বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৩ মাঘ ১৪৩২

হাদির ঘটনা বিচ্ছিন্ন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি: সিইসি

আপডেটেড
১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:১১

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ নেই জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনাটিকে তিনি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, এতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, অতীতেও আহসানউল্লাহ মাস্টার বা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মতো নেতাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হাদির ঘটনাটিও তেমনই একটি বিচ্ছিন্ন বিষয়, যা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। গত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ের অকার্যকর থানা ও পুলিশের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনেক উন্নত এবং মানুষ এখন শান্তিতে চলাচল ও ঘুমাতে পারছে। তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তারা নির্বাচনের সময় সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে সিইসি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যা হয়নি, এবার তা করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণে নিয়োজিত প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কারাবন্দি এবং নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্যও পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনের সঙ্গে একটি গণভোট আয়োজনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন নিয়ে জনমনে থাকা সব ধরনের দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, কমিশন জাতিকে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তরুণ প্রজন্মের ওপর ভর করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়; তাই একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।


নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সারজিস আলমকে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার রাত ৮টার পর জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় নির্ধারিত সময়ের বাইরে পথসভা ও মাইক ব্যবহার করার অপরাধে তাকে এই দণ্ড প্রদান করা হয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরণের ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে তেঁতুলিয়া উপজেলার একটি এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন সারজিস আলম। সভা চলাকালে সেখানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আকাশের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল উপস্থিত হয়। আদালত দেখতে পান যে, নির্বাচনী সভার জন্য নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সেখানে মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধির ১৭ নম্বর ধারার ২ উপধারা লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই প্রার্থী সারজিস আলমকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই সময় পথসভায় সারজিস আলমের সাথে পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইনসহ পুলিশ, প্রশাসন ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় ঘোষণার পরপরই সারজিস আলমের নির্বাচনী প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিব জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেন। একই সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে মাইক ব্যবহার এবং প্রচারণার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আকাশ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের এই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রার্থী বা দল আইন ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জরিমানার বিষয়ে সারজিস আলমের নির্বাচনী প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান হাবিব গণমাধ্যমকে বলেন, পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত সময় সম্পর্কে কিছুটা অসতর্কতা তৈরি হয়েছিল এবং এর ফলে সময় কিছুটা বেশি লেগে যায়। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তারা আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আগামীতে তাদের প্রতিটি নির্বাচনী কর্মসূচি ও সভা নির্ধারিত আচরণবিধি মেনেই পরিচালিত হবে। পঞ্চগড়-১ আসনের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।


পোস্টাল ভোট: বাংলাদেশে ফিরল পৌনে ৪ লাখ ব্যালট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে 'পোস্টাল ভোট বিডি' মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসে অবস্থানরত রেমিট্যান্সযোদ্ধা এবং দেশের ভেতরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি প্রবাসীর পূরণকৃত পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এই বিশাল সংখ্যক ব্যালট দেশে ফিরে আসাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের একটি বড় প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীদের জন্য মোট ৭ লাখ ৬৬ हजार ৮৬২টি ব্যালট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২৬ হাজার ৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট হাতে পেয়েছেন এবং ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন সফলভাবে তাদের ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ভোট দেওয়ার পর ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫২ জন ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিসে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। বিদেশ থেকে ডাকযোগে আসা এসব ব্যালটের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৮টি ব্যালট আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পেয়েছেন। প্রবাসীদের এই ব্যাপক অংশগ্রহণ নির্বাচনী আমেজকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে দিয়েছে।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের ভেতরে যারা বিশেষ প্রয়োজনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন, তাদের কার্যক্রমেও যথেষ্ট গতি লক্ষ্য করা গেছে। ইসি জানায়, দেশের অভ্যন্তরে ভোটারদের নিকট মোট ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১টি ব্যালট প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৪৭ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ২ লাখ ১১ হাজার ১২২ জন ইতোমধ্যে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। অভ্যন্তরীণ এই পোস্টাল ভোটারদের মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৯ জন তাদের ব্যালট ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৩৬৭টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমবারের মতো অ্যাপ এবং ডাক ব্যবস্থার এমন সমন্বিত প্রয়োগ ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা ও উৎসাহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য ঘরে বসেই জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের এই সুযোগটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিদিন যে হারে ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে জমা হচ্ছে, তাতে আশা করা যাচ্ছে যে ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই অধিকাংশ পোস্টাল ভোট গণনার জন্য প্রস্তুত থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং প্রতিটি ভোট যেন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছায়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও ডাক বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত প্রযুক্তির সফল ব্যবহারই এবার পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহে এমন অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।


