক। আমরা আপনাদেরকেও মূল্যায়ন করি। গণভোটে যেসব বিষয়গুলো থাকবে তা প্রচার করা আপনাদের দায়িত্ব।’

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছি। সবাই ট্রেনিং করছে। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টা আমরা নিশ্চিত করব।’ এছাড়া ধীরে ধীরে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে উল্লেখ করেন সিইসি।

মক ভোটিং অনুশীলনে দেখা যায় শনিবার সকাল থেকে শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে আস্তে আস্তে পোলিং সেন্টারে প্রবেশে করেছে। তারপরে ভোটার স্লিপটা নিয়ে দেখাচ্ছে, পোলিং অফিসার ডাক দিচ্ছে, অ্যাসিস্টেন্ট প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালট পেপার দিচ্ছে। আবার মার্কিং সিল নিয়ে গোপন কক্ষে ভোট দিয়ে বাক্সে ফেলছে।


আরও ১৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত ইসির

আপডেটেড ৮ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আরও ১৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শনিবার ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের বিষয়ে দাবি-আপত্তি থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তির আলোকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদনসমূহ যথাযথভাবে যাচাই বাছাই শেষে এ সংক্রান্ত নীতিমালার ৪.৪ (ক) অনুচ্ছেদের আলোকে বর্ণিত ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কারো কোন দাবি/আপত্তি/অভিযোগ থাকলে তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ (পনের) কার্যদিবসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে সিনিয়র সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, আগারগাঁও, ঢাকা বরাবর লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থা হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনযোগ্য বেসরকারি সংস্থাসমূহের তালিকা হল: এসো জাতি গড়ি (এজাগ), নেত্রকোনা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এনএসডিও), ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পুওর- ডরপ, হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন, কেরানীগঞ্জ হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন সংস্থা (ডিএমইউএস), রুরাল ইকোনমিক সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (রেসডো), রাসটিক, বাঁচতে শেখা, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোস্যাল এডভান্সমেন্ট (পাশা), ইন্টারন্যাশনাল আসফ লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন, মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক), বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান), যুব একাডেমি, এসডিএস (শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি) ও উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

এর আগে গত ৬ নভেম্বর ৬৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় ইসি। তখন ১৬টি সংস্থার বিষয়ে দাবি-আপত্তি জানতে চেয়ে ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিল ইসি।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৬৬ দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় ইসি।


৬৬ নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা পেল চূড়ান্ত নিবন্ধন 

*আগামীতে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন *আওয়ামী লীগ আমলের ৯৬ দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল *১৬ সংস্থার বিষয়ে দাবি-আপত্তি জানতে চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৬৬ দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ১৬টি সংস্থার বিষয়ে দাবি-আপত্তি জানতে চেয়ে ১৫ কার্যদিবস সময় দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা জানিয়েছে ইসি। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রাথমিক তালিকা নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৬৬ দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসি।

ইসি জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নিবন্ধিত ৯৬টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫- এর ধারা ১৬ মোতাবেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে।

এর আগে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের নীতিমালা বাতিল ও তৎকালীন ৯৬টি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করে নতুন নীতিমালা জারি করে নাসির উদ্দিন কমিশন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৯৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধন বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীতে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধিত করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষক নিবন্ধন প্রথা শুরু করে ইসি। সে সময় ১৩৮টি সংস্থা নিবন্ধন পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে দেশি পর্যবেক্ষক ছিল এক লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ২০১৪ সালে ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন পর্যবেক্ষক ভোট দেখেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৮টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮১টি দেশি সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।

সবশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৯৬টি নিবন্ধিত সংস্থার মধ্যে ৮০টির মতো সংস্থার ২০ হাজার ২৫৬ পর্যবেক্ষক ভোট দেখেছেন।


৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধের আহ্বান তারেক রহমানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র বিনির্মাণ করতে হবে।

আজ ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষে তারেক রহমান দেশবাসীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব শুধু মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা নয়, এদেশে আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভ্যুদয়ের সূচনা। সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হয়ে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল জাতীয় স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুণরুজ্জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে। তাই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লব অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে দেশকে আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে ঠেলে দেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতাকে চিরদিনের জন্য ধরে রাখা। সেজন্য একদলীয় বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়। বাকশালী সরকার চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পন্থায় মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার হরণ করে। দেশমাতৃকার এই চরম সংকটকালে ৭৫ এর ৩ নভেম্বর কুচক্রীরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে। জাতির এই গভীর সংকটকালে ৭ নভেম্বর স্বজাতির স্বাধীনতা রক্ষায় অকুতোভয় সৈনিক এবং জনতার ঢলে রাজপথে এক অনন্য সংহতির স্ফূরণ ঘটে এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্ত হন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এই পটপরিবর্তনে রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয়ে বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু আধিপত্যবাদী শক্তির এ দেশীয় এজেন্টরা উদ্দেশ্য সাধনের পথে কাঁটা মনে করে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। জিয়া শাহাদাত বরণ করলেও তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনো ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

তিনি বলেন, আবারও চক্রান্তের গোপন পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রক্ষমতাকে হাতের মুঠোর মধ্যে ধরে রাখে। এদের নতজানু নীতির কারণেই দেশের সার্বভৌমত্ব দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াকু নেতা-কর্মীদের বিভৎস নির্মমতায় দমন করেছে, আয়নাঘর, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ দুর্নীতি ও অপশাসনের এক ভয়াল রাজত্ব কায়েম করেছিল। ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বহু বছর মুক্তি দেওয়া হয়নি।

তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত আত্মদানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্টরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথ প্রসারিত হয়েছে। এখন চূড়ান্ত গণতন্ত্রের চর্চার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্ত মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালাতে সুযোগ দিয়েছিল।

তারেক রহমান বলেন, আমি মনে করি ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র বিনির্মাণ করতে হবে। আর সেজন্য জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরী। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।


banner close