নির্বাচনী দায়িত্বে আচরণবিধি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা: ইসি মাছউদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে কমিশন তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। অভিযোগ যদি গুরুতর হয়, তা সরাসরি কমিশন গ্রহণ করবে এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার এসব কথা বলেন।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্বে কর্মরত যে কেউ যদি আইন ভঙ্গ করেন বা তার মধ্যে পক্ষপাতিত্ব দেখা দেয় তাহলে যে কেউ আমাদের ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

অভিযোগ গুরুতর হলে কমিশন নিজেই সেটাকে আমলে নিতে পারেন। অভিযোগ পেলে কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, এমনকি তাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণ বলে নিশ্চিত হওয়া যায় তাহলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

রহমানেল মাছউদ আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট ভালো আছে।

সব রাজনৈতিক দলের কর্মী ও নেতাদের কাছে কমিশনের আবেদন থাকবে যেন তারাও একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করেন।’


নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে দল ও প্রার্থীদের ইসির নতুন নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সকল রিটানিং অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাসসকে এ তথ্য জানান তিনি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৬-তে উল্লেখ রয়েছে— ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে— (ক) প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি উক্তরূপে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পূর্বে রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করবেন।’

রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এ নির্বাচনী ব্যয়সীমা সম্পর্কে বিধি ২২-এর (২) এ আরো উল্লেখ রয়েছে যে, ‘কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনবিষয়ক কোনো কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, বুস্টিং ও স্পন্সরশিপসহ সকল প্রচার-প্রচারণার ব্যয়ের শিরোনামে সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়সহ নির্বাচন কমিশন বরাবর দাখিল করিবেন।’

এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার প্রচারণায় যে ব্যয় হবে তা নির্বাচনি ব্যয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে রিটার্নিং অফিসারকে দাখিল করার বিধান রয়েছে।

এমতাবস্থায়, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালায় উল্লিখিত বিষয়সমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো। একইসাথে রিটার্নিং অফিসারগণকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীগণ কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, সে সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে জনসংযোগ শাখায় প্রেরণ করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।’


নেত্রকোনায় নির্বাচনকালীন বিশেষ প্রস্তুতি সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক এ সভায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক এ সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামসহ সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা নির্বাচনের দিন এবং এর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজ নিজ দপ্তরের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। সুষ্ঠু নির্বাচন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


মব ভায়োলেন্স বলে কিছু নেই, পুলিশের কোনো ভীতি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, মব ভায়োলেন্স বলে কোনো কিছু নেই। পুলিশের মধ্যে কোনো ভীতি কাজ করছে না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রার্থী অশোভন আচরণ করলে, তা সমাজে প্রকাশ পেলে এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে যাবে। বেশি কিছু করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রস্তুতি ভালো। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র নিয়মিত উদ্ধার হচ্ছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। এই সভায় রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নওগাঁয় ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬৪টি কেন্দ্রে, নিরাপত্তায় থাকবে বডি ক্যামেরা

* ভোটকেন্দ্র ৭৮২টি, মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন * ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩২ জন প্রার্থী 
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নওগাঁর নির্বাচনী ময়দানে উত্তাপ বাড়ছে। তবে ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে কেন্দ্র দখল আর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ ততই প্রকট হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার ৭৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৪টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও বেসরকারি ও অন্যান্য সংস্থার হিসেবে এই সংখ্যা চার শতাধিক ছাড়িয়েছে।

জানা যায়, জেলায় ৬টি আসনে বিভিন্ন দলের ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যেখানে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৭৮২টি। মোট ভোটার রয়েছে ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে হিজড়া ভোটার ২১ জন।

সরেজমিনে জেলার মহাদেবপুর, মান্দা, বদলগাছী ও নওগাঁ সদর উপজেলার বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে জানা যায়, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অর্ধেক সীমানা প্রাচীর না থাকা ও গণ্ডগোলের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়নি।

এছাড়া মান্দা উপজেলার খুদিয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো নিরাপত্তা প্রাচীর নেই। এসব বিদ্যালয়ে দুইদিন আগেই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠের উত্তর পাশে টিনের প্রাচীর আছে। এ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা আছে।

মান্দা গোটগাড়ী শহীদ মামুন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। সবগুলো চালু রয়েছে। তবে নির্বাচন উপলক্ষে নতুন করে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, সদর উপজেলার বরুনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি প্রাচীর থাকলেও অপেক্ষাকৃত নিচু। এখনো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়নি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানও জানেন না লাগানো হবে কিনা। পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর ও পূর্ব পাশে প্রাচীর না থাকলেও ডোবায় কচুরিপানায় পূর্ণ। তবে নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা আছে।

বরুনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা আকতার বলেন, একটা মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছু দেখছি না। আদৌ ক্যামেরা লাগানো হবে কিনা জানা নেই।

নওগাঁ সদর উপজেলার পশ্চিম নওগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসেম আলী বলেন, আমাদের স্কুলটি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কিনা জানা নেই। স্কুলের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা কিছু আছে। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা দেবে কিনা এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, নির্বাচন কমিশনারের কাছে আশা করেছিলাম, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে। যা সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু তা হয়নি। ব্যানার ছেড়া হচ্ছে এবং কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনারের কাছে এটুকু চাওয়া শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র না প্রতিটি কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হোক। প্রশাসনের যারা মাঠে থাকবেন তারা যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন।

একই আসনের বিএনপির প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, ভোটাররা যদি স্বতস্ফূতভাবে ভোটকেন্দ্রে আসে এবং ভোট প্রদান করে আমার মনে তাহলে হয়ত কেউ কিছু করতে পারবে না। তবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে নেমে আতঙ্ক তৈরি করছে। এতে অনুমান করা যায়, কোন কোন কেন্দ্র দখল হতে পারে। কয়েকটি কেন্দ্র আমরা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি এবং প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। প্রশাসন যেন সেগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে।

নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী আবু সাদাত মো. সায়েম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। যে-কোনো সময় সুযোগ পেলেই তারা হামলে পড়তে পারে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩৬৪টি গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২৫৫টি অফলাইন বডি অন ক্যামেরা থাকবে। পাশাপাশি ১০৯টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে অনলাইন বডি অন ক্যামেরা থাকবে। যা সিসিটিভি ক্যামেরার মত কাজ করবে যা কন্ট্রোল রুম থেকে দেখা যাবে। আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে দুই সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবে। নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষভাবে সম্পূর্ণ করতে পুলিশ সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে।

নিরাপত্তার জন্য সব কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানিয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলায় ৭৮২টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সকল কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মাঠে আছে। পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে তদারকি করছে। এছাড়া প্রার্থীদের কোনো ধরণের আপত্তি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সমাধান করা হচ্ছে।


গাইবান্ধায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট-২০২৬ কে সামনে রেখে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে অংশ নিলেন গাইবান্ধা সদর-২ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পৌর পার্কে জবাবদিহিতা, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় নাগরিকদের বহুল আলোচিত অনুষ্ঠান ‘জনগণের মুখোমুখি’।

নাগরিক সংগঠন সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, গাইবান্ধা জেলা কমিটির উদ্যোগে জেলা শহরের পৌর পার্কের বিজয় স্তম্ভ চত্বরে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।সুজন জেলা সভাপতি নিউটন প্রামাণিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সদর আসনের মোট ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) মনোনীত কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী আহসানুল হাবীব সাঈদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল মালেক এবং জনতা দলের কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহেদ সরওয়ার।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে প্রার্থীরা পর্যায়ক্রমে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন এবং ভোটারদের কাছে নিজ নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় উপস্থিত সাধারণ নাগরিকরা এলাকার উন্নয়ন, সুশাসন, দুর্নীতি দমন ও জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের লক্ষ্যে সাধারণ ভোটারদের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। পাশাপাশি প্রার্থীরাও একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা পাঠ ও স্বাক্ষর করেন, যেখানে তাঁরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা এবং জয়-পরাজয় নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

ভিন্নধর্মী এই আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত ভোটাররা। তাঁদের মতে, এ ধরনের মুখোমুখি আয়োজন প্রার্থীদের চিন্তা-চেতনা ও যোগ্যতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিতে সহায়ক।

আয়োজক সংগঠন সুজন জানায়, “একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই”—এই বিশ্বাস থেকেই ভোটারদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।


১২ ফেব্রুয়ারির আগে শেরপুর-৩ আসনে পুনরায় নির্বাচনী তফসিল নয়: নির্বাচন কমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আবদুর রহমান মাছউদ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান আইনি প্রেক্ষাপটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই আসনে পুনরায় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই। মূলত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে সৃষ্ট জটিলতায় আরপিও অনুযায়ী এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তফশিল সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতা এবং সামগ্রিক নির্বাচনী প্রস্তুতির সমন্বয় করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রসঙ্গে কমিশনার জানান, বর্তমানে সারা দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনায় সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা সরাসরি ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’র কাছে লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা যদি নিজে আইন ভঙ্গ করেন কিংবা কোনো বিশেষ প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও ইনকোয়ারি কমিটির কাছে অভিযোগ দেওয়া যাবে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরাসরি নির্বাচন কমিশন থেকেও তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন।

দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আবদুর রহমান মাছউদ বলেন, কমিশনের পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ যথেষ্ট ভালো ও স্থিতিশীল রয়েছে। একটি সুন্দর, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি উদার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি সফল জাতীয় উৎসবে পরিণত হবে।

সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের বিষয়ে ইসি মাছউদ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ণ হয় কিংবা তাদের মর্যাদাহানি ঘটে এমন কোনো আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি যদি তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে নিরাপত্তা বাহিনীর মর্যাদা রক্ষা করা কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।


নির্বাচন ঘিরে যে সতর্কবার্তা ইসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ‘সম্মানী’ বা পারিশ্রমিক পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ও বিকাশ নম্বর হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এই চক্রটি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত জাতীয় পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মকর্তাদের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতেই এই ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে একটি অসাধু চক্র ০১৩৪২০৪৬২৩২ এবং ০১৬১২৬৭৭০৭৮—এই দুটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণামূলক ফোনকল করছে। তারা নিজেদের নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দ্রুত সম্মানী পাঠানোর নাম করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং বা বিকাশ নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই নম্বরগুলো বা এই ধরণের কোনো ব্যক্তিগত ফোনকলের সঙ্গে কমিশনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ধরণের ভুয়া ও প্রতারণামূলক ফোনকলে কোনোভাবেই সাড়া না দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্মানীর অর্থ প্রদানের সঠিক ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণভোট কার্যক্রম শেষে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসারদের মাধ্যমেই বিধি অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত সব কর্মকর্তাকে নির্বাচনকালীন সম্মানী প্রদান করা হবে। এটি একটি সুনির্দিষ্ট সরকারি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া, যার জন্য কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগের কোনো প্রয়োজন নেই। কমিশন আরও নিশ্চিত করেছে যে, সরকারিভাবে এই লেনদেনের জন্য ইসি বা অন্য কোনো সংস্থা কখনো কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর বা ওটিপি চাইবে না।

জাতীয় নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতে এবং অশুভ উদ্দেশ্যে এই প্রতারক চক্রটি মাঠে নেমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কথা বললে তাতে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। সন্দেহজনক কোনো কল এলে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরণের জালিয়াতি রুখতে কমিশন এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


জানা যাবে ভোটকেন্দ্রের সব তথ্য: ইসির ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ চালু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের সুবিধার্থে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামে একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে ভোটাররা এখন থেকে অত্যন্ত সহজে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে নিজের ভোটকেন্দ্রের সঠিক অবস্থান খুঁজে বের করতে পারবেন। সোমবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কাজে লাগানো হচ্ছে।

ইসি জানিয়েছে, ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপটি বর্তমানে গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। ভোটাররা তাদের স্মার্টফোনে এটি ডাউনলোড করে সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে কেবল ভোটকেন্দ্রের নামই নয়, বরং কেন্দ্রটির ভৌগোলিক অবস্থান বা জিও লোকেশন, কেন্দ্রের ছবি, ভোটারের বর্তমান অবস্থান থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব এবং ম্যাপের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছানোর সঠিক পথও দেখা যাবে। এর ফলে ভোটের দিন অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তা অনেকাংশেই নিরসন হবে বলে আশা করছে কমিশন।

ভোটকেন্দ্রের তথ্যের বাইরেও এই অ্যাপে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী তথ্য ও সেবা যুক্ত করা হয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিস্তারিত তথ্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্যসহ তাদের দাখিলকৃত হলফনামা ডাউনলোড ও দেখার সুযোগ থাকছে এখানে। এছাড়াও নির্বাচনের দিন এই অ্যাপের মাধ্যমেই সর্বশেষ ফলাফল এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তাৎক্ষণিক তথ্য সরাসরি আপডেট করা হবে। ফলে ভোটাররা এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই একটি পরিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত হতে পারবেন।

উল্লেখ্য যে, এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও এই অ্যাপটি চালু করা হয়েছিল এবং সে সময় এটি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় এবং বর্তমান যুগের ডিজিটাল চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যোগ করে অ্যাপটি পুনরায় সচল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেশের সকল সচেতন ভোটারকে এই অ্যাপটি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে নির্বাচনের দিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ধরণের স্মার্ট নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


দেশে পৌঁছেছে ৩ লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে বসে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়ে প্রবাসীরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি প্রবাসীর পূরণকৃত পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। এই ব্যালটগুলো এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ও আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে ৪১ হাজার ১৭৮টি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসি সূত্র।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯ জন প্রবাসী ভোটার সফলভাবে তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ জন প্রবাসী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন ভোটার তাদের ভোটদান সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিসে ব্যালট জমা দিয়েছেন। বিদেশের ডাক বিভাগ থেকে বাংলাদেশে ব্যালট আসার এই ধারা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন বিকেল পর্যন্ত যেসব ব্যালট পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই মূল ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে যাদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তাদের কার্যক্রমও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইসি জানায়, দেশের ভেতরে মোট ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১টি ব্যালট ভোটারদের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯১ জন ভোটার তাদের ব্যালট হাতে পেয়েছেন। দেশের অভ্যন্তরে এখন পর্যন্ত ৯৬ হাজার ৬৩২ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন এবং ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৫ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিসে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ হাজার ৯১৫টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা গ্রহণ করেছেন।

এদিকে, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও কার্যক্রম সমন্বয়ে আজ নির্বাচন কমিশনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে পোস্টাল ব্যালট গণনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং ডাক বিভাগের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের এই বিশাল ভোটযজ্ঞ সফল করতে কমিশন সব ধরনের কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ভোটারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বা বিএনসিসি সদস্যদের মোতায়েনের পূর্ব সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংশোধিত নির্দেশনায় এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যাডেটরা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে না থাকলেও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। মূলত নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিগত ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সুশৃঙ্খল বাহিনীকে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে কমিশন।

সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রবাসীদের পাঠানো পোস্টাল ব্যালট এবং দেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরতদের ব্যালট গণনার সময় ক্যাডেটরা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে বিএনসিসির পাঁচটি সেকশন দায়িত্ব পালন শুরু করবে। সারা দেশের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার জন্য মোট ১২৩টি সেকশন মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে প্রতি তিনটি নির্বাচনী এলাকার জন্য একটি করে সেকশন বরাদ্দ থাকবে। প্রতিটি সেকশনে একজন করে করপোরাল এবং ১০ জন করে ক্যাডেট অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সংশ্লিষ্ট রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ক্যাডেটদের দায়িত্ব প্রদানের আগে তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং বিশেষ করে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে বা গণভোটের কোনো পক্ষের প্রতি অনুরাগ থাকলে সেই ক্যাডেটকে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এমনকি দায়িত্ব পালনকালে তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। মাঠপর্যায়ে মোতায়েনের আগে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হবে। রেজিমেন্ট কমান্ডাররা জেলা বা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মোতায়েনকৃত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে তাদের অবস্থান থাকবে চূড়ান্ত বেসামরিক ফলাফল প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার এই কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে কমিশন মূলত ভোট গণনার প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে চাইছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে সব বাহিনীর সঙ্গে বিএনসিসি সদস্যদেরও মাঠপর্যায়ে মোতায়েনের কথা বলা হলেও এখন তাদের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হলো। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ত্রুটিমুক্ত রাখতেই ইসি এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।


banner